কলাপাড়ায় অগ্নিকান্ডে বসতবাড়ী পুড়ে ছাই

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী):

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় একটি বসতঃবাড়ী সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়েছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ফুলতলী বাজার সংলগ্ন দাসের হাওলা গ্রামে লিটন গাজীর বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লক্ষ টাকা অন্যান্য মালামাল সহ অন্ততঃ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারনা।

লিটন গাজীর স্ত্রী রহিমা বেগম জানান,দুপুর ২ টার দিকে তিনি ঘরের পিছনে বসে কাজ করছিলেন। এ অবস্থায় তার ছোট মেয়ে দৌঁড়ে এসে আগুন ঋগুন বলে চিতকার করে । তাৎক্ষনিক আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাড়িটিতে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন নেভাতে আসা কালাম বলেন,তারা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দৌঁড়ে এসে দেখেন পুরো ঘরে আগুন জ্বলছে। আগুনের এতই তাপ ছিলো কাছে যাওয়ার কোন পরিস্থিতি ছিলোনা।

ক্ষতি গ্রস্থ লিটন গাজী বলেন,আমাদের পড়নের বস্ত্র ছাড়া আমি কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। তা ছাড়াও তার ঘরে আরও পাঁচজন ভাড়াটিয়া ছিলেন,তাদের মালামালও পুড়ে গেছে।




গলাচিপায় পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে  মাদ্রাসার তিন ছাত্র বহিস্কার 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার গলাচিপা কালিকাপুর নূরিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা পরীক্ষা  কেন্দ্রে (কোড -৫৬৭) দাখিল পরীক্ষায় প্রথম দিনে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ (১০১) বিষয়ের পরীক্ষায় নকল ও সাথে মোবাইল পাওয়ায় ৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা  হয়েছে।

বহিস্কৃতরা হলো মানিক চাঁদ দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী মো. ইসমাইল হোসেন রোল নম্বর ২৪১৩৪৫, বড় চত্রা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী শামীম হোসেন রোল নম্বর ২৪১১২৬ ও উত্তর পূর্ব গজালিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম।

গলাচিপা দাখিল মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ও একাডেমিক সুপারভাইজার আবুল কালাম সাঈদ তিন জনকে বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে গলাচিপা  কালিকাপুর নূরিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও উপধ্যাক্ষ মো: জসিম উদ্দিন জানান, এ কেন্দ্রে মোট  পরীক্ষার্থী ৬২০জন অনুপস্থিত ১৫জন আর তিনকে অসাধুপায়ে অবলম্বনের দায়ে বহি:স্কার করা হয়েছে।

এদিকে সকাল ১০ টা থেকে সারাদেশের ন্যায় একযোগে মোট ১০ টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১ টায় শেষ হয়। এবারের মোট পরীক্ষার্থী ৩৮২৬ জন। এর মধ্যে প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিলো ৫২ জন।

কেন্দ্র পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নকল মুক্ত ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সকলে ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।




পটুয়াখালীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ২৫ হাজারেরও বেশি 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সারা দেশের ন্যায় পটুয়াখালীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রেগুলোর সামনে অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় জেলার ৬৮ টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এবার জেলায় পরীক্ষার্থী ২৫ হাজার ৫শ ৮৩ জন ।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৫ হাজার ৫শ ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসি পরিক্ষার্থী ১৫,৬৪৬ জন, দাখিল পরীক্ষার্থী ৭,৪৭৫ জন ও এসএসসি ভোকেশনালের পরীক্ষার্থী ২,৪৬২ জন।

জেলার কলাপড়া উপজেলায় ৯টি কেন্দ্রে ২,৯৭৪ জন,
রাঙ্গবালী উপজেলায় ৪টি কেন্দ্রে ১,২৭১ জন,
গলাচিপায় ১০টি কেন্দ্রে ৩,৯৯৩ জন,
দশমিনায় ৫টি কেন্দ্রে ২,২১০ জন,
বাউফলে ১৪টি কেন্দ্রে ৫,৪৬৬ জন,
দুমকিতে ৬টি কেন্দ্রে ১,৮৭০ জন, মির্জাগঞ্জে ৫টি কেন্দ্রে ২,০৪৭ জন ও
সদর উপজেলায় ১৫টি কেন্দ্রে ৫২৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

সুষ্ঠু ও নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের লক্ষে জেলার ৮টি উপজেলাকে ৫ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ৫টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, মাঠে আমাদের ৫টি ভিজিলেন্স টিম কাজ করেছে। আশা করছি নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবো।




ভোলার লালমোহনে ট্রলি চাপায় বৃদ্ধা নিহত

বরিশাল অফিস :: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মালবাহী ট্রলির চাপায় মনছুরা নামে প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন জাফর নামে আরেক বৃদ্ধ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে লালমোহন পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মনছুরা উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আসুলি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী। এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় আহত জাফর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলায় পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, সকালে লঞ্চঘাট সড়ক থেকে একটি ট্রলি লালমোহন বাজারে আসছিল। এ সময় মনছুরা ও জাফর সড়ক পার হতে গেলে ওই ট্রলির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃদ্ধা মনছুরাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরো জানান, মৃত ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ট্রলি এবং চালককে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।




বরিশালবাসীর আপনজন আওয়ামী লীগ নেতা খাঁন মামুন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল আওয়ামী লীগের ত্যাগীনেতাদের তালিকায় অন্যতম হিসেবে আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খাঁন মামুনের নাম আসলেও দল থেকে বার বারই বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচন থেকে শুরু করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র নির্বাচন কোনটিতেই দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম লেখাতে পারেন নি তিনি।তবুও বরিশাল বাসীকে সমাজ সেবকের ভূমিকায় আওয়ামী লীগের নামেই প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন এই নেতা।

দল থেকে তাকে সঠিক মূল্যায়ন না করা হলেও বরিশালের সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে দলমত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খাঁন মামুনের নাম সাধারণ মানুষের অন্তরে ঠাই মিলেছে। বরিশাল আওয়ামী লীগের প্রায় সকল সিনিয়র নেতারই ভাষ্য খাঁন মামুনই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কিনা বরিশালের বরিশালের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দলের দুঃসময়ে সাধারণ জনগণের পাশে থেকে তাদের বিপদে ঝাপিয়ে পরে বরিশালের আওয়ামী লীগ সংগঠনের আজকের এই মজবুত ভিত তৈরি করতে অবদান রেখেছে যা অনস্বীকার্য।

বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে দলীয় আত্তীকরণে ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে এই ত্যাগ শিকার করা জনবান্ধব নেতা। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে দল থেকে প্রাপ্তির খাতা শূন্য হলেও জনগনকে তিনি পেয়েছেন আপন করেই এমনটা মতামত দক্ষিনাঞ্চলের সাধারণ জনগণের।

বরিশালের তৃনমুল পর্যায়ের প্রবীন নেতৃবৃন্দরা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে জনতার নেতা হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুন সম্পর্কে বলেন,জিয়াউর রহমান বিরোধী আন্দোলন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলনে বরিশাল আওয়ামী লীগ কে সুসংগঠিত করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তিনটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন বরিশালে। বিএম কলেজ ছাত্রলীগ এর সভাপতি হিসেবে ১৯৮১ সাল থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ সংগঠন কে সুসংগঠিত করতে অবদান রেখেছে।

এছাড়াও খান মামুন দলমত নির্বিশেষে করোনা মহামারী, বন্যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া নিঃস্ব হওয়া পরিবার সহ সকল প্রাকৃতিক দূর্যোগে আপনজন হয়েই সাধারন মানুষদের পাশে ছিলেন শুরু থেকে শেষ অবদি।যেকোনো দূর্যোগে খান মামুনেই সাধারন মানুষ পাশে পেয়েছেন।বর্তমানে বরিশাল আওয়ামী লীগ সহ সাধারণ মানুষের দাবী একটাই আজীবন পাশে থাকা ব্যক্তি খান মামুন কে আসন্ন বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জয়যুক্ত করবেন তারা।




কুকুর জবাই দেয়া মাংসের দোকানের কর্মচারীর জামিন

বরিশাল অফিস :: বটতলা বাজারে কুকুর জবাই দেয়া মাংসের দোকানের কর্মচারীকে জামিন দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দোকান কর্মচারী রায়হান মোল্লা আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট হাবিবুর রহমান চৌধুরী আসামীর জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারী বটতলার মাংসের বাজারে পাশে কুকুর জবাই দেয় রায়হান। কুকুরটি ছুটে গিয়ে হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে একটি গলিতে গিয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় গত ৭ ফেব্রুয়ারী কুকুরের লালন-পালনকারী এক নারী চিকিৎসক রায়হানকে আসামী করে আদালতে মামলা করে।

