কুয়াকাটায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: “পর্যটন শান্তির সোপান” এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও কুয়াকাটা পৌরসভার যৌথ আয়োজনে পৌরসভা চত্তর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সৈকতে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে বীচ ক্লিনিং কার্যক্রম শেষে শোভাযাত্রাটি পর্যটন হলিডে হোমস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে পর্যটন ইয়ুথ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরিফীন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক কৌশিক আহমেদ, টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজওয়ানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক জুয়েল রানা, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসল্লী প্রমূখ।
এছাড়াও পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন, ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক), কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন (কুটুম), কুয়াকাটা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কুয়াকাটা বয়েস ক্লাব, হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন, ফিস ফ্রাই সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ট্যুরিস্ট বোর্ড মালিক সমিতি সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েকশত মানুষ শোভাযাত্রা ও রেলীতে অংশ নেয়।

সভা শেষে কুয়াকাটা পর্যটন ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। www.Kuakata.gov.bd নামক এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হোটেল মোটেল রিসোর্ট বুকিং সহ কুয়াকাটার নানা বিষয় জানতে পারবেন পর্যটক দর্শনার্থীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা কুয়াকাটা পর্যটন উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষা, সেবা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে আলোকপাত করেন। এ সময় সকল পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে যার যার স্থান থেকে সহযোগিতার আহবান জানান পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক।




সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে মেতেছেন কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নিম্নচাপের প্রভাব অনেকটা কেটে যাওয়ায় উত্তাল বঙ্গোপসাগর কিছুটা শান্ত রয়েছে। তবে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমেছেন আগত হাজার হাজার পর্যটক। ঢেউয়ের তালে তালে উন্মাদনায় মেতেছেন তারা। তবে তাদের নিরাপদে থাকতে মাইকিং করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে পর্যটকরা মেতেছেন ঢেউয়ের তালে গোসলে।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে উত্তাল ঢেউ উপভোগ করতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন হাজারও পর্যটকরা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তর-পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আকাশ আর ঘন মেঘাচ্ছন্ন নেই। বাতাসের চাপ কিছুটা কমেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে নদ-নদীর পানির উচ্চতাও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে উপকূলের আকাশে কালো মেঘ সরে গেছে। ভারী বর্ষণও নেই।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় বেশ কয়েকদিন সমুদ্র উত্তাল ছিল। আজ আকাশের মেঘ কেটে গেছে। তবুও আমরা পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি। উত্তাল ঢেউ পেয়ে অনেক পর্যটক গোসলে মেতেছেন। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের টিম টহলে রয়েছে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান বলেন, ‘বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ছিল আরও একদিন। তবে আজ বৃষ্টি নেই। সঙ্গে বাতাসের চাপ আরও কমেছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে সমুদ্রের অনেকটা শান্ত হয়েছে। সমুদ্র শান্ত থাকলেও পর্যটকদের গোসলে নামার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা এখনও অবলম্বন করতে বলা প্রয়োজন।




দুর্ঘটনার শঙ্কা ও সতর্কতার তোয়াক্কা না করে উত্তাল সমুদ্রে পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নিম্নচাপের কারণে উত্তাল হয়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর, চলছে টানা বর্ষণ। এ অবস্থায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গোসলে নামছেন পর্যটকরা। ঢেউয়ের তালে তালে মেতেছেন হাজারও পর্যটক। তবে তাদের নিরাপদে থাকতে মাইকিং করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে পর্যটকরা ঢেউয়ের তালে গোসলে মেতেছেন। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই উত্তাল ঢেউ উপভোগ করতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন হাজারো পর্যটকরা। তবে অনেক পর্যটক নির্দেশনা মেনে সৈকতের পাশে বসেই উপভোগ করছেন উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ। কিন্তু অধিকাংশ পর্যটকরা মানছেন না ট্যুরিস্ট পুলিশের নির্দেশনা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তর-পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। বাতাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে নদ-নদীর পানির উচ্চতাও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে উপকূলের আকাশে কালো মেঘ জমে আছে এবং পর্যায়ক্রমে চলছে ভারী বর্ষণ।

কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক সিফাত উল্লাহ বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গোসল করছি সমুদ্রে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে ঢেউ; বেশ আনন্দ করছি। তবে পুলিশ বার বার মাইকিং করায় এবং পানির স্রোত বেশি থাকায় সৈকতের খুব কাছ থেকেই গোসল করছি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র উত্তাল। তাই পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি। উত্তাল ঢেউ পেয়ে অনেক পর্যটক গোসলে মেতেছেন। এজন্য মাইকিং করছি বারবার। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের টিম টহলে রয়েছে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে আরও একদিন। সঙ্গে বাতাসের চাপ আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আজ ও কাল পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে পর্যটকদের সমুদ্রে গোসলে নামার বিষয়য়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।




পটুয়াখালীর রাঙাবালী হবে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::

অবস্থানঃ পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিনে বঙ্গোপসাগরের পাদদেশে উত্তরে চালিতাবুনিয়া নদী, আগুনমূখা নদী ও চর বিশ্বাস, পশ্চিমে রামনাবাদ চ্যানেল ও কলাপাড়া উপজেলা পূর্বে চর ফ্যাশন উপজেলার চর কুররী- মুকরী এবং দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর।

উপজেলার নামকরনঃ রাঙ্গাবালী উপজেলার নামকরনের সঠিক ইতহাস জানা যায়নি। তবে কথিত আছে যে, সাগর বক্ষে নতুন বালুচর সৃষ্টির ফলে কালের বিবর্তনে এই বালুচরের বালু লাল ছিল। এই ‘‘লাল’’ শব্দটি আঞ্চলিক ভাষায় রাঙ্গা নামে পরিচিত। এ থেকে রাঙ্গাবালি নামের উৎপত্তি।

ইতিহাসবেত্তাগন জানান ১৭৮৪ সালে কতিপয় রাকাইন জনগোষ্ঠী আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। তখন থেকে এতদঞ্চলে জনবসতি শুরু হয়।

উপজেলার উৎপত্তিঃ ৭ জুন ২০১১ তারিখে নিকারের (ন্যাশনাল ইপপ্লিমেন্টেশন কমিটি ফর এ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্ম ) ১০৫তম সভায় রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রশাসনিক অনুমোদন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন ২০১১ তারিখে বাংলাদেশ গেজেট প্রকাশিত হয়।

সাগর কন্যা খ্যাত পটুয়াখালী সাগর পাড়ের উপজেলা রাঙ্গাবালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত কিছু উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানঃ

১। সোনার চর দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকতঃ পটুয়াখালীর সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে আছে সোনার চর। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের মোহনায় বঙ্গোপসাগরে সোনার চর দ্বীপটির অবস্থান। সোনার চর পূর্ব-পশ্চিমে ৪ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে আড়াই কিলোমিটার। মোট আয়তন ১০ বর্গকিলোমিটার। গোটা দ্বীপটি যেন সাজানো-গোছানো এক বনভূমি। রয়েছে কেওড়া, সুন্দরী, গড়ান, হেঁতাল, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। নিভৃত সোনার চরে শুধু নানান ধরনের বৃক্ষের সমাহারই নয়, রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীও। হরিণ, শিয়াল, মহিষ, বন্য শুয়োর, বানর এ বনের বাসিন্দা। রয়েছে চার কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত। নগরের কর্মচাঞ্চল্য থেকে বহুদূরে এই সৈকতের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এখনো অনেকের কাছে অজানা।

একই স্থানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় যা বিশ্বে বিরল। এ অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বন মৌ চাষীদের মধু আহরণের অভয়ারণ্য।

২। চর হেয়ার দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকতঃ সোনার চর সংলগ্ন মাত্র ০২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে রয়েছে চর হেয়ার সমুদ্র সৈকত ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রায় ৪.৬ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপের ০৩ কিঃ মিঃ দীর্ঘ এ সমুদ্র সৈকত একেবারেই দক্ষিনের বঙ্গোপসাগর মুখি। ছোট বড় অসংখ্য লাল কাকড়ার অভয়ারণ্যের এই দ্বীপের অন্যতম বিশেষ দিক হলো একই স্থানে দাড়িয়ে সুর্যাস্ত ও সুর্যোদয় দেখা যায়।

৩। জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত : উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে জাহাজমারা সৈকত। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সবুজ বন। গাঁয়ের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে শোভাযাত্রার মতো মনে হচ্ছিল আমাদের মোটরসাইকেলের মিছিল! আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন ওখানকার স্থানীয় কয়েকজন সহকর্মী। জাহাজমারা সৈকতে সারি সারি ঝাউবন আর পাখ-পাখালির কলরবে মুখরিত পরিবেশ। চিকচিকে বালুতে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি আর সাদা ঝিনুকের সমারোহ। দেখা মিলবে পাতি তিসাবাজ, সাদা কলার্ড মাছরাঙা, পানকৌড়ি, সাদা বক, খেকশিয়ালসহ নানা ধরনের পাখ-পাখালি আর বন্যপ্রাণী।

