কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায় দাবদাহের প্রভাব – বাতিল হচ্ছে বুকিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সারাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর প্রভাবে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় মন্দা চলছে। তীব্র গরমের কারণে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটা। অনেক পর্যটক তাদের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছে। আবার কেউ কেউ দুই-তিন দিন থাকার জন্য এসে গরমের দাপটে ফিরে যাচ্ছেন একদিন থেকেই। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছে না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়া অফিস বলছে আরও একসপ্তাহ অপরিবর্তিত থাকতে পারে বর্তমান অবস্থার।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী সময় কুয়াকাটা পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতিবছরের চেয়ে এবার ঈদের পর পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও হঠাৎ পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। টানা দাবদাহের কারণে হোটেলের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন অনেকেই।

হোটেল সাগরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ সাগর জানান, প্রতিবছর ঈদ পরবর্তী সময় হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ২০ শতাংশ বুকিং ছিল। গত দুইদিন আগে বুকিং দেওয়া ৪টি রুম দুইটি পরিবার আজ বাতিল করেছে।
তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে করছেন না।

আরো পড়ুন : মির্জাগঞ্জে গাছ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, গরমে পর্যটক এসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। যে কারণে মানুষ এসে টিকতে পারছেন না। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে কিছু পর্যটক আসছিল এরপর থেকে প্রচণ্ড গরমের কারণে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের কক্ষগুলো বেশিরভাগই ফাঁকা রয়েছে। লবণাক্ত পানিতে শরীর শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া পরিবর্তন হলে আবারও পর্যটক আসবে বলে মনে করছি। 

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আমরা পর্যটকদের বারবার মাইকিং করে সাবধানে থাকতে বলছি। এছাড়াও আমাদের সদস্যরা বাড়তি নজরদারি রাখছে যাতে কোনো পর্যটক অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।

এ বিষয় খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ প্রকৌশলী আ. জব্বার শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় তাপমাত্রা আগের চেয়ে বেশি। এখনই পর্যটকদের লাইট জামাকাপড় পড়ে থাকতে হবে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকসহ স্থানীয়দের সাবধানতা অবলম্বন করে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে।




অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এবং অসহ্য গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। কোথাও নেই পর্যটকদের কোলাহল। সৈকতজুড়ে শুধু ধু ধু বালুচর। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও মিলছে না পর্যটক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তারা বলেছেন, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে এবার পর্যটক কমেছে।
প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটত। সকাল, দুপুর, বিকাল কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় সাগরতট থাকত মুখরিত। পর্যটন স্পট গুলোতেও ছিল পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। সাগরের ঢেউ গর্জন করে তীরে আছড়ে পড়ছে। দেখলে মনে হয় যেন এসব মনোরম দৃশ্য দেখার কেউ নেই। কিছু পর্যটক থাকলেও তারা দিনের বেলা হোটেল থেকে বের হচ্ছে না প্রচণ্ড গরমের কারণে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়েছে একেবারে গ্রাহকহীন। 

এ দিকে কলাপাড়াসহ উপকূলজুড়ে অসহ্য তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও মিলছে না স্বস্তি।

কুয়াকাটা সৈকতে চটপটি বিক্রেতা আলামিন বলেন, ঈদুল ফিতর ও বৈশাখ উপলক্ষে অনেক পর্যটকের ভিড় ছিল। এখন অস্বাভাকি তাপপ্রবাহের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

হোটেল গ্র্যান্ড সাফা ইনে ম্যানেজার মো: সাইদুর রহমান জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে কুয়াকাটা পর্যটক নেই। বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, গরমে পর্যটক এসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। যে কারণে মানুষ এসে টিকতে পারছেন না। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু ট্যুরিস্ট আসছিল এরপর থেকে প্রচণ্ড গরমের কারণে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের সিট ফাঁকা রয়েছে। সাগরের পাড়ে এসে মানুষ উত্তাপে টিকতে পারছে না। লবণাক্ত পানিতে শরীর শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।




তীব্র দাবদাহে কুয়াকাটায় হোটেল বুকিং বাতিলের হিড়িক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নাজেহাল জনজীবন। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরাও বাতিল করছেন অগ্রিম বুকিং দেওয়া হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ। আবার কেউ কেউ কুয়াকাটায় দুই-তিন দিন থাকার জন্য এসে গরমের দাপটে ফিরে যাচ্ছেন একদিন থেকেই। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবহাওয়া অফিস বলছে আরও একসপ্তাহে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বর্তমান অবস্থার।

আরো পড়ুন : গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল

কুয়াকাটায় থাকা বেশ কয়েকটি হোটেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটাতে পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এই ঈদের পরপরই অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ পর্যটকে ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন এবং অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু বৃদ্ধদের চিন্তা করে বুকিং বাতিল করছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে এভাবে কমপক্ষে ১৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এই ঈদের পর ৩ থেকে ৪ দিন ভালো পর্যটক পেলেও হঠাৎ সেই পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে তাপমাত্রার এমন অবস্থা যে আমাদের নিজেদেরই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে পর্যটকদের অবস্থা তো আরো খারাপ।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, আমি তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি। কিন্তু আজকে একদিন থাকার পর মনে হচ্ছে কালকে আর থাকা হবে না। কারণ সবাই তো আর এসি রুম নিয়ে থাকতে পারে না। আর বেড়াতে এসে সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করব তাও হচ্ছে না। এখনও সৈকতের বালুতে বসে আছি আর আইসক্রিম খাচ্ছি।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি। প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময় হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এবছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং আছে। দুই দিন আগে বুকিং দেওয়া ৪টি রুম আজ বাতিল করেছে।

আরো পড়ুন : পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। তবে এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েকদিন যাবৎ এর আশপাশে অবস্থান করছে তাপমাত্রা। আরো এক সপ্তাহ এই অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তাই তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ।




পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যের অন্যতম নীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে কুয়াকাটা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রতিনিয়ত পর্যটককে টইটম্বুর থাকছে এ সৈকত। কিন্তু কিছু অসচেতন আর উদাসীন পর্যটক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ময়লা ফেলে বিনষ্ট করছে সৈকতের পরিবেশ।

পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন বলছে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকলেও তা ব্যবহার করছে না কিছু পর্যটক ও ব্যবসায়ী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, অনুসন্ধানে আইইডিসিআর টিম

২৩ এপ্রিল বিকেলে কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার ভাগাড় বানিয়ে রাখা হয়েছে। মশা মাছি আর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো সৈকত জুড়ে। এতে বিপাকে পড়েছে সচেতন ও উচ্চাভিলাসী পর্যটকরা। সৈকতের মূল পয়েন্টটি এভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখায় বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ অনেক পর্যটক।

অধিকাংশ পর্যটক বলছেন, সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে পর্যটক কমবে কুয়াকাটায়।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক আবু তাহের বলেন, আমি আমার স্ত্রী ও ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে সৈকত এসে ছাতার নিচে বসলাম কিন্তু পিছনেই কি পরিমাণ ময়লা তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এই যদি হয় কুয়াকাটা সৈকতের পরিবেশ তাহলে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে দুর্গন্ধের মধ্যে কীভাবে বসব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ।

চিপস খেতে খেতে সৈকতে নামছিলেন দুজন পর্যটক, খাওয়া শেষ হতে না হতেই চিপসের খালি প্যাকেট দুটি ফেলে দেয় সৈকতে। এভাবে সৈকতে ময়লা ফেলা ঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এ পর্যটক বলেন, সবাই তো ফেলছে আমরা ফেললে সমস্যা কি। কোনো সচেতন মানুষের এরকম কাজ করা ঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি একপর্যায়ে ভুল স্বীকারও করেন। পরিশেষে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করার জন্য সবাইকে অনুরোধও করেন তিনি।

আরো পড়ুন : জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে চাল বিতরণে অনিয়ম

এ বিষয় কথা হয় একাধিক ঝাল মুড়ি, আইসক্রিম, চানাচুর, চাটনি বিক্রেতাসহ একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে, তাদের প্রত্যেকের দোকানের আশপাশে ময়লা, পলিথিন, আচারের প্যাকেটসহ নানা ময়লা থাকলেও তারা বলেন আমরা প্রত্যেক দোকানদার ডাস্টবিন ঝুড়ি ব্যবহার করছি। এখন পর্যটকরা তাতে ময়লা না ফেললে আমরা কি করতে পারি। আবার কেউ কেউ বলছেন এই ময়লা আমার দোকানের না। এরকম একাধিক  দায়সারা বক্তব্য দেন তারা।

এ বিষয় বিডি ক্লিন ডটকম কুয়াকাটা শাখার সমন্বয়ক ডা. ইসলাঈল ইমন বলেন, সৈকত বা রাস্তা এইগুলা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা অনেকেই মনে করি সৈকত রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এটা শুধু পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কিন্তু না। ময়লা আবর্জনা ফেলার সময় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করলেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। সেজন্য পর্যটক ও স্থানীয়সহ আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে।

এ বিষয় কুয়াকাটা পৌরসভার প্যানেল মেয়র (২) মো. শহিদ দেওয়ান বলেন, আমাদের পৌরসভার একাধিক পরিচ্ছন্ন কর্মী দিনরাত চেষ্টা করছেন সৈকত পরিষ্কার রাখার জন্য। কিন্তু অসচেতন কিছু পর্যটক ও উদাসীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সৈকত পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না। তবে সৈকতে কেউ প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে নামতে পারবে না এরকম কোনো প্রচার-প্রচারণা প্রশাসনিকভাবে থাকলে কিছুটা হলেও সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করা যেত।




কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। কেউ কেউ দুই-তিনদিন থাকার জন্য এসে গরমে একদিন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এ ঈদের পর অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন : তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের চিন্তা করে সেটি বাতিল করছেন। প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে। এভাবে কমপক্ষে ২৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এ ঈদের পরে হঠাৎ পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে চলে এসেছে।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি কিন্তু একদিন থাকার পরে মনে হচ্ছে এখানে আর থাকা সম্ভব নয়।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি।
তবে প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময়ে হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। দুদিন আগে বুকিং দেওয়া চারটি রুম দুটি পরিবার আজকে বাতিল করেছে। তারা বলছে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে না করায় এ বুকিং বাতিল করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

কুয়াকাটায় প্রায় ২০০ আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ হোটেলে কক্ষে এসি থাকে। সব পর্যটকরা তো আবার এসিতেও থাকে না। সব মিলিয়ে এ পর্যটক কমে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে এর আশপাশে অবস্থান করছে তাপমাত্রা। আগামীতে আরও এক সপ্তাহ এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পর্যটকদের বারবার মাইকিং করে সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের সদস্য বাড়তি নজরদারি রাখছে যাতে কোনো পর্যটক অসুস্থ হলেও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।




তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমুদ্রের টানে পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরম উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতে হাজার পর্যটক। ৪৩ বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাতেও নোনা জলে জলকেলিতে প্রশান্তি খোঁজ করছেন তারা। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে স্থানীয় শরবত ও কোমল পানিয়র দোকানগুলোতে।

নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রতি সপ্তাহের ন্যায় শুক্রবার ও শনিবার পর্যটন নগরী পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হাজার পর্যটক ভ্রমণে এসেছে। সকাল থেকে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সৈকতের তপ্ত বালিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছাতা হাতে কেউবা আবার মাথায় ক্যাপ-গামছা পেঁচিয়ে হেঁটে বেরাচ্ছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে শান্ত সমুদ্রের বিশালতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  উপভোগ করছেন। তীব্র গরমের কারণে অনেকে হোটেল রুমে অবস্থান করছেন। ফলে ট্যুর গাইডগুলো অনেকটাই অলস সময় পার করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে এক তরুণীর অনশন

ফরিদপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা ফয়সাল জানান, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই ঘুরতে আসতে হয়েছে কেননা ইদ ছাড়া সব বন্ধুরা এক হওয়া হয় না। ঈদের পরে সবাই এক সঙ্গে ঘুরতে এসেছি আর এই গরমে সমুদ্রে সময় কাটাতে ভালোই লাগছে।

মাগুরা থেকে ঘুরতে আসা মাহাতাব হোসাইন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই প্রথমবার কুয়াকাটা এসেছি। বছরের শুরুতেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম কিন্তু এত গরমের মধ্য আসতে হবে বুঝতে পারিনি। সমুদ্র সৈকতে এসে বাচ্চারা অনেক খুশি কিন্তু এত গরমে বেশি সময় বিচে থাকা অসম্ভব।’

তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবেচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতের দোকানদার, অটোরিকশাচালক, সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও পড়েছেন বিপাকে।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকার ভ্যানচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এই মৌসুমে যাত্রীর অনেক চাপ এবং ইনকামও বেশি কিন্তু সারাদিন রোদে গরমে যাত্রী আনা-নেওয়ায় খুব কষ্ট হয়।’

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ডাব ব্যবসায়ী সিদ্দিক খান বলেন, ‘প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমাদের কুয়াকাটায় অনেক লোকজন আসতেছে। এই গরমে সবাই ডাব খাইতেছে। গরমের কয়দিনে আমার ব্যবসাও ভালো হইতেছে।’

ঝিনুক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটক বেশি হলেও বিকাল ছাড়া কাস্টমার হয় না কারণ এই গরমে সবাই সমুদ্রে সময় কাটায় না হয় হোটেলে। সারাদিন কাস্টমার থাকলে বেশি বেচাকেনা হত।’

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন টুরিস্ট পুলিশ। সার্বক্ষণিক মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে পর্যটকদের। তীব্র গরমে কোন পর্যটক অসুস্থ হয়ে পরলেও আমরা তার সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করবো। আমাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরাও পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কলাপাড়া স্টেশনের টহল টিম ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সৈকত এলাকায় অবস্থান করি। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল টিম সব সময় প্রস্তুত আছে। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমরা তৈরি আছি।’




পর্যটকদের মন কাড়ছে কুয়াকাটার কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হচ্ছে শুঁটকি। সমুদ্রপাড়ে খোলা আকাশের নিচে রোদের সাহায্যে মাছ শুকিয়ে বিক্রি করা হয় ক্রেতাদের কাছে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত প্রাকৃতিকভাবে দর্শনার্থীদের কাছে বিখ্যাত হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে সুনাম কুড়াচ্ছে এই পর্যটন নগরীর বিষমুক্ত শুঁটকি, যা ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কুয়াকাটার শুঁটকি এখন অন্যতম। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এ শুঁটকির রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। শুঁটকিপ্রেমীরা শুঁটকি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কুয়াকাটায়। এখানকার শুঁটকি সুস্বাদু হওয়ায় দেশে ও বিদেশের রয়েছে আলাদা চাহিদা। প্রতি বছরই এ শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

সরেজমিনে দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ সহজে পাওয়ায় কুয়াকাটায় বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। এসব পল্লীতে প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম। এ কাজে অংশ নেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ পরিবারের সকল সদস্যরা। পোয়া, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্রা, চিংড়ি, ছুড়ি, হাঙ্গর, ভোল ও কোড়ালসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে খোলা জায়গায় বাঁশের মাচা বানিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি। কোনো কীটনাশক ছাড়া শুধু লবণ মেখে প্রক্রিয়াজাত করায় এর আলাদা স্বাদ ও চাহিদা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো পল্লী না থাকায় বছরের ছয় মাস চলে এ ব্যবসা।

জানা গেছে, স্বাদে ও গুণে বেশ সুনাম আছে এখানকার শুঁটকির। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ার কারণে পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটার শুঁটকি দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। যারা বেড়াতে আসেন তারা ফিরে যাওয়ার সময় আর কিছু না হোক কিছু শুঁটকি কিনে নিয়ে যান।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক নজরুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটার শুঁটকির অনেক নাম রয়েছে। এখানে এসে নিজ চোখে শুঁটকি শুকানো করা দেখেছি। তারা কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করে না। আমাদের এলাকার চেয়ে দাম অনেক কম। মানও ভালো, তবে স্থায়ী পল্লী থাকলে আরও পরিছন্নভাবে করতে পারত।

শুঁটকি শ্রমিক মো. হোসেন বলেন, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করার কোনো নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আমরা সৈকতের পাশে মাছ শুকাই। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানে সব কিছু ভেঙে ফেলে। আবার শুঁটকি ব্যবসায় আসা কষ্টের হয়ে যায়। শুঁটকি ব্যবসায় আলাদা করে লোনও পাই না আমরা।

আরো পড়ুন : বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

শুঁটকি ব্যবসায়ী ফারুক ঘরামি বলেন, অনেক বছর ধরে শুঁটকি ব্যবসা করি তবে স্থায়ী শুঁটকি মার্কেট না থাকায় কিছু দিন পরে উঠে যেতে হয়। কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ই হচ্ছে শুটকি। তাই সরকারের কাছে আমরা স্থায়ী শুঁটকি মার্কেট চাই।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু বলেন, সারা দেশে কুয়াকাটার শুঁটকির একটা সুনাম রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে শ্রমিকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং স্থায়ী শুঁটকি পল্লীর জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে উন্নতমানের শুঁটকি উৎপাদনের জন্য এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।




পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সকাল থেকেই আগত পর্যটকের আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকের ভিড় বাড়তে থাকে সমুদ্র সৈকতে। আগত দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সমুদ্র নীল জলে সাঁতার কাটাসহ প্রিয়জনের সাথে ছবি তুলে দিনটি উপভোগ করছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের ঢেউ ও প্রকৃতি। সৈকতে হই হুল্লোড়, ছুটাছুটি, ফুটবল খেলা যেন আনন্দের কমতি ছিল না। সমুদ্রর উত্তাল ঢেউয়ের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে আগত পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা।

কুয়াকাটার কুয়া, সৈকতের লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার, শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, টুরিস্ট বোটের মাধ্যমে সমুদ্র পথে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ, রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলা ঘুরে বেড়িয়েছেন এসব পর্যটকরা।

ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনে আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট গুলোর ৮৫ ভাগ কক্ষই বুকিং ছিল জানিয়েছেন হোটেল মোটেল কৃর্তপক্ষ। ১৫ দিন আগ থেকেই অনেকেই অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন।

খাবার হোটেল গুলোতেও খাবারের জন্য ভিড় পরে যায়। রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মাকের্ট, মিশ্রিপাড়া তাঁত পল্লী সবখানেই কেনা কাটায় ভিড় লেগে যায়। ফিস ফ্রাইয়ের দোকানেও সিরিয়াল দিয়ে কাকড়া, চিংড়িসহ নানা ধরনের সমুদ্রের মাছ খেতে দেখা গেছে। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সতর্কতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরো পড়ুন : ছুটি শেষে অফিস খুলছে আজ

রমজানের একমাস পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটিয়ে বর্তমানে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের আগমনে আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের ছুটির সাথে পহেলা বৈশাখের ছুটির কারণে অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমনে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি এবং কর্ম ব্যস্ততা ফিরে এসেছে।

খুলনা থেকে ঘুরতে আসা কাওছার জানান, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ একসাথে হওয়াতে অনেক টুরিস্ট এসেছে কুয়াকাটা, খুব ভালো লাগছে। সাগরে অনেক ঢেউ আছে। বন্ধুদের নিয়ে হই হুল্লোড়ে মেতেছি। দিনটা বেশ ভালোই কাটছে।

কুয়াকাটার বার্মিজ আচার ব্যবসায়ী জহির জানান, ঈদের ছুটির সাথে পহেলা বৈশাখের ছুটি যোগ হওয়াতে কুয়াকাটা অনেক পর্যটক এসেছে। আমাদের বেচাকেনা ভালো হয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার কারণে ঢাকা থেকে সহজেই অসংখ্য টুরিস্ট আসতে পেরেছে যার জন্য আমরা অনেক খুশি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ জানান, এবারের ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ এর লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘঠেছে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলোর প্রায় ৮৫ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবে ঈদের দিন স্থানীয় পর্যটকদের ভিড় ছিল বেশি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একটু বেশি পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ মহাসড়কে আগত পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে টহলে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।




দীর্ঘ ৮ বছর পর পটুয়াখালী-কুয়াকাটার ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটা মহাসড়কের ১১ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ৮ বছর পর সংস্কার হতে যাচ্ছে। মামলা জটিলতার কারণে কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা বাজার থেকে আলিপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের এ অংশটি ২০১৪ সালের পর সংস্কার করা হয়নি। সম্প্রতি মামলা জটিলতার অবসান হওয়ায় এ সড়কের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তর।

পটুয়াখালী সওজ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ ২০১১ সালে পটুয়াখালী কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা থেকে আলিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ হাতে নেয়। খুলনার রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ওই অংশের ঠিকাদার নিযুক্ত হয়। ব্যয় ধরা হয় ২০ কোটি টাকা। ঠিকাদার সড়কটি সংস্কারের পর চূড়ান্ত বিল দাবি করে সড়ক বিভাগের কাছে।

আরো পড়ুন : ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত

কিন্তু সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সড়ক বিভাগ ঠিকাদারকে ১২ কোটি টাকা পরিশোধের পর বাকি ৮ কোটি টাকা আটকে রাখে। শিডিউলের শর্ত অনুযায়ী আবার সংস্কারের জন্য বলা হলে ঠিকাদার তাতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ নিয়ে সওজ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিল পরিশোধে আপত্তি জানায় তদন্ত কমিটি। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুর রহমান ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সড়কটিতে সংস্কার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি হাইকোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় সড়কের ওই অংশ সংস্কারে বাধা কেটে গেছে।

কুয়াকাটা সৈকতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয়দের যাতায়াতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ সড়কের ওই অংশ জরাজীর্ণ থাকায় অশেষ ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।

পটুয়াখালী জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা থেকে আলিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ৮ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়ক বিভাগ এবার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে আশা করি।’

আরো পড়ুন : পটুয়খালীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিকুল্লাহ বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এর সংস্কার জরুরি হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা এতদিন ওই ১১ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করতে পারিনি’।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় আমরা ১৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’
‘আশা করছি দুয়েক মাসের মধ্যেই সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে এবং সড়কের ওই অংশের সংস্কার কাজ শেষ হলে কুয়াকাটা থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন হবে’।




বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল

বরিশাল অফিস :: পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল শহর ও জেলার বাইরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের দিন

বিকেল থেকে ভ্রমন পিপাসু সকল শ্রেনি মানুষের মানুষের ঢল নেমেছে। অন্যদিকে বিনোদন কেন্দ্রগুলোর পথে পথে বসেছে মাটির তৈরী খেলনা পুতুল ও প্রিয়জনদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য গোলাপ সহ বিভিন্ন রকমারী ফুলের দোকান। বিশেষ করে শিশুদের পদচারণায় মুখর বিনোদন কেন্দ্রগুলো।


নগরীর প্রধান বিনোদনকেন্দ্র নগরীর কীর্তনখোলার তীর ত্রিশ গোডাউন, বঙ্গবন্ধু উদ্যান,শিশুপার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, আমানতগঞ্জ এলাকায় নবনির্মিত শহীদ সুকান্ত বাবু শিশুপার্ক, গ্রিন সিটি শিশুপার্ক, প্লানেট ওয়ার্ল্ড, মুক্তিযোদ্ধা কাঞ্চন পার্ক,
কালিজিরা ব্রিজ, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ব্রিজ ও চৌমাথা লেক পাড় সহ সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ তালতলী ও চরবাড়িয়া এলাকার বিনোদন এলাকাগুলো প্রিয় মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। রঙ বেরঙের নতুন পোশাক পড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তরুণ- যুবক ও শিশু-কিশোরসহ সকল শ্রেণির মানুষ ক্ষনিকের আনন্দ প্রিয়জনের সাথে ভাগ করে
নিতে ছুটে আসছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।

 

ঈদের দিনের চেয়ে ২য় দিন বিকেল থেকে বরিশালের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বান্ধবের সাথে সেলফি ছবি তোলা, প্রিয়জনের সাথে হাঁটা, কির্তনখোলা নদীতে ঘন্টাব্যাপি নৌকায় ঘুরে বেড়ানো নিয়ে মেতে উঠেছে বিনোদন প্রিয় মানুষ। নগরীর অন্যতম উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন এলাকায় সবচেয়ে উৎসবপ্রেমীদের ঢল নেমেছে। কীর্তনখোলা পাড়ের এ বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে সেলফি প্রেমীদের দখলে।

 

নগরীর শিশুপার্কেও ছিলো বিনোদন প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। পছন্দের রাইড আর মন মাতানো আকর্ষণ দেখতে ঈদের দিন বিকেল থেকেই ভিড় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা
জানিয়েছেন। এছাড়াও ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে বরিশালের তালতলী ও চরবাড়িয়া এলাকার কির্তনখোলা নদীর তীরে গড়ে উঠা বিভিন্ন বিনোদন স্পট সহ খাবারের
হোটেলগুলোতে উপচে পড়া ভীড় চোখে পড়ে।

এছাড়া নগরীর বাহিরের বিনোদন কেন্দ্র যেমন-বাবুগঞ্জের দূর্গাসাগর, গুঠিয়ার নয়নাভিরাম বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স গৌরনদীর ফারিহা গার্ডেন, বাটাজোরের শাহী ৯৯ পার্ক, প্রকৃতিতে ঘেরা পয়সারহাট ব্রীজ, দোয়ারিকা ও শিকারপুর সেতুসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্মতাত্মিক স্থাপনা ঘিরে বিনোদন প্রিয় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।