
এস এল টি তুহিন ( বরিশাল) : পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঝালকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাট। পদ্মা সেতু হওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পেয়ারার ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তবে প্রচন্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে কমেছে ফলন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঝালকাঠি, বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠি উপজেলার ৫৫ গ্রামের পেয়ারা বাগানকে ঘিরে ভাসমান পেয়ারার হাট পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গড়ে উঠেছে পার্ক ও খাবার দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে জীবিকার অবলম্বন এখন ‘পেয়ারা’। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে পেয়ারার সমারোহ।
পর্যটকরা পেয়ারা চাষিদের কাছ থেকে কয়েক কেজি পেয়ারা কিনে হাতে উঁচু করে ধরে ছবি তোলেন। তখন তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক খেলে।
রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা তুলসি আক্তার। ঝালকাঠির ভীমরুলীতে পেয়ারার ভাসমান হাট দেখতে এসেছেন তিনিও। তার ভাষায়, ” এখানে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে’।
বরগুনা থেকে চারটি মোটরসাইকেলে ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে এসেছেন ৮ যুবক। এর মধ্যে টিম পরিচালনাকারী আফজাল তালুকদার জানান, এশিয়া মহাদেশে থাইল্যান্ডের পরে বাংলাদেশের একমাত্র ভাসমান পেয়ারা বাজার ভীমরুলীতে। তবে এখানে আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা। ভ্রমণের জন্য ডিঙি নৌকা সংকট রয়েছে।
শিক্ষা সফরে আসা বরিশাল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পেয়ারার বড় মোকাম ভীমরুলীতে কোনো আবাসন ও ভালো শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন। কিন্ত যাওয়ার সময় আমাদের ওপর একটা বিরূপ ধারণা নিয়ে যান।
জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির ব্র্যান্ড পেয়ারা ও শীতলপাটি। চাষিদের দিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বার উন্মোচন হয়েছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে। কারণ বিশ্বের পর্যটকরা এখন সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে ঝালকাঠি এসে পেয়ারা রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।
তিনি আরো জানান, পেয়ারা বাগানে এসে উচ্চমাত্রার সাউন্ড বক্স বাজিয়ে পরিবেশ দূষণরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলা, বরিশালের বানারিপাড়া ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ৫৫ গ্রামজুড়ে রয়েছে পেয়ারা রাজ্য। ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পেয়ারা অঞ্চলে এ বছর পর্যটকদের আগমন অনেক বেশি। পেয়ারার সবচেয়ে বড় মোকাম সদর উপজেলার ভীমরুলীর ভাসমান হাটে পর্যটকদের নিরাপত্তার সুবিধা দিতে ঝালকাঠি থানা পুলিশের ভূমিকাও প্রশংসাযোগ্য। পর্যটকরা ড্রোন ও ক্যামেরা দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলছেন। ধারণ করছেন ভিডিও।
প্রতি বছর আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাস পেয়ারার মৌসুম হলেও এবছর ফলন দেরিতে হওয়ায় শ্রাবণে পেয়ারা নামতে শুরু করেছে।
ঝালকাঠির কাঁচাবালিয়া গ্রামের পেয়ারা চাষি আল আমিন মিয়া জানান, এবার মৌসুমের শুরুতেই ২০ টাকা কেজি দরে প্রতি মণ পেয়ারা ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে খুচরা বিক্রি করলে প্রতি মণ ১ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে, বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ২৬ গ্রামের ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন কম হলেও পদ্মা সেতুর কারণে দাম অনেক বেশি পাচ্ছেন। এতে ক্ষতি পূষিয়ে উঠতে পারবেন। এ বছর হেক্টর প্রতি সাড়ে ১১-১২ মেট্রিকটন পেয়ারার ফলন হয়েছে।