উপমহাদেশে ভাষাভিত্তিক একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী 




ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শতকোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগে দেশের ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।



বরগুনায় আদালতের নির্দেশে তিনটি ঘর উচ্ছেদ

বরিশাল অফিস :: আদালতের নির্দেশে বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ওয়াপদা সড়কের (মিঠা বাজার) তিনটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমতলী সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো. সিহাবুর রহমানের নির্দেশে বৃহস্পতিবার এ ঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের ওয়াপদা সড়কের (মিঠা বাজার) ৭৮৬ ও ১২১৮নং খতিয়ানের ৯১৪নং দাগের ৬ শতাংশ জমি আব্দুল আজিজ খানের দখলে ছিল। ওই জমি তিনি আফজাল হাওলাদার ও সিরাজ মৃধার কাছে বিক্রি করে দেন এমন দাবি আফজাল হাওলাদারের ছেলে সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম হাওলাদারের। তারা ওই জমিতে ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন।

ওই জমি ফিরোজা বেগম তার দাবি করে আমতলী সহকারী জজ আদালতে ২০১৫ সালে মামলা দায়ের করেন। এ বছর গত ১৫ জানুয়ারি বরগুনার আমতলী সহকারী জজ আদালতের বিচারক সিহাবুর রহমান তার পক্ষে রায় দেন। বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে ওই জমিতে বসবাসরত মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, রনি হাওলাদার ও সাব্বির হাওলাদার এবং রাসেল মৃধার ঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

মামলার বাদী ফিরোজা বেগম আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালত আমাকে আমার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।

জমিতে বসবাসরত সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আমাকে ঘর উচ্ছেদের কোন নোটিশ দেয়নি। নোটিশ ছাড়াই আমার ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির ফারুক আহম্মেদ বলেন, জমিতে বসবাসরতদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা নোটিশ আমলে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেওয়ানী ডিক্রীজারি ১৬/২০২২ নং মোকাদ্দমার গত ১৫ জানুয়ারি তারিখের আদেশ মোতাবেক তিনটি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।




সংযোগ সড়ক নেই, ক্ষেতের মাঝে সেতু

বরিশাল অফিস :: বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মল্লিকডুবা বাজারের দক্ষিণ পাশের খালের ওপর সেতুটির দুই পাশে নেই কোনো সড়ক।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মল্লিকডুবা বাজারের দক্ষিণ পাশের খালের ওপর প্রায় সাত বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সড়ক। কাজে আসছে না সেতুটি।

সেতুর সুফল বঞ্চিত এলাকাবাসী বলছে, সড়ক না থাকার পরও সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের সাত বছর পার হলেও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। চলাচলের সড়ক না থাকায় এই সেতু দিয়ে কখনও কোনো যানবাহন চলেনি। সড়কবিহীন সেতু সরকারের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই না। এদিকে সেতু ব্যবহার না হলেও নির্মাণকাজে অনিয়মে এর বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে।

গত শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মল্লিকডুবা বাজারের দক্ষিণ পাশে মল্লিকডুবা-ভরিপাশা গ্রামের সীমানা খাল। খালের পশ্চিম মাথায় উত্তর-দক্ষিণমুখী সেতুটি নির্মিত। এর দক্ষিণ পাশে পুরোপুরি ফাঁকা, বন-জঙ্গলে ভরা। সেতু থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নুরাইপুর-ভরিপাশা পাকা সড়ক। আর সেতুর উত্তর পাশে শুকনো মৌসুমে মানুষ চলাচলের উপযোগী সরু মাটির রাস্তা, যা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। ওই মাটির রাস্তা দেড় কিলোমিটার দূরে কেশবপুর ডিগ্রি কলেজের কাছে গিয়ে পাকা সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, কেশবপুর ইউনিয়নের উত্তরদিকে অবস্থতি কেশবপুর, বাজেমহল ও মল্লিকডুবা গ্রামের সঙ্গে ইউনিয়নের দক্ষিণের নুরাইপুর বাজার, ভরিপাশা, তালতলি গ্রামে যোগাযোগের জন্য সহজ ও কম দূরত্বের পথ এটি। এই পথে সেতু নির্মাণ করা হলেও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে বেশি দূরত্বের পথ দিয়ে এসব গ্রামে মানুষ চলাচল করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিব হাওলাদার বলেন, ‘সেতু আছে, সড়ক নেই। তাতে কী লাভ হলো? সড়কের অভাবে গাড়ি চলতে পারে না। যার কারণে আমাদের বিকল্প বেশি দূরত্বের পথে চলাচল করতে হয়।’ মো. আনোয়ার খলিফা নামের আরেকজন বলেন, ‘সেতু নির্মাণের সাত বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এই সেতু নির্মাণ করা সরকারের টাকা অপচয় ছাড়া কিছু না।’

মাহাবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটি দিয়ে মানুষ কিংবা যানবাহন কখনও চলাচল করেনি। মাত্র সাত বছরে সেই সেতুটির ঢালাইয়ের ইট-সুরকি খসে পড়ছে, রড বেরিয়ে গেছে। তিনি নিম্নমানের কাজের জন্য ঠিকাদার ও তদারক কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আসাদুল হক জুয়েল বলেন, সেতু নির্মাণের পর যদি যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণ করা হতো, তাহলে ভরিপাশা ও তালতলি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সহজে মল্লিকডুবা ও কেশবপুর বাজার, কেশবপুর কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারত। আর মল্লিকডুবা গ্রামের মানুষ খুব সহজে নুরাইনপুর বাজার ও শিক্ষার্থীরা নুরাইনপুর কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৬ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্থ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাস বলেন, ‘দুই গ্রামের চলাচল সহজ করতে সেতু নির্মাণ করা হয়। সড়ক না থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না; এটা সত্য। সেতুর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ করতে প্রকল্প নেওয়া হবে, যা দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এমনটা হলে তা খুবই দুঃখজনক। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।




পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভায় হামলা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির তলবি সভা এবং এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুইজন আইনজীবী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সভা চলাকালীন সময় বহিরাগতদের হামলায় অ্যাডভোকেট তরুণ ভট্টাচার্য ও আহাসানুল কবির হিমু আহত হয় বলে অভিযোগ আইনজীবীদের একাংশের।

দুই পক্ষের হট্টগোলে সভা পণ্ড হয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আহতদের দেখতে যাওয়ার পথে আইনজীবী সাইদুর রহমান টিটুর ওপর হামলা করে তাকে মারধর করে বহিরাগতরা।

গণতন্ত্র মঞ্চের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আইনজীবীরা জানান, পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যলয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সমিতির সাধারণ সদস্যরা বৃহস্পতিবার তলবি সভার আহবান করে। অন্যদিকে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ একটি মুলতবী সভা আহবান করে। উক্ত সভায় কয়েকজন আইনজীবীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু হলে সভা পণ্ড হয়ে যায়। এসময় আইনজীবীদের দুই পক্ষের সাথেই বহিরাগতদের দেখা যায়।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসিকুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে উক্ত ঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে অনুপস্থিত ৭০৩, বহিষ্কার ২০

বরিশাল  অফিস :: সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয়পত্রে অনুপস্থিত ছিল ৭০৩ জন পরীক্ষার্থী। সেইসঙ্গে এ পরীক্ষায় মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন কুমার গাইন।

তিনি জানান, বিভাগের ৬ জেলায় ১৯৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার মোট ৮৪ হাজার ১৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এরমধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ৮৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী। ফলে অনুপস্থিতির সংখ্যা ৭০৩ জন। আর শতকরা হিসেবে এর হার দশমিক ৮৩। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনুপস্থিতির মধ্যে সর্বোচ্চ বরিশাল জেলায় ১৮৯ জন রয়েছে।

এরপর ভোলায় ১৪৪ জন, পটুয়াখালীতে ১২৮ জন, পিরোজপুরে ৯৭ জন, বরগুনায় ৭৯ জন ও ঝালকাঠিতে ৬৬ জন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল বোর্ডের ১৯৬ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বিভাগের ১ হাজার ৪৮৯টি বিদ্যালয়ের ৮৮ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২৪ হাজার ৬৬৩ জন, মানবিক বিভাগে ৫৩ হাজার ১২ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০ হাজার ৯১১ জন। আর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৪১ হাজার ৩৩১ জন ও ছাত্রী ৪৭ হাজার ২৫৫ জন।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়: আজাদ চৌধুরী

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের যে প্রান্তেই সৃষ্টি হোক না কেন তার কাজ হচ্ছে জ্ঞানের প্রজ্বলন করা। জ্ঞান সৃষ্টি করা। মানবতার উন্নয়ন ঘটিয়ে অনেক উচ্চ স্তরের সমাজ গড়ে তোলা। কোনো খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় যখন সৃষ্টি হয় তখন তার জ্ঞানের কোনো পরিসীমা থাকে না।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলোচনা সভায় প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী আরও বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর মান রক্ষার দায়িত্ব এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একদিন নিজেকে নিয়ে যাবে ঈর্ষান্বিত পর্যায়ে। একদিন আমরা গর্ব করে বলতে পারব বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির। রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ, গ্রেড ১১-১৬ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরউদ্দিন এবং গ্রেড ১৭-২০ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আরিফ সিকদার।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দপ্তর প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ অন্যান্য অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সকাল ১১ টায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা ফেস্টুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চ থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্ত মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিকেলে মুক্ত মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার কর্নকাঠী এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ২৫টি বিভাগে ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

 




মাদারীপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ৫

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মাদারীপুরের শিবচরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৫ জন। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিবচর উপজেলার সূর্য্যনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর উপজেলার সূর্য্যনগর এলাকায় আসলে পেছন থেকে একটি ট্রাক যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের দুই যাত্রীসহ ৫ জন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।

খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যার পর বিকট শব্দ শুনে হাইওয়েতে এসে দেখি ট্রাক উল্টে আছে। আর সামনে থাকা বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এসময় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।




জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় বিবাহবিচ্ছেদ কমে গেছে যুক্তরাজ্যে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে, ২০২২ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৮০ হাজার ৫৭টি বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর বার্ষিক বিবাহবিচ্ছেদের এই সংখ্যাটি এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

এ বিষয়ে ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিবাহবিচ্ছেদ এক-চতুর্থাংশেরও বেশি (২৯.৫ শতাংশ) কমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিচ্ছেদ হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৫ দম্পতির।

বিবাহবিচ্ছেদের হার কমে যাওয়াকে বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে চার্লস রাসেল স্পিচলিসের অংশীদার সারাহ জেন বুন মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলো বিবাহবিচ্ছেদের হার হ্রাসে সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কারণ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক দম্পতি একসঙ্গে থাকার অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোকেই হয়তো বিবেচনা করছেন।

বুডল হ্যাটফিল্ডের অংশীদার কেটি ও’ক্যালাগান বলেন, ‘এটি একটি অভূতপূর্ব হ্রাস। জীবনের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা হেলাফেলার নয়। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য অনেকে বিচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এখন সতর্ক।’

এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ আইন ও প্রক্রিয়া সংস্কার করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়। বিচ্ছেদের মুখোমুখি দম্পতিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা এবং একে অপরকে দোষারোপের প্রবণতা হ্রাস করাই এই সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের জন্য দম্পতিদের যৌথভাবে আবেদনের পদ্ধতি চালু করা হয়। এই পদ্ধতিও বিচ্ছেদ কমাতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।




বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিককে মানতে হবে ১০ নির্দেশনা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো, তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও লেবার রুম প্রটোকল বাধ্যবাধকতাসহ ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা আবশ্যকভাবে পালন করতে হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্ণিত শর্তাবলি আবশ্যকভাবে প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিকের লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে;

২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে। একইসঙ্গে তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে;

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে কিন্তু শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে তারা লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যতিরেকে কোনোভাবেই নামে উল্লেখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না;

৪. ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটাগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শুধুমাত্র সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি বা মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।

৫. বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সকল শর্তাবলী বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে;

৬. হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সকল চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসি’র হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে;

৭. হাসপাতাল, ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন বা প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে;

৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ব্যতীত চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করা যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ছাড়া যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর করা যাবে না;

৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে লেবার রুম প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে;

১০. নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই ‘অপারেশন থিয়েটার এটিকেট’ (শিষ্টাচার) মেনে চলতে হবে।