পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা, কর্মহীন প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতা ও কারফিউর কারণে থমকে আছে দেশের পর্যটন শিল্প। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এখন জনমানবশূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ধরা হলেও, পদ্মাসেতু চালুর পর থেকে বছরজুড়েই পর্যটকে মুখর থাকে সমুদ্রকন্যা।

প্রাণোচ্ছ্বল সেই সৈকত এখন পর্যটক শূন্য। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। পর্যটক না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক।

গত কয়েকদিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার উপরে। আরও কতদিন এই পরিস্থিতি চলবে, তা নিয়ে শঙ্কায় হোটেল-মোটেল মালিকরা।

পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ বলেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলমান পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবার আগমন ঘটবে পর্যটকদের, এমনটাই আশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।




কুয়াকাটা থেকে প্রশাসনের সহায়তায় ফিরেছে ৫০০ পর্যটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে কারফিউতে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ পর্যটককে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে ঢাকা ও বরিশালে পাঠিয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা থেকে ৪টি পরিবহনে ১৫০ জন পর্যটককে পুলিশ, সেনাবাহিনীর পাহারায় ঢাকায় পাঠায় জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া প্রায় ৩৫০ জন পর্যটক প্রশাসনের নিরাপত্তায় বরিশাল পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব পর্যটক শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আটকে ছিলেন কুয়াকাটায়। তবে শুক্রবার থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে রুমের ভাড়া নেননি অনেক হোটেলের মালিক।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশব্যাপী অস্থিরতায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পবিত্র আশুরা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে আটকে পড়েছিলেন অসংখ্য পর্যটক। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আটকে পড়া পর্যটকদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল থেকে মাইকিং করে পুরো এলাকায় গাড়ি ছাড়ার কথা জানিয়ে দেয় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। পরে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ১৫০ জন ঢাকার উদ্দেশে যেতে চাইলে তাঁদের পর্যটন হলিডে হোমসের সামনে জড়ো করা হয়। সেখান থেকে একটি গ্রিনলাইন পরিবহন ও তিনটি সাকুরা পরিবহনের পর্যটকবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া ৩৫০ জনের মতো পর্যটক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যেতে চাইলে তাঁদের বরিশাল পর্যন্ত নিরাপত্তা দেয় প্রশাসন। পরে তাঁরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।

কুয়াকাটায় আটকে পড়া ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা হাসিব উদ্দিন ভূঁইয়া নামের এক পর্যটক বলেন, ‘পরিবার নিয়ে গত বুধবার কুয়াকাটায় এসেছি। তবে ভ্রমণ শেষে শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে যেতে চাইলে কারফিউর কারণে আর যেতে পারিনি। কিন্তু সকালে মাইকিং শুনলাম যে সেনাবাহিনীর পাহারায় উপজেলা প্রশাসন ঢাকায় পাঠাবে ভ্রমণকারীদের।’ সে ব্যবস্থায় ফিরেছেন হাসিব উদ্দিন ভূঁইয়া।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার থেকে কুয়াকাটায় কোনো পর্যটক আসছে না। কারফিউর কারণে পাঁচ শতাধিক পর্যটক কুয়াকাটায় আটকা পড়েছিল। গতকাল জেলা প্রশাসনের নির্দেশে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতায় আমরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছি।’




পটুয়াখালী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী – কুয়াকাটায় দুই খাবার হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী, পরিবেশন এবং পরিবেশ দূষণের দায়ে দুই খাবার হোটেল মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার শেষ বিকালে সৈকত লাগোয়া বৈশাখী হোটেল এন্ড বিরিয়ানী হাউজকে দেড় লাখ এবং গাজী রেস্তোরাঁ এন্ড বিরিয়ানী হাউজকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন : চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ বিএফইউজে-ডিইউজের

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

সূত্রে জানা যায়, বেশকিছু দিন ধরে ওই দুই হোটেল থেকে ময়লা পানি সরাসরি পাইপের মাধ্যমে সমুদ্রে ফেলা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী ও পরিবেশনের দায়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।




সড়কের বেহাল দশা – পর্যটক হারাচ্ছে কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বেহালদশায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের। কুয়াকাটা ভ্রমণ এখন অনেকের কাছে আনন্দের চেয়ে ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে বেশি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশায় এ ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্ট বড় বড় গর্তের এক একটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকছেন কুয়াকাটাগামী পর্যটকরা।

শুক্রবার পাখিমারা বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা মহাসড়কের গর্তে পড়ে আটকা পড়ে ঢাকাগামী দুটি বাস। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকসহ ওই এলাকার মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্যবন্দর পর্যন্ত সড়কটির সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে গাড়ি। যে কোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, পর্যটনমুখী সড়ক হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের কারণে এবং দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটিতে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অর্ধেকাংশের পিচ, বালু ও খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে সড়কটি। সংস্কারে উদ্যোগ না নেওয়ায় ভাঙা সড়ক দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।

পাখিমারা বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহেল গাজী বলেন, এটা মনে হয় না মহাসড়ক। এটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। ৩-৪ ফুট গর্ত হয়েছে। চলাচলকারী গাড়ি এসব গর্তে পড়লে বড় ধরনের বিপদ ঘটবে।

তার মতে, এটি এখনই সংস্কার না করলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। প্রভাব পড়বে পর্যটন খাতে।

হানিফ পরিবহনের ড্রাইভার মো. মঞ্জু হাওলাদার বলেন, অনেক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিয়ার জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী পর্যটক অধরা হাওলাদার জানান, আমরা সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে কুয়াকাটা থেকে রওনা দিই। আমাদের বাসটি পাখিমারা বাজারে বড় গর্তে পড়ে আটকা পড়লে আড়াই ঘণ্টা আমাদেরকে সেখানে বসে থাকতে হয়। পরে ট্রলি গাড়ির সাহায্যে বাসটিকে টেনে উঠানো হয়। এরপর আরও একটি বাস এখানে আটকা পড়তে দেখেছি। দ্রুত এই সড়কের সংস্কার প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সড়কের ভোগান্তি দূর করা না হলে অনেকেই কুয়াকাটা বেড়াতে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের মতে, কুয়াকাটার প্রতি মানুষের অনীহার বড় একটি কারণ হলো সড়কটির চরম দুরবস্থা। সড়কটির কারণে অনেকে কুয়াকাটায় আসতে চায় না। বছরের পর বছর ধরে সড়কটি এভাবে পড়ে আছে। অথচ এর সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কুয়াকাটার স্বার্থে সড়কটি মেরামত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

কুয়াকাটার যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করা গেলে কুয়াকাটার প্রতি মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি কুয়াকাটার ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯-২০১৪ অর্থ বছরে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্যবন্দরের শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে খুলনার দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তখন এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ২০ কোটি টাকা। কাজটি মানসম্মত না হওয়ায় তখন ঠিকাদারের বিল আটকে দেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দুটি দল সরেজমিন তদন্তও করে। তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকেও কাজের গুণগত মান ভালো হয়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। নিম্নমানের কাজের কারণে তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৮ কোটি টাকার বিল আটকে দেয়। তবে এ কাজ বাবদ ১২ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম চূড়ান্ত বিল দাবি করে ২০১৪ সালে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার কারণে ১১ কিলোমিটার সড়কের ওপর সংস্কার কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। যার ফলে গত দশ বছর ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে পাখিমারা বাজার থেকে শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত এ অংশের সড়কটি।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিকুল্লাহ বলেন, ‘কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কটি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় এতদিন এর সংস্কার কাজ করা যায়নি। গত বছরের ২৭ মার্চ উচ্চ আদালত মামলার শুনানি শেষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় এ সড়কের নির্মাণ বা মেরামতের জন্য আর কোনো বাধা নাই। ইতিমধ্যে সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী মাসের মধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিতে পারব। এরপর দ্রুত ওই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে।




বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনেও পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নেমেছে। সকাল থেকে টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই সমুদ্র বিলাসে মেতেছে নানা বয়সী মানুষ। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। সৈকতের জিরো পয়েন্টের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় আনন্দ উন্মাদনা ছিল লক্ষণীয়। বৃষ্টিভেজা শরীরেও থেমে ছিল না দর্শনীয় স্পটে ঘুরে বেড়ানো। আবাসিক হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ কক্ষই বুকিং রয়েছে। এমন ভিড় থাকবে আগামী শনিবার পর্যন্ত এমনটাই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অতিরিক্ত গরমে পর্যটক খরা কাটিয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক ভ্রমণ প্রিয় মানুষের আগমন ঘটেছে ঈদের ছুটিতে। তবে কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের আগমনে আবাসিক ও খাবারসহ তিন চাকার যান চালকরা এর সুফল ভোগ করলেও অন্যান্য পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বৃষ্টির প্রকোপে বঞ্চিত হয়েছেন।

অপরদিকে সৈকতে প্রবেশের প্রধান ফটকের সড়কের দুই পাশে বিশৃঙ্খলভাবে রাখা যানবাহন ও সৈকতের মূল কেন্দ্রে যত্রতত্র যানবাহনের অবাধ বিচরণ ঠেকাতে কোনো তদারকি লক্ষ্য করা যায়নি। এতে পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটা বাস টার্মিনাল থেকে সৈকতে আসতে বাড়তি ভাড়া আদায়সহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকদের। আর এসব নিরসনে প্রশাসনের নেই কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা। ইজিবাইক চালকদের বেপরোয়া উৎপাত এবং অসংলগ্ন আচরণে পর্যটকরা রীতিমতো হতাশ। খাবার হোটেলগুলোয় খাবারের দাম ও মান নিয়েও পর্যটকদের রয়েছে নানা আপত্তি। এতে করে অনেকেই কুয়াকাটা ভ্রমণ বিমুখ হচ্ছেন। অপরদিকে আবাসিক হোটেলে গলাকাটা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল সমুদ্র সৈকত এলাকা। তবে হঠাৎ করেই বৃষ্টির প্রকোপে কমতে শুরু করে পর্যটকের সংখ্যা। একটানা বৃষ্টিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই কুয়াকাটা ত্যাগ করবেন বলে পর্যটকের সাথে কথা বলে জানা গেছে। আবার অনেকেই উত্তাল সমুদ্রের সঙ্গে বৃষ্টির আমেজ পেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় জমে উঠেছেন।

ঢাকার থেকে আগত পর্যটক নাজমুল ইসলাম বলেন, উত্তাল সমুদ্রের সঙ্গে বৃষ্টির পরিবেশ পেয়ে আনন্দের যেন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। এভাবে পরিবেশ পাবো আশা করিনি। অনেক ভালো লেগেছে এবার কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে।

সুনামগঞ্জের হাওর থেকে পরিবার নিয়ে আগত পর্যটক প্রসেনজিৎ বলেন, তিনদিনের জন্য কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছি। অনেকবার কক্সবাজার যাওয়া হলেও এই প্রথমবার কুয়াকাটা এসেছি। তবে বৃষ্টির কারণে সেভাবে ঘুরে দেখার সুযোগ হয়নি। কোথাও বের হতে পারছি না। ভাবছি একদিন আগেই চলে যাবো। সমুদ্র উপভোগ ছাড়া আর কিছুই দেখাই হলো না।

পাবনা থেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসা পর্যটক ইসরাফিল জানান, অনেক টাকা খরচ করে বেড়াতে এসেছি। বৃষ্টি হচ্ছে তাই বলে কি ঘোরাফেরা মাটি হবে? যতই বৃষ্টি হোক না কেন আমরা বেশ আনন্দ উপভোগ করছি।

ঢাকার নারায়ণগঞ্জের পর্যটক নাজমুল জানান, বৃষ্টি আর উত্তাল সমুদ্রে দারুণ উপভোগ করলাম। তবে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে দুই পাশটা ভয়ানক। জিও ব্যাগের ফাঁদে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। এগুলোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্রের সৈকত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমনটা কখনোই আশা করা যায় না।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে বিরল প্রজাতির ‘ইয়েলো বেলিড সি’ সাপ

