আজ টিভিতে খেলা




গলাচিপায় শ্যালকের হাতে দুলাভাই খুন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় শ্যালকের লাঠির আঘাতে দুলাভাই জহিরুল আলমের (৪১) মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্যালক তরিকুল ইসলামকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল আলমের ছেলে।

সূত্র জানায়, ৩১ জানুয়ারি দুপুরে জহিরুল তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে শ্যালক তরিকুলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে জহিরুলকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন তরিকুল। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা জহিরুলকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




স্ত্রীর দাবীতে দুমকীতে তরুণীর অনশন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঢাকায় চাকরির সূত্রে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক; ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এক বছর অবস্থান। এর পর স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ে কথিত স্বামীর ভিটেতে অবস্থান নিয়েছেন ওই তরুণী।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোশাররফ মৃধার ছেলে কাইউম মৃধার (৩০) বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ে অবস্থান নিয়েছে এক তরুণী (২৫)। সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে অবস্থান নেওয়া ওই তরুণীর বাড়ি বরগুনার পুরাঘাটা এলাকায়। ওই বাড়িতে অবস্থানের পর পরই কাইউম মৃধা পালিয়ে যায়।

ওই তরুণীর অভিযোগ, ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানির শোরুমে চাকরির সুবাদে কাইউমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে একত্রে ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এক বছর অবস্থানের পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি গা-ঢাকা দেয়। পরে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

ওই তরুণী বলেন, বর্তমানে সে বসুন্ধরার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নার্সের চাকরির সময় ভাড়া বাসায় প্রায় এক বছর একসঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ কাইউম তাকে না জানিয়ে বাড়ি চলে আসে এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লোক মারফতে খোঁজ নিয়ে তাই স্ত্রীর অধিকার আদায়ে ওর বাড়িতে এসে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাইউম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কাইউমের বাবা মোশাররফ মৃধা বলেন, চাকরির সুবাদে আমার ছেলে ঢাকায় ছিল। সেখানে ওই মেয়েও চাকরি করার সুবাদে হয়তো পরিচয় হয়ে থাকতে পারে। তবে বিয়ে করেছে কিনা তা আমরা জানি না। অথচ ওই মেয়ে আমার ছেলেকে স্বামী দাবি করছে। এখন ছেলে বাড়ি আসুক তার পরে যা করা দরকার তাই করতে হবে।

দুমকি থানার ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, ওই এলাকায় স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে এক তরুণী ঢাকা থেকে এসেছে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় সরাসরি কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অনশনেরও কোনো খবর পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশাল নগরীর ফাতেমা সেন্টারে আগুন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোডস্থ ফাতেমা সেন্টারের আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়ি পার্কিং স্থানে থাকা একটি প্রাইভেট কারে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে কালো ধুয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এঘটনা দেখে ফাতেমা সেন্টারের সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তাদের পাঁচটি ইউনিট দ্রæত ঘটনাস্থানে ছুটে এসে প্রথমে গ্যাস ছেড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টা চালান। আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রয়ারি) রাত সোয়া আটটার দিকে এ আগুন সুত্রপাত ঘটে। ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা দীর্ঘ ৪৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এ সময় বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানান, গাড়ি পার্কিং এর স্থানে থাকায় একটি প্রাইভেটকার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে । আমরা দ্ররুত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হই। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির অভিমান এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া মূল কী কারণে আগুনে সূত্র হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে আগে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

এ সময় উপস্থিত, অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন উপ পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম তিনি জানান, তারা আগুনে সংবাদ শুনে দ্রæত ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন। এবং জনতার ভিড়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। এর পূর্বে ঘটনাস্থলে জনতার বীর সামলাতে পুলিশের বেগ পেতে হয়। এঘটনায় তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা
হবে।




বরিশালের সঙ্গে রেল যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: বরিশালের সঙ্গে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকায় অবস্থানরত বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

জাহিদ ফারুক বলেন, ‘যখন আমি এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করি, তখন তিনি আমাকে বলেন যে, আগের পরিকল্পনায় কিছু সমস্যা ও ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে এই অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাটির অবস্থা এবং সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উপযোগী বিকল্প রুট খুঁজছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরিশালের সঙ্গে ছয় লেন হাইওয়ে নেটওয়ার্ক সম্পন্ন করার জন্য দ্রুতগতিতে কাজ এগুচ্ছে। আর এটি হবে দক্ষিণবঙ্গের জনগণের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক উন্নয়ন। এই রেলওয়ে নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও ছয় লেন হাইওয়ে নির্মাণের পর উপকূলীয় পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীসহ দক্ষিণাঞ্চলের শতাব্দী প্রাচীন যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে।’

