ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’: ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে মাসে ২ হাজার টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এবার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে ৫০ লাখ স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই হিসাবে এক অর্থবছরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ক্যাশ-আউট চার্জও অন্তর্ভুক্ত। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করলে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আগে থেকেই যেসব কর্মসূচি চালু আছে সেগুলোর উপকারভোগীদের তথ্য একীভূত করে নতুন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকারের নতুন করে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী –এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারা অগ্রাধিকার পাবেন তা নিয়েও একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। যেসব পরিবারের বসতঘর মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশের তৈরি এবং কৃষিযোগ্য জমি নেই, তারাও তালিকায় এগিয়ে থাকবে।

বর্তমানে –এর আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্বৈত সুবিধা এড়াতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাই করে যাদের দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এই চারটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে ইতোমধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে দ্রুত যাচাই সম্ভব।

জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসি আইএমইআই তথ্যভাণ্ডার, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি গভর্নমেন্ট টু পাবলিক পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হবে। এতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, পরবর্তী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর চার দিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে অর্থ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যমান ডাটাবেজ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে ঈদের আগেই প্রথম ধাপে কার্ড বিতরণ সম্ভব।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। ফলে প্রশাসনিকভাবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বদরপুর দরবারে লাখো মানুষের ঢল, শেষ হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল

পটুয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই বিশাল ধর্মীয় আয়োজন ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত, জাকের ও আশেক অংশ নেন। পুরো দরবার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আধ্যাত্মিক আবহে ভরা এক মিলনমেলায়।

শনিবার বাদ ফজর মরহুম পীর সাহেব কেবলাদ্বয়ের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জিয়ারতের পর তা’লিমী জলসা, হালকায়ে জিকির, পবিত্র কোরআন খতম, খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে আম্বিয়া, খতমে গাউসিয়া শরীফ, মিলাদ, সালাতু সালাম, দুরুদ ও ক্বেয়াম অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী বয়ান প্রদান করেন বর্তমান পীর সাহেব কেবলা আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ মুতাসিম বিল্লাহ রব্বানী বদরপুরী।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উডসাইড আহলুল বাইত মিশন জামে মসজিদ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী। উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আরিফ বিল্লাহ রব্বানী ও আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ নাসির বিল্লাহ রব্বানী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাইয়্যেদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ। এছাড়া দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান পীর, ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী বক্তারা বিভিন্ন পর্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি সারা রাতব্যাপী তা’লিমী জলসা ও ওয়াজ মাহফিল চলে। শেষ দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে বদরপুর দরবার শরীফ দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারক। দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবে বাঙ্গাল শাহসূফী হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহঃ) এ অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামের দাওয়াত প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পূর্বপুরুষদের শিকড় ভারতের বিহার শরীফে প্রোথিত ছিল। প্রায় আড়াইশ বছর আগে তার বংশধররা এ অঞ্চলে এসে ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আব্দুর রব চিশতী বদরপুরী (রহঃ) বরিশাল অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তিনি বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকার ঐতিহাসিক পাটুয়াটুলি জামে মসজিদে দীর্ঘ ৩২ বছর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তার ইন্তেকালের পর তার চার সাহেবজাদা খেলাফতপ্রাপ্ত হয়ে দরবার শরীফের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আয়োজকরা জানান, শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে দরবার শরীফ সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও আধ্যাত্মিক চর্চায় যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশে রেকর্ড লড়াই, দল-প্রতীকের বন্যা

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের দুয়ার খুলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে অংশ নিচ্ছে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২৮ জনে।

ইসি জানিয়েছে, ভোটাররা এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, লাঙল, হাতপাখা, ট্রাকসহ মোট ১১৯টি প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে, যা এবারের নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া আরও আটটি নিবন্ধিত দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ৫০টি দল। অংশগ্রহণের এই পরিসংখ্যান আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮টি দল এবং ভোট হয়েছিল ৬৯টি প্রতীকে। সেই তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

প্রার্থী বিন্যাসেও দেখা গেছে বড় দলগুলোর শক্ত অবস্থান। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে ৬৫ জন, বাসদের মই প্রতীকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে ৩৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগলে ৩০ জন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্যে ১৯ জন, গণসংহতি আন্দোলনের মাথালে ১৭ জন, এলডিপির ছাতায় ১২ জন এবং নাগরিক ঐক্যের কেটলিতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জাসদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচন ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক, আবার কোনোটি বর্জন ও বিতর্কে ঘেরা। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচন ছিল নিবন্ধন পদ্ধতির অধীনে প্রথম ভোট। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন ও অংশগ্রহণ সংকটের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ছয় মাসের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংসদ বিলুপ্ত হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান পদত্যাগ করলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় আয়োজিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই হবে মূল প্রশ্ন। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা—সবকিছু মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্রদলে যোগ দিলেন ইকরামুল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ক্যান্টনমেন্ট থানা পর্যায়ের পরিচিত মুখ ইকরামুল হাছান সাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ঢাকায় এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক তার হাতে ফুলের মালা তুলে দিয়ে সদস্যপদ প্রদান করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইকরামুল হাছান সাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতৃত্ব, আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আস্থা রেখেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ইকরামুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, তার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই এমন নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় ও পরিচিত নেতার ছাত্রদলে যোগদান স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।

স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, ইকরামুল হাছান সাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কাজ ছাত্রদলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও দৃঢ় অবস্থান নেবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে জামায়াত আমিরের জনসভা, প্রস্তুতিতে চরম ব্যস্ততা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠি সফরে আসছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে জামায়াতসহ জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের উদ্যোগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় এই নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমিরের ঝালকাঠি সফরকে সামনে রেখে সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করীমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করতে মঞ্চ নির্মাণ, প্রচারণা, জনসংযোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চলছে ব্যস্ত প্রস্তুতি।

জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে ঝালকাঠিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই জনসভা ঝালকাঠির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক লাখ নেতাকর্মী ছাড়াও জোটের শরীক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, বিতর্কিত তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জামায়াত প্রার্থীর

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বললেন, যারা এই কাজে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা এবং শাস্তি দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক, এটি আমরা সকলেই বিশ্বাস করি। কেউ এ সত্য বিকৃত করতে পারবে না।”

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ সাঈদী এ বিষয়ে আরও বক্তব্য রাখেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর শহরের হোটেল নায়োরীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। তিনি জানান, শুক্রবারের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন এবং এটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এছাড়াও পিরোজপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, পৌর আমির ইসহাক আলী খান এবং খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন ওসমানী উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিকে আবার ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ গড়ার অঙ্গীকার : নেয়ামুল করিম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে ১১ দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস. এম. নেয়ামুল করিম ঝালকাঠির হারিয়ে যাওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এক সময়ের ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত ঝালকাঠিকে আবার অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এস. এম. নেয়ামুল করিম জানান, ঝালকাঠিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া লবণ মিলগুলো পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রায় বিলুপ্তপ্রায় কাসা ও পিতল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। নির্বাচিত হলে ঝালকাঠির ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, ঝালকাঠিতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য শিক্ষার্থী ও রোগীদের অন্য জেলায় ছুটে যেতে না হয়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঝালকাঠির যোগাযোগ সহজ করতে আধুনিক ও টেকসই সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পেয়ারা শিল্পের সম্প্রসারণে আধুনিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নলছিটি পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর একটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নলছিটিকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা মেনে চলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি সহনশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা জানাতে গিয়ে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। কালো টাকার প্রভাব ও সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি ভোটারের বড় অংশই তরুণ, যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ফলে তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর এস. এম. নেয়ামুল করিম ছাড়াও বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনপিপি, জেএসডি, গণঅধিকার পরিষদ ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাপুরে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে বাধার অভিযোগ

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরেছেন জামায়াতের নারী নেতৃবৃন্দ।

সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাজাপুর উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাদিজা বেগম বলেন, সোমবার সকালে রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ি এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাতে গেলে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সমর্থক কয়েকজন নেতাকর্মী বাধা দেন। তাদের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর প্রথমে মাজেদা বেগম নামের এক নারী বাধা দেন এবং মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খাদিজা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনকলের পর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল নেতা ঘটনাস্থলে এসে প্রচারে বাধা সৃষ্টি করেন। শুধু পিংড়ি এলাকাতেই নয়, আশপাশের এলাকায় প্রচার চালাতে গেলেও একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের।

তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুক্তাগড় ইউনিয়ন আমীর আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও অবরুদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘর্ষ এড়াতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একই এলাকায় একাধিকবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর রাজাপুর উপজেলা আমীর মাওলানা মো. কবির হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নারী নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেল বলেন, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় অবস্থান করছিলেন। এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তার দলের কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন যুবদল নেতা সোহেল।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী-১ এ ধানের শীষে ঐক্য, ফাহিমের সমর্থন ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কস্থ সুরাইয়া ভিলায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদ রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করেছে। এই রাজনৈতিক সহযাত্রার ধারাবাহিকতায় এবং পটুয়াখালীর মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় পটুয়াখালী-১ আসনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার ফলে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এখন থেকে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত টিম হিসেবে মাঠে কাজ করবেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি যেমন আন্তরিকভাবে গণ অধিকার পরিষদকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি পটুয়াখালী-১ আসনেও আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে গণ অধিকার পরিষদ তাদের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, জেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম মৃধা ও উর্মি আক্তার। এছাড়াও জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসিন ইসলাম, সেক্রেটারি রুবেল মাহমুদসহ দুমকি, সদর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার গণ অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন কাভার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি আনবে এবং ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম