গলাচিপায় উৎসব মুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী মেলা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীদের কোলাহলপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মাঘী সপ্তমী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে কালী পূজা ও শিব পূজার মধ্য দিয়ে চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পাড়ে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকঢোল, শঙ্খসহ বিভিন্ন বাদ্যবাজনা ও দর্শনার্থীদের কলরবে মেলা প্রাঙ্গন মুখরিত রয়েছে। মেলায় অনেক শিশুর বাৎসরিক মাথা মুন্ডন করা হয়। এছাড়া মেলার কালী মন্দিরে পাঁঠা বলিদান হয়। মেলায় রঙ বেরঙের আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলনার দোকান, পল্লীবাসীদের স্ব হস্তে তৈরিকৃত বুনন শিল্পের সামগ্রী, গৃহস্থলীর ব্যবহার্য তৈজস পত্রের পণ্য সামগ্রী, মাটির তৈরি বাসন-কোসনের হরেক রকম দোকান, মিষ্টি সামগ্রীর দোকান ও খাবারের দোকানের পসরা বসে।

মাঘী সপ্তমী মেলা কমিটির সভাপতি যুগল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক বিমল দেবনাথ জানান, ‘অর্থের অভাবে মেলার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবাই যদি দান করেন তাহলে আগামীতে আরো সুন্দর করে এ মেলা অনুষ্ঠিত করা সম্ভব।’

এ বিষয়ে চিকনিকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিবেক দেবনাথ বলেন, ‘মেলায় দেশ-বিদেশর হাজার হাজার দর্শনার্থীদের পদচারণায় ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মাঘী সপ্তমী মেলা কোলাহলপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এ ব্যাপারে দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত বিধান গাঙ্গুলী এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারো মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে নদী ভাঙ্গনের ফলে স্থান সঙ্কুলন না হওয়ায় মেলায় আগত মানুষদের দাঁড়িয়ে থেকে বেশ দুর্ভোগ সহ্য করে মেলার আনন্দ উপভোগ করতে হচ্ছে। মেলাটি এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি তথা বিশেষভাবে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের কাছে বিপুল আনন্দের খোরাক।




কুয়াকাটায় মিলছে না হোটেল, সড়কে পর্যটকরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সাপ্তাহিক ছুটি আর বসন্ত উদযাপনে পর্যটকের ঢল নেমেছে সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটায়। চাহিদার তুলনায় হোটেল – মোটেলে জায়গা কম থাকায় পর্যটকরা অনেকেই রুম পাচ্ছেন না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন যারা বুকিং না দিয়ে কুয়াকাটায় গেছেন। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই দূরদূরান্তের বাসা বাড়িতে থাকার চেষ্টা করছেন।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সৈকতের তিন নদীর মোহানা, ঝাউবন শুঁটকি মার্কেট, লেম্বুর বনসহ সৈকতের সবখানেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

ইতোমধ্যে আগামী ২১, ২২, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কুয়াকাটার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও কটেজ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন রোজার আগে ধারাবাহিকভাবে এমন চাপ থাকবে পর্যটকদের।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর কুয়াকাটায় তেমন পর্যটক আসেনি। ভরা মৌসুমে আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে কিছুটা পর্যটকদের সাড়া মিলছে। এতে হাসি ফুটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে। আশা করছি এই ধারাবাহিকতা সারা বছর থাকবে।

ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, আজ কুয়াকাটায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। যে সকল পর্যটক অগ্রিম বুকিং ছাড়া এসেছেন তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। হোটেল না পাওয়া পর্যটকদের সৈকতের ভেড়িবাদ, বালিয়াড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাগ হাতে এদিক ওইদিক ছুটতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বসে আছেন বিভিন্ন দোকান ও রেস্টুরেন্টে। আগত পর্যটকদের মধ্যে এমন ভোগান্তিতে রয়েছেন শত শত পর্যটক।

যশোর থেকে আসা জনি বলেন, আমরা ছুটি পেয়ে ৫৬ জন বন্ধু-বান্ধব কুয়াকাটায় ট্যুরে এসেছি। আমরা রিজার্ভ বাস নিয়ে এসেছি। রুম না পাওয়ায় আবার রাতে চলে যাব। সামনে রমজান তাই এখন এসেছি। চমৎকার একটি জায়গা কুয়াকাটা। ইচ্ছে ছিল একদিন থাকার। কিন্তু হোটেল বুকিং না দিয়ে আসায় বিপাকে পড়তে হলো।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ফেব্রুয়ারি মূলত পর্যটকদের ভ্রমণের একটি উপযোগী সময়। এই সপ্তাহে কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছে। যা বিগত এক বছরেও হয়নি। কুয়াকাটা যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। তাই মানুষ ঘর থেকে নির্ভয়ে বের হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটায় পর্যটক বাড়লেও অনেকেই দিনে এসে দিনেই চলে যাচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুততম হওয়ার কারণে এখন কুয়াকাটা ভ্রমণ করা অনেক সহজ।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটকদের আবাসিক সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। হোটেল-মোটেল শতভাগ বুকিং রয়েছে।




কুয়াকাটায় উপকূলীয় বনাঞ্চল রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: “করবো বন সংরক্ষণ, সুস্থ থাকবো সারাক্ষণ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেন লতাচাপলীর উপকূলীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে সকাল ১১টায় কুয়াকাটার গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা বলেন, এই উপকূলীয় বনাঞ্চল আমাদেরকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে প্রাথমিকভাবে রক্ষা করাসহ প্রাকৃতিক ঝড়-বন্যা প্রতিরোধ করে। এই বনাঞ্চল উপকূলীয় এলাকায় সবুজ দেয়াল হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বনদস্যদের কারণে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই এই সবুজ দেয়াল।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিপি টিম লিডার জসিম উদ্দিন খলিফা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কলাপাড়া প্রতিনিধি কামাল হাসান রনি, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মান্নুসহ প্রমুখ।




কুয়াকাটায় ৪ কিলোমিটার যানজট : ভোগান্তিতে পর্যটকরা 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের উপস্থিতিতে টইটম্বুর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

পর্যটকদের বহনকারী বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে কুয়াকাটা-পটুয়াখালী রুটের আলীপুর থেকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার মহাসড়কে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে পর্যটকরা।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আজ শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কুয়াকাটায় পর্যটকবাহী শত শত গাড়ি আসতে থাকে। হঠাৎ এত গাড়ি আসায় পুরো মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। যানজট নিরসনে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও কুয়াকাটা পৌর সভার কর্মচারীরা। যানজটের কারণে স্থানীয় অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলো চলছে বিকল্প রাস্তায়।

অটোরিকশা চালক উজ্জল মৃধা বলেন, আজকে এত বেশি পর্যটক হয়েছে কুয়াকাটায় এখন আমরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারছি না। ট্যুরিস্ট পুলিশ আমাদেরকে মহাসড়কে উঠতে নিষেধ করেছে। মূলত পর্যটকদের গাড়িতেই যানজটের তৈরি হয়েছে।

খুলনা থেকে পর্যটক নিয়ে আসা হানিফ পরিবহনের চালক রুহুল আমিন বলেন, কুয়াকাটার রাস্তা ছোট হওয়ায় এই ভোগান্তির তৈরি হয়েছে। তবে কুয়াকাটার টার্মিনাল আরও বড় দরকার। আমরা ১ ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। ভোগান্তি যত কম হবে পর্যটক তত বেশি আসবে কুয়াকাটায়।

এ বিষয় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, বাস টার্মিনালের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে আমরা বাড়তি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করি। আমরা চেষ্টা করছি পর্যটকদের ভোগান্তি কমাতে।

এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পরিদর্শক মনিরুল হক ডাবলু বলেন, আজ অনেক পর্যটক হওয়ায় কুয়াকাটার মূল সড়কে কিছুটা যানজট তৈরি হয়েছে। তবে আমাদের একাধিক টিম যানজট নিরসনে কাজ করছে।




সড়ক সংস্কারে ধীরগতি, দুর্ভোগে পর্যটকরা

 

মো:আল-আমিন পটুয়াখালী : কুয়াকাটায় সড়ক সংস্কারে ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ পর্যটন কেন্দ্র এলাকার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে মিশ্রীপাড়া। এখানে রয়েছে এশিয়া মহাদেশের বৃহৎ বৌদ্ধবিহার ও রাখাইন পল্লী। স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় রাখাইনদের হাতে তৈরি নানা পোশাক সামগ্রী। এসব পোশাক ও বৌদ্ধবিহার দেখতে পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ থাকে এই মিশ্রীপাড়া।

কুয়াকাটার কেন্দ্রস্থল থেকে মিশ্রীপাড়ার দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। কিন্তু যাতায়াত সমস্যার কারণে সেখানে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটককে। কুয়াকাটা পৌর এলাকার পর থেকে লতাচাপলী ইউনিয়নের কচ্ছপ আলী থেকে লক্ষ্মীর বাজার পর্যন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সড়ক দিয়ে ভ্যান, অটোবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটি সাত বছর ধরে খানাখন্দে ভরপুর। এতে এলাকার লোকজনের চলাচলে খুবই সমস্যা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে পর্যটকের। যারা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আসে তারা এ রাস্তা দিয়েই মিশ্রীপাড়ার বৌদ্ধবিহার ও রাখাইন পল্লী দেখতে যায়। তাই সড়কটি নতুন করে সংস্কার প্রয়োজন।’

মিরাজ নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এটি একটি পর্যটন এলাকা। প্রতিদিন শত শত দর্শানার্থী এই রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেন। কিন্তু রাস্তাটির অবস্থা বেহাল। ২০০৭ সালে নির্মাণের পর মাত্র একবার সংস্কার হয়েছে। এখন এটি আর স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী নেই। শুনেছি নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এক কিলোমিটারের মতো করে বাকিটা ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তাটির দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক সবারই উপকার হবে।’




৫৯ বছর পর আবার চালু হচ্ছে রাজশাহী-মুর্শিদাবাদ নৌপথ : উদ্বোধন সোমবার

চন্দ্রদীপ নিউজ: ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত সুলতানগঞ্জ-ময়া ও গোদাগাড়ী-ভারতের লালগোলা নৌ-ঘাটের মধ্যে নৌপথে বাণিজ্য কার্যক্রম চালু ছিল। যুদ্ধের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়। এত বছর পর নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় আবার চালু হচ্ছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সুলতানগঞ্জ নদী বন্দর উদ্বোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার উদ্বোধনের পর সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদী বন্দরের মর্যাদা পাবে।

সুলতানগঞ্জ থেকে ময়া নৌ-ঘাটের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। সুলতানগঞ্জ নৌ-ঘাট রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা মহানন্দার মোহনায় অবস্থিত। সারা বছর সুলতানগঞ্জ পয়েন্টে পদ্মায় পানি থাকে। পশ্চিমবঙ্গের ময়া নৌ-ঘাটটি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমা শহরের কাছে ভারতীয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুলতানগঞ্জ-ময়া পথে নৌ-বাণিজ্য শুরু হলে পরিবহন খরচ কমবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই পথে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে যাবে। এসব পণ্য মূলত বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দরের মাধ্যমে এসব পণ্য ভারত থেকে আমদানিতে সময় ও খরচ কম হবে। এতে উপকৃত হবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বছরে এই নৌপথে দুই দেশের মধ্যে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।




অনির্দিষ্টকালের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মিয়ানমার সীমান্তে চলমান উত্তেজনার কারণে সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করা যাবে না।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিনে নৌ-রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম থেকে যে দুটি জাহাজ সরাসরি সেন্টমার্টিন আসে সেগুলো চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দিনভর সংঘর্ষ আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে। আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে এ পর্যন্ত ৩২৮ জন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।




২ বছরের শিশুর এভারেস্টের বেস ক্যাম্প জয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। তবে তার জন্য দরকার হয় দীর্ঘ অনুশীলন, সময় এবং চেষ্টা। তবে এবার ২ বছরের এক শিশু এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এজন্য বিশ্বরেকর্ডের তকমাও জুটেছে তার নামের পাশে।

২ বছরের শিশুটি ব্রিটেনের বাসিন্দা। নাম কার্টার ডালাস। গত ২৫ অক্টোবর বাবা রস এবং মা জেডের সঙ্গে পায়ে হেঁটে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে হাজির হয়েছিল সে। মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে অনেক সুস্থ-সবল মানুষকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কারণ বেস ক্যাম্পটি সমতল থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। শুধু অক্সিজেন কম নয়, সব সময় এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ডিগ্রি থাকে। সেখানেই কার্টার পৌঁছে গেছে।

কার্টারের বাবা জানিয়েছেন, কার্টার তার মা-বাবার থেকে অনেক বেশি সুস্থ ও সবল ছিল। সমতল থেকে বেস ক্যাম্পে যাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চতা তাদের সমস্যায় ফেললেও, সহজে সেখানে পৌঁছেছিল তাদের ২ বছরের শিশুসন্তান। সুস্থভাবে বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে কার্টার। সবেচেয়ে কম বয়সে এভারেস্টেক বেস ক্যাম্পে যাওয়ার নজির গড়ল সে।

রস এবং তার স্ত্রী কার্টারকে নিয়ে ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। প্রথমে ভারতে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। এরপর শ্রীলঙ্কা এবং মলদ্বীপ গিয়েছিলেন। ফের ভারতে ফিরে নেপালে গিয়েছিলেন।

কার্টারের আগে এই রেকর্ডটি ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের বাসিন্দা জারার। ২০২৩ সালে চার বছর বয়সী শিশুটি বাবা এবং সাত বছরের বড় ভাইকে নিয়ে হিমালয়ের বেস ক্যাম্পে গিয়েছিল। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও সেই সময় এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে কোনো সমস্যা হয়নি জারার। শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল তার।

এছাড়া সবচেয়ে কম বয়সে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে আরোহণের রেকর্ড ছিল ভারতের প্রিশা লোকেশ নিকাজুর। ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার বাসিন্দা প্রিশা ২০২৩ সালে মাত্র পাঁচ বছর বছর বয়সে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পা রেখেছিল। কম বয়সে বেস ক্যাম্পে পাড়ি দেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে বাংলা শান্তিপুরের বাসিন্দা মেঘমার। বাবা-মার সঙ্গে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে অনায়াসে পৌঁছেছিল বেস ক্যাম্পে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট




আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হবে কুয়াকাটা – প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: সূর্যোদয় সূর্যাস্তের লীলাভূমি পটুয়াখালীর কুয়াকাটাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

শনিবার বিকেলে তার নিজ এলাকা পটুয়াখালী-৪ আসনের কলাপাড়ার কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট থেকে সৈকত পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বিমানবন্দর তৈরির জন্য কথা বলা হচ্ছে। শিগগিরই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

উদ্বোধন শেষে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ ও পৌর মেয়রের আয়োজনে প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাখাইন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তাকে সংবর্ধনা দিতে কুয়াকাটা ও এর আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন অনুষ্ঠানস্থলে।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল হাওলাদার, ও কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদারসহ উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।




শহরের মাঝখানে যে কারণে তৈরি হয় ‘ঢাকা গেট’