জয়পুরহাটে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় ২১ বছর পর ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: জয়পুরহাটে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র মোয়াজ্জেম হত্যা মামলায় ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দীন এ রায় দেন। এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জয়পুরহাট শহরের দেওয়ানপাড়া মহল্লার মৃত ইউনুস আলী দেওয়ানের ছেলে বেদারুল ইসলাম বেদিন, একই মহল্লার মোহাম্মদ আলী মোখলেসারের ছেলে মনোয়ার হোসেন মনছুর, ওয়ারেছ আলীর ছেলে টুটুল মিয়া, আজিজ মাস্টারের ছেলে রানা, শান্তিনগর মহল্লার শাহজাহান মৃধার ছেলে সরোয়ার রওশন সুমন, আরাফাত নগর মহল্লার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মশিউর রহমান এরশাদ, সদর উপজেলার তেঘর বিশার গ্রামের কাবেজ উদ্দীন মণ্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম, দেবীপুর কাজী পাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে শাহী মিয়া, একই মহল্লার রফিক উদ্দিনের ছেলে সুজন মিয়া, নুর হোসেন নুমুর ছেলে রহিম মিয়া, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ধুরইল গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ডাবলু।

এদের মধ্যে বেদিন, নজরুল ইসলাম, টুটুল, সুজন, রহিম ও ডাবলু পলাতক।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৮ জুন বিকেলে জয়পুরহাট শহরের প্রামাণিকপাড়ার ফজলুর রহমানের ছেলে স্কুলছাত্র মোয়াজ্জেম হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সেদিন আসামিরা মোয়াজ্জেমকে শহরের চিত্রা সিনেমা হল এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর শহরের ভিটি এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশে মোয়াজ্জেমকে আসামিরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে জামালগঞ্জ রোডের একটি আম গাছের নিচে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান আসামিরা। এরপর ঘটনার দিন রাতে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মোয়াজ্জেমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে পরের দিন ২৯ জুন সকালে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম ২০০৩ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এ রায় দেন।




মালয়েশিয়ার নতুন রাজার যত সম্পদ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মালয়েশিয়ার নতুন রাজা হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুলতান ইব্রাহিম। বুধবার কুয়ালালামপুরের জাতীয় প্রাসাদে তিনি শপথ নেন। খবর রয়টার্সের।

গেল বছরের ২৭ অক্টোবর দেশটির রয়্যাল কাউন্সিল নতুন রাজা হিসেবে সুলতান ইব্রাহিমের নাম ঘোষণা করে। আজ শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার সদ্যবিদায়ী রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

তেরোটি রাজ্য ও তিনটি ঐক্যবদ্ধ প্রদেশ নিয়ে গঠিত মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ৯টি রাজপরিবার রয়েছে। চক্রাকারে প্রতি পাঁচ বছর পর পর প্রত্যেক রাজপরিবারের প্রধান ব্যক্তিকে রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়। দেশটির রয়্যাল কাউন্সিল এই কাজ পরিচালনা করে। দেশটির সদ্যবিদায়ী রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহ ২০১৮ সালে সিংহাসনে বসেছিলেন।

সাংবিধানিকভাবে মালয়েশিয়ার রাজার মেয়াদ ৫ বছর এবং তার ক্ষমতা বেশ সীমিত। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ, পার্লামেন্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তা ভেঙে দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদকে শাসনসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া, সর্বোচ্চ আদালতে দোষী অপরাধীকে ক্ষমা করা— প্রভৃতির মধ্যেই তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ।

তবে ২০২০ সালের পর দেশটির পার্লামেন্ট ও রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে তৎকালীন রাজাকে রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তৎপর দেখা গেছে। সদ্যবিদায়ী রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহ তার মেয়াদে ৩ জন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

নতুন রাজা সুলতান ইব্রাহিম বিলাসবহুল গাড়ি ও মোটরবাইকের বিশাল সংগ্রহের জন্যও পরিচিত। তার রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে খনিরও ব্যবসা রয়েছে। এ ছাড়া জোহর রাজ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে তার অংশীদারত্ব রয়েছে; যেখানে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। তার মোট সম্পদ ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সুলতান ইব্রাহিমের রাজত্ব রিয়েল এস্টেট এবং খনির থেকে টেলিযোগাযোগ ও পাম তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। ঐশ্বর্যশালী ইস্তানা বুকিত সেরিন, তার সরকারি বাসভবন, তার পরিবারের সম্পদের একটি প্রমাণ। ৩০০টিরও বেশি বিলাসবহুল গাড়ির শাসকের সংগ্রহ রয়েছে, যার মধ্যে একটি কথিতভাবে অ্যাডলফ হিটলারের দেওয়া উপহার গাড়ি আছে। যখন একটি সোনার-নীল বোয়িং৭৩৭ সহ ব্যক্তিগত জেটের একটি বহর রয়েছে।




