১৪৯ মিলিয়ন লগইন ফাঁস, আতঙ্কে ফেসবুক-জিমেইল ব্যবহারকারীরা

বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুক, জিমেইলসহ জনপ্রিয় বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ১৪৯ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। এতে ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম ও সরাসরি পাসওয়ার্ড পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

তবে এই ঘটনা গুগল বা মেটার মূল সার্ভারে বড় কোনো সাইবার হামলার ফল নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে ঢুকে পড়া ম্যালওয়্যারের মাধ্যমেই ধাপে ধাপে এসব সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার সম্প্রতি ৯৬ গিগাবাইট আকারের একটি ডাটাবেজ শনাক্ত করেন, যা ছিল পুরোপুরি উন্মুক্ত। এতে কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড সুরক্ষা বা এনক্রিপশন ছিল না। অর্থাৎ ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারত। ডাটাবেজে থাকা তথ্যগুলো সাইবার অপরাধীদের জন্য এক ধরনের প্রস্তুত তালিকা হিসেবে কাজ করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের বড় অংশই ছিল ইমেইল অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ মিলিয়ন জিমেইল, ১৭ মিলিয়ন ফেসবুক, ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম, ৪ মিলিয়ন ইয়াহু মেইল, ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন নেটফ্লিক্স, ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন আউটলুক, ৯ লাখ আইক্লাউড মেইল এবং প্রায় ৭ দশমিক ৮ লাখ টিকটক অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই বড় বিপদ। কারণ ইমেইলের মাধ্যমেই বেশিরভাগ অনলাইন সেবার পাসওয়ার্ড রিসেট করা যায়। ফলে একটি ইমেইল দখলে গেলে ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট—সবই ঝুঁকিতে পড়ে যায়। বিল, ভ্রমণের তথ্য বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তাও নষ্ট হতে পারে।

তথ্যগুলো একদিনে চুরি হয়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ডিভাইসে সক্রিয় ‘ইনফোস্টিলার’ ধরনের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে এসব লগইন সংগ্রহ করা হয়েছে। সাধারণত ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট, ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন কিংবা বিভ্রান্তিকর অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ম্যালওয়্যার ছড়ায়। ব্যবহারকারী যখন পাসওয়ার্ড টাইপ করেন বা ব্রাউজারে সংরক্ষণ করেন, তখনই তথ্য চুরি হয়ে যায়।

গবেষকরা ডাটাবেজটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোস্টিং প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করলেও প্রায় এক মাস সেটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে। এ কারণে অগণিত ব্যবহারকারীর তথ্য অনিরাপদ অবস্থায় পড়ে ছিল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সার্ভার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইস দুর্বল হলে ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যক্তিগত সাইবার সচেতনতা বেশি জরুরি।

নিরাপদ থাকতে নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার ও অ্যাপ আপডেট রাখা, প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, যেখানে সম্ভব পাসকি ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা জরুরি। পাশাপাশি সন্দেহজনক লিংক বা ফাইল এড়িয়ে চলা এবং বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে নিয়মিত ডিভাইস স্ক্যান করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড, এক প্রান্তিকে আয় ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি

অ্যাপল কোম্পানি আইফোন বিক্রিতে ইতিহাস গড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয় হিসেবে নথিভুক্ত হলো।

এই প্রান্তিকে অ্যাপলের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান, আইফোনের চাহিদা “অবিশ্বাস্যরকম” ছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমান লাইনআপ জনপ্রিয়তার দিক থেকেও আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

আইফোন ১৭ সিরিজ বিক্রিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেও দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা ফিচার যেমন অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং উচ্চ রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন। ‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও মোট বিক্রিতে প্রভাব পড়েনি। তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে চিপ তৈরির ক্ষেত্রে।

অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অ্যাপলের প্রধান লক্ষ্য। সিরিতে নতুন এআই সুবিধা যোগ করা হবে, যেখানে গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি অ্যাপল একটি এআই স্টার্টআপ কিউ.এআই কিনছে, যা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে যেমন হেডফোন, চশমা এবং মুখের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ প্রদানে ব্যবহৃত হতে পারে।

অ্যাপলের পরিকল্পনা, সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়া, যা আইফোন এবং ম্যাক ডিভাইসের ভেতরে থাকবে। এছাড়া, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত হলো টিকটকের মালিকানা চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। এবার চূড়ান্ত হয়েছে মালিকানা সংক্রান্ত চুক্তি, যার মাধ্যমে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনা করবে একটি আমেরিকান মালিকানাধীন যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান।

নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও সফটওয়্যার নিরাপত্তা জোরদার করা। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। যৌথ উদ্যোগের অধীনে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং নেতৃত্ব দলও ঘোষণা করা হয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধেছিলেন, যাতে চীনা মালিকানাধীন বাইটড্যান্স টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশ আলাদা করতে বাধ্য হয়। না হলে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত।

নতুন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হয়েছেন অ্যাডাম প্রেসার, যিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ডেটা সুরক্ষা উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে আছেন উইল ফ্যারেল। পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন টিকটক ইউএস প্রধান শৌ চিউ, ওরাকলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কেনেথ গ্লুক, সিলভার লেক, সকোয়েহানা ও এমজিএক্সের প্রতিনিধি।

চুক্তির পর ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টিকটকের অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন মালিকানার হাতে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ডেটা সংরক্ষণের দায়িত্বও পাবেন ওরাকল। বাইটড্যান্স বৈশ্বিক পর্যায়ে বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স ও বিপণন কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

নতুন যৌথ উদ্যোগে ৫০ শতাংশ মালিকানা থাকবে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে, যেখানে ওরাকল, সিলভার লেক ও এমজিএক্সের শেয়ার রয়েছে। ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকবে বাইটড্যান্স সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের হাতে, এবং ১৯.৯ শতাংশ থাকবে বাইটড্যান্সের নিয়ন্ত্রণে।

চুক্তি ঘিরে বিতর্কও থামেনি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি অ্যালগরিদমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নতুন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স থেকে অ্যালগরিদম লাইসেন্স নেবে, যা পরে পুনরায় প্রশিক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হবে। এটি ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হতে পারে।

টিকটক ইস্যু কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি কূটনীতি ও বাণিজ্য রাজনীতির অংশ হয়ে উঠেছে, যা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককেও প্রভাবিত করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইনস্টাগ্রাম–ফেসবুক–হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সাবস্ক্রিপশন আনছে মেটা

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। এই সাবস্ক্রিপশন সুবিধার আওতায় ব্যবহারকারীরা পাবেন এক্সক্লুসিভ ফিচার, বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা।

মেটা জানিয়েছে, মূল অ্যাপ ও সেবাগুলো আগের মতোই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। তবে যারা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নেবেন, তারা পাবেন অতিরিক্ত ফিচার ও উন্নত প্রোডাক্টিভিটি টুল। কনটেন্ট শেয়ার, সংযোগ ব্যবস্থাপনা এবং সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও থাকবে বাড়তি সুযোগ।

একই ধরনের একটি সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজে আটকে থাকছে না মেটা। বরং বিভিন্ন অ্যাপে ভিন্ন ভিন্ন ফিচার ও প্যাকেজ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ—প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন সুবিধা আলাদা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে মেটা তাদের এআই কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ‘ম্যানাস’ নামের একটি এআই এজেন্ট বড় পরিসরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এই এআই প্রযুক্তি অধিগ্রহণ করেছে তারা। মেটার বিভিন্ন অ্যাপ ও প্রোডাক্টে ধাপে ধাপে এই এআই যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা সাবস্ক্রিপশন মডেলেও এটি ব্যবহার করা হতে পারে।

ইতোমধ্যে ইনস্টাগ্রামে ম্যানাসের শর্টকাট যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এআই ভিডিও নিয়েও নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে মেটা। “ভাইভস” নামের এআই ভিডিও ফিচার এতদিন বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও ভবিষ্যতে সেখানে ফ্রিমিয়াম মডেল চালুর প্রস্তুতি চলছে। নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিডিও ফ্রি বানানো যাবে, তবে বেশি ভিডিও তৈরির জন্য সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।

হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে ঠিক কোন কোন পেইড ফিচার যুক্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি মেটা। তবে ইনস্টাগ্রামের সম্ভাব্য কিছু সুবিধার কথা সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে— আনলিমিটেড অডিয়েন্স লিস্ট তৈরি করার সুযোগ, কে আপনাকে ফলো করে না তা দেখার অপশন এবং স্টোরি দেখলেও যেন পোস্টদাতা বুঝতে না পারেন, এমন গোপনীয়তা সুবিধা।

এই নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা ‘মেটা ভেরিফায়েড’ থেকে আলাদা হবে। মেটা ভেরিফায়েড মূলত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের জন্য চালু করা হয়েছিল, যেখানে ভেরিফায়েড ব্যাজ, বাড়তি সাপোর্ট ও নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া হয়। নতুন সাবস্ক্রিপশন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ মেটার আয়ের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তবে একাধিক অ্যাপে সাবস্ক্রিপশন চালু হলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাবস্ক্রিপশন ক্লান্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। বর্তমানে অনেক ডিজিটাল সেবায় মাসিক খরচ বাড়ছে। ফলে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে মেটাকে শক্ত ও বাস্তবসম্মত অফার দিতে হবে।