প্রতিমন্ত্রী দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের কথা জানান।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির (বিবিএসএস) এর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মামুন আবেদীন (ভারপ্রাপ্ত), সহ-সভাপতি হেমায়েত হোসেন, আসাদুজ্জামান সম্রাট, কিশোর সরকার, শেখ জামাল এবং হরলাল রায় সাগর।’




ফিরে দেখা একুশ: শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা দেখে উত্তাল পটুয়াখালী

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবদুস সালাম। তার রক্তামাখা জামা পটুয়াখালীতে নিয়ে আসা হয়। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে আয়োজিত গণজমায়েতে রক্তামাখা জামা মানুষকে দেখানোর পরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। এতে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের ঢেউ পটুয়াখালীতেও আছড়ে পড়ে।
তৎকালীন ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের অনেকেই এখন জীবিত নেই। এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া ও মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ নামের দুই ভাষা সৈনিকের সঙ্গে কথা হয়।

তারা জানান, তখন পটুয়াখালী ছিল বরিশাল জেলার একটি মহকুমা। ঢাকায় যখন ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল ঠিক সেই সময় পটুয়াখালীতে ‘পটুয়াখালী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের’ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে কবি খন্দকার খালেককে আহ্বায়ক ও জালাল উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। পরে এ কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন আজহার উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু মিয়া, অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী, বীরেশ্বর বসু, অতুল চন্দ্র দাস, ধ্রুবজ্যোতি দত্ত, অ্যাডভোকেট গোলাম আহাদ চৌধুরী, এটিএম ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
ওই কমিটিতে না থাকলেও ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পটুয়াখালীর বাউফলের সন্তান সৈয়দ আশরাফ হোসেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কমিটির উদ্যোগে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও পটুয়াখালী শহরে হরতাল পালন করা হয়। পটুয়াখালীতে খবর আসে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলিবর্ষণ ও শহীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। অন্যদের সঙ্গে শহীদ হন সালাম। তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ আশরাফের বড় ভাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ ফজলুল হক। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা নিয়ে সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালীতে আসেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা আন্দোলন কমিটির প্রথম প্রকাশ্য জনসভা। এমদাদ আলীর সভাপতিত্বে ওই সভায় বিডি হাবিবুল্লাহ, এবিএম আব্দুল লতিফ, আব্দুল করিম মিয়া, সৈয়দ আশরাফসহ ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারীরা বক্তব্য দেন। ছাত্র-জনতা ছাড়া ওই সভায় তেমন লোক ছিল না। শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি দেখানোর পরে পটুয়াখালীর মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা।

ভাষা সৈনিক মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে নিয়ে আসা শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি বিভিন্ন সভায় জনতাকে দেখান সৈয়দ আশরাফ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে উপস্থিত জনতা, আন্দোলন – সংগ্রামে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। জনসভায় ঘোষণামতে ৩ মার্চ পটুয়াখালী শহরে পালন করা হয় সর্বাত্মক হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিল। এর আগে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণজমায়েতে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায়ও রক্তমাখা জামাটি দেখানো হয়। রক্তমাখা জামাটি ছুয়ে আমরা সবাই শপথ নিই বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার। পরে জুবিলী স্কুলের মাঠ থেকে আমাদের ‘রক্ত শপথ’ গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পরে।’
তবে স্থানীয় প্রশাসন জুবিলী স্কুলের মাঠের গণজমায়েতকে পণ্ড করতে নানা কৌশল নেয় বলে জানান দলিল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। জনসভায় বিতরণের জন্য আন্দোলনকারীদের অন্যতম কবি খন্দকার খালেক রচিত ‘রক্ত শপথ’ লিফলেট আর্ট প্রেস নামক ছাপাখানায় ছাপিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শহরে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঢল নামে পটুয়াখালী শহরের সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে। গণজমায়েত স্মরণকালের বৃহৎ জনসভায় রূপ নেয়। এতে গ্রাম থেকেও নৌকায় ছুটে আসেন ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। জনস্রোত দেখে দাঙ্গা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়। এদিকে ‘রক্ত শপথ’লিফলেট ছাপানোর কারণে তৎকালীন প্রশাসন সরকারি কাজের ক্ষেত্রে আর্ট প্রেসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যা পরের পাঁচ বছর বলবৎ ছিল।’

ভাষা সৈনিক এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া জানান, পরে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে পটুয়াখালীতে একটি পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে ১৭ এপ্রিল পটুয়াখালীর পুরান বাজার স্টিমার ঘাটের একটি বাড়ির দোতলায় প্রথমে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ স্মৃতি পাঠাগার এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন যুক্তফ্রন্টের এমপি আব্দুল করিম মিয়া ও সম্পাদক হন জালাল উদ্দিন আহমেদ। পরে কয়েকটি স্থানে স্থানান্তরের পর শহরের এসডিও অফিসের পুকুরের পশ্চিম উত্তর কোণে নিজস্ব ভবনে নির্মিত হয় পটুয়াখালী শহীদ স্মৃতি পাঠাগার যার কার্যক্রম এখনও সচল।

আবু মিয়া আরো জানান, ২৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন পাঠাগারের। বর্তমানে ৩৬ জন আজীবন সদস্যসহ ১০০ জন সদস্য রয়েছেন। পাঠাগারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা বর্ষবরণ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন লেখক-কবিদের বই পড়েন।
ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ চত্বরে ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে স্থাপিত হয় শহীদ মিনার। পটুয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে মাথা উঁচু করে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই কাঠামোটি। যেখানে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।




গাজায় নিহত ২৭ হাজার ছুঁইছুঁই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজায় লাশের সারি বাড়ছেই। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। সেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের আল-আমাল হাসপাতালে তীব্র হামলা চালিয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় হামাসকে নির্মূলের অজুহাতে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় চার মাস ধরে সেখানে সংঘাত চলছেই।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনে লোহিত সাগারে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সেখানে এই হামলা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি। তবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।

হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগ্রাসনে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধ জাহাজ তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু।

ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির ওপর এখন পর্যন্ত অন্তত নয়বার হামলা চালিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এতে বৈশ্বিক শিপিং ইন্ডাস্ট্রিতে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। কাজে আসছে না মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সও। হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা চালানো হবে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্য সংঘাত শুরুর পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী। যদিও এসব হামলার অধিকাংশই ভূ-পাতিত করা হয়েছে। কিন্তু জর্ডানে সবশেষ হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন বাহিনী লক্ষ্য করে অব্যাহত হামলার জন্য বাইডেন শুরু থেকেই ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলেকে দায়ী করছেন। ইরান তাদের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো ড্রোন ও রকেট দিয়ে হামলা পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আটবার প্রতিশোধমূলক হামলা করেছে। বেশি হামলা করা হয় ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে।




ঝিনাইদহ-১ : আব্দুল হাইয়ের সংসদ সদস্য পদ হাইকোর্টে স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  নৌকা প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য পদে জয়ী আব্দুল হাইয়ের সংসদ সদস্য পদ স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নির্বাচনে অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি আসাদুজ্জামানের একক বেঞ্চ নির্বাচনী গেজেট স্থগিত করেছেন।

আদেশের বিষয়টি আজ নিশ্চিত করেন আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান মিয়া।




ক্ষমা চাইলেন মার্ক জাকারবার্গ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অনলাইনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানির সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাবা-মায়েদের দিকে তাকিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার হয়ে মারা যাওয়া সন্তানদের ছবি নিয়ে সিনেট ফ্লোরে এসেছিলেন বাবা-মায়েরা।

জাকারবার্গ বলেন, আপনারা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছেন, এ জন্য আমি দুঃখিত। আপনাদের পরিবার যে ক্ষতির শিকার হয়েছে, এ রকম হওয়া উচিত নয়। আর এ কারণে আমরা এত বিনিয়োগ করি। যেন এমনটি যেন আর কারও সঙ্গে না হয়। আর এ জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বুধবার কংগ্রেসে ‘বিগ টেক অ্যান্ড দ্য অনলাইন চাইল্ড সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন ক্রাইসিস’ শীর্ষক শুনানিতে যে পাঁচজন নির্বাহীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাদের একজন জাকারবার্গ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- এক্স-এর লিন্ডা ইয়াকারিনো, টিকটকের শো জি চিউ, স্ন্যাপের ইভান স্পিগেল এবং ডিসকর্ডের জেসন সিট্রন।

মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অনলাইনে যৌন হয়রানি থেকে শিশুদের রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। তারা আরও কঠোর আইন চান। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ বিষয়ে নির্বাহীদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চান মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা।

মার্কিন সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির অভিযোগ  তদন্তের জন্য এ শুনানি ডাকা হয়েছে।




দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের দু’এক জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সামান্য কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা।

আজ মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও এটি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে, আগামীকাল শুক্রবারও বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।