৪। দ্বীপ তুফানিয়াঃ জাহাজ মারা সমুদ্র সৈকতের সামান্য দক্ষিনেই রয়েছে চর তুফানিয়া দ্বীপ।চারদিকে নদী ও সাগর, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ বনাঞ্চলে সৃষ্ট এই দ্বীপ। প্রায় চার কিলোমিটার সমুদ্রতট ঘিরে রয়েছে বিশাল ঝাউবাগান। সেখানেও প্রায় ১ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সৈকত। দেখা মিলবে পাতি তিসাবাজ, সাদা কলার্ড মাছরাঙা, পানকৌড়ি, সাদা বক, খেকশিয়ালসহ নানা ধরনের পাখ-পাখালি আর বন্যপ্রাণী।সাগর ও নদীর তীরে অবস্থিত সহজ সরল মানুষ এর বসবাস যারা আপ্যায়ন ও আন্তরিক। রাঙাবালী সদরে সল্প খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ।




সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের একমাস পর স্বরূপে ফিরেছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে ছাত্র আন্দোলনের সময় পর্যটকশূন্য ছিল কুয়াকাটা। এখন পর্যটক বাড়ছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিকি সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোর অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, নানা বয়সের হাজারো পর্যটক সাগর তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করে নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছেন। রোদ ও মেঘের প্রকৃতিতে সমুদ্রের নোনা পানিতে গা ভাসিয়ে ভ্যাপসা গরমে একটু প্রশান্তির পরশ নিতে দেখা গেছে অনেককে। কেউ কেউ ওয়াটার বাইকে গভীর সমুদ্রে গিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বয়স্ক পর্যটকরা সৈকতের ছাতার নিচে বেঞ্চ-এ বসে সমুদ্রের তীরে আছড়েপড়া ঢেউ উপভোগ করছেন। নানা বয়সের পর্যটক সৈকতের বালিয়াড়িতে ভেজা বালু দিয়ে পিরামিড তৈরি করে নিজেকে বন্দী করছেন ক্যামেরার ফ্রেমে।

সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকার পাশাপাশি রাখাইন পল্লি, রাখাইন মহিলা মার্কেট, শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতির লেক, গঙ্গামতির চর, কাউয়ার চর, লাল কাকড়ার চর, লেম্বুরবন, আন্ধারনামিক নদীর মোহনা, ফরাতারবনসহ দর্শনীয় স্পটগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছেন মনের আনন্দে হাজারো পর্যটক। ঝিনুক মার্কেট, খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠাগুলোতে বেচা কেনাও রয়েছে চোখে পড়ার মতো।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওন এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবগুলো স্পটে নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।




অনুমতি ছাড়া সেন্টমার্টিনে যেতে পারবে না পর্যটকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় অনেকগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটক সীমিত করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন বা অনুমতি ছাড়া কোনো পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবে না।

 বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে কনসালটেশন সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। ইউনিডোর সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর এই সেমিনারের আয়োজন করে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের বিষয়ে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এটার জন্য জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। দেশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ  করছি l




সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলছে আজ 




বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন : শেখ মুজিব ছাড়াও বিশ্বে যে ক্ষমতাবানদের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার এবং জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছে গোটা বিশ্ব। তবে বাংলাদেশে যে চিত্র দেখা গিয়েছে তা বিরল নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সেই সমস্ত ব্যক্তিত্বদের ভাস্কর্য বা মূর্তিকে এভাবে নিশানা করা হয়েছে যাদের কোনো এক যুগে সেখানকার মানুষ অত্যন্ত সম্মান করতেন বা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর মানুষজনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে তাদের ভাস্কর্য বা মূর্তির ওপরে।

ইউক্রেনে ভূলুণ্ঠিত লেনিনের মূর্তি

২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের খারকিভে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী ভ্লাদিমির লেনিনের একটা মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে মাটিতে ফেলে দেয়। এই পুরো কাজটা করতে তাদের সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই মূর্তি যার নকশা করেছিলেন আলেকজান্ডার সিডোরেঙ্কো।

লেনিনের মূর্তি ভেঙে ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়ার পর সেখানে জড়ো হওয়া জনতা মূর্তির টুকরোগুলো স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করতে শুরু করে। সেখানে ইউক্রেনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপরই শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া।

ইথিওপিয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি

লেনিনের ভাস্কর্যের অনুরূপ পরিণতি দেখা গিয়েছে ইথিওপিয়ায়। সেখানকার রাজধানী আদিস আবাবার পৌরসভার একটা গ্যারেজে রুশ নেতা লেনিনের একটা মূর্তি রয়েছে। পিঠের ওপর ভর করে পড়ে আছে সেই মূর্তি। তার চারপাশে অসংখ্য মাকড়সার জাল আর পেট্রোলের খালি করা পিপে। খুব কম মানুষই সেই মূর্তি দেখতে আসেন। আর যারা আসেন তাদের সেখানে উপস্থিত কর্মীরা লেনিনকে ‘না জাগানোর’ জন্য সতর্ক করেন।

প্রসঙ্গত, লেনিনের এই মূর্তি শুধু বড়ই নয়, ভারীও। সেটা টেনে নামাতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। দড়ি বেঁধে এই মূর্তিকে সরানো সম্ভব হয়নি। এই মূর্তিকে তার জায়গা থেকে সরানোর জন্য যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বারেবারে ভেঙে ফেলা হয়েছে লেনিনের মূর্তি। ঠিক একই চিত্র দেখা গিয়েছিল আলবেনিয়ায়। সেখানে ৪০ বছর ধরে ওই দেশ শাসন করা এনভার হোক্সার বেশ কয়েকটা মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়।

ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা

১৯৯১ সালে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকে উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মস্কোর লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম গুপ্ত পুলিশ সংস্থা ‘চেকা’র প্রতিষ্ঠাতা ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। কমিটি অফ স্টেট সিকিউরিটি যার রুশ ভাষায় সংক্ষিপ্তকরণ ‘কেজিবি’, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

১৯৯১ সালের ২২ আগস্টের সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে অবস্থিত কেজিবি ভবনের সামনে জড়ো হয়। তারা জেরনস্কির মূর্তির গায়ে লিখে দেন ‘খুনি’। সেখানে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা মূর্তির উপরে উঠে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূর্তিকে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে টান দিয়ে উপড়ে ফেলা। কিন্তু পার্শ্ববর্তী লুবিয়ানকা মেট্রো স্টেশনের ইমারতের পক্ষে তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় মস্কো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান সের্গেই স্টানকেভিচ উপস্থিত জনতাকে জানান তিনি নিজেই মূর্তিটি অপসারণে নেতৃত্ব দেবেন। এরপর ক্রেনের সাহায্যে সেখান থেকে ওই মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। সেই মূর্তির স্থান হয় ‘ফলেন মনুমেন্ট পার্কে’।

তৃতীয় জর্জের লোহার মূর্তি ভেঙে বুলেট

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিউইয়র্কে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের একটা লোহার মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল আমেরিকানরা এই মূর্তিকে ব্রিটিশ অত্যাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করতেন। এই মূর্তি শুধুমাত্র ভেঙে ফেলাই হয়নি তারপর সেটা গলিয়ে ৪২০০০ বুলেটও বানানো হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে সেই বুলেটই ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে।

ব্রিটেনের অনুগত কিছু ব্যক্তি অবশ্য ভেঙে ফেলা সেই মূর্তির কিছু অংশ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। মূর্তির ভাঙা অংশ তাদের মাটিতে পুঁতে ফেলেন। আজও খননকার্যের সময় সেই মূর্তির কিছু অংশ বেরিয়ে আসে।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি

১৯৪৫ সালে ইতালির স্বৈরশাসক মুসোলিনির পতন হয়। সেই সময় তার মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা গিয়েছিল। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার কিছু সমর্থক এবং তার বান্ধবী ক্লারা পিটাচিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একটা ভ্যানে করে তাদের মৃতদেহ মিলানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটা খুঁটি থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাদের দেহগুলো। এরপর শুরু হয় মুসোলিনির মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া। স্বৈরাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হওয়া সমস্ত স্মারক, ভবন এবং মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক মাস ধরে চলেছিল এই একই প্রক্রিয়া।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা যায়।

