ব্লুস্কাইয়ে ঝুঁকছে ব্যবহারকারীরা

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স ছেড়ে ক্রমেই ব্লুস্কাইয়ে যোগ দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। বিশেষত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এক্সের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা অভিযোগ তুলেছেন, ইলন মাস্কের এক্সে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ‘অতিরিক্ত’ প্রচারণা চালানো হয়, যা প্ল্যাটফর্মটির নিরপেক্ষতায় প্রশ্ন তুলেছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীরা ব্লুস্কাইয়ের মতো বিকেন্দ্রীকৃত সামাজিক মাধ্যমে ঝুঁকছেন। জ্যাক ডরসির প্রতিষ্ঠিত ব্লুস্কাই, যা ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমানে ১৯ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ জেরেমি করবিন ও ড্যারেন জোনসের মতো ব্যক্তিত্ব।

তবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার ব্লুস্কাইয়ে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। জি-২০ সামিটে তিনি জানান, সরকার বা ব্যক্তিগতভাবে তার ব্লুস্কাইয়ে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং এক্সেই থাকবেন, কারণ সর্বোচ্চ মানুষের কাছে পৌঁছানো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লুস্কাইয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিকেন্দ্রীকৃত, অর্থাৎ এটি কোনো একক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, বরং স্বাধীন সার্ভার দ্বারা পরিচালিত। এ বৈশিষ্ট্য একে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের তুলনায় ভিন্ন করে তুলেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গুগলের নতুন এআই টুল: স্প্যাম কল ঠেকাতে দারুণ উদ্যোগ

বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে গুগল শুধু সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যবহারকারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফিচার এনে সেবাকে আরও উন্নত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এবার গুগল নিয়ে আসছে একটি এআই-চালিত স্প্যাম ডিটেকশন টুল, যা ব্যবহারকারীদের স্প্যাম কল এবং মেসেজের বিরক্তি থেকে মুক্তি দেবে।

সারাবিশ্বে স্প্যাম কল এবং মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে আর্থিক ক্ষতিসহ নানা সমস্যার মূল কারণ এই স্প্যাম। গুগল এবার এই সমস্যার সমাধানে এক নতুন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।

গুগল স্প্যাম এবং ডেঞ্জারাস অ্যাপ অ্যালার্ট টুল:
গুগলের নতুন টুলের নাম “গুগল স্প্যাম এবং ডেঞ্জারাস অ্যাপ অ্যালার্ট টুল”। এটি গুগলের পিক্সেল ফোনের সাথে প্রি-ইনস্টল করা ফোন অ্যাপে কাজ করবে। এই টুলটি এআই এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলের ঝুঁকি নির্ধারণ করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে।

কীভাবে কাজ করবে এই টুল?

১. ঝুঁকিপূর্ণ কল শনাক্ত:
এআই টেকনোলজি ব্যবহার করে ইনকামিং কল বিশ্লেষণ করবে এবং সম্ভাব্য স্ক্যাম বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করবে।

২. লাইভ সতর্কতা:
কল আসার সময় স্ক্রিনে “লাইকলি স্ক্যাম” বা “সাস্পিশিয়াস অ্যাক্টিভিটি ডিটেক্টেড ফর দিজ কল” লেবেল দেখাবে। ব্যবহারকারী চাইলে কলটি কেটে দিতে পারবেন অথবা এটি “নট অ্যা স্প্যাম” হিসেবে মার্ক করতে পারবেন।

৩. কলারের কথার বিশ্লেষণ:
মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলারের কথোপকথন শুনে এটি প্রতারক কি না তা চিহ্নিত করবে।

অ্যাপ নজরদারি:
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু কল নয়, ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপগুলোর কার্যকলাপের উপরও নজরদারি চালাবে গুগল। এতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।

কেন এটি ব্যতিক্রম?

অন্যান্য স্প্যাম ডিটেকশন অ্যাপ থেকে গুগলের এই টুল আলাদা কারণ এটি ইনকামিং কল বিশ্লেষণ ছাড়াও কলারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে প্রতারণা শনাক্ত করতে সক্ষম।

গুগলের এই পদক্ষেপ ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনে আরও স্বস্তি এনে দেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে বাইক ভালো রাখতে এখনই করণীয়

নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এসে রাতের ঠান্ডা জানান দিচ্ছে, শীত একেবারেই দরজায় কড়া নাড়ছে। শীতে বাইক চালকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়, বিশেষ করে সকালে বাইক স্টার্ট নিতে গড়িমসি করে। এ কারণে আগে থেকেই বাইকের সঠিক যত্ন ও সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক যত্ন নিলে বাইকের কর্মক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনই এর স্থায়িত্বও দীর্ঘ হবে।

বাইকের সঠিক প্রস্তুতির জন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। চলুন, দেখে নেওয়া যাক শীতের আগে বাইকের কী কী যত্ন নেওয়া উচিত—

১. বাইকের তেল পরিবর্তন করুন:
ইঞ্জিনের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন করতে হবে। শীতকালে তেল ঘন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। বাইকের ম্যানুয়াল অনুযায়ী তেল পরিবর্তন করুন। এটি ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।

২. ব্যাটারি পরীক্ষা করুন:
শীতে ব্যাটারি কম শক্তি উৎপন্ন করে। বিশেষ করে পুরনো ব্যাটারি থাকলে এটি দ্রুত কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। তাই ব্যাটারি চার্জিং পরীক্ষা করা এবং সংযোগ ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে নতুন ব্যাটারি ব্যবহার করুন।

৩. টায়ার চেক করুন:
শীতকালে সড়কপথে কুয়াশা, পানি বা বরফের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। টায়ারের চাপ সঠিক আছে কি না এবং এর গভীরতা পর্যাপ্ত কিনা তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে শীতকালীন টায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

৪. ব্রেক সিস্টেম পরীক্ষা করুন:
ব্রেকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা শীতকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক প্যাড এবং ব্রেক তেলের অবস্থা যাচাই করুন। ব্রেক টেস্ট করে নিশ্চিত করুন যে এটি যথাযথভাবে কাজ করছে। কোনো সমস্যা থাকলে দ্রুত মেরামত করুন।

৫. ফিল্টার পরিষ্কার করুন:
এয়ার ফিল্টার ও ফুয়েল ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন। শীতে ধুলাবালির পরিমাণ কম থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ময়লা জমে ফিল্টার নষ্ট হতে পারে। প্রয়োজনে ফিল্টার পরিবর্তন করুন।

৬. লাইট পরীক্ষা করুন:
শীতকালে সন্ধ্যা দ্রুত নামায় হেডলাইট ও টার্ন সিগন্যাল লাইটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো লাইট কাজ না করলে দ্রুত তা প্রতিস্থাপন করুন।

৭. চেইন ও কেবল পরিষ্কার করুন:
চেইন এবং কেবলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন। নিয়মিত চেইনে তেল প্রয়োগ করলে তা মসৃণভাবে কাজ করবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

৮. ফেন্ডার ও ওয়াশার পরিষ্কার রাখুন:
ফেন্ডার ও ওয়াশার পরিষ্কার রাখলে বাইকের বিভিন্ন অংশ পানি ও বরফ থেকে সুরক্ষিত থাকে। এতে বাইক ভালো অবস্থায় থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে মেরামতের প্রয়োজন কমে।

শীতকালের প্রতিকূল পরিবেশেও সঠিক যত্নে বাইক রাখুন কর্মক্ষম ও সুরক্ষিত। এখনই বাইক সার্ভিসিং করিয়ে নিন এবং নিশ্চিন্তে শীতের দিন উপভোগ করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মহাকাশে ভারতের নতুন অধ্যায়: উৎক্ষেপিত হলো জিস্যাট-২০

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তৈরি অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ ‘জিস্যাট-২০’ সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভারতীয় সময় সোমবার (১৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। মাত্র ৩৪ মিনিটে ৪ হাজার ৭০০ কেজি ওজনের এ স্যাটেলাইট নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছায়। এটি ভারতের গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা এবং আকাশপথে ইন্টারনেট সেবা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণন দুরাইরাজ জানান, উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। স্যাটেলাইটটি এখন নির্ধারিত কক্ষপথে কার্যকর রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইসরোর এ উপগ্রহ ১৪ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সক্ষম। বিশেষ করে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং বিমানযাত্রীদের দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে ইসরো একাধিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলেও এ প্রকল্পটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। জিস্যাট-২০-এর ওজন অনেক বেশি হওয়ায় স্পেসএক্সের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটিই ইসরো এবং স্পেসএক্সের মধ্যে প্রথম যৌথ উৎক্ষেপণ।

কেপ ক্যানাভেরালের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স ৪০ থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এ অঞ্চলটি বর্তমানে স্পেসএক্সের ব্যবহারে রয়েছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



বিরল সামুদ্রিক কৃমির পুনরাবিষ্কার: ৭০ বছর পর বিজ্ঞানীদের সাফল্য

প্রায় ৭০ বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া একটি বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক কৃমির খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি স্কুবা ডাইভারদের তোলা কিছু ছবির ভিত্তিতে এই কৃমির অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে জাপানের উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রবালের কলোনিতে কৃমির উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা।

বিরল এই সামুদ্রিক কৃমিটির নাম ‘হাপলোসিলিস অ্যান্থোগোর্জিকোলা’, যা এক ধরনের পলিকীট বা ব্রিসল ওয়ার্ম। এটি শাখাবিশিষ্ট গরগোনিয়ান প্রবালে বসবাস করে এবং প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে প্রায় ১৫টি কৃমি পাওয়া যায়। এর গড় আকার মাত্র ৬ মিলিমিটার বা ০.২৪ ইঞ্চি।

এই কৃমি প্রথমবার ১৯৫৬ সালে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী হুজিও উতিনোমো দ্বারা শনাক্ত হয়। তবে এরপর থেকে এটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং ওকিনাওয়া ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ছাত্রী ক্লোয়ে ফোরো জানান, “এই কৃমিগুলো খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন, কারণ এদের আকার ছোট এবং প্রায় স্বচ্ছ। ফলে পানির নিচে এদের দেখা অসম্ভব হয়ে ওঠে।”

গবেষকরা যখন প্রবাল সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করেন, তখন অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি কৃমির উপস্থিতি শনাক্ত করেন। এ আবিষ্কার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর খসড়া নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণে জনগণের মতামত চায় বিটিআরসি

দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) খসড়া নির্দেশিকা চূড়ান্ত করতে জনগণের মতামত আহ্বান করেছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন।

বিটিআরসি সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে ‘এনজিএসও স্যাটেলাইট পরিষেবা’ পরিচালনার জন্য একটি খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকাটি চূড়ান্ত করতে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে মতামত চেয়েছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, ইলন মাস্কের স্টারলিংক সহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হতে পারে। এই পদক্ষেপটি ডিজিটাল বিভাজন দূর করে গ্রামীণ এলাকাগুলোর সেতুবন্ধনকে সহজতর করবে।

বিটিআরসির খসড়া অনুযায়ী, ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্ম নিবন্ধক’-এর অধীনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো এনজিএসও স্যাটেলাইট সিস্টেমের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে। এতে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ বা অনাবাসী বাংলাদেশির বিনিয়োগের সুযোগও রয়েছে।

লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা, অধিগ্রহণ ফি ১০ হাজার ডলার এবং বার্ষিক ফি ৫০ হাজার ডলার। এর পাশাপাশি বার্ষিক স্টেশন ফি ২০ ডলার। এছাড়া লাইসেন্সধারীদের বছরে মোট রাজস্বের ৫.৫ শতাংশ এবং মহাকাশ খাতে উন্নয়ন ফান্ডে আরও ১ শতাংশ জমা দিতে হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইন্ট্রানেট, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), রিমোট সেন্সিং ও আবহাওয়া সংক্রান্ত সেবা প্রদান করতে পারবে লাইসেন্সধারীরা। তবে সরাসরি-টু-হোম (ডিটিএইচ) পরিষেবা, সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের অনুমোদন নেই।

দেশের মোবাইল অপারেটরসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট কর্মকর্তা শাহেদ আলম বলেন, ‘দেশের ডেটা সেবায় বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।’

বাংলালিংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান তৈমুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগে জনমত নেওয়ার বিষয়টি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।’ গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন্স শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ‘দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) বলেছে, দেশের জন্য উপযুক্ত হলে তারা সবসময় নতুন প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু হলে, ব্যাকহোলিং থেকে শুরু করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এ প্রক্রিয়াটি সফল হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ড্রাফটস ফিচার: অসমাপ্ত বার্তা আর হারাবে না

জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এলো নতুন ড্রাফটস ফিচার, যা ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে খসড়া বার্তা সেভ করার সুযোগ দেবে। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই ফিচারটি আগে থেকেই চালু থাকলেও, হোয়াটসঅ্যাপে এবারই প্রথমবারের মতো এটি যুক্ত করা হলো।

ড্রাফট ফিচার কিভাবে কাজ করে?
অনেক সময় আমরা মেসেজ টাইপ করে ফেলি কিন্তু তা পাঠানো হয় না। নতুন ড্রাফটস ফিচারের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসমাপ্ত মেসেজগুলো সেভ করবে। ই-মেইলের মতোই সেগুলো ড্রাফট হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। চ্যাট লিস্টে সবুজ রঙের ড্রাফট লেবেল যুক্ত হওয়ায় ব্যবহারকারী সহজেই অসমাপ্ত মেসেজগুলো শনাক্ত করতে পারবেন। এরপর চাইলে সেই বার্তাটি সম্পূর্ণ করে নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠানো যাবে।

নতুন প্রোগ্রাম ও কাস্টম লিস্ট ফিচার
এছাড়াও, হোয়াটসঅ্যাপে নতুন একটি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যেকোনো ডিভাইস থেকে সহজেই কন্টাক্ট অ্যাড করা যাবে। পাশাপাশি, আলাদা আলাদা কথোপকথন ট্র্যাক করার জন্য কাস্টম লিস্ট তৈরির সুযোগও যুক্ত হয়েছে। এই ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য যোগাযোগ আরও সহজ করে তুলবে।

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ড্রাফটস ফিচার ব্যবহারকারীদের সময় বাঁচাবে এবং অসমাপ্ত বার্তা সংরক্ষণে সহায়ক হবে। এতে যোগাযোগ হবে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শীতে হিটার ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ উপায়

শীতকালে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে ঘরে হিটার ব্যবহার একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু আরাম পেলেও হিটার ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে, এই খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব। আসুন জেনে নেই হিটার ব্যবহারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কিছু কার্যকর উপায়:

সঠিক তাপমাত্রায় হিটার ব্যবহার করুন
হিটার চালানোর সময় তাপমাত্রা ২০-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। এভাবে ঘরটি যথেষ্ট উষ্ণ থাকবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হবে না। তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়িয়ে রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

টাইমার ব্যবহার করুন
হিটার চালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাইমার সেট করুন। রাতে ঘুমানোর সময় বা যখন ঘরে কেউ নেই, তখন হিটার বন্ধ রাখতে পারেন। এতে বিদ্যুৎ বিল কমবে এবং ঘরটিও তাপ ধরে রাখতে পারবে।

ঘরের তাপ রক্ষা করুন
জানালা, দরজার ফাঁকফোকরগুলো সঠিকভাবে বন্ধ রাখুন। এতে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে পারবে না। ঘরের দেয়ালে ফেনসিড বা ফ্ল্যাপ টেপ ব্যবহার করুন, যা তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। কম্বলের ব্যবহারও বাড়িয়ে দিতে পারেন।

শক্তি সাশ্রয়ী হিটার বেছে নিন
বাজারে বিভিন্ন ধরনের হিটার পাওয়া যায়। ইনফ্রারেড হিটার তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, কারণ এটি সরাসরি নির্দিষ্ট স্থানে তাপ সরবরাহ করে। ফলে পুরো ঘর গরম করতে হয় না, যা বিদ্যুৎ খরচ কমায়।

শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ঘরে হিটার ব্যবহার করুন
একাধিক ঘরে একসাথে হিটার ব্যবহার না করে কেবল প্রয়োজনীয় ঘরেই হিটার চালু রাখুন। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং গরমও ভালোভাবে অনুভব করবেন।

ইনসুলেশন ব্যবহার করুন
কাচের জানালা বা দেয়াল দিয়ে তাপ বেরিয়ে যেতে পারে, তাই বিশেষ তাপ নিরোধক কাচ বা ইনসুলেশন উপকরণ ব্যবহার করুন। এটি ঘরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

ফ্যান বা ভেন্টিলেটর ব্যবহার করুন
হিটারের কাছাকাছি একটি ফ্যান চালু করলে তাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং ঘরটি তাড়াতাড়ি গরম হবে। এতে হিটারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে।

নিয়মিত হিটার পরিষ্কার রাখুন
হিটার বা যেকোনো তাপ উৎপাদক ডিভাইস পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ময়লা জমে থাকলে হিটারের কার্যকারিতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত হিটার পরিষ্কার করুন।

শীতকালে হিটার ব্যবহারে কিছু কৌশল মেনে চললে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও যত্ন নেওয়া হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং আরামদায়ক উষ্ণতা পাওয়া যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ডিজিটাল প্রতারণার হুমকি: বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চুরি!

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। তবে, এই প্ল্যাটফর্মটিও প্রতারণার শিকার হচ্ছে, কারণ সাইবার অপরাধীরা নতুন নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে থাকে। সম্প্রতি এক নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চুরি করছে।

একদিন সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপ খুললে, একটি মেসেজ নজরে আসে। মেসেজটি একটি বিলাসবহুল বাগানের ছবি সহ একটি বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র ছিল। এভাবে একটি নিমন্ত্রণপত্র দেখে খুশি হয়ে যান আপনি, এবং মেসেজের সাথে দেয়া লিঙ্কটিও আপনাকে আকর্ষণ করে। লিঙ্কটিতে ক্লিক করার জন্য বলা হয়েছিল, “নিমন্ত্রণপত্র প্রাপ্তির জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।” নিমন্ত্রণপত্রটি দেখার উত্তেজনায় আপনি তৎক্ষণাৎ লিঙ্কে ক্লিক করলেন।

কিছু সময়ের মধ্যে একটি নতুন পেজ খুলে, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য এবং এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তখনই আপনি বুঝতে পারেন না যে, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি এখন হ্যাকারদের কবলে পড়েছে।

এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা দ্রুত নিজেদের সুবিধা হাসিল করছে, এবং এভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নানা ভুয়া বিয়ের নিমন্ত্রণ পাঠানো হচ্ছে। ভারতের হিমাচল প্রদেশ সাইবার পুলিশ এই ধরনের অনেক অভিযোগ পেয়েছে এবং সতর্ক করেছে, এমন মেসেজ বা লিঙ্কে কখনও ক্লিক না করার জন্য।

সাইবার অপরাধীরা আরও বলেছে, “এই ধরনের লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করলে আপনার যাবতীয় সঞ্চয় শেষ হয়ে যেতে পারে।” তাই ভবিষ্যতে যদি এমন কোনো সন্দেহজনক লিঙ্ক আসে, তবে তা অবিলম্বে এড়িয়ে চলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে ৮৪ কোটি ডলারের জরিমানা

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৭৯ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ইউরো (৮৪ কোটি ডলার) জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোম্পানিটি ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষেবায় ব্যবহারকারীদের স্বয়ংক্রিয় প্রবেশাধিকার দেয়ার মাধ্যমে একচেটিয়া ব্যবসা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেটা তার অনলাইন শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষেবা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসকে ফেসবুকের সাথে যুক্ত করেছে এবং একই সাথে অন্য অনলাইন শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষেবা প্রদানকারীদের উপর অন্যায্য শর্ত আরোপ করেছে। এটি বিশ্বাস-বিরোধী আইন (অ্যান্টি ট্রাস্ট রুল) লঙ্ঘন। এই অপব্যবহারের কারণে মেটার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা চাইলে বা না চাইলে তাদের কাছে ফেসবুকের মার্কেটপ্লেস নিয়মিত প্রদর্শিত হয়, যা ফেসবুককে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়, কিন্তু অন্যান্য বিজ্ঞাপন পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য তা সম্ভব নয়। এর ফলে অন্যান্য অনলাইন শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন পরিষেবা ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এই জরিমানার প্রসঙ্গে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিযোগিতা নীতির দায়িত্বে থাকা এগজিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট মার্গ্রেথ ভেস্টেগার বলেছেন, “মেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রাধান্য এবং বিজ্ঞাপনী সুবিধা গ্রহণের জন্য এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম