বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ: স্থাপত্য ও ইতিহাসের খনি

বরিশালের সদর উপজেলার ১নং রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামে অবস্থিত মিয়াবাড়ি মসজিদ। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের আশেপাশে নির্মিত এই মসজিদ প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনিন্দ্য সুন্দর নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। বরিশালের হাতেম আলী কলেজ থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এটি।

জানা গেছে, কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ মুঘল আমলের নির্মিত বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। দুই তলা বিশিষ্ট এই মসজিদটি কারুকার্যমণ্ডিত নকশা এবং স্থাপত্য সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। মসজিদের নিচে ছয়টি দরজাসহ আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মাদরাসার ছাত্রদের জন্য ব্যবহৃত হয়।

মসজিদের মূল সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় কেন্দ্রীভূত দোতলা নকশার কারণে। এখানে তিনটি প্রধান দরজা এবং চারপাশে পিলারের ওপর নির্মিত আটটি বড় মিনার রয়েছে। বড় মিনারের মধ্যে ১২টি ছোট মিনার নির্মাণ করা হয়েছে, যা কারুকার্যময় নকশার মাধ্যমে আরও সুন্দরভাবে আলংকৃত। মসজিদের মাঝখানে তিনটি গম্বুজের মধ্যে মধ্যবর্তী গম্বুজটি সবচেয়ে বড় এবং এর ভিতরের অংশও নকশা দিয়ে সজ্জিত।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মাণ করেন হায়াত মাহমুদ, যিনি ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণে প্রিন্স অব ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত হন। ১৬ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে তিনি দুটি দীঘি এবং একটি দোতলা মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের পূর্ব পাশে অবস্থিত দীঘিটি সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

মসজিদটির দোতলায় উঠার জন্য আলিশান সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ির গোড়ায় বসার সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রাচীন এই মসজিদ ইসলামপ্রিয় মানুষের রুচি ও স্থাপত্যশিল্পের উৎকর্ষ প্রদর্শন করে।

স্থানীয়রা বলেন, মসজিদে প্রতিদিন শত শত মানুষ নামাজ আদায় ও দর্শন করতে আসে। সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আমিন জানান, এটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। মুসল্লিরা মনে করেন, মসজিদটি প্রাচীন হলেও নানা কারুকাজের কারণে দর্শনার্থীদের আকর্ষণীয় করে রাখে। তবে মসজিদে প্রবেশ পথ উন্নত হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও মানুষ এখানে আসতে পারবে।

মসজিদ এবং সংলগ্ন মাদরাসার কার্যক্রম এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়রা ছোট-বড় সবাই এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটায় হোটেল রুমে পর্যটকদের গোপন ভিডিও ধারণ, এক যুবকের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক হোটেলের রুমে গোপনে পর্যটক দম্পতিদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মো. হালিম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হালিম বরগুনার ফুলবুনিয়া এলাকার মৃত কামাল মূর্ধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটায় ‘হোটেল কেয়ার’ নামে একটি টিনশেডের চার কক্ষবিশিষ্ট হোটেল ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে। জানা যায়, রাত ৪টার দিকে অভিযুক্ত হালিম একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে দু’টি কাপল রুমকে টার্গেট করে কৌশলে রুমে ঢুকে নারী-পুরুষ পর্যটকদের ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করারও চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারী হোটেল মালিক মো. শাকিল বলেন, “রাতে দু’টি রুম ভাড়া দিয়ে আমি বিশ্রামে যাই। পরে জানতে পারি হালিম গভীর রাতে স্টাফদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পর্যটকদের রুমে ঢুকে ভিডিও ধারণ করেছে। সকালে বিষয়টি জেনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাই।”

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হালিমকে আটক করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, “পর্যটকদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। অভিযুক্তের মোবাইলে ভিডিও পাওয়া যাওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় কাজ করছি। এ ধরনের অপরাধীদের জন্য এটি একটি কঠোর বার্তা—এমন দুঃসাহস আর কেউ দেখালে ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয়রা বলছেন, কুয়াকাটায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আরও বাড়ানো জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় নতুন চমক: খরগোশ বারবিকিউর স্বাদে মাতছে পর্যটকরা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দিন দিন বাড়ছে খাবারের বৈচিত্র্য। পর্যটকদের চাহিদা মাথায় রেখে এবার ফিস ফ্রাই মার্কেটে যুক্ত হয়েছে এক নতুন ও ব্যতিক্রমী পদ—খরগোশ বারবিকিউ। কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের “ফ্রেন্ডস বারবিকিউ এন্ড ফিস ফ্রাই” দোকানে চালু হয়েছে এই অভিনব আয়োজন।

সুস্বাদু মসলা ও বিশেষ বারবিকিউ সসে মেরিনেট করা খরগোশের মাংস কয়লার আগুনে ধীরে ধীরে সোনালি করে পুড়িয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে গরম পরোটা বা নানরুটির সঙ্গে। এই অনন্য স্বাদের খরগোশ বারবিকিউ ইতোমধ্যেই পর্যটকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

এখন পর্যন্ত কুয়াকাটার ফিস ফ্রাই মার্কেটে শামুক, স্কুইড, অক্টোপাস, লবস্টারসহ শতাধিক সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যেত। তবে খরগোশের মাংসের বারবিকিউ এবারই প্রথম যোগ হলো তালিকায়।

খরগোশ বারবিকিউ খেতে আসা পর্যটক রাসেল হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় খরগোশ খাওয়ার প্রচলন নেই। তবে ঢাকায় একবার খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কুয়াকাটায় ফিস ফ্রাই মার্কেটে খরগোশ বারবিকিউ পাওয়া যাচ্ছে দেখে কৌতূহল থেকেই খেতে এলাম। ইসলামি শরিয়তেও এর কোনো বাধা নেই। স্বাদে দারুণ লাগল, নরম ও রসালো।”

কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের সভাপতি মো. কাওছার মুসুল্লি বলেন, “এই ফিস ফ্রাই মার্কেট আমার উদ্যোগেই শুরু। এখানে সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধে হাঁস, মুরগি, গরু, খাসির মাংসের বারবিকিউ পরিবেশন করা হয়েছে। তবে খরগোশ বারবিকিউ এবারই প্রথম। পর্যটকদের আগ্রহ ভালো থাকলে আমরা এটি নিয়মিত চালু রাখব।”

টোয়াক প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “খরগোশের মাংস পুষ্টিকর এবং স্বাদে অনন্য। কুয়াকাটার রেস্তোরাঁগুলোতে এতদিন এটি দেখা যেত না। তাই এটি পর্যটকদের জন্য একদম নতুন অভিজ্ঞতা। যারা সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে ব্যতিক্রমী কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।”

ফ্রেন্ডস বারবিকিউ এন্ড ফিস ফ্রাই দোকানের উদ্যোক্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “আমি ও আমার বন্ধু মিলে কিছু ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করছিলাম। বহু খোঁজাখুঁজির পর সিদ্ধান্ত নিই খরগোশ বারবিকিউ শুরু করব। এক সপ্তাহে প্রায় ৬-৭টি খরগোশ বারবিকিউ বিক্রি হয়েছে। পর্যটকরা পছন্দ করছেন, সামনে আরও ভালো সাড়া আশা করছি।”

এদিকে প্রাণীপ্রেমী সংগঠন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী-এর সদস্য বাইজিদ মুন্সি বলেন, “আমরা সব সময় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করি। তাই শুরুতে শুনে কিছুটা খারাপ লেগেছিল। তবে কুয়াকাটায় যেসব খরগোশ ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো গৃহপালিত। সেক্ষেত্রে এটি আইনসঙ্গত।”

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার, বিক্রি বা দখলে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে কুয়াকাটায় যে খরগোশগুলো বারবিকিউ করা হচ্ছে, সেগুলো গৃহপালিত। তাই এসব প্রাণী বিক্রি ও ভক্ষণে কোনো আইনগত বাধা নেই।”

নতুন এই পদকে ঘিরে এখন কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটে ভিড় জমাচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। কেউ আসছেন স্বাদের খোঁজে, কেউ আবার কৌতূহল মেটাতে। সবার মুখে এখন একটাই কথা—
“কুয়াকাটায় এসে খরগোশ বারবিকিউ না খেলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় খাস জমি দখল, পরিবেশ সংকটে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দখল ও দূষণের কারণে পর্যটন কেন্দ্রটির প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি খাস জমি দখল করে প্রভাবশালী মহল ইতোমধ্যেই নির্মাণ করেছেন প্রায় দুই শতাধিক স্থাপনা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ দখল কার্যক্রম শুরু হয়, যা দিন দিন আরও বেড়েই চলছে।

সরকারি পর্যটন হলিডে হোমস থেকে শুরু করে কুয়াকাটা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ, চৌরাস্তা থেকে সৈকতের জিরো পয়েন্ট, আবার সেখান থেকে পশ্চিম ও পূর্ব দিকের সড়ক সংলগ্ন জায়গা পর্যন্ত দখল হয়ে গেছে। এমনকি সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশেও নতুন করে দখল ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা শুধু সরকারি জমিই নয়, পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচলও বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে প্রতিনিয়ত গভীর রাতে সৈকতের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন একাধিক আবাসিক হোটেলের বর্জ্য ও ময়লা পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে সমুদ্রসৈকতে। ফলে দূষণের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সৈকতের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়বে।

এ বিষয়ে কলাপাড়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন সাদীক জানান, দখলদারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং অচিরেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুয়াকাটাকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়রা সরকারের কাছে দখল উচ্ছেদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় হোটেলের বর্জ্যে পরিবেশ হুমকিতে

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত থাকে। সমুদ্র ও প্রকৃতির টানে ভিড় জমানো এসব মানুষের আনন্দঘন ভ্রমণ এখন হুমকির মুখে পড়ছে। জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল সি-ভিউ থেকে নিয়মিত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শুধু সৈকতের পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না, স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণপিয়াসীরা।

স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে হোটেলটির টয়লেটের বর্জ্য ও ময়লা পানি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি সমুদ্রে ফেলছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এসব বর্জ্য ফেলা হয়। ভোরে সৈকতের চারপাশে বাজে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমুদ্রস্নানে নামা পর্যটকরা ভোগান্তিতে পড়েন, স্থানীয়দেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের দিকে সৈকতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন ভোরে সৈকতে গেলে বাজে গন্ধ পাওয়া যায়। এতে শুধু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না, আমাদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক রুমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত দূর থেকে কুয়াকাটা এসেছি, কিন্তু সৈকতে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। দুর্গন্ধে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকরা আর আসতে চাইবেন না।”

অভিযোগের বিষয়ে হোটেল সি-ভিউয়ের ম্যানেজার মো. সোলায়মান বলেন, “আমরা টয়লেটের বর্জ্য ফেলি না। প্রতিদিন রাত আড়াইটার থেকে তিনটার মধ্যে শুধু গোসলের পানি বালুর মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়।” তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিষয়টি একেবারেই সত্য নয় এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলে আসছে।

কুয়াকাটা উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, “এটি পরিবেশ আইনবিরোধী কাজ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা ট্যুরিজম ব্যবসায়ী সমিতির এক সদস্য বলেন, “পর্যটন নগরের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ ধরনের অনিয়ম পুরো কুয়াকাটার জন্য ক্ষতিকর।”

কলাপাড়ার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ইয়াসিন সাদেক জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এভাবে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকলে কুয়াকাটার সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা তার আকর্ষণ হারাবে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় বর্ষার ঢেউ দেখতে ছুটির দিনে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই আকাশে মেঘ আর মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মিলেমিশে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। এ সময় সাগরের উন্মত্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন অংশে নারী-পুরুষ-শিশুসহ সব বয়সী মানুষকে ঢেউয়ের সঙ্গে খেলতে, ছবি তুলতে এবং সমুদ্রে গোসল করতে দেখা গেছে।

শুঁটকি পল্লি, গঙ্গামতি সৈকত, রাখাইন নারী মার্কেট, রাখাইন পল্লি, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ইলিশ পার্ক, লেম্বুর বন এবং সৈকতের ঝাউবাগানসহ আশপাশের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষার মৌসুমে কুয়াকাটার বিশাল ঢেউই এখন প্রধান আকর্ষণ, যা ছুটির দিনে পর্যটকদের জন্য বিশেষ উপভোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নূর ইসলাম বলেন, “কুয়াকাটার বিশাল ঢেউ উপভোগ করতে অসাধারণ লাগছে। পরিবার নিয়ে আসায় আনন্দটা আরও বেড়েছে।”
খুলনা থেকে আসা ফারহানা আক্তার জানান, “বর্ষার ঢেউয়ের মজা নেওয়ার জন্যই এখানে আসা। ভিড় থাকলেও সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।”

সৈকত লাগোয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মহিবুল্লাহ বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকদিন পর্যটকশূন্য ছিল কুয়াকাটা। তবে ছুটির দিনে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসায় ব্যবসা আবারও জমে উঠেছে।”

এদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরাও পেয়েছেন ইতিবাচক সাড়া। হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী জানান, বিচ সংলগ্ন হোটেলগুলোতে শতভাগ বুকিং থাকলেও শহরের ভেতরের হোটেল-মোটেলগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের উপস্থিতি কুয়াকাটার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশও কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যেন তারা নিরাপদে ঢেউ উপভোগ করেন।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সমুদ্রে পর্যটকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যেসব স্থানে লাল পতাকা উত্তোলিত রয়েছে, সেগুলোকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় কোনোভাবেই পানিতে নামা যাবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচকর্মী ও লাইফগার্ড সার্বক্ষণিকভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। লাইফগার্ডের সেবার আওতায় থাকা নির্ধারিত সীমার মধ্যে কেবল পানি প্রবেশের নির্দেশনা রয়েছে। এই সীমার বাইরে গেলে বিপদের সময় সহায়তা পাওয়া কঠিন বা অসম্ভব হতে পারে।

পর্যটকদের জন্য আরও সতর্কবার্তা:

  • জোয়ার-ভাটার সময়, সমুদ্রের বর্তমান অবস্থা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে থেকে পানিতে নামা।

  • খারাপ আবহাওয়া বা ভাটার টান চলাকালীন বেপরোয়াভাবে সাগরে নামা থেকে বিরত থাকা।

  • সাঁতার না জানা ব্যক্তিরা সমুদ্রে না নামার পরামর্শ মানা।

  • হোটেল, গেস্ট হাউস, রিসোর্টে পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ নিশ্চিত করা। টিউব ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

  • লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। শিশুদের সব সময় অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রাখা।

  • শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কের সদ্য তোলা ছবি মোবাইলে সংরক্ষণ করা। এতে শিশু হারালে দ্রুত সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।

  • সমুদ্রের স্রোতের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, বিশেষ করে তীব্র স্রোত, ঘূর্ণি স্রোত, উল্টো স্রোত বা নিম্নমুখী প্রবাহের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা।

  • জলোচ্ছ্বাস বা অতিরিক্ত স্রোতের ফলে সমুদ্রতটে তৈরি হওয়া বালি সরার ফাঁকা জায়গা ও গর্ত থেকে সাবধান থাকা।

  • অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি দিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা না করা, কারণ এতে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়তে পারে।

পর্যটকদের সতর্ক ও সচেতন থাকার মাধ্যমে সমুদ্রের আনন্দ নিরাপদভাবে ভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কুয়াকাটা সৈকতে ঢেউয়ের টানে প্রাণ গেল তরুণ পর্যটকের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সামাদ সিদ্দিকী পারভেজ (১৭) নামে এক কিশোর পর্যটক। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গোসলে নামার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

মৃত সামাদ মাগুরা সদর উপজেলার পশ্চিবাড়ীয়ালা হাজীপুর গ্রামের আলীউল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তারা খুলনার খালিশপুর এলাকায় বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে সামাদসহ ৭ বন্ধুর একটি দল বেড়াতে এসে কুয়াকাটার হোটেল সৈকতে উঠেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সবাই মিলে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে গোসলে নামেন। এ সময় সামাদ স্রোতের টানে সাগরের গভীরে তলিয়ে যান। বন্ধুরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে ফায়ার সার্ভিস এবং কয়েকজন ক্যামেরাম্যান উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকেই সামাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের লিডার শাহাদাৎ হোসেন জানান, উদ্ধার করার পর সঙ্গে সঙ্গে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিকাশ মন্ডল বলেন, নিহত পর্যটকের মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটার পথে রয়েছেন। তারা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সমুদ্রস্নানে নেমে প্রতি বছর এভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটার সাগরপাড়ে উপযুক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইফগার্ড ও সতর্কতা সাইনবোর্ডসহ স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পর্যটকদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন প্রথম পছন্দ: সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা।

তিনি জানান, সদ্যসমাপ্ত ঈদুল ফিতর ছুটিতে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে ভিড় জমিয়েছিলেন যে, তাদের আবাসন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত খালি করে দিতে হয়।

রোববার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এখন পর্যটকদের সেবাদানে মনোনিবেশ করতে হবে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখন প্রয়োজন টেকসই ও পর্যটকবান্ধব সেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভর হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখনই সময়। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা হবে ভবিষ্যতের আদর্শ ও উন্নত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থপতি।”

মতবিনিময় সভায় উদ্যোক্তারা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা।




গঙ্গামতি চর: কুয়াকাটার বুকে এক নিসর্গের জাদুকাব্য

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্বে বিস্তৃত গঙ্গামতি চর—একটি স্থান যেখানে সমুদ্রের গর্জন, লেকের শান্ত জলরাশি আর সবুজ বন মিলে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চর, যেখানে প্রতিটি সকাল শুরু হয় সূর্যের স্নিগ্ধ আলো আর কাঁকড়ার রঙিন নৃত্যে।

সূর্যোদয়ে রঙিন এক নাট্যাভিনয়

গঙ্গামতির লালচে বেলাভূমিতে ভোরের আলো পড়তেই শুরু হয় কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ। সূর্যোদয়ের মুহূর্তগুলো যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। এই দৃশ্য দেখে পল্লীকবি জসিমউদ্দিনের কবিতার মাঠগুলো মনে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বনজীবনের জীবন্ত নিদর্শন

চরজুড়ে বিস্তৃত কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও ছইলার বনে নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে পাখির কলতান, বানরের লাফালাফি, শেয়ালের নিঃশব্দ পথচলা আর বুনো শুকরের মাটির নিচে কন্দ খোঁজার দৃশ্য সবই যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা একটি ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর।

লেকের হৃদয়স্পর্শী সৌন্দর্য

গঙ্গামতির লেক যেন চরটির প্রাণ। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে প্রতিনিয়ত এর রূপ বদলায়। পর্যটকরা ট্রলার, ডিঙি নৌকা কিংবা হেঁটে এই লেক আর আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ভাটার সময় গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা ও ফুল মিলে তৈরি করে অনন্য এক প্রাকৃতিক শিল্প।

যাতায়াতে সহজতা, অথচ উন্নয়ন নেই

কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট থেকে সহজেই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অথবা ভ্যানে গঙ্গামতিতে যাওয়া যায়। ভাটার সময় যাওয়া যায় মাইক্রোবাসেও। তবুও পর্যটন সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই চর এখনও অবহেলিত। নেই পর্যাপ্ত সড়ক উন্নয়ন, নিরাপত্তা কিংবা পরিচ্ছন্নতা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সাদমান ও সিলভি বলেন, “এটা যেন এক অন্য জগৎ। লেক, বন আর কাঁকড়া মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ।”

ঘুমিয়ে থাকা সম্ভাবনার গন্তব্য

স্থানীয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও বিনিয়োগের অভাবে গঙ্গামতির সম্ভাবনা এখনও অচর্চিত। যদিও কিছু হাউজিং কোম্পানি ইতোমধ্যে এখানকার জমিতে বিনিয়োগ শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করছে। এখানে সাগরভাঙনের ঝুঁকি কম, ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্যও অনেক বেশি—সব মিলিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

উপসংহার

গঙ্গামতি শুধু একটি চর নয়—এটি ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময়, টেকসই, পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে। দরকার শুধু দৃষ্টি প্রসারিত করা, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আন্তরিক সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