রোবোট্যাক্সি নিয়ে উবারের বিপ্লব, আসছে নতুন বিনিয়োগ

রাইড-শেয়ারিং খাতের বৈশ্বিক নেতা উবার আত্মপ্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে স্বচালিত গাড়ির যুগে। প্রতিষ্ঠানটি রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বড় ধরনের বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনায় রয়েছে এবং এজন্য তারা আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম ও শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। উবারের লক্ষ্য—বিশ্বব্যাপী একটি কার্যকর ও লাভজনক রোবোট্যাক্সি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারা খসরুশাহি জানিয়েছেন, স্বচালিত ট্যাক্সি ব্যবসার জন্য তিনটি ভিন্ন মডেল গ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি হলো ভাড়া ভিত্তিক মডেল, যেখানে পার্টনার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ভাড়া পাবে। দ্বিতীয় মডেলটি রাজস্ব ভাগাভাগির, যেখানে আয় শেয়ার করবে উবার ও ফ্লিট অপারেটররা। আর তৃতীয় মডেলটি সম্পূর্ণ মালিকানাভিত্তিক, যেখানে উবার নিজেই ট্যাক্সির মালিক থাকবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স প্রদান করবে।
খসরুশাহি বলেন, যখন উবারের প্রতিটি রোবোট্যাক্সি দৈনিক কতটা আয় করছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যাবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আরও বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে।
বর্তমানে উবার তার বার্ষিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ প্রবাহ থেকে সীমিত অর্থ ব্যয় করে এই রোবোট্যাক্সি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে প্রয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট পরিসরের অংশীদারিত্ব বিক্রির মাধ্যমেও তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রোবোট্যাক্সি সাফল্য পেলে উবার ধীরে ধীরে ড্রাইভার-নির্ভরতা থেকে মুক্তি পাবে, ফলে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে।
উবার ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিন এবং জর্জিয়ার আটলান্টায় ওয়েমো রোবোট্যাক্সি সেবা শুরু করেছে। এছাড়া তারা ভক্সওয়াগেনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যার আওতায় আগামী এক দশকে দেশব্যাপী হাজার হাজার স্বচালিত ইলেকট্রিক ভ্যান রাস্তায় নামানো হবে।
গত জুলাই মাসে উবার লুসিড ও নিউরোর সঙ্গে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব চুক্তি করে, যার ফলে আগামী ছয় বছরে ২০ হাজারের বেশি রোবোট্যাক্সি চালু করা হবে। অন্যদিকে, টেসলা ইতোমধ্যেই অস্টিনে সীমিত রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছে এবং বে এরিয়ায়ও পরীক্ষামূলক রাইড-হেলিং কার্যক্রম শুরু করেছে। গুগলের মালিকানাধীন ওয়েমো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শহরে রোবোট্যাক্সি চালু করেছে, যার মধ্যে অন্যতম সান ফ্রান্সিসকো।
উবার জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব উদ্যোগের পরেও তাদের সেবায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং তারা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও স্বচালিত যান প্রযুক্তি এখনো বৈশ্বিকভাবে নানাবিধ আইনি সীমাবদ্ধতা ও খরচসাপেক্ষ বাস্তবতায় রয়েছে, তবুও উবার, টেসলা ও ওয়েমোর মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে বিলিয়ন ডলারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখছে।









