হোটেলে রুম না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পর্যটকের ঢল নেমেছে কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে। শারদীয় দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লাখো পর্যটকের পদচারণায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়েছে কুয়াকাটা, যা সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত।

তবে, অনেক পর্যটক হোটেলে রুম না পেয়ে লাগেজ বা ব্যাগ নিয়ে বালিয়াড়িতে অবস্থান করছেন। কিছু পর্যটক সড়কে পায়চারী করে সময় কাটাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন, রুম না পেয়ে কুয়াকাটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, বালিয়াড়িতে পর্যটকদের ভিড়। নীল জলরাশির সামনে সবাই বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন।

আরো পড়ুন : দুর্গা পূজার ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত সারকন্যা কুয়াকাটা

খুলনা থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ হাসান বলেন, “সকালে বাস থেকে নামার পর হোটেল খুঁজে পাইনি। একটি কটেজে রুম পেয়েছি, কিন্তু সেটির ভাড়া অনেক বেশি।” রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মারুফ হোসেন বলেন, “অনেক হোটেলে গিয়েছি, কিন্তু কোথাও রুম পায়নি। এখন বালিয়াড়িতে লাগেজ নিয়ে বসে আছি। যদি রুম পাই, তাহলে থাকব, নাহলে রাতের গাড়িতে ফিরব।”

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, “হঠাৎ করে এখানে অনেক পর্যটক বেড়েছে, যা আনন্দের বিষয়। তবে কিছু পর্যটক হোটেলের রুম না পেয়ে বাসাবাড়িতে বা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।”

আবাসিক হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, “দুর্গাপূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক এসেছেন। আমাদের কাছে যোগাযোগ করলে আমরা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পাঠিয়েছি, কিন্তু অনেক পর্যটক বাসাবাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করে ফিরে গেছেন।”

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক আ. খালেক কালবেলা বলেন, “আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমাদের ৫টি টিম কাজ করছে। যদি কোনো পর্যটক রুম না পায়, আমাদের কাছে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।”




দুর্গা পূজার ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত সারকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্গাপূজার ছুটিতে হাজারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এখন সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। নোনা জলে নেচে-গেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছে পর্যটকরা।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকে মুখরিত সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। দীর্ঘ সময় পরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার আভাস মেলে পর্যটকদের উচ্ছ্বাসে। প্রতি বছর এই সময় সমুদ্র সৈকতে তেমন ভিড় না থাকলেও এবার দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষ্যে পর্যটকদের মেলা বসেছে সৈকতে।

কুমিল্লা থেকে ঘুরতে আসা সাইমা ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই সৈকতের নোনা জলে গা ভাসিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ করেছি আমরা। খুবই ভালো লাগছে। অনেক দিন ধরে দেশের পরিস্থিতির কারণে যাওয়া হয়নি কোথাও।

যশোর থেকে পরিবারসহ ঘুরতে আসা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, অনেক দিন থেকেই ভাবছি কোথাও ঘুরতে যাবো। কিন্তু যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এখন যেন আকাশে-বাতাসে স্বস্তি। তাই পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সমুদ্রকে অন্য রকম লাগছে।

আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। দক্ষিণের নির্মল বাতাস, সাগরের নীল জলরাশি। এমন পরিবেশে অনেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে সৈকতে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতি। ওয়াটার বাইক, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ায় চড়ে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে অনেক পর্যটকদের।

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, টানা ছুটিকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন পরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার পরে কুয়াকাটায় অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়েছে। এতোদিনে আমরা কিছু ব্যবসা করতে পারছি। পর্যটকদের এমন ভিড় অনেক দিন দেখা হয় না।

আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে তৎপর কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটকের আগমন হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হয় এজন্য আমরা সর্বদা মনিটরিং করছি।

উল্লেখ্য, কুয়াকাটায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে ছোট বড় মিলে প্রায় দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে।

আরো পড়ুন : পূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে পর্যটক



পূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে পর্যটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বর্ষা মৌসুম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ ৩ মাস খুব কম সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে কুয়াকাটায়। তবে এবার দুর্গাপূজার ৪ দিনের ছুটি উপলক্ষে ইতোমধ্যেই কুয়াকাটা সৈকতে আসতে শুরু করেছেন পর্যটক।

ব্যবসায়ীদের আশা পূজা উপলক্ষে লাখ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে কুয়াকাটায়। শুক্রবার এবং শনিবার লক্ষাধিক পর্যটক আগমনের আশা করছে ব্যবসায়ীরা।

এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সৈকত সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল বুধবার বিকাল থেকেই পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আগতরা সৈকতে বালিয়াড়িতে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন। অনেকে আবার প্রিয়জনকে নিয়ে ছবি তুলছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। মোটকথা সমুদ্রের মোহনীয় গর্জন ও সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিমোহিত করেছে পর্যটকদের। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বেচাকেনাও বাড়তে শুরু করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে ৮০ ভাগ হোটেল মোটেলের কক্ষ।

বাকেরগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক গৌতম মন্ডল বলেন, আমরা পরিবারের সবাই গতকাল বিকালে এখানে এসেছি। এখানের পরিবেশটা বেশ দারুণ লাগছে। সৈকতের পাড়েই মন্দির থাকায় সন্ধ্যায় দুর্গা মাকেও দর্শন করেছি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা পর্যটক দম্পতি নীলয়-উদিতা রানী জানান, আমরা দু’জনেই সরকারি চাকরি করি। তাই ৪ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করেই মূলত কুয়াকাটায় আসা। এখানের পরিবেশটা বেশ ভালোই লাগছে। বাচ্চারা বেশ দারুণ উপভোগ করছে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, বুধবার বিকালেই অনেক পর্যটক এসেছে। আমাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি আজকের মধ্যে শতভাগ রুম বুকিং হয়ে যাবে। তেমন সাড়াও পাচ্ছেন হোটেল মালিকরা।

কুয়াকাট ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মাহফুজ আলম জানান, যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। আশা করছি পর্যটকরা নিরাপদে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।




শারদীয় ছুটিতে ব্যস্ত কুয়াকাটা : ৫০ শতাংশ হোটেল অগ্রীম বুকিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা শারদীয় দূর্ঘা পুজা উপলক্ষে ১০-১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ দিন সরকারি ছুটিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অগ্রীম রুম বুকিং হয়েছে হোটেল রিসোর্টগুলোতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় গত ৫ অক্টোবর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরে পর্যটন নগরী শূন্য হয়ে পরে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে পর্যটকও কিছুটা বাড়তে থাকে। হিন্দু ধর্মের এই বড় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণীর হোটেল ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলো ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দিবা গতো রাতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাখিমারা থেকে আলিপুর থ্রি পয়েন্ট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তা খুবই খারাপ। রাস্তাটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হলেও মাত্র ১ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে বাকি কাজ অসমাপ্ত থাকায় আশানুরূপ পর্যটক না হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, চলতি বছরের মে মাস থেকে হোটেল সেক্টরে লোকসান, তবে এই পূজা উপলক্ষে শুক্রবার -শনিবার ৫০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে।

শিকদার রিসর্টের এজিএম আল-আমিন জানান, আগামী চারদিনের ছুটিকে সামনে রেখে দুইদিনের জন্য আমাদের হোটেলের রুমগুলো ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। বাকি দিনগুলো আশানুরুপ বুকিং হয়নি।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটায় সর্বমোট ২০০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে তার মধ্যে আগামি ১০-১৩ তারিখের পর্যটকদের বেশ সারা পাওয়া যাচ্ছে ।

কুয়াকাটা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, পূজা উপলক্ষে বুকিং এর সারা বেশ ভালোই আছে তবে বরাবরের ন্যায় আমরা ৪০শতাংশ ডিসকাউন্ট দিয়েছি। সমুদ্র সৈকত উপভোগে আসা বিশ-ত্রিশ হাজার পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে বর্তমানে । তবে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরও প্রতিনিয়ত আসতে শুরু করেছে কুয়াকাটায়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে । যে কারনে বরিশাল থেকে আসা অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ট্যুরিষ্ট পুলিশ যথাযথ তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজড়দারি ও মাইকিংসহ পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।




‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে শিগগিরই’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটকদের ভ্রমণে বিরত থাকার যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা শিগগিরই তুলে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টারে সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে তিনি দীঘিনালায় ১৯ সেপ্টেম্বর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সম্প্রতি দীঘিনালার লারমা স্কয়ারের সহিংসতার ঘটনায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা, ভাঙচুরে শিকার হওয়াদের ২০ হাজার এবং নিহত এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা দেয়ার পাশাপাশি খাদ্যশস্য সহায়তা দেয়া হয়।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব কংকন চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. আরিফিন জুয়েল ও দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ পাহাড়ি বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দরা সঙ্গে ছিলেন।




ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী এমপিরা পর্যটন উন্নয়নে কোন কাজ করেনি – সেলিমা রহমান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিমা রহমান বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে সাংগঠনিক সফর শেষে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভূমি সাগর-কন্যা কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসেছেন। শুক্রবার শেষ বিকেলে তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এই প্রথম আসেন।

কুয়াকাটা সফরে এসে বেগম সেলিমা রহমান স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাতকালে আক্ষেপ করে বলেন, কুয়াকাটার প্রবেশ মুখে ১১ কিলোমিটার রাস্তা খুবই খারাপ। অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। আসতে খুবই কষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের মত এত সুন্দর একটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে আমাদের। আর সেই সৈকতের অব্যবস্থাপনা দেখে আমি হতাশ হয়েছি। সবকিছু অগোছালো। মনে হয় এখানে কোন অভিভাবক ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু উন্নয়ন উন্নয়ন বলে দেশবাসীর কান ঝালাফালা করে ফেলেছে। এই সেই উন্নয়নের চিত্র।

তিনি আরো বলেন, সূর্যোদয় সূর্যাস্তের মত বিরল দৃশ্য একমাত্র কুয়াকাটা থেকেই দেখা যায়। এমন একটি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের আসতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আওয়ামী ফ্যসিস্ট সরকারের পর্যটন মন্ত্রী সহ এমপি মন্ত্রীরা পর্যটন উন্নয়নে কোন কাজই করেনি। শুধু লুটপাটে ব্যস্ত ছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কুয়াকাটাকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পর্যটকরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কুয়াকাটা আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।

এসময় তার সাথে ছিলেন, বিএনপির উপদেষ্টা লুশনেয়ারা লুনা, বিএনপি মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক সুলতানা আকতার শিরিন, বরিশাল জেলা যুবদল নেতা ওয়ালি উল্লা খান পারভেজ, বরিশাল বাবুগজ্ঞ উপজেলা যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক মো: রিয়াজ হোসেন সহ অসংখ্য নেতাকর্মী তার সফর সঙ্গী হিসেবে এসেছে।




সরকারি জমিতে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট : আতঙ্কে ব্যবসায়ী-পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নামার ঠিক আগমুহূর্তে বেড়িবাঁধ অতিক্রম করতেই রাস্তার দুপাশে নজরে পড়বে জরাজীর্ণ এলোমেলো এবং ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক টিনশেড ছোট-বড় মার্কেট ও দোকানপাট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সরদার মার্কেট নামের একটি দোতলা টিনশেড মার্কেট। এ মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানপাট এবং দোতলায় একপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক হোটেল এবং অন্য পাশে রয়েছে দুটি রেস্টুরেন্ট।

পরিবেশকর্মী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, জরাজীর্ণ এলোমেলো এই টিনশেড ঘরগুলো সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি আগত পর্যটকরাও রয়েছে নানা ঝুঁকিতে। এগুলো অপসারণ করে সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ পর্যটকবান্ধব করার জোর দাবি জানান তারা। এদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে সরকারি খাসজমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট, অচিরেই করা হবে অপসারণ।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পাশে সরজমিনে দেখা যায়, সৈকত লাগোয়া প্রায় এক একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে সরদার মার্কেট নামের একটি বিশাল দোতলা টিনশেড মার্কেট। মার্কেটটিতে ঢুকতেই চোখে পড়বে লোহার এঙ্গেল, বাঁশ, কাঠসহ নানা যন্ত্রাংশের ওপর দাঁড়িয়ে আছে টিনশেড এই মার্কেটটি। বিদ্যুতের এলোমেলো লাইনগুলো দেখলে মনে হয়, এটি যেন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। দোতলায় থাকা আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ময়লা পানি সব সময়ই পড়ছে নিচে মার্কেটে আসা পর্যটকদের গায়ে। এমনকি টয়লেটের এলোমেলো পাইপগুলো ফেটে বিভিন্ন জায়গা থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ ও ময়লা।

