এআই রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগ, বিএমইউতে চালু আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এবং হাড় ও জোড়ার জটিল সমস্যায় ভোগা রোগীদের উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবটিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম

 

৫৭টি রোবটের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। এসব এআই রোবট নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্ট্রোক ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সেন্টারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’ (ZEPU AI1 & AI9) নামের গেইট ট্রেনিং রোবট। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘জিপু এআই-২’ (ZEPU AI2) ও ‘জিপু এআই-৩’ (ZEPU AI3)। এছাড়া মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম ‘জিপু এআই-৪’ (ZEPU AI4)-সহ আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবট রোগীদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত ভঙ্গিতে চলাফেরা অনুশীলনে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টারটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ

 

জ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ

এ শাকুর জানান, এই সেন্টারে মোট ৬২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৭টি রোবটিক ডিভাইস এবং পাঁচটি বিশেষ ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।

প্রাপ্ত জনবল পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

এই সেন্টার থেকে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়বিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসাসে

বা প্রদানের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগা বহু মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার জায়গা। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনে চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবেন।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগীরাও নামমাত্র খরচে এই আধুনিক সেবা নিতে পারবেন। ফলে স্নায়ু, হাড় ও জোড়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে আর বিদেশমুখী হতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গুগল স্পষ্ট করল: জিমেইল ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে একটি বিভ্রান্তিকর খবর, যেখানে দাবি করা হচ্ছে গুগল ব্যবহারকারীর জিমেইল ইমেইল ও অ্যাটাচমেন্ট ব্যবহার করে তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া বলা হচ্ছে, এ থেকে বাঁচতে চাইলে দ্রুত জিমেইলের ‘স্মার্ট ফিচার’ বন্ধ করতে হবে। এই খবরটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে গুগল নিজস্বভাবে এই অভিযোগের খণ্ডন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র জেনি থমসন বলেন, “ভাইরাল প্রতিবেদনগুলো ভুল ব্যাখ্যা করছে। জিমেইলের স্মার্ট ফিচার বহু বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা কখনোই ব্যবহারকারীর ইমেইল বা অ্যাটাচমেন্ট এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করি না।”

যদিও কিছু ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন যে তারা আগে স্মার্ট ফিচার বন্ধ করেছিলেন, সম্প্রতি কিছু অপশন আবার চালু হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে গুগল কি গোপনে কিছু পরিবর্তন এনেছে। এই প্রশ্নের জবাবে গুগল জানিয়েছে, এই বছরই তারা স্মার্ট ফিচার ও ব্যক্তিগতকরণ নিয়ন্ত্রণের সেটিংস পুনর্বিন্যস্ত করেছে। আগে যেসব টুল একসাথে নিয়ন্ত্রণ করা হতো, এখন সেগুলো আলাদাভাবে চালু বা বন্ধ করা যায়।

জিমেইলের স্মার্ট ফিচার চালু থাকলে ব্যবহারকারীরা বানান পরীক্ষা, অর্ডার ট্র্যাকিং, ফ্লাইটের তথ্য ক্যালেন্ডারে যোগ করা মতো সুবিধা পান। তবে গুগল বলেছে, এই সুবিধার জন্য ইমেইলের কিছু ডেটা ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তা কেবল ব্যবহারকারীর জন্য পরিষেবা উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়, এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য নয়।

ওয়ার্কস্পেস সেটিংসেও উল্লেখ আছে, ব্যক্তিগতকরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে, তবে এআই প্রশিক্ষণের জন্য নয়। গুগল নিশ্চিত করেছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি কোনোভাবেই পরিবর্তিত হয়নি। ভাইরাল পোস্টগুলো মূলত ভুল ব্যাখ্যা বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে ছড়িয়ে পড়েছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




ইউটিউবের হোম ফিড আরও ব্যক্তিগতকৃত হচ্ছে

অনলাইনে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ইউটিউব আনছে নতুন ফিচার ‘ইউর কাস্টম ফিড’। ব্যবহারকারীরা যাতে হোম ফিডে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হন, তার জন্য এই ফিচার বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমান অ্যালগরিদম–নির্ভর রেকমেন্ডেশন প্রায়ই ব্যবহারকারীর আসল পছন্দকে সঠিকভাবে ধরতে ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি এক বা দুটি শিশুতোষ বা ডিজনি ভিডিও দেখে, অ্যালগরিদম ধরে নেয় তারা নিয়মিত এই ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান। এরপর হোম ফিড পুরোপুরি সেই ভিডিওগুলো দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়, যা ব্যবহারকারীর জন্য বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। নতুন কাস্টম ফিডের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের আগ্রহ অনুযায়ী ভিডিও নির্বাচন করতে পারবেন।

ফিচারটি ব্যবহার করতে হলে হোমপেজের ‘হোম’ বাটনের পাশে নতুন অপশন “Your Custom Feed” দেখা যাবে। এখানে ক্লিক করলে একটি বক্স খুলবে, যেখানে ব্যবহারকারী তাদের আগ্রহ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিষয়ের নাম টাইপ করতে পারবেন—যেমন রান্না, ভ্রমণ, প্রযুক্তি বা বই। এরপর ইউটিউব সেই আগ্রহকে অগ্রাধিকার দিয়ে হোম ফিড সাজাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফিচার জনপ্রিয় হলে ব্যবহারকারীদের ইউটিউব ব্যবহার করার অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন অনাকাঙ্ক্ষিত ভিডিও এড়াতে ব্যবহারকারীদের আলাদাভাবে “আগ্রহ নেই” বা “চ্যানেল সুপারিশ করবে না” অপশন ব্যবহার করতে হতো। নতুন ফিচারের মাধ্যমে একই কাজ আরও সহজভাবে, সরাসরি করা সম্ভব হবে।

ইউটিউবের পাশাপাশি অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মও পারসোনালাইজড ফিডের দিকে ঝুঁকছে। মেটার থ্রেডস এবং এক্স (আগের টুইটার) ইতিমধ্যে এমন পদ্ধতি পরীক্ষা করছে, যেখানে ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও ট্যাগের ভিত্তিতে ফিড পরিবর্তিত হবে।

বর্তমানে ‘ইউর কাস্টম ফিড’ সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চালু। পরীক্ষার ইতিবাচক ফলাফল পেলে ধাপে ধাপে এটি সকল ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত হবে। ইউটিউবের এই পদক্ষেপ ব্যবহারকারীর সুবিধা বাড়াবে এবং অ্যালগরিদমের উপর সমালোচনার ঝুঁকি কমাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




ফেসবুক গ্রুপে গোপন পরিচয়েই অংশ নেওয়া যাবে ‘নিকনেম’ ফিচারের মাধ্যমে

ফেসবুক গ্রুপের অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ ও ব্যক্তিগত করতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘নিকনেম’ ফিচার। এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাস্তব নামের পরিবর্তে গ্রুপের মধ্যে আলাদা একটি নাম ব্যবহার করে পোস্ট, মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। ফলে নিজের পরিচয় পুরোপুরি গোপন না রেখে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব।

এফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, আগে গ্রুপে ‘অ্যানোনিমাস পোস্টিং’ সুবিধা থাকলেও তাতে ব্যবহারকারীর পরিচিতি তৈরি হতো না। নতুন নিকনেম ফিচার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করবে। ব্যবহারকারীরা নিজের জন্য একটি সহজে চেনার মতো নাম বেছে নিতে পারবেন, যাতে পরিচিতি থাকলেও গোপনীয়তাও বজায় থাকে।

ফেসবুকের দীর্ঘদিনের ‘রিয়েল নেম’ নীতি থেকে এটি আলাদা। আগে ব্যবহারকারীরা শুধু বাস্তব নাম ব্যবহার করতেন, কিন্তু গ্রুপে বিভিন্ন অচেনা মানুষ যুক্ত হওয়ায় গোপনীয়তার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ফিচারের মাধ্যমে গ্রুপে নিকনেম ব্যবহার করলে পোস্ট, মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া সেই নিকনেমে প্রদর্শিত হবে। গ্রুপের অন্য সদস্যরা ব্যবহারকারীর আসল প্রোফাইল বা প্রোফাইল ছবি দেখতে পারবে না। তবে অ্যাডমিন, মডারেটর এবং ফেসবুকের সিস্টেম ব্যবহারকারীকে চেনার ক্ষমতা রাখবে।

নিকনেমের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। গ্রুপের সদস্যরা গত সাত দিনের পোস্ট, মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস সেই নিকনেমে দেখতে পারবেন। ব্যবহারকারী চাইলে প্রতি দুই দিনে একবার নিকনেম পরিবর্তন করতে পারবেন। পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আগের পোস্ট ও মন্তব্যেও নতুন নিকনেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োগ হবে।

ফেসবুক নিজে ব্যবহারকারীদের জন্য নিকনেম প্রস্তাব করবে, তবে ব্যবহারকারী চাইলে নিজের মতো নাম ঠিক করতে পারবেন। নামটি অবশ্যই ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে এবং আগে গ্রুপে ব্যবহার করা হয়নি তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবহারকারীরা নিকনেমের জন্য আলাদা প্রোফাইল ছবি বা রঙিন ব্যাকগ্রাউন্ডও বেছে নিতে পারবেন।

এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে নতুন পোস্ট তৈরির সময় ‘Post anonymously’-এর পাশে থাকা ‘Use nickname’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। চাইলে ব্যবহারকারী আবার নিজের আসল নামেও ফিরে যেতে পারবেন। তবে নিকনেম ব্যবহারকারীরা লাইভ ভিডিও, প্রাইভেট মেসেজিং বা কনটেন্ট শেয়ারিংয়ের কিছু ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া অন্য সদস্যদের নিকনেম ব্লক করার সুবিধাও থাকবে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




জাপানে এলো বিস্ময়কর মানব ওয়াশিং মেশিন

জাপান আবারও প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন চমক দেখিয়েছে। বিশ্ব এক্সপোতে লাখো দর্শককে মুগ্ধ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে এসেছে মানুষের জন্য তৈরি অভিনব ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’। জাপানি প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সায়েন্স এ যুগান্তকারী যন্ত্রটি বাজারে ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। টোকিও থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা থেকে শুরু করে এর ব্যবহার-পদ্ধতির নানা বিস্ময়কর তথ্য।

মানব ওয়াশিং মেশিনটি দেখতে অনেকটা আধুনিক ক্যাপসুল বা পডের মতো। ব্যবহারকারী ভেতরে শুয়ে ঢাকনা বন্ধ করলেই যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে শরীরকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দেয়। যন্ত্রটির সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো—এটি কোনো ধরনের ঘূর্ণন ছাড়াই মানুষের শরীর পরিষ্কার করতে পারে। ধোয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় চারপাশে বাজতে থাকে মনোমুগ্ধকর সুর, যা ব্যবহারকারীর মানসিক প্রশান্তিও বাড়িয়ে তোলে।

এই যন্ত্রের প্রোটোটাইপ প্রথম প্রদর্শিত হয় গত অক্টোবর পর্যন্ত ওসাকায় অনুষ্ঠিত ছয় মাসব্যাপী বিশ্ব এক্সপোতে। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ দর্শনার্থী অংশ নেওয়া সেই এক্সপোতে ‘হিউম্যান ওয়াশার অব দ্য ফিউচার’-এর সামনে ছিল দীর্ঘ সারি। সায়েন্স কোম্পানিটি জানায়—এটি মূলত ১৯৭০ সালের ওসাকা এক্সপোতে প্রদর্শিত এক পুরোনো কনসেপ্টের আধুনিক সংস্করণ। কোম্পানির বর্তমান প্রেসিডেন্ট শৈশবে সেই প্রদর্শনী দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং বহু বছর পর সেটিকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

কোম্পানির মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা বলেন,
“এই মেশিন শুধু শরীর নয়, মনকেও পরিষ্কার করে। ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সংকেতও পর্যবেক্ষণ করে এটি কাজ করে।”

প্রতিষ্ঠানটির দাবি—এটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। শুধু পরিষ্কারই নয়, ব্যবহারকারীর রিল্যাক্সেশন, স্ট্রেস রিমুভাল ও নিরাপদ বায়োমেট্রিক মনিটরিংও নিশ্চিত করবে।

প্রথমবারের মতো ওসাকার একটি পাঁচতারকা হোটেল মেশিনটি কিনে নিয়েছে এবং অতিথিদের জন্য এই ব্যতিক্রমী সেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সীমিত সংস্করণে প্রায় ৫০টি মেশিন বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এর অনন্যতা বজায় থাকে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, মানব ওয়াশিং মেশিনটির সম্ভাব্য মূল্য ৬ কোটি ইয়েন, যা প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের। এর উচ্চমূল্য সত্ত্বেও বিলাসসেবামুখী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের লাইফস্টাইল পরিবর্তনে নতুন ধারা তৈরি করবে—এমনটাই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। মানব ওয়াশিং মেশিন এখন শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যন্ত্র নয়, বরং আধুনিক স্বাস্থ্যের যত্ন ও মানসিক প্রশান্তির নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাইক্রোসফটের শিশুদের জন্য নিরাপদ এআই উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এখন কেবল তথ্যপ্রযুক্তির সীমায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। চ্যাটজিপিটি, মেটা এআই এবং অন্যান্য জনপ্রিয় চ্যাটবটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অনেক সময় রোমান্টিক বা ব্যক্তিগত কথোপকথনে যুক্ত হচ্ছেন, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মাইক্রোসফট ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এআই বিভাগের প্রধান নির্বাহী মুস্তাফা সুলেইমান জানিয়েছেন, তারা এমন একটি এআই তৈরি করতে চায়, যা হবে বিশ্বাসযোগ্য, সীমাবদ্ধ ও নিরাপদ। এ ধরনের এআই শিশুরাও নির্ভয়ে ব্যবহার করতে পারবে, ফলে কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মাইক্রোসফট বর্তমানে তাদের কোপাইলট এআই টুলকে জনপ্রিয় করার জন্য ওপেনএআই, মেটা এবং গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আছে। কোপাইলটের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি। যদিও চ্যাটজিপিটি–এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০০ মিলিয়নের বেশি, মাইক্রোসফট আশা করছে নিরাপত্তা ও আস্থার দিক থেকে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে।

সুলেইমান বলেন, “আমরা ‘ডিজিটাল মানুষ’ বা কল্পিত চরিত্রের মতো এআই তৈরি করতে চাই না। বরং এমন প্রযুক্তি বানাতে চাই যা মানুষের সহায়ক হবে, মানুষের বিকল্প নয়। এটি শিশু এবং কিশোরদের জন্যও নিরাপদ।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের আপডেটগুলোর লক্ষ্য হলো মানুষকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা। কোপাইলট ব্যবহারকারীকে মানুষের সঙ্গে সংযোগ ঘটাবে, কল্পনার জগতে আটকে রাখবে না।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু এআই প্ল্যাটফর্ম কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ওপেনএআই ও ক্যারেক্টার এআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের চ্যাটবট কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগ শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, আস্থা এবং সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আপনার ফোনের ছবিতেও নজর রাখছে ফেসবুকের নতুন এআই!

আপনার মোবাইল ফোনে থাকা এমন সব ছবিও এখন ফেসবুকের নজরে, যেগুলো আপনি এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারই করেননি! ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গ্যালারির ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে পোস্ট বা কনটেন্ট তৈরির পরামর্শ দেবে প্ল্যাটফর্মটি।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার চালু করা হয়েছে। তবে এটি ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মেটা।


কীভাবে কাজ করে এই ফিচার

ফেসবুক অ্যাপে ব্যবহারকারীর সামনে একটি বার্তা প্রদর্শিত হবে—

“আপনার গ্যালারির ছবি থেকে সৃজনশীল ধারণা দিতে ফেসবুককে ক্লাউড প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিন।”

যদি ব্যবহারকারী সম্মতি দেন, তাহলে তার ফোন থেকে ছবিগুলো মেটার ক্লাউড সার্ভারে প্রেরণ করা হবে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে কোলাজ, জন্মদিনের পোস্ট, রিভিউ থিম বা ডিজাইন সাজেশন তৈরি করে দেবে।

মেটা আশ্বস্ত করেছে, এই ছবিগুলো বিজ্ঞাপন বা লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হবে না। তবে কেউ যদি সেই ছবি সম্পাদনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন, তাহলে সেই ডেটা ভবিষ্যতে এআই সিস্টেম উন্নয়নের কাজে লাগানো হতে পারে।


তবে ঝুঁকিও আছে!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কারণ, আপনি ছবি শেয়ার না করলেও ফেসবুক সেই ছবির সময়, অবস্থান, মুখের উপস্থিতি ও পটভূমি বিশ্লেষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে মেটা আপনার জীবনধারা, পছন্দ বা সম্পর্ক সম্পর্কিত তথ্যও অনুমান করতে সক্ষম হবে।

ফলে ফেসবুকের হাতে তৈরি হবে মানুষের আচরণ ও আগ্রহের বিশাল ডেটা ব্যাংক, যা ভবিষ্যতে তাদের এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেবে।

এর আগে মেটা জানিয়েছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে থাকা পাবলিক পোস্ট, মন্তব্য এবং ছবি তাদের ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীরা ২০২৫ সালের ২৭ মে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার সুযোগ পেয়েছিলেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাংবাদিকদের বেতন বাড়াতে নির্দেশ, মিডিয়ার জন্য সুবিধা বাড়াবে সরকার

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, সংবাদপত্র ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য সরকারি সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে মিডিয়ার মালিকপক্ষকেও সাংবাদিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

উপদেষ্টা বলেন, “সরকার সাংবাদিকদের প্রবেশ পদে একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে চায়। যেসব প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন প্রদান করবে না, তারা কোনো সরকারি সুবিধা পাবে না।”

তিনি আরও জানান, বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কোন টেলিভিশন চ্যানেল কতজন দর্শক পাচ্ছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। দর্শকসংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বণ্টনের সুযোগ তৈরি হলে ভালো পারফরম্যান্স করা চ্যানেলগুলোর আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নীতিমালা মেনে নতুন টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দিচ্ছে যাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয় এবং মিডিয়া খাতে গুণগত মান বাড়ে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত ২৩টি সুপারিশের মধ্যে ১৩টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “নীতিমালা প্রণয়ন ও অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।”

তথ্য উপদেষ্টা জানান, ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ ইতোমধ্যে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে তা উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মী আইন এবং বেসরকারি টেলিভিশনের জন্য নতুন নীতিমালাও প্রণয়নাধীন।

অনলাইন মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “যেসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রচার করে আয় হয়, সেগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে। অনলাইন মিডিয়া এখন বিশাল পরিসরে বিস্তৃত, তাই এটি একটি কাঠামোর আওতায় আনা অপরিহার্য।”

পত্রিকার প্রচারসংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক মনিটরিংয়ে দেখা গেছে অনেক পত্রিকা প্রতিদিন মাত্র ৫০০ থেকে ১,০০০ কপি ছাপায়।” তিনি আরও জানান, “সঠিক প্রচারসংখ্যা নির্ধারণ করে বিজ্ঞাপন হার দ্বিগুণ করা হবে, তবে মিথ্যা তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন সংস্থার কার্যপরিধি পুনর্নির্ধারণের কাজ চলছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে স্থায়ী কমিশন গঠন সম্ভব নয়।”

গুজব প্রতিরোধে তিনি সকল মিডিয়াকে নিজেদের ফ্যাক্ট-চেকিং টিম গঠন করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, “সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বজায় রাখতে হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে অনেক ওয়েবসাইট কপিরাইট লঙ্ঘন করে অন্যদের সংবাদ প্রচার করছে, যা বন্ধ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল
এসময় প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেসবুকে ভুয়া চাকরির ফাঁদে নতুন প্রতারণা

ফেসবুকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নতুন এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সাইবার অপরাধীরা। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে তারা ব্যবহারকারীদের ফেসবুক লগইন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সাবলাইম সিকিউরিটি

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হ্যাকরেড জানায়, প্রতারকরা এখন কেএফসি, রেড বুল ও ফেরারির মতো নামকরা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নামে চাকরির বিজ্ঞাপন ছড়াচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপন দেখতে আসল চাকরির বিজ্ঞাপনের মতো হলেও, বাস্তবে এগুলো সম্পূর্ণ ফিশিং ফাঁদ।

প্রথমে ভুক্তভোগীদের ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব পাঠানো হয়। ইমেইলে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যা অনেক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। সেখানে একটি লিংক দেওয়া থাকে, যেখানে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাওয়া হয় নকল নিরাপত্তা যাচাই পেজে। পরে সেটি রিডিরেক্ট করে এমন ওয়েবসাইটে পাঠানো হয় যা দেখতে চাকরির আসল প্ল্যাটফর্মের মতোই।

এই ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর ব্যবহারকারীকে বলা হয় ফেসবুক বা ইমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করতে। ফেসবুক লগইন অপশন বেছে নিলে দেখা যায় একটি লোডিং বার চলছে, কিন্তু শেষ হয় না কখনোই। এই সময়েই প্রতারকরা গোপনে ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে নেয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতারণা চেনার সহজ উপায় হলো—
অচেনা ইমেইল ঠিকানা থেকে আসা বার্তা, অস্বাভাবিক ওয়েবসাইট লিংক, এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সঙ্গে নাম বা ঠিকানায় অমিল। বিশেষ করে চাকরির বিজ্ঞাপনে দেওয়া লিংক যাচাই না করে লগইন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এর আগেও মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও গুগল ওয়ার্কস্পেস ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে একই কৌশলে প্রতারণা চালানো হয়েছিল। সেখানে গুগলের নামে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন—অচেনা ইমেইল বা লিংক থেকে প্রাপ্ত চাকরির বিজ্ঞাপন সরাসরি বিশ্বাস না করে প্রথমে কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করা উচিত। এছাড়া টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখলে অ্যাকাউন্ট অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আপনার হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষিত কি না যাচাই করার ৫টি সহজ উপায়

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আদান প্রদান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার না করা মানুষ কমই আছেন। তবে কি আপনি জানেন আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট কতটা নিরাপদ? কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে কি না, বা অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে এটি লিঙ্ক করা আছে কি না?

আপনার অ্যাকাউন্ট অন্য কারো হাতে গেলে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও বা কলের তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। নিচে সহজ কিছু ধাপ দেওয়া হলো যেগুলো অনুসরণ করে আপনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ কিনা তা যাচাই করতে পারেন—

১. লিঙ্কড ডিভাইস চেক করুন:
অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপে গিয়ে সেটিংসে যান। এরপর “লিঙ্কড ডিভাইস” অপশনে ক্লিক করুন। এখানে আপনি দেখতে পারবেন কোন ডিভাইস বা ব্রাউজার (যেমন: ক্রোম, এডজ, উইন্ডোজ) লগ ইন আছে কি না। কোনো অজানা ডিভাইস থাকলে তা সিলেক্ট করে লগ আউট করুন অথবা সব ডিভাইস থেকে একসাথে লগ আউট করতে পারেন।

২. হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব/ডেস্কটপ লগইন নোটিফিকেশন:
যদি কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে, তাহলে আপনার ফোনে একটি নোটিফিকেশন চলে আসবে। নিয়মিত ফোন চেক করে এই নোটিফিকেশন খেয়াল রাখুন।

৩. চ্যাট হিস্টোরিতে অজানা বার্তা:
আপনার চ্যাটে যদি এমন বার্তা আসে যা আপনি পাঠাননি, অথবা নতুন কোনো অজানা গ্রুপ তৈরি হয়েছে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।

৪. লাস্ট সিন মনিটর করুন:
আপনার পরিচিত বন্ধু বা আপনি নিজে অনলাইনে না থাকা সত্বেও যদি অ্যাকাউন্টে কার্যক্রম দেখা যায়, তাহলে এটি অন্য কারো ব্যবহার নির্দেশ করতে পারে।

৫. সিকিউরিটি কোড/এনক্রিপশন নোটিফিকেশন:
কেউ যদি আপনার এনক্রিপশন কোড পরিবর্তন করে, আপনি একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এটি সক্রিয় করতে গেলে সেটিংস > অ্যাকাউন্ট > সিকিউরিটি > “শো সিকিউরিটি নোটিফিকেশনস” এনেবল করুন।

এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই জানতে পারবেন, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ কিনা। সচেতন থাকা এবং নিয়মিত চেক করা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম