তালতলীর শুঁটকিপল্লীতে উৎসবের আমেজ

বরিশাল অফিস: বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে শতাধিক শুঁটকিপল্লী রয়েছে। স্বাদুপানির দেশি মাছের শুঁটকিপল্লী বলে পরিচিত তালতলীর আশারচর। এ শুঁটকিপল্লীতে জেলেদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ পল্লীতে এখন সারি সারি শুকানো হচ্ছে নানা জাতের মাছ। এই পল্লী থেকেই খাবার উপযোগী হয়ে শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে দেশ-বিদেশে।

জানা যায়, আশারচর, সোনাকাটা, ফকিরহাট, জয়ালভাঙ্গা চরে অগ্রহায়ণ থেকে চৈত্র- এই পাঁচ মাস সরব থাকে শুঁটকিপল্লীর ক্রেতা, বিক্রেতা ও শ্রমিকরা। এই এলাকায় প্রায় শতাধিক শুঁটকিপল্লীতে ১২ হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এখানকার প্রতিটি শুঁটকিপল্লী থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০০ থেকে ১৫০ মণ শুকনো মাছ রপ্তানি হচ্ছে। নদী থেকে কাঁচা মাছ শুঁটকিপল্লীতে নিয়ে আসার পর নারী শ্রমিকরা তা পরিষ্কার করেন। এরপর মাছগুলো পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে বানায় (মাচা) শুকানো হয়। তিন-চার দিনের রোদে শুকিয়ে শক্ত হয় মাছগুলো। নদী থেকে চিংড়ি, লইট্টাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ এখানে এনে শুকানো হয়। শুকানোর পর দুই-আড়াই কেজি শুঁটকি বিক্রি করে ২ থেকে ৪শ টাকা লাভ থাকে। এখানকার শুঁটকিতে কোনো ধরনের বিষ-কীটনাশক ছাড়াই স্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়। এই এলাকার শুঁটকির চাহিদা থাকায় এখান থেকে শুঁটকি চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, খুলনা ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয় এখানে। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্টা, পোপা অন্যতম। এছাড়াও চিংড়ি, ছুরি, ভোল, মেদসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রয়েছে চাহিদা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছুরি মাছের শুঁটকি ৭শ থেকে ৮শ টাকা, রূপচান্দা এক হাজার, মাইট্যা ৬০০ থেকে এক হাজার, লইট্যা ৮শ থেকে ৯শ, চিংড়ি ৭শ থেকে ৮শ টাকা এবং অন্যান্য ছোট মাছের শুঁটকি ২০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এখানকার শুঁটকিপল্লীর মাছের গুঁড়ি সারা দেশেই পোলট্রি ফার্ম ও ফিশ ফিডের জন্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

তালতলীর আশারচর শুঁটকিপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, জেলে ও মালিক পক্ষ মিলে ছয় শতাধিক মানুষ কাজ করছেন। সেখানে প্রায় ৩০টি ছোট ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছে। পল্লীতে কেউ মাছ মাচায় রাখছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, কেউবা শুকনো মাছ কুড়িয়ে জমা করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন চরের শুঁটকিপল্লীতে শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে।

আশারচর শুঁটকিপল্লীর আলম খান  বলেন, ‘নদীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়ায় এই বছর শুঁটকি উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তাছাড়া এ বছর কাঁচা মাছের চাহিদা বেশি কিন্তু দাম কম থাকায় শুঁটকিতে লাভ ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে সরকারিভাবে দেশে-বিদেশে এই শুঁটকি রপ্তানি হলে খুব লাভবান হওয়া যাবে।’

তালতলী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সরদার বলেন, ‘এ উপজেলা শুঁটকি মাছের জন্য বিখ্যাত। এই পেশাকে আরও আধুনিকায়ন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।’




নেছারাবাদে ক্ষুদ্র ঋণে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে ১৬ হাজার মানুষের

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : সরকারের পিষ্ঠপোষকতায় বৈদেশিক মুদ্র অর্জনে সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে নেছারাবাদের ফুল চাষ। নেছারাবাদে ক্ষুদ্র ঋণে ফুলের আবাদে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষের। আর এতে সাবলম্বী হয়ে উপজেলার হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক স্কুল/কলেজ পড়-য়া ছেলেরা। বর্হিবিশে^ প্রায় তিন ‘শত বছর আগে ফুলের সুচনা ঘটলেও, এ অঞ্চলে ফুলের বাণিজ্যিক ভাবে আবাদ শুরু হয় প্রায় ১৯৭২ সালের। সারা বছর অনিন্দ্য ফুলের সৌন্দর্যে চাদরে ডাকা স্বরুপকাঠির(নেছারাবাদ) ফুল চাষের আবাদ অঞ্চলগুলো।

পিরোজপুরের স্বরুপকাঠির ছারছীনা, অলেংকারকাঠি, আরামকাঠি, জগন্ন্াৎকাঠি, কুনিহারী,পান্নাল্লাপুর, সুলতানপুর, সঙ্গীতকাঠি, মাহামুদকাঠিসহ চারিদিকে দুই শতাধিক নার্সারিতে হাজারো রংঙের ফুলের সমরাহকে ঘিরে গ্রামকে-গ্রাম। পল্লীর মাঠ জুড়ে ফুটে আছে- কারনেশন, কসমস, প্যানজি, পপি, অর্কিড়, সিলভিয়া, ডালিয়া, গাঁদা, শাপলা, বেলী, গ্লাডিওলাস,গোলাপ, রজনীগন্ধা, টিউলিপ, অ্যাস্টার গোলাপ,কলাবতী, জুই, ডেইজি, ডায়াস্থান, জিনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, পদ্ম,, সূর্যসুখী, স্টারপিটুনিয়া, পপি, অর্কিড়, সিলভিয়া, ভারবেন, লুপিংস, ফ্লক্স, পর্টুলেকা, এন্টিরিনাম লুপিংস, মনিং, ক্যালেন্ডলা, গ্লোরি, সুইটপি, ন্যাস্টারশিয়াম, হলিংকস, জারবেরা,অ্যাজালিয়া, চেরি, বাগান বিলাস, বিডিøং হার্ট, সহ শতাধিকফুল। তবে বিশ্বের পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের জন্য বিখ্যাত হলেও, অনুকূল পরিবেশ থাকায় অর্ধশত বর্ষ আগে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় এসব ফুলের চাষ। অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভের আশায় প্রতিদিন বাড়ছে ফুলের আবাদ, বাড়ছে ফুল চাষী, গ্রামকে-গ্রাম ছড়িয়ে পড়ছে ফুলের আবাদ।

সারি-সারি লাল, হলুদ, কমলা আর সাদা রংঙের সমহার দেখার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে ফুলের মিলন মেলার দর্শনে। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, ২ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ,২১ ফের্রুয়ারী, ১৬ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস উৎয্পানে উপলক্ষে চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও রপ্তানী করা হয় এখানকার ফুল। নেছারাবাদে প্রায় ১৫৩ হেক্টর জমিতে প্রায় দেড় শতাধিক নার্সারিতে ১১ হাজার শ্রমজীবী নারী-পুরুষ ফুল চাষে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ ভাবে আয়ের পথ খুজে পেয়েছেন। এখানকার বসতি চাষীরা অধিক লাভের আশায় ফুলের চাষের আগে প্রায় ৭২-৭৩ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ ও ঔষুধী গাছের চারার কলম উৎপাদন করে আসছেন।

এসব ঔষধী চারাগুলো ্এখন ফুলচাষের পাশাপাশি বাগানের চারপাশের কান্দিতে ভরা। কার্তিক মাসের প্রথম দিকেই ফুলের বিজ রোপন করা হয়, রোপনের প্রায় ৪০ দিনেই ফুলফোটা শুরু হলেও একটি ফুলের জীবন কাল থাকে ৪-৬দিন। সৌন্দর্য্যরে প্রতীকফুলের জীবনকাল ক্ষীন হলেও বিশ^জুড়ে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় দিবসগুলোতে ফুলের শোভাবর্ধন ছাড়া সম্ভাব হয় না।

কোনো-কোনো ফুলগাছ ফুলফোটার ৪১দিনের মধ্যে গাছটি মরে যায়, আবার অনেক ফুল গাছের জীবনকাল থাকে প্রায় আড়াই বছর। তবে ফুল শুধূ সৌন্দর্য্যরে শোভাবর্ধন করে না এটি দেশের অর্থকারী ফসলও বটে। মৌমাছি ফুল থেকে মধূ সংগ্রহ, ঔষুধী ফুল থেকে ঔষুধ তৈরী, সূর্যমুখী ফুল থেকে সু-গন্ধী তৈল উৎপাদন, টিউলিপ ও অ্যাস্টার ফুল দ্বারা বিভিন্ন ধরনে মূল্যবান সেন্ট তৈরী, সু-গন্ধযুক্ত ফুলের নির্যাস থেকে উন্নতমানের পারফিউম, সেন্ট ও আতর ইত্যাদি তৈরীর প্রায় শতাধিক শিল্পকারখানা দেশে গড়ে উঠায় ৫৫ হাজার শ্রমজীবী মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে।

সারা দেশে ফুল সংশ্লিষ্ট এসব পণ্য বর্হিবিশ্বে রপ্তানি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সারা দেশে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার সমমুল্যের মুদ্রা অর্জন করছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সুত্রে জানা যায়, এছাড়াও ফুল চাষের মাধ্যমে ফুল চাষী, ফুল বিক্রিতা, ফুল দোকানী, বড় ব্যবসায়ী, রপ্তানী ব্যবসায়ী, ফুল দ্বারা বিভিন্ন শিল্পকারখানার পণ্য উৎপাদনের শ্রমিক সংখ্যাও প্রায় অর্ধলক্ষ।

কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্র অর্জনের আর একটি সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে এই ফুল চাষ। ফুলঅতীত কালে কেবল মানুষের মনের ক্ষুধা মেটালেও আজকের দিনে ফুল থেকে উপর্জিত টাকা দিয়ে অনেকেরই পেটের ক্ষুধা মিটাচ্ছেন।




১-২ ডিসেম্বর কুয়াকাটা উৎসব, থাকছে বিশেষ ছাড়

 বরিশাল অফিস: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী আয়োজন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল কুয়াকাটা’। এ আয়োজনের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এ সময় বিশেষ ছাড় রাখছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুয়াকাটায় হোটেল বিচ-হ্যাভেনের হলরুমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, কুয়াকাটার সব স্টেকহোল্ডার ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে এক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

‘মুজিবস বাংলাদেশ’ উদযাপনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয় এ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মহিবুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানও।

সশরীরে উপস্থিত ছিলেন- কুয়াকাটা স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার, হোটেল সমুদ্র বিলাসের মালিক ডা. ইসমাইল ইমন, রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কলিম মাহমুদ, হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ, কুয়াকাটা শুঁটকি মার্কেট সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ, ফিসফ্রাই মার্কেটের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান।

বাংলাদেশের পর্যটন, ইতিহাস, ঐতিহ্যের, সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে ২৭ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দফায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের পর্যটনকে ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় ফেস্টিভালের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগামী ১ ও ২ ডিসেম্বর উৎসব উদযাপন করা হবে। এ আয়োজনে সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটার ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

এদিকে আয়োজন ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দিয়েছেন বিশাল ছাড়। উৎসব চলাকালে ওই দুদিন আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ ছাড়, ট্যুর অপারেটরদের মুনাফামুক্ত ট্যুর প্যাকেজ, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ২০ শতাংশ ছাড়, শুঁটকি মাছে ২০ শতাংশ ছাড়, ফিশ ফ্রাইয়ে ২০ শতাংশ ছাড়, ফ্রি ট্যুর গাইড সার্ভিস, ইজিবাইকে ৩০ শতাংশ ছাড় থাকবে।

ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত থাকার কথা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনের।