প্রথমবার সংসদ অধিবেশনে ফেরদৌস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন চিত্রনায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ। গতকাল (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় সংসদ অধিবশেন শুরু হয়েছে।

অন্যান্য সংসদ সদস্যদেরর সঙ্গে ফেরদৌস আহমেদও প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সংসদের অধিবেশ কক্ষে গিয়ে সেলফি তুলে তা তার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। ফেরদৌস ছবি পোস্ট করে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। এতে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ সকল ভালোবাসার মানুষের দোয়া চাই।’

নায়ক ফেরদৌস আহমেদ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন তিনি।

ফেরদৌস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে নাম লেখান ঢাকাই চলচ্চিত্রে। প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টির’ কল্যাণে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। এরপর অভিনয় করেছেন দুই বাংলার অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে।




ইমরান খানের ১০ বছরের জেল




এ বছর বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি কমে আসার পূর্বাভাস আইএমএফের

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম নিম্নগতি হওয়ায় এ বছর মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির হিসাবে এ বছর বিশ্ব মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আগামী বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী অর্থনীতির গতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো এগোচ্ছে। এজন্য বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও বাড়িয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটুলক’ প্রতিবেদনের জানুয়ারি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে চলতি বছর, ২০২৪ সাল শেষে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং পরের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অক্টোবরের তুলনায় এবার ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে পূর্বাভাস দিলো সংস্থাটি।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদ হার বৃদ্ধি, বিশেষ আর্থিক সুবিধা গুটিয়ে আনা এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কারণে মূল্যস্ফীতির গতি নিম্নমুখী হয়েছে। বেশির ভাগ অঞ্চলে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত কমছে মূল্যস্ফীতির হার। তবে মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রভাবে প্রবৃদ্ধির গতিও কম হবে। তবে আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, করোনা অতিমারি পরবর্তী অর্থনীতির গতি ঠিক রাখতে যে প্রণোদনা এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল সেগুলো গুটিয়ে আনা হচ্ছে। এই কার্যক্রম যদি দ্রুত গতিতে করা হয়, সেক্ষেত্রে চাপ তৈরি হবে। ভূরাজনীতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা, বিশেষ করে লোহিতসাগরে চলমান সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে। মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক হওয়ায় মূল্যস্ফীতির এই হার আরও দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। এছাড়া রাজস্ব বাড়ানোর চাপে কর বৃদ্ধি, সম্পদমূল্য কমে যাওয়া, সরকারি ব্যয় কমিয়ে আনার মতো বিভিন্ন বিষয় মূল্যস্ফীতি কমাতে বাধা তৈরি করতে পারে।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সোমবার লন্ডনে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। এদিকে পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ছদ্মবেশী ইসরাইলি সেনারা।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া প্রশ্নে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সোমবারের বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতমুখর পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ন্যায্যতা, নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ইসরাইলের ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। মন্ত্রী জানান, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘেও ভূমিকা রাখবে ব্রিটেন ও তার মিত্ররা। অনুষ্ঠানে ক্যামেরন বলেন, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেব এবং এ ইস্যুকে আরও গতিশীল করতে জাতিসংঘেও কাজ করব। আমাদের মিত্ররা এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি। কারণ, যদি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতিকে নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে গত কয়েক দশকের অপেক্ষা শেষ হওয়ার পথ সুগম হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে আরব লীগের সম্মেলনে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং সেই রাষ্ট্রের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয় আরব লীগ। ১৯৬৬ সাল থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে আন্দোলন করে আসা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত জোট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) শুরুর দিকে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়; তবে ১৯৮২ সালে ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ বা ইসরাইলের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও মেনে নেয় পিএ। এই প্রক্রিয়া অবশ্য শুরু হয় গত শতকের ষাটের দশক থেকেই। ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল দুই রাষ্ট্রের সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল কখনো দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি, উপরন্তু প্রায় নিয়মিত প্রস্তাবিত সীমানা লঙ্ঘন করে নিজেদের রাষ্ট্রের সীমানা বৃদ্ধি করে চলেছে।

ক্যামেরন বলেন, নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফিলিস্তিনের জনগণ যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে। এখন একে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া তাদের এই আন্দোলন ন্যায্য এবং ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে সমর্থন দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ঐতিহ্য আমাদের রয়েছে। তাছাড়া আরও কারণ রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কেবল একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদেরও বিদায় ঘণ্টা বাজাবে। আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি কারণ হলো আমরা ঐ অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদ স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে চাই। এই অঞ্চলটিকে আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা প্রয়োজন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ব্যাপারটি সহজ করবে। বর্তমানে সেখানে যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, অস্থায়ী বিরতি তার কোনো সমাধান নয়। সেখানে প্রয়োজন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। বক্তব্যে ইসরাইলেরও কঠোর সমালোচনা করেন ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল হয়তো তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছে, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পেরেছে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনীও গড়ে তুলেছে; কিন্তু নাগরিকদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা এবং ইসরাইলের গত কয়েক দশকের ইতিহাস মূলত এই ব্যর্থতার ইতিহাস। বর্তমানে গাজায় মানবিক বিরতির আলোচনা চলছে। আমরা মনে করি, এই আলোচনা সফল হওয়ার ওপর আসলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বাস্তবায়ন অনেকাংশ নির্ভর করছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ছদ্মবেশে তিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের একটি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহতদের একজন একটি আসন্ন হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এবং অপর দুজন ইসরাইলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত ছিল।




মরিচ চাষে ব্যস্ত পটুয়াখালীর উপকূলের কৃষকরা

বরিশাল অফিস :: চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা। জমি তৈরি এবং চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। মরিচ চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় ধান চাষের পাশাপাশি মরিচ চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন।

মরিচের বীজ বপণের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু হয়। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। জমিতে বিঘা প্রতি ১৫/২০ মণ মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমণ কাচা মরিচ হাটবাজারে ২৫শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রয় করতে পারে কৃষক।

সরজমিনে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার মরিচ চাষে ভালো লাভ হবে। বর্তমান বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অজ্ঞাত রোগে মরিচ গাছের পাতা শুকিয়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের কৃষক মাসুম জানান, গত বছর ১ একর জায়গায় মরিচ দিয়েছিলেন। খরচ শেষে তার এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তাই এবারও তিনি ১.৫ একর জায়গায় মরিচ দিয়েছেন। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এ বছরও ভালো ফলন পাবার আশা তার।

কুয়াকাটার কৃষক জাহাঙ্গীর জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বছরের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। মরিচ চাষে লাভ ভালো হয়। এবার তিনি বেশি ফলনের আশা করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কে আর এম সাইফুল্লাহ জানান, এ বছর ৬৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফল বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রোগবালাই ও সার ব্যবস্থাপনা মাঠপর্যায়ে প্রত্যক্ষ করছে। আরও সহনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে মরিচ চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, কৃষক এবার মরিচের ভালো দাম পাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মরিচ চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।




চিকিৎসার নামে কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা!

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দশমিনায় মোসা. নুরজাহান বেগম নামে এক নারী ফকিরের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে কিশোরীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দশমিনা থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

নিহত কিশোরীর নাম হাফসা বেগম (২০)। তিনি উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মো. শাজাহান মৃধার মেয়ে। হাফসা আলীপুরা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ২১ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মোসা. লুৎফুরন্নেছা বেগম তার মেয়ে হাফসা বেগমকে নিয়ে ছেলের শ্বশুর বাড়ি দশমিনা সদর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে গেলে মো. মনির সরদারের স্ত্রী মোসা. নুরজাহান বেগমসহ বাকিরা হাফসার মা লুৎফুরন্নেছা বেগমকে ওই রাতেই কৌশলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

একই দিন রাতে প্রধান অভিযুক্ত মোসা. নুরজাহান বেগমসহ অন্যরা হাফসাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কবিরাজি চিকিৎসার নামে বাড়ির পাশের কৃষি জমিতে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আহত হাফসাকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ২২ জানুয়ারি বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করেন। শেবাচিমের চিকিৎসকরা হাফসার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জানুয়ারি রাতে হাফসা মারা যান।

এ ঘটনায় হাফসার মা মোসা. লুৎফুরন্নেছা বেগম বাদী হয়ে মোসা. নুরজাহান বেগমকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৩ জনের নামে দশমিনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয় মোসা. নুরজাহান বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার স্বামী মো. মনির সরদার বলেন, এ ঘটনার পর তার স্ত্রী পলাতক রয়েছেন। আমি দশমিনা সদরে ছিলাম তাই কিছু জানি না। আগুন লাগার পর দশমিনা হাসপাতালে গিয়ে হাফসাকে ওষুধও কিনে দিয়েছিলাম।

দশমিনা থানার এসআই মো. মেহেদী হাসান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে মামলা গ্রহণ করা হবে।




সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের সম্পর্ক গোপন রাখবেন যে কারণে




টিভিতে আজকের খেলা