এআই রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগ, বিএমইউতে চালু আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এবং হাড় ও জোড়ার জটিল সমস্যায় ভোগা রোগীদের উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।
চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবটিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম
৫৭টি রোবটের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। এসব এআই রোবট নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্ট্রোক ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সেন্টারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’ (ZEPU AI1 & AI9) নামের গেইট ট্রেনিং রোবট। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘জিপু এআই-২’ (ZEPU AI2) ও ‘জিপু এআই-৩’ (ZEPU AI3)। এছাড়া মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম ‘জিপু এআই-৪’ (ZEPU AI4)-সহ আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবট রোগীদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত ভঙ্গিতে চলাফেরা অনুশীলনে সহায়তা করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টারটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ
জ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ
এ শাকুর জানান, এই সেন্টারে মোট ৬২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৭টি রোবটিক ডিভাইস এবং পাঁচটি বিশেষ ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।
প্রাপ্ত জনবল পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।
এই সেন্টার থেকে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়বিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসাসে

বা প্রদানের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগা বহু মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার জায়গা। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
এছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনে চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবেন।
বিএমইউ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগীরাও নামমাত্র খরচে এই আধুনিক সেবা নিতে পারবেন। ফলে স্নায়ু, হাড় ও জোড়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে আর বিদেশমুখী হতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