আদালতের নির্দেশে কোতয়ালী মডেল থানা মামলা রুজু করে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রায়হান মোল্লা বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পন করেন।

আদালতের জিআরও এনামুল হক জানান, জামিনযোগ্য ধারায় মামলা হওয়ায় আসামীকে জামিন দেয়া হয়েছে।




বরিশালে রাকুদিয়ায় লাখ টাকার মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করছেন টাঙ্গাইলের দুই ভাই

বরিশাল অফিস :: বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাকুদিয়া গ্রাম। এ গ্রামে গেলেই হলুদে চোখ জুড়িয়ে যায়। সিংহভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে সরিষা। এ সরিষার ফুলের মধু দিয়ে অর্থ আয় করছে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা দুই ভাই। উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের সরিষা ক্ষেতের পাশে চাষ করা মৌ-মাছি নিয়ে সংগ্রহ করছেন মধু। ক্ষেত থেকেই মধু কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। দামে কম ও খাঁটি মধু হওয়ায় বেচা-বিক্রিও ভালো বলে জানালেন মৌ-চাষী মো. আয়নাল।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার হেমনগর ইউনিয়নের নতুন সিমলা পাড়ার বাসিন্দা মো. আয়নাল জানান, কৃষি অফিসের কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারেন রাকুদিয়া গ্রামে প্রচুর সরিষা ক্ষেত রয়েছে। সেই খবর পেয়ে গত ২৪ জানুয়ারী গ্রামে এসেছেন। তার ছোট ভাই মো. মুন্না খান প্রশিক্ষিত মৌ চাষী। ভাইয়ের মুন্না খান মৌ খামারে সহযোগিতা করেন তিনি।

আয়নাল বলেন, তাদের খামারে ১০৫টি মৌ-মাছির বাক্স রয়েছে। প্রত্যেকটি খামারে একটি করে রানী মৌ-মাছি রয়েছে। একেকটি রানী প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার ডিম দেয়। প্রতিদিনই মৌমাছির সংখ্যা বাড়ে। প্রতি সপ্তাহে একটি বাক্স থেকে ২ কেজি করে মধু সংগ্রহ করা হয়। উত্তর রাকুদিয়া গ্রাম থেকে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এছাড়াও ডাবর ও এপি কোম্পানীর কাছেও মধু বিক্রি করেন। গত ২১ দিনে অন্তত ১৫ মন মধু সংগ্রহ করেছেন। থাকা খাওয়ার খরচ শেষে ভালো লাভ থাকে বলে জানিয়েছেন আয়নাল। প্রত্যেকটি মৌচাকে কত মৌমাছি থাকে সঠিক হিসেব জানেন না জানিয়ে বলেন, মৌমাছি থেকে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মোম পাওয়া যায়। ওই মোম ডাইসে দিয়ে মৌচাক তৈরি করা হয়। সেখানে মৌ-মাছিরা মধু এনে জমা করে। সেই মৌচাক এনে নিজেদের তৈরি একটি যন্ত্রের মধ্যে রেখে চাকতির মাধ্যমে ঘুরিয়ে মধু সংগ্রহ করা হয়। পরে মৌচাক আবার বাক্সে রেখে দেয়া হয়। একটি মৌচাক দিয়ে অন্তত ৪/৫ বছর মধু সংগ্রহ করা যায়।

তিনি আরো বলেন, গ্রামের মানুষ অনেক ভালো। সবাই তাদের সহযোগিতা করে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার এসে তার কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যেক সরিষা চাষীরা তাদের সহায়তা করেন। যার জমিতে মৌ-মাছির বাক্স রেখেছে মধু সংগ্রহ করেন, এই জন্য জমির মালিককে শুধু মধু দিয়েছেন।

এখানে ছাড়াও কালিজিরা, বড়ই ও লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করেন। এ জন্য তারা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে অবস্থান করেন। এছাড়াও সুন্দরবন থেকেও মধু সংগ্রহ করা হয়। বছরের ৬ মাস বিভিন্ন জেলায় মৌ মাছি ও মৌচাক নিয়ে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করেন। বাকি ৬ মাস নিজেদের বাড়িতে চিনি খাইয়ে মধু তৈরি করেন। তবে এ বিষয়টি ব্যয়বহুল। ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু ভালো ও খরচ তেমন নেই বলে জানান আয়নাল।

এখান থেকে আড়াই কেজি মধু কেনা বাবুগঞ্জ উপজেলার ভুতেরদিয়া গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঢাকায় থাকা স্বজনরা শুনেছেন রাকুদিয়া গ্রামে খাটি মধু পাওয়া যায়। বাসা থেকে মধু দেয় তারা। তারা এখান থেকে মধু পাঠাতে বলছে। তাই এখান থেকে কিনেছি ঢাকা পাঠানোর জন্য। মধু খাটি ও দামে কম বলে উচ্ছসিত আলাউদ্দিন।

উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৯০ বছর বয়সী মো. আব্দুল করিম বেপারী বলেন, ৯০ বছর বয়সে এভাবে মধু সংগ্রহ করা প্রথম দেখেছি। খাটি মধু হওয়ায় লোকজন এসে কিনে নিয়ে যায়।

চার কেজি মধু কেনা নতুন হাট এলাকার ব্যবসায়ী উজ্জল বলেন, কয়েকদিন আগে গ্রামে এসেছিলাম। তখন এখানে লোকজন দেখে জানতে পারলাম চাক থেকে মধু বিক্রি হয়। নিজের চোখে দেখে মধু সংগ্রহ করার জন্য এসেছি। বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহনযোগ্য। বাজারের তুলনায় দাম অনেক কম। তাই এখান থেকে নিশ্চিত্বে মধু কিনেছি। বাজার থেকে যে মধু কিনে তা তো দেখি না। দামও এক হাজার টাকা কেজি। আসল কিনা নকল তাও জানি না। এখানে সেই সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে আসবো।

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-মাছির চাষে পরাগায়ন ভালো হয়। এতে ফলন বেশি পাওয়া যায়।

তিনি জানান, উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের ১৩০ একর জমিতে এবার সরিষার আবাদ হয়েছে। বেশ ভালো ফলনও আশা করা যাচ্ছে।
উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে মৌ-মাছির খামারের বিষয়টি তিনি দেখেছেন। সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করেছেন জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ানো হচ্ছে। তাই মধু সংগ্রহের চাষী স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

বরিশাল জেলায় এবার ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানিয়েছে।

 




মেঘনা নদীতে ঢাকার মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় খালা বাড়ীতে বেড়াতে মেঘনা নদীতে মামার সাথে গোসল করতে গিয়ে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নদীর হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে নৌ-পুলিশ পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র হলো- হাফেজ মো. সাব্বির (১৮)। সে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার মো. মাহেবের ছেলে।

হিজলা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বড়জালিয়া গ্রামে খালার বাড়ীতে বেড়াতে এসেছে সাব্বির। দুপুর দেড়টার দিকে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আপন মামা নাছিরউদ্দিনের সাথে মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়। সাতার না জানার কারনে নদীতে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে তল্লাশী চলছে বলে পরিদর্শক জানিয়েছেন।

উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু নিখোঁজ সাব্বিরের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।




বরগুনায় দায়িত্বে অবহেলায় দুই শিক্ষককে অব্যাহতি, ৫ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় আজ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে দুই শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটা কেএম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকনুজ্জামান খান এ আদেশ দেন।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীরা হলো- কাকচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম ও রেজবুল মাহমুদ এবং বারি আজাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতি ও মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার। এ ছাড়া কালমেঘা মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করতে গেলে ওই পাঁচ পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বন করতে দেখা যায়। পরে তাদের বহিষ্কারসহ দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।




ঘুমন্ত শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণ, বরিশালে একজনের যাবজ্জীবন

বরিশাল অফিস :: মুর্শিদি গানের প্যান্ডেল থেকে ঘুমন্ত শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের ১৪ বছর পর মামলার একমাত্র আসামি কবির হোসেন ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কাজী মো. হুমায়ুন কবির। বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডিত কবির হোসেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাওগা গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

বেঞ্চ সহকারী কাজী হুমায়ুন কবির মামলার বরাত দিয়ে বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর গ্রামের ব্রিজঘাট এলাকায় ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে মুর্শিদি গান হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই গান শুনতে যায়।

গান শুনতে শুনতে প্যান্ডেলের হোগলায় ঘুমিয়ে পড়ে সাত বছরের ওই শিশু। পরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই তাকে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন কবির। এরপর ওই শিশু অসুস্থ হয়ে কান্না করে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এলাকাবাসী কবির মারধর করে ছেড়ে দেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পরদিন ৩০ অক্টোবর কবিরকে অভিযুক্ত করে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর কবিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বেল্লাল হোসেন। পরে আজ সেই মামলার রায় হলো।