রোবোট্যাক্সি নিয়ে উবারের বিপ্লব, আসছে নতুন বিনিয়োগ

রাইড-শেয়ারিং খাতের বৈশ্বিক নেতা উবার আত্মপ্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে স্বচালিত গাড়ির যুগে। প্রতিষ্ঠানটি রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বড় ধরনের বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনায় রয়েছে এবং এজন্য তারা আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম ও শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। উবারের লক্ষ্য—বিশ্বব্যাপী একটি কার্যকর ও লাভজনক রোবোট্যাক্সি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারা খসরুশাহি জানিয়েছেন, স্বচালিত ট্যাক্সি ব্যবসার জন্য তিনটি ভিন্ন মডেল গ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি হলো ভাড়া ভিত্তিক মডেল, যেখানে পার্টনার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ভাড়া পাবে। দ্বিতীয় মডেলটি রাজস্ব ভাগাভাগির, যেখানে আয় শেয়ার করবে উবার ও ফ্লিট অপারেটররা। আর তৃতীয় মডেলটি সম্পূর্ণ মালিকানাভিত্তিক, যেখানে উবার নিজেই ট্যাক্সির মালিক থাকবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স প্রদান করবে।

খসরুশাহি বলেন, যখন উবারের প্রতিটি রোবোট্যাক্সি দৈনিক কতটা আয় করছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যাবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আরও বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে।

বর্তমানে উবার তার বার্ষিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ প্রবাহ থেকে সীমিত অর্থ ব্যয় করে এই রোবোট্যাক্সি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে প্রয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট পরিসরের অংশীদারিত্ব বিক্রির মাধ্যমেও তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রোবোট্যাক্সি সাফল্য পেলে উবার ধীরে ধীরে ড্রাইভার-নির্ভরতা থেকে মুক্তি পাবে, ফলে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে।

উবার ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিন এবং জর্জিয়ার আটলান্টায় ওয়েমো রোবোট্যাক্সি সেবা শুরু করেছে। এছাড়া তারা ভক্সওয়াগেনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যার আওতায় আগামী এক দশকে দেশব্যাপী হাজার হাজার স্বচালিত ইলেকট্রিক ভ্যান রাস্তায় নামানো হবে।

গত জুলাই মাসে উবার লুসিড ও নিউরোর সঙ্গে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব চুক্তি করে, যার ফলে আগামী ছয় বছরে ২০ হাজারের বেশি রোবোট্যাক্সি চালু করা হবে। অন্যদিকে, টেসলা ইতোমধ্যেই অস্টিনে সীমিত রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছে এবং বে এরিয়ায়ও পরীক্ষামূলক রাইড-হেলিং কার্যক্রম শুরু করেছে। গুগলের মালিকানাধীন ওয়েমো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শহরে রোবোট্যাক্সি চালু করেছে, যার মধ্যে অন্যতম সান ফ্রান্সিসকো।

উবার জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব উদ্যোগের পরেও তাদের সেবায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং তারা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও স্বচালিত যান প্রযুক্তি এখনো বৈশ্বিকভাবে নানাবিধ আইনি সীমাবদ্ধতা ও খরচসাপেক্ষ বাস্তবতায় রয়েছে, তবুও উবার, টেসলা ও ওয়েমোর মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে বিলিয়ন ডলারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট 



এআই উন্নয়নে ২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিক্রি করছে মেটা

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দৌড়ে নিজেকে শীর্ষে রাখতে ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। বিশাল এআই অবকাঠামো নির্মাণের খরচ কমাতে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

সম্প্রতি এক কোয়ার্টারলি ফাইলিং-এ মেটা জানায়, জুন মাসেই তারা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর আওতায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ সংশ্লিষ্ট জমি ও নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো “হেল্ড-ফর-সেল” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদের মূল্য প্রায় ২.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগামী ১২ মাসের মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারদের কাছে বিক্রি করা হবে।

যৌথভাবে ডেটা সেন্টার গড়বে মেটা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটা তাদের ভবিষ্যতের এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণে আর্থিক অংশীদারদের যুক্ত করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফিনান্স অফিসার সুসান লি বলেন, “আমরা বেশিরভাগ ব্যয় নিজেরা বহন করলেও, কিছু প্রকল্পে বাহ্যিক অর্থায়ন যুক্ত হতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন করা সহজ হবে।”

৩০ জুন পর্যন্ত মেটার ‘হেল্ড-ফর-সেল’ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রির জন্য নির্ধারিত সম্পদগুলো তাদের ‘বুক ভ্যালু’ অথবা বাজারমূল্যের যেটি কম—সে অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে করে আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেই দাবি করা হয়।

ম্যানহাটনের সমান সুপারক্লাস্টার

মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গ আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, সুপারইন্টেলিজেন্স ও এআই প্রশিক্ষণের জন্য তারা “সুপারক্লাস্টার” নামে বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করছে। তার ভাষায়, “এই সুপারক্লাস্টারগুলো একেকটি যেন পুরো ম্যানহাটনের বড় একটি অংশের সমান বিশাল।”

এই প্রকল্পের পেছনে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ থাকলেও, মেটা তাদের বিজ্ঞাপন আয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এআই নির্ভর কনটেন্ট ডেলিভারি ও টার্গেটিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে কোম্পানির আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্ষিক মূলধন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ৬৬ থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।

নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তি জায়ান্টরা

এক সময় গুগল, অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের অর্থায়নেই বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ করত। তবে এখনকার বাস্তবতা বদলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামোর ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, যৌথ বিনিয়োগ ছাড়া তা টেকসই রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটার এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি জগতে নতুন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এআই ভিডিও ঘিরে প্রতারণার ফাঁদ, ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ফিলিপাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়া ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এসব ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সরকার নাকি দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা সহায়তা ভাতা দিচ্ছে—যেখানে বাস্তবে এমন কোনো কর্মসূচির অস্তিত্বই নেই।

এই ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, একটি স্কুল মাঠে ডিএসডব্লিউডি-র লোগো পরা ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন, জানাচ্ছেন অর্থ সহায়তার ঘোষণা। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল—“শিক্ষা সহায়তা বিতরণ শুরু ১২ জুলাই থেকে।” ব্যবহার করা হয়েছে সরকারি সংস্থার লোগো, পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে একটি ফরম পূরণের লিংক। এমনকি ভিডিওর ক্যাপশনেও দেওয়া হয়েছে আকর্ষণীয় ট্যাগলাইন: DSWD education cash assistance for everyone in school

তবে বিশ্লেষণে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো। গুগলের ভিডিও জেনারেটর Veo প্ল্যাটফর্ম থেকে তৈরি করা হয়েছে এসব ফুটেজ। এগুলোকে ৮ সেকেন্ডের তিনটি ক্লিপ জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, পেছনে হাঁটা শিক্ষার্থীরা আস্তে আস্তে একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে—যা স্পষ্টত এআই জেনারেটেড ভিডিওর ভিজ্যুয়াল ত্রুটি।

১১ জুলাই ফিলিপাইনের সামাজিক কল্যাণ বিভাগ (DSWD) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ঘোষণা দেয়, এই ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা হয়েছে। তারা স্পষ্ট জানায়, এ ধরনের নগদ অর্থ বিতরণের কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে না ডিএসডব্লিউডি। তবে একটি প্রকৃত কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হয়—‘টিউটরিং বিনিময়ে সহায়তা’। যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা ছোটদের পড়ালে, মূল্যায়নের ভিত্তিতে তারা সহায়তা পান।

১৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিজেদের পেজ থেকে ভিডিওগুলোকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ ঘোষণা করে। তারা জনগণকে আহ্বান জানায়, সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করতে এবং কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ভবিষ্যতের ভয়াবহ একটি সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার যেমন সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি অপব্যবহার প্রতারণাকে সহজতর করে দেয়। ভুয়া লোগো, মিথ্যা ভাষণ আর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির কৌশলে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে গরিব শিক্ষার্থীরা এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতিতে প্রতারণার শিকার হয়ে পড়েন।

এই কারণেই নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। সরকারি সহায়তা, বৃত্তি বা ভাতার খবর শুধু সরকারি ওয়েবসাইট কিংবা অথরাইজড সোর্স থেকে যাচাই করা দরকার। পরিচিত কেউ শেয়ার করলেও চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস না করে তথ্য যাচাই করে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফের পর্দায় ফেসবুক: জাকারবার্গ হচ্ছেন জেরেমি স্ট্রং!

২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ সিনেমাটি প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের শুরুর গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছিল। অ্যারন সোরকিনের চিত্রনাট্যে ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় তৈরি এ চলচ্চিত্রটি ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় বিশ্বজুড়ে। সেই ছবিতে ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন জেসি আইজেনবার্গ।

তবে এবার আসছে এ সিনেমার বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল। আর নতুন এই ছবিতে জাকারবার্গের চরিত্রে দেখা যেতে পারে অস্কার ও এমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা জেরেমি স্ট্রংকে। হালকা গুঞ্জন নয়, বরং নির্মাতাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, চরিত্রটির জন্য স্ট্রং-ই পরিচালকের প্রথম পছন্দ।

নতুন ছবির মূল উপজীব্য ২০২১ সালে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন ‘দ্য ফেসবুক ফাইলস’। এই প্রতিবেদনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার অসঙ্গতি, কিশোরদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার মতো গুরুতর বিষয় উঠে এসেছিল। এসব দিক নিয়েই গড়ে উঠবে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এর সিক্যুয়েলটির গল্প।

ছবিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে মিকি ম্যাডিসন ও জেরেমি অ্যালেন হোয়াইটকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনো কাউকেই চূড়ান্তভাবে সই করানো হয়নি।

জেরেমি স্ট্রং সম্প্রতি এইচবিও’র আলোচিত সিরিজ Succession-এ ‘কেন্ডাল’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফলে তার জাকারবার্গ রূপে পর্দায় আসা নিয়ে দর্শকমহলে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

এই সিক্যুয়েল কতটা সাহসী ও বিস্ফোরক হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে যে বিষয়টি নিশ্চিত—প্রযুক্তি দুনিয়ার আলো-অন্ধকার আর বাস্তব জটিলতাই এবার ক্যামেরার সামনে উঠে আসবে নতুন এক ভাষ্যে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১০টির বেশি সিম? ৩০ অক্টোবরের পর বন্ধ হয়ে যাবে!

বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম জারি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে একজন গ্রাহক নিজের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি হলে অতিরিক্ত সিমগুলো আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে ডি-রেজিস্ট্রার করতে হবে। এই সময়সীমার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে অতিরিক্ত সিমগুলোর বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বিটিআরসির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মোবাইল অপব্যবহার রোধ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ সিম ব্যবহারের লাগাম টানতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসি জানায়, একজন গ্রাহকের নামে কতটি সিম নিবন্ধিত রয়েছে তা জানতে চাইলে *১৬০০১# ডায়াল করলেই তথ্য জানা যাবে। যদি দেখা যায়, আপনার নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় আছে, তবে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অতিরিক্ত সিমগুলো ডি-রেজিস্ট্রার করে ফেলুন। না হলে ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর পর সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে।

বর্তমানে প্রতিটি সিমের পেছনে রয়েছে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর তথ্য। তাই অবৈধভাবে একাধিক সিম নিবন্ধন করে অপব্যবহার করা যেমন অপরাধ, তেমনি নিজের অজান্তে অন্য কেউ আপনার নামে সিম চালালেও তার দায় আপনার ওপরই পড়বে। এই নতুন নিয়মের ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি।

এর আগে ২০২৩ সালে বিটিআরসি জানিয়েছিল, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫টি পর্যন্ত সিম রাখতে পারবেন। তবে এবার সেই সংখ্যাটি হ্রাস করে ১০টি নির্ধারণ করা হলো, যা কার্যকর হবে ১৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে।

বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, এক এনআইডিতে ৫০টির বেশি সিম নিবন্ধন করে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এবার এই ‘১০ সিম নীতি’ চালু করা হলো।

গ্রাহকদের এখন থেকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। সিম ব্যবস্থাপনায় অসতর্কতা ভবিষ্যতে বড় জটিলতায় ফেলতে পারে। অতএব, নিজের নামে নিবন্ধিত সিম সংখ্যা যাচাই করুন, অতিরিক্ত থাকলে দ্রুত বাতিল করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ছবিতে প্রাণ দিচ্ছে ইউটিউব শর্টসের নতুন এআই ফিচার!

এডিটিং সফটওয়্যারে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে ভিডিও বানানো কি আপনার জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে? তাহলে ইউটিউব শর্টসের নতুন এআই টুল আপনার জন্যই। ‘ইমেজ টু ভিডিও’ নামের এই চমকপ্রদ ফিচার দিয়ে এখন একটি ছবিকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে রূপান্তর করা যাবে জীবন্ত ভিডিওতে—সেই সিনেমার মত ভিজ্যুয়াল, মুভমেন্ট ও স্টাইল নিয়ে।

নতুন এই টুলটির ব্যবহারও অত্যন্ত সহজ। মোবাইল ফোনের গ্যালারি থেকে একটি ছবি নির্বাচন করলেই ইউটিউব তার সাথে মানানসই কিছু ভিডিও সাজেশন দেখাবে। শুধু একটি ট্যাপে সেই ছবিই হয়ে যাবে ছয় সেকেন্ডের মুভিং শর্টস ভিডিও। এই ভিডিওতে থাকবে মৃদু জুম, সাবলীল গতিশীলতা, দৃশ্যের মধ্যে প্রাণের ছোঁয়া, এমনকি পটভূমির পরিবর্তন—সবকিছু এআই দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।

যেমন আপনি একটি ট্রাফিক সিগনালের ছবি তুলেছেন। ইউটিউবের এআই সেটিকে এমনভাবে অ্যানিমেট করবে যেন ছবির মানুষটি নাচছে, বাতাসে উড়ছে গাছের পাতা, এমনকি দৃশ্যটা দিনের বদলে রাতেও রূপ নিতে পারে। এতে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

এআই প্রযুক্তিতে যারা একেবারেই নতুন, তাদের জন্য ইউটিউবের এই ফিচার বিশেষভাবে সহায়ক হবে। কারণ এটি অনেকটা গুগলের জেমিনি ও মেটার ‘অ্যানিমেট ইউর ড্রইং’ টুলের মতো হলেও আরও সহজ এবং সরাসরি ইউটিউব শর্টস বানানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

শুধু ছবি থেকে ভিডিও নয়, শর্টস ক্যামেরায় এসেছে আরও কিছু চমকপ্রদ এআই ইফেক্ট। আপনি যদি ফোনে একটি সাদামাটা ডুডল এঁকে ফেলেন, এই টুল সেটিকে রূপ দেবে এক নিখুঁত ডিজিটাল শিল্পকর্মে। আর যদি একটি সেলফি তোলা হয়, এআই সেটিকে পরিণত করবে এমন একটি শর্টসে, যেখানে আপনি সাগরে ভাসছেন কিংবা রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন!

এই সব এআই ফিচার শর্টস ক্যামেরার ইফেক্ট > এআই মেনুতে গিয়ে পাওয়া যাবে। আপাতত এই সেবা চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে। তবে ইউটিউব জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই আরও অনেক দেশে এই টুল উন্মুক্ত করা হবে।

তবে এখানেই শেষ নয়। ইউটিউব চালু করেছে AI PlayGround, যেখানে ক্রিয়েটররা ভিডিও তৈরির জন্য পাবেন একগুচ্ছ রেডিমেড প্রম্পট, উদাহরণ ও এডিটিং টিপস। শুধু তাই নয়, ইউটিউবের পরবর্তী প্রজন্মের ভিডিও জেনারেটর মডেল Veo3-এর মাধ্যমে ভিডিওর পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় অডিও যুক্ত করার সুবিধাও আসছে এই বছরের মধ্যেই।

নতুন এআই প্রযুক্তির যুগে ইউটিউব শর্টস যেন সাধারণ মানুষকেও করে তুলছে একজন ভিডিও নির্মাতা, একদম হলিউডের মত স্টাইল নিয়ে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুগল সার্চে এলো এআই-চালিত ‘ওয়েব গাইড’ ফিচার

প্রযুক্তির জগতে গুগল প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পরিবর্তন আনছে ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে। এবার সার্চ ইঞ্জিনকে আরও বুদ্ধিমান ও ব্যবহারবান্ধব করতে চালু করেছে একটি নতুন এআই-চালিত ফিচার যার নাম ‘ওয়েব গাইড’। এটি গুগলের নিজস্ব জেমিনি এআই মডেল দ্বারা পরিচালিত।

গুগলের নতুন এই ফিচার আপনার সার্চ করা বিষয়কে বিশ্লেষণ করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে ফলাফল উপস্থাপন করে। যেমন, আপনি যদি “how to care for a mango tree” লিখে সার্চ করেন, তাহলে শুরুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেখাবে। এরপর সেই বিষয়টি নিয়ে তৈরি করা একটি এআই সারাংশ দেখাবে এবং তারপর থিম বা বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে পুরো ফলাফলগুলোকে ভাগ করে সাজিয়ে দেবে।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি যেকোনো বিষয়ের তথ্য আরও দ্রুত, গোছানো এবং নির্ভুলভাবে পেতে পারবেন। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট প্রশ্নের সঠিক উত্তর খোঁজেন বা অল্প সময়ে বিষয় বুঝে নিতে চান, তাদের জন্য এই ফিচারটি হতে যাচ্ছে অনেক বেশি উপযোগী।

গুগল জানিয়েছে, এখনো যারা আগের পরিচিত ‘All’ ট্যাবভিত্তিক স্টাইল পছন্দ করেন, তারা সেটিও দেখতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে ‘ওয়েব গাইড’ই গুগলের সার্চ ইন্টারফেসের মূল অংশ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ফিচার এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং কেবলমাত্র যারা গুগল সার্চ ল্যাবস থেকে একটিভ করে নিচ্ছেন, তারাই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে এই মুহূর্তে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়, বরং আগ্রহীদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করছে।

আগে গুগল সার্চে যেকোনো প্রশ্ন দিলে একসাথে অনেকগুলো ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেখাত। এতে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করতেই সময় চলে যেত। কিন্তু এখন ‘ওয়েব গাইড’ ফিচার প্রতিটি ফলাফলকে থিমভিত্তিক বা বিষয়ভিত্তিক ভাগ করে দিচ্ছে। যেমন: পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, ফলন বৃদ্ধি ইত্যাদি। ফলে একজন ব্যবহারকারী সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্যের জায়গায় যেতে পারছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু সময় বাঁচায় না, বরং ভুলভাল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও অনেকটাই কমিয়ে আনবে। তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী, গবেষক এমনকি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও এই প্রযুক্তি হয়ে উঠবে ডিজিটাল সহকারী।

এছাড়া, এআই সারাংশের মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘ তথ্যকে সংক্ষেপে বোঝা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে গুগল যখন এই ফিচারটি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে চালু করবে, তখন অনলাইন তথ্য অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা আরও নতুন রূপ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“এআই ভিডিও বিশ্বাস করবেন না, আল্লাহর দোহাই লাগে” — সাদিয়া আয়মান

আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগে যেমন মানুষের জীবন সহজ হয়েছে, তেমনি এর কিছু অপব্যবহারও জন্ম দিয়েছে ভয়াবহ বিড়ম্বনার। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে তারকাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো যেন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান এবার সেই ভুয়া এআই কনটেন্ট নিয়ে সরব হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন থাকার জন্য। সাদিয়া স্পষ্টভাবে লেখেন, “কিছু কিছু পেজ আছে, যারা সেলিব্রিটিদের এআই দিয়ে এডিট করা ছবি বানায়। আমার মনে হয়, ওরা আমার ছবি বানিয়ে ছড়াতে আরও বেশি মজা পায়।”

তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটা থেকে আয় করে। এটাই তাদের রুটি-রুজি হতে পারে। কিন্তু এতে ওদের নিচু মানসিকতার আর সস্তা মনভাবটাই বেশি ফুটে ওঠে।”

অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান
অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান

সাদিয়ার ভাষায় সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, “২০২৫ সালেও মানুষ কীভাবে এখনো ‘এআই’ চিনতে পারে না বা বোঝে না! তারা ওই ভুয়া ছবি বা ভিডিওতে গিয়ে আসল ভেবে মন্তব্য করে!”

স্ট্যাটাসে সাদিয়া ভক্তদের উদ্দেশে সরাসরি বলেন, “আরে ভাই-বোনেরা, এখন তো সময় হয়েছে একটু সচেতন হওয়ার! এসব ‘এআই এডিটেড ছবি ও ভিডিও’কে সত্যি ভেবে বিশ্বাস করবেন না, আল্লাহর দোহাই লাগে!”

তিনি আরও অনুরোধ করেন, “আমার দর্শক ও অনুসারীদের প্রতি ছোট্ট একটা অনুরোধ- যদি কখনো এমন কোনো ছবি বা ভিডিও চোখে পড়ে, তাহলে পোস্ট এবং পেইজটা রিপোর্ট করুন এবং সরাসরি ব্লক করে দিন। আমি অবশ্যই এই বিষয়টি সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেব। এরপর ওনারাই বিষয়টা সামলাবেন।”

বাংলাদেশে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে বিভ্রান্তি ছড়ানো এসব কনটেন্ট খুব সহজেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। তারকাদের ব্যক্তিগত সম্মান ও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে।

সাদিয়ার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী যখন সরাসরি এসব বিষয়ে সরব হন, তখন ভক্তদেরও উচিত আরও সচেতন হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের উচিত এই ধরনের পেইজ ও প্রোফাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হোয়াটসঅ্যাপে যে ৩টি লুকানো ফিচার আপনি জানেন না!

জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করেন। নিয়মিত নতুন নতুন ফিচার যোগ করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সুবিধা দেয় মেটার মালিকানাধীন এই অ্যাপ। তবে হোয়াটসঅ্যাপে এখনও অনেক ফিচার আছে যেগুলো অনেকেই জানেন না, যা ব্যবহার করে যোগাযোগ আরও সহজ এবং স্মার্ট করা সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন তিনটি আকর্ষণীয় ফিচার:

১. ভাষা পরিবর্তন করে ভয়েস টেক্সট টাইপিং:
হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট বক্সের নিচে মাইক্রোফোন আইকনটি সবাই দেখেন। এটি দিয়ে ভয়েস মেসেজ পাঠানো যায়। কিন্তু কীবোর্ডে আরেকটি মাইক্রোফোন থাকে, যা দিয়ে আপনি কথা বললেই সেটি নির্দিষ্ট ভাষায় টেক্সট আকারে টাইপ হয়ে যায়। প্রথমে সেটিংসে গিয়ে ভাষা নির্বাচন করতে হবে, এরপর ওই মাইক্রোফোনে ক্লিক করলে আপনার কথাগুলো লেখা হয়ে স্ক্রিনে আসবে। ফলে টাইপ করার ঝামেলা কমে যায়।

২. কিবোর্ডের মাধ্যমে স্ক্যানার সুবিধা:
হোয়াটসঅ্যাপে এখন কিবোর্ডকে স্ক্যানার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কোনো লেখা ছবি হিসেবে তুলে পাঠানোর বদলে, মেসেজে ট্যাপ করলে ‘অটোফিল’ অপশন পাবেন। সেটিতে ক্লিক করলে কিবোর্ড স্ক্যানার হিসেবে কাজ করে, ছবি তোলার মাধ্যমে লেখা সরাসরি পাঠানো সম্ভব হয়। এতে সময় বাঁচে এবং কাজ সহজ হয়।

৩. ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপ্ট ফিচার:
ভয়েস মেসেজ শুনতে না চাইলেও সেটি লিখিত আকারে পড়ার সুযোগ মেলে হোয়াটসঅ্যাপে। এই ফিচারটি চালু করতে হলে প্রথমে সেটিংসে যেতে হবে, এরপর ‘ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপ্ট’ অপশন চালু করতে হবে। পছন্দসই ভাষা নির্বাচন করলেই ভয়েস মেসেজ স্ক্রিনে লেখা হিসেবে দেখতে পাবেন। বিশেষ করে যেখানে হেডফোন ব্যবহার সম্ভব নয় বা শব্দ শোনা যাবে না, সেখানে এটি খুব উপকারী।

এই ফিচারগুলো ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের অভিজ্ঞতা হবে অনেক সহজ ও স্মার্ট।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়: স্পেসএক্স

বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন।

লরেন ড্রেয়ার বলেন, “আমরা ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করছি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত দ্রুত ও দক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমরা কোথাও দেখিনি। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, “বর্ষাকাল আমাদের জন্য সুন্দর একটি সময়, কিন্তু বন্যা ও জলাবদ্ধতা আমাদের বাস্তবতা। এসব সমস্যার মধ্যে নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, দেশের পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলে ভালো শিক্ষক ও চিকিৎসকের অভাব থাকায় সরকার ১০০টি স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু হলে দূরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। বিশেষ করে নারীরা গর্ভাবস্থায় ঘরে বসেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন, যা তাদের জন্য অনেক সহজ হবে।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনুস। তিনি বলেন, “ভাষাগত কারণে প্রবাসীরা অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচবোধ করেন। তবে দেশে ডিজিটাল হেলথ সেবা চালু হলে তারা বিদেশ থেকেই দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন।”

লরেন ড্রেয়ার অধ্যাপক ইউনূসের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আপনার যেসব উদ্যোগ আমরা দেখছি, সেগুলো বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আপনি নিজের দেশে যা করছেন, তা অন্য নেতাদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।”

তিনি দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টারও প্রশংসা করে বলেন, “প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপনার যে উদ্যোগ, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অর্থবহ।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পেসএক্সের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট কনসালট্যান্ট রিচার্ড গ্রিফিথস, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।