সরানো হয় পঞ্চম জর্জের মূর্তি

১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন দিল্লির অনেক জায়গায় ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তা ব্যক্তিদের মূর্তি ছিল। এই মূর্তিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটা যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং কিছু স্থানান্তরিত করা হয় দিল্লিতে। উত্তর দিল্লির করোনেশন পার্কে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল সেই মূর্তিগুলো। যে কয়টা মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে পঞ্চম জর্জের মূর্তি। ৭০ ফুট উঁচু ছিল এই মূর্তি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কিন্তু ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের মূর্তি তার পুরানো জায়গাতেই ছিল। কিন্তু পরে বিবেচনা করে স্থির করা হয়, দিল্লির এমন এক বিশিষ্ট স্থানে এই মূর্তি থাকার কোনও যুক্তি নেই। তাই তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চম জর্জের মূর্তি ধ্বংস করা হয়নি বরং রাখা হয়েছিল ঠিক সেই স্থানে যেখানে ১৯১১ সালে তিনি দিল্লি দরবারে গিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া গেটের কাছে যেখানে পঞ্চম জর্জের মূর্তি আগে রাখা ছিল, সেখানেই ২০২২ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসানো হয়।




বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। সাগরের পানিতে গোসলে নেমে আনন্দ-উল্লাসে সময় পার করছেন তারা। এক মাস পর সৈকতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে কুয়াকাট সমুদ্র সৈকতে। সাগরের বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকততীরে। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেছেন পর্যটকরা। কেউ গোসলে, কেউবা স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে মুঠোফোনে ব্যস্ত।

একই সঙ্গে কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠেছে সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত এক মাসের বেশি সময় চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে যেন প্রাণ ফিরেছে প্রতিটি স্পটে। ব্যস্ততা বেড়েছে ফটোগ্রাফার ও ট্যুর গাইডসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত সপ্তাহে কাজে যোগ দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। পর্যটন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অন্যদিকে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত এক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা ব্যবসায়ীদের।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘পর্যটকরা আগের মতোই কুয়াকাটায় আসবে বলে প্রত্যাশা করি। সেই সঙ্গে আমরাও পর্যটন সেবা নিশ্চিত করবো।’

কুয়াকাটা জোনের পুলিশ সুপার মো. আনসার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

দর্শনার্থীদের জন্য সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে।




কুয়াকাটায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সৈকত এখন সুনসান-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। মাসখানেক ধরে চলা সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে সব কর্মকাণ্ড। অলস সময় পার করছেন পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ীরা। পুরো সৈকতে চলছে নীরবতা। এ নিয়ে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫শ কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান আন্দোলনে পর্যটক না থাকায় অলস সময় পার করছে তারা। অধিকাংশ হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এমন খারাপ পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না হোটেল ব্যবসায়ী।

সি গোল্ড রিসোর্টের কর্মচারী মো. জিসান বলেন, অবসর সময় কাটাচ্ছি। মাসখানেক ধরেই কোনো পর্যটকদের আনাগোনা নেই। ফলে অলস সময় পার করছি।

আবাসিক হোটেল কানসাই ইন’র ব্যবস্থাপক ফরাজি মো. জুয়েল বলেন, কোনো পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় অনেক আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট বন্ধ হয়েছে। সামনে এমন হলে বাকিরাও বন্ধ করে দেবে। ফলে এরইমধ্যে অনেকে ছুটিতে আছে বাকিরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন।

ক্যামেরা পারসন মো. মাসুদ বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। গত কয়েকদিনে ডেইলি ১০০ টাকাও রোজগার হয় না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো, মাস গেলে বাড়ি ভাড়া দিয়া টিকে থাকা এখন কষ্ট হচ্ছে। এটা থেকে মুক্তি চাই, না হয় না খেয়ে মারা যেতে হবে।

সৈকতে চা বিক্রেতা আলতাফ বলেন, মানুষ এমন দূরাবস্থা দেখে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এমন সংকট আমরা চাই না।

হোটেল গোল্ডেন ইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম জহির জানান, আমরা সবার আগে ধাক্কা খাই। এটাতে কাটতে সময় লাগে অনেকদিন। এখন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান না হলে এ সংকট কবে কাটবে তা বলা মুসকিল। আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লোয়ি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, আমাদের দিনগুলো কষ্টে কাটছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। এমন চলতে থাকলে বাকি কর্মচারীরাও চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকবে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরিফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট দূর না হলে আমরা পথে বসে যাব।