বাংলাদেশে আইফোন ১৭ কেনার আগে সতর্কতা

অ্যাপলের সর্বশেষ আইফোন ১৭ সিরিজ আন্তর্জাতিক বাজারে অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে। তবে বাংলাদেশে এখনো অফিসিয়ালি লঞ্চ হয়নি এই সিরিজ। অফিসিয়াল উদ্বোধন না হলেও রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, টোকিও স্কয়ার এবং শাহ আলী প্লাজার মতো শীর্ষ স্মার্টফোন মার্কেটে গ্রে ইমপোর্টের মাধ্যমে নতুন আইফোন ১৭ পাওয়া যাচ্ছে।

দাম স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক বেশি। আইফোন ১৭ (২৫৬ জিবি) বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। আইফোন ১৭ প্রো কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর সর্বাধিক চাহিদার আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের দাম ২ লাখ টাকারও বেশি। রিসেলারদের মতে, সরবরাহ বাড়লে আগামী কয়েক সপ্তাহে দাম কমে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ আইফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা দেশের মোট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর একটি বড় অংশ। বসুন্ধরা সিটিতে আইফোন ১৭ কিনতে আসা অঙ্কন আহমেদ বলেন, “আমি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় আইফোন ১৭ প্রো কিনেছি। দাম অনেক বেশি হলেও আর দেরি করতে চাইনি।” প্রযুক্তি কর্মী তাহমিদ মাহমুদ মনে করেন, “বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের প্রতি এতটাই অনুগত যে অফিসিয়াল সাপোর্ট না থাকলেও প্রিমিয়াম দামে কিনতে রাজি। তবে ভোক্তারা আসল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

গ্রে মার্কেট থেকে কেনা আইফোনে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি না থাকায় যেকোনো সমস্যায় অ্যাপলের সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, রিফার্বিশড বা নকল সেট আসল মডেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তৃতীয়ত, কিছু ডিভাইসে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট বা নেটওয়ার্ক–সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। চতুর্থত, অফিসিয়াল সাপোর্ট না থাকায় রিপেয়ার বা পার্টস বদলাতে অতিরিক্ত খরচের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া বিক্রয়োত্তর সেবা সীমিত হওয়ায় ভোক্তাদের পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় রিসেলারদের ওপর।

এমন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাজারে ক্রেতাদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে, অ্যাপল বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতে আইফোন ১৭ সিরিজ তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে প্রো ম্যাক্স মডেল। বাংলাদেশেও গ্রে মার্কেটের উচ্চ বিক্রিই প্রমাণ করছে, দেশটি অ্যাপলের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম ধাঁচের নতুন ফিচার

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে বড় আপডেট আনছে মেটা। নতুন এই সংস্করণে ফেসবুক রিলস ফিডে আসছে ইনস্টাগ্রামের মতো “ফ্রেন্ড বাবলস”, উন্নত এআই-নির্ভর সাজেশন সিস্টেম, এবং আরও স্মার্ট কনটেন্ট সাজানোর সুবিধা।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় মেটা জানায়, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য ফেসবুককে আরও ব্যক্তিগত, প্রাণবন্ত ও ব্যবহারকারীবান্ধব করে তোলা। নতুন রিলস অ্যালগরিদমে এখন সাম্প্রতিক ও নতুন ভিডিওগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে ব্যবহারকারীরা স্ক্রল করার সময় ৫০ শতাংশ বেশি নতুন রিলস দেখতে পাবেন।

মেটার ভাইস প্রেসিডেন্ট অব প্রোডাক্ট জগজিৎ চাওলা বলেন, “যদি কোনো ব্যবহারকারী এআই-তৈরি ভিডিও পছন্দ করেন, অ্যালগরিদম তা শিখে একই ধরনের কনটেন্ট বেশি দেখাবে। আবার কেউ যদি এসব কনটেন্ট পছন্দ না করেন, সিস্টেম তা শনাক্ত করে সেগুলো কম দেখাবে।”

এই আপডেটে যোগ হচ্ছে নতুন ‘Not Interested’ বোতাম, ভিডিও সেভ অপশন, এবং পার্সোনাল কালেকশন সাজানোর সুবিধা। ব্যবহারকারীরা এখন নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট ফিল্টার ও সাজাতে পারবেন, শুধু অ্যালগরিদমের উপর নির্ভর করতে হবে না।

এছাড়া রিলস ফিড এখন “এই মুহূর্তে কী ঘটছে”—এই ধারণায় জোর দেবে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ও সময়োপযোগী কনটেন্টই বেশি দেখা যাবে। টিকটকের মতো এখন ভিডিওর নিচে এআই-চালিত সার্চ সাজেশন দেখা যাবে, যেখানে ব্যবহারকারীর দেখা ভিডিওর ভিত্তিতে কীওয়ার্ড প্রস্তাব করা হবে, যা কনটেন্ট অনুসন্ধানকে আরও সহজ করে তুলবে।

চাওলা আরও বলেন, “আমরা চাই ফেসবুক আবার মানুষের সামাজিক নেটওয়ার্ক হয়ে উঠুক, যেখানে বন্ধুদের কার্যক্রম চোখে পড়বে।”

মেটার দাবি, এই নতুন প্রযুক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনারেটিভ এআইকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে। এমনকি ওপেনএআইয়ের Sora বা Midjourney-এর মতো টুলে তৈরি ভিডিওগুলোও ফেসবুকের অ্যালগরিদমে মানুষের তৈরি ভিডিওর মতোই বিবেচিত হবে।

এছাড়া ফেসবুক জানিয়েছে, এখন তাদের এআই সিস্টেম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকেও (Negative Feedback) গুরুত্ব দেবে, যাতে ব্যবহারকারীরা দ্রুত অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট বাদ দিতে পারেন।

সব মিলিয়ে এই আপডেটের মাধ্যমে মেটা শুধু ভিডিও ওয়াচ টাইম বাড়াতেই নয়, বরং মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ পুনরুদ্ধারব্যবহারকারীকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতেই মনোযোগ দিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাহীদের লক্ষ্য করে হ্যাকারদের চাঁদাবাজি ইমেইল অভিযান

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, একদল হ্যাকার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজি ইমেইল পাঠাচ্ছে। এসব বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, হ্যাকাররা ওরাকলের ই-বিজনেস সুইট থেকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করেছে এবং তা ফেরত পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ প্রদান করতে হবে।

গুগল জানিয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ক্লপ থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ক্লপ গোষ্ঠী পূর্বেও বিশ্বব্যাপী বড় বড় প্রতিষ্ঠান হ্যাক করে তথ্য চুরি এবং মুক্তিপণ দাবি করার জন্য পরিচিত। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণের জন্যও তাদের দায়ী করা হয়েছিল।

গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এই ইমেইল অভিযান শুরু হয়েছিল গত জুন মাসে এবং এখন তা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। হ্যাকাররা হারানো বা চুরি হওয়া তৃতীয় পক্ষের ইমেইল ব্যবহার করে বার্তা পাঠাচ্ছে। বার্তাগুলোতে বলা হচ্ছে যে, ভুক্তভোগীদের সংবেদনশীল ব্যবসায়িক ও গ্রাহক তথ্য তাদের হাতে আছে এবং সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, যোগাযোগ ঠিকানাগুলো ক্লপ গোষ্ঠীর পরিচিত তথ্য ফাঁস সাইটের সঙ্গে মিলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এসব ইমেইলে ব্যাকরণগত ভুল ও দুর্বল ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে, যা আসল করপোরেট ইমেইল থেকে সহজে আলাদা করা যায়।

ওরাকল সম্প্রতি একাধিকবার সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে একটি বড় ধরনের হ্যাকিং ঘটনার মাধ্যমে গ্রাহক লগইন তথ্য চুরি হয়। এ সময় তদন্তে যুক্ত হয়েছিল এফবিআই এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পূর্বের দুর্বলতাকেই হ্যাকাররা নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করছে।

গুগল জানিয়েছে, তারা ঘটনার যথাযথ অনুসন্ধান চালাচ্ছে তবে এখনই দাবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে “উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার প্রচারণা” হিসেবে অভিহিত করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কিছু সতর্কতা পরামর্শ দিয়েছেন:

  • অচেনা প্রেরকের ইমেইলে ক্লিক না করা।
  • সন্দেহজনক ইমেইল পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইটি বিভাগকে জানানো।
  • প্রতিষ্ঠানজুড়ে কর্মীদের সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
  • মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এই ধরনের চাঁদাবাজি অভিযান শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং তথ্য নিরাপত্তাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোতে যদি এই ধরনের আক্রমণ সফল হয়, তবে কোটি কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যও হুমকির মুখে পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ট্রাম্প-জিনপিং ফোনালাপে টিকটক ইস্যুতে অগ্রগতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল টিকটক। দীর্ঘ তিন মাস পর দুই নেতার মধ্যে হওয়া প্রায় দুই ঘণ্টার এই ফোনালাপে শুধু টিকটকই নয়, বরং বাণিজ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মাদক ফেন্টানিল সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আলাপে টিকটক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও নিশ্চিত করেছেন যে শি জিনপিং প্রাথমিকভাবে চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে চীনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সরাসরি এই চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি ঘিরে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

মার্কিন কংগ্রেস ইতোমধ্যেই আইন পাস করেছে যে আগামী জানুয়ারির মধ্যে টিকটকের মার্কিন সম্পদ বিক্রি না হলে দেশটিতে অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ কারণে ট্রাম্প-শির এই ফোনালাপকে চলমান সংকট সমাধানের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজুতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প আগামী বছর চীন সফর করবেন এবং পরবর্তীতে শি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, টিকটকের মার্কিন সম্পদ স্থানীয় মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে। যদিও অ্যালগরিদম ব্যবহারে এখনও টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইড্যান্সের অংশগ্রহণ থাকবে। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে চীন এখনো মার্কিন ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

অন্যদিকে বাইড্যান্স এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ও শিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা অব্যাহত রাখতে আইনি কাঠামো মেনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফোনালাপে টিকটক ছাড়াও বাণিজ্য শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে শুল্কহার তিন অঙ্ক ছাড়িয়েছে। তবে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি। যদিও ওয়াশিংটন সবসময় চীনের সমালোচনা করে আসছে, সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্টারলিংক বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চায় – অনুমোদন চেয়ে বিটিআরসিকে চিঠি

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশে  আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও শুরুতে স্থানীয় গেটওয়ে ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বাংলাদেশে গেটওয়ে স্থাপন করার কথা জানিয়েছে স্টারলিংক। গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের পর এখন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চায় ইলন মাস্কের কোম্পানিটি। এজন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চেয়েছে স্টারলিংক। গত ১৩ আগস্ট বিটিআরসি মহাপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন ডিভিশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের গেটওয়ে ব্যবহার করে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ডাটা পরিবহনে অনুমোদন চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের গেটওয়ে ব্যবহার করে অন্য দেশের গ্রাহকদের সেবা দিতে চায় স্টারলিংক। এজন্য বাংলাদেশে স্থাপিত পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) থেকে সিঙ্গাপুর ওমানের পপে আন্তর্জাতিক ব্যাকহল সংযোগের জন্য এই অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। দেশীয় আইটিসি থেকে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিজড সার্কিট (আইপিএলসি) এবং আনফিল্টারড আইপি কিনে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক সেবা চালু রাখবে, তবে আনফিল্টারড আইপি দিয়ে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, শুধু বিদেশি ব্যবহারকারীদের সেবা দেবে স্টারলিংক।

