আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটিতে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের ভিড়

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি এবং সরকারি দুই দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। শুক্রবার বিকাল থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত।

সৈকতের নোনা জলে গা ভাসিয়ে আনন্দে মেতেছেন আগত দর্শনার্থীরা। কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবার কেউবা ঘোড়ায় কিংবা বাহারি বাহনে চড়ে ঘুরছেন সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

লাখো পর্যটকের উপস্থিতিতে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলগুলোতে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রিও বেড়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে পর্যটকদের এমন ভিড়ে দারুণ খুশি ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছে। সৈকতে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সরকারি ছুটির সুবাদে বাড়তি পর্যটকের সমাগমে কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পে নতুন উদ্দীপনা এসেছে। পর্যটকদের এমন আগমনে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হয়ে উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশি পর্যটকরা ঢাকার যে মসজিদ দেখতে আসেন

ঢাকার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত তারা মসজিদ এখন একটি প্রধান পর্যটন স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বিদেশি পর্যটকরা ধর্মীয় স্থাপত্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপভোগ করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে বিচিত্র নকশা এবং অলংকরণ যেমন, প্রাচীন টাইলস, রঙিন কাচের টুকরা, চিনামাটির ফলকসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘চিনি টিকরি’ নকশা, যেখানে কাচের টুকরা দিয়ে মসজিদের দেয়াল এবং গম্বুজ সাজানো হয়েছে, একে অনন্য করে তোলে।

প্রথম দর্শনেই এই মসজিদটির ভেতরের গম্বুজ ও দেয়ালের ডিজাইন পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিকেলে বাতি জ্বালালে দেয়ালে কাচের টুকরোগুলোর রঙিন আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, মসজিদটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

তারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার বই ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’-তে এই মসজিদের নির্মাণকাল ১৮শ শতকের শেষ ভাগ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯শ শতকের প্রথম দিকের। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য জমিদার মীর্জা গোলাম পীর, যিনি মসজিদটি ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে, মসজিদটির আকর্ষণ শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য নয়, বরং বহু বিদেশি পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আসেন। ঢাকার প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে **তারা মসজিদ** বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।

মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, যখন আরমানিটোলার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সংস্কার করেন। ১৯৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় এবং এর পর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তারা মসজিদটি একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য সম্মিলন দেখতে পান। পুরোনো ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে মসজিদটি এক নিঃসঙ্গ শান্তির স্থান, যা সত্যিই দর্শনীয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কক্সবাজারের প্রবাল এই দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। তখন কোনো পর্যটকের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।



তারুয়া সৈকত: দক্ষিণাঞ্চলের নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া সৈকত, প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। প্রায় চার দশক আগে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা এই ছোট্ট দ্বীপটি, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সোনালি সৈকতের বালুর ঝলকানি, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, সবুজ বনভূমি, এবং নানা প্রকার প্রাণী যেন এটিকে প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে তারুয়া সৈকত পর্যটনশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম। এর মোহনীয় দৃশ্য এবং বিশাল বালু সমুদ্র সৈকত প্রতিনিয়ত ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। তারুয়া সৈকতকে দেশের পর্যটন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে যথাযথ প্রচার এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে তারুয়া দ্বীপের মোহনীয় সৌন্দর্য দেখা যায়। সাগরের গর্জন, বিস্তৃত নীল জলরাশি এবং সবুজ দ্বীপের মনোরম দৃশ্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা অত্যন্ত উপভোগ্য। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর এবং অন্য পাশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি রয়েছে, যা ম্যানগ্রোভ বনে শেষ হয়েছে। এই দ্বীপে হরিণ, বন্য মহিষ, বানর, লাল কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর বসবাস।

তারুয়া দ্বীপের নামকরণের ইতিহাস জানা না গেলেও স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুকে এ এলাকা জেগে ওঠে। স্থানীয় জেলেরা যখন মাছ ধরতে যেত, তখন তাদের জালে শত শত ‘তারুয়া’ নামক মাছ ধরা পড়ত, যা সম্ভবত এই দ্বীপের নামকরণের কারণ।

বর্তমানে তারুয়া দ্বীপে স্থায়ী বসবাস গড়ে ওঠেনি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি পর্যাপ্ত প্রচার ও পর্যটকদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এটি ভবিষ্যতে দেশের দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “জেলার পুরো দ্বীপে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মনপুরা, ঢালচরের তারুয়া সৈকত এবং চর কুকরি-মুকরি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। এ স্থানে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির জন্য পরিকল্পনা চলছে। তারুয়া সৈকতকে একটি উন্নত পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল: মাসব্যাপী মেলা আর সাপ্তাহিক ছুটির আমেজ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাসব্যাপী পর্যটন মেলা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার প্রায় ৮০% হোটেল ইতোমধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে।

শুক্রবার ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে মেলার জমজমাট আয়োজন পর্যটকদের আরও বেশি আকৃষ্ট করছে। মেলায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, স্থানীয় পণ্যের প্রদর্শনী ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের জন্য বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শুটকি পল্লী, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লী, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেম্বুর বন এবং ঝাউবাগানসহ অধিকাংশ পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়েছে। কেউ সমুদ্রের জলে গা ভাসিয়ে আনন্দে মেতে উঠছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ঘোড়ার পিঠে পুরো সৈকত চষে বেড়াচ্ছেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহেদী মিরাজ বলেন, “কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। মেলা ঘুরে বাচ্চাদের জন্য সার্কাসসহ বিনোদনের নানা আয়োজন দেখে বেশ আনন্দ পেয়েছি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, “পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছি। হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ চলছে। আজ অনেক পর্যটক এসেছে, আমাদের ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।”

মেলা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাব ও টোয়াকের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, “পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ দিতে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করেছি। এখানে বাচ্চাদের জন্য নানা বিনোদনের ব্যবস্থা ও বড়দের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রদর্শনী বিশেষ আকর্ষণ যোগ করছে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা মোবাইল টিমসহ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছি। পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট।”

কুয়াকাটার এই মাসব্যাপী পর্যটন মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় বছরের প্রথম দিন ঘন কুয়াশায় মোড়ানো

বছরের প্রথম দিনে কুয়াকাটায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সকাল থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল সমুদ্রসৈকত। এই মনোরম পরিবেশে পর্যটকরা যেমন হতাশ হয়েছেন সূর্যের হাসি দেখতে না পেয়ে, তেমনি উপভোগ করেছেন কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য।

পর্যটকদের অনেকেই বলেন, বছরের শুরুতে কুয়াকাটার পরিবেশ একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়েছে। ঘন কুয়াশার মধ্যেও সমুদ্রের গর্জন, ঢেউয়ের খেলা এবং ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে সৈকতে হাঁটার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন রকম।

স্থানীয় হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছর উপলক্ষে পর্যটকেরা আগের রাত থেকেই কুয়াকাটায় ভিড় করেছেন। তবে ঘন কুয়াশার কারণে অনেকেই সকালবেলার সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর পরেও সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি কমেনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই অঞ্চলে কুয়াশা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে পর্যটকদের আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা পাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের প্রথম দিন হওয়ায় কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ সবার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত এনে দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের অনেকেই প্রথমবারের মতো এমন মোহনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন।

কুয়াকাটা পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে এমন আবহাওয়া একদিকে যেমন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়, তেমনি এটি ভবিষ্যতে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পকে নতুনভাবে পরিচিত করতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য নতুন সংযোজন ‘তাঁবুঘর’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, যা প্রকৃতি, সমুদ্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের প্রিয় স্থান। এবার এই পর্যটন শহরে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে চালু হলো ‘তাঁবুঘর’। এই অভিনব উদ্যোগটি নিয়েছে ‘নোনা জলের ভেলা’ নামের একটি ইকো ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ঝাউবন সংলগ্ন তালবাগানে অস্থায়ী তাঁবু স্থাপনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষারসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট অনেক বিশিষ্টজন।

‘নোনা জলের ভেলা’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, তাঁবুঘরের বিশেষ প্যাকেজে পর্যটকরা সমুদ্র ও আশপাশের দ্বীপগুলোতে ঘুরে তাঁবুতে রাত্রিযাপন, ক্যাম্প ফায়ার, সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ পার্টি এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এটি কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ। পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি গ্রহণ করা উচিত।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “নোনা জলের ভেলা পর্যটকদের জন্য ইকো ট্যুরিজমের মাধ্যমে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।”

তাঁবুঘরের এ উদ্যোগ কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। এটি কেবল কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যই নয়, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সরকারি ছুটির কারণে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে হাজারো পর্যটকের আগমনে জমে উঠেছে। বিশেষ করে বড়দিন এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনির দুই দিনের ছুটিতে পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে আনন্দের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

বুধবার সকাল থেকে পর্যটকের আগমন শুরু হয় এবং দিনভর সৈকতের বালিয়াড়িতে নাচ-গান, ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে। বিকেল বেলা সৈকতের বেঞ্চিতে বসে অনেকেই সময় কাটাচ্ছিলেন, অপরদিকে সৈকতজুড়ে বাড়তি পর্যটকদের আনাগোনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেচাকেনা বাড়ছে। কুয়াকাটার বেশিরভাগ হোটেল রুমও এই সময়ে বুকিং হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকলে তারা তাদের গতকালকার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

বেঞ্চি ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, “সরকারি ছুটির তিন দিন, বিশেষ করে বৃহস্পতিবারও অটো ছুটি হয়ে গেছে, ফলে পর্যটক সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে।”

সাউদবিচের সত্ত্বাধিকারী মো: সোহেল আহম্মেদ জানান, “আমার হোটেলের অধিকাংশ রুমই বুক হয়ে গেছে। এই পর্যটন মৌসুমে যদি এমনভাবে পর্যটক আসেন, তবে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”

রয়েল প্যারাডাইচ হোটেলের পরিচালক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আনু জানান, “প্রতি বছর কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়ছে, এবং আজকে আমাদের হোটেলে প্রায় ৬০% রুম বুকিং হয়ে গেছে।”

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: কৌশিক আহমেদ বলেন, “পৌর-প্রশাসন এবং টুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের সেবায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পর্যটন সদস্য সচিব মো: রবিউল ইসলাম জানান, “ছুটি এবং বড়দিনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ এবং মহিপুর থানা পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তায় বাড়তি তৎপরতা গ্রহণ করেছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না: মাহফুজ আলম

বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, “হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল শহিদ আলিফের শাহাদাতসহ শহিদানদের রক্তের মূল্য হতে পারে।”

পোস্টে তিনি ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, “দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এই অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পরাজিত করবে। আমরা আর উপনিবেশযোগ্য (Colonizable) হবো না।”

দেশের ‘প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের’ ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ প্রাপ্য উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “আপনারা এ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




থ্রি হুইলার বন্ধের দাবিতে ঝালকাঠি থেকে ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি হুইলার চলাচল এবং দূরপাল্লার বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহনের প্রতিবাদে ঝালকাঠি থেকে ১১টি রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল থেকে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতান জানান, ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ মাহিন্দ্রা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বে-আইনি হলেও তা অবাধে চলছে। একই সঙ্গে, দূরপাল্লার বাসে স্থানীয় যাত্রী পরিবহনের কারণে বাস মালিকরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাস মালিক সমিতি গতকাল সকালে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, বাগেরহাট, খুলনা সহ মোট ১১টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ধর্মঘটের কারণে এসব রুটে বাস চলাচল কবে পুনরায় শুরু হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের দাবি পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। তবে এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম