হাজারো পর্যটকে মুখর সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্রকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। লেম্বুর বন থেকে চর গঙ্গামতি পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতের বেলাভূমিতে পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, আগত পর্যটকরা সৈকতের বুকে আছড়ে পড়া ছোট-বড় ঢেউয়ে সাঁতার কেটে মিতালীতে মেতেছেন। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে হই-হুল্লোড়ে মেতেছেন। অনেকে আবার ঘোড়া বা মোটরবাইকে চড়ে সৈকতের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেখছেন। অনেকে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। পর্যটনকেন্দ্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে বিক্রি।

হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার বেশির ভাগ হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।




ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় পর্যটকদের মিলন মেলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের মিলন মেলা বসেছে।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার পর থেকে সৈকতে হাজারো পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে, আগতদের মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয়। তারা সৈকতের বালিয়াড়ীতে দিনটি উদযাপন করছেন।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, সৈকতে আগতদের নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যদের কাজ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পর্যটক সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসাচ্ছেন। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সৈকতের বুকে আছড়ে পড়া ছোট বড় ঢেউ। অনেককে আবার ঘোড়াসহ বিভিন্ন বাহনে দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকত ঘুরে দেখতে দেখা গেছে। অনেককেই মোবাইলে সেলফি তুলে বেড়াতে আসার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা

আমতলী থেকে আসা পর্যটক সালেহীন আহম্মদ বলেন, আমি মূলত ঢাকায় চাকরি করে। অনেকদিন পর বাড়িতে এসেছি। নামাজ শেষ করেই বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতে এসেছি। এখন জোয়ার চলছে। তাই সবাই মিলে সাঁতার কাটছি। দারুন অনূভূতি হচ্ছে।

পটুয়াখালী থেকে আসা নাইম হোসেন বলেন, আমরা পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। নামাজ পরেই বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় এসেছি। এখন বেঞ্চিতে বসে সমুদ্র তটের ছোট বড় ঢেউ দেখে সময় অতিবাহিত করছি। সময় ভালোই কাটছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি আমাদের টহল টিম মাঠে রয়েছে। অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর রয়েছি।




কুয়াকাটায় আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিতে আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছেন কুয়াকাটার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে ৮০ শতাংশ হোটেল মোটেলের কক্ষ। তাই নতুন করে সাজানো হয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে রমজানে একমাস পর্যটকশূন্য থাকায় সৈকতের প্রকৃতি তার নিজস্ব রুপে সেজেছে। ঈদের পরে আগত পর্যটকরা এ মনভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সুনসান নিরবতা। ফাঁকা পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চিসহ ভাসমান দোকান। তবে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা। কেউ তাদের ভাসমান দোকান নতুন করে তৈরি করেছেন। কেউ রং তুলির আঁচড়ে সাজিয়েছেন। কেউবা আবার ধোয়া মোছা করছেন। শুধু সৈকতের ভাসমান দোকানই নয়, নতুন করে প্রতিষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীরাই।

আরো পডুন : সেই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠালেন ইউপি চেয়ারম্যান

কুয়াকাটা সৈকতের বেঞ্চ ব্যবসায়ী নুরুল হক জানান, একমাস পর্যটকশূন্য ছিলো কুয়াকাটা। আমরাও বাড়িতে অলস সময় কাটিয়েছি। এখানে আমার যে বেঞ্চ ছিলো এসে দেখি কয়েকটির রং জলে গেছে। তাই নতুন করে রং করছি।

সৈকতে আচার ব্যবসায়ী মোকলেছ মিয়া জানান, আমার মূলত ভাসমান দোকান। কয়েকটি কাঠ ছুটে গেছে। তাই নতুন করে কাঠ লাগিয়েছি। আশা করছি ঈদে কুয়াকাটায় লাখ লাখ পর্যটক আসবে। এবং আমরা এই এক মাসে যে লোকসানে পড়েছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েসন অফ কুয়াকাটার (টোয়াক) সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জানান, এবছর ঈদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখেরও ছুটি রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি আজ ঈদের দিন থেকেই পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা। আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছি আমরা। সেভাবেই সাড়া পাচ্ছি। ইতোমধ্যে ফাইভ স্টার মানের হোটেল মোটেলগুলো শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য হোটেল মোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগে সকল হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে যাবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি পর্যটকরা নির্বিঘ্নে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।




বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ব্যাপকভাবে পর্যটন দেখা গেছে কুয়াকাটায়। তাই এবারের ঈদে ব্যবসা-বাণিজ্য গতি পাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ হোটেল মোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে বলে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্তৃপক্ষ।

খুশির ছোঁয়া লেগেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের, ইতিমধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাজিয়ে নিচ্ছে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ , বেচাকেনার জন্য তৈরি রয়েছে রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ আচার, কাঁকড়া ফ্রাই, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত ক্যামেরাম্যান সহ, চটপটি ফুচকার দোকানে দেখা গেছে মানুষের আনাগোনা, কুয়াকাটা দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করাতে প্রস্তুত , মোটরসাইকেল ড্রাইভার, অটোরিকশা চালক,কুয়াকাটা থেকে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চল ভ্রমণ করানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ট্যুরিস্ট বোট,স্পিড বোট এবং ওয়াটার বাইক ।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর ১৮ কিলোমিটার বেলাভূমি রয়েছে। পর্যটকরা এখানকার ট্যুরিজম পার্ক , জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া কুয়াকাটার পশ্চিমে সমুদ্র পথে ফাতরার বন, সোনাকাটা ফকিরহাট ( ইকোপার্ক),লাল কাঁকড়ার চর, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী ও ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে।

আচার বিক্রেতা মো. জহির রায়হান বলেন, নানা ধরনের দেশি বিদেশি আচার ও চকলেট উঠেয়েছি দোকানে। টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় হাজারো পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে। তাদের হাতে আমরা বাহারী স্বাদের আচার ও চকলেট বিক্রি করব। দামে মানে ও গুনে আমরা পর্যটকদের কথা মাথায় রাখি বরাবরই।

অভিজাত আবাসিক সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলার্স এবং ওসান ভিউ হোটেল এন্ড কনভেনশন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. আল-আমীন খান বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ অগ্রীম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিক্ষণই পর্যটকরা ফোনে খোঁজ খবর নিচ্ছে। আশাবাদী শতভাগ রুম বুক হয়ে যাবে। আমরা পর্যটকদের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রেখেছি।

হোটেল মোটেল ওনার্স অসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরিফ বলেন, আমরা আশাবাদী পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় অনেক ট্যুরিস্টের আগমন হবে।আবার আগের মত প্রাণ খুঁজে পাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, হাসি ফুটবে সকল ব্যবসায়ীদের মনে। হোটেল মোটেল গুলোতে ৬০% এর মত আগাম বুকিং হয়েছে।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “ঈদ পরবর্তী সময়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় বাড়বে এমন ধারণা মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি সভা করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। চিকিৎসক দল, ফায়ার সাভির্স অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদসরাও তৈরি রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের সেবা দেওয়া ও আইনি সহায়তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটক আসবে তাই আমরা অনেক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা টহলে থাকবেন। আশা করছি আমরা পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারব।




ঈদ ঘিরে প্রস্তুত বরিশালের বিনোদনকেন্দ্র

বরিশাল অফিস:: ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশালের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কার্যক্রম। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খণ্ডকালীন কর্মী। সোমবার (৮ এপ্রিল) নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে যায়, নগরীর কীর্তনখোলা নদী তীরের ত্রিশ গোডাউন, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, চৌমাথা লেকের পাড়, প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, আমানতগঞ্জ পার্কসহ একাধিক বিনোদনকেন্দ্রে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।

পাশাপাশি রং-তুলির আচড়ে সাজানো হয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদকে কেন্দ্র এসব বিনোদনকেন্দ্রে সপ্তাহব্যাপী থাকবে উপচেপড়া ভিড়।




ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পদ্মাসেতুর দ্বার খুলে দেওয়ার পর থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় পর্যটক বেড়েছে কয়েকগুণ। টানা ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় এসে ভিড় জমান পর্যটকরা।
কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের হয়রানি রোধে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন পৃথক সভা করেছে। পর্যটকের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ।

পর্যটকদের বরণে সাজসজ্জায় নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে। তবে ঈদে পর্যটকের বেশ সাড়া পাচ্ছেন প্রথম সারির হোটেল গুলো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে এখনও কোনো বুকিংয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে হতাশা ব্যক্ত করলেও ঈদের টানা ছুটিতে রমযানের লোকসান কেটে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। যার ধারাবাহিকতায় কুয়াকাটা পর্যটক কেন্দ্রকে ঘিরে পৌরসভা গঠন করা হয়েছে। দেশ তথা বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক দৃশ্যের এক তীর্থস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। যেখানে একই স্থানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য। কুয়াকাটা সৈকতে আগত পর্যটকদের আধুনিক সেবাদান এবং চিত্ত বিনোদনে চলছে সৈকত এলাকায় উন্নয়ন অবকাঠামো। পৌর এলাকায় পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে প্রশস্তকরণসহ বাকি থাকা কিছু কাচা রাস্তা পাকা করার কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আগত পর্যটকের পৌর শহরের মূল কেন্দ্রে ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পর্যটক যাতায়াতের প্রধান সড়কে ভোগান্তি নিরসনে কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট সংলগ্ন একটি পার্শ্ব রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে যা ঈদের আগেই সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ধারণাতীত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। সৈকতের মূল কেন্দ্র থেকে পূর্বে জাতীয় উদ্যান ফটক পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন লেক ও পার্কসহ বিনোদনের নানা মাত্রা যোগ করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুয়াকাটা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোস্টাল টাউন প্রকল্পের আওতায় ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্প ব্যয়ে আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভা। এই প্রকল্পের আওতায় যে সকল পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটা পাল্টে যাবে, হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র সৈকত। এমনটাই জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।

এদিকে পর্যটকের সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। কুয়াকাটায় চলমান বছরে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট চালু হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বিশেষ দিনগুলোতে আগত পর্যটকের আর আবাসন সংকট দেখা দিবেনা। এছাড়াও নিরলস কাজ করছে আবাসিক হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ।

তারা বলছেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছে কুয়াকাটা।




চোখের সামনেই মৃত্যু দেখছিলাম, থানচি থেকে অভিনেত্রী সায়মা 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ‘নাদান’ সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে বিপাকে পড়ে অভিনেতা শ্যামল মাওলাসহ পুরো শুটিং ইউনিট। বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে শহরের সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি করেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী।



চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও সূর্য উদয়ের বেলা ভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। আর এই কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠেছে যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ।

মৌসুম জুড়েই হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।

২০১৭ সালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে ৫ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠে চর বিজয় নামের এই দ্বীপটি। শীত মৌসুম এলে এই দ্বীপটি জেগে ওঠে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আবার পানির নিচে ডুবে যায়। তবে জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর নামেই পরিচিত।

এটির অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন সৈকত হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের বুকে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসাইন বলেন, কুয়াকাটায় আমি এই প্রথমবার ভ্রমণে এসেছি। কুয়াকাটা সত্যিই খুব সুন্দর জায়গা। তবে কুয়াকাটায় সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তুু এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি, চারদিকে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে একটি দ্বীপ আর সেই দ্বীপে এত পরিমাণ অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি আবারও আসতে চাই এখানে পরিবার নিয়ে।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা অন্য এক ব্যবসায়ী মনিরুল হক লোটাস বলেন, চর বিজয়ে নামার পর আমি এখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত পরিমাণ লাল কাকরা আর অতিথি পাখি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য চর বিজয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি হতে পারে আরেকটি সেন্ট মার্টিন তবে অতিথি পাখি ও লাল কাকড়া নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দ্বীপে এখন পর্যাপ্ত গাছ লাগানো দরকার, যাতে করে পাখিদের নির্ভয় যোগ্য বাসস্থান তৈরি হয়। এবং আমরা যারা এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসবো তারা যেন কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ ফেলে এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট না করি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টেয়াক) প্রসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকদের কাছে সূর্য উদয়-অস্তের বেলভূমি সাগরকন্যা এমনিতে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে চর বিজয় ২০১৭ সাল থেকে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই চরের পাখি আর লাল কাকড়ার সমাগমে আকৃষ্ট হয় সব শ্রেণির পর্যটকরা। চর বিজয় ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিনের মতো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চরটির নাম দেওয়া হয়েছে চর বিজয়। ২০১৭ সালে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা এ চরটি এখন খুবই জনপ্রিয় পর্যটকও স্থানীয়দের কাছে।সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে শত শত পর্যটক। মূলত লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির সমাগম দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি আমরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবার : পায়রাবন্দরের সড়ক নির্মাণ শুরু



খুলে দেওয়া হলো বিআরটি প্রকল্পের ৭ ফ্লাইওভার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) অংশের ৭টি ফ্লাইওভার। রোববার (২৪ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ফ্লাইওভারগুলো উন্মুক্ত করেন।

ফ্লাইওভার গুলোর মধ্যে আছে- এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার (বাম পার্শ্ব), এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার (ডান পার্শ্ব), জসীমউদ্দিন ফ্লাইওভার, ইউ-টার্ন-১ গাজীপুর ফ্লাইওভার, ইউ-টার্ন-২ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লাইওভার, ভোগড়া ফ্লাইওভার ও চৌরাস্তা ফ্লাইওভার।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নানান ঝামেলায় এই প্রজেক্টের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন এটি শেষের পর্যায়ে। আশা করি, এ বছরেই এটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’ এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হতে জুন পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানান মন্ত্রী।

প্রকল্পের ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) কাজ ১৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৭টি ফ্লাইওভার রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় রয়েছে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ।

সেতু কর্তৃপক্ষ উত্তরা হাউজ বিল্ডিং হতে টঙ্গী চেরাগ আলী মার্কেট পর্যন্ত এলাকার সড়কের কাজ করছে। বাকিটা হচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে।

এছাড়া, সড়কের প্রধান করিডোরের সঙ্গে সংযোগের জন্য বিভিন্ন অংশে ১১৩টি সংযোগ সড়ক, ২৫টি বিআরটি স্টেশন, ঢাকা বিমানবন্দর ও গাজীপুরের শিববাড়ি এলাকায় দুটি বাস টার্মিনাল থাকছে প্রকল্পে।

বাস স্টপেজে প্রবেশ ও বের হওয়া এবং পথচারী পারাপারের জন্য থাকছে ৩০টি আন্ডারপাস, নতুন সড়কের দুপাশে উচ্চ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪১ কিলোমিটার ড্রেন ও ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুটপাতও থাকছে এ প্রকল্পের অধীনে।

২০১১ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর একনেক বিআরটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। এরপর কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পের সবশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। শুরুতে প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ছিল চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত। কিন্তু পরে সময় বৃদ্ধি করে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হলেও পথ ছোট করে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কেরানীগঞ্জের পরিবর্তে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত করা হয়।




চর বিজয়ে বনায়ন করছে বন বিভাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা দ্বীপ ‘চর বিজয়’। চারদিকে অথই জলরাশি, আর শুধু ধু ধু বালু। সারা দিন চেনা-অচেনা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এ দ্বীপ। সৈকতে অগণিত লাল কাঁকড়া ঘুরে বেড়ায়। এই চরে এখনো কোনো জনবসতি গড়ে ওঠেনি। চরটিতে ঝাউ ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার জন্য পুরো চরটিতে বনায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর কুয়াকাটার বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ১৪ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে জেগে ওঠা মনোমুগ্ধকর এক দ্বীপ চর ‘বিজয়’। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চরটির দেখা পাওয়ায় এই নামকরণ করা হয়। প্রায় ২ হাজার ৫৭৩ একর আয়তনের এই দ্বীপের আকৃতি কিছুটা ডিমের মতো। বর্ষার ছয় মাস পানিতে চর বিজয়ের অর্ধেক এলাকা ডুবে থাকে। আবার শীতের মৌসুমে ধু ধু বালুচর। জনবসতিহীন দ্বীপজুড়েই লাল কাঁকড়া ও নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম।

কুয়াকাটায় বন বিভাগের তিন হাজার একরের জাতীয় উদ্যান ভাঙনের কবলে পড়লেও সাগর বুকে নতুন করে জেগে ওঠা চর বিজয় টিকে আছে। একে নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা নিতে শুরু করে বন বিভাগ। এরই মধ্যে তারা ঝাউ, কেওড়া ও চরের কর্দমাক্ত এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির লক্ষ্যে গাছের চারা রোপণ শুরু করেছে।

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন বিভাগ চর বিজয়ে ৮০ হেক্টর ঝাউবাগান ও ২০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান করেছে। পর্যায়ক্রমে চর বিজয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠন কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, ‘প্রতিদিনই পর্যটকেরা ট্রলার-স্পিডবোটে চর বিজয় দেখতে যাচ্ছেন। তবে বনায়ন শুরু হয়েছে। বনের ছায়ায় অনেক সময় ধরে থাকতে পারবেন পর্যটকেরা। পর্যটকদেরও আগমন বাড়বে। আমরা মনে করি এই চরটি হবে দেশের “দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন”।’

উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গাছপালা থাকলে চরটি থাকবে। পর্যটকেরাও পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠবে। বনায়নের মাধ্যমে চর বিজয়কে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিষ দিয়ে ‘কালোমাথা কাস্তেচরা’ মেরে ফেলার অভিযোগ