বরিশাল থেকে আগত পর্যটক দম্পতি রাইয়ান-কাকলি বলেন, ফেরি বিহীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় স্বল্প সময়ে কুয়াকাটা এসেছি। কয়েকদিন থাকবো। তবে কুয়াকাটার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও পাল্টায়নি এখানকার ব্যবস্থাপনা। পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যারা নতুন আসবে তারা অনেকেই বহুমুখী ভোগান্তির শিকার হবে। দ্রুত যদি এসব অব্যবস্থাপনাগুলো ঢেলে সাজাতে না পারে তাহলে কুয়াকাটা ভ্রমণে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিবেন। আশা করছি পর্যটনের গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন বিশেষভাবে গুরুত্ব দিবেন।

সৈকতের আচার ব্যবসায়ী জহির রায়হান বলেন, এবারের ঈদে আমরা যেভাবে পর্যটক আগমনের আশা করেছিলাম তার থেকেও অনেক পর্যটকের এসেছে। তবে পর্যটক আসলেও গত দুই দিনের বৃষ্টিতে আমাদের তেমন ভালো বেচা বিক্রি হয়নি। বৃষ্টিতে অনেকেই দোকান বন্ধ করে রেখেছে।

সৈকতের ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম খলিফা জানান, এমন দিনে কয়েক হাজার টাকা ইনকাম হয়। আজ মাত্র ৭’শ টাকা আয় হয়েছে। তাতে অনেক কষ্ট করা লাগছে। এভাবে চললে আমাদের বাকি দিনগুলো পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে কষ্ট হয়ে যাবে।

আবাসিক হোটেল সী বিচ ইন এর ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল শুক্রবারের বেশ কিছু বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। তিনদিন বুকিং দেওয়া কিছু পর্যটক একদিন আগেই চলে যাবেন। আমরা এখন হতাশার মধ্যে পড়ে গেলাম।

আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান জানান, ঈদের দিন থেকে তার হোটেলের সবগুলো কক্ষ আগাম বুকিং রয়েছে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আশাতীত বুকিং রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হওয়ায় এখন কোনো পর্যটককে রুম সংকটে ভুগতে হয় না।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পর্যটকদের ভিড়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।




সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা




ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রাণ ফিরেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। মঙ্গলবার সকাল থেকে সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকালের দিকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামে। আর সন্ধ্যার পরে তো বিনোদন প্রিয় মানুষের আনাগোনায় রীতিমতো মুখর হয়ে উঠে সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে সৈকতের বেলাভূমিতে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে অথবা প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের মেলাভূমিতে হেঁটে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ঝাউবাগান, শুটকি পল্লী ও গঙ্গামতিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। এতে কুয়াকাটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রিও বেড়েছে।

সৈকতের ছাতা বেঞ্চ ও স্পিড বোট ব্যবসায়ী মো. খলিফা বলেন, আজকে অনেক পর্যটক বেড়েছে। এ সপ্তাহে আরও বাড়বে।

আরো পড়ুন : ছুটি শেষে বুধবার খুলছে সরকারি অফিস, চলবে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী

হোটেল-মোটেল ওর্নাস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ জানান, আজকে ভাল পর্যটক আসছে এবং ফোনেও রুম বুকিং হচ্ছে। গরমটা কমলে আরও পর্যটকের আগমন ঘটবে।

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পর্যটকের নিরাপত্তারয় আমরা উপজেলা প্রশাসন ও মহিপুর থানা পুলিশ, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছি।




ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বরনে প্রস্তুত কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটক বরণ করতে প্রস্তুত সাগর কন্যা কুয়াকাটা। টানা ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসবেন বলে প্রত্যাশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কিন্তু কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে এখন পর্যন্ত নেই অগ্রিম বুকিং।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন আশা করছি ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা সৈকত।

এদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি, থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জোরদার করা হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম।

শনিবার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল, রিসোর্ট,ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বুকিং না থাকায় কিছুটা হতাশায় ভুগছেন তারা। তবে ঈদের পরে পর্যটক আসবে বলেই বিশ্বাস করছেন তারা ।যারা ঘুরতে আসবেন, তাদের জন্য পর্যটন এলাকাগুলো আরও আরামদায়ক ও মনোরম করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটকদের সেবা দেওয়া ১৬টি পেশার ব্যবসায়ী ও কর্মীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। তবে আশানুরূপ অগ্রিম বুকিং না পাওয়ায় কিছুটা হতাশায় রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। ঘূর্ণিঝড় রেমাল এবং অতিরিক্ত তাপদাহের প্রভাবে এ বছর আশানুরূপ পর্যটক আসেনি কুয়াকাটায়। বর্ষার আগে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটক আসবে কুয়াকাটায় এটাই ছিল আমাদের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সবার চোখে মুখে শুধু হতাশা।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) জয়েন্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেন রাজু বলেন,বর্তমানে হোটেল-মোটেলগুলো ধুয়ে মুছে একবারে পরিপাটি করা হয়েছে। তবে তেমন কোন পর্যটক না থাকায় সৈকত দীর্ঘদিন ফাঁকা, পুরো এলাকা ঝকঝক করছে। বর্ষার শুরুতে সৈকতে উঁচু উঁচু ঢেউ,এ দৃশ্য নজর কাড়বে সব বয়সী মানুষের। এসব কারণে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটবে এমনটাই সবার আশা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণত সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ বলেন, প্রতিবছর এইসময় আমাদের অধিকাংশ হোটেল এবং রিসোর্ট গুলোর রুম বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোন বুকিং নেই। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের হোটেলের ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করছি কুয়াকাটা সব হোটেল গুলোতেই বুকিং বাড়বে এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে পর্যটকে মুখরিত থাকবে কুয়াকাটা। তবে সব মিলিয়ে ৩০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে কুয়াকাটায়।

আরো পড়ুন : নেপালের বিদায়ে যেমন হলো বাংলাদেশের সুপার এইট সমীকরণ

সী বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার পাশাপাশি তিনজন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউটের প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও সৈকতে রেসকিউ টিম প্রস্তুত থাকবে। বাড়তি ভাড়া আদায় প্রতিরোধ ও হয়রানি বন্ধে নজরদারি করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবা দেয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। পর্যটকদের সেবায় জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।




সম্ভাব্য ১৫১ জিআই পণ্যের তালিকা প্রস্তুত

দিদারুল আলম : উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) তালিকা প্রস্তুত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে পরবর্তী সময়ে নিবন্ধন হতে পারে এমন সম্ভাব্য ভৌগোলিক পণ্যের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নিবন্ধিত জিআই পণ্যের সংখ্যা ৩২টি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা ১৫১টি পণ্যকে সম্ভাব্য ভৌগোলিক পণ্যের তালিকায় রাখা হয়েছে।

সোমবার (৬ মে) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এদিকে টাঙ্গাইল শাড়িকে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি অব বেঙ্গল’ হিসেবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধনের প্রেক্ষিতে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ল’ ফার্ম ম্যাসন অ্যান্ড এসোসিয়েটসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই ল’ ফার্ম আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে রেজিস্ট্রেশনযোগ্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) তালিকা করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জিআই পণ্য হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করা পণ্যের তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশনা মোতাবেক এ সংক্রান্ত তালিকা প্রস্তুত করে হাইকোর্টে দাখিল করা হয় বলে জানান রিটকারী পক্ষের কৌসুলি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ১৫১ জিআই পণ্যের তালিকা:

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কাতান, বাকরখানি, মুন্সিগঞ্জের পাতক্ষীর, আড়িয়াল বিলের খলসা, মানিকগঞ্জের খেজুরের রসের হাজারী গুড়, গাজীপুরের কাঁঠাল, কাপাশিয়ার পেয়ারা, লেবু, নরসিংদীর বাবুরহাটের তাঁতবস্ত্র, কিশোরগঞ্জের চ্যাঁপা শুটকি, অষ্টগ্রামের পনির, রাতাবোরো চাল, ফরিদপুরের খেজুর রস/খেজুরের গুড়, পাট, বাগাটের দই, গোপালগঞ্জের শিং মাছ, রিঠা মাছ, চিতল মাছ, ব্রোঞ্জের অলঙ্কার, মাদারীপুরের খেজুরের গুড়, রইনা মাছ, শরীয়তপুরের চিকন্দীর পাতক্ষীরা, কালোজিরা, রাজবাড়ীর মালাইকারি, বসন্তপুরের লুঙ্গি, গামছা, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার লালচিনি, বিরই চাল, গফরগাঁওয়ের বেগুন, নেত্রকোনার টেপি বোরো চাল, বিরই চাল, বালিশ মিষ্টি, সিলিকা বালি, সুমেশ্বরীর মহাশোল, জামালপুরের প্যারা সন্দেশ, ইসলামপুরের কাশা, ম্যান্দা (চালের গুড়া ও গরুর মাংসের তৈরী বিশেষ খাবার), শেরপুরের ছানার পায়েস, কুমিল্লার খাদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি, কুটী বাজারের ক্ষীর ভোগ, মাঠা, চট্টগ্রামের রেড চিটাগাং গরু/লালগরু, সাম্পান, মেজবানি কালো ভুনা, নোয়াখালীর মহিষের দুধের দই, ফেনীর সুতার তৈরী কারুকার্যময় টুপি, কক্সবাজারের  টেকনাফের সুপারি, চিংড়ি শুটকি, মহেশখালীর পান, খাগড়াছড়ির হলুদ, পিনন (মহিলাদের পরিধেয় বস্ত্র), হাদি (পিননের সাথে পরিধেয় ওড়না জাতীয় বস্ত্র), বাঁশকুড়ল মার্মা পিঠা, বিনি পিঠা, সান্যা পিঠা, রাঙ্গামাটির চাকমাদের তাঁতবস্ত্র, জলডুবির আনারস, সাজেকের কমলা, হলুদ, আদা, মরিচ, বান্দরবানের আদা, জুমের বিন্নিধান, পিনন, সিলেটের মনিপুরি শাড়ি, সাতকড়া, কমলালেবু, সিলেট মৌলভীবাজারের লেবু (জারা, আধাজামির), চুঙ্গাপিঠা, চা, শ্রীমঙ্গলের আনারস, সুনামগঞ্জের বারকি নৌকা, পাথর, রাণীমাছ, হবিগঞ্জের পশুরশাইল চাউল, খাসিয়া পান, বগুড়ার শুকনো মরিচ, লাল আলু, পাবনার তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি,

চলনবিলের কই, সিরাজগঞ্জের গামছা, তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, তরল দুধ, মিল্ক ভিটা (দই, ঘি, মাখন, দুধ), যমুনার বাঘা আইড়, নওগাঁর নাক ফজলী আম, সুগন্ধি চাল, কালিতলার প্যারা সন্দেশ, বরই, জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু, হাড়িভাঙা মিষ্টি, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, আম, রংপুরের বৈরালী মাছ, দিনাজপুরের বেদানা লিচু, ঢেঁকি ছাঁটা চিড়া, কুড়িগ্রামের উলিপুরের ঐতিহ্যবাহী ক্ষীরমোহন মিষ্টি, গাইবান্ধার রসমঞ্জুরী, যমুনার আইড় মাছ, নীলফামারীর বাঁশ, বাঁশের কফিন, লালমনিরহাটের ভুট্টা, তামাক, ঠাকুরগাঁওয়ের সূর্যপুরী আম, খুলনার হরিনা চিংড়ী, সুন্দরবনের মধু, চুই ঝাল, গলদা চিংড়ি, সুন্দরবনের মধু, ভেটকি মাছ, বাগেরহাটের সুন্দরবনের মধু, গোলপাতা, সাতক্ষীরার মাটির টালী, কেওড়ার আচার, ভাঙ্গান মাছ, পারশে মাছ, নারকেল কুল, যশোরের জামতলার রসগোল্লা, নকশি কাঁথা, নড়াইলের প্যারা সন্দেশ, মাগুরার ছানা মিষ্টি, হাজরাপুরী লিচু, মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি, সাবিত্রী রসকদম, হিমসাগর আম, ঝিনাইদহের সন্দেশ, মহেশপুরের ঘটি দই, কালিগঞ্জের ল্যাংচা, হরি ধান, কুষ্টিয়ার কুমারখালির চাদর, বেডশিট, বরিশালের আমড়া, গৌরনদীর দই, গুটিয়ার সন্দেশ, ঝালকাঠির গামছা, নলছিটির মুড়ি, ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই, গুড়ের মিষ্টি, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পেয়ারা, বরগুনার রাখাইন তাঁতবস্ত্র, সুপারি, তরমুজ, পটুয়াখালীর মৃৎশিল্প।

নিবন্ধিত ৩২ জিআই পণ্য:

ঢাকার জামদানি, ঢাকাই মসলিন, টাঙ্গাইলের শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম, মধুপুরের আনারস, নরসিংদীর অমৃতসাগর কলা, লটকন, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মন্ডা, নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদামাটি, জামালপুরের নকশি কাঁথা, শেরপুরের তুলশিমালা ধান, কুমিল্লার রসমালাই, চাঁদপুরের ইলিশ, সিলেটের শীতল পাটি, মৌলভীবাজারের আগর, আগর আতর, বগুড়ার দই, রাজশাহীর মিষ্টি পান, রাজশাহী সিল্ক, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাতি আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আম, রংপুরের শতরঞ্জি, রংপুরের হাড়িভাঙা আম, দিনাজপুরের কাটারীভোগ, বাগেরহাটের বাগদা চিংড়ি, যশোরের খেজুর গুড়, চুয়াডাঙ্গার ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, ভোলার ইলিশ।

প্রতিবেদনে শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, উপরোক্ত তালিকায় উল্লেখিত পণ্যসমূহ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে পারে।




কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা কর্মশালা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উপকূলীয় এলাকার শহর উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জলবায়ু প্রতিরোধ (সিটিসিআরপি) প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুইশ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায় এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক— এডিবির অর্থায়নে এলজিইডি বিভাগ এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

এ লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে ও সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশ প্রণয়ন কর্মশালা করেছে এডিবি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা পৌরসভা অডিটোরিয়ামে ‘কুয়াকাটা খালের’ দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিকল্পনা বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরো পড়ুন : বিদেশি প্রকৌশলী নির্ভরতা কমাতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ

এ সময় পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মনির শরীফের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক মো. মাহফুজ রহমান, প্যানেল মেয়র-২ মো. শহিদ দেওয়ান, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান, পর্যটন উদ্যোক্তা হাসানুল ইকবাল, কাউন্সিলর তৈয়বুর রহমান, ফজলুল হক খান, আবুল হোসেন ফরাজী, মো. মজিবর রহমান, তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারী আজাদ প্রমুখ।

এছাড়াও পৌর এলার প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অর্ধশত মানুষ এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় প্রকল্প বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরবান ডিজাইনার ও এডিবির কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

কর্মশালায় প্রকল্পের ধারণাগত নকশা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে খোলামেলা মতামত গ্রহণ করা হয়। পর্যটকদের বিনোদনে এবং একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে এডিবির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ।

আরো পড়ুন : এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফল পটুয়াখালীর মিলন

কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে পর্যটকসহ স্থানীয়দের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে এমনটাই জানায় কুয়াকাটা পৌর কতৃপক্ষ।

খালের দুই পাড়ের এক্সেস রোড, ফুটব্রিজ, র‌্যাম্প, ওয়াকওয়ে, বোর্ডওয়াক, ৩টি ঘাট, বসার শেড, বোট রাইডিং, মাছ ধরার পয়েন্ট, ফ্লোটিং গার্ডেন, মার্কেট, রেস্তোরাঁ, আলোকসজ্জা, পাবলিক টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা, মানচিত্র, নিরাপত্তা ক্যামেরা, বৃক্ষরোপণ, ঝর্ণা, ফুটব্রিজ, খাল খননসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থান পেয়েছে প্রস্তাবিত এই নকশায়।

জলবায়ু সহনশীল সবুজ অবকাঠামো এবং প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে এমন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।