অবাক করার বিষয় হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এই মার্কেটটিতে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতেই চোখে পড়বে সুন্দর একটি রেস্টুরেন্টের। হঠাৎ দেখলে যে কেউ মনে করবে এটি যেন বিলাসবহুল হোটেল বা রিসোর্টের কোনো রেস্টুরেন্ট। প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে খেতে পারে এখানে। এই রেস্টুরেন্টের মেঝেতে বসানো হয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের নান্দনিক টাইলস। এই টাইলসগুলো মূলত কাঠের সিলিংয়ের ওপর ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে দুই ইঞ্চি পরিমাণ ঢালাই করে এই টাইলসগুলো বসানো হয়েছে। এদিকে দোতলার আর একটু পেছনে গেলেই চোখে পড়বে আবাসিক হোটেল নির্মাণের মহা কর্মব্যস্ততা। যেখানে চলছে লোহার অ্যাঙ্গেলে ঝালাইয়ের মাধ্যমে জোড়াতালির কাজ। এদিকে মার্কেটের মূল স্তম্ভের খুঁটিগুলো অধিকাংশই ভেঙে দুর্বল হয়ে গেছে। মূলত সমুদ্রে জোয়ার এলে সেই ঢেউয়ের পানি মার্কেটের নিচে সরাসরি আঘাত করে। এভাবে সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে মার্কেটের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের খুঁটিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় আবাসিক হোটেল নির্মাণে কাজ করা ঝালাইমিস্ত্রি মনু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, লোহার খুঁটি এবং কাঠের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে পুরো মার্কেট তৈরির জন্য। মার্কেটটি দোতলা করতে প্রতি ছয় ফুট পর পর লোহার অ্যাঙ্গেল এবং লোহার বক্স ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর সেই লোহার অ্যাঙ্গেলের ওপর কাঠ বিছিয়ে ঢালাই দিয়ে টাইলস বসানো হয়েছে। মূলত মার্কেটের দোতলায় পেছনের দিকে আবাসিক রুম তৈরি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মার্কেটের দোতলায় থাকা রেস্টুরেন্ট মালিক নুরুজ্জামান নুরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি নিজেই মার্কেটের এলোমেলো বিদ্যুতের তারগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছি। এটা আসলেই খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আমি মার্কেটের অন্যান্য দোকানদারদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি নিজে মার্কেট মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি যেন বিদ্যুতের এলোমেলো তারগুলো ঠিক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মার্কেটটির দোতলায় হাঁটার সময় একটু দোলে কিন্তু ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ।

মার্কেটের বার্মিজ আচার ব্যবসায়ী মো. রাসেল বলেন, মাঝেমধ্যে এত পরিমাণ দুর্গন্ধ আসে যে পর্যটক দোকানে এলে দাঁড়াতে পারে না। আর যদি পর্যটক দোকানে না দাঁড়ায় তাহলে আমাদের বেচাকেনা হয় না। তার থেকেও বড় সমস্যা হচ্ছে প্রায় সময়ই উপরের রেস্টুরেন্ট এবং বাথরুমের পাইপ থেকে ময়লা পানি পড়ে। এই বিষয়গুলো আমরা মালিককে একাধিকবার জানালেও এখন পর্যন্ত ঠিক করে দিচ্ছে না।

মার্কেটের আরেক ঝিনুক সামগ্রী ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, বিগত চার বছর আগে একবার এই মার্কেটে আগুন লেগেছিল, তখন অধিকাংশ দোকান এবং দোকানের মালামাল পুড়ে গিয়েছিল। গত এক বছরে ৪ থেকে ৫ বার শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুন লেগেছে এই মার্কেটে। প্রতিবারই মার্কেট ব্যবসায়ীরা নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন আমাদের একটাই দাবি আমরা যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছি, তারা যেন নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারি।

পাবনা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি পরিবার নিয়ে এই মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছি। কিন্তু এই মার্কেটটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। লোহার অ্যাঙ্গেল এবং কাঠের ওপর এত বড় একটি মার্কেট তৈরি করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। পর্যটকরা আতঙ্ক নিয়ে কেন একটি মার্কেটে অবস্থান করবে। একজন পর্যটক হিসেবে আমার দাবি হচ্ছে এগুলো ভেঙে সরকারিভাবে যেন সুন্দর মার্কেট তৈরি করা হয়।

তবে এ বিষয়ে সরদার মার্কেটের মালিক সাজেদুল ইসলাম হিরু বলেন, এই মার্কেটটি কোনো ভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও যদি উপজেলা প্রশাসন এবং কুয়াকাটা পৌর প্রশাসন বলে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ তাহলে আমি মার্কেট ভেঙে সরিয়ে নেব।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক কৌশিক আহমেদ বলেন, মার্কেটগুলো আমরা দেখেছি, জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা আইন অনুযায়ী সমুদ্র সৈকতে যে দুর্গটা আছে, সে অনুযায়ী আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। আর এই মার্কেটগুলোতে পৌরসভার পক্ষ থেকে অচিরেই আবার পরিদর্শন করা হবে। পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার টিম রয়েছে তারা যদি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হলে পর্যটকদের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হবে এবং ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয় চলে যেতে অনুরোধ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সৈকতের পাশে থাকা এই সমস্ত মার্কেটগুলো একে তো ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে সৈকত এলাকার পরিবেশও নষ্ট করছে। মার্কেটের সম্পূর্ণ জমি সরকারি সম্পত্তি। সকল রেকর্ডে এগুলো সরকারের খাসজমি। এখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মামলা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই জায়গাগুলো অপসারণ এবং মার্কেটগুলো উচ্ছেদ করতে পারছি না। তবে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে মামলাগুলো চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে খুব দ্রুত এগুলো অপসারণ করে কুয়াকাটা সৈকতের পরিবেশ সুন্দর করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, সামনে যেহেতু দুর্যোগকালীন মাস নভেম্বর-ডিসেম্বর আসছে, সেহেতু ঘূর্ণিঝড় হলে এই মার্কেটে প্রাণহানির সম্ভাবনা আছে।




সৌন্দর্য হারাচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালীতে অবস্থিত দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকে উপভোগ করার জন্য প্রতিবছরই লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে এ সৈকতে। তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে এ সৈকতটির।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিবছরের মতো এ বছরও সমুদ্রের ঢেউয়ের ঝাপটায় সৈকতের বালুক্ষয় হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কিছু স্থাপনা। দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে সৈকত।

বালুক্ষয় রোধে স্থায়ী সমাধান না খুঁজে প্রতিবছর জরুরি মেরামত প্রকল্প নিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর এ প্রকল্পের বালুভর্তি জিওটিউব ও জিওব্যাগ সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। সৈকতের জিরো পয়েন্টের দু’পাশে দুই কিলোমিটার এলাকা এখন জিওটিউব ও জিওব্যাগের দখলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা বালুভর্তি এসব জিওব্যাগে শ্যাওলা ধরছে। প্রতিনিয়ত পা পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন আগত পর্যটকরা। এমনকি সমুদ্রে গোসল করতে নেমে আহত হচ্ছেন সমুদ্রপ্রেমীরা। পর্যটকদের জন্য বিরক্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে ব্যাপক সম্ভাবনাময় এই সৈকতে। তাই যেখানে-সেখানে পড়ে থাকা জিওটিউব ও জিওব্যাগ দ্রুত অপসারণের দাবি স্থানীয়সহ পর্যটকদের। আর সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট ইমতিয়াজ রুমান তুষার বলেন, বর্তমান সৈকতের যে দূরাবস্থা এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একদিকে অপরিকল্পিত জিও ব্যাগগুলো ছড়ানো ছিটানো, অন্যদিকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের দুর্ভোগ, সব মিলিয়ে এ অব্যবস্থাপনা দূর করতে না পারলে এবং সুপরিকল্পিতভাবে সাজাতে না পারলে কুয়াকাটার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অপার সম্ভাবনাময় এ সৈকত থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবে।

ফরিদপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক দম্পতি ( আশিক – আমরিন ) বলেন, আমরা তো এরকম সৈকত চাই না, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য সৈকতে আসা। এসে দেখি এখানে জীর্ন-শীর্ন জিও ব্যাগগুলো শ্যাওলা ধরা, হাঁটা যাচ্ছে না। আমার ছোট ছেলে পায়ে ব্যথা পেয়েছে। ঘুরতে এসে যদি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তাহলে ঘুরতে এসে কি লাভ?

সৈকতের পুরানো, জীর্ণ শীর্ণ, ছেঁড়া, শ্যাওলা ধরা জিওব্যাগ অপসারণের পক্ষে মত দিয়ে কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বালুর বস্তাগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। আমি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে সৈকত পরিদর্শন করেছি। জিও ব্যাগগুলো অপসারণ করলে সৈকতের কোনো ক্ষতি হবে কি না, সে বিষয়ে যাচাই বাছাই চলছে। তাদের মতামত পেলেই কুয়াকাটা পৌরসভার সহায়তায় বস্তাগুলো অপসারণ করে সৈকতের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে।




কুয়াকাটা সৈকতে অব্যবস্থাপনায় পর্যটক ভোগান্তি – কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠেছে পর্যটকের ভোগান্তির কেন্দ্র। সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের শৃংখলা রক্ষায় তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হয়রানি-আক্ষেপ বাড়ছে। নানামুখী ভোগান্তিতে কুয়াকাটা ভ্রমণে আগ্রহ হাড়াচ্ছেন পর্যটকরা। এতে করে পর্যটনখাতে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রেরও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গত ২ মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও কুয়াকাটায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি ফেরেনি। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সমুদ্র সৈকত এলাকা এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। পর্যটকের ভোগান্তি নিরসনে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই। দায়ীত্বশীল কোনো মহলেরই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। চলছে যত্রতত্র স্থাপনা বসানোসহ সংরক্ষিত পয়েন্টে বিভিন্ন যানবাহনের ছড়াছড়ি। প্রশানের নীরব ভূমিকা দেখে হতবাক পর্যটকরা। এতে কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বশীলতা নিয়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক মুহিদুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছিলাম সেই অনুপাতে সেবার মান আমরা পাচ্ছি না। রাতের সৈকতে লাইটিং ব্যবস্থা নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন জোড়ালো দেখছি না। পুরা বিশৃঙ্খল অবস্থা। দোকানদার থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে নামমাত্র তদারকির সংস্থা থাকলেও বাস্তব চিত্র আদৌ ভালো দেখছি না। সৈকতে যাতায়াতে যে অবকাঠামো তা থেকে আমরা সেবা বঞ্চিত। সৈকতে যতটুকু মনোরম পরিবেশ রয়েছে তা রক্ষাণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেই। সৈকতে যে যার মতো করে রকমারির ব্যবসায় লিপ্ত আছে।’

মুহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ছাতা-বেঞ্চির সামনে আমরা আর কোনো পর্যটন এলাকায় ব্যবসা রিচালনা করতে দেখিনি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এই সৈকতে হরহামেশা ভাসমান দোকানীদের অবস্থানের কারণে মূল সৈকত বাজারে পরিণত হয়েছে। সৈকতে নামতে যে সড়কটি রয়েছে তা ভাসমান দোকানীদের দখলে। জোয়ারের সময় যেটুকু ওয়াকিং জোন থাকে তাতেও ভাসমান দোকানীদের কারণে চলাফেরা করা যায় না।’

যানবাহন চলাচলে মানা হচ্ছে না কোনো শৃঙ্খলা
যানবাহন চলাচলে মানা হচ্ছে না কোনো শৃঙ্খলা
সরেজমিনে কুয়াকাটা সৈকতের মূল কেন্দ্রে যেকোনো প্রকার যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় সৈকতে বসানো জিও ব্যাগের ওপর দিয়েই মোটরসাইকেল ওঠানামা করছে। এতে সৈকত সুরক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রটেকশন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাছাড়া যানবাহনের অবাধ চলাচলে নারী-শিশু ও বয়োবৃদ্ধ পর্যটকেরা প্রতিনিয়ত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। অপরদিকে সৈকতে জিরো পয়েন্টের দুই দিকে বসানো ছাতা বেঞ্চীর সামনে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানীদের উৎপাত যেন প্রকৃতি উপভোগের ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা। যে যার মতো বিশৃঙ্খলভাবে বেচা-বিক্রি করলেও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কোনো মাথাব্যাথা নেই। এছাড়াও একই জায়গায় জেলেদের জাল, নৌকা রাখাসহ করা হচ্ছে মাছের কারবার। জেলেদের ফেলে দেওয়া মাছের পঁচা দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকদের।

এদিকে সৈকতঘেষা সৌন্দর্যমণ্ডিত ব্লকের ওপর বসানো হয়েছে অস্বাস্থকর পরিবেশে জেলেদের ছোট ছোট টিনশেডের ঝুঁপড়ি ঘর। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে জেলেরা ফেলে রাখেছেন অব্যবহৃত জালের স্তূপ এবং সমুদ্রে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ (গেরাফী) বাকানো রড। জিরো পয়েন্টে পা ফেলতেই পর্যটকের ভোগান্তির শুরু হয়। সমুদ্র সৈকতে প্রবেশের নেই কোনো সড়কের ব্যবস্থা। সৈকতে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট দিয়ে চলাচলের সামান্য জায়গা দখল করে রেখেছে। যা একটি অন্যতম পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য, পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সৈকতে নামতে প্রধান সড়কের দুই পাশে কোনো প্রকার দোকানপাট বসানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যে যার মতো করে প্রভাব খাটিয়ে পলিথিন-ত্রিপাল দিয়ে ঝুঁপড়ি ঘর বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অনেকেই আবার সড়কের ওপরেই পরিচালনা করছে ব্যবসা বাণিজ্য। এতে করে সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পর্যটক ও স্থানীয়দের।

এসব বিষয়ে কথা হয় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমীরের সঙ্গে। তিনি বলেন, সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি নামে থাকলেও একটি পর্যটন কেন্দ্র তদারকিতে যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় কাউকে এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে না রাখায় সমুদ্র সৈকতে এমন অব্যাবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাবনার এই পর্যটন কেন্দ্র যেমন বেহাল অবস্থায় পরে আছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে তিন মাস, ছয় মাসান্তর একটি মিটিং ডাকা হয়, সেই মিটিং ও আলোচনার মধ্যে এই কমিটির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। এক কথায় অভিভাবকবিহীন কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র।

সংশ্লীষ্টদের প্রতি দাবি, স্থানীয় যারা এই সৈকতের সঙ্গে জড়িত তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখে যাতে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, দেশের অন্যতম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্থায়ী মার্কেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল স্টক হোল্ডারদেরকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান। এটি সম্পন্ন হলে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরবে। এছাড়া রাতে সৈকতে লাইটিং ব্যবস্থার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটায় পর্যটকের সেবার মান নিশ্চিতে এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ ফিরিয়ে আনতে সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে জানিয়েছে তিনি বলেন, ‘বিশেষত একটি আধুনিক সৈকতে রূপ দিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বে মেরিন ড্রাইভের আদলে একটি নান্দনিক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। যার কাজ ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ হয়েছে; এটি সম্পন্ন হলে সৈকতের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। এছাড়াও পর্যটকের বিনোদনের ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’

ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অচিরেই পর্যটকরা কুয়াকাটা ভ্রমনে এসে আর ভোগান্তিতে পড়বে না বলে আমরা আশা করছি।’




সার্কুলার ইকোনমি এন্টপ্রেনরশিপ প্রোগ্রামে ১ম পবিপ্রবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দ্য আর্থ আয়োজিত ইএমকে সেন্টারের অর্থায়নে সার্কুলার ইকোনমি এন্টপ্রেনরশিপ প্রোগ্রামে প্রথম হয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) টিম।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টা থেকে গ্রিন হরিজন নামক কুয়াকাটা বেজ যুব ক্ষমতায়ন স্টেকহোল্ডার পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার, পটুয়াখালী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসনাত মোহরনমাদ আরাফিন, দ্য আর্থ-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়াসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী তানজিদ হাসান জিসানের নেতৃত্বে পবিপ্রবি টিম প্রথম স্থান অর্জন করে। বিজয়ী টিম ‘প্লাস্টিকমুক্ত সাগরজল, কুয়াকাটা হবে নির্মল’ স্লোগ্রান সামনে রেখে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় কাজ করছে।

বিজয়ী টিমের নেতা তানজিদ হাসান জিসান বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। আমাদের মূল উদ্দেশ্য প্লাস্টিক দূষণ রোধ করে কুয়াকাটাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। নির্মল মূলত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। এই প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের অংশ অ্যাপের মাধ্যমেই হোটেল ম্যানেজার, প্লাস্টিক ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবীর কাছে পৌঁছে যাবে। আমাদের এ উদ্যোগ পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।