বরিশালের লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি আদিরূপে ফিরছে

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি সংস্কারের মাধ্যমে আদিরূপে ফিরছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে ধসপ্রায় প্রাসাদোপম এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের সহকারী কাস্টোডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে ও বাতাস চলাচলের কাঠামো পরবর্তী ধাপে সংস্কারের আওতায় আসবে। লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি ৮.২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯.২০ মিটার প্রস্থের দোতলা ভবন। ভবনের চারপাশে পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “ছোটবেলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখেছি। সংস্কারের পর প্রচুর দর্শনার্থী আসবে এবং জমিদারি ইতিহাস সংরক্ষিত হবে।”
সংস্কৃতিজন সুশান্ত ঘোষ জানিয়েছেন, লাকুটিয়া জমিদার পরিবার বরিশালের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তারা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তা রেখেছিল। বিশ্বখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায়ও এই পরিবারের সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও জমিদারবাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের কেন্দ্র ছিল।
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জমিদারবাড়ির ভবিষ্যত নিয়ে চিঠি দেন জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী। তার ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরি করতে নির্দেশ দেয়।
জমিদার রূপচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠা করেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবার। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময়ে জমিদারির পরিধি ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়। জমিদারবাড়িটি ১৬-১৭ শতকের মধ্যে নির্মিত হয়। এর ওপর ২১.৩৪ একর জমি বিস্তৃত এবং ভবনের সামনে-পেছনে মঠ ছিল।
স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারি উদ্যোগ ও জমিদারবাড়ির চারপাশে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাণবন্ত হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








