বরিশালের রান পাহাড় টপকাতে পারল না ঢাকা

চন্দ্রদীপ নিউজ: সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রেকর্ড ১৩৯ রানের জুটিতে ভর করে ফরচুন বরিশাল পায় ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ। রিয়াদ ব্যক্তিগত ৭৩ রানে আউট হলেও সৌম্য শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৭৫ রানের অনবদ্য ইনিংসে। বরিশালের দেওয়া বড় টার্গেট টপকাতে নেমে দুর্দান্ত ঢাকার ইনিংস থামে ১৪৯ রানে। আর তাতেই ৪০ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে ঢাকা পর্ব শেষ করল তামিমের দল।

১৯০ রানের লক্ষ্যে নেমে ব্যাট হাতে হতাশই করেছে ঢাকার ব্যাটাররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন অ্যালেক্স রস। এছাড়া কেউই আর রানের খাতা বড় করতে পারেননি। ফলে ৪০ রানের পরাজয় হজম করতে হলো স্বাগতিকদের। বরিশালের পেসার সাইফউদ্দিন ৩ উইকেট নেন। আজই প্রথম খেলতে নামা ক্যারিবিয় পেসার ওবেদ ম্যাকয় ২ উইকেট নেন। বড় ব্যবধানে জিতে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে বরিশাল। অন্যদিকে টানা ৮ হারের পর আর কোনো সমীকরণেই প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা নেই ঢাকার।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বরিশাল। ৪ রান করেন তামিম, ১০ রান শেহজাদের। একই ওভারে ১ রান করা মুশফিককে ফেরান তাসকিন।

এরপর সৌম্যের সঙ্গী হন মাহমুদউল্লাহ, দুজন মিলে দলের হাল ধরলেন। চতুর্থ জুটিতে ১৩৯ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। জোড়া ফিফটি তুলে নেন দুজনই। ৩২ বলে ফিফটি করেন সৌম্য সরকার। এটি তার ষষ্ঠ বিপিএল ফিফটি, চলতি আসরের প্রথম।

এদিন ৪৭ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, যাতে ছিল ৪টি ছক্কা ও ৭টি চারের মার। শরিফুলের ১৭তম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। রিয়াদ ফিরলে শোয়েব মালিক ও সৌম্য ঝড় তোলেন। ৪৯ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন সৌম্য। মালিক ৯ বলে ১৯ রান করেন। শরিফুল ও তাসকিন এদিন শিকার করেছেন দুটি করে উইকেট।




পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পদ্মা সেতু ভ্রমণ

বরিশাল অফিস ::  পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর ৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি’র উদ্যোগে শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ টায় বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (সদরগার্লস) এর সামনে থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু ভ্রমণের আয়োজনে ৭ টি বাসে ভ্রমণ করে এসেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল ৮ টায় নগরীর বগুড়া রোডস্থ সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে  দ্বিতীয় পর্যা‌য়ে ৪০০ জন‌ শিক্ষার্থী ৭ টি বাস যো‌গে পদ্মা সেতু দেখতে যায়। দ‌ক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্ব‌প্নের পদ্মা সেতু দেখার সু‌যোগ ক‌রে দেওয়ায় খু‌শি সদরগার্লস স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
এমন উ‌দ্যোগ নেওয়ায় প্রতিমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী সহ তাদের অভিবাবকরা।
জানা গে‌ছে, পদ্মা সেতু ভ্রম‌ণ আ‌য়োজ‌নের উ‌দ্বোধন নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড থে‌কে শুরু হ‌লেও পর্যা‌য়ক্রমে ৩০‌টি ওয়ার্ড ও সদর উপ‌জেলার ১০ ইউনিয়নের দ‌রিদ্র মানুষ অর্থাৎ যা‌দের সামর্থ‌্য নেই স্ব‌প্নের পদ্মা সেতু‌কে দেখার তা‌দের নি‌য়ে যাওয়া হ‌বে পদ্মা সেতু‌তে। প্রতি‌টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থে‌কে বৃদ্ধ‌দের প্রাধান‌্য দি‌য়ে ৩শ জন ক‌রে পদ্মা সেতু ভ্রম‌ণে নেওয়া হ‌বে। প্রথম দি‌নেই ৬‌টি বা‌সে ৩শ জন পদ্মা সেতু ভ্রম‌নের উ‌দ্দে‌শে রওনা হ‌য়ে‌ছে। যা‌দের খাবার খরচ থে‌কে শুরু ক‌রে সব কিছুই বহন কর‌বেন আ‌য়োজক।
পদ্মা সেতু দেখ‌তে যাওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তি দাস ব‌লেন, এত‌দিন টি‌ভি মোবাই‌লে পদ্মা সেতু দে‌খেছি। ত‌বে এবার নিজ চো‌খে পদ্মা সেতু দেখ‌তে যাওয়া বেশ খু‌শি ও আনন্দিত আমরা।
ইসরাত জাহান  ব‌লেন, বান্ধবীদের সবাই‌কে নি‌য়ে পদ্মা সেতু দেখ‌তে যা‌চ্ছি।
এই ভ্রম‌নের আ‌য়োজক পা‌নি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও ব‌রিশাল সদর আস‌নের সংসদ সদস‌্য জা‌হিদ ফারুক শামীম ব‌লেন, এ‌দি‌কে যে সেতু নির্মা‌ণের কার‌ণে বি‌শ্বের বু‌কে বাংলা‌দেশ মাথা উঁচু ক‌রে দা‌ঁড়ি‌য়ে‌ছে সেই সেতু দেখার সু‌যোগ আমা‌দের অঞ্চ‌লের অ‌নে‌কেরই হয়‌নি। পদ্মা সেতুর কার‌ণে সব থে‌কে বে‌শি লাভবান হ‌য়ে‌ছে ব‌রিশা‌লের মানুষ। আর এই অঞ্চ‌লের যা‌দের পদ্মা সেতু দেখ‌তে যাওয়ার সামর্থ‌্য নেই তা‌দের পদ্মা সেতু ঘু‌রে দেখার সু‌যোগ ক‌রে দি‌য়ে‌ছি আ‌মি।
১২ সহস্রা‌ধিক মানুষ এই সু‌যোগ পাবে। বি‌শেষ ক‌রে দ‌রিদ্র বৃদ্ধ পুরুষ ম‌হিলা‌দের পদ্মা সেতু দেখা‌নোর জন‌্য গুরুত্ব দি‌চ্ছি আমরা। বাঙালির গর্ব অহংকার ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক পদ্মা সেতু দেখানোর এই আয়োজন নিম্ন আয়ের এসব মানুষের মনে তৈরি করবে নতুন স্বপ্ন। যে স্বপ্নে ভর করে পদ্মা সেতুর মতো মাথা উঁচু করে বাঁচার সাহস জাগবে তাদের মনে।



মির্জাগঞ্জে বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় হামেদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হামেদ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলন মিত্র জানান, বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এশার নামাজের পর বাড়ির পাশে মাহফিল শুনতে যান হামেদ। পরে রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরেননি।

সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।




ভোলায় ৫ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

বরিশাল অফিস :: ভোলায় পাঁচ কেজি গাঁজাসহ মো. রবি আলম (৪০) নামের এক যুবককে আটক করেছেন পুলিশ। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সোয়া ১ টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইলিশা-লক্ষীপুর গামী লঞ্চঘাটের পল্টনের উপর থেকে তাকে আটক করা হয়


আটককৃত মো. রবি আলম ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ বাটামারা, বড় মানিকা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সেকান্তর আলীর ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছেন সে একজন সক্রিয় মাদক কারবারী।

ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার দুপুর সোয়া ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইলিশা-লক্ষীপুর গামী লঞ্চ ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পল্টনের উপর থেকে মো. রবি আলম নামের এক যুবককে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে।




কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী ১৭ ফেব্রুয়ারি

বরিশাল অফিস :: জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদ এর উদ্যোগে এবারের এ আয়োজনে কোনও ধরনের প্ল্যাস্টিক বা প্যানাফ্লেক্স সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে না। সেইসাথে জন্ম-জয়ন্তীর গোটা আয়োজন প্রথমবারের মতো কবি জীবনানন্দ দাশের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠশালা ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সবাইকে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়ে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জননী সাহান আর বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদ। কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে ১৪ অক্টোবর থেকে ৮দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ২২ অক্টোবর প্রয়াত হন।

জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক কবি ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, জীবনানন্দ দাশের পর বুঝতে পারা গেছে সে কত বড় কবি ছিলেন। সাধারণ জীবনযাপন করে ও তিনি অসাধারণ কবিতা লিখেছেন। বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্ম-জয়ন্তীতে বরিশালের অনেকে অনেককিছুই করবে। তবে আমরা একটু ভিন্নতায় গুরুত্ব দিয়েছি।

তিনি বলেন, কোন কিছুর উদ্‌যাপনের পেছনে দুটি জিনিস কাজ করে, একটি হল মনে করিয়ে দেয়া আর একটি হল প্রচার। আর আমরা স্থানীয় প্রচারকে গুরুত্ব দিয়েই সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে বসলাম। আশা করি আপনাদের লেখনীর মধ্য দিয়ে জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী সম্পর্কে আরও বেশি মানুষ জানবে। তাকে নিয়ে ভাববে।

এসময় জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদের সদস্য জাহিদ আব্দুল্লাহ রাহাত বলেন, কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তীতে এই বোধের জায়গাটিতে ঝাঁকুনি দেয়াড় একটা সময় হয়েছে। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে চাই যা দীর্ঘমেয়াদে এই শহরে একটি কার্যকরী অনুরণন সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রথমত প্রথমবারের মতো জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কোনো আয়োজন ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে হচ্ছে। আমরা জানি, জীবনানন্দ এই প্রতিষ্ঠানটির একজন কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিবছর শিক্ষা বৃত্তি পেতেন। এই কৃতি শিক্ষার্থীর কল্যাণে বাংলা সাহিত্যে ব্রজমোহন বিদ্যালয় নামটি অক্ষয় হয়ে থাকবে- এই বিষয়টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা হয়ত বুঝবে এবং আশা করি। প্রতিবছর এই মানের অন্তত একটি আয়োজন তারা করবেন। এছাড়া জীবনানন্দের জীবনের দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাঁর বাবা সত্যানন্দ দাশ এবং প্রধান শিক্ষক আচার্য জগদীশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর মতো শিক্ষকেরা একসময়ে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। এমন মহতী শিক্ষকদের শিক্ষা কি ছিলো -এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে আগ্রহ তৈরী হোক।

অপরদিকে এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি মঞ্চে অভিনয় করবেন, দেয়ালিকা তৈরী করবেন এবং জীবনানন্দ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করবেন যা তাদের চর্চায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

আর এবারের কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী আয়োজনটিতে কোনও ধরনের প্ল্যাস্টিক বা প্যানাফ্লেক্স সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে না। যা আজকালকার যেকোনো আয়োজনে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু চাইলেই আসলে এসব এড়ানো যায় এটা আমরা প্রমাণ করতে পারি। জীবনানন্দের আয়োজনে পরিবেশ ক্ষতির কারণ হয় এমন কিছু আমরা করতে পারি না। ব্রজমোহন বিদ্যালয় নামাঙ্কিত ভবনটি জীবনানন্দ যখন পড়তেন তখনও এভাবেই ছিলো। আমরা মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং ভবনটি অবিকল রেখে আরও সুরক্ষিত করা উচিত। আমরা এই ভবনটিকেই আমাদের আয়োজনের ব্যাকড্রপ হিসেবে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে চাই। এছাড়া আমাদের অনুষ্ঠানের প্রধান গেটটি দেশীয় অনুষঙ্গ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে এবং গেটটিতে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা বিষয়ে মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে।

অনুষ্ঠানস্থলে জীবনানন্দ বিষয়ক বইয়ের একটি স্টল থাকবে পাশাপাশি জীবনানন্দের লোগো সম্বলিত কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, নোটপ্যাড, কলম এবং একটি প্রকাশনার প্রদর্শনী থাকবে। এছাড়া ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরী জীবনানন্দ স্মরণে একটি ‘দেয়ালিকা’ থাকবে।

আয়োজকরা জানান, জীবদ্দশায় জীবনানন্দ মাত্র ২৭২ টি কবিতা প্রকাশ করেছিলেন, অথচ তাঁর প্রায় সাড়ে তিন হাজারের উপরে কবিতা রয়েছে যা তাঁর মৃত্যুর পরে আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এখনও অপ্রকাশিত কবিতা নামে প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি ২৭ টি উপন্যাস, ১০৯ টি ছোটগল্প লিখেছেন, এছাড়া অসংখ্য প্রবন্ধ, সমালোচনা সাহিত্য, চিঠিপত্র, লিটেরারী নোটস ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর আর্থিক সংকটের সময়ে তিনি যে কিছু গানও লিখেছিলেন টা একেবারেই অনাবিষ্কৃত ছিলো। আমরা জীবনানন্দের ১৫ টি গান পেয়েছি(জীবনানন্দ দাশ: বিকাশ প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত-দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, পৃষ্ঠা: ৫৮৫)যার মধ্যে বাছাই করে ৫ টি গানের সুর ও সঙ্গীতায়োজন করা হয়েছে। যা এপার বাংলা-ওপার বাংলা মিলে সম্ভবত প্রথমবারের মতো পরিবেশিত হতে যাচ্ছে।

যারা গানগুলোর সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৈত্রী ঘরাই, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল রানা, সরকারি বরিশাল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় হালদার, নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী রিপন কুমার গুহ।

এছাড়া জীবনানন্দের কবিতায় সুর হয়েছে এবং ক্যামেরায় দৃশ্যায়ন হয়েছে। তাঁর জীবনীভিত্তিক উপন্যাস ‘একজন কমলালেবু’(শাহাদুজ্জামান) এর নাট্যরূপ হয়েছে কিন্তু মঞ্চে পারফর্মিং আর্টের মাধ্যমে কবিতার দৃশ্যায়ন সম্ভবত এই প্রথম। জীবনানন্দের কবিতার এত ‘লেয়ার’ যে একে মঞ্চে উপস্থাপন করা সত্যিই দুরূহ। এই চ্যালেঞ্জিং কাজটিই আমরা এই আয়োজনে করতে যাচ্ছি। মজার ব্যাপার হলো মঞ্চে পারফর্ম করবে ব্রজমোহন বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থীরা। যেখানে প্রথমবারের মতো মঞ্চে পারফর্মিং আর্টের মাধ্যমে আকাশলীনা, বনলতা সেন, বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, অদ্ভুত আঁধার এক, ও আবার আসিব ফিরে এই ৫ টি কবিতার দৃশ্যায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে কোন প্রধান ও বিশেষ অতিথি নেই জানিয়ে তারা বলেন, সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আমরা সবার উপস্থিতিও কামনা করছি। তবে যারা নিবিষ্ট মনে জীবনানন্দকে নানাভাবে চর্চা করছেন, ধারণ করছেন, তাদের মধ্যে বরিশালেই জন্ম এমন ৩ জন তরুন আমীন আল রশীদ, সৌরভ মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ মাহফুজ অভি কে এই আয়োজনে অতিথি করা হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, চিরায়াত বাংলার রুপকে ইতিহাস আর বৈশ্বিক চেতনায় বিশ্লেষণ করেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। বাঙলায় প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি এঁকেছেন তাঁর চোখে- যা সমানভাবে কৌতূহল জাগিয়েছে দেশি এবং ভিনদেশি পাঠককে। ‘দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে’, ‘অবিরল শুপুরির সারি আঁধারে যেতেছে ডুবে’, ‘পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে’, ‘চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে’- এ দৃশ্যগুলি প্রত্যেক বাঙালীর চেনা কিন্তু কি এক আশ্চর্য সম্মোহনী আকর্ষণ জাগায় পাঠক মনে! শুধুমাত্র ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বহু জীবনানন্দ অনুরাগী তাঁর নিজ শহর এই বরিশালে ছুটে চলে আসেন, যেমনিভাবে কবি নিজেও বারবার বাংলায় ফিরতে চেয়েছেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো জীবনানন্দের শহরে তাঁর অনুরাগীরা এসে মোটামুটি একটা হোঁচট খান, জীবনানন্দের বাংলার এই ছবি আজ কল্পনায় শুধুমাত্র। বিলীন হয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রিয় ঝাউবন, লাল সুড়কির ইটের রাস্তা, জলসিঁড়ি- ধানসিঁড়ি নদীর তীর, ঘুঘু, প্যাঁচা, গোলপাতার ছাউনি কিংবা নাটাফল। জীবনানন্দ চর্চা বা আয়োজনে সংশ্লেষণের যায়গাটি অনুপস্থিত। ‘যদি ধানসিঁড়ি না বাঁচে, জীবনানন্দ ফিরবে কার তীরে’- এই বোধ তৈরী হচ্ছে না। যে শহরে জলাশয় হত্যা হয়, জল-জমি-জঙ্গল লুট হয়ে যায়, সে শহরে জীবনানন্দের কবিতারা কীভাবে থাকে? কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তীতে এই বোধের যায়গাটিতে ঝাঁকুনি দেয়ার একটা সময় হয়েছে। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে চাই যা দীর্ঘমেয়াদে এই শহরে একটি কার্যকরী অনুরণন সৃষ্টি করতে পারে।




টস জিতে ব্যাটিংয়ে বরিশাল

চন্দ্রদীপ নিউজ : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে মাঠে নামছে ফরচুন বরিশাল। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল

এবারের বিপিএলে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই বরিশাল। জয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু পর চার ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে দলটি। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে আছে বরিশাল।

অন্যদিকে নাজুক অবস্থা রাজধানীর দল ঢাকার। জয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু পর টানা সাত ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে দলটি। ৮ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানীতে আছে ঢাকা।

ফরচুন বরিশাল একাদশ: তামিম ইকবাল, আহমেদ শেহজাদ, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, আকিফ জাভেদ, শোয়েব মালিক, তাইজুল ইসলাম, ওবেদ ম্যাকয় ও সাইফ উদ্দিন।

দুর্দান্ত ঢাকা একাদশ: তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান, আরাফাত সানী, মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, নাঈম শেখ, তাহজিবুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, মেহরব হাসান, চতুরঙ্গ ডি সিলভা, ইয়ান রস ও লাহিরু সামারাকুন।




বরিশালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রেস্টুরেন্টে অভিযান, জরিমানা

বরিশাল  অফিস :: বরিশালে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি খাবার হোটেলে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরিশাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারীর নেতৃত্বে নগরের পেয়ারা রোড ও গীজ্জামহল্লা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মডার্ন মেডিকেল সার্ভিসেসসহ দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২৭ হাজার টাকা এবং গির্জা মহল্লা রোডে হোটেল আল জামিয়াকে অপরিচ্ছন্নতা, খাবারে ভেজাল এবং বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস এবং কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনস্বার্থে এই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।




চট্টগ্রামকে উড়িয়ে শীর্ষস্থান দৃঢ় রংপুরের

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: মিরপুরে রংপুর-চট্টগ্রামের লড়াইটা ছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখলের। যে লড়াইয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে কোনো পাত্তাই দিলো না রংপুর রাইডার্স। আজ শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামকে ৫৩ রানে হারিয়েছে রংপুর। এ জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও পোক্ত করলো নুরুল হাসান সোহানের দল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আজ শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের বিপক্ষে রংপুর আগে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে তোলে ২১১ রান, যা এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। সেই রান তাড়ায় নেমে ১৫৮ রানেই থামে চট্টগ্রামের রানের চাকা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই রান তুলতে খাবি খেয়েছে চট্টগ্রাম। একদিকে নিয়মিত বিরতিতে গেছে উইকেট, সেই কারণে আসে প্রয়োজনীয় রানও।

চট্টগ্রামকে তৃতীয় ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসেই ধাক্কা দেন সাকিব আল হাসান। জশ ব্রাউনকে (১০) বোল্ড করে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর রয়ে-সয়ে পাওয়ারপ্লে কাটান সৈকত আলী ও টম ব্রুস। কিন্তু দরকারের সময় রান তোলার গতি বাড়ানো হয়নি তাদের। এর আগেই ইমরান তাহিরে ঘায়েল হন 1৪ রান করা ব্রুস। কিছুক্ষণ পর সাহাদাত হোসেন দীপুকে (৯) নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান সাকিব।

 

শুরু থেকেই রিকোয়ার রান রেট ১০ এর ওপরে থাকলেও প্রথম ১০ ওভারে চট্টগ্রাম তুলতে পারে মাত্র ৪৯ রান। শেষ ওভারে রান তোলার গতি বাড়ালেও তাই বড় হার এড়াতে পারেনি চট্টগ্রাম। শুরুতে কচ্ছপ গতিতে ব্যাটিং করা সৈকত করেন ৬৩ রান। শেষে দ্রুত রান তুললে ৪৫ বলে এই ইনিংস খেলেন তিনি। শুভাগত হোম মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানও কাজে আসেনি চট্টগ্রামের।

এদিকে, ব্যাট হাতে ঝোড়ো ফিফটির বল হাতেও ২ উইকেট নেন জিমি নিশাম। ফেরান ২১ রান করা কার্টিস ক্যাম্ফার এবং ১ করা শহীদুল ইসলামকে। রংপুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত এমন বোলিংয়েই ৬ উইকেটে ১৫৮ রানে থামে চট্টগ্রামের রানের চাকা।

এর আগে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন রংপুরের দুই ওপেনার রনি তালুকদার ও রেজা হেনড্রিকস। উদ্বোধনী জুটিতেই দলীয় স্কোরবোর্ডে তারা যোগ করেন ৬১ রান। ১৭ বলে ২৪ রান করে রনি ফিরতে ভাঙে এ জুটি। আসরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই হেনড্রিকস অবশ্য পেয়ে যান ফিফটির দেখা। সাকিবকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনি আরও যোগ করেন ৬০ রান।

সাকিব আল হাসান তিনে নেমে শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। তবে উইকেটে লম্বা সময় টিকে থাকা হয়নি তার। ১৬ বলে ২৭ রান করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। সাকিব ফেরার পর স্কোরবোর্ডে আর ১ রান যোগ হতে উইকেট দেন হেনড্রিকসও। এই প্রোটিয়া ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে 5৮ রান।

এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি রংপুর। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ও নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার জিমি নিশাম দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে রংপুরকে এনে দেন বিশাল সংগ্রহ। সোহানের ব্যাটে ২১ বলে আসে ৩১ রান। নিশাল ছিলেন আরও মারকুটে। মাত্র ২৬ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাদের ৮৯ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২১১ তোলে।




সাইফ আলী, কারিনা ও তৈমুর পরিবার




কুয়াকাটায় সরকারি কবরস্থান দাবি

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পর্যটন নগরী পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্থানীয়দের জন্য পারিবারিক কবরস্থান থাকলেও সাধারণ মানুষ ও অজ্ঞাত ব্যক্তির শেষ যাত্রার ঠিকানা সরকারি কোনো কবরস্থান নেই। পর্যটন নগরীর জমির দাম দিনকে দিন বৃদ্ধি হওয়ার কারণে আগামীতে সাধারণ মানুষ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সমাহিত করতে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাই দ্রুত সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য পৃথক একটি কবরস্থান নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

কুয়াকাটার সঙ্গে সমগ্র দেশের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হওয়ার কারণে সরকারি নতুন নতুন প্রকল্প ও বেসরকারিভাবে বিনিয়োগকারী বাড়ছে।
স্থানীয় উন্নয়ন, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন অবকাঠামো এখন গড়ে উঠছে কুয়াকাটায়। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এখানকার জমির দাম। আর পর্যটন এলাকার স্থানীয়দের জন্য পারিবারিক কবরস্থান থাকলেও সাধারণ মানুষের শেষযাত্রার ঠিকানা না থাকায় কবরস্থানের জায়গা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শোকাহত স্বজনদের।

স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন বলেন, ছোট সময় থেকে কুয়াকাটায় বসবাস করি। ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর আমার বাবা মারা যান। আমাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে হওয়ায় আর্থিক সংকটের কারণে বাবার দেহ বাড়ি নিতে পারিনি। কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় বসবাস করার কারণে নিজস্ব কবরস্থান না থাকায় বাবার লাশ দাফন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ি। পরে মানবিকতার কারণে স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি শরিফ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করতে দেন।
দ্রুত সরকারি কবরস্থান নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম বলেন, এখনো জমির দাম কম থাকায় কুয়াকাটায় ধনাঢ্য স্থানীয়দের পারিবারিক কবরস্থানে মানবিক দিক বিবেচনা করে সাধারণের কবর দেওয়া হয়। তবে যেভাবে দিন দিন জমির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে কবর দেওয়ার জায়গা নিয়ে সংকট দেখা দেবে। তাই দ্রুত সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য একটি কবরস্থান নির্মাণের দাবি জানাই।

কবর খননকারী হাফেজ সিকদার (৭০) বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকে পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় মানুষকে দাফন করি। বর্তমান সময় পর্যন্ত ৩২৫ জন মৃত্যু মানুষের দাফন কাজ সম্পন্ন করেছি। শুরুর দিকে জমির মূল্য কম থাকায় মানুষ পারিবারিক কবরস্থানে সাধারণ মানুষকে দাফন দিত। দিন দিন জমি কমে যাওয়া ও জমির মূল্য বৃদ্ধির কারণে টাকার বিনিময়েও সাধারণ মানুষকে দাফন দিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে একটি সরকারি কবরস্থান নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাস জমির বন্দোবস্ত করে সরকারি কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।