এই বাজারে স্ন্যাপচ্যাট ইতিমধ্যে ভালো সাফল্য পেয়েছে। তাদের ‘স্ন্যাপচ্যাট প্লাস’ সাবস্ক্রিপশনের গ্রাহক সংখ্যা এখন ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। মেটা জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ও মতামতের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু ও উন্নত করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আদালতে মেটা-ইউটিউব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলছে—এই প্রশ্ন এখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বড় আকারে আলোচনায়। লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত এক বিচার, যেখানে আসামির তালিকায় রয়েছে প্রযুক্তি জগতের দুই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান মেটা ও ইউটিউব। অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্ল্যাটফর্মের নকশা ও ব্যবহার পদ্ধতি কিশোরদের মানসিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই মামলা দায়ের করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণী, যিনি আদালতে কেজিএম নামে পরিচিত। তার সঙ্গে সহ-বাদী হিসেবে রয়েছেন তার মা ক্যারেন গ্লেন। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকেন। নোটিফিকেশন, অন্তহীন স্ক্রলিং এবং একের পর এক ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থাকে তারা পরিকল্পিত আসক্তি তৈরির কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অ্যালগরিদম নির্ভর কনটেন্টের কারণে ওই তরুণীর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি হতাশা ও উদ্বেগে ভুগতে শুরু করেন। শুরুতে এই মামলায় টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের নাম থাকলেও বিচার শুরুর আগেই তারা আলাদা সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে এখন মূলত মেটা ও ইউটিউবই আদালতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, সমস্যার মূল কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের নকশা। এমনভাবে ফিড সাজানো হয় যাতে ব্যবহারকারীরা বারবার ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকেন। কিশোর বয়সে আত্মনিয়ন্ত্রণ কম থাকায় তারা বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা এবং অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই ধরনের প্রায় দেড় হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মেটা জানিয়েছে, তারা কিশোরদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা যুক্ত করেছে, যেখানে গোপনীয়তা সুরক্ষা ও অভিভাবক নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। ইউটিউবও দাবি করেছে, সংবেদনশীল কনটেন্টে বিধিনিষেধ আরোপ, বয়স শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোল যুক্ত করা হয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, কেবল নিরাপত্তা টুল নয়, প্ল্যাটফর্মের মূল কাঠামোই মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে এই বিচারকে তাই গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ, নীতিমালার পরিবর্তন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নিয়মে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে এই রায়ের মাধ্যমে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চ্যাটজিপিটির উত্তরে ঢুকল ইলন মাস্কের ‘গ্রকিপিডিয়া’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কিছু উত্তরে ইলন মাস্ক–সংশ্লিষ্ট একটি নতুন তথ্যসূত্র ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাটজিপিটির একাধিক উত্তরে ‘গ্রকিপিডিয়া’ নামের একটি অনলাইন উৎসের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যা তৈরি করেছে ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশেষ করে জিপিটি–৫.২ মডেল ব্যবহার করে দেওয়া কিছু উত্তরে এই তথ্যসূত্র ব্যবহারের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রকিপিডিয়া মূলত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অনলাইন বিশ্বকোষ, যা চালু করা হয় গত বছরের অক্টোবরে।

ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই উইকিপিডিয়ার ওপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, উইকিপিডিয়া রক্ষণশীল মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই অভিযোগ থেকেই বিকল্প হিসেবে গ্রকিপিডিয়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে, গ্রকিপিডিয়ার বহু নিবন্ধের ভাষা ও তথ্য সরাসরি উইকিপিডিয়ার সঙ্গে মিল রয়েছে। কোথাও কোথাও অনুলিপির অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি কিছু নিবন্ধে এমন দাবি ও শব্দচয়ন দেখা যায়, যা তথ্যগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কিছু লেখায় এইডস সংকটের জন্য পর্নোগ্রাফিকে দায়ী করা হয়েছে, আবার কোথাও দাসপ্রথার পক্ষে বিতর্কিত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও এক্সএআইয়ের চ্যাটবট ‘গ্রক’ বিভিন্ন কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে। এক সময় এটি নিজেকে ‘মেকা হিটলার’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যৌন বিকৃত ডিপফেক ছড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।

তবে সাম্প্রতিক যে বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা হলো গ্রকিপিডিয়ার তথ্য এখন আর শুধু ইলন মাস্কের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি একাধিক প্রশ্নের উত্তরে এই উৎস ব্যবহার করেছে। জিপিটি–৫.২ মডেলে অন্তত ১২টির বেশি প্রশ্নের উত্তরে নয়বার গ্রকিপিডিয়ার উল্লেখ পাওয়া গেছে।

তবে সব ধরনের বিষয়ে এই তথ্যসূত্র ব্যবহৃত হয়নি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলা কিংবা এইচআইভি–এইডস মহামারির মতো বহুল আলোচিত ও সংবেদনশীল ইস্যুতে চ্যাটজিপিটি গ্রকিপিডিয়ার তথ্য নেয়নি। বরং তুলনামূলক কম পরিচিত বিষয়েই এর ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে ইতিহাসবিদ স্যার রিচার্ড ইভান্সকে ঘিরে কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো আগেই ভুল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

এদিকে শুধু চ্যাটজিপিটিই নয়, অ্যানথ্রপিকের তৈরি আরেকটি এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ও কিছু ক্ষেত্রে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যসূত্র যাচাই ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন ধরনের উন্মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় তথ্যসূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের জন্য যতটা সম্ভব বিস্তৃত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন চুক্তিতে টিকটক: বদলাতে পারে মার্কিন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য একটি নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ায় দেশটিতে জনপ্রিয় এই ভিডিও প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ আপাতত নিশ্চিত হয়েছে। তবে এই চুক্তির ফলে শুধু মালিকানা কাঠামো নয়, বরং কনটেন্ট দেখানোর ধরন, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায়ও ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টিকটক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের অপারেশন একটি আলাদা কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে প্রধান অংশীদার থাকবেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা। নতুন এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সাতজন পরিচালক থাকবেন। তাদের মধ্যে একজন থাকবেন টিকটকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শৌ জি চিউ। মূল মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের অংশীদারত্ব সীমিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশে।

টিকটকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর কনটেন্ট সুপারিশ অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীর পছন্দ, দেখার অভ্যাস ও আচরণের ভিত্তিতে কোন ভিডিও ‘ফর ইউ’ ফিডে আসবে, সেটি এই অ্যালগরিদমই নির্ধারণ করে। নতুন চুক্তির আওতায় এই অ্যালগরিদম ব্যবহারের একটি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলকে। এর আগে ‘প্রজেক্ট টেক্সাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে ওরাকল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ডেটা সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় ওরাকলের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ডেটার ভিত্তিতে অ্যালগরিদমের প্রশিক্ষণ, আপডেট এবং পরিচালনা এখন দেশটির ভেতরেই করা হবে। টিকটকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ডেটা এবং সংশ্লিষ্ট অ্যালগরিদম সম্পূর্ণভাবে ওরাকলের সুরক্ষিত মার্কিন ক্লাউড অবকাঠামোয় সংরক্ষিত থাকবে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক টিকটকে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। সিনেটর রন ওয়াইডেন বলেছেন, মালিকানা কাঠামো বদলালেও যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রকৃত সুবিধা নাও পেতে পারেন। একই সঙ্গে সিনেটর এড মার্কি চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে কংগ্রেসে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো— নতুন কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে কি না। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সেই সম্ভাবনা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্র টিকটকের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে প্রায় ২০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। নতুন অ্যাপ চালু করা হলে ব্যবহারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতা— উভয়ের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তাই টিকটক কর্তৃপক্ষ চাইছে, ব্যবহারকারীরা যেন বুঝতে পারেন যে অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বড় কোনো ধাক্কা ছাড়াই চলমান থাকবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য টিকটক নতুন টার্মস অব সার্ভিস চালু করেছে। এখন থেকে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আইনি চুক্তি হবে নতুন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সীরা আলাদা ‘আন্ডার ১৩ এক্সপেরিয়েন্স’-এর মধ্যেই টিকটক ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে ভুল বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি হলে সেই ঝুঁকির বিষয়টি ব্যবহারকারীকে মেনে নিতে হবে।

অ্যালগরিদমে পরিবর্তন এলে কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা কীভাবে বদলাবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শুরুতে বড় কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূক্ষ্ম পার্থক্য তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও দেখানোর সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক কনটেন্টের তুলনায় দেশীয় কনটেন্টের উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে টিকটক বলছে, মার্কিন ব্যবহারকারীরা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কনটেন্ট নির্মাতারা আগের মতোই বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। একইভাবে ব্যবসা ও ব্র্যান্ডগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারে সক্রিয় থাকতে পারবে।

এই নতুন চুক্তির আওতায় বাইটড্যান্সের অন্যান্য জনপ্রিয় অ্যাপ— ক্যাপকাট ও লেমনএইটের ভবিষ্যৎও আপাতত নিশ্চিত হয়েছে। টিকটকের মতো এসব অ্যাপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ডেটা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে নতুন চুক্তির মাধ্যমে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভাবে প্ল্যাটফর্মটির বৈশ্বিক চরিত্র ও কনটেন্ট বৈচিত্র্য কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল পরিচয়

ফ্রিল্যান্সারদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা পাবেন সরকার স্বীকৃত ডিজিটাল পরিচয়পত্র।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং আইসিটি অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্মটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ভিএপিটি পরীক্ষায় এটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা একটি ইউনিক ডিজিটাল আইডি কার্ড পাবেন। এই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার সুযোগ সহজে নিতে পারবেন। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সারদের যে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘাটতি ছিল, তা অনেকটাই পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

freelancers.gov.bd একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডাটাবেজ হিসেবেও কাজ করবে। এখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতার ধরন, কাজের ক্ষেত্র, অভিজ্ঞতা এবং বাজার প্রবণতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারের জন্য সহায়ক হবে।

এ উদ্যোগের ফলে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। এতে ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার ঘটার পাশাপাশি তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও সংগঠিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে এলো ইয়ামাহার হাইব্রিড বাইক

অটোমোবাইল দুনিয়ায় বহুল আলোচিত  প্রযুক্তি এবার মোটরসাইকেল খাতে নতুন মাত্রা যোগ করল। ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ইয়ামাহার অত্যাধুনিক এফজেড-এস হাইব্রিড মোটরসাইকেল। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিপ্রেমী ও বাইক ব্যবহারকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই মডেলটি অবশেষে দেশের বাজারে উন্মোচিত হওয়ায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ইয়ামাহা বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশক এসিআই মোটরস এই নতুন হাইব্রিড মোটরসাইকেলের ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী সমাধানকে গুরুত্ব দিয়েই এই বাইকটি ডিজাইন করা হয়েছে, যা দেশের মোটরসাইকেল বাজারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

ইয়ামাহা এফজেড-এস হাইব্রিডে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত হাইব্রিড ইঞ্জিন প্রযুক্তি। এতে তেলচালিত ইঞ্জিনের পাশাপাশি ব্যাটারির সমন্বয় থাকায় জ্বালানি খরচ কমে আসে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির ফলে সাধারণ মোটরসাইকেলের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। একই সঙ্গে দ্রুত পিকআপ, মসৃণ গতি এবং আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে বাইকটি।

পরিবেশবান্ধব দিকটিও এই মডেলের অন্যতম বড় আকর্ষণ। হাইব্রিড প্রযুক্তির কারণে কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে কম হয়, যা পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের যানজটে নিয়মিত চলাচলকারী রাইডারদের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বাইকটির ফিচারের দিক থেকেও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এতে সংযুক্ত করা হয়েছে ৪.২ ইঞ্চির ফুল টিএফটি ডিজিটাল ডিসপ্লে, যেখানে গিয়ার ইন্ডিকেটরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেখা যাবে। রয়েছে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন সুবিধা, এলইডি হেডলাইট, টেললাইট ও ইন্ডিকেটর। পাশাপাশি স্টপ অ্যান্ড স্টার্ট সিস্টেম থাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে বারবার বাইক বন্ধ ও চালু করার ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।

ইয়ামাহার ওয়াই-কানেক্ট ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে বাইকটি সংযুক্ত করা যাবে। এর ফলে কল, নোটিফিকেশনসহ বিভিন্ন তথ্য রাইডার সহজেই ডিসপ্লেতে দেখতে পারবেন, যা আধুনিক রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। ইয়ামাহা এফজেড-এস হাইব্রিডে রয়েছে এবিএস (ABS) এবং টিসিএস (TCS) সেফটি ফিচার, যা সাধারণত উন্নত মানের গাড়িতে দেখা যায়। এই প্রযুক্তিগুলো হঠাৎ ব্রেক কিংবা পিচ্ছিল রাস্তায় বাইকের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

প্রাথমিকভাবে এই হাইব্রিড মোটরসাইকেলটি দুটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে আনা হয়েছে। রঙ দুটি হলো সায়ান মেটালিক গ্রে এবং রেসিং ব্লু। দেশের সব অনুমোদিত ইয়ামাহা শোরুমে প্রি-বুকিংয়ের মাধ্যমে বাইকটি সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহী গ্রাহকরা।

উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুট-এর বাপ্পা মজুমদার, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। এছাড়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ইয়ামাহা মোটর ইন্ডিয়া সেলসের ডিরেক্টর হিরোশি সেতোগাওয়াসহ ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ামাহার এই হাইব্রিড মোটরসাইকেল দেