সুন্দরবনে গাছের প্রজাতি নির্ণয়ে জরিপ শুরু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও সংখ্যা নির্ণয়ে শুরু হয়েছে জরিপ। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় এই গাছ জরিপের কাজ। এ কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ম্যানগ্রোভ বনের ৪ হাজার ১৪২ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটারের স্থলভাগে কত প্রজাতির ও কি পরিমাণ গাছপালা রয়েছে তা জানতে এই জরিপ চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্যমতে ১৯০৩ সালের গবেষণায় সুন্দরবনে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, কাঁকড়া, কেওড়া, ধুন্দল, বাইন, খলসি, আমুর, সিংড়াসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড ছিল। ১৯৮৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে অরণ্য ও গুল্ম প্রজাতির সংখ্যা কমে তা দাঁড়ায় ৬৬ প্রজাতিতে। ১৯৯৭ সালের জরিপে সুন্দরবনে মাত্র ৪৮ প্রজাতির উদ্ভিদ ছিল। এরপর ২০১৪-১৫ সালের সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে গাছের প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪টিতে। এর মধ্যে ৫৪ প্রজাতির গাছ, ২৮ প্রজাতির লতাপাতা, ১৩ প্রজাতির গাছড়া, ২২ প্রজাতির গুল্ম, ১৩ প্রজাতির ফার্ন, ১২ প্রজাতির অর্কিড, ৩ প্রজাতির পরজীবী উদ্ভিদ, ২ প্রজাতির পাম, ২৮ প্রজাতির ঘাস ও ৯ প্রজাতির ছত্রাক উদ্ভিদ রয়েছে সুন্দরবনে। বর্তমানে সুন্দরবনে এসব উদ্ভিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই হচ্ছে সুন্দরী, গেওয়া ও গরান গাছ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বাংলাদেশের সমগ্র সুন্দরবনের স্থলভাগে কত প্রজাতির ও কি পরিমাণ গাছপালা রয়েছে তা জানতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই বনভূমির গাছ জরিপের কাজ। বন বিভাগের বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আগামী তিন মাসের মধ্যে এই জরিপ কাজ শেষ করবে।

 




পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চারদিকে শুনসান নিরবতা। কোথাও নেই কোলাহল। খালি পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চি। অযত্ন অবহেলায় আছে ঘোড়াগুলো। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। অলস সময় পার করছে ক্যামেরাম্যানরা।

রমজানের শুরু থেকেই পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ায় এই অবস্থা বিরাজ করছে কুয়াকাটা সৈকতের।

ইতিমধ্যে লোকসানের মুখে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ছুটি দেয়া হয়েছে অনেক হোটেল মোটেলের কর্মচারীদের। তাই সহয়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সহায়তার ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

 




প্রকৃতির অপরূপ সাজে সেজেছে রাঙ্গাবালীর ‘হেয়ার আইল্যান্ড’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা দ্বীপ। প্রাকৃতিক সাজে সেজে আছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে। গুগল ম্যাপে যার নাম ‘হেয়ার আইল্যান্ড’। কারো কাছে ‘চরহেয়ার’, কারো কাছে ‘কলাগাছিয়া চর’ নামেও পরিচিত। দ্বীপটিতে আছে চোখজুড়ানো বালুকাময় দীর্ঘ সৈকত। সাগরের বিশাল পানিরাশি। তটরেখায় লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। সারি সারি ঝাউবন আর এর শোঁ শোঁ শব্দ।

নয়নাভিরাম দ্বীপটি সাগরকন্যা খ্যাত জেলা পটুয়াখালীর সর্বদক্ষিণের সাগর সান্নিধ্যের নৈসর্গিক ভূখণ্ড রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে নৌ-পথে ১৫ কিলোমিটার দূরে। যাতায়াতের মাধ্যম একমাত্র নৌ-পথ। ইঞ্জিন-চালিত কাঠের নৌকা কিংবা স্পিডবোটে সেখানে পর্যটকরা আসা-যাওয়া করে।
ওই পথে যেতে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী ধরে দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোলোই প্রথম দেখা মিলবে ঘন ম্যানগ্রোভ বন ‘চরতাপসি’। পূর্ব দিকে রয়েছে অপরূপ আরেকটি দ্বীপ, যার নাম ‘সোনারচর’। যেটি দেখতে অনেকটাই সুন্দরবনের মতো। সেখান থেকে পশ্চিম দিকে গেলেই দেখা মিলবে ডিমাকৃতিকর ‘হেয়ার আইল্যান্ড’। যেখানে ভ্রমণপিপাসুদের একবার পা পড়লেই বারবার আসতে মন চাইবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চার দিকে চোখজুড়ানো বালুকাময় সৈকত। লাল কাঁকড়ার দল। অতিথি পাখির কলকাকলি। সবুজ ঘন বনায়ন। এর মাঝে গাছের ঝরাপাতা এমনভাবে বিছিয়ে আছে দেখলে মনে হবে ঝাউ পাতার কার্পেট দিয়ে আপনাকে কেউ স্বাগত জানাচ্ছে। বনায়নের ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে আরো চোখে পড়বে নানা আকারের ছইলা, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাঁটার কোণকাড়। আর সেই ঝোপঝাড়ে দেখা মিলবে কাঁকে ঝাঁকে চেনা অচেনা পাখি।
দ্বীপটিতে কাকডাকা ভোরে সুর্যোদয়, আর সাঁকবেলায় সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ। এমন সব সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে এমনেতেই আকর্ষণীয়। সেই আকর্ষণ আরো বাড়াতে সম্প্রতি বেসরকারি উদ্যোগে ভ্রমণপিপাসুদের বিশ্রামের জন্য স্পট চেয়ার, রঙিন ছাতা, এবং গাছে গাছে ঝুলন্ত দোলনাও দেয়া হয়েছে হেয়ার আইল্যান্ডে। শুধু তাই নয়, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিনও বসানো হয়েছে।

এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলছেন, ‘থাইল্যান্ডের ফিফি আইল্যান্ড কিংবা বালি দ্বীপের মতো করে সাজানো যায় এই হেয়ার দ্বীপকে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে হেয়ার আইল্যান্ড, সোনারচর, জাহাজমারা ও তুফানিয়া নামক চারটি পর্যটন স্পট নিয়ে পর্যটন জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’

পর্যটকরা মনে করেন, ‘পাশের পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র থাকায় এখানকার পর্যটন সম্ভাবনাও বেড়েছে কয়েকগুণ।’

জানা গেছে, ‘আন্তর্জাতিক পর্যটক আকৃষ্ট করতে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নে ‘পায়রা বন্দর নগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এলাকায় বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

পর্যটকরা বলছেন, ‘এই প্রকল্প এলাকা থেকে রাঙ্গাবালীর পর্যটন স্পটগুলোতে আসা-যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে কুয়াকাটার পাশাপাশি এখানকার পর্যটন সম্ভাবনাও বিকাশিত হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সেক্ষেত্রে কুয়াকাটা এবং পায়রা বন্দর এলাকা থেকে নৌ-পথে রাঙ্গাবালী আসা-যাওয়ার জন্য সি-ট্রাক কিংবা শিখ চালু করা যেতে পারে।’

রাঙ্গাবালীর পর্যটন উন্নয়নে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ অঞ্চলটি পর্যটকবান্ধব। তাই পর্যটন উন্নয়নে এখানে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। সবাই এগিয়ে এলে এখানকার পর্যটন সম্ভাবনা আরো বেড়ে যাবে। আমি মনে করি, সেক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও যদি এখানে হোটেল-মোটেল করে তাহলে এখানকার পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশ ঘটবে বলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ দ্বীপগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পর্যটন জোন করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হলে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট হবে। তখন এখানে দেশী পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও ছুটে আসবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মহিববুর রহমান জানান, ‘পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য চরহেয়ার (হোয়ার আইল্যান্ড), সোনারচর ও জাহাজমারায় তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যেগুলোকে আধুনিকমানের গেস্ট হাউজে রূপান্তরিত করা হবে। যাতে দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও এসে সেখানে রাত্রিযাপন করতে পারেন এবং দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে পারেন।’

 




পায়রায় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বেবিচকের

চন্দ্রদীপ নিউজ: পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, নতুন একটি বিমানবন্দর বানাতে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া সেখানে যাত্রীসেবায় দরকার প্রচুরসংখ্যক জনবল। তাদের বেতন-ভাতাসহ বিমানবন্দরের নানা ধরনের খরচ রয়েছে। এসব খরচের তুলনায় যাত্রী না মিললে লোকসান গুনতে হবে।

বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে দুটিতে যাত্রী চলাচল কমেছে। বিমানবন্দর দুটি হলো– বরিশাল ও সৈয়দপুর। এ অবস্থায় পায়রা বন্দরে নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজন নেই; বলছে বেবিচক।

বেবিচক।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান সমকালকে বলেন, পায়রা বন্দর এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে বেবিচকের কোনো পরিকল্পনা নেই। সমুদ্র এলাকায় বিমান ওঠা-নামার ক্ষেত্রে বাতাসের গতি কোন দিকে প্রবাহিত হয়, ভিজিবিলিটি এবং নানা ক্ষেত্রে জরিপের বিষয় রয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বেবিচকের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া এলাকা পরিদর্শন করে। বেবিচকের পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পায়রা বন্দর এলাকা পরিদর্শন করে দলটি।

এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় প্রায় তিন হাজার একর ভূমিতে বিমানবন্দর নির্মাণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়েছে।




ভেবেচিন্তেই হচ্ছে কুয়াকাটা বিমানবন্দর

অনেক কিছু ভেবেচিন্তেই কুয়াকাটা বিমানবন্দর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন সৈকত থেকে ২২ কিমি. দূরে কলাপাড়া ও আমতলীতে শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক না করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে রানওয়ের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা।

নামে কুয়াকাটা বিমানবন্দর হলেও প্রাথমিকভাবে এর স্থান নির্বাচন হয়েছে সৈকত থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার ৩ হাজার একর জমিতে এটি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের জন্য সম্ভাব্য ওই স্থান পরিদর্শন করেছে বেবিচকের বিশেষ টিম। কেবল পর্যটন নির্ভর বন্দর পরিচালনা লাভজনক হবে না বিবেচনায় সৈকত থেকে এতটা দূরে এটি করার পক্ষে তারা। সেক্ষেত্রে কুয়াকাটার পাশাপাশি দক্ষিণ উপকূলের উদীয়মান শিল্প এলাকার কেন্দ্রে হবে এর অবস্থান। ফলে বন্দর লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি রানওয়ের সুবিধা পাবে সবাই।

১৯৯৮ সালে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। এরপর থেকেই মূলত সেখানে শুরু হয় সরকারি পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর কম সময়ে যাতায়াতের সুবাদে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক যাচ্ছেন কুয়াকাটায়। ছুটির দিনে সেখানে থাকা ২শ’র মতো হোটেল-মোটেল ছাপিয়ে সৈকতেও রাত কাটাতে হয় অনেককে। সৈকতভিত্তিক পর্যটন জমে ওঠার পাশাপাশি কুয়াকাটা সংলগ্ন কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গড়ে ওঠে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে কেবল কলাপাড়ায়ই রয়েছে ৩টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পার্শ্ববর্তী বরগুনার তালতলীতে রয়েছে একটি। প্রস্তাবিত পটুয়াখালী ইপিজেডের অবস্থানও এগুলোর বেশ কাছে। পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক নয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে সেখানে গড়ে উঠছে আরও নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ক্রমবর্ধমান এই পর্যটন ও শিল্প এলাকায় একটি বিমানবন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ওঠে আলোচনা।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত বছরের ১১ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায়ও আলোচিত হয় বিষয়টি। সেখান থেকে কুয়াকাটায় বিমানবন্দর স্থাপন বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরে। অধিদপ্তর এই বিষয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বললে তারা চিঠি দেয় বেবিচককে। পুরো বিষয়ে ধারণা পেতে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বেবিচক। সংস্থার পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলামকে করা হয় এর প্রধান। ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিটির সদস্যরা আসেন কলাপাড়ায়। পরিদর্শন করেন বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান। যার অবস্থান কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলায়। দুই উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৪টি গ্রামকে পছন্দ করেন তারা।

কমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দর তো ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। আমাদের প্রস্তাবনায় এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬ ও ২ কিলোমিটার। এজন্য দরকার হবে ৩ হাজার একর জমি। যে জায়গাটি আমরা দেখেছি সেখানে এই জমির সংস্থান করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খুব একটা নিতে হবে না। আলোচ্য স্থানে সরকারের বিপুল আয়তনের জমি রয়েছে। ঘরবাড়িসহ তেমন কোনো স্থাপনাও ভাঙা পড়বে না। বিপুল আয়তনের এই জমি যদি কিনতে না হয় তাহলে সরকারের ব্যয় অনেক কমে যাবে।

পরিদর্শন দলের সঙ্গে থাকা কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, কলাপাড়া ও আমতলীর সীমান্তবর্তী চাকামইয়া এবং নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই বিমানবন্দর নির্মাণের চিন্তা করছে বেবিচক। স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাই সঠিক। চাকামইয়া ইউনিয়নটি কলাপাড়ার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। এর দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটারের বেশি। বিশাল এলাকা হলেও ভোটার সংখ্যা মাত্র ১৪ হাজার। জনবসতি কম হওয়ার পাশাপাশি এখানে সরকারের বিপুল আয়তনের খাস জমি রয়েছে। যতদূর জানি পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নেরও প্রায় একই অবস্থা। এর বিপরীতে কুয়াকাটায় এত বিপুল আয়তনের খাস জমি যেমন নেই তেমনি পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে জমির দামও অনেক বেশি। কুয়াকাটায় করতে গেলে এই বিমানবন্দর নির্মাণ ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

কলাপাড়া ও তালতলী মিলিয়ে বিমানবন্দর স্থাপনের প্রস্তাবে কুয়াকাটার সাধারণ মানুষের মধ্যে খানিকটা অসন্তোষ দেখা দিলেও তার উত্তর দিয়েছেন সেখানকার সংসদ-সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।
তিনি বলেন, কুয়াকাটায় যে ২শর মতো হোটেল-মোটেল রয়েছে তার মাত্র ২৮ ভাগ আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন। এসব হোটেলের গ্রাহকরাই প্রধানত হবে বিমানের যাত্রী। তাও কেবল ছুটি আর পর্যটন মৌসুমের দিনগুলোয়। এই স্বল্পসংখ্যক যাত্রী দিয়ে বিমানবন্দর চলবে না। প্রকারান্তরে কলাপাড়ার চাকামইয়ায় বিমানবন্দর হলে সেটা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পুরো শিল্পাঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। চাকামইয়া থেকে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট। এর আশপাশেই অবস্থান পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ পুরো শিল্প এলাকার। প্রস্তাবিত পটুয়াখালী ইপিজেড আর বরগুনা জেলাও কাছে হবে। সেক্ষেত্রে পায়রা বন্দরের পণ্য কার্গো বিমানে পরিবহণসহ শিল্প এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যাতায়াত মিলে টিকে যাবে বিমানবন্দর। এজন্যই কলাপাড়ার চাকামইয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, স্থান নির্বাচনসহ প্রাথমিক পর্যায়ের কাজগুলো সম্পন্নের সঙ্গে সঙ্গে কুয়াকাটাকেন্দ্রিক বিমানবন্দর স্থাপনে দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে। সেখানে এবং একনেকে এটি অনুমোদন পেলে আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ শুরু করা যাবে বিমানবন্দরের কাজ। কেবল কুয়াকাটা কিংবা উপকূলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়, ভবিষ্যতের অনেক কিছু মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সমুদ্র সীমান্তের নিরাপত্তা প্রশ্নে ভবিষ্যতে এখানে এয়ার ফোর্সের বেইজও হতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়ে এগোচ্ছি আমরা।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে কুয়াকাটার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাসহ ওই এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক যে হাব তৈরি হচ্ছে তাতে সেখানে বিমানবন্দর প্রয়োজন। সেই বিষয়টিতেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। স্থান নির্বাচনসহ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ৮ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তাদের দেওয়া রিপোর্ট আর অর্থ সংকুলান হলেই পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করব আমরা।

 




কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলে যেসব কাজ করবেন না

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে রাত যাপনের জন্য আবাসিক হোটেল ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এসব হোটেলগুলো কমদামি বা বেশি দামি হয়ে থাকে। তবে সব হোটেলেই কিছু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।

দেখা যায় সেই নিয়মগুলো ঠিকভাবে না বোঝার কারণে এমন কিছু ভুল করে বসেন, যার মাশুল গুনতে হয় বিশাল পরিমাণের। হোটেলে অবস্থানের ক্ষেত্রে এই ভুলগুলো যেন কখনোই না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোন ভুলগুলো সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকা জরুরি-

১/ চট করে দরজা খুলবেন না : দরজায় কড়া নাড়া হলো আর কিছু না বুঝেই বললেন, ‘কাম ইন।’ এই বিশাল ভুলটি কখনোই করতে যাবেন না। হোটেল কিন্তু দিন শেষে কখনোই তেমন নিরাপদ জায়গা নয়। সুতরাং পরিচয় জেনে তার পরে দরজা খুলুন।

মনে রাখবেন, অচেনা জায়গায় অচেনা কেউ তো আপনার সঙ্গে দেখা করার কথা নয়। কাজেই সাবধান। আর সব সময় দরজা লাগিয়ে রাখতে ভুলবেন না।

২/ হোটেলের মিনিবারের পানীয় নয় : কোমল কিংবা কঠিন, যেমন পানীয়ই খান না কেন, সেটি হোটেলের মিনিবার থেকে খেতে যাবেন না। কারণ, সাধারণত হোটেলের মিনিবারগুলোতে পাঁচ টাকার খাবারের দাম অন্তত ৫০ টাকা রাখা হয়!

শেষে দেখবেন, আপনার রুম ভাড়ার চেয়ে মিনিবারের বিলই গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ-তিন গুণ!

৩/ ছারপোকায় সাবধান : যত বিলাসবহুল কক্ষই হোক আর সুসসজ্জিত বিছানা হোক, ছারপোকা ঠিকই জানে কীভাবে নিজের জায়গা করে নিতে হয়। কাজেই এ ব্যাপারে ভালোমতো তল্লাশি চালান, ছারপোকার সামান্য আনাগোনা দেখলেই সবকিছু ঠিকঠাক করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। কারণ, এই ছারপোকা কেবল আপনাকে কামড়াবে তা-ই শুধু নয়, আপনার সঙ্গে সওয়ার হয়ে আপনার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে অবলীলায়।

৪/ কলের পানি খাবেন না : এক ব্রিটিশ দম্পতি লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়াতে এসে ট্যাপ বা কল থেকে পানি পান করেন। সেই পানিতে কেমন যেন বিচিত্র স্বাদ, এমন স্বাদের পানি নাকি তারা কখনোই খাননি। পরে অনুসন্ধানে জানা গেল, হোটেলের জলাধারে একটি মৃতদেহ! কার ভাগ্যে কী থাকে, তা তো আর বলা যায় না। সুতরাং ভুলেও কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য হোটেলরুমের কলের পানি খাবেন না। ভরসা রাখুন দোকান থেকে কেনা মিনারেল ওয়াটারের বোতলে।

৫/ রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করবেন না : হোটেলটি সুলভ বা বিলাসবহুল যেমনই হোক না কেন, এতে জীবাণুর উপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। আর এসব জীবাণুর একটি বড় অংশ থেকে যায় টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোলে। ঘরদোর যতই ঝেড়ে পরিপাটি করা হোক, রিমোট কিন্তু সেভাবে পরিষ্কার করা হয় না। কাজেই এতে জীবাণু বহাল তবিয়তে রয়ে যায়। সুতরাং সাবধান!

৬/ মূল্যবান জিনিস রুমে রাখবেন না : মূল্যবান জিনিসপত্র অনেকেই হোটেলরুমের গোপনীয় কোনো একটি জায়গায় রেখে দেন। এটি চরম ভুল। হোটেলরুম থেকে চুরি করতে যারা ওস্তাদ, তারা কিন্তু ওই সব ‘গোপন’ জায়গার হদিস আপনার চেয়ে ভালো জানে! সুতরাং একটু পয়সা খরচ করে কর্তৃপক্ষের লকারে নিজের মূল্যবান জিনিস রেখে দিন। নিরাপদ থাকবেন।

৭/ ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন : দরজা লাগিয়ে দিলেই কিন্তু হলো না। যতক্ষণ না ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন বাইরে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন, ততক্ষণ যে কেউ এসে উটকোভাবে আপনার ব্যক্তিগত সময়ে বাদ সাধতে পারে। আবার ঘর পরিষ্কারের চিন্তা থাকলে সেটি সরিয়ে ফেলুন। কারণ, ওই সাইন ঝোলানো থাকলে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও আপনার ঘরের আশপাশে ঘেঁষবে না।

৮/ রুম নম্বর বলবেন না : যেখানে সেখানে বা চেক-ইনের সময় আপনার হোটেলের রুম নম্বরটি নিজে উচ্চারণ করবেন না। দুষ্কৃতকারীরা এসব তথ্যের জন্যই মুখিয়ে থাকে। এ বিষয়টি যতটা পারেন গোপন রাখুন, নতুন পরিচিত কাউকেই রুম নম্বর জানাতে যাবেন না।




ইমরানের আর্জি প্রত্যাখ্যান করল আইএমএফ




দ্রুতই ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে রেল যাবে পায়রায়: রেলপথ মন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ: রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় রেল সংযোগ ও রেল পৌঁছে দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দরে রেল পৌঁছে দেওয়া হবে। যার লক্ষ্যে রেলের কোচ ও ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। আরও কিছু আমদানি হবে।

আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে রাজবাড়ী স্টেশনে এসে পরিদর্শন শেষে একথা বলেন রেলপথমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জায়গা নিয়ে একটি কারখানা করা হবে, যা সৈয়দপুর কারখানার চেয়েও বড়। এখানে সকল প্রকার মেরামত ও বগি তৈরির কারখানাও করা হবে।




রাঙ্গাবালীর চর হেয়ার পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা চরটিতে রয়েছে পাখপাখালির অবাধ বিচরণ আর লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। সেই সাথে রয়েছে ঝাউবাগান। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মেলে পটুয়াখালীর চর হেয়ার দ্বীপে। এখানে হতে পারে পর্যটনের নতুন আকর্ষণ।

সাদা বক, পানকৌড়ি, বালিহাঁস ও গাংচিলসহ নানা পাখিদের অবাধ বিচরণ এ দ্বীপে। পাখা মেলে মুক্ত আকাশে এদের ওড়াউড়ি আর সমুদ্রের পানিতে খুনসুটি। গর্ত থেকে বের হয়ে আবার ঢুকে পড়া, এমন লুকোচুরিতে ব্যস্ত লাল কাঁকড়া। কখনো আবার দল বেঁধে বালিয়াড়িতে ছুটোছুটি।

প্রকৃতির এমন মনমাতানো রূপের দেখা মিলবে রাঙাবালী উপজেলার চর হেয়ারে।

শত বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ডিম্বাকৃতির এ দ্বীপটির চারদিকে তিন কিলোমিটার বালুকাময় সমুদ্রসৈকত। আর মাঝখানে সারি সারি ঝাউবাগান। সৈকতে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

দ্বীপটির পরই বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। আর পশ্চিম পাশেই রয়েছে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকত। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে।

এখানে ঘুরতে এসে মুগ্ধ পর্যটকরা বলেন, এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভালো লাগছে। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। এখানে কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য নেই।

এদিকে চর হেয়ারকে ঘিরে আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। পটুয়াখালী-৪ সংসদ সদস্য (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী) অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, জাহাজমারা এবং চর হেয়ার পর্যটন বিকাশের জন্য একটি সুন্দর এলাকা।

জাহাজমারা এমন একটি এলাকা যেখানে সূর্যাস্ত ও সূর্যোয়ের পরিপূর্ণতা একসঙ্গে দেখা যায়। এ ছাড়া চর হেয়ার বনাঞ্চলে ঘেরা খুবই অনিন্দ্য সুন্দর। ভবিষ্যতে জাহাজমারা ও চর হেয়ারকে সংযুক্ত করার আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সাথে পর্যটনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও। ইতোমধ্যে জাহাজমারা রাস্তা বরাবর উন্নয়ন কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ দুই অঞ্চলের পর্যটনের বিকাশের স্বার্থে আমরা অবকাঠামো বিকাশের ব্যবস্থা নিয়েছি।

ইতোমধ্যে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি সংস্থাগুলো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দ্বীপটিতে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম রাঙ্গাবালী থেকে ২০ কিলোমিটার নৌপথ। স্পিডবোট বা ট্রলারযোগে এখানে পৌঁছাতে হবে।




গলাচিপায় উৎসব মুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী মেলা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীদের কোলাহলপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মাঘী সপ্তমী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে কালী পূজা ও শিব পূজার মধ্য দিয়ে চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পাড়ে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকঢোল, শঙ্খসহ বিভিন্ন বাদ্যবাজনা ও দর্শনার্থীদের কলরবে মেলা প্রাঙ্গন মুখরিত রয়েছে। মেলায় অনেক শিশুর বাৎসরিক মাথা মুন্ডন করা হয়। এছাড়া মেলার কালী মন্দিরে পাঁঠা বলিদান হয়। মেলায় রঙ বেরঙের আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলনার দোকান, পল্লীবাসীদের স্ব হস্তে তৈরিকৃত বুনন শিল্পের সামগ্রী, গৃহস্থলীর ব্যবহার্য তৈজস পত্রের পণ্য সামগ্রী, মাটির তৈরি বাসন-কোসনের হরেক রকম দোকান, মিষ্টি সামগ্রীর দোকান ও খাবারের দোকানের পসরা বসে।

মাঘী সপ্তমী মেলা কমিটির সভাপতি যুগল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক বিমল দেবনাথ জানান, ‘অর্থের অভাবে মেলার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবাই যদি দান করেন তাহলে আগামীতে আরো সুন্দর করে এ মেলা অনুষ্ঠিত করা সম্ভব।’

এ বিষয়ে চিকনিকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিবেক দেবনাথ বলেন, ‘মেলায় দেশ-বিদেশর হাজার হাজার দর্শনার্থীদের পদচারণায় ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মাঘী সপ্তমী মেলা কোলাহলপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এ ব্যাপারে দয়াময়ী মন্দিরের পুরোহিত বিধান গাঙ্গুলী এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারো মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে নদী ভাঙ্গনের ফলে স্থান সঙ্কুলন না হওয়ায় মেলায় আগত মানুষদের দাঁড়িয়ে থেকে বেশ দুর্ভোগ সহ্য করে মেলার আনন্দ উপভোগ করতে হচ্ছে। মেলাটি এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি তথা বিশেষভাবে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের কাছে বিপুল আনন্দের খোরাক।