মানুষ যেখানে যত্ন-সম্মান-সততা পায়, সেখানেই আটকায় — রোজা-তাহসানের রোমান্টিক মুহূর্ত ভাইরাল

বিয়ের পর প্রেমের গন্ধ এখনো টাটকা। সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদের নতুন কিছু ছবি আবারও মাতিয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।

বিয়ের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোজার প্রতিটি পোস্টেই থাকে ভক্তদের কৌতূহল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে তাহসানের সঙ্গে সুইমিংপুলে কাটানো কিছু একান্ত মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন রোজা।

ভালোবাসায় ভেজা একান্ত সময়

ছবিগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৃদু বৃষ্টির ছোঁয়া আর এক টুকরো রোমান্টিকতা—যেখানে তাহসানের বাহুতে রোজা, আর চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার ভাষা। এই দৃশ্যই মুগ্ধ করেছে ভক্তদের।

ছবির সঙ্গে রোজা লেখেন:

“সত্যিকারের বিলাসিতা হচ্ছে প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সময়। যেখানে নীরবতাও বোঝাপড়ায় পূর্ণ, ধীর সকালে ফিসফিস করা প্রতিশ্রুতি, আর ভালোবাসা—যেটা একেবারে আমাদের নিজের।”

রিসোর্টের কক্ষে বই হাতে এক প্রশান্ত মুহূর্তের ছবি এবং ঘরটির অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও তুলে ধরেছেন রোজা।

নেটিজেনদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

রোজার এই পোস্টে শুধু ইনস্টাগ্রামেই লাইক পড়েছে এক লাখের বেশি, ফেসবুকেও প্রতিক্রিয়ার জোয়ার।

তৌকির আহমেদ তিতাস নামে একজন মন্তব্য করেন—

“প্রথম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যেখানে যত্ন, সম্মান ও সততা পায়, সেখানেই আটকে যায়।”

আনিকা লেখেন: “মায়াবী সৌন্দর্য।”
জাফরীন: “ক্রাশগুলো যেন তাদের বউদের নিয়ে সুখেই থাকুক।”
তাজকিয়া বিনতে আজাদ: “পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমের জালে।”
শাকিলা: “দুজনকেই খুব সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে, এতদিনে তাহসান ভাই তার জীবনের পূর্ণতা পেলেন। আল্লাহ তাদের সুখে রাখুক।”

ভালোবাসার গল্প চলছেই…

দম্পতি প্রায়ই দেশের বাইরে ঘুরতে যান। তাঁদের ছবি, মুহূর্তগুলো যেন দর্শকদের মাঝে এক নতুন প্রেমের ভাষা হয়ে ওঠে।




কুয়াকাটা সৈকতে ঢেউয়ের তোড়ে প্রাণ গেল পর্যটকের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে গিয়ে রাজেশ কুমার পাল (৪০) নামে এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা আনুমানিক এগারোটার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রাজেশ রাজশাহী জেলার পুটিয়া উপজেলার শরৎ কুমার পালের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাজেশ কুমার পাল তার এক চাচাতো ভাই ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছিলেন। তারা কুয়াকাটার হোটেল সাগর নীড়ে অবস্থান করছিলেন। সকালে সকলে মিলে সৈকতে গোসল করতে নামেন।

গোসলের সময় ঢেউয়ের প্রচণ্ড তোড়ে রাজেশ কিছুটা গভীরে চলে যান এবং হঠাৎ করেই ডুবে যেতে থাকেন। সঙ্গে থাকা আত্মীয়দের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং লাশ উদ্ধার করি। এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”

এই ঘটনায় সৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। কুয়াকাটার মতো জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি উঠেছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




কুয়াকাটায় পর্যটককে মারধর ও অর্থ ছিনতাই, যুবদল নেতাসহ আটক ৩

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল ব্লু-বার্ডে এক পর্যটককে মারধর করে ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবদল নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ মে) মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুয়াকাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি ও হোটেল ব্লু-বার্ডের ভাড়াটিয়া মালিক মো. বেল্লাল হোসেন (৪৫), তার সহযোগী রিয়াজ (২৪) এবং শাকিল (২৪)। পলাতক রয়েছেন মামলার অপর আসামি ইউসুফ হাওলাদার (২৭)।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা মিরপুরের বাসিন্দা পর্যটক তুহিন চার দিন আগে হোটেল ব্লু-বার্ডে ওঠেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ১ হাজার টাকার ভিত্তিতে থাকার কথা থাকলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ চার দিনের জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করে। এ নিয়ে আপত্তি জানালে সোমবার রাত ৩টার দিকে তুহিনকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং জোর করে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

পরে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এই অবস্থায় তুহিন ৯৯৯-এ ফোন করলে মহিপুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে।

মহিপুর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তাকে উদ্ধার করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। মামলা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, হোটেল ব্লু-বার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছিল, যার মধ্যে রয়েছে পতিতাবৃত্তি। তবে হোটেলটির মালিক বেল্লাল হোসেন দাবি করেন, “ভুক্তভোগী তুহিন আগে থেকেই হোটেলে পতিতা সরবরাহ করতেন। আর্থিক লেনদেন নিয়েই মূল ঘটনা ঘটে।”

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “যদি কেউ যুবদলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অপকর্মে লিপ্ত থাকে, তাহলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন ৬ হোটেল নির্মাণ বন্ধ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত ছয়টি বহুতল আবাসিক হোটেলের নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (৫ মে) বিকেলে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে এসব নির্মাণ কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর সামনে ‘নির্মাণ কাজ বন্ধ ঘোষিত’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক এবং মহিপুর থানা পুলিশের সদস্যরা।

যেসব হোটেলগুলোর নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—হোটেল মেরিন বে, সাম্পান রিসোর্ট, হোটেল অলিম্পাস, হোটেল মারওয়া এবং স্টার প্যাসিফিক। এছাড়াও আরেকটি নির্মাণাধীন হোটেলের নাম এখনও জানা যায়নি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করা আইনসিদ্ধ নয়। অনুমোদনবিহীন এমন নির্মাণকাজ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়াকাটা একটি জাতীয় পর্যায়ের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। তাই এই অঞ্চলে অবকাঠামোগত যে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই নির্ধারিত আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও নিয়মভঙ্গকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটা সৈকতে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখলেন পর্যটকরা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে বছরের প্রথম দিনেই পর্যটকে মুখরিত হয়ে ওঠে দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি এই সৈকতে একসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ পর্যটকদের কাছে বরাবরের মতোই বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।

সোমবার (১ বৈশাখ) সকালে কুয়াকাটার আকাশে ভেসে ওঠা নতুন বছরের প্রথম সূর্য দেখতে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ভিড় করেন সৈকতে। তারা বছরের প্রথম আলোকে সাক্ষী রেখে এক অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কারও কারও চোখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস, আবার কেউবা নিরবে উপভোগ করেছেন সেই স্নিগ্ধ সকাল।

তবে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম উপস্থিতি থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাংলা ১৪৩১ সালের শেষ সূর্যাস্ত এবং বাংলা ১৪৩২ সালের প্রথম সূর্যোদয় এক নজরে দেখতে অর্ধলক্ষাধিক পর্যটক আসবেন— এমনটাই ছিল তাদের আশা। বাস্তবে সেই সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন অনেকেই।

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মোঃ মানিক মিয়া বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে কুয়াকাটা এসেছি। নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন বছরের শুরু এ এক অনন্য অনুভূতি। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলাম।”

প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে কুয়াকাটা হয়ে ওঠে ভ্রমণপ্রেমীদের মিলনমেলা। তীব্র গরম, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা সময়ের কষ্ট উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে আসে এই সমুদ্রসৈকতে। ভোরবেলার শান্ত বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দ, আর সূর্যের প্রথম রশ্মি— সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মুহূর্ত।

স্থানীয় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও এই দিনে বাড়তি কর্মব্যস্ততায় থাকেন। তবে তারা আশা করছেন, সামনে আরও বড় কোনো উৎসব কিংবা ছুটির দিনে পর্যটকদের আগমন বাড়বে।

নববর্ষের প্রথম দিনে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেকেই নতুন উদ্যমে বছরের সূচনা করেছেন। কুয়াকাটার এই দৃশ্য, অনুভূতি আর পরিবেশ সবার মন ছুঁয়ে গেছে— এমনটাই জানিয়েছেন অনেক পর্যটক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রোববার তিন পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাংক বন্ধ




পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত কুয়াকাটা

দীর্ঘ এক মাস পর্যটকশূন্য থাকার পর পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে লাখো পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন এই সমুদ্রসৈকতে।

ঈদের আমেজে পর্যটকদের ঢল ঈদের দিন বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সৈকতের প্রতিটি প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকরা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে হৈ-হুল্লোড় করছেন, ছবি ও সেলফি তুলছেন স্মৃতি ধরে রাখার জন্য। অনেকে বাহারি বাহনে চড়ে পুরো সৈকত ঘুরে দেখছেন, আবার কেউবা বেঞ্চে বসে ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ করছেন।

পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যস্ততা কুয়াকাটার ক্র্যাব আইল্যান্ড, চর গঙ্গামতি, ঝাউবন, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আনাগোনা লক্ষ করা গেছে। হোটেল-মোটেলগুলো বেশিরভাগ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের আগমনে উচ্ছ্বাসিত ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে খাবার, প্রসাধনী ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতা ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তৈয়ব হোসেন বলেন, “সকালে কুয়াকাটায় এসেছি, সৈকতের মনোরম পরিবেশ ও ছোট ছোট ঢেউ আমাদের মুগ্ধ করেছে। জোয়ারের সময় সবাই মিলে সমুদ্রে সাঁতার কাটব।”

ফুলবাড়িয়া থেকে আসা এক দম্পতি বলেন, “মেঘলা আকাশে দখিনা হাওয়া আর সৈকতের ঢেউ যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা ঘুরতে এসে দারুণ সময় কাটাচ্ছি।”

ব্যবসায়ীদের আশা প্রসাধনী দোকানি সুলতান আকন জানান, “গতকাল পর্যটকদের ভিড় ছিল, বিক্রি মোটামুটি ভালো হয়েছে। আশা করছি, আজ আরও বেশি পর্যটক আসবে।”

ভ্রাম্যমাণ আচার বিক্রেতা মোসলেম মিয়া বলেন, “রমজানে ব্যবসা ভালো ছিল না। গতকাল বিক্রি ভালো হয়েছে, আজ আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, “সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। আশা করছি, পর্যটকরা নিরাপদে কুয়াকাটা ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় ঈদে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত হোটেল ও সৈকত

এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশে টানা ৯ দিনের ছুটির ঘোষণা করা হয়েছে। এই দীর্ঘ ছুটিতে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশজুড়ে পর্যটকদের আগমন হতে চলেছে, বিশেষ করে কুয়াকাটায়। কুয়াকাটা, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত, এবার ঈদের আনন্দে মেতে উঠবে হাজার হাজার পর্যটক।

কুয়াকাটায় ইতোমধ্যে পর্যটকদের জন্য অগ্রিম হোটেল বুকিং শুরু হয়ে গেছে। জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম ভাড়া হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর ৩০-৪০ শতাংশ কক্ষও ভাড়া হয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার, ১৬টি পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হোটেল ও মোটেলগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। রঙিন সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে হোটেল ও রিসোর্ট, যাতায়াতের রাস্তা সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হয়েছে এবং প্রতিটি আবাসিক হোটেল পর্যটক আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, রমজান মাসে কুয়াকাটা ছিল পর্যটকশূন্য, তবে এখন পর্যটক আগমনের জন্য তারা প্রস্তুত। তিনি আশা করেন, ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কুয়াকাটায় আসবে।

কুয়াকাটার সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলার এজিএম আল-আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের রিসোর্টে ঈদ ছুটিকে কেন্দ্র করে রুম বুকিংয়ের জন্য ফোন আসছে, এবং ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, তারা আশা করছেন, বাকি দিনগুলিতে পুরোপুরি বুকিং হয়ে যাবে এবং পর্যটকদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করবেন।

এদিকে, কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের সময়ে বাড়তি পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্কাউট টিম সদস্যরা সৈকত এবং রিসোর্ট এলাকাগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করবে।

এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা লেম্বুর বন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি আরো বলেন, জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন ট্যুরিস্ট পুলিশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রমজানে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি কমে গেছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায়। সারাবছর যে সৈকত থাকে পর্যটকের কোলাহলে মুখর, সেখানে এখন নেমেছে সুনসান নীরবতা।

রবিবার কুয়াকাটা সৈকত ঘুরে দেখা যায়, বিচের বেঞ্চগুলো খালি পড়ে আছে, স্পিডবোটগুলো অলস সময় পার করছে। অন্য সময় যেখানে পর্যটকের ঢল নামে, এখন সেখানে দেখা মিলছে হাতে গোনা কয়েকজন দর্শনার্থীর।

এই অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। রুমের বুকিং কমে গেছে অনেকাংশে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রমজানের শেষ ভাগে কিছু পর্যটক আসতে পারে, তবে পুরো মাসেই ব্যবসা মন্দা যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।

বিশেষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন শুঁটকি, ঝিনুক, ছাতা, বেঞ্চসহ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে অনেকে দোকান বন্ধ রেখেছেন, যারা চালু রেখেছেন, তারাও বেচাকেনা না থাকায় ইফতারের আগেই দোকান গুটিয়ে নিচ্ছেন।

সৈকতের এক আচার বিক্রেতা আরাফাত হোসেন বলেন, “পর্যটক নেই বললেই চলে। দিনে এক-দুইটা বিক্রি হয়, তারপরও দোকান চালু রাখছি। কিন্তু ইফতারের আগেই বন্ধ করে দেই, লাভ হচ্ছে না।”

পর্যটকদের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন ফটোগ্রাফার রহিম। তিনি বলেন, “মার্চ মাসে আমরা সবসময় পর্যটকদের ভিড় পাই। এবার পুরো চিত্র পাল্টে গেছে। ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু কেউ নেই। একশ টাকাও রোজগার করতে পারছি না।”

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, রমজানের প্রথম দিকে পর্যটক কম থাকলেও শেষের দিকে কিছু বুকিং পাওয়া যায়। ঈদের সময় কিছু পর্যটক আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটক না থাকলেও কুয়াকাটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু। তার ভাষ্য, “পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের টহল টিম নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় ভয়াবহ পরিস্থিতি: মারধর, ছিনতাই, আতঙ্কিত পর্যটকরা

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: সাগরকন্যা কুয়াকাটা, যা একসময় ছিল নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র, এখন হঠাৎ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এখানে পর্যটকদের ওপর হামলা, মারধর, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা জানান, কুয়াকাটায় বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের অসক্রিয়তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অপ্রতুল তৎপরতা এই অরাজক পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয় ট্যুরিস্ট সংগঠন ও বাসিন্দারা।

কুয়াকাটা, বরিশালের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। এখানকার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো বিখ্যাত। কিন্তু বর্তমানে এখানে একটি ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যটকরা শুধু সাগরপাড়ে নয়, হোটেলেও নিরাপদ নন। সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যটক অপহরণ, মারধর, এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গঙ্গামতী এলাকায়, যেখানে এক পর্যটক দম্পতি তাদের মোবাইল হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার জন্য দুষ্কৃতকারীরা ওই দম্পতিকে ৫ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। টাকা দেওয়ার পর, স্বামীকে মোবাইল নিতে যাওয়ার সময় আরো এক মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করা হয়। এরপর, তাকে ছাড়িয়ে আনতে স্ত্রীকে ৩ জন ছিনতাইকারী ফোন করে এনে ঝাউবন এলাকায় ডাকে, কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দুজনকে আটক করে। পরে, তাদের দেওয়া তথ্যে অপহৃত পর্যটককে উদ্ধার করা হয়।

এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে কুয়াকাটায়, যার মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। একাধিক পর্যটক পরিবার তাদের অপহৃত মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, এবং অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও, অনেক পর্যটক এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে চায় না, কারণ তারা পুলিশের ঝামেলা এড়াতে চান এবং অভিযুক্তরা ভয়ে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কুয়াকাটায় বেশ কিছু সময় ধরেই ঘটছে। কিন্তু বেশিরভাগ ঘটনার কথা সাধারণত জনসমক্ষে আসে না। অনেক পর্যটকই অভিযোগ জানান না, কারণ তারা ভাবেন না যে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে। ফলে, দুর্বৃত্তদের সাহস আরও বাড়ে।”

ট্যুর অপারেটরদের মতে, পর্যটক হয়রানির পাশাপাশি কুয়াকাটায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিকদার মোহাম্মদ আলমাস, যিনি ‘হৈমন্তী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বলেন, “এখনকার পরিস্থিতি কুয়াকাটার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পূর্বে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা কমে গেছে, যার ফলে ছিনতাইকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এছাড়া, কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় আগে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল, তা এখন নেই। এখানে পর্যটকরা নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে এমন অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। যদি তারা আরও তৎপর হতো, তবে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।”

এ বিষয়ে, কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার অনির্বাণ চাকমা বলেন, “কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, এবং আমাদের কাছে সীমিত জনবল রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আছে যাতে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে।”

গত কিছুদিনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছিনতাই হওয়া টাকাপয়সা এবং মোবাইল ফেরত দিয়ে সহায়তা করেছেন, কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করছে না এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পর্যটকরা জানায়, পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার না হলে কুয়াকাটার খ্যাতি এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষতি হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম