১৮ জুলাই ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’: পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ডাটা পাবেন সব মোবাইল গ্রাহক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১৮ জুলাই (শুক্রবার) দেশজুড়ে ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ পালন করা হবে। এদিন স্মরণীয় করে রাখতে দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহককে পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা দেওয়া হবে। এ উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ৩ জুলাইয়ের নির্দেশনা এবং ৮ জুলাই কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ জুলাই দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফ্রি ডাটা সংগ্রহের পদ্ধতি

বিটিআরসি জানায়, ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা সংগ্রহ করতে গ্রাহকদের নিজ নিজ অপারেটরের নির্ধারিত কোড ডায়াল করতে হবে। কোডগুলো হলো:

  • গ্রামীণফোন (জিপি): 1211807#
  • রবি: *41807#
  • বাংলালিংক: 1211807#
  • টেলিটক: 1111807#

এই কোড ডায়াল করলেই গ্রাহকরা ১৮ জুলাই থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন মেয়াদি ১ জিবি ইন্টারনেট প্যাক চালু করতে পারবেন।

সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার নির্দেশনা

বিটিআরসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্রি ইন্টারনেট ডে সম্পর্কে সর্বসাধারণকে অবগত করতে এই বার্তাটি টেলিভিশনের স্ক্রলে প্রচার করতে হবে। নির্ধারিত স্ক্রল বার্তাটি হলো:

*“জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৮ জুলাই সব মোবাইল ফোন গ্রাহক পাচ্ছেন ৫ দিন মেয়াদি ১ জিবি ফ্রি ডাটা। ফ্রি ডাটা পেতে ডায়াল করুন— জিপি 1211807#, রবি 41807#, বাংলালিংক 1211807#, টেলিটক 1111807# — ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।”

সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং জাতীয় ঐতিহাসিক দিবসকে স্মরণে রাখতে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা

পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায়। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর সুপারস্পেশালাইজড হাসপাতালে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীনের কারিগরি সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই আধুনিক সেন্টারে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) থেকে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি পক্ষাঘাত, স্ট্রোক, স্নায়ুবিক সমস্যা, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভোগা রোগীদের পুনর্বাসনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিএমইউ সূত্রে জানা গেছে, চীনের সরকার এই সেন্টারে প্রায় ২০ কোটি টাকার রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। কেন্দ্রটিতে রয়েছে মোট ৬২টি রোবট, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI)। এই রোবটগুলো রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ভুল ও সুনির্দিষ্টভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে।

সেন্টারটি চালুর পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীনের ৭ সদস্যের একটি বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দল ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই জনবল পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করার পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই রোবটিক থেরাপি বিশেষত স্ট্রোক, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতার মতো রোগীদের জন্য কার্যকর হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে গণআন্দোলনে আহতদের এই সেন্টারে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে।

শুধু বিশেষ প্রয়োজন নয়, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সাধারণ রোগীদের জন্যও চিকিৎসা সেবা উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে রোগীদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই রোবটিক রিহ্যাব সেন্টার শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত নয়, বরং হাজারো পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




সাইবার হামলার শঙ্কা: দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেছে ইরান

সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ‘টার্গেটেড’ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য নজরদারি রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “শত্রু পক্ষ একটি সাইবার বাহিনী গঠন করেছে—যার লক্ষ্য ইরানের অনলাইন অবকাঠামো ধ্বংস করা। তারা যেন দেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ইন্টারনেট আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”

তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু সংযোগ এখনও চালু রয়েছে।

এদিকে, দেশটির সাধারণ জনগণ অভিযোগ করছেন, বৃহস্পতিবার থেকে তারা মোবাইল ডিভাইস কিংবা ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে কোনো ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন না। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে প্রবেশ করতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।

ইরানে এর আগেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা নিরাপত্তা হুমকির সময় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এবারের ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা সরাসরি সাইবার হামলার হুমকির সঙ্গেই যুক্ত বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।




এআই বদলে দিচ্ছে ভবিষ্যতের চাকরির চিত্র

গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিস সম্প্রতি বলেছেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি চাকরির বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। অনেক পেশা বিলুপ্ত হবে, তবে একই সঙ্গে তৈরি হবে একদম নতুন ধরণের কর্মসংস্থান। তাই এখন থেকেই তরুণদের এআই শেখা শুরু করা জরুরি।

হাসাবিস বলেন, প্রযুক্তি যুগে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। যেমন ইন্টারনেট বদলে দিয়েছিল ৮০ ও ৯০-এর দশকের প্রজন্মের জীবনযাত্রা, আর স্মার্টফোন বদলে দিয়েছে জেনারেশন জেড-এর জীবন। ঠিক তেমনই আগামী প্রজন্মের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এআই। যারা এখন থেকেই এআই সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে এবং দক্ষতা গড়ে তুলবে, তারাই ভবিষ্যতে সফল হবে।

২০২২ সালে ওপেনএআই-এর তৈরি চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। অনেকেই আশঙ্কা করেন, এআই তাদের কাজ কেড়ে নেবে কি না। তবে হাসাবিস স্পষ্ট করেন, কিছু চাকরি হারিয়ে গেলেও নতুন নতুন পেশার উদ্ভব হবে। আগের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার, ইউএক্স ডিজাইনার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার এর মতো নতুন পেশার জন্ম হবে শুধুমাত্র এআই প্রযুক্তির কারণে।

তিনি বলেন, “শুধু সফটওয়্যার ব্যবহার শিখলেই হবে না, বুঝতে হবে প্রযুক্তি কিভাবে কাজ করে। এজন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি শেখার আগ্রহ, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা গুরুত্বপূর্ণ।”

ভবিষ্যতে যেসব কাজ মেশিন বা রোবট করবে, তবে যেখানে মানবিক বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা প্রয়োজন, সেখানে মানুষের আধিপত্য থাকবে। তাই মানুষকে বুদ্ধি ও দক্ষতা দিয়ে মেশিনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে।

ডেমিস হাসাবিস তরুণ শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল সিলেবাসে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে। তিনি বলেন, “এখন শেখা, পরীক্ষা করা, ভুল করা, আবার শেখার সবচেয়ে ভালো সময়।”

তাঁর পরামর্শ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে, এআই ল্যাব ঘাঁটতে, ফ্রি অনলাইন কোর্স করতে এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হবে।

হাসাবিসের ভাষ্য, কঠিন টেকনিক্যাল জ্ঞানের পাশাপাশি নিজেকে বদলানোর মানসিকতা জরুরি। তিনি বলেন, “মানুষের শক্তি হলো মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। যে নিজেকে বদলাতে পারবে, সে টিকে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এআই এখনকার বাস্তবতা। এই প্রযুক্তির ওপর দক্ষতা অর্জন করবে, ভবিষ্যত তারই হাতে থাকবে।”

ডেমিস হাসাবিসের এই বক্তব্য তরুণদের জন্য স্পষ্ট সংকেত — এআইকে ভয় না পেয়ে বুঝে নিয়ে নিজেদের কাজে লাগানোই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০৩০ সালে বিশ্বজুড়ে ৪৫০ কোটির বেশি ডিভাইসে থাকবে ই-সিম

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ই-সিম প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যেই ই-সিম সুবিধা সমৃদ্ধ ডিভাইসের সংখ্যা ৪৫০ কোটির ঘর অতিক্রম করবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ক্যালেইডো ইন্টেলিজেন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে যেখানে ৫০ কোটির মতো ডিভাইসে ই-সিম ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এই সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, ট্যাবলেট ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) ডিভাইসে ই-সিমের ব্যবহার বাড়ছে ব্যাপক হারে।

ই-সিম (ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল) হলো এমন একটি ডিজিটাল সিম, যা সরাসরি ডিভাইসে সংযুক্ত থাকে। ফিজিক্যাল সিম কার্ডের মতো আলাদা করে পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না। অপারেটর পরিবর্তন, নম্বর বদল বা রোমিং সুবিধা ব্যবহার এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ই-সিম প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ফাইভজি নেটওয়ার্ক। উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং স্মার্ট ডিভাইসের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ব্যবহারকারীরা ঝুঁকছেন এই আধুনিক ও ঝামেলামুক্ত প্রযুক্তির দিকে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, চীনের সরকার সম্প্রতি ই-সিম প্রযুক্তি নিয়ে পূর্বের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এর ফলে ২০২৫ সালের মধ্যেই চীনের বাজারে ব্যাপকহারে ই-সিম চালিত স্মার্টফোন প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন ই-সিম প্রযুক্তির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ সচেতনতা এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধা বিবেচনায়, ভবিষ্যতের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় ই-সিম একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করছে, যা প্রযুক্তিকে আরও টেকসই ও উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অ্যানিমে দিয়ে ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছে হ্যাকাররা

বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের কাছে জাপানি অ্যানিমেশন ‘অ্যানিমে’ এখন একটি বিশাল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এই জনপ্রিয়তার সুযোগ নিচ্ছে হ্যাকাররা—তারা অ্যানিমে-প্রেমীদের ফাঁদে ফেলে ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ক্যাসপারস্কির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে অ্যানিমে-ভিত্তিক ফিশিং হামলার সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এসব হামলায় ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফাঁস হওয়া এপিসোড, নতুন ট্রেইলার কিংবা প্রিমিয়াম কনটেন্টের লোভনীয় অফার।

হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট, ডাউনলোড লিংক ও কাস্টমাইজড ম্যালওয়্যার ফাইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া ‘জেনারেশন জেড’ শ্রেণির প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ যেহেতু নিয়মিত অ্যানিমে দেখে, তারাই মূলত এই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, জনপ্রিয় কিছু অ্যানিমে সিরিজকে হ্যাকাররা আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ‘নারুতো’, যার মাধ্যমে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এরপর রয়েছে ‘ডেমন স্লেয়ার’ (৪৪ হাজার আক্রমণ) এবং ‘অ্যাটাক অন টাইটান’, ‘ওয়ান পিস’, ‘জুজুৎসু কাইসেন’-এর মতো জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজগুলো।

তবে এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যানিমে ছাড়াও ‘শ্রেক’, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’, ‘টুইলাইট’ ও ‘ইনসাইড আউট’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা ও সিরিজের নাম ব্যবহার করেও ৪৩ হাজারের বেশি আক্রমণ চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শুরুতে ‘শ্রেক’-এর নতুন ট্রেইলার প্রকাশের সময় এই সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহারকারীদের সতর্ক হতে হবে। তারা বলছেন, অজানা ওয়েবসাইটে প্রবেশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা, অচেনা উৎস থেকে কোনো ফাইল ডাউনলোড না করা এবং সবসময় আধুনিক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা জরুরি। এভাবে সচেতন থাকলে এসব সাইবার আক্রমণ থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গেমের দুনিয়ায় বন্দী বিশ্ববাসী

বিশ্ব যখন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই বিনোদনের সংজ্ঞাও বদলে গেছে। এক সময় যেখানে ছেলেমেয়েরা মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করত, এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল ও কম্পিউটারে খেলা ভিডিও গেম। আর এই গেমিং দুনিয়ায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে লাখো মানুষ। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য—বিশ্বজুড়ে ৮৩.৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন ভিডিও গেমসের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। এই তথ্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ইন্টারনেট ব্যবহার মানেই এখন গেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের গেমার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩৩২ কোটিতে, যা পৃথিবীর জনসংখ্যার এক বিশাল অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। এর পেছনে মূলত দায়ী ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তার, ডেটা খরচে সাশ্রয় এবং হাজারো বিনামূল্যের মোবাইল গেম অ্যাপ, যা সকল বয়সী মানুষকে ভিডিও গেমের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলছে।

বিশ্বব্যাপী গেমারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এশিয়া। চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোতে মোবাইল গেমিংয়ের অভাবনীয় বিস্তারের ফলে এই অঞ্চলে গেমারদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৮ কোটিতে। বৈশ্বিক গেমিং জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশই এখন এশিয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপ, যেখানে ৪৫ কোটির মতো গেমার রয়েছেন। এদের পরেই রয়েছে লাতিন আমেরিকা, যেখানে সম্প্রতি অনলাইন গেম, ই-স্পোর্টস এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপটে গেমিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে আজকের গেমিং জগৎ শুধুমাত্র গেম খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখন এক বিশাল ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে। গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে কোটি কোটি ডলার পুরস্কারসহ ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। অন্যদিকে Twitch ও YouTube Gaming-এর মতো প্ল্যাটফর্মে গেম খেলে তা লাইভ দেখিয়ে আয় করছেন লাখো মানুষ। এর পাশাপাশি গেম ডেভেলপমেন্টও হয়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র, যেখানে কোটি কোটি ডেভেলপার প্রতিনিয়ত নতুন গেম তৈরি করছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও ক্লাউড গেমিং প্রযুক্তির সংযোজন ভবিষ্যতের গেমিং অভিজ্ঞতাকে নিয়ে যাচ্ছে আরও উচ্চতায়।

গবেষণা বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই গেমিং ইন্ডাস্ট্রির বাজার মূল্য ৩৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এক সময় গেমিং ছিল মূলত কম্পিউটার বা কনসোল নির্ভর, আর এখন সবচেয়ে বড় অংশটি দখল করেছে মোবাইল গেমিং। Subway Surfers, PUBG Mobile, Free Fire, Candy Crush-এর মতো গেমগুলো শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরেও পৌঁছে গেছে। এই গেমগুলোতে অংশ নিচ্ছেন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, চাকরিজীবী, গৃহিণী এমনকি অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধরাও।

তবে এই গেমিং প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। অনেক সময় অতিরিক্ত গেম খেলার ফলে তৈরি হচ্ছে আসক্তি, চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, একাকীত্ব এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেম খেলার মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, নতুবা এই ভার্চুয়াল আনন্দ বাস্তব জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারে। অভিভাবক ও তরুণদের সচেতনভাবে গেমিংয়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা, শুরুতেই দুটি প্যাকেজ

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স পরিচালিত এ সেবাটি মঙ্গলবার (২০ মে) থেকে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ–বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্টারলিংক সোমবার তাকে ফোনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এছাড়া স্টারলিংক তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

কী থাকবে প্যাকেজে?

ফয়েজ আহমদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দুইটি প্যাকেজে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হবে:

  • Starlink Residence – মাসিক খরচ: ৬,০০০ টাকা
  • Residence Lite – মাসিক খরচ: ৪,২০০ টাকা

তবে প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে শুরুতে সেটআপ যন্ত্রপাতির জন্য ৪৭,০০০ টাকা এককালীন প্রদান করতে হবে। এই যন্ত্রপাতির মধ্যে থাকবে রিসিভার ডিশ, রাউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

বিশেষ দিক হলো, এই প্যাকেজগুলোতে কোনো স্পিড বা ডেটা লিমিট নেই। গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতির আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা?

বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ বলেন, “যদিও এটি ব্যয়বহুল, তবে এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উচ্চমানের, স্থিতিশীল ইন্টারনেট সেবার একটি টেকসই বিকল্প তৈরি হলো।”

এই সেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, ফাইবার সংযোগহীন এলাকা, এনজিও, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বছরব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা দেবে।

তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের কার্যক্রম চালু করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেটি সময়মতো বাস্তবায়ন হয়েছে।

আজ থেকেই বাংলাদেশের গ্রাহকরা স্টারলিংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অর্ডার দিতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 ইন্টারনেটের দাম না কমালে কঠোর পদক্ষেপ: ফয়েজ আহমদ

মোবাইল অপারেটররা সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও ইন্টারনেটের দাম না কমানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দর না কমালে সেবার মান, বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য ছাড় বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

◾ “ছাড় নিয়ে ব্যবসা, কিন্তু দাম কমায় না!”

ফয়েজ আহমদ বলেন, “বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেটের মূল্য কমাচ্ছে না। অথচ সরকার তাদের কর সুবিধা, স্পেকট্রাম ছাড়সহ নানা বিষয়ে ছাড় দিয়ে আসছে। এখন এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।”

তিনি জানান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে কাজ করছে সরকার। এরইমধ্যে স্টারলিংকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আগ্রহ দেখিয়েছে।

◾ ব্যয়ের লাগাম টানছে সরকার

সরকারের ব্যয় সংযত নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এবার বাজেটে মুখরোচক প্রকল্পের নামে লুটপাটের সংস্কৃতি পরিহার করা হয়েছে। সেই কারণে দিবসটির অনুষ্ঠান বিটিআরসি ভবনেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।”

◾ গ্রামীণফোনের ব্ল্যাকআউট নিয়ে সতর্কতা

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, “গতকাল (১৪ মে) সারাদেশে প্রায় ৪০ মিনিট গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট ছিল। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গ্রামীণফোনের ফ্রি ইন্টারনেট পাবেন যেভাবে