মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করতে আজ (৮ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ফেস্টিভাল কুয়াকাটা’। তাই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। প্রস্তুত করা হয়েছে প্যান্ডেল। তৈরি করা হচ্ছে ৬০টি স্টল। এসব স্টলে কুয়াকাটার ইতিহাস ঐতিহ্য ও বিভিন্ন পণ্যের পসরা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পর্যটকরা এসব স্টল ঘুরে জানতে পারবে বরিশালের আদি ইতিহাস।
এছাড়া এ উৎসব উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে রাখাইনদের কালচারাল অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, বাউল গান, ফানুস উৎসব ও ঘুড়ি উৎসব। বাংলাদেশের আইকনিক, ডেস্টিনেশন, সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসী ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে মুজিব ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রতি বিভাগে এ উৎসব করছে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
এ উপলক্ষে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, জেলা, উপজেলা প্রশাসন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করছে। সকল অংশিজনরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে আগত পর্যটকরা স্বস্তি পাচ্ছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ করে।
বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল কুয়াকাটা ২০২৩ এর দুই দিনের উৎসবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) রাহাত আনোয়ার ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই দিনের উৎসবে থাকছে কুয়াকাটা সৈকতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানুস, বিচ উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, বিচ ফুটবল, বিচ ভলিবল, রাখাইন নৃত্য, গান, পুতুল নাচ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রীর ফেস্টিভ্যাল স্টল, পর্যটনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারসহ নানা আয়োজন।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্পে বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন।
কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সারা বছর আমরা কোন না কোনোভাবে পর্যটন খাত থেকে ব্যবসা করি। এবারের আয়োজন ঘিরে আমরা ব্যবসা না করেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সেবা করার মানসে ২১০০ টাকায় দুই দিন ও ১ রাতের প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছি। এই প্যাকেজে ট্রান্সপোর্ট থাকছে না। থাকছে ১ বার রাতের খাবার, ২ বার দুপুরের খাবার ও ২ বার সকালের নাস্তা। এক রুমের আবাসিক হোটেল ও হালকা নাস্তা।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, আমরা পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধাই প্রধান্য দেই। দুই দিনব্যাপী কুয়াকাটা সৈকতে আয়োজিত এই ফ্যাস্টিভ্যালে সাগরকন্যা কুয়াকাটার স্থানীয় সংস্কৃতি, কারুশিল্প, ঐতিহ্য, রন্ধন শিল্পীসহ নানাদিক পৌঁছে যাবে অনন্য মাত্রায়।
বিচ ম্যানেজমেন্টের সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পর্যটনকে প্রসারিত করতে চলছে মুজিব’স বাংলাদেশ ক্যাম্পেইন। আর তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ট্যুরিজমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজন করতে যাচ্ছে সাগরকন্যায় দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল কুয়াকাটা ২০২৩। এ উপলক্ষে সকল অংশিজনরা উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানকে সফল করতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।