আইপিএলসি সার্ভিস হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক ডাটা পরিবহন ব্যবস্থা, যেখানে এক দেশের নেটওয়ার্ক থেকে ডাটা নিয়ে সরাসরি অন্য দেশের (যেমন সিঙ্গাপুর বা ওমান) পপে পাঠানো হয়। আর আনফিল্টারড আইপি হচ্ছে এমন একটি ফিল্টারবিহীন আইপি ব্লক, যা ব্যবহার করে ডেটা কোনো ফিল্টার, কনটেন্ট ব্লকিং বা লোকাল নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সরাসরি আন্তর্জাতিক লিংকে পাঠানো হয়।

বিটিআরসিতে পাঠানো চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্টারলিংকের নেটওয়ার্ক রেজিলিয়েন্সি রিডান্ডেন্সি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

এজন্য তাদের প্রতিটি আন্তর্জাতিক পপ অন্তত দুই বা ততোধিক পপের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সংযোগে আনফিল্টারড আইপি ট্রানজিট ব্যবহৃত হলেও তা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

চিঠিতে স্টারলিংক জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে অনুমোদিত কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোম, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) সামিট থেকে আইপিএলসি এবং আনফিল্টারড আইপি কিনবে। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের গেটওয়ে ব্যবহার করে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ডেটা পরিবহন করা হবে। তবে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের সেবা এর আওতায় পড়বে না। বাংলাদেশের ভেতরের ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সেবা স্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) হয়ে যাবে এবং আইন অনুযায়ী সব ধরনের নিরাপত্তা, ফিল্টারিং কনটেন্ট ব্লকিং মানা হবে। বাংলাদেশের স্টারলিংক পপ থেকে সিঙ্গাপুর ওমান পপে যে আন্তর্জাতিক লিংক যাবে, সেটি আনফিল্টারড আইপি ব্যাকহল হবে, যা শুধু বিদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য।

চিঠিতে দাবি করা হয়, এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এক গোলটেবিল বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা অনুমোদিত হয়েছে। এনজিএসও লাইসেন্স প্রদানের পূর্বেই স্টারলিংককে এই অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় সেই বৈঠকে, যেখানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান, ফাইবার আইপিএলসি প্রোভাইডারসহ বিটিআরসির সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে গত ২৪ জুন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তবে গত ৩১ জুলাইয়ের বৈঠকে কিছু প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন চেয়েছে, যাতে তারা অনুমোদিত সরবরাহকারীদের সঙ্গে বাণিজ্যিক আইপিএলসি এবং আনফিল্টারড আইপি ব্যবহারের জন্য চুক্তি করতে পারে এবং বিদেশি ব্যবহারকারীদের সেবা দিতে পারে।

তবে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, স্টারলিংকের দাবি সঠিক নয়। লাইসেন্স প্রদানের আগেই তাদের এই অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তাদের আবেদনের বিষয়ে আগে আলোচনা হলেও অনুমোদন হয়নি। আইপিএলসি গাইডলাইনে যেভাবে প্রভিশন আছে সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বিটিআরসি।

এদিকে, স্টারলিংকের এই প্রস্তাব ঘিরে দেশের প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একদিকে আশাবাদ, অন্যদিকে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্টারলিংকের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে খোদ বিটিআরসিতেও নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। বিটিআরসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের দাবি সঠিক নয়। গাইডলাইনেও বিষয়টি নেই, এমনকি গাইডলাইন অনুযায়ী এটার সুযোগও নেই। কারণ গাইডলাইনে আইপিএলসি শুধু সিগনালিংয়ের জন্য, ট্রাফিকের জন্য নয়। এভাবে অনুমোদন দিলে আমাদের মনিটরিং থাকবে না, আইনগত ইন্টারসেপশনও থাকবে না।




আইফোন ১৮ সিরিজে বড় চমক, কোন ফিচার থাকছে না

অ্যাপল সদ্য বাজারে এনেছে আইফোন ১৭ সিরিজ, আর এরই মধ্যে প্রযুক্তি দুনিয়ায় শুরু হয়ে গেছে নতুন আলোচনার ঢেউ। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আইফোন ১৮ সিরিজ। প্রযুক্তি প্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য, তবে ইতিমধ্যেই কয়েকটি তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে যা ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চীনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া উইবো-তে পরিচিত টেক টিপস্টার ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল জানিয়েছেন, আইফোন ১৮ সিরিজে (iPhone 18, iPhone 18 Pro ও iPhone 18 Pro Max) ডাইনামিক আইল্যান্ড থাকবে, তবে সেটি হবে আগের চেয়ে ছোট আকারের। বহু বছর ধরে এই ফিচারটি আইফোনের অন্যতম চিহ্নিত বৈশিষ্ট্য হলেও, এবার সেটির নকশায় পরিবর্তন আসতে পারে। অনেকে মনে করছেন, এটি ২০২৭ সালে আসতে যাওয়া “অল-গ্লাস আইফোন”-এর প্রস্তুতির অংশ।

তবে হতাশার বিষয় হলো, বহুল আলোচিত আন্ডার-স্ক্রিন ফেস আইডি প্রযুক্তি এবারও থাকছে না। এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল আইফোন ১৬ প্রো থেকে। এরপর আইফোন ১৭ প্রো নিয়েও একই আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন আইফোন ১৮-তেই এই প্রযুক্তি যুক্ত হবে। কিন্তু ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের দাবি, প্রযুক্তিটি এখনো বাজারে আনার মতো পরিপূর্ণ নয়। ফলে ব্যবহারকারীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে, হয়তো আইফোন ১৯ প্রো বা পরবর্তী কোনো মডেলেই এটি প্রথমবার দেখা যাবে।

এ কারণে আইফোন ১৮ সিরিজেও দৃশ্যমান ফ্রন্ট ক্যামেরা থাকবে। যদিও এটি ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ডের ভেতরেই অবস্থান করবে।

উল্লেখ্য, ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের উইবোতে প্রায় ১৫ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। তারা আগেও অ্যাপলের বেশ কিছু সঠিক তথ্য আগেভাগেই প্রকাশ করেছিল। তবে তাদের সব ভবিষ্যদ্বাণী একেবারে সত্যি হয়নি। বিশেষ করে আইফোন ১৭ নিয়ে তাদের কিছু পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছিল।

তবে এখনো বাজারে আসতে প্রায় এক বছর বাকি আইফোন ১৮ সিরিজের। এই সময়ের মধ্যে অ্যাপলের নতুন ডিভাইসকে ঘিরে আরও অনেক তথ্য, ফিচার এবং গুঞ্জন প্রকাশিত হবে। ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের আইফোনের চেহারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফোনেই দেরির খবর জানাবে গুগল জেমিনি

গুগল তাদের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি লাইভ’-এ যুক্ত করছে নতুন কিছু ফিচার, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন যোগাযোগ আরও সহজ করে তুলবে।

আগে যেখানে জেমিনি কেবল তথ্য প্রদানে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা সরাসরি ব্যবহারকারীর হয়ে মেসেজ পাঠানো, ফোন কল করা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় সাহায্য করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ জেমিনিকে নেভিগেশন নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন এবং বুঝতে পারেন যে গন্তব্যে দেরি হবে, তখন বলতে পারবেন— “এই রুট ঠিক আছে, এখন অ্যালেক্সকে জানিয়ে দাও আমি ১০ মিনিট দেরি করব।” সঙ্গে সঙ্গে জেমিনি বার্তাটি তৈরি করে পাঠিয়ে দেবে।

