পর্যটন দিবসে উপলক্ষে কুয়াকাটায় তিনদিন ব্যাপী উৎসব

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় তিনদিন ব্যাপী উৎসবের আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কুয়াকাটা পৌরসভা।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতের ট্যুরিজম পার্ক সংলগ্ন এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশবরেন্য শিল্পীরা অংশগ্রহন করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি, ট্যুরিজম ব্যবসায়ী, ট্যুরিস্ট পুলিশ দিবসটি পালনে নিয়েছে নানা উদ্যোগ।

এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটার সকল হোটেল মোটেলে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষনা দিয়েছে মালিক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়ের ঘোষনার পরই বুকিং হয়ে গেছে কুয়াকাটার অধিকাংশ হোটেল মোটেলের কক্ষ।

হোটেল মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাড়ায় ছাড় দেয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিতে নেয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুয়াকাটায় পর্যটকদের অকর্ষন বাড়াতে নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। এসময় বর্নিল সাজে সাজানো হবে কুয়াকাটা।




বরগুনায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী শরৎ উৎসব

 

অর্ণব শরীফ, বরগুনা : বর্ষা শেষ, এসেছে শরৎ। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুল জানান দিচ্ছে উৎসবের ঋতু শরতের বার্তা। শুরু হয়েছে পর্যটন মৌসুম। আর এ মৌসুমকে ঘিরে বরগুনায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী শরৎ উৎসব।

আয়োজকরা জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ পর্যটনের অমিত সম্ভাবনাময় জেলা বরগুনায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সহযোগিতায় সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম এন্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শরৎ উৎসব।

উৎসবে থাকছে – গ্রামীণ সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া বধূ উৎসব, ইলিশ উৎসব, পিঠা উৎসব, পুঁথিপাঠ উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, জোছনা উৎসব এবং ফানুস উৎসবসহ ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন। পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে পর্যটকদের পদচারণা। জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্যই এমন উদ্যোগ বলে জানান আয়োজকরা। শনিবার বিকেলে সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম এন্ড রিসোর্টে শরৎ উৎসব উদ্বোধন করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম। এসময় জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশে নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আর পর্যটকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।

উৎসবে আসা সেতু নামের একজন বলেন, এ ধরনের উৎসবে এই প্রথম দেখলাম। শরৎ নিয়েও উৎসব হতে পারে তা এর আগে কখনও শুনিনি। সত্যি এখানে এসে ভীষণ ভালো লাগছে।

হিরা নামে একজন বলেন, দেশের বৃহত্তম ইলিশ উৎসবের পাশাপাশি জোসনা উৎসব অনুষ্ঠিত হতো বরগুনায়। কিন্তু করোনার ধাক্কায় তা বন্ধ হয়ে যায়। শরৎ উৎসবের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল উৎসব পুনরায় চালুর পাশাপাশি উৎসবের জেলা হিসেবে খ্যাতি পাবে বরগুনা – এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।

জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি ও সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম এন্ড রিসোর্টের প্রধান উপদেষ্টা সোহেল হাফিজ বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমৃদ্ধ বরগুনা জেলা এখানে সমুদ্র আছে দীপক বন আছে সুন্দরবন কাছাকাছি। তাই দেশ ও বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আমরা এমন উদযোগ গ্রহণ করেছি।

জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, আমরা চাই আমাদের নান্দনিক সৌন্দর্যের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক পুরো বিশ্ব জুড়ে। দেশ ও বিদেশের পর্যটকরা এসে আমাদের জেলার নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করুক। এর মাধ্যমে বরগুনা জেলা যেমন এগিয়ে যাবে ঠিক তেমনি ভাবে কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ আবদুস ছালাম বলেন, বরগুনার পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে এই উৎসব অনন্য ভূমিকা রাখবে। আর আমরা এখানে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আমাদের আহ্বান থাকবে – ভ্রমণ পিপাসুরা বরগুনা আসুক এবং এ জেলার সৌন্দর্য উপভোগ করুক।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, বরগুনার পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। পদ্মা সেতুর ইতিবাচক দিকের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটকদের পদচারণা বেড়েছে। আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বরগুনা জেলাও পর্যটনের ভ্রমণপিপাসুদের তৃষ্ণা মেটাতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে আহ্বান জানাই। সব ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই জেলার পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।




কালের স্বাক্ষী-স্মৃতি ধুসর বরিশালের তিন জমিদার বাড়ি

 

বরিশাল অফিস: কালের স্রােতে হারিয়ে যাচ্ছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামের জমিদার অন্মিকা চরন গুহ, কেদারনাথ বসু ও অন্যদা বসুর সকল ঐতিহাসিক নির্দশন। তিনজন জমিদার একইগ্রামে বসবাস করে তাদের জমিদারী পরিচালনা করলেও তাদের মধ্যে ছিলোনা কোন বিরোধ। ছিলো সু-সম্পর্ক। ১৯৭১ সালে পাক সেনারা জমিদার অন্যদা বসুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মন্দির ও তাদের দালানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ওইসময় পাকসেনাদের হামলার কবল থেকে রেহাই পেতে পাশ্ববর্তী রাংতা এলাকার কেতনার বিলে পালাতে গিয়ে জমিদারের ছোট ভাই স্বপন বসু, বোন শেফালী ও জুথিকা বসু গুলিবিদ্ধ হয়ে একইসাথে শহীদ হয়েছেন।

চাঁদশী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে দেশ বিভক্তির পর জমিদাররা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছেন। পরবর্তীতে তারা আর ফিরে আসেননি। এ সুযোগে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমিদারদের সহায় সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন। তারা নিজেদের স্বার্থে জমিদার বাড়ির পূজা মন্ডপ, সমাধি মন্দির ও দালান কোঠাসহ জমিদার বাড়ির সকল ঐতিহাসিক নিদর্শন ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

জমিদার অন্বিকা চরন গুহ ॥ উত্তর চাঁদশী গ্রামের প্রয়াত জমিদার অন্বিকা চরন গুহের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, জমিদারের সমাধীর নিচের অংশটি দখলদাররা ভেঙ্গে ফেলেছে। সমাধীর ইট ও খোয়া দিয়েই মাত্র ৪/৫ গজ দুরত্বে তৈরি করা হয়েছে একটি শৌচাগার। শ্বেত পাথরের তৈরি কারুকার্য খচিত পঞ্চরত্ন নামের সমাধিটি নির্মিত হয়েছিলো বাংলা ১৩১৮ সালে। প্রায় ৩৫ ফুট সু-উচ্চ এ সমাধি মন্দিরের উপরিভাগে নির্মিত হয়েছে চারটি গম্বুজ। ১৩০১ সালে জমিদার অন্বিকা চরন গুহ মৃত্যুবরন করেন। তিনি বাড়ির সম্মুখভাবে খনন করিয়েছিলেন বিশাল দীঘি। ওই দীঘিটি গুহ বাড়ির দীঘি নামে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। দীঘির উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে তৈরি করা হয় বিশাল ঘাটলা। প্রায় ১১ একর জমির ওপর জমিদার অন্বিকা চরন গুহর বাড়িটি। ওই বাড়িতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ছয়টি পুকুর রয়েছে। জমিদার অন্বিকা চরন গুহ থাকতেন দ্বীতল ভবনে। বাড়িতে ছিলো জমিদারের দাওয়াখানা ও দূর্গা মন্দির। বাড়ির আশপাশে বাদ্যকর, নাপিত, ধোপা ও পাইক-পেয়াদারা থাকতেন। জমিদার বাড়িটি বারো মাসেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকতো। অনুষ্ঠানের আগে পঞ্চরতেœর ওপরে বসে ঢ্যাড়া পিটিয়ে এলাকার লোকজনদের দাওয়াত দেয়া হতো। সূত্রমতে, অন্বিকা চরন গুহ চার ছেলে ছিলো। তারা হলেন-রাইচরন গুহ, বিমল গুহ, কালি প্রসন্ন গুহ ও নলিনী গুহ। বিমল গুহ ছিলেন জেলা জজ।

জমিদার কেদারনাথ বসু ॥ জমিদার অন্বিকা চরন গুহর বাড়ির উত্তর পার্শ্বে মাত্র কয়েক’শ গজ দুরত্বে জমিদার কেদারনাথ বসুর বাড়ি। দ্বীতল ভবনে জমিদার থাকতেন। কারুকার্য খচিত ভবনের দেয়ালের চুনকাম খসে পরেছে। বাড়ির পূর্ব পার্শ্বে রয়েছে বৌ-ঠাকুরানীর দীঘি। দীঘির দক্ষিণ পাড়ে পাকা ওয়াল ঘেরা শান বাঁধানো ঘাটলা। জমিদার তার নিজের স্ত্রী কাদন্বীনী বসু মজুমদারের নামে দীঘিটি খনন করেছিলেন। কেদার নাথ তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র বসু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৪৮ সালে জমিদার দেশত্যাগ করেন। ওই স্ট্রেটের কেয়ারটেকার ছিলেন জিতেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। বর্তমানে ওই বাড়িতে তার (জিতেন্দ্র নাথ) চার ছেলে বসবাস করছেন। জমিদার কেদার নাথের বাড়িতে তিনখানা দুর্গাপূজা হতো। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পূজা উপলক্ষে জমিদার বাড়িতে নাচ, গান ও যাত্রানুষ্ঠানে মুখর থাকতো। জমিদার কেদারনাথের কালি দাস বসু নামের এক ছেলে ছিলো। তিনি ভারতে চলে যাবার পর মারা গেছেন। তাদের জমিদারি চলতো বিল্লগ্রাম, বাশাইল, ধানডোবা ও চাঁদশী এলাকায়। খাজনা আদায়ের জন্য তাদের বিভিন্নস্থানে কাছারি ছিলো। জমিদার গুহ পরিবার ও বসু পরিবার চাঁদশী হাটের মালিক ছিলেন।

জমিদার অন্যদা বসু ॥ জমিদার কেদারনাথ বসুর বাড়ির পূর্ব পার্শ্বেই আরেক জমিদার অন্যদা বসুর বাড়ি। বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন জমিদার অন্যদা বসুর নাতী (মুকুন্দ নাথ বসুর ছেলে) তপন বসু। এ বাড়িটি দারোগা বাড়ি নামে সবার কাছে পরিচিত। তপন বসু একাই আট একরের জমিদার বাড়ির বিশাল অট্টালিকায় বসবাস করছেন। ভবনটির বেহাল দশা, তাই তিনি কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলেছেন। এ বাড়ির রাধা কৃষ্ণের বিশাল মন্দিরটি এখনও সবার দৃষ্টি কাড়ে। ১৯৪৮ সালে দেশ বিভক্তির পর জমিদার অন্যদা বসু ভারতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী অন্যদা বসুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মন্দির ও তাদের দালানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছিলো। ওইসময় পাকসেনাদের হামলার কবল থেকে রেহাই পেতে পাশ্ববর্তী রাংতার কেতনার বিলে পালাতে গিয়ে ১ জৈষ্ঠ অন্যদা বসুর ছোট ভাই স্বপন বসু, বোন শেফালী ও জুথিকা বসু গুলিবিদ্ধ হয়ে একসাথে শহীদ হন। বাড়ির লোকজন ওইসময় সহদর তিন শহীদকে বউ ঠাকুরানীর দীঘির পাড়ে মাটি চাঁপা দিয়ে রাখেন। শহীদ স্বপন বসু তখন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্র। আর শেফালী ও জুথিকা ছিলো চাঁদশী স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্রী। জমিদারের নাতী তপন বসু ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাই তাদের বাড়িতে স্থানীয় রাজাকারদের ইশারায় পাক সেনারা হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করে।

চাঁদশী গ্রামের তিন জমিদারের বাড়ির আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জমিদারদের নানা স্মৃতি। প্রত্যেক জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে আলাদা রাস্তা ও খাল। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, তিনজন জমিদার একইগ্রামে বসবাস করে তাদের জমিদারী পরিচালনা করলেও তাদের মধ্যে ছিলোনা কোন বিরোধ, ছিলো সু-সম্পর্ক। ১৯১৫ সালে জমিদার কেদার নাথ বসু তার বাবার নামে চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র বসু মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সময় অপর জমিদার অন্বিকা চরন গুহর বড় ছেলে রাইচরন গুহ তাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তারই (রাইচরন) প্রদানকৃত একটি কাঠের আলমিরা আজও চাঁদশী স্কুলে স্মৃতিবহন করছে। কালের বির্বতনে ও দখলকারীদের উদাসিনতায় ক্রমেই বিলিন হয়ে যাচ্ছে চাঁদশীর তিন জমিদারের সকল স্মৃতি।




তিন দিনের ছুটিতে অগ্রিম কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেল বুকিং

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবির ছুটি। এর পরে দু-দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় টানা তিনদিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। সব মিলিয়ে মোট ৩ দিনের ছুটি পেয়ে ভ্রমণ পিপাসুরা কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেলে অগ্রিম বুকিং করছেন। পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় কুয়াকাটা নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কুয়াকাটার হোটেলগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে।

হোটেল সাউথ বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব বলেন, ২৮ ও ২৯ তারিখ দুদিনের জন্য ৯০ শতাংশ এবং ৩০ তারিখের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। এখনো প্রায় ৮ দিন বাকি আশা করি এর মধ্যে শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম জানান, ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়াকাটায় থাকা প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলো ইতোমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে প্রায় ৫০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী শীত মৌসুমে অনেক পর্যটক কুয়াকাটা আসবে তার একটি পূর্ব লক্ষণ বলা যেতে পারে। তবে সব কিছুই পদ্মা সেতু এবং নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ব্যবস্থার সুফল।

হোটেল বনানী প্যালেসের পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন খান বলেন, আমরা এ ঈদে মিলাদুন্নবির বন্ধকে কেন্দ্র করে ভালো একটা বুকিং পাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক ফোনও পেয়েছি। তবে আমাদের পুরোপুরি বুকিং হয়নি। ইতোমধ্যে আমাদের ৬০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। বাকি যে সময় আছে তার মধ্যে আমরা বুকিং নিতে পারব বলে আশা করছি।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, কুয়াকাটাতে ছোট-বড় ১৭০টির বেশি হোটেল রয়েছে। যার ধারণক্ষমতা পনের-বিশ হাজার কিন্তু ছুটির দিনগুলোতে অসংখ্য পর্যটকের আগমনে অনেক পর্যটক পাশের বাসাবাড়ি, গাড়ির ভেতরে রাত্রি যাপন করেন। আবার অনেকে সারাদিন ভ্রমণ শেষে রাতে নিজ গন্তব্যেও ফিরে যান। তবে নির্মাণাধীন হোটেলগুলোর কাজ শেষ হলে এই ভোগান্তি পোহাতে হবে না আগত পর্যটকদের।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জানান, তিনদিনের ছুটিতে অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে কুয়াকাটায়। সে কারণে আগে থেকেই ট্যুরিস্ট পুলিশের কয়েকটি টিম মোতায়েন রয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি ও মাইকিং করে বারবার পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া খারাপ থাকায় আমরা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি এবং টানা তিন দিনের ছুটিতে যারা কুয়াকাটা আসবে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।




বিদ্যুতে আলোকিত হবে সাগর দ্বীপ হাতিয়া, নিঝুম ও কুতুবদিয়া

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত এই দ্বীপ একসময় ছিল অন্ধকারে। ভরসা শুধু সৌরবিদ্যুৎ, মোমবাতি কিংবা হারিকেনের আলো। জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের এই জনপদে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে সরকার। আর এতে পাল্টে গেছে রাঙ্গাবালীর অর্থনীতি। কলকারখানা স্থাপনের পাশাপাশি নতুন বিভিন্ন ব্যবসার দ্বার খুলেছে সেখানে। এ রকম অমিত সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে উপকূলীয় দ্বীপ হাতিয়া, নিঝুমদ্বীপ এবং কুতুবদিয়ায়।

বিচ্ছিন্ন এই তিন জনপদে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকে অনুমোদন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন– ‘কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সবার ঘরে আলো জ্বলবে’। তারই প্রতিফলন দুর্গম এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ।
সূর্য ডোবার পর রাঙ্গাবালীর বেশির ভাগ মানুষের ভরসা ছিল কুপি কিংবা হারিকেন। রাতের অন্ধকারে এই জনপদের মানুষ ঘর থেকে খুব একটা বের হতেন না। সৌরবিদ্যুতের দেখা মিলতো মধ্যম আয়ের মানুষের ঘরে, তা-ও সবার ঘরে না। গরমে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করার উপায় ছিল না, হাতপাখাই ছিল ভরসা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছিল রাঙ্গাবালীর মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। কলকারখানা না থাকায় জীবিকার সন্ধানে তারা ছুটতেন শহরের দিকে। তবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছে গেছে স্বপ্নের বিদ্যুৎ; ঘরে ঘরে জ্বলছে বাতি, ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা।
নিঝুমদ্বীপ, বঙ্গোপসাগরের ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ১৪ হাজার ৫০ একর আয়তনের এই দ্বীপটি শীতকালে পর্যটকদের জন্য অন্যতম গন্তব্য। পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা দ্বীপ। হরিণ দেখার জন্যও সারাবছর পর্যটকের আনাগোনা থাকে এই দ্বীপে। অসংখ্য পর্যটক করেন রাত্রিযাপন। বিদ্যুৎ না থাকায় এতদিন তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি সেখানে যাওয়া পর্যটকরা। সন্ধ্যায় বাজারে সৌরবিদ্যুতের আলোতে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন মোবাইলে চার্জ করার জন্য। এই দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবনমানের পরিবর্তন কিংবা বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করার কথা কেউ কল্পনাও করেনি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়বে, যা এখন খুবই সামান্য। আর পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে দ্বীপবাসীর অর্থনৈতিক ভাগ্য ঘুরে দাঁড়াবে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার আয়তন ২১০০ বর্গকিলোমিটার। সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। সেখানে যেতে হলে পাড়ি দিতে হয় বিশাল জলরাশি। হাতিয়ার একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ কোনো সুবিধা পাননি পর্যটকরা। ছিল না রাত্রিযাপনেরও তেমন কোনো ব্যবস্থা। দুর্গম সে সব এলাকায়ও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এতো গেল মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনার দুর্গম নিঝুমদ্বীপ, হাতিয়া এবং রাঙ্গাবালীর গল্প। এবার বলব বঙ্গোপসাগরের আরেক দ্বীপ কুতুবদিয়ার কথা। ২১৬ বর্গকিলোমিটার এই দ্বীপে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র, সমুদ্র সৈকত, লবণ চাষ, বাতিঘর এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার। এখানেও বিভিন্ন সময়ে পর্যটকরা যাতায়াত করেন। তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় সেখানে দিনে গিয়ে দিনেই চলে আসেন বেশির ভাগ পর্যটক।
‘হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুমদ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপ শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটি গত জুনে শতভাগ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। হাতিয়া দ্বীপ শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা, সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে কুতুবদিয়া দ্বীপ শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা এবং হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপের শতভাগ গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এই প্রকল্প।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় নতুন চারটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ (হাতিয়ায় তিনটি ও কুতুবদিয়ায় একটি), মুকতারিয়া-নিঝুমদ্বীপ খালে দেড় কিলোমিটার ১১ কেভি সাবমেরিন ক্যাবল বসানো হবে। কুতুবদিয়া চ্যানেলে ৫ কিলোমিটার ডাবল সার্কিট ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৬ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। বিদ্যমান ৩৫ কিলোমিটার বিতরণ লাইনও সংস্কার করা হবে। মোট ৩ হাজার ২৫০টি পোল মাউন্টেড বিতরণ ট্রান্সফরমার বসানো এবং অফিস ভবন কাম রেস্ট হাউজ, ডরমিটরি, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে নাগরিক সেবার গুণ গত মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।




রহস্যময় গোলাপি হ্রদ

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জলের রং কেমন? এমন প্রশ্নে অনেকেই বলবেন জল বর্ণহীন কিংবা কেউ বলবেন প্রকৃতির আলো-ছায়ায় নীল বা সবুজ বর্ণ। তবে তা দূর থেকে লাগলেও কাছে যেতেই বর্ণহীন হয়ে যায়। কিন্তু গোলাপি হ্রদ বা পিঙ্ক লেকের নাম শুনেছেন? ভাবছেন হ্রদের রং গোলাপি হয় কীভাবে? পৃথিবীতে আসলেই এমন কিছু লেক রয়েছে যেগুলোর রং গোলাপি। চলুন জেনে আসা যাক এমন কয়েকটি লেক সম্পর্কে।

লেক ন্যাট্রন হ্রদ
লেক ন্যাট্রন হ্রদটির সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এটি তানজানিয়া ও কেনিয়া এই দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত। হ্রদটি দেখতে টুকটুকে গোলাপির মতো হলেও ভীষণ বিপদজনক। সৌন্দর্য দেখে যে কেউ হ্রদে ঝাঁপ দিতে চাইবেন। কিন্তু সেই সাধ হয়তো আপনার পূরণ হবে না। কারণ এর সংস্পর্শে অভিযোজনহীম প্রাণীদের ত্বক ও চোখ পুড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’

বিজ্ঞাপন

সিভাশ লবণ উপহ্রদ
কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের মধ্যবর্তী ক্রিমিয়ান উপদ্বীপে অবস্থিত সিভাশ লবণ উপহ্রদ। হ্রদগুলোর জল অগভীর হলেও ক্রিমিয়ান উপদ্বীপের অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ এটি। এখান থেকে প্রতি মৌসুমে আন্তর্জাতিকভাবে লবণ সংগ্রহ করা হয় এবং মজুদ ও প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হয়।

লেক রেটবা
পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় সেনেগালের লেক রেটবা। ১ বর্গ মাইল আয়তনের এই গোলাপি হ্রদ সেনেগালীয়দের লবণ সংগ্রহ ও পর্যটনের অন্যতম উৎস। নভেম্বর-জুনের মধ্যবর্তী শুষ্ক মৌসুমে এখানে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। কেননা এসময় এর গোলাপি আভা ভালোভাবে ফুটে ওঠে।

 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: নিজের সন্তান হত্যা করে খেয়ে ফেলে যেসব প্রাণী

লাস স্যালিনাস দে তোরেভিজা হ্রদ
লাস স্যালিনাস দে তোরেভিজা হ্রদ ধীরে ধীরে গোলাপি রুপ ধারণ করে। এটি স্পেনে অবস্থিত। যদি কখনো হ্রদের প্রাণীদের প্রজনন মৌসুমে এই হ্রদে যান, তবে দেখতে পাবেন হাজারও গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গো ও জলজ পাখির আনাগোনা, যা হ্রদের সৌন্দর্য বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

বিজ্ঞাপন

হাট উপহ্রদ
এদিকে নানা ঋতুতে গোলাপি বর্ণের আবরণে পরিবর্তন আনে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার হাট উপহ্রদ। এই হ্রদের প্রধান রঙ গোলাপী হলেও এর অন্যান্য রঙ লাল, নীল, বেগুনি সমানভাবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে । শুভ্র সকাল ও সূর্যাস্তের সময় এই হ্রদের দৃশ্যপট অনেক সুন্দর দেখায়।




বিশ্বের যে ৫ স্থানে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ


চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  আধুনিক এই সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া একদিনও কল্পনা করা যায় না যেন। বিশেষ করে বাইরে বের হলে বা বেড়াতে গেলে এই ফোনের প্রয়োজন পড়ে আরও বেশি। কিন্তু এমনকিছু জায়গা আছে যেখানে বেড়াতে গেলেও আপনি সঙ্গে ফোন রাখতে পারবেন না। এমনকী মোবাইল ফোন বহন করার কারণে আপনাকে গুণতে হতে পারে জরিমানাও। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এটি সত্যি। জেনে নিন এমন ৫ স্থান সম্পর্কে-

সিস্টাইন চ্যাপেল, ইতালি

তামিলনাড়ুর মন্দির

অক্ষরধাম মন্দির, দিল্লি

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দিল্লির এই মন্দির দর্শনের সেরা জায়গা বলে মনে করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে পর্যটকরা তাদের মোবাইল ফোন অক্ষরধাম মন্দির চত্বরে নিয়ে যেতে পারবেন না। সেখানে গেলে মোবাইল ফোন আপনাকে বাড়িতে রেখে যেতে হবে।

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রাম জন্মভূমি কমপ্লেক্সের সম্পূর্ণ এলাকায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। শুধু কি মোবাইল ফোন? সেইসঙ্গে ক্যামেরা, ঘড়ি, বেল্ট এবং যেকোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও এখানে নিষিদ্ধ।

ইয়ালা জাতীয় উদ্যান, শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার এই বিখ্যাত জাতীয় উদ্যান ইয়ালা। এই উদ্যানে বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করার জন্য এর ভেতরে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে ২০১৫ সাল থেকে। কারণ এর আগে সেখানকার গাইডরা বন্য প্রাণীদের দেখার জন্য ইচ্ছামতো মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। যা প্রাণীগুলোর জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এরপর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এলিট আইল্যান্ড রিসর্ট, ক্যারিবিয়ান বিচ

ক্যারিবিয়ান বিচের এলিট আইল্যান্ড রিসর্টে মোবাইল নিষিদ্ধ নীতি চালু করা হয়েছিল ২০১২ সালে। এখানকার সমস্ত সৈকতে নিষেধাজ্ঞা লেখা সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। সেখানে চেক-ইন করার সময় এই নীতিগুলো সম্পর্কে পর্যটকদের জানিয়ে দেওয়া হয়।




পদ্মা সেতুর কল্যাণে সকালের তাজা পেয়ারা দুপুরে ঢাকায়

এস এম পারভজ (পিরাজপুর): জেলার নেছারাবাদ উপজলার আটঘর কুড়িয়ানার উৎপাদিত দেশী জাতীয় পেয়ারার এখন ভর মৌসুম। প্রতিদিন শুক্র ও সোমবার হাটের দিন ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই পেয়ারার বিকিকিনিতে সরগরম থাকছ উপজলার কুড়িয়াানা খালর ভাসমান হাট-বাজারগুলো।

দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা সারি সারি ট্রাক-পিক-আপ ভ্যানসহ ইঞ্জিন ট্রলার স্বল্পমূল্য পেয়ারা ক্রয় করে দিনে দিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকাসহ, নোয়াখালী, বরিশাল, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে।

তব, ঢাকার পয়ারার পাইকাররা এই মৌসুমে  বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলবাসির স্বপ্নের  পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেয়ায় ব্যাবসায়ীরা এখন ফেরির ৮-৯ ঘটার বিড়ম্বনার পরিবর্তে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘটার মধ্য ঢাকার মানুষর কাছে টসটসে স্বরপকাঠির তাজা পেয়ারা উপহার দিত পারছেন।

পিরাজপুর জেলার  প্রাচীন ব্যাবসা সমৃদ্ধ উপজলার নাম নেছারাবাদ। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ ‘আটঘর কুড়িয়ানা’ ইউনিয়নে রয়েছে পেয়ারার অসংখ্য বাগান। অসংখ্য  ছোট-বড় খালের বাগান থেকে গৃহস্থরা নিজেরাই পেয়ারা ডিঙ্গি নৌকায় করে খালের ভাসমান হাটে পেয়ারা বিক্রয় করেন। সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে পেয়ারা বিকিকিনি। দূর-দূরান্তের পাইকার এসে আড়তদারদের মাধ্যমে পেয়ারা ক্রয় করেন। গত বছরর মতই এবছরও  পেয়ারা প্রতি মন বিক্রয় হছ ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। তবে, এ বছর ফলন ভালো হলেও বর্ষার কারণে বাজারে এসেছে কিছুটা বিলম্বে।

কৃষি বিভাগের মতে, কেবল মাত্র পিরাজপুর জেলার স্বরপকাঠিতেই রয়েছে ৬শ’ ৫৭ হক্টর জমিত ২হাজার ২৫টি বাগান। যেখান প্রায় ১৬ লাখ মন পয়ারা প্রতি বছর উৎপাদিত হয় এবং যার মুল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা বলে জানায় কৃষি বিভাগ। পেয়ারাকে পুঁজি করে প্রত্যক্ষ ও পরাক্ষভাবে প্রায় ৭-৮ হাজার মানুষর প্রধান উপার্জনের মাধ্যম এই পেয়ারা।

আটঘর কুড়িয়ানা ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার জানান, প্রতি বছর পেয়ারার মৌসুম শুরু হলে দূর-দূরান্ত থেকে  পেয়ারার স্বাদ, বাগান ও মনোরম পরিববেশকে মনামুগ্ধকর করতে ছোট ছোট ট্রলার, মাটর বাইক ও বিভিন্ন বাহনে আসছেন নারী-পুরুষসহ সব ধরণের পর্যটক। ভ্রমন পিপাশুদের ঘিরে এখানে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু ফ্লটিং পেয়ারা পার্ক ও পিকনিক কর্নার, রয়েছে পেয়ারা বাগানের মধ্য দিয় নান্দনিক বিশাল কাঠের সাঁকো। আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য রয়েছে একটি পুলিশ ফাঁড়ি।

পিরাজপুরের নেছারাবাদ উপজলার আটঘর-কুড়িয়ানা, জিদাকাঠি, আদমকাঠি, ভীমরলী, ধলহারসহ বিভিন্ন পেয়ারা বাগানের খ্যাতি প্রায় ১শত ৩০ বছরের পুরনো। এখানকার চাষীরা বলছন, সরকারের আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্ত ব্যাংক ঋন এবং  ‍কৃষি কর্মকর্তাদের সময়োপযাগী পরামর্শসহ হিমাগার স্থাপন করা হল তারা আরও লাভবানন হবেন।




পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছে কুয়াকাটার ব্যাবসায়ীরা; হাজার কোটি টাকার ব্যবসা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): একই স্থানে দাড়িঁয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন রুপ দেখা যায় পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। আর তিনবছর আগেও বর্ষা মৌসুমে এ সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের দেখা মিলতো না। এসময়টাতে অলস সময় পার করতো পর্যটন খাত নির্ভর ব্যবসায়ীরা। ঋণ করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। সময়রে সাথে সাথে সেই প্রেক্ষাপর্ট পরিবর্তন হয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিনই নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির কাছে ভির করছে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক।

পদ্মা সেতু চালু হবার পর থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসা বেড়েই চলছে। পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে এক বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার ওপর আয় করেছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। রিসোর্ট-হোটেল, মোটেল, বিভিন্ন প্রজাতির সুটকি, পরিবহন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের কেনাকাটাসহ বিভিন্ন খাতে এই লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এতে বিপুল পরিমানে রাজস্ব আয় করেছে সরকার।

আগে পর্যটন মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের কাছে মৌসুম। কুয়াকাটায় ঝিনুকের ২০০ দোকান রয়েছে আর আচার, চকলেটের দোকান রয়েছে ১৫০ টি। এতে পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

কুয়াকাটার অন্যতম হোটেল সিকদার রিসোর্টের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. আল আমিন জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা বেশি। তাই আমরাও সেই অনুযায়ী সেবার মান বৃদ্ধিসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছি। আমাদের এখানে আগে ১২টি ভিলা ও ৬৮টি রুম ছিল। বর্তমানে আরও ২০টি ভিলা ও আরও ৩৪টি রুম তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ১৩-তলা বিশিষ্ট সিকদার টাওয়ার থেকে সরাসরি সমুদ্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য টাওয়ারে অত্যাধুনিক মানের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

মা শুঁটকি হাউজের কর্নধার হাসান মাহমুদ বলেন, পদ্মা সেতু চালু হবার পর থেকে প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। এসময় কুয়াকাটায় ৫০টি সুটকির দোকান থেকে অনেক পর্যটকরা পরিবারের জন্য সুটকি মাছ ক্রয় করে থাকেন। সিজনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টনকে টন সুটকি এখান থেকে যায় । এতে সব মিলিয়ে হাজার কোটি টাকা ব্যবসা হয়।

কুয়াকাটা শুটকি ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি মো. আলম খান জানান, পদ্ম সেতু দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রীক ব্যবসায়ীদের জন্য আর্শীবাদ। স্থানীয়ভাবে সবকিছুর ব্যবসা বেড়েছে। পরিবহন থেকে শুরু করে অনেক ধরনের ব্যবসা আছে, যা একটার সঙ্গে আরেকটা সম্পর্কিত। পদ্মা সেতু চালু হবার পর থেকে প্রতি মাসে ৩০০ কোটি টাকার আয় করেছে ব্যবসায়ীরা। এতে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ীদের আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

দেশি-বিদেশী পর্যটকদের ধরে রাখতে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটি আরও প্রশস্ত করা গেলে এ ধারা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে জানালেন ব্যবসায়ী ও র্পযটকরা।




ভরা বর্ষায় জমজমাট ভাসমান পেয়ারা হাট, পদ্মা সেতুর ফলে বেড়েছে পর্যটক

 

এস এল টি তুহিন ( বরিশাল) : পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঝালকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাট। পদ্মা সেতু হওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পেয়ারার ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তবে প্রচন্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে কমেছে ফলন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঝালকাঠি, বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠি উপজেলার ৫৫ গ্রামের পেয়ারা বাগানকে ঘিরে ভাসমান পেয়ারার হাট পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গড়ে উঠেছে পার্ক ও খাবার দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে জীবিকার অবলম্বন এখন ‘পেয়ারা’। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে পেয়ারার সমারোহ।

পর্যটকরা পেয়ারা চাষিদের কাছ থেকে কয়েক কেজি পেয়ারা কিনে হাতে উঁচু করে ধরে ছবি তোলেন। তখন তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক খেলে।

রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা তুলসি আক্তার। ঝালকাঠির ভীমরুলীতে পেয়ারার ভাসমান হাট দেখতে এসেছেন তিনিও। তার ভাষায়, ” এখানে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে’।

বরগুনা থেকে চারটি মোটরসাইকেলে ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে এসেছেন ৮ যুবক। এর মধ্যে টিম পরিচালনাকারী আফজাল তালুকদার জানান, এশিয়া মহাদেশে থাইল্যান্ডের পরে বাংলাদেশের একমাত্র ভাসমান পেয়ারা বাজার ভীমরুলীতে। তবে এখানে আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা। ভ্রমণের জন্য ডিঙি নৌকা সংকট রয়েছে।

শিক্ষা সফরে আসা বরিশাল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পেয়ারার বড় মোকাম ভীমরুলীতে কোনো আবাসন ও ভালো শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন। কিন্ত যাওয়ার সময় আমাদের ওপর একটা বিরূপ ধারণা নিয়ে যান।

জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির ব্র্যান্ড পেয়ারা ও শীতলপাটি। চাষিদের দিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বার উন্মোচন হয়েছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে। কারণ বিশ্বের পর্যটকরা এখন সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে ঝালকাঠি এসে পেয়ারা রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।

তিনি আরো জানান, পেয়ারা বাগানে এসে উচ্চমাত্রার সাউন্ড বক্স বাজিয়ে পরিবেশ দূষণরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলা, বরিশালের বানারিপাড়া ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ৫৫ গ্রামজুড়ে রয়েছে পেয়ারা রাজ্য। ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পেয়ারা অঞ্চলে এ বছর পর্যটকদের আগমন অনেক বেশি। পেয়ারার সবচেয়ে বড় মোকাম সদর উপজেলার ভীমরুলীর ভাসমান হাটে পর্যটকদের নিরাপত্তার সুবিধা দিতে ঝালকাঠি থানা পুলিশের ভূমিকাও প্রশংসাযোগ্য। পর্যটকরা ড্রোন ও ক্যামেরা দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলছেন। ধারণ করছেন ভিডিও।

প্রতি বছর আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাস পেয়ারার মৌসুম হলেও এবছর ফলন দেরিতে হওয়ায় শ্রাবণে পেয়ারা নামতে শুরু করেছে।

ঝালকাঠির কাঁচাবালিয়া গ্রামের পেয়ারা চাষি আল আমিন মিয়া জানান, এবার মৌসুমের শুরুতেই ২০ টাকা কেজি দরে প্রতি মণ পেয়ারা ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে খুচরা বিক্রি করলে প্রতি মণ ১ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে, বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ২৬ গ্রামের ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন কম হলেও পদ্মা সেতুর কারণে দাম অনেক বেশি পাচ্ছেন। এতে ক্ষতি পূষিয়ে উঠতে পারবেন। এ বছর হেক্টর প্রতি সাড়ে ১১-১২ মেট্রিকটন পেয়ারার ফলন হয়েছে।