স্পটিফাইয়ে আপত্তিকর ভিডিওর উপস্থিতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

বিশ্ববিখ্যাত সংগীত স্ট্রিমিং সেবা প্রদানকারী অ্যাপ স্পটিফাই সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, স্পটিফাইয়ে একটি গায়িকার নাম সার্চ করার পর মোবাইল স্ক্রীনে ভেসে ওঠে একাধিক অপশন, যার মধ্যে ছিল আপত্তিকর ভিডিও।

এ ব্যাপারে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক অভিযোগকারী র‌্যাপার মিয়া নামটি সার্চ করেছিলেন। এরপর, তার জন্য সাজেস্ট করা অপশনের মধ্যে উঠে আসে আপত্তিকর ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনার পর অভিযোগকারী সামাজিক মিডিয়ায় বিষয়টি পোস্ট করেন, তবে স্পটিফাই কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একই ধরনের ঘটনা পূর্বেও ঘটেছিল, যেখানে স্পটিফাইয়ে আপত্তিকর অডিও ক্লিপ এবং ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। যদিও, এসব ভিডিও কারা আপলোড করেছে, তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অ্যাকাউন্টের ভিন্ন ভিন্ন ইউজারের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, স্পটিফাই ২০০৮ সালে সুইডেনের স্টকহোমে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। এটি ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ধরনের গান, অ্যালবাম, প্লেলিস্ট এবং পডকাস্ট শোনার সুবিধা প্রদান করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরে সাইবার আক্রমণ, চীনের হ্যাকারদের সন্দেহ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের সিস্টেমে সাইবার আক্রমণ ঘটেছে, এবং এই আক্রমণের পেছনে চীনের হ্যাকারদের হাত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। গত মাসের শুরুতে হ্যাকাররা এই আক্রমণ চালায় এবং এখন মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা অর্থ দপ্তরের কর্মীদের কম্পিউটারে নজরদারি করেছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই আক্রমণ মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, চীনা সরকারের সহায়তায় হ্যাকাররা এই আক্রমণ চালিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে তারা অর্থ দপ্তরের কর্মীদের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ক্লাউড-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা সিস্টেমে প্রবেশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি ও মার্কিন অর্থনৈতিক কাঠামোর গোপন তথ্য চুরি হয়ে থাকতে পারে। যদিও মার্কিন প্রশাসন এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ৮ ডিসেম্বর সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থা ‘বিয়ন্ডট্রাস্ট’ আমেরিকার অর্থ দপ্তরকে এই হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দেয়। এর পরপরই মার্কিন প্রশাসন সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং সিআইএসএ ও এফবিআইকে বিষয়টি জানানো হয়।

মার্কিন অর্থ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলার দ্বিতীয় চেষ্টা তারা সফলভাবে ঠেকাতে পেরেছেন, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই সাইবার হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি দেশের নয়, বরং পুরো বিশ্বের সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় সংকেত হিসেবে কাজ করছে। যদিও চীনের সরকার এই ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার: স্বাস্থ্য সমস্যা ও সমাধান

বর্তমানে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ, শপিং, টিকিট কেনা থেকে শুরু করে সিনেমা দেখা, সব কিছুই আমরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে করতে পারি। তবে এই সুবিধাগুলোর পাশাপাশি, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য নানা ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে, শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে, এবং এটি ব্রেনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আরও এক গবেষণায় স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আম আদমির বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সারা শরীরে ব্যথার সৃষ্টি করছে, যা কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ভারত ও বাংলাদেশের ৩২৬ জন শিক্ষার্থীর উপর করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩০ বছরের বয়সী বেশিরভাগই মোবাইল আসক্ত। এসব শিক্ষার্থীরা ঘাড়, কাঁধ, কনুই এবং হাতের ব্যথায় ভুগছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘মাসকিউলার স্কেলেটাল পেইন’ নামে পরিচিত। গবেষকদের মতে, মোবাইল ফোন ভুলভাবে ধরে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করেই এসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ৪৩.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘাড়ের সমস্যা, ৪২.৯ শতাংশ কাঁধে ব্যথা, এবং ২৭.৯ শতাংশ কনুইয়ের সমস্যা নিয়ে ভুগছে। ৬৯.২ শতাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে আসক্ত। বিশেষজ্ঞরা জানান, মোবাইল ফোনে স্ক্রলিং করার সময় দুটো হাতের বুড়ো আঙুল ব্যবহার করা উচিত, এবং মাথা সোজা রেখে মোবাইল চোখের লেভেলে রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

1. মোবাইল ধরার সঠিক পদ্ধতি: মোবাইল সব সময় চোখের লেভেলে ধরে রাখুন এবং মাথা সোজা রাখুন। এতে কাঁধ, পিঠের ব্যথা অনেক কমে যাবে।

2. লম্বা সময় কল নেওয়ার ক্ষেত্রে: ফোনকে কান এবং মুখের কাছাকাছি রাখুন, এবং দীর্ঘ সময়ের কলের মাঝে বিশ্রাম নিন। হেডফোন ব্যবহার করা উচিত।

3. টাইপ করার সময়: এক হাতে টাইপ না করে, দুই হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে টাইপ করুন। এতে হাতের ব্যথা কমে যাবে।

4. চোখের জন্য ব্যবস্থাপনা: প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চোখের দৃষ্টি স্ক্রীন থেকে সরিয়ে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোন বস্তু দেখুন। এতে চোখের ব্যথা এবং অন্যান্য ব্যথা কমে যাবে।

 

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অফথ্যামোলজির মতে, এই ধরনের বিশ্রাম চোখকে আরাম দেয় এবং তার কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইনস্টাগ্রামে এআই প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়

বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। কোটি কোটি ব্যবহারকারী এখানে নিজেদের ছবি, ভিডিও এবং রিলস শেয়ার করেন। এবার ইনস্টাগ্রাম নিয়ে এলো এক অভিনব এআই টুল, যা ব্যবহারকারীদের ভিডিও এডিটিংয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি সম্প্রতি এই নতুন ফিচার প্রদর্শন করেছেন। এই টুলের মাধ্যমে মাত্র একটি কমান্ডের সাহায্যে ভিডিওতে নিজের পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, এমনকি গয়নাও বদলে ফেলা যাবে। ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দমতো বিষয় লিখে দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এডিট হয়ে যাবে ভিডিও।

মেটার এই টুলটি অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। এটি ভিডিওতে মোশন এবং আইডেন্টিটির উপর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। এর আগে অ্যাডোবের ফায়ারফ্লাই এবং ওপেন এআইয়ের সোরা একইরকম এডিটিং টুল বাজারে এনেছিল, তবে মেটা দাবি করছে তাদের প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে।

ইনস্টাগ্রামের এই নতুন ফিচার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিডিও সম্পাদনাকে আরও সহজ এবং দ্রুততর করে তুলবে। ভিডিও নির্মাণে যারা নতুন, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্মার্টফোনের ব্যাটারি চার্জিংয়ের সঠিক পদ্ধতি

স্মার্টফোন এখন জীবনের অপরিহার্য অংশ। যোগাযোগ, শপিং, টিকিট বুকিং, সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে সব কিছুই সম্ভব একটি স্মার্টফোনে। ফলে দিনের বড় অংশটাই কেটে যায় স্মার্টফোন নিয়ে। এজন্য ফোনের ব্যাটারি সঠিকভাবে চার্জ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কেন ১০০% চার্জে ক্ষতি হয়?

সাধারণত ফোনের ব্যাটারি লিথিয়াম আয়ন দিয়ে তৈরি। এই ধরনের ব্যাটারি ৩০-৫০% চার্জে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে, যদি সবসময় ১০০% পর্যন্ত চার্জ দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়।

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির জীবনকাল সাধারণত ২-৩ বছর। একটি ব্যাটারিতে ৩০০ থেকে ৫০০ চার্জিং সাইকেল থাকে, যা শূন্য থেকে ১০০% চার্জ করার পর গণনা করা হয়। এ কারণে ১০০% চার্জ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যাটারি ৮০-৮৫% পর্যন্ত চার্জ করাই সর্বোত্তম।

ব্যাটারি চার্জের সেরা পদ্ধতি

১. ব্যাটারি ২০% বা তার নিচে নামার আগেই চার্জ দেওয়া শুরু করুন।
২. ৮০-৮৫% চার্জ হওয়ার পর চার্জ বন্ধ করুন।
৩. ফোনের চার্জ ০% বা ১০০% অবস্থায় রাখা থেকে বিরত থাকুন।
৪. দীর্ঘ সময় ফোন চার্জারে সংযুক্ত রাখবেন না।

বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি

ব্যাটারি সঠিকভাবে চার্জ করলে তার আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হয় এবং কর্মক্ষমতা বজায় থাকে। ব্যাটারির চার্জ মধ্যম পরিসরে রাখলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সঠিক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো ‘চ্যাট উইথ আস’ ফিচার

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দিতে নিয়ে এসেছে নতুন ফিচার ‘চ্যাট উইথ আস’। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি এআই বা মানব প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপে প্রথমবার হিউম্যান সাপোর্ট

এর আগে হোয়াটসঅ্যাপ কাস্টমার কেয়ারের কোনো সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখেনি। ব্যবহারকারীরা সমস্যার সম্মুখীন হলে ‘ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চেন’ (এফএকিউ) সেকশনে গিয়ে সমাধান খুঁজতে হতো। সমস্যার সমাধান না মিললেও, প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না। তবে এবার ‘চ্যাট উইথ আস’ ফিচারের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

‘চ্যাট উইথ আস’ কীভাবে কাজ করবে?

1. এআই-চালিত চ্যাটবট: ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপের ‘হেল্প’ অপশনে গিয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে তাদের সমস্যার কথা লিখতে পারবেন। এআই চ্যাটবট দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবে।

2. মানব প্রতিনিধি: যদি চ্যাটবট সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, ব্যবহারকারী সরাসরি একজন হিউম্যান প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ জানাতে পারবেন। অনুমোদন পেলে হোয়াটসঅ্যাপ সাপোর্ট টিম থেকে যোগাযোগ করা হবে।

 

মোবাইল এবং ওয়েব উভয়েই ফিচারটি সক্রিয়

এই নতুন ফিচারটি হোয়াটসঅ্যাপের মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব ভার্সন উভয় প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা ‘হেল্প’ অপশনে গিয়ে সহজেই ফিচারটি অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বন্ধ হবে যেসব ফোনে

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে বড় বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছেন কিছু ব্যবহারকারী। মেটা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বেশকিছু পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করা বন্ধ করে দেবে। এই পরিবর্তন প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

কোন ফোনগুলোতে বন্ধ হবে?

মেটার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব ফোনে অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট বা তার আগের অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে, সেগুলোতে এই পরিষেবা বন্ধ হবে। এসব ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে ব্যবহারকারীদের নতুন অপারেটিং সিস্টেমে আপগ্রেড করা আবশ্যক।

বেশিরভাগ পুরোনো ফোনে এই বাধার মুখে পড়তে হবে। উল্লেখযোগ্য মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

স্যামসাং: গ্যালাক্সি এস৩, নোট ২, এস৪ মিনি

মটোরোলা: মটো জি (প্রথম জেনারেশন), মটো ই ২০১৪

এইচটিসি: ওয়ান এক্স, ওয়ান এক্স+, ডেজায়ার ৫০০

এলজি: অপ্টিমাস জি, নেক্সাস ৪, জি২ মিনি

সনি: এক্সপেরিয়া জেড, এসপি, ভি

কেন এই পরিবর্তন?

মেটার মতে, পুরোনো ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। একইসঙ্গে, এই ফোনগুলোতে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং সুরক্ষার অভাব রয়েছে। নতুন ফিচার এবং উন্নত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবহারকারীদের করণীয়

যারা এই সমস্যার মুখে পড়বেন, তাদের নতুন স্মার্টফোনে আপগ্রেড করতে হবে। অন্যথায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নতুন নীতিমালায় টেলিযোগাযোগ খাতে অস্থিরতার শঙ্কা

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, যার নাম “ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং গাইডলাইন”। এই নীতিমালার প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি টেলিযোগাযোগ খাতে একতরফা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।

নতুন গাইডলাইন অনুসারে মোবাইল অপারেটরদের নিজস্ব ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক নির্মাণ ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের হাতে ইন্টারনেটের পুরো বাজার চলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দেশে ইন্টারনেট সেবার দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশীয় আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

২০০৮ সালের আগেও দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি মোবাইল অপারেটরের একক আধিপত্য ছিল। তখন সার্কিট ট্রান্সমিশন ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহে প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অর্থ গুণতে বাধ্য হতো। কিন্তু এনটিটিএন নীতিমালার আওতায় ফাইবার অ্যাট হোম ও সামিট কমিউনিকেশনসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর আবির্ভাবের পর সেবার দাম কমে আসে।

তবে নতুন গাইডলাইনের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের আরও ক্ষমতাশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং টেলিযোগাযোগ খাতে অস্থিরতা বাড়বে।

বিটিআরসি গত ১৮ ডিসেম্বর এই গাইডলাইনের খসড়া প্রকাশ করে। এটি অনুমোদনের জন্য ২৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যমান এনটিটিএন নীতিমালার সামান্য সংশোধনই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু তা না করে নতুন গাইডলাইন তৈরির পেছনে কী উদ্দেশ্য, তা বোধগম্য নয়।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার মনে করেন, বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন করলেই টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন সম্ভব হতো। অথচ নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন শুধু অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

টেলিযোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, এই গাইডলাইন অনুমোদিত হলে গত ১৫ বছরের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট হবে। স্থানীয় আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা কঠিন হবে এবং মোবাইল অপারেটরদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মোবাইল অপারেটরদের আরও ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেটের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সেবাও বিঘ্নিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তড়িঘড়ি করে এই গাইডলাইন অনুমোদন না করে বিদ্যমান নীতিমালার ওপর আরও কাজ করা উচিত। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো টিকতে পারবে এবং টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হবে যেসব ফোনে

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ আগামী বছরের শুরুতে কিছু ফোনে আর ব্যবহার করা যাবে না। মূলত পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম, ফোনের হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন ফিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা।

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, যেসব ফোনে অ্যান্ড্রয়েড কিটক্যাট (Android 4.4) বা তার আগের অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে, সেসব ফোনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। এই তালিকায় রয়েছে স্যামসাং, এলজি, সোনি এবং মোটোরোলার মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের কয়েকটি মডেল।

হোয়াটসঅ্যাপ সেবা হারাবে যে ফোনগুলো

স্যামসাং:

Galaxy S3

Galaxy Note 2

Galaxy Ace 3

Galaxy S4 Mini

মোটোরোলা:

Moto G (1st Gen)

Razr HD

Moto E 2014

এইচটিসি:

One X

One X+

Desire 500

Desire 601

এলজি:

Optimus G

Nexus 4

G2 Mini

L90

সনি:

Xperia Z

Xperia SP

Xperia T

Xperia V

কেন বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ?

হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য অ্যাপের নির্মাতারা নিয়মিত নতুন ফিচার ও নিরাপত্তা আপডেট নিয়ে আসে। তবে পুরোনো ফোনগুলোতে এসব ফিচার সাপোর্ট করার মতো পর্যাপ্ত হার্ডওয়ার সুবিধা থাকে না। সেই কারণে, পুরোনো মডেলের ফোনে অ্যাপগুলো ব্যবহার করা বন্ধ হয়ে যায়।

এই ধরনের সিদ্ধান্ত মূলত ইউজারদের উন্নত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়। নতুন ফিচার ব্যবহার এবং ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সব ব্যবহারকারীকে তাদের ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এআই গডফাদারের ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক জিওফ্রে হিন্টন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দশকের মধ্যে মানব জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

এআই প্রযুক্তি তৈরিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে দুঃখও প্রকাশ করেছেন চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া অধ্যাপক হিন্টন। তিনি এর দ্রুত বিকাশকে শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ (আমাদের) নিয়ে নিতে পারে। আমার ধারণার চেয়েও দ্রুত এই প্রযুক্তি বিকশিত হচ্ছে।’

৭৭ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে হিন্টন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিন দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির পতনের কারণ হতে পারে, এমন সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ।

তবে তিনি সেই সম্ভাবনাকে আরও বেশি এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ প্রোগ্রামে তিনি এখন বলছেন, ‘আসলে তা নয়। আমার মনে হয় ১০ থেকে ২০ বছর! কেননা আমাদের আগে কখনো নিজের চেয়ে বুদ্ধিমান জিনিসগুলোর সাথে মোকাবিলা করতে হয়নি।’

‘আপনি কয়টি উদাহরণ জানেন যে, বেশি বুদ্ধিমান জিনিস কম বুদ্ধিমান জিনিস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? উদাহরণ খুব কমই আছে।’

১৯৮০-এর দশকে অধ্যাপক হিন্টন এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটার বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করতে পারে এবং ছবিতে নির্দিষ্ট উপাদান সনাক্ত করতে পারে। এটি মূলত আধুনিক এআইয়ের ভিত্তি ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি শিল্প বিপ্লবের মতো। শিল্প বিপ্লবে, মানুষের শক্তি কম প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল, কারণ মেশিনগুলো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। যদি আপনি এখন একটি গর্ত খনন করতে চান, তবে একটি মেশিন দিয়ে খনন করবেন। কিন্তু আমরা এখন যা পেয়েছি (এআই) তা হলো এমন কিছু, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিস্থাপন করছে।’

এর আগেও এই অধ্যাপক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এআই সাধারণ মানুষের জীবনকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করবে, ঠিক যেমন শিল্প বিপ্লব করেছিল।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে কী হবে তা নির্ভর করবে ‘আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এই প্রযুক্তি দিয়ে কী করে’ তার ওপর।

‘যদিও এটি উত্পাদনশীলতা ব্যাপক বাড়াবে, তবে আমার উদ্বেগ হচ্ছে যে, এটি সমাজের জন্য খুব খারাপ হতে পারে, যদি সমস্ত সুবিধা ধনীদের হাতে চলে যায়।’

শুধু তাই নয়, তিনি মনে করেন, এতে অনেক লোক তাদের চাকরিও হারাবে। অনেকে আরও দরিদ্র হয়ে যাবে।