পুরোনো স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর উপায়

চন্দ্রদ্বীপ বিজ্ঞান প্রযুক্তি  :: বর্তমানে প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন দেখা যায়। কলিং, চ্যাটিং বা গেমিং ছাড়াও এখন এটি ব্যাংকিং, ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু, আমরা দেখে থাকি নতুন ফোন কেনার পর কয়েক সপ্তাহ বেশ ভালোভাবেই চলে। তারপর হঠাৎ করে স্লো হতে শুরু করে সাধের অ্যান্ড্রয়েড ফোন। এই সমস্যা প্রায় সব মানুষেরই সঙ্গেই হয়ে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে ফোনের গতি কমে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু, অনেক সময় এটি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে আপনি কি জানেন পুরোনো স্মার্টফোনকেও নতুনের মতো ফাস্ট করা যায়। এই সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিভিত্তিক ওয়েবসাইট পিসিম্যাগের এক প্রতিবেদনে কিছু টিপস দেওয়া হয়েছে। চলুন সেসব কি কি জেনে নেওয়া যাক:

ফোন রিস্টার্ট দেওয়া

ফোন দীর্ঘ সময় ধরে চললে এর ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’-এ থাকা বিভিন্ন প্রক্রিয়া ফোনের গতি কমিয়ে দিতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে ফোন রিস্টার্ট করুন। যা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বিভিন্ন প্রক্রিয়া থামানোর জন্য যথেষ্ট। এমনকি এতে ফোনের কার্যকারিতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

অ্যাপ আনইনস্টল করা

ফোন থেকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন। অনেকেই ধারণা করতে পারেন, অ্যাপ বন্ধ থাকলে ফোনের ওপর তেমন প্রভাব পড়ে না। তবে, ফোনের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’-এ বিভিন্ন অ্যাপ সক্রিয় থাকলে ফোনের গতি কমাতে পারে। তাই যে অ্যাপসগুলোর প্রয়োজন নেই সেগুলো আনইনস্টল করে দিতে পারেন।

অ্যাপ ক্যাশে ফাইল মুছে ফেলা

এই উপায়টা দারুণ কাজে আসে। বিশেষ করে ওয়েব ব্রাউজ করার সময় ফোনের গতি কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে সংশ্লিষ্ট অ্যাপে জমে থাকা ডেটার পরিমাণ। ব্যবহারকারী কেবল প্রতি ব্রাউজারের ভিত্তিতে ক্যাশে ফাইল মুছতে পারেন, যা খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া। আইফোনের ক্ষেত্রে সেটিংস অ্যাপে থাকা সাফারি অপশনে যেতে হবে। এরপর ক্লিয়ার হিস্ট্রি অ্যান্ড ওয়েবসাইট ডেটা অপশনে চাপ দিতে হবে। আর অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে, সেটিংস অ্যাপে থাকা ‘স্টোরেজ’ অপশনে যান। এরপর ‘অ্যাপস’ অপশনটি চাপুন। এখানে প্রতিটি অ্যাপ একত্রে বেছে নিয়ে ‘ক্লিয়ার ক্যাশে’ নামের অপশনে চাপ দিলেই সব তথ্য মুছে যাবে।

ফোন আপডেট দেওয়া

ফোনের সব অ্যাপ ও অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন নিয়মিত আপডেট করুন। অনেক সময় পুরোনো ভার্সন ব্যবহারের কারণে ফোন স্লো হতে থাকে। গুগল প্লে স্টোর থেকে সব অ্যাপ আপডেট করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আপডেট করার জন্য ফোনের সেটিংস থেকে সিস্টেম সিলেক্ট করে সিস্টেম আপডেট অপশন বেছে নিতে হবে।

ফোন সাধারণ অবস্থায় রাখুন

ফোনের গতি কমছে এমন মনে হলে ডিভাইসে বিভিন্ন নতুন ফিচারের ব্যবহার কমিয়ে ফেলতে পারেন। এতে ডিভাইসটির ওপর চাপ কমবে। আইফোনের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য মানে, হোম স্ক্রিন বা লক স্ক্রিন থেকে সব উইজেট সরানো। যেখানে এগুলোকে ঠিকঠাক রাখতে ক্রমাগত রিফ্রেশ করার প্রয়োজন পড়ে। যার ফলে ফোনের গতি কমে যেতে পারে।

এছাড়া, ফোনে সর্বশেষ আপডেট রাখাও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নতুন সফটওয়্যার আপডেট এলে তা ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে ইনডিপেন্ডেন্ট। এতে ফোনের নিরাপত্তার পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেট করার পর ফোনের কার্যকারিতাও বেড়ে যেতে পারে।

অ্যানিমেশন স্পিড কমানো

অ্যান্ড্রয়েড ফোন অ্যানিমেশনের জন্য অনেকটা স্লো হয়। বিশেষ করে বাজেট সেগমেন্টের ফোনে এই সমস্যা বেশি। ফোন সেটিংস থেকে অ্যানিমেশন বন্ধ করলে পারফরম্যান্সে উন্নতি পাবেন।

 




‘তথ্য আপার হাত ধরে নারী উদ্যোক্তা ঘরে ঘরে’ শ্লোগানে মুখর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী  অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূসের বাসার সামনে  তথ্য আপা প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের এক দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় মহিলা সংস্থার অধীনে ৪৯২টা উপজেলায় তথ্য আপা প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেইজ চলছে।

তারা বলেন, প্রকল্পের ডিপিপিতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের কথা থাকলেও বিগত সরকার এটা বাস্তবায়ন করেনি।

‘করতে নারীর উন্নয়ন, তথ্য আপা প্রয়োজন’, ‘তথ্য আপার হাত ধরে নারী উদ্যোক্তা ঘরে ঘরে’ এমন শ্লোগান সংবলিত প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন করেন সারা দেশ থেকে আগত তথ্য আপারা।

মানববন্ধন শেষে তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।




আমাকে স্যার বলা ও ছবি প্রচারের দরকার নেই: উপদেষ্টা নাহিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্যার ভাবতে ও স্যার না বলতে অনুরোধ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই।

আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তো ভালো।
রোববার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ অনুরোধ জানান।

তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, আমি আপনাদের সরকার হিসেবে এখানে এসেছি।

আমি জনগণের পক্ষ থেকে এসেছি। জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে এসেছি।

একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। এখন আমি আপনাদের কাছে সেই সহযোগিতাটা কামনা করছি।

 

তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পরিস্থিতি এ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে।

এছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা প্রাথমিকভাবে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি ঠিক করা হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, নিবর্তনমূলক আইন যেগুলো গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতার জন্য অন্তরায়, সেগুলোর ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি চাই না, মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা হোক।




নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন নাহিদ ও আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে আরও চার জন শপথ নেওয়ার পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে। তার স্থলে লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উপদেষ্টা পরিষদে আসা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ আগের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম নতুন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পেয়েছেন।

অন্যদিকে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই দুজনই এখন থেকে দুটি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট ১৭ উপদেষ্টা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এদিকে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) আরও চার উপদেষ্টা শপথ নিয়ে সরকারে যুক্ত হন।




গুগল ফটোজে এআই টুল ব্যবহার করা যাবে বিনামূল্যে




হোয়াটসঅ্যাপে নতুন দুই ফিচারে যেসব সুবিধা পাবেন

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সারাক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিং, ছবি-ভিডিও শেয়ার করছেন। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভালো করতে একের পর এক ফিচার নিয়ে আসছে। এবার দুটি নতুন ফিচার যুক্ত করছে প্ল্যাটফর্ম। তাদের দাবি, এই ফিচারগুলোর জন্য ব্যবহারকারীর সময় বাঁচবে অনেক।

দেখে নিন কী কী ফিচার এলো হোয়াটসঅ্যাপে-

১. ডবল ট্যাপ রিঅ্যাকশন

হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে রিঅ্যাকশন দেওয়ার জন্য এই ডবল ট্যাপ ফিচার চালু করা হবে। এই ফিচার এতোদিন ইনস্টাগ্রামে ব্যবহার করা যেত। মেটা এবার তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপে ছবিতে ডবল ট্যাপ করে রিয়াকশন দেওয়ার সুবিধা দেবে।

বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কোনো মেসেজে রিঅ্যাকশন দিতে হলে সেই মেসেজের উপর সামান্য কিছুক্ষণ ধরে ট্যাপ করে রাখলে কয়েকটি ইমোজি ভেসে ওঠে স্ক্রিনে। তার পাশে থাকে প্লাস চিহ্ন। সেখানে ক্লিক করলে আসে আরও ইমোজির অপশন। এগুলোর সাহায্যে মেসেজে রিঅ্যাকশন দেওয়া যায়। যদি ডবল ট্যাপ ফিচার চালু হয় তাহলে অনেক কম সময়ে এবং খুব সহজে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে রিঅ্যাকশন দিতে পারবেন ইউজাররা।

আপাতত এই ফিচার নিয়ে কাজ করছে হোয়াটসঅ্যাপ সংস্থা। কয়েক মাসের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের কোনো আপডেটেড ভার্সনে এই ফিচার দেখা যেতে পারে। তবে কবে এই ফিচার হোয়াটসঅ্যাপের সব ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হবে তা এখনো জানা যায়নি।

হোয়াটসঅ্যাপের কমিউনিটি চ্যাটের ইভেন্টে এন্ড টাইম সিলেক্ট

হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি গ্রুপ চ্যাটের জন্য নতুন একটি ফিচার আনছে প্ল্যাটফর্মটি। এবার হোয়াটসঅ্যাপের কমিউনিটি চ্যাটে কোনো ইভেন্ট ক্রিয়েট করা হলে তা কখন শেষ হবে সেটা ঠিক করে আগাম এন্ড টাইম দিয়ে রাখা যাবে। হোয়াটসঅ্যাপের কমিউনিটি চ্যাটের ক্ষেত্রে অ্যাডমিনরা এই ফিচারের সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে শুধু ইভেন্ট শুরুর সময় আগে থেকে সেট বা শিডিউল করে রাখার সুবিধা রয়েছে। এবার আসছে নতুন ফিচার যেখানে ইভেন্ট শেষ হওয়ার সময়টাও আগে থেকেই সেট কিংবা শিডিউল করে রাখা যাবে। এর ফলে হোয়াটসঅ্যাপের ওই কমিউনিটি চ্যাটের সদস্যরা সহজে বুঝতে পারবেন যে কখন ইভেন্ট শুরু হচ্ছে আর কখন শেষ হবে।

আপাতত এই ফিচার নিয়েও কাজ চালাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ সংস্থা। আপাতত বিটা ভার্সনে চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। আগামী দিনে হোয়াটসঅ্যাপের সব ইউজারদের জন্য সব ভার্সানে এই ফিচার চালু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন শুধু অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের জন্যই এই ফিচার নিয়ে কাজ করছে হোয়াটঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।

 




পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিটিআরসি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সারাদেশে একযোগে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কাণ্ড অনুসন্ধানে একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সে সময় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরদের এড়িয়ে সরাসরি সাবমেরিন কেবল ও ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের মাধ্যমে সারাদেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়। সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের নির্দেশেই বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট সার্ভিস। এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় জড়িত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদসহ কতিপয় কর্মকর্তা। আইটিসি অপারেটররা বলছেন, বিটিআরসির সিদ্ধান্তে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ করেন তারা।

এদিকে ইন্টারনেট বন্ধের নেপথ্যে মূল কারণ কী ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল- তা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) একেএম আমিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নির্দেশে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে চেয়ে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এরপরই এ কমিটি গঠন করা হয়। জানা গেছে, কমিটি আজ সোমবারের মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

বৈঠকে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়, তা বের করতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির কোন কোন কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে ইন্টারনেট বন্ধে সহযোগিতা করেছেন, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকালে কারফিউ শুরুর আগে ১৭ জুলাই (বুধবার) মধ্যরাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা এবং ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টা থেকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের পর ঢাকার মহাখালীর খাঁজা টাওয়ারে ডেটা সেন্টার আগুনে পুড়ে যাওয়ার অজুহাত সামনে আনা হয় শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে। সে সময় বলা হয়, আগুনে তার পুড়ে যাওয়া এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। ২২ জুলাই প্রতিমন্ত্রী পলকের নামে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের প্রতি দেওয়া এক খুদেবার্তায় বলা হয়, সন্ত্রাসীদের অগ্নিসংযোগের কারণে ডেটা সেন্টার ও আইএসপির তার পুড়ে যাওয়ার কারণে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মেরামত করতে সময় লাগবে।

তবে তার বক্তব্য পুরোটাই মিথ্যাচার ছিল বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। সংস্থাটির সভাপতি ইমদাদুল হক  বলেন, ত্রাণ ভবনে আগুন লাগলে সেখানকার ডেটা সেন্টার কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ জন্য পুরো দেশের ইন্টারনেট শাটডাউন হয় না। ওইদিন রাতেই ইন্টারনেট পুরোপরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট বন্ধের যে দাবি করেছিলেন, তা সঠিক ছিল না। তখন আমাদের ওপরও চাপ ছিল।

এদিকে আইআইজি অপারেটররা বলছেন, তাদের এড়িয়ে সরাসরি আইটিসি অপারেটরদের ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তারাও আইএসপিদের ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারেনি।

আইআইজি অপারেটরদের একটি সূত্র জানায়, ২৮ জুলাই দুপুরে সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু করা হলেও তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় ফেসবুক, টিকটকসহ সকল মেটা সার্ভিস ব্লক করে রাখতে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বরাত দিয়ে বিটিআরসি থেকে মৌখিকভাবে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আইআইজি অপারেটরদের সংগঠন আইআইজিএবির সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ আহমেদ  বলেন, সাধারণত যখন এ ধরনের শাটডাউন করা হয়, তখন গেটওয়ে অপারেটরদের জানানো হয়। তবে এবারই প্রথম দেখলাম, আমাদের বাইপাস করে তারা সাবমেরিন কেবল অফ করে দেয় এবং আইটিসিদের টোটাল শাটডাউন করতে বলা হয়। ফলে ওইদিন আমাদের হাতে আর কিছু ছিল না। সাবমেরিন কেবল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরাও আইএসপিদের ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারিনি।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস কোম্পানির (বিএসসি) তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৫ হাজার জিবিপিএসেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭শ জিবিপিএস আসে আইটিসি লাইসেন্সের মাধ্যমে। অবশিষ্ট ২ হাজার ৪০০ জিবিপিএসের মতো ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে বিএসসি। দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এ ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। ফলে আইটিসি ও সাবমেরিন কেবল বন্ধ করে দেওয়ায় কার্যত সারাদেশে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

একাধিক আইটিসি সূত্র জানায়, আন্দোলনকালে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করতে তারা বাধ্য হন।

সাবমেরিন কেবল বন্ধের বিষয়ে জানতে বিএসসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেন। বলেন, আমরা তো লাইসেন্সি কোম্পানি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমরা সেভাবে কাজ করেছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর বিটিআরসির কার্যালয়ে গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এদিকে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বিটিআরসির এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বেশির ভাগ কমিশনারকেই অন্ধকারে রেখে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিটিআরসির কমিশনাররা।

বিটিআরসির অর্থ হিসাব ও রাজস্ব কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত পলিসিগত সিদ্ধান্ত। বিটিআরসির নিয়ম পলিসিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে পুরো কমিশনের বৈঠক ডাকতে হবে। অথচ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিটিআরসির কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি।

 




বিমানবন্দরে আটক সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রচারের পরপরই পলকের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।




সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ




মোবাইল নেটওয়ার্কে আবার বন্ধ ফেসবুক