বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে যাবে জেদ্দা টাওয়ার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। বিশ্বের দীর্ঘতম ভবন হিসেবে স্বীকৃত। সব মিলিয়ে উচ্চতা ৮২৮ মিটার। একাধিক রেকর্ড তৈরি করেছে এই ভবন। সারা দুনিয়ায় বিখ্যাত হয়ে আছে এই ভবনটি। ২০০৪ সালে এই বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে এটা খুলে দেয়া হয়।

তবে সেই সুনাম হয়তো আর থাকছে না। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুসারে জানা গেছে, সৌদি আরবে এমন ভবন তৈরি হচ্ছে যে সেটা ছাপিয়ে যেতে পারে বুর্জ খলিফাকেও।

ওই টাওয়ারের নাম জেদ্দা টাওয়ার। তার আরেক নামও রয়েছে কিংডম টাওয়ার। এই টাওয়ারটির উচ্চতা ১ কিমি ৩২৮১ ফুট। জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি বিল্ডিংয়ে একদিকে যেমন বিলাসবহুল আবাসিক ভবন রয়েছে, অফিস স্পেস রয়েছে সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, তেমনি রয়েছে নানা সুযোগ-সংবলিত একাধিক অংশ।

এমনকি এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু অবসার্ভেটরি বলে গণ্য করা হচ্ছে। তবে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অবজার্ভেটরি রয়েছে সেটা কতটা উচ্চতায় সেটাও অবশ্য মাথায় রাখা হচ্ছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস




হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকরা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও পটুয়াখালীতে তীব্র শীতের সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। তবে শীত উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেরাচ্ছেন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা। আগত পর্যটকদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক সিয়াম বলেন, শীতে ঘুরতে ভালো লাগে। এতে অন্যরকম একটি ভালো লাগা কাজ করে। শীতের সমুদ্র সৈকত সত্যি অন্য রকম।

রাজশাহী থেকে আসা মুনতাসির বলেন, পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছি। আশার পর সত্যি ভালো লাগছে। তবে বিচটা একটু নোংরা মনে হলো, পরিষ্কার হলে ভালো হতো।

সৈকতে ঝিনুক বিক্রেতা মো. শামিম বলেন, দীর্ঘ এক মাস পরে গতকাল থেকে সৈকতে কিছু পর্যটক আসছে। আগত পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা ভালো হতো। বিদেশি পর্যটকরা এলে বিক্রি ভালো হয়।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরে পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামনের দিনে পরিবেশ ভালো থাকলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি বলেন, শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিলো ৯৩ শতাংশ।




পটুয়াখালী-৪, লড়াই জমিয়ে তুলেছেন মামাতো-ফুফাতে ভাই

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : সাগর পারের সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪ আসনে তুমুল লড়াই জমিয়ে তুলেছেন দুই মামাতো-ফুপাতো ভাই। তাদের এক জন বর্তমান সংসদ সদস্য আবারো পেয়েছেন নৌকার মনোনয়ন। অন্যজনও একই দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী, হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেও পিছপা হচ্ছেন না তারা।
কলাপাড়া আর রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন পাটুয়াখালী-৪। এই নির্বাচনী এলাকার সাগরকন্যা কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর আর চর মোন্তাজের মত দুর্গম এলাকায় ভোটারদের দরজায় যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

১৯৯৬ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার আসনটি দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে ২০০১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিনবার জয়ী মাহবুবুর রহমান ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তবে ২০১৮ সালে তার বদলে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন মহিব্বুর রহমান, এবারো মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
তবে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান। তিনি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মামাতো-ফুপাতো ভাই, কিন্তু ভোট যুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগেরই আরেক সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনিও।

এরই মধ্যে এই তিন প্রার্থীর সমর্থকদের তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। তবে ভোটারদের ধারণা শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবেন দুই মামাতো-ফুপাতো ভাই।

এই তিনজন ছাড়াও পটুয়াখালী-৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি, জাসদ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। তবে ভোটের মাঠে তাদের তেমন কোন প্রচারই নেই।




বছরের ১ম দিনেও কাঙ্ক্ষিত পর্যটক নেই কুয়াকাটায়

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : প্রতি বছরই শেষ সূর্যাস্ত ও প্রথম সূর্যোদয় উপভোগ করতে বরাবরই কুয়াকাটায় আগমন ঘটে হাজারো পর্যটকদের। আর এ উপলক্ষে বাড়তি চাপ তৈরি হয় পর্যটন কেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। তবে প্রতিবছরের ন্যায় এবছর হোটেল-মোটেল ও ব্যবসায়ীদের আগাম প্রস্তুথ থাকলেও তেমন পর্যটকের নেই।

সোমবার (১ জানুয়ারি) সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদন স্পট সহ বিভিন্ন স্থানকে রঙ্গিন লাইট, বেলুন দিয়ে সাজিয়ে রাখলেও দেখা মিলছে না পর্যটক এর । এতে কাঙ্ক্ষিত বুকিং না পেয়ে হতাশ বেশীরভাগ হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিউ ইয়ারের কাছাকাছি কোনো সরকারি বন্ধ না থাকা এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রথম শ্রেণীর হোটেলগুলোতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেনীর হোটেলগুলোতে কোন প্রকার অগ্রিম বুকিং না থাকায় কাঙ্খিত পর্যটক থেকে বঞ্চিত পর্যটক ব্যবসায়ীরা।

হোটেল খান প্যালেসের পরিচালক মো. সাকুর বলেন, প্রতি বছর ১ জানুয়ারির একসপ্তাহ আগে আমাদের পুরো হোটেল অগ্রীম বুকিং পেতাম কিন্তু বর্তমানে আমাদের মোট রুমের মাত্র ২০ শতাংশ রুম বুকিং পেয়েছি আগামী দুই দিনে ৩০ শতাংশ রুম বুকিং পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা যে প্রস্তুতি সে পরিমান পর্যটক এই বছর পাচ্ছি না।

হোটেল সমুদ্র বিলাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইসমাইল ইমন বলেন, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হরতাল-অবরোধের ধাক্কায় নিউ ইয়ার এর মত বড় বাজারেও আমরা লোকসান দিচ্ছি। এই মুহুর্তে আমাদের রুম খালি যাচ্ছে যা করোনাকালীন সময়ের পরে এই প্রথম।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, বছরে যতগুলো বন্ধে কুয়াকাটায় পর্যটকে টইটুম্বুর থাকে তারমধ্যে নিউ ইয়ার অন্যতম। তাই এই দিনকে কেন্দ্র করে আমাদের অনেক আয়োজন থাকে তবে আকাঙ্খার ২০ শতাংশও বুকিং হচ্ছে না। যে কারনে হোটেল মালিক ও পর্যটকদের সেবা দেয়া ২৬টি পেশার মানুষ এখন হিমশিম খাচ্ছে। যা পর্যটকদের জন্য হুমকির।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিসেম্বর জুড়ে পর্যটকদের চাপ। তবে বর্তমানে কিছুটা কম তারপরেও সার্বিকভাবে আমরা তৎপর রয়েছি। যাতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।




কুয়াকাটায় ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগ

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় কয়েক হাজার ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাদের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটির ওপর তেমন কোনো জ্ঞান নেই। দক্ষ কর্মীও নেই। এ কারণে পর্যটকদের সঠিক সেবা তারা দিতে পারছে না। এবার সে ঘাটতি পূরণে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব পর্যটককে সর্বোচ্চ সেবা দেয়া। আমরা যত সেবার মান বৃদ্ধি করতে পারব, পর্যটক তত সন্তুষ্ট হবেন। পর্যটকদের আগমন আরো বৃদ্ধি পাবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন বেড়েছে। কিন্তু অদক্ষ ব্যবসায়ীদের যদি ট্রেনিংয়ের আওতায় না আনা হয়, অদূর ভবিষ্যতে পর্যটকের চাপ কমতে থাকবে। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল মোহাম্মদ গোলাম সাদেক বলেন, ‘ঢাকা-কুয়াকাটা চার লেন সড়ক এবং রেল সংযোগ চালু হলে কুয়াকাটায় পর্যটকের চাপ বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকের আগমনও বাড়বে। সুতরাং পর্যটকের সেবার মান নিশ্চিতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগ সময় উপযোগী।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন শিল্পে তরুণ শ্রম শক্তি কাজে লাগাতে সরকার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চার একর জমির ওপর এ ইনস্টিটিউটটি নির্মিত হবে। আমাদের কার্যক্রম চলমান, জমি পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।’




সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি-ভাঙচুর

স্থানীয়রা জানায়, খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ইউপিডিএফের চার নেতাকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সংগঠনটির ডাকে অবরোধ পালিত হচ্ছে। এরমধ্যে সাজেক যাওয়ার পথে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের শুকনাছড়ি এলাকায় পর্যটকবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা। এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

একই সময় পর্যটকবাহী একটি মাহেন্দ্র, একটি পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে ইউপিডিএফের কর্মীরা।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হক জানান, গাড়িগুলো উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনটি গাড়ি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামতের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।




ছোট হয়ে আসছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটনকেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। সাগরের অব্যাহত ভাঙনের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সৈকতের বালু ধুয়ে যাওয়ায় সৈকত কোথাও নিচু আবার কোথাও উঁচু হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে পছন্দের একটি স্থান। বিশেষ করে কুয়াকাটা সংলগ্ন ফাতরার চর বা টেংরাগিরি বনাঞ্চল, সমুদ্রের জলরাশি, জেলেদের মাছ ধরার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সবার ভালো লাগে। এ কারণে কুয়াকাটায় ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে সমুদ্রের অব্যাহত ভাঙন এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে আকর্ষণীয় স্থানটি দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কুয়াকাটা সৈকতে যাওয়ার মূল সড়কের দুই পাশের এলাকা ভেঙে এবড়ো-থেবড়ো হয়েছে। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে লাগোয়া পর্যটন পার্ক, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তাছাড়া সাগর থেকে ফুঁসে ওঠা প্রবল জোয়ারের কারণে সৈকতের পূর্ব পাশের বাগান, জাতীয় উদ্যান ও গঙ্গামতি এলাকায় বন বিভাগ সৃজিত বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে পড়েছে।

সৈকতে যাওয়ার মূল সড়কটির অন্তত ২৫ ফুট সাগরে গিলে খেয়েছে।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ বলেন, ৩ বছর ধরে সৈকতের ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হলেও খুব একটা কাজে আসেনি। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো- বর্ষার সময়ে এ কাজগুলো করা হয়। এতে কেবল অর্থের অপচয় হয়েছে। এটি একসময় সাড়ে ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত ছিল। ২০১০ সাল থেকে পর্যটন এলাকা তুলনামূলক বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে। বছরে গড়ে ১৫০ মিটার করে ভাঙলে গত ১৩ বছরে কমপক্ষে ১ হাজার ৯৫০ মিটার এলাকা সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম জানান, সমুদ্রের প্রবল জোয়ারে সৈকত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাছ উপড়ে পড়েছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে সমুদ্রের কয়েক দফা জোয়ারের কারণে এসব বাগানের বেশি ক্ষতি হয়েছে।

পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলীদ বলেন, সাগরের প্রবল জোয়ারের কারণে ভাটার সময় কুয়াকাটার ওপরের স্তরের মিহি বালু গভীর সমুদ্রের দিকে চলে যাওয়ার কারণে সৈকতটি ক্রমেই ছোট ও সরু হয়ে যাচ্ছে। পাউবো কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। তবে অনুমোদন হয়ে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা পাউবো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।




কুয়াকাটায় ফেস্টিভ্যাল শুরু নতুন সাজে সমুদ্র

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করতে আজ (৮ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ফেস্টিভাল কুয়াকাটা’। তাই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। প্রস্তুত করা হয়েছে প্যান্ডেল। তৈরি করা হচ্ছে ৬০টি স্টল। এসব স্টলে কুয়াকাটার ইতিহাস ঐতিহ্য ও বিভিন্ন পণ্যের পসরা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পর্যটকরা এসব স্টল ঘুরে জানতে পারবে বরিশালের আদি ইতিহাস।

এছাড়া এ উৎসব উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে রাখাইনদের কালচারাল অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, বাউল গান, ফানুস উৎসব ও ঘুড়ি উৎসব। বাংলাদেশের আইকনিক, ডেস্টিনেশন, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসী ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে মুজিব ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রতি বিভাগে এ উৎসব করছে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
এ উপলক্ষে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, জেলা, উপজেলা প্রশাসন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করছে। সকল অংশিজনরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে আগত পর্যটকরা স্বস্তি পাচ্ছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ করে।

বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল কুয়াকাটা ২০২৩ এর দুই দিনের উৎসবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) রাহাত আনোয়ার ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই দিনের উৎসবে থাকছে কুয়াকাটা সৈকতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানুস, বিচ উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, বিচ ফুটবল, বিচ ভলিবল, রাখাইন নৃত্য, গান, পুতুল নাচ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রীর ফেস্টিভ্যাল স্টল, পর্যটনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারসহ নানা আয়োজন।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্পে বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সারা বছর আমরা কোন না কোনোভাবে পর্যটন খাত থেকে ব্যবসা করি। এবারের আয়োজন ঘিরে আমরা ব্যবসা না করেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সেবা করার মানসে ২১০০ টাকায় দুই দিন ও ১ রাতের প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছি। এই প্যাকেজে ট্রান্সপোর্ট থাকছে না। থাকছে ১ বার রাতের খাবার, ২ বার দুপুরের খাবার ও ২ বার সকালের নাস্তা। এক রুমের আবাসিক হোটেল ও হালকা নাস্তা।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, আমরা পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধাই প্রধান্য দেই। দুই দিনব্যাপী কুয়াকাটা সৈকতে আয়োজিত এই ফ্যাস্টিভ্যালে সাগরকন্যা কুয়াকাটার স্থানীয় সংস্কৃতি, কারুশিল্প, ঐতিহ্য, রন্ধন শিল্পীসহ নানাদিক পৌঁছে যাবে অনন্য মাত্রায়।

বিচ ম্যানেজমেন্টের সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পর্যটনকে প্রসারিত করতে চলছে মুজিব’স বাংলাদেশ ক্যাম্পেইন। আর তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ট্যুরিজমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজন করতে যাচ্ছে সাগরকন্যায় দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল কুয়াকাটা ২০২৩। এ উপলক্ষে সকল অংশিজনরা উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানকে সফল করতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫। এর উৎপত্তিস্থল কুমিল্লা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপীয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা- ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমিল্লা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫।

এদিকে রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, চুয়াডাঙ্গা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া থেকে ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের সময় রাজধানীতে অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




জীবাশ্ম জ্বালানির বিনিয়োগ নিষিদ্ধের দাবিতে কলাপাড়ায় র‌্যালি

বরিশাল অফিস : ‘কয়লা ও গ্যাসসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করার দাবিতে প্রতিকি অবস্থান কর্মসূচি ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ ফর ইকোলোজি এ- ডেভেলপমেন্ট, কোস্টাল লাইভলিহুড এ- এনভার্মেন্টাল একশন নেটওয়ার্ক, প্রান্তজন এবং আমরা কলাপাড়াবাসী এর যৌথ আয়োজনে বুধবার কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্ত্বর থেকে র‍্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয় এবং শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রতিকী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

র‌্যালিতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শন করা হয় বিভিন্ন ধরনের লেখা সংবলিত ফেস্টুন। এ সময় পিপিই ও মাস্ক পড়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের বায়ু ও পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা প্রতিকি তুলে ধরা হয় ।