নতুন আপডেটের মাধ্যমে স্ক্রিনে সরাসরি হাইলাইট দেখানো যাবে। যেমন— ব্যবহারকারী যদি ক্যামেরা চালু করে কোনো টেবিলে রাখা বিভিন্ন টুল দেখান, জেমিনি লাইভ সঠিক টুলটিকে হাইলাইট করে দেখিয়ে দেবে।

প্রথমে এই সুবিধা মিলবে পিক্সেল ১০-এ, যা আসছে ২৮ আগস্ট। একই সময়ে অ্যান্ড্রয়েডের অন্যান্য ডিভাইসে ফিচারটি চালু হবে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি iOS ব্যবহারকারীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে।

এছাড়া, গুগল জেমিনি লাইভে যুক্ত করছে একটি নতুন অডিও মডেল, যা মানুষের স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরের মতো শোনাবে। ব্যবহারকারী চাইলে এআই-এর কথা বলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, আবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন টোন বা অ্যাকসেন্টও ব্যবহার করতে পারবে জেমিনি। যেমন— কোনো চাপের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জেমিনি শান্ত কণ্ঠে উত্তর দেবে, আর গল্প শোনালে নাটকীয় ভঙ্গিতে তা উপস্থাপন করবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এসব আপডেট এআই অ্যাসিস্ট্যান্টকে শুধুই তথ্যভিত্তিক নয়, বরং ব্যবহারকারীর বাস্তব জীবনকে আরও সহজ ও কার্যকর করার পথে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম, যারা প্রতিদিন নেভিগেশন, মেসেজিং কিংবা বিভিন্ন কাজের জন্য এআই ব্যবহার করেন, তাদের জন্য জেমিনি লাইভের নতুন ফিচারগুলো হবে বড় সুবিধা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেসবুকে হঠাৎ ‘অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন’ স্ক্রিনে লগইন বিপর্যয়

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী হঠাৎ করে তাদের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ১০টার দিকে জনপ্রিয় সার্ভিস মনিটরিং সাইট ডাউনডিটেক্টর-এ সমস্যার রিপোর্ট হঠাৎ বেড়ে যায়। মাত্র এক মিনিটের মধ্যে শতাধিক ব্যবহারকারী একই সমস্যার তথ্য জানিয়ে দেন, যা ট্র্যাকার গ্রাফেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

প্রভাবিত ব্যবহারকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রবেশের চেষ্টা করলে হঠাৎ করে ‘অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন’ নামের একটি নতুন নিরাপত্তা স্ক্রিন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু স্ক্রিনে প্রবেশের পর অধিকাংশই লগইন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারছেন না। ফলে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদান, পেজ পরিচালনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

এ ঘটনায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ফেসবুক কবে স্বাভাবিক হবে তা জানতে চাইছেন।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি নিরাপত্তা ফিচারের হঠাৎ কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার সমস্যার প্রভাব, অথবা সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে জরুরি আপডেটের অংশ হতে পারে।

ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ফেসবুক নির্ভর ব্যবসা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অনলাইন ব্যবসায় বড় ক্ষতি হতে পারে এবং প্ল্যাটফর্মের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চ্যাটজিপিটির ডায়েট চার্টে হাসপাতালে রোগী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শে অন্ধভাবে ভরসা করা কতটা বিপদজনক হতে পারে, তার ভয়াবহ উদাহরণ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেছে। ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চ্যাটজিপিটির দেওয়া ডায়েট চার্ট মেনে চলতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন সোডিয়াম ব্রোমাইড গ্রহণের ফলে তিনি মারাত্মক বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি খাবারে অতিরিক্ত লবণ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং এর বিকল্প খুঁজতে গিয়ে এআই-এর সাহায্য নেন। চ্যাটজিপিটি তাকে সোডিয়াম ক্লোরাইডের বিকল্প হিসেবে সোডিয়াম ব্রোমাইড গ্রহণের পরামর্শ দেয়। তিন মাস ধরে তিনি এই পরামর্শ মেনে চললেও চ্যাটজিপিটি এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি।

ফলে একসময় তার মধ্যে অদ্ভুত কিছু লক্ষণ দেখা দেয়—প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত থাকা সত্ত্বেও পানি পান করতে না পারা, হ্যালুসিনেশন এবং শারীরিক দুর্বলতা। প্রথমে চিকিৎসকরা মানসিক সমস্যার সন্দেহ করলেও পরবর্তীতে অ্যান্টি-সাইকোটিক ওষুধ ও ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড দেওয়ার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হন এবং পুরো ঘটনা জানান।

চিকিৎসকরা জানান, ব্রোমাইড বহু বছর আগে উদ্বেগ ও অনিদ্রার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি সীমিতভাবে কিছু প্রাণীর ওষুধ ও শিল্পপণ্যে ব্যবহৃত হয়।

প্রায় তিন সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে ওই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শ নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে, কারণ ভুল তথ্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জেমিনিতে এলো ছবি সহ গল্প তৈরির ম্যাজিক

গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘জেমিনি’-তে যুক্ত করেছে নতুন এক চমকপ্রদ ফিচার— স্টোরিবুক। এই ফিচারের মাধ্যমে শুধু একটি সাধারণ ধারণা দিলেই, জেমিনি তৈরি করে দেবে শিশুদের জন্য ছবি সমৃদ্ধ গল্প। এতে কল্পনা আর প্রযুক্তি মিলেমিশে তৈরি হবে রঙিন এক জগৎ।

স্টোরিবুক ফিচারে তৈরি প্রতিটি গল্পে থাকছে ১০টি পৃষ্ঠা। প্রতিটি পৃষ্ঠায় একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ ও সঙ্গতিপূর্ণ ছবি, যা গল্পটিকে জীবন্ত করে তুলবে। শুধু পড়া নয়, চাইলে জেমিনি নিজেই সেই গল্পটি উচ্চারণ করে শোনাতে পারবে। ফলে শিশুরা একসাথে দেখতেও পারবে, শুনতেও পারবে।

এখানে রয়েছে নানান কাস্টমাইজেশনের সুযোগ। ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ছবির স্টাইল ঠিক করতে পারবেন— যেমন কমিকস, এনিমে, ক্লেমেশন বা অন্যান্য শিল্পরীতি। এমনকি আপনি আপনার সন্তানের আঁকা একটি ছবি আপলোড করলেও, জেমিনি সেটি নিয়ে সম্পূর্ণ একটি গল্প বানিয়ে দিতে সক্ষম।

তবে, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কিছু মজার অদ্ভুততাও ধরা পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক সাংবাদিক এমা রথ একটি ‘ক্যাটফিশ’ নিয়ে গল্প তৈরির অনুরোধ করলে চিত্রায়নে মাছের গায়ে মানুষের হাত দেখা যায়। কিছু ছবিতে আবার স্প্যাগেটি সসের ইলাস্ট্রেশন দেখে মনে হয়েছে যেন কার্টুন অপরাধস্থল। অন্য এক দৃশ্যে টেলিভিশনটি ভুল দিকের দিকে মুখ করে আছে। গুগলের প্রোমো ভিডিওতেও দেখা গেছে কিছু ব্যতিক্রমী মুহূর্ত— যেমন একজন নারী রেঞ্চ দিয়ে স্পেসশিপ বানানোর সময় “টাপ টাপ” শব্দ করছেন, যা কিছুটা বিভ্রান্তিকর।

তবুও, এসব ক্ষুদ্র ত্রুটি উপেক্ষা করলে বলা যায়, এই ফিচার শিশুদের কল্পনাশক্তিকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসার পথে একটি বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। বর্তমানে স্টোরিবুক ফিচারটি ডেস্কটপ এবং মোবাইল উভয় প্ল্যাটফর্মেই গ্লোবালি উন্মুক্ত এবং জেমিনির সমর্থিত সব ভাষায় কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম