বিশ্বের যে ৫ স্থানে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ


চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  আধুনিক এই সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া একদিনও কল্পনা করা যায় না যেন। বিশেষ করে বাইরে বের হলে বা বেড়াতে গেলে এই ফোনের প্রয়োজন পড়ে আরও বেশি। কিন্তু এমনকিছু জায়গা আছে যেখানে বেড়াতে গেলেও আপনি সঙ্গে ফোন রাখতে পারবেন না। এমনকী মোবাইল ফোন বহন করার কারণে আপনাকে গুণতে হতে পারে জরিমানাও। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এটি সত্যি। জেনে নিন এমন ৫ স্থান সম্পর্কে-

সিস্টাইন চ্যাপেল, ইতালি

তামিলনাড়ুর মন্দির

অক্ষরধাম মন্দির, দিল্লি

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দিল্লির এই মন্দির দর্শনের সেরা জায়গা বলে মনে করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে পর্যটকরা তাদের মোবাইল ফোন অক্ষরধাম মন্দির চত্বরে নিয়ে যেতে পারবেন না। সেখানে গেলে মোবাইল ফোন আপনাকে বাড়িতে রেখে যেতে হবে।

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রাম জন্মভূমি কমপ্লেক্সের সম্পূর্ণ এলাকায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। শুধু কি মোবাইল ফোন? সেইসঙ্গে ক্যামেরা, ঘড়ি, বেল্ট এবং যেকোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও এখানে নিষিদ্ধ।

ইয়ালা জাতীয় উদ্যান, শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার এই বিখ্যাত জাতীয় উদ্যান ইয়ালা। এই উদ্যানে বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করার জন্য এর ভেতরে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে ২০১৫ সাল থেকে। কারণ এর আগে সেখানকার গাইডরা বন্য প্রাণীদের দেখার জন্য ইচ্ছামতো মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। যা প্রাণীগুলোর জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এরপর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এলিট আইল্যান্ড রিসর্ট, ক্যারিবিয়ান বিচ

ক্যারিবিয়ান বিচের এলিট আইল্যান্ড রিসর্টে মোবাইল নিষিদ্ধ নীতি চালু করা হয়েছিল ২০১২ সালে। এখানকার সমস্ত সৈকতে নিষেধাজ্ঞা লেখা সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। সেখানে চেক-ইন করার সময় এই নীতিগুলো সম্পর্কে পর্যটকদের জানিয়ে দেওয়া হয়।




৪৩৭ বছর পর পৃথিবীর কাছাকাছি নিশিমুরা ধূমকেতু, দেখা যাবে খালি চোখে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  ডেক্স:  ‘নিশিমুরা ধূমকেতু’, যা ৪৩৭ বছরে একবার পৃথিবীর কাছাকাছি আসে। আর যখনই এটি পৃথিবীর কাছে আসে, তখন একে খালি চোখে দেখা যায়। এর জন্য প্রয়োজন হবে না কোনো টেলিস্কোপের। এমন উজ্জ্বল ধূমকেতুকে বলা হয় বৃহৎ ধূমকেতু। যা সচরাচর দেখা যায় না। তাই যারা আকাশের খবর রাখেন, তারা আগামীকাল অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বর আকাশের দিকে চোখ রাখতেই পারেন।

মূলত, ধূমকেতুটি জ্যোতির্বিদ হিডিও ‘নিশিমুরা’র নামে নামকরণ করা হয়। আগস্ট মাসে এ ধূমকেতুর আবিষ্কার করেছিলেন এ জ্যোতির্বিদ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, একটি ধূমকেতু আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খালি চোখে আকাশে দেখা যাবে। এর নাম ‘নিশিমুরা’। চলতি বছরের ১১ আগস্ট, প্রথমবারের মতো এ ধূমকেতুর সন্ধান পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে দূরবীনের সাহায্যে দেখা যাচ্ছে ধূমকেতুটি। যদিও পৃথিবী থেকে এখনো অনেকটা দূরে আছে এটি। তবে যখন কাছে আসবে, তখন কোনো টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে না।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ‘নিশিমুরা ধূমকেতু’ শিগগিরই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে এবং এসময়ে এটি পৃথিবীর কাছাকাছিও আসবে। পরে তা চলে যাবে দূর মহাকাশে। এ ধূমকেতুর বৈজ্ঞানিক নাম সি/২০২৩-পি১। যা আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যের সবচেয়ে কাছে আসবে। এর আগে, এটি ১৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসা’সহ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেখা যাবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘নিশিমুরা ধূমকেতু’র কক্ষপথের সময়কাল ৪৩৭ বছর। আগামীকালের পর, এ ধূমকেতুটি আবার ৪৩৭ বছর পর পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে। যা দেখা যাবে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। রাত যত গভীর ও অন্ধকার হবে, ‘নিশিমুরা ধূমকেতু’ দেখার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।




সৌরজগতে নতুন গ্রহ, আকার পৃথিবীর মতো

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ নেপচুনের ঠিক পিছনে কুইপার বেল্টে লুকিয়ে থাকতে পারে নতুন একটি গ্রহ। ধারণা করা হচ্ছে, এটির আকারে আমাদের পৃথিবীর মতো হলেও ভর ও আয়তনে কয়েকগুণ বড় হতে পারে। এটির ভর পৃথিবীর তুলনায় দেড় থেকে তিনগুণ বেশি হবে। গ্রহটির অবস্থান সূর্য থেকে ৫০০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার বা ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল) দূরে হতে পারে।

দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, জাপানের কিন্দাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক সোফিয়া লাইকাওকা ও দেশটির ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানী তাকাশি ইটো কুইপার বেল্ট ও ট্রান্স-নেপচুনিয়ান অবজেক্ট নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এ গবেষণা করতে গিয়েই নতুন ওই গ্রহের অস্তিত্ব টের পান তারা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোটি কোটি বছর আগে সূর্য থেকে যেসব গ্রহ তৈরি হয়েছিল, সেখানে একটি ডোনাট আকৃতির বলয় থেকেই কুইপার বেল্টের সৃষ্টি। পৃথিবী থেকে অনেক দূরে হওয়ায় বিজ্ঞানীরা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি ও স্পষ্ট কোনো ধারণা পাননি।

জানা যায়, ১৯৫১ সালে ডাচ-আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেরার্ড কুইপার এ গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানান। পরবর্তীতে তার নামেই এটির নামকরণ করা হয়।

দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়, অন্য বস্তুর ওপর এর মহাকর্ষ প্রভাব থাকায় এটিকে গ্রহ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর আগেও বিজ্ঞানীরা এই গ্রহের অস্তিত্বের আভাস পেয়েছিলেন। তবে তখন এর আকার এত বড় বলে মনে হয়নি।

২০২০ সালের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একটি নবম গ্রহের প্রস্তাব করেছিলেন। বেশিরভাগ মানুষ প্লুটোকে নবম গ্রহ বলে মনে করেন, কিন্তু এটিকে ২০০৬ সালে একটি বামন গ্রহ (গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয়) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। অন্যদিকে বলা হয়েছিল, আসলেই যদি নতুন গ্রহটির অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে পৃথিবীর চেয়ে দেড় থেকে তিনগুণ বড় হবে।

সৌরজগতে এমন কিছু মহাজাগতিক বস্তু আছে যেগুলোকে গ্রহও বলা যায় না, উপগ্রহও বলা যায় না। গ্রহ নয় কারণ এগুলো সাধারণ গ্রহ থেকে আকারে ছোট। আবার উপগ্রহও নয়, কারণ এগুলো কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে না। এগুলোকেই বলা হয় বামন গ্রহ। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা সৌরজগতে মোট পাঁচটি বামন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে প্লুটোর সবচেয়ে পরিচিত। বাকি চারটি হলো: এরিস, সেরেস, মাকেমাকে ও হাউমেয়া।

এর আগে গত ১৭ মে পৃথিবীর আকৃতির সমান নতুন একটি এক্সোপ্লানেট বা গ্রহের সন্ধান দিয়েছিলেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন এ গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছিল এলপি ৭৯১-১৮ডি। এক্সোপ্ল্যানেটটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ৯০ আলোকবর্ষ দূরে ক্রেটার নক্ষত্রমণ্ডলে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে খুঁজে পাওয়া গ্রহগুলোকেই এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়।




গৌরনদী পৌরসভায় টিটিসি উদ্বোধন প্রশিক্ষণ পাবে বেকার যুবক-যুবতী

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ, উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মান করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কোল ঘেঁষে গৌরনদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কসবা গ্রামের দেড় একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধণ করবেন। সেলক্ষে ইতোমধ্যে কেন্দ্রের সামনে প্যান্ডেল নির্মান ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিভাগের অধীনে দেশের ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে গৌরনদীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। এখানে ছয়টি ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অ্যাকাডেমিক ভবন, অধ্যক্ষের বাসভবন ও ডরমেটরি ভবন নির্মান করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এ গ্রামে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করায় এলাকার বেকার যুবক ও যুবতীরা আশায় বুক বেঁধেছেন।

বরিশাল গৌরনদী পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন হাওলাদার বলেন, আমাদের উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ অনেক সুখের বিষয়। এখানে আমাদের বেকার ছেলে-মেয়েরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যেমন চাকরির বাজারে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবে। তেমনি নিজেরা নিজেদের কর্মসংস্থানও তৈরি করতে পারবে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সার্বিকভাবে গৌরনদী উপজেলাসহ এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় গৌরনদীর কসবা এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে ২০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গৌরনদীতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র প্রচেষ্টায় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হবে। ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এতে গৌরনদী উপজেলাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

বরিশাল গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কাইউম বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাসহ সুধীজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৭৫ জন জনবল নিয়ে ছয়টি ট্রেডে ১৫ টি কোর্স নিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হবে। এতে প্রায় ৪২ জন প্রশিক্ষক থাকবে। কেন্দ্রটি থেকে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আব্দুল্লাহ খান বলেন, বৃহস্পতিবার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনের পর পরই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। এখান থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা দেশ ও বিদেশে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিতে পারবে। ফলে গৌরনদী উপজেলাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। বিশ্ববাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের চাহিদা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গৌরনদীতে নির্মিত হয়েছে এ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক ও জনশক্ষি কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ শহিদুল আলম বলেন,দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ, সম্মান দুই মেলে”। বিদেশে যেতে গেলে দক্ষ হয়ে যেতে হবে, আর দক্ষ হতে হলে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। দক্ষ মানুষ সারাবিশ্বের মানুষের উপকারে লাগে। কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো দেশের ৪০টি উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প গ্রহন করেছে। এসব প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারে দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানির করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশের জনগন নিজ নিজ এলাকায় থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহন করে নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।




বরিশালে নির্মিত হচ্ছে রাইস সাইলো, দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় অমিত সম্ভাবনা 

বরিশাল অফিস : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় নির্মানাধীণ অত্যাধুনিক শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার স্টিল রাইস সাইলো প্রকল্পের কাজ  প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও কীর্তনখোলা নদীতে নির্মাণাধীন পল্টুন (যেটি) এর নির্মাণ কাজও  দ্রুত গতিতে শেষ করা হবে বলে জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন এলাকায় এই স্টিল সাইলোটি কাজ শেষে চালু হলে খাদ্যপণ্যের গুণগতমান ও পুষ্টিমান দীর্ঘ তিন বছর সময় বজায় রাখা সম্ভব হবে। প্রায় ৩৬২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই আধুনিক স্টিল সাইলো।

৫২০ শতক জমির উপর নির্মিত এই সাইলোতে একসঙ্গে তিন বছরের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে ৪৮ হাজার টন চাল। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, যে কোন দুর্যোগকালীন সময় খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় স্টিল সাইলোতে সংরক্ষণ করা চাল হবে দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য হবে বড় সহায়ক ।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় সরকারিভাবে দীর্ঘদিন মজুদ রাখার উপযোগী আধুনিক ও উন্নতমানের খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পৃথক-পৃথক ১৬টি বিনের মাধ্যমে প্রতিটি বিনে ৩ হাজার মেটিকটন চাল ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে এ সাইলো। সর্বাধুনিক সাইলো পাইল, ফাউন্ডেশন স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যম সহ নদী ও সড়ক পথে চাল আমদানী করা হলে তা জেটি থেকে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে অটোমোশন লোডিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণাগারে এসে প্রতিটি বিনে মজুদ হবে।

এতে কীটনাশক ছাড়া আধুনিক চিলার (স্বয়ংক্রিয় তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) যন্ত্রের মাধ্যমে আদ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রায় তিন বছর চাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চাল সংরক্ষণ, ব্যাগিং ও লেডিং-আনলোডিং প্রক্রিয়া করবে।

একাজে নিয়োজিত অপারেটর নিজ কক্ষে বসে প্রতিটি সাইলো বিনের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। ফলে সঠিক তাপমাত্রা ও আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ইতিমধ্যে ১৬টি স্টিল সাইলো বিন ১৬টির কাজ সম্পূর্ন হয়েছে এখন শুধু বাকি কনভেয়ারে কাজ তাও দ্রæতগতিতে চলছে বলে জানান প্রকল্প কাজে সংশ্লষ্ট সদস্যরা। অন্যদিকে বাংলো, সাইলো অফিস, পাম্প হাউজ সহ গোডাউনের কাজ সম্পূর্ন করার পাশাপাশি আমাদের এখানের কাজ দ্রুতগতিতে গিয়ে চলছে ও আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে এ প্রকল্পের কাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং ফেব্রয়ারী মাসে সাইলোর উদ্ধোধন করা হতে পারে হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাইলো প্রকল্প প্রকৌশলী বরিশাল সাইলো আ.জ.ম ইফতেখার।

এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ হাজার টন খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক খাদ্য মজুদের ক্ষেত্রে স্টিল সাইলো হবে বাড়তি শক্তি। খরা, ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছাসের পর খেতে ফসল ওঠা পর্যন্ত এই সাইলোর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে আলাপকালে স্টিল সাইলো প্রকল্প প্রকৌশলী আ.জ.ম. ইফতেখার বলেন, স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্পটির চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০২১ সালের জুন মাসে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস নাগাদ শেষ হবার কথা ছিল মাঝে জমি সংক্রান্ত একটু জটিলতার কারনে কিছুটা সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাইলো নির্মাণ কাজের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি আমরা ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে কাজ সম্পূর্ন করে হস্তান্তর করব। যা পরবর্তী সময় ফেব্রুয়ারীতে চালু করা হবে। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব ও কীটনাশকমুক্ত।




সূর্যের উদ্দেশে যাত্রা করল ভারতের মহাকাশযান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চন্দ্রজয়ের পর সূর্য অভিযান শরু হলো ভারতের। সূর্যের উদ্দেশে আদিত্য এল-১ নামে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে দেশটি। এটি সূর্যে ভারতের প্রথম অভিযান।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পিএসএলভি-৫৭ রকেটে চেপে ইসরোর এই মহাকাশযান সূর্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

সৌরযানটি চাঁদের মতো সূর্যে অবতরণ করবে না। সৌরযানের ৩টি অংশ খুব কাছ থেকে এবং ৪টি অংশ দূর থেকে সূর্য পর্যবেক্ষণ করে যাবে।

সৌরযানটির নাম প্রথমে ছিল আদিত্য। সংস্কৃত ভাষায় সূর্যের অপর নাম আদিত্য। পরে এই নামের সঙ্গে এল-১ যুক্ত করা হয়েছে। কারণ এটি সূর্যের ল্যাগ্রন পয়েন্টে যাবে। ল্যাগ্রন পয়েন্ট ‘এল ১’ নামেও পরিচিত। এই ল্যাগ্রন পয়েন্টটি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝামাঝি মহাকাশের বিশেষ এলাকায় অবস্থিত। এই পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে জোসেফ-লুই ল্যাগ্রনের নামানুসারে। তিনি ইতালীয়-ফরাসি গণিতবিদ। তিনি দেখিয়েছিলেন মহাশূন্যে এমন পাঁচটি পয়েন্ট রয়েছে যেখানে সূর্য ও পৃথিবীর বিপরীতমূখী আকর্ষণের ফলে বস্তু ত্রিশঙ্কু অবস্থায় ভেসে থাকতে পারে। ফলে জ্বালানি খরচ হয় না। এছাড়াও এই ল্যাগ্রন পয়েন্ট থেকে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করা সহজ।

সৌরযানটি পৃথিবীর চারপাশে ১৬ দিন প্রদক্ষিণ করবে। এরমধ্যে প্রয়োজনীয় গতিবেগ সঞ্চয় করে ল্যাগ্রন পয়েন্টে পৌঁছে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করবে। সূর্যের করোনা অঞ্চলটি নিয়ে পরীক্ষা চালাবে। সূর্যের জিওম্যাগ্নেটিক কারণে সৌরঝড় হয়ে থাকে। সেই সৌরঝড় নিয়েও গবেষণা চলবে। এছাড়াও সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত যেসব সৌরকণা ছিটকে বের হচ্ছে তা নিয়েও চলবে গবেষণা। পৃথিবীর ওপর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব নিয়েও গবেষণা হবে।

ইসরো বলছে, পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকারক সৌর বায়ু এবং ঝড়ের আগাম তথ্য পাওয়া যাবে অভিযান সফল হলে। ফলে আগাম সতর্কতাও জারি সম্ভব হবে। সৌরযানটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে সোলার প্যানেল এবং ব্যাটারির মাধ্যমে। সূর্যের ছবি তোলার জন্য এটিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

একটি রেফ্রিজারেটরের মতো আকারের এই সৌরযানটির ওজন প্রায় দেড় হাজার কেজি। এটি তৈরিতে বিশেষ ধরনের ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে, যা মহাকাশের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য বেশ উপযোগী।

ইসরোর এই অভিযান চন্দ্রযান-৩ অভিযানের অর্ধেক খরচ হয়েছে। চন্দ্রযান-৩ অভিযানে ৬১৫ কোটি রুপি ব্যয় করেছে ইসরো




বিশ্ব চিঠি দিবস: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আবেদন হারিয়েছে ডাকের চিঠি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ‘রানার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে। রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে, রানার রানার চলেছে, রানার’- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গানের সেই রানার আজ নেই। ডাক বিভাগে লেগেছে অধুনিকতার ছোঁয়া। তবে এত কিছুর পরও দিন দিন কমেছে চিঠি।

গত ৫ বছরে ডাক বিভাগের চিঠি কমেছে অর্ধেক। শুধুমাত্র সরকারি কাজে ও অফিসিয়িাল ছাড়া ডাক বিভাগে আর ব্যক্তিগত চিঠি আসে না। যদিও বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি আধুনিকায়নের ফলে এখন কমেছে চিঠি।

এদিকে দিন দিন বাড়ছে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের চাহিদা।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস লি. রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আলতাফ হোসেন বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি চিঠি আদান প্রদান হয়। মানুষকে সুন্দরভাবে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কারণেই মানুষ আমাদের বেছে নেয়।

রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল শেখ সাইফুল আলম বলেন, চিঠির সংখ্যা শুধু রাজশাহীতে বা বাংলাদেশে কমেনি, এটা সারাবিশ্বেই কমেছে। মূলত ডিজিটাল সুবিধার কারণেই চিঠি কমেছে। মানুষ এখন ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমেইলে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করছে। ফলে ব্যক্তিগত চিঠি নেই বললেই চলে। অফিসিয়িাল চিঠি এখন আসছে। ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিঠি অনেক বাড়ছে।

তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে ১০১২-১৩ সালে ডাক বিভাগের অ্যাক্ট হয়। এর ফলে ডাক বিভাগের সঙ্গে কুরিয়ারের কম্পিটিশন বাড়ছে। আমাদের আনেক সেবা সম্পর্কে মানুষ জানেও না। ডোমেস্টিক মেইলে আমাদের একটি যুগান্তকারী কাজ হয়েছে। এখন চিঠি কতদূর গেলো সেটি গ্রাহক নিজে ট্র্যাকিং করে দেখতে পারবে। আশা করছি ভালো একটি সময় আসছে।




স্মার্টওয়াচ ব্যবহারে হতে পারে মারাত্মক বিপদ!

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  বর্তমানে স্মার্টফোনের মতোই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে স্মার্টওয়াচের চাহিদা। ছোট-বড় সবাই ব্যবহার করছেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ। অ্যাপলের স্মার্টওয়াচের পাশাপাশি বাজারে আছে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ। অসংখ্য স্বাস্থ্য, স্পোর্টস এবং ওয়াচ ফেস ফিচারে ঠাঁসা এসব স্মার্টওয়াচ। সঙ্গে আছে জিপিএস এবং ব্লুটুথ কলিং ফিচার।

তবে স্মার্টওয়াচ ব্যহারে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছেন না তো? যে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো, স্মার্টঘড়িগুলো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (ইএমএফ) রেডিয়েশন নির্গত করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

দীর্ঘসময় স্মার্টওয়াচ ব্যবহারে ইএমএফ রেডিয়েশনের কারণে আপনার ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি এই রেডিয়েশন এবং স্মার্টওয়াচের নির্গত নীল আলো আপনার স্মৃতিশক্তি লোপ করতে পারে।

এসব সমস্যা থেকে বাঁচতে স্মার্টওয়াচ ব্যবহার সীমিত করুন। প্রয়োজন না হলে হাতে পরে থাকবেন না। নিয়মিত স্মার্টওয়াচ পরিষ্কার করুন। জিম বা শারীরিক কসরত করার সময় স্মার্টওয়াচ পরে থাকলে তা পরবর্তিতে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।  ঘুমের সমস্যা এড়াতে, বিছানায় যাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা আগে সব প্রযুক্তি থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।




বরিশালে হারিয়ে যাওয়া ৪১ মোবাইল ফোন ফিরে পেলেন মালিকরা

বরিশাল অফিস : বিভিন্ন সময়ে হারানো বা চুরি হওয়া ৪১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে বরিশাল জেলা পুলিশ। হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে তারা সবাই খুব খুশি।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আইসিটি শাখা ও ডিবি পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত ফোনগুলো প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেন বরিশাল পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।

উদ্ধারকৃত ফোনগুলো মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার সময় পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, এ সব ফোনগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কারণ যারা ফোনগুলো চুরি করেছে তারা বিভিন্নস্থানে বিক্রি করে দিয়েছে। তাই প্রকৃত চোর বা ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ৮ মাসে এ পর্যন্ত জেলা পুলিশ ১৬১টি ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সব চোরাই সিন্ডিকেট ধরতে জেলা পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুতই এই চোরাই সিন্ডিকেট ধরা পড়বে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হারানো ফোন ফিরে পেয়ে বিএম কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অভিজিৎ সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, কখনো ভাবিনি যে ফোনটা ফিরে পাবো। হারানো ফোন ফিরে পেয়ে খুব ভাল লাগছে। ফোনের চেয়েও ফোনের তথ্য, ছবি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো জরুরি। এজন্য বরিশাল জেলা পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

বরিশালের কবির তার হারানো ফোন ফিরে পেয়ে বলেন, হারানোর পর ফোন ফিরে পাওয়ার আসা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে পুলিশের সহায়তায় প্রায় দুই মাস পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এজন্য বরিশাল জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ।

হারিয়ে যাওয়া ফোনগুলো উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ প্রমুখ।




চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রথম সেলফি পাঠাল চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: মহাকাশে দীর্ঘ এক মাস নয় দিনের যাত্রা শেষে ভারতের মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩ গত বুধবার চাঁদের বুকে অবতরণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের এলিট ‘স্পেস ক্লাবে’ জায়গা করে নেয়। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারত এ গৌরব অর্জন করেছে। একইসঙ্গে দেশটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণের দিক থেকে প্রথম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চন্দ্রযান-৩ এর ‘বিক্রম’ নামক ল্যান্ডারটি চাঁদের বুক থেকে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে।ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ভারতের রোবট বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের প্রথমবারের মতো পাঠানো সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরো ভিডিও শেয়ার করে লিখেছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে রোভার প্রজ্ঞানের অবতরণ। ল্যান্ডার বিক্রম থেকে প্রজ্ঞান বের হয়ে চাঁদের মাটি ছুঁয়েছে। সেই ভিডিও ধারণ করেছে ল্যান্ডার বিক্রম। আর তাই পাঠানো হয়েছে

ইসরোর তথ্য অনুসারে, চন্দ্রযান-৩ অভিযানে ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় মোট ৬১৫ কোটি রুপির মতো খরচ হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়াচ্ছে ভারত।  বিবিসি বলছে, এতো কম খরচে পৃথিবীতে কোনো সফল মহাকাশ অভিযান লঞ্চ করার নজির খুব কমই।