অবরোধে পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের কুয়াকাটায় এখন চলছে পর্যটনের ভরা মৌসুম। এরমধ্যেই সারাদেশব্যাপী টানা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ পালন করছে বিএনপি-জামায়াত।

হরতালের পর হাতে গোণা কয়েকজন পর্যটক থাকলেও সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণার পর তারাও সোমবার (৩০অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে কুয়াকাটা ছাড়া শুরু করেন। এতে কুয়াকাটা পর্যটন শিল্প ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে এমনিতেই এ সপ্তাহে পর্যটকদের আনাগোনা কম ছিল। এরপরেও কিছু বুকিং ছিল। তবে হরতাল ঘোষণার পরপরই বুকিংগুলো বাতিল হতে শুরু করে।

বিগত বছর গুলোয় এ সময়টাতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। হোটেল-মোটেলে কোনো সিট ফাঁকা থাকে না। আর এ বছর কুয়াকাটায় কোনো পর্যটক নেই। হোটেলের সব রুম খালি পড়ে আছে।

হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমাদের কোনো পর্যটক নাই। যারা স্টাফ আছে তাদের বেতন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারছি না। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে একসময় দেখা যাবে হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। পরিস্থিতির শিকার হয়ে স্টাফদের ছাটাই করতে হবে।’

এদিকে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নেমেছিলেন অনেকে। একদিকে ঋণের ভার অন্যদিকে লাগাতার লোকসানে দিশেহারা তারা। তাই সঙ্কট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় আসার আহবান জানিয়েছেন তারা।

হোটেল মোটেল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, যে সকল পর্যটক কুয়াকাটা অবস্থান করছিলো তারাও হরতালের কারণে রাতে কুয়াকাটা ত্যাগ করে। বর্তমানে কুয়াকাটায় কোন পর্যটক নেই।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, পর্যটন মৌসুমের শুরুতে আমরা একটা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখবে। এভাবে চললে পুরো মৌসুমে মুখ থুবড়ে পড়বে পর্যটন ব্যবসা।




মির্জাগঞ্জের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ।

জানা যায়, ৫০০ বছর আগে সুলতানি শাসন আমলে স্থাপিত হয় এ শাহী মসজিদটি। এই পুরাকীর্তিটি কাগজে-কলমে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অযত্ন-অবহেলায় এখন  ধ্বংসের পথে। এ মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মসজিদটির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তারপরও ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন।

পটুয়াখালী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মসজিদবাড়িয়া মসজিদ অবস্থিত।  সুলতান রুকনুদ্দীন শাহ বাকলা দখল করে ১৪৬৫ সালে মির্জাগঞ্জ থানার মজিদবাড়িয়া গ্রামে এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদে ৩টি দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যখচিত মেহরাব আছে। পূর্বদিকে ৩টি খিলান পথ, ৬টি ৮ কোণার মিনার ও সুদৃশ্য পিলার রয়েছে।

একটি বারান্দাযুক্ত মসজিসটির পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’টি করে জানালা রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দরজা-জানালার কপাট ও পিলারগুলোর অস্তিত্ব বিলীনের পথে।  বিশাল এক গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি রড ও সিমেন্ট ছাড়াই চুন সুরকি ও ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন একটি বড় দীঘি রয়েছে। মুসুল্লিরা সেখানে অজু ও গোসল করেন।

এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন পরগনার ইয়াকিন শাহ ও কালাশাহ। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব পাশেই রয়েছে আরও দুটি কবর। প্রতিবছর ৩০শে কার্তিক বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন করে এন্তেজামিয়া কমিটি। মাহফিলে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামারা ওয়াজ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার করলে মসজিদটি আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। শাহী মসজিদের ইমাম মওলানা মো. ইব্রাহীম জানান, প্রাচীন স্থাপত্যকলার উজ্জ্বল নিদর্শন এই মসজিদ দেখতে বহু দর্শনার্থী মজিদবাড়িয়া গ্রামে আসেন। এই মসজিদে যারাই নামাজ পড়েন, প্রশান্তিতে তাদের মন ভরে ওঠে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার   জানান, মসজিদ-সংলগ্ন রেস্ট হাউসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। রেস্ট হাউসসহ মসজিদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান (অতি. দা.) জানান, মসজিদটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে।




আগামী বছর থেকে উঠে যাচ্ছে বিজ্ঞান-মানবিক-বাণিজ্য বিভাগ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন থাকছে না। চালু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার মতো আলাদা বিভাগ বেছে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। সব শিক্ষার্থী পড়বে একই পাঠ্যবই।

২০২৫ সালে এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যখন দশম শ্রেণিতে উঠবে, তখন সেখানেও বিভাগ বিভাজনের সুযোগ থাকবে না। আর ২০২৬ সালে এ শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। সেখানে সবার পরীক্ষার বিষয় ও প্রশ্নপত্র একই থাকবে। মূল্যায়ন করা হবে সূচক বা চিহ্নভিত্তিক

সোমবার (২৩ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-২) সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণিতে বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) বিভাজন না থাকার বিষয়ে মাঠপর্যায়ে পত্র জারির প্রশাসনিক অনুমোদন নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।




টিকে থাকলো অষ্ট্রেলিয়া, ‘যদি’র মারপ্যাচে পাকিস্তান: যা বললেন বাবর আজম

 চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বাঁচা মরার লড়াইয়ে টিকে গেলো অষ্ট্রেলিয়া। ওপর দিকে ‘যদি’র সমীকরণে আটকে গেলো পাকিস্তান।

বিশ্বকাপের চলতি আসরে টানা দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় পায় পাকিস্তান। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পর আজ বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় পাকিস্তান।

শুক্রবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ড ৩৬৮ রান তাড়া করতে নেমে ৩০৫ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান ম্যাচ হারে ৬২ রানে।

খেলা শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, বোলিংয়ে প্রথম ৩৪ ওভারে আমরা অনেক রান খরচ করেছি। শুধু তাই নয়! আমরা বেশ কিছু ক্যাচও মিস করি; যে কারণে ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শকে সেঞ্চুরির আগে আটকাতে পারিনি।

বাবর আজম আরও বলেন, ব্যাটিংয়ে নামার আগে দলকে আমার বার্তা ছিল, আমরা এই রান তাড়া করে জিততে পারি। কারণ বিশ্বকাপে আমরাই রেকর্ড ৩৪৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছি। আজও আমাদের জয়ের টার্গেট ছিল। কিন্তু আমরা ভালো শুরুর পরও বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারিনি। যে কারণে ম্যাচটা হাত থেকে ফসকে যায়।




কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী নিরাপদ বিষমুক্ত শুঁটকি মেলা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে প্রথম বারের মতো নিরাপদ বিষমুক্ত শুঁটকি মেলা।

ভোক্তার কাছে স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ শুঁটকি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করেছে ‘এসইপি ও সংগ্রাম’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ট্যুরিজম পার্কের মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

সংগ্রামের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা রাজিব সরকারের সঞ্চালনায় ও সংগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মো. মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটার পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার, টোয়াক সভাপতি ইমতিয়াজ তুষার, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব, ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু, কুয়াকাটা শুঁটকি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মাহমুদ প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় অনেক বছর ধরে শুঁটকি প্রক্রিয়া জাতকরণ চলে আসছে। কিন্তু সেটি ছিল অবৈজ্ঞানিক ও অস্বাস্থ্যকর। পরিবেশের ক্ষতির বিষয় গুলো মেনে চলত না। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীরা শুঁটকিতে ডিডিটি নামক ক্যামিকেল প্রয়োগ করতেন। অথচ এ মরণব্যাধি বিষের ভয়াবহ দিকগুলো ছিল তাদের অজানা। সমস্যা গুলো সমাধানে উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রাম, পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) প্রকল্প চালু করে। এ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা তৈরি ও প্রসারের ব্যবস্থা গ্রহণ।

দুই দিন ব্যাপী মেলায় পর্যটকদের বিনোদনের জন্য সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।




কুয়াকাটার পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ রাখাইন জাদুঘর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): রাখাইনদের জীবন ও সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে কুয়াকাটায় নির্মাণ হয়েছে রাখাইন জাদুঘর। এখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের ব্যবহারের হাজার বছর আগের তৈজসপত্রসহ নানান শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। যা দেখতে ভিড় করছেন কুয়াকাটায় বেড়াতে আাসা পর্যটকরা।

রাখাইন জাদুঘর উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবমুখর ছিলো গোটা মিশ্রিপাড়া। সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় জমায় নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ।

প্রথম ধাপে, রাখাইনদের ব্যবহারের ২০ ধরনের উপকরণ আর তার স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। রয়েছে রাখাইন ভাষায় তালপাতায় লেখা পুঁথি, সেগুন কাঠের বাক্সসহ বিভিন্ন ধরনের পাত্র। পশুর হাড় দিয়ে তৈরি অস্ত্র, পিতলের ঘণ্টা, হরিণের চামড়াসহ নানান জিনিস। দেয়ালে আঁকা হয়েছে রাখাইনদের প্রথম রাজা চন্দ্রসূর্য ও শেষ রাজা মহাথামান্দার ছবিও।

দর্শনার্থীরা বলছেন, এর মাধ্যমে তারা রাখাইন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে পারছেন।

মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিত ও জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোক্তা জানান, এই জাদুঘর পর্যায়ক্রমে সমৃদ্ধ হবে।
মিশ্রি পাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিত উত্তম ভিক্ষু বলেন, আমরা আসা করছি সামনে আরও পর্যটক জাদুঘরে আসতে উৎসাহী হবে।

জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা রাখাইন মং লাচিং বলেন, রাখাইনদের সংস্কৃতির সাথে অন্যদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এ উদ্যোগ।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জাদুঘরে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকছে। তিনি বলেন, কুয়াকাটায় যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছেন- তারা সহজেই এ জাদুঘর ঘুরে রাখাইনদের সম্পর্কে জানতে পারবেন।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসনাইন পারভেজ জানান, জাদুঘরের নিরাপত্তায় যতোটুকু নিরাপত্তা দরকার- পুলিশের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হবে।

১৭৮৪ সালে আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আসার ২৩৯ বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটায় দুই শতাংশ জমির উপর নির্মাণ হলো রাখাইন জাদুঘর।




৩ দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় হাজারো পর্যটকদের ভিড়

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঈদে মিলাদুন্নবীসহ সরকারী ৩ দিনের ছুটি এবং পর্যটন মেলাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছে হাজারো পর্যটক।

বুধবার বিকাল থেকেই কুয়াকাটায় এ পর্যটকের আগমন শুরু হয়।

আগত পর্যটকরা সৈকতের বালিয়াড়িতে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন। অনেকে আবার সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসাচ্ছেন। কেউবা আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে তুলছেন সেলফি। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোত করছেন সাগরের মোজনীয় গর্জন। সব মিলিয়ে  সৈকতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

বাড়তি পর্যটকদের ভিড় বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মোঃ মহিদুল ইসলাম জানান, এ মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক পর্যটক বেড়েছে। আমি এর আগেও কুয়াকাটায় এসেছি। তবে আমি এত পর্যটক এর আগে কুয়াকাটায় কখন ও দেখিনি।

হোটেল মোটেল এসোসিয়েশন এর সাধারণত সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ জানান, একদিকে তিন দিনের ছুটি আরেক দিকে মেলা একে কেন্দ্র করে বিগত দিনের চেয়ে অনেক পর্যটক বেড়েছে। আজকেও অনেক পর্যটক আসছে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কানসাই হোটেলের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দীন বিপ্লব বলেন আমার হোটেলের৷ সব রুম বুকিং হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের ওসি হাসনাইন পারভেজ বলেন, কালকে থেকে পর্যটক আসা শুরু করেছে, আজকেও অনেক পর্যটক আসছে। আমরা তাদের নিরাপত্তায় প্রস্তুত আছি।