বাণিজ্য মেলায় বিক্রি ৪০০ কোটি, রপ্তানি আদেশ ৩৯২ কোটি টাকার




দ্বিতীয় সন্তানের মা হলেন আনুশকা




রক্তঝরা অমর একুশে আজ




পটুয়াখালী পৌর নির্বাচন: আপিলে দুই ভাইয়ের পার্থীতা বৈধ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ও তাঁর ভাইয়ের প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার মধ্য দিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছিল ভোটের মাঠে যা নগর ছাপিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলে দেশজুড়ে।

তবে আপিল শুনানিতে প্রার্থীতা বহাল থাকায় স্বস্তি ফিরেছে মেয়রের শিবিরে। আর স্বভাবতই আশাহত হয়েছেন সাবেক মেয়র ও তার অনুসারীরা।

পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের বাতিল করা প্রার্থী ও প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জের আপিল শুনানিতে ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আপিল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক মো. নুর কুতুবুল আলম এ শুনানি করেন।

শুনানিতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বাতিল হওয়া দুজন মেয়র ও একজন সাধারণ কাউন্সিলরের মধ্যে মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী মার্জিয়া আক্তারের প্রার্থিতার বাতিল আদেশ বহাল রেখে অপর একজন মেয়র ও একজন কাউন্সিলরের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।

এরা হলেন: মেয়র প্রার্থী মো. এনায়েত হোসেন ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দীন।

অপর দিকে বর্তমান মেয়র ও তার ভাই আবুল কালাম আজাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগেরও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে জেলা প্রশাসক মো. নুর কুতুবুল আলম এ দুজনের প্রার্থিতা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

শুনানিতে প্রার্থীসহ আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ ও তার ভাই আবুল কালাম আজাদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী পৌরসভায় নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ ফেব্রুয়ারি। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ। ৯ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




বিপিএলের শেষ চারের সমীকরণে কে কোথায় দাঁড়িয়ে

চন্দ্রদীপ নিউজ: ঢাকা থেকে শুরু হয়ে সিলেট ঘুরে ঢাকা ফিরে এবার চট্টগ্রাম। বিপিএলের দশম আসরে বন্দরনগরী পর্ব শেষ। এরপর ঢাকা ফিরে শেষ হবে এবারের টুর্নামেন্ট। সে অর্থে বলা যায়, শেষ ঘণ্টা বেজে গেছে বিপিএলের।

টুর্নামেন্টের এমন অবস্থায় কোন দলের অবস্থান কোথায় আর শেষ চারের সমীকরণই বা কী?

১১ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রংপুর রাইডার্স। এতে  শুধু প্লে-অফ নয়, বরং শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করে প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলাও নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে  ৬ উইকেটে হারায় শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যাওয়া হলো না রংপুর রাইডার্সের। তবে কুমিল্লা পরের দুই ম্যাচের একটি হারলেও পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে থাকবে রাইডার্স।

১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে আছে কুমিল্লা। একই সঙ্গে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। এখন ২৩ ফেব্রুয়ারি ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচটি জিতলে শীর্ষে যাওয়ার সুযোগ আছে তাদের। তবে দলটির নিশ্চিত হয়েছে রংপুরের সঙ্গে কোয়ালিফায়ার খেলা।

১১ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে থাকলেও প্লে-অফ নিশ্চিত নয় বরিশালের। ২৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বিপক্ষে জিতলে শেষ চার নিশ্চিত হবে তাদের। হারলেও অবশ্য সুযোগ থাকছে বাড়তি রান রেটের কারণে। খুব বড় ব্যবধানে না হারলে চট্টগ্রাম ও খুলনা দুই দলের চেয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই তামিম ইকবালের দলের। তবে কুমিল্লা আজ রংপুরের বিপক্ষে হারায় প্লে-অফ পর্ব নিয়ে ব্যাকফুটে চলে গেছে বরিশাল।

প্লে অফের শেষ দলের লড়াইয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আজ খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে। ১২ ম্যাচে ৭ জয়ে এখন ১৪ পয়েন্ট চট্টগ্রামের। ১১ ম্যাচে ৫ জয়ে খুলনার পয়েন্ট ১০। আজকের ম্যাচে চট্টগ্রাম জিতে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। এখন খুলনার আরো একটি সুযোগ থাকবে বটে, তবে সিলেটের বিপক্ষে নিজেদের বড় ব্যবধানে তো জিততেই হবে, সঙ্গে কুমিল্লার বিপক্ষে বরিশালের বড় ব্যবধানে হার কামনা করতে হবে।

সিলেট আর ঢাকার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। টানা ১১ হারে সবার আগে বিদায় নিয়েছে ঢাকা। ১১ ম্যাচে ৭ হারে সিলেটদের বিদায়ও নিশ্চিত। তবে সিলেট-খুলনা ম্যাচটি প্লে অফ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।




ভাষাশহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান উভয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাসসের খবরে বলা হয়েছে, ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা বাজার ৭ মিনিট আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান। এর তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান।

অমর একুশের ঐতিহাসিক গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রপতির পরই প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁরা ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তাঁদের পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন৷

এর আগে রাষ্ট্রপতিকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।

পরে তিন বাহিনীর প্রধানেরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ওই এলাকা ত্যাগ করলে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার খুলে দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। পলাশী হয়ে জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে চলেছেন তাঁরা। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষাশহীদদের সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মত্যাগকে স্মরণ করার জন্য এসব মানুষ হাতে ফুল নিয়ে এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গুনগুন করে গেয়ে খালি পায়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

বিভিন্ন দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জেএসডি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাসদ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অপেক্ষমাণ সারিতে আরও বহু দল এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা–কর্মীরা রয়েছেন।

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার এলাকা ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনার এলাকার দেয়াল ও রাস্তাকে রংতুলির আঁচড়ে আলপনায় সাজিয়েছেন চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।




মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ছেলে, চিন্তায় গামছা বিক্রেতা বাবা

বরিশাল অফিস :: গ্রামের হাটে ফেরি করে গামছা বিক্রি করেন ফিরোজ খান। তা দিয়ে টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে তার। আর্থিক অনটনের কারণে ছেলে সাব্বিরের লেখাপড়ায় খুব বেশি সহায়তা করতে পারেননি। তবে অদম্য মেধাবী সাব্বির খান নিজের চেষ্টায় এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছেন। তাকে ভর্তি করতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা জোগাড় করতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ফিরোজ খান।

ফিরোজ খান বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দামোদরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা।

ফিরোজ খান বলেন, পৈত্রিক ১২ শতক জমির ওপর আমার বাড়ি। এ ছাড়া আমার কোনো সম্পত্তি নেই। দুই সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে এ বাড়িতে থাকি। অন্যের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি হাটে লুঙ্গি-গামছা বিক্রি করে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে। আমার ছেলে সাব্বির ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী। ২০২১ সালে সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পায়। ২০২৩ সালে সরকারি গৌরনদী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পায়। এরপর ঋণ করে তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় দেওয়াই। সে কোনো কোচিংয়ে পড়েনি। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। তবে তার মেডিকেলে ভর্তি হতে ২০ হাজার টাকার মতো প্রয়োজন। এ টাকা আমি কোথা থেকে জোগাড় কবর, এ চিন্তায় ঘুম আসে না।

সাব্বির খান বলেন, ৬৭.৭৫ নম্বর পেয়ে আমি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। আমার পরিবারের অস্বচ্ছলতায় কোনো কোচিংয়ে পড়ার সুযোগ ছিল না। আমার ছোটবোন তার স্কুল থেকে একটি ট্যাব উপহার পেয়েছিল। সেটি দিয়ে অনলাইনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ধারণা নিয়েছি। মূলত ইউটিউব থেকে টিউশন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আমি ভর্তি পরীক্ষায় ৪৭৪১তম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষার আবেদন যাতায়াত সবমিলিয়ে বাবা একটি এনজিও থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ করে এনেছিলেন। সেই টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া সাব্বির খানের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তার ভর্তির বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতা আছে। তার ভর্তির ব‍্যাপারে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়কে সার্বিক সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।




আজ মাতৃভাষা দিবস : দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে ভাষা শহীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বাঙালি জাতি। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় ইতোমধ্যে কার্যকর করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।



ঘুম থেকে উঠে বাবা-মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ পেল চার বছরের মেয়ে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আছালতখাঁ পাড়া এলাকার নিজঘর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, ওই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন (২৬) ও তার স্ত্রী রিয়া মনি (২২)। ওই বাড়িতে আরিফ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। পেশায় তিনি কুয়াকাটা সৈকতের ফটোগ্রাফার। পরিবারের বাকি সদস্যরা ঢাকায় থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই বাড়িতে আরিফ, তার স্ত্রী রিয়ামনি ও ৪ বছরের মেয়ে সুমাইয়া ছিলেন। বিকেলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় সুমাইয়া ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১১টার দিকে ঘুম ভাঙলে সে তার বাবাকে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ও মাকে বারান্দার আঁড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনে। পরে স্থানীয়রা তাদের গলায় ফাঁশ লাগানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

শিশু সুমাইয়া বলে, সন্ধ্যায় আব্বু-আম্মু ঝগড়া করে। পরে আমি ঘুমিয়ে যাই। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে আব্বু আম্মুকে দেখি ঝুলে আছে। পরে আমি পাশের বাসার ফুপুকে ডেকে আনি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিক কাজ শেষে মর্গে পাঠানো হবে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ বিষয়ক টাক্সফোর্সের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের শুল্ক কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিরা আছেন। আমি ওনাদের বলেছি, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন আমাদের যারা শিল্প এবং ব্যবসায়ী বড় আকারের আছেন তাদেরও সোশ্যাল একটা দায়িত্ব আছে। সবকিছু বিবেচনায় বলবো না যৌক্তিকভাবে, কিছুটা অযৌক্তিকভাবেও আমরা উনাদের অনুরোধ করেছি এবং উনারা ভোজ্যতেলের দাম ১০ টাকা প্রতি লিটারে কমানোর জন্য একমত হয়েছেন। উনারা নিজেরাই প্রস্তাবটা করেছেন।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ বাজারমূল্য রমজানে প্রতি এক লিটারের বোতল ১৬৩ টাকা করার বিষয়ে আমরা একমতে পৌঁছেছি। যে মূল্যটা ছিল ১৭৩ টাকা এবং তার আগের বছরে ১৮৫ টাকার মতো ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সার্কুলারটা এসেছে ৮ ফেব্রুয়ারি, যে কোনো জাহাজের বিদেশ থেকে আসতে প্রায় এক মাস লেগে যায় এবং সেটা খালাস করে ভোক্তা পর্যায়ে যেতে মিনিমাম দুই মাস লাগে। দুই মাস আমাদের রমজানের নেই। ওনারা আমাদের বিশেষ অনুরোধে বাজারমূল্য ১ মার্চ থেকে কার্যকর করবেন।

টিটু বলেন, যেহেতু তেলের সঙ্গে অনেক কিছু সম্পৃক্ত, ভোক্তা পর্যায়ে একটি স্বস্তি বাজারে আসবে এবং খুচরায় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনবো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি লুস পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূল্য থাকবে ১৪৯ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতল ৮০০ টাকায় বিক্রি হবে। আশা করছি, এতে আমাদের ভোক্তা সাধারণ উপকৃত হবেন।