রূপপুর দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণে রোসাটমকে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রূপপুরে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

শেখ হাসিনা রোসাটমকে বলেন, চলমান প্রকল্প শেষ হলে রূপপুরে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, নতুন দুটি ইউনিট স্থাপনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে কারিগরি জরিপ করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত নেয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

রোসাটমের মহাপরিচালক প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদিত পারমাণমিক জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ান ফেডারেশনকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা যথাসময়ে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি সই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এবং তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশিয়ার সহায়তা এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে সহায়তার কথা স্মরণ করেন তিনি।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

রোসাটমের মহাপরিচালক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে।

তিনি আরো বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নতুন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট (ইউনিট-৩ ও ইউনিট-৪) নির্মাণের জন্য রুশ সরকারের কাছে প্রস্তাব করেন তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, প্রথম দুটি ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হলেই নতুন ইউনিট-৩ ও ইউনিট-৪ এর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সম্প্রসারণ আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং কারিগরি ও পারমাণবিক নিরাপত্তার আলোকে অধিকতর লাভজনক ও যুক্তিসঙ্গত, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতও।

তিনি বলেন, প্রকল্পে বাংলাদেশ ও রাশিয়ানসহ প্রায় আড়াই হাজার কর্মী কাজ করছেন। একইসাথে তারা দক্ষতাও অর্জন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বাংলাদেশের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে রোসাটমের মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান।

রোসাটমের মহাপরিচালক বলেন, মহামারি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও কাজ স্বাভাবিক গতিতে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগতভাবেই প্রতিবন্ধকতা এড়ানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

বর্তমানে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটের (১২০০ x ২ = ২৪০০ মেগাওয়াট) নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট চালু হবে। ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। সূত্র : ইউএনবি




গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে যা জানতে হবে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : কম্পিউটারে গেম খেলার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা অর্থ আয়ের জন্য কম্পিউটারে গেম খেলে।

আবার অনেকের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নানা কন্টেন্ট, ভিডিও রিলস। এসবের জন্য কম্পিউটারের জন্য দরকার উন্নত গ্রাফিক্স কার্ড।

তাই গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে তা জেনে নিন ..

কুলিং সিস্টেম
গ্রাফিক্স কার্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কুলিং সিস্টেম। অধিক ক্ষমতার কার্ড বেশি শক্তি ব্যয় করে তাই দ্রুত গরম হয়ে যায়।

তাই এটিকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য উন্নতি কুলিং সিস্টেম দরকার। তা না হলে গ্রাফিক্স কার্ড পুড়ে যায়।

 

বাজারে সাধারণত রেফারেন্স ও আফটার মার্কেট এ দুই ধরনের কুলিং সিস্টেম পাওয়া যায়। একটু বেশি খরচ করলে উচ্চ ক্ষমতার কুলারযুক্ত গ্রাফিক্স কার্ড কেনা যাবে। তাই গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে সব সময় কুলিং সিস্টেম বিবেচনায় রাখতে হবে।

মডেল নম্বর
গ্রাফিক্স কার্ডের মডেল নম্বরের ফরম্যাট হচ্ছে ব্র্যান্ডের নামের পর মডেল নম্বর লেখা থাকে। উন্নত গেমিং পারফরমেন্সের জন্য বাজেটের মধ্যে যতটা সম্ভব নতুন মডেল বেছে নেওয়া ভালো।

পুরোনো কম্পিউটারের ক্ষেত্রে
পুরোনো প্রসেসর যেমন- সেলেরন, পেন্টিয়াম বা অ্যাথলন এক্স-২ বা ডুয়েল কোরের জন্য অধিক ক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ড কেনা উচিত নয়। এক্ষেত্রে মাঝারি মানের গ্রাফিক্স কার্ড কেনা শ্রেয়।

কেসিং
গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে কেসিংয়ে মধ্যে তা সেট করার জায়গা আছে কিনা না দেখে নিতে হবে। কেননা কম্পিউটারের কেসিং ছোট হলে গ্রাফিক্স কার্ডটি লাগনো যাবে না।

ডিসপ্লে
গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য প্রসেসরের সঙ্গে ডিসপ্লে নিয়েও ভাবতে হবে। পুরনো মডেলের ১২৮০x১০২৪ মনিটরের জন্য দামি গ্রাফিক্স কার্ড কিনে লাভ নেই। অন্যদিকে, কেউ যদি তিনটি ১৯২০x১০৮০ মনিটর ব্যবহার করে থাকেন, তবে তার উচিত উন্নত মানের গ্রাফিক্স কার্ড বেছে নেওয়া।




মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে ৩৫ লাখ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক দিন দিন কমেই চলেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে ৩৫ লাখ গ্রাহক কমেছে। গ্রাহকরা জানান, প্যাকেজ সমন্বয়ের নামে মোবাইল অপারেটরগুলো ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোই তারা ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।

তবে একই সময়ে তুলনামূলক গ্রাহক বেড়েছে আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেটের।

বিটিআরসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী—২০২৩ সালের আগস্টে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহক কমতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার গ্রাহক কমে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজারে নেমে যায়।

অক্টোবরে এক লাফে ৩ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক কমে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজারে। নভেম্বর প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক কমে যায়। ওই মাসে গ্রাহক ছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার। এরপর ডিসেম্বর তা কমে ১১ লাখ ৮৪ লাখ ৯০ হাজারে নেমে যায়। সবশেষ জানুয়ারি মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা কমে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজারে নামে।

এদিকে, মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক কমলেও আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট গ্রাহক উল্টো বেড়েছে। সেপ্টেম্বর আইএসপি ও পিএসটিএন গ্রাহক ছিল এক কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এ ইন্টারনেটের গ্রাহকের সংখ্যায় হেরফের হয়নি। ডিসেম্বরে আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার। সবশেষ জানুয়ারি মাসেও একই গ্রাহক সংখ্যা অটুট রয়েছে।

বিটিআরসির মহাপরিচালক (এসএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে গ্রাহকরা কী বলেন, সেটা আমরা শুনবো এবং তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’




চশমায় এআই প্রযুক্তি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) উৎসবে ‘এয়ার গ্লাস ৩’ উন্মোচন করেছে অপো, যা অ্যাসিস্টেড রিয়েলিটি চশমার নতুন প্রজন্মের প্রটোটাইপ। চশমা দিয়ে কথা বলা, বার্তা পড়া, ছবি তোলা, ভিডিও– সবই করা সম্ভব। স্মার্টফোন দিয়ে অ্যান্ডেসজিপিটি মডেলে প্রবেশ করতে পারবে এয়ার গ্লাস থ্রি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভিজ্ঞতা দেবে।

উন্মোচনের আগেই এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে ‘এআই স্মার্টফোন হোয়াইট পেপার’ প্রকাশ করে ব্র্যান্ডটি, যা স্মার্টফোনকে এআই ঘরানার স্মার্টফোনে রূপান্তরের সূচনা করল।

বাইনোকুলার এআর চশমা: ইমেজ, টেক্সট, অডিও-ভিডিও ডেটা বুঝতে চশমাটি চৌকস। যার মাল্টিমোডাল এআই প্রযুক্তি ভয়েস ও ভিজ্যুয়ালের মতো আরও জটিল ইউজার সিনারিওর প্রক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। এটি যোগাযোগে খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। ফিচার ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে এক্সআর (এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি) সব ডিভাইস। সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিগত, দৈনন্দিন স্মার্ট সহকারীর ভূমিকা নিতে হলে প্রয়োজন মানোন্নত কার্যকারিতা ও লাইটওয়েট ডিজাইন। লক্ষ্য পূরণে একেবারে নতুন এয়ার গ্লাস ৩ প্রটোটাইপ চালু করে ব্র্যান্ডটি।

এআই গবেষণা: সুদীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যান্ডটি এআই উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। ব্র্যান্ডটি এখন এআই প্রযুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির কৌশল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্র্যান্ডটি ফেব্রুয়ারি মাসে এআই সেন্টার উদ্বোধন করে। ব্র্যান্ডের সক্ষমতাকে এআই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপ করে যথাযথ কাজে লাগানো হবে। সারাবিশ্বে এআই প্রযুক্তির সুবিধা ছড়িয়ে দিতে অত্যাধুনিক এবং গ্রাহকবান্ধব প্রযুক্তি ও অ্যাপ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা সচল থাকবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে রেনো-১১ সিরিজ ও ফাইন্ড এনথ্রি সিরিজে এআই সুবিধার জেনারেটিভ এআই ফিচার যুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডটি ‘জেনারেটিভ এআই’ ফিচারকে বৈশ্বিক বাজারে রেনো সিরিজের নেক্সট জেনারেশন ডিভাইসে যুক্ত করবে। ফলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট, কার্যকর ও সুবিধাজনক জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা পাবে ব্যবহারকারীরা।




সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতারণার ফাঁদ, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :  ব্যক্তিগত বা কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স) হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করেন অনেকেই। ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।




আপনার ফোন ট্র্যাকিং হচ্ছে কি না কীভাবে বুঝবেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আজকাল ব্যক্তিগত জীবনকেও নানাভাবে প্রভাবিত করছে। এই যে আপনার প্রিয় স্মার্টফোনের কথাই ধরা যাক। বিভিন্নভাবে জীবনকে সহজ করলও  এই স্মার্টফোন দিয়েই আপনাকে নানা উপায়ে ট্র্যাক করা সম্ভব। তবে আপনি যদি এ বিষয়ে খেয়াল রাখেন তাহলে এর পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারবেন।

ফোন ট্র্যাকিং অনেক অপ্রত্যাশিত উপায়ে হতে পারে। আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসটিতে কারও প্রবেশের অধিকার থাকলে সহজেই সেই ব্যক্তি আপনার ফোনে লোকেশন-ট্র্যাকিং ফিচারটি সক্রিয় করতে পারবে।

আর অন্য কোনো ব্যক্তি ট্র্যাকিং চালু করেছেন কি না সেটা ডিভাইসের মালিক বুঝতেও পারবেন না। এতে করে অনেক অ্যাপ এবং ফোন অপারেটিং সিস্টেমের লোকেশন-ট্র্যাকিং ফিচার মানুষের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ ছাড়া আপনার কর্মক্ষেত্র বা নিয়োগকর্তা দ্বারাও আপনার ফোনের ব্যবহার ট্র্যাকড হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসটি কোম্পানি থেকে ইস্যু করা থাকে। এমনকি আপনার স্মার্টফোনটি যদি একটি করপোরেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, সেক্ষেত্রেও আপনাকে ট্র্যাকিং সম্ভব৷

অনেকে ফোন ট্র্যাকিংয়ের কিছু লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ তারা লক্ষ্য করতে পারেন, ডিভাইসটি ধীর হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মক্ষমতায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়। তবে ট্র্যাকিং করা হলে তা সব সময় এত সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে, আপনি বিভিন্ন কোড ডায়াল করে দেখতে পারেন। যেগুলো ফোন ট্র্যাকিং করা হলে সম্ভাব্য কিছু প্রতিক্রিয়া দেখাবে। যেমন: *#61# লিখে ডায়াল করলে ইনকামিং কলগুলো অন্য কোনো নম্বরে ফরওয়ার্ড করা হয় কি না তা জানাবে।

একইভাবে *#62# ডায়াল করে আপনি দেখতে পারবেন যে, কোনো ডাইভারশন সফ্টওয়্যার বিভিন্ন কল এবং টেক্সটকে আপনার কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয় কিনা।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সব সময় লোকেশন বার বন্ধ করে রাখুন। ট্র্যাকিং থেকে বাঁচতে ফোনের জিপিএস অপশনটি বন্ধ করে রাখতে হবে। যদি আসে, তাহলে ফোনে লগইন করা জি-মেইলের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলতে হবে। যদি ফাইন্ড গুগল ছাড়া স্ট্যাটাস বারে লোকেশন ইনফরমেশন আইকন দেখা যায়, তাহলে বুঝবেন আপনার মোবাইল ফোনের সেটে স্পাই অ্যাপ আছে।

সমাধান পেতে, ফোনের ডেভেলপার অপশনে চলে যান। সেখান থেকে রানিং সার্ভিস অপশনে গিয়ে সন্দেহজনক কোনো অ্যাপ চোখে পড়লে সোজা আন-ইনস্টল করে দিন।

ট্র্যাকিং হওয়ার বিষয় একবার নিশ্চিত হয়ে গেলে ফোনের সেটিংসে যান এবং ‘লোকেশন’ সেটিংস অফ করে দিন। এটি ফোনকে আপনার অবস্থান সংগ্রহ করা বন্ধ করতে সাহায্য করবে। চাইলে ডিভাইসে একটি ভিপিএন ব্যবহার করুন। এটি আপনার ইন্টারনেট ট্রাফিকটিকে এনক্রিপ্ট করে এবং আপনার অবস্থান গোপন রাখতে সাহায্য করবে।

এ ছাড়া নিরাপদ থাকতে ফোনকে ট্র্যাকিং থেকে রক্ষা করার জন্য একটি লক স্ক্রিন ব্যবহার এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা ফাংশনাল প্যাটার্ন দিয়ে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ফোন রুট করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, অনেক সময় রুটের মাধ্যমে ফোনের এক্সেস পেয়ে যায়, এতে ফোনের তথ্যাদি চুরি হতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ, যেমন স্প্যাম বক্সের জমা করা মেসেজ খোলা থেকে বিরত থাকুন।

যারা অ্যাপভিত্তিক ট্র্যাকিং সম্পর্কে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। তারা অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস-ভিত্তিক সেটিংস থেকে এটিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন।

অ্যাপলের আইওএস-এর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলো সব ধরনের অ্যাপ কিংবা পৃথক অ্যাপের ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং বন্ধ করার সুযোগ দিয়ে থাকে।

গুগলও সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রাইভেসি স্যান্ডবক্স নামে অনুরূপ একটি ফিচারের ঘোষণা করেছে। এটি থার্ড পার্টির কাছে ব্যক্তিগত ডেটা স্থানান্তর সীমিত করে আনে। এ ছাড়া এটি সব অ্যাপে ট্র্যাকিং কার্যক্রম চলার অনুমতি দেয় না।




টাকার বিনিময়ে মনিটাইজেশন, ফেসবুকে নতুন ফাঁদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইউটিউব মনিটাইজেশনের নামে প্যাকেজ তৈরি করে ৫-৭ হাজার টাকায় তা বিক্রি করার জন্য অফার দেওয়া হচ্ছে। এমন বিজ্ঞাপনের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ফেসবুক।



ফোনের বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার থেকে সাবধান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অ্যান্ড্রয়েড এক্সলোডার নামে নতুন একটি ম্যালওয়্যার ওয়েব জগতে ঘুরছে। আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে আপনাকে সাবধান হতে হবে। কেননা এই ম্যালওয়্যারটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের শত্রু।

অ্যান্ড্রয়েড এক্সলোডার ম্যালওয়্যারটি এতই বিপজ্জনক যে এটি লুকিয়ে থেকে যে কোনো ফোনে টিকে থাকতে পারে।

এই ম্যালওয়্যার ফোনে কাজ করার জন্য ব্যবহারকারীর অনুমতিও নেয় না। এক্সলোডারকে MoqHao নামেও ডাকা হয়।

এই ম্যালওয়্যারটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি ফোন থেকে ব্যাংকিং ডেটা চুরি করতে পারে। ‘রোমিং ম্যান্টিস’ নামের অনুপ্রাণিত এই ম্যালওয়্যারটি কয়েক দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে দেখা গেছে।

ইউআরএল শর্টনার ও এসএমএসের মাধ্যমে এটি ফাইল হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

এদিকে গুগলের পক্ষ থেকেও এই অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। তবে প্লে-স্টোরে উপস্থিত না থাকায় গুগল সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে অ্যান্ড্রয়েড এক্সলোডারের সমস্ত সার্চ রেজাল্ট গুগল ব্লক করছে।

এমন অবস্থায় ফোন থেকে এই ম্যালওয়্যার সরাতে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা প্রয়োজন। আর বেনামি কোনো এপিকে ফাইল ফোনে ডাউনলোড করা উচিত হবে না বলে পরামর্শ তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের।




ফেসবুক ডাউন: উপহাস করলেন ইলন মাস্ক

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মেটার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এক ঘণ্টার ওপরে নিষ্ক্রিয় ছিল। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে সাড়ে ১০টার পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় ছিল সামাজিক মাধ্যমটি। এতে করে বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নিজের আইডি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন।

এ অবস্থায় ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করতে এক্সে একটি পোস্ট করেন মেটার কমিউনিকেশন ডিরেক্টর অ্যান্ডি স্টোন। তিনি লেখেন, ‘আমাদের পরিষেবা ব্যবহার করতে মানুষের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।

কিছু সময় পর তার পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে মেটাকে খোঁচা দিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন এক্সের মালিক ইলন মাস্ক। মাস্কের পোস্ট করা ছবিতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস মাথায় হাত দিয়ে থাকতে দেখা যায়। আর ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায় এক্সকে।

ডাউন ডিটেকটরের গ্রাফে দেখা গেছে, রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ৩ লাখ ১৫ হাজার ৮১৭ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন তারা ফেসবুক ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এরপর রাত ৯টা ৩২ পর্যন্ত ৫ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৩ জন ব্যবহারকারী তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা এও জানতে চাচ্ছেন— কী হয়েছে সামজিক মাধ্যমটির? কেনই বা লগইন করা যাচ্ছে না? কখন ঠিক হবে?




ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের সার্ভার ডাউন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মেটা আওতাধীন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসের সার্ভার ডাউন হতে দেখা গেছে। হঠাৎ করেই ব্যবহারকারীরা লগ-আউট হয়ে পড়েন। সেশন এক্সপায়ড মে‌সেজ দেখা‌চ্ছে। এরপর লগইন করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয় না। কিন্তু কী কার‌ণে এমনটা হ‌য়ে‌ছে, তা এখ‌নো জানা যায়‌নি। বাংলা‌দেশসহ পৃ‌থিবীর অ‌নেক দে‌শের ব্যবহারকারীরাই এই সমস্যায় প‌ড়ে‌ছেন।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত ৯টার পর এক্স হ্যান্ডলে এ সমস্যার কথা জানাতে থাকেন ব্যবহারকারীরা। প্রযুক্তি ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরও ফেসবুক ব্যবহারে সমস্যার কথা নিশ্চিত করেছে।

ব্যবহারকারীরা জানান, হঠাৎ করেই তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগ আউট হয়ে যায়। পরে তারা লগ ইন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।

ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা জানান, ফেসবুকের মতো অ্যাকাউন্ট লগ আউট না হলেও ফিড রিফ্রেশ হচ্ছে না এবং লোড নিচ্ছে না।

অন্যদিকে, থ্রেডসও সম্পূর্ণ ডাউন বলে মনে হচ্ছে। অ্যাপটি খোলার পর একটি ত্রুটি বার্তা প্রদর্শন করে যেখানে লেখা আছে, ‘দুঃখিত, কিছু ভুল হয়েছে। আবার চেষ্টা কর।’

তবে মেটার মালিকানাধীন একমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ এখনও কাজ করছে বলে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় বিপা‌কে প‌ড়ে‌ছেন বি‌শ্বের ক‌য়েকশ কোটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা। এ নি‌য়ে দুনিয়াজুড়ে হইচই, সমস্যা কোথায় স্পষ্ট নয় এখনও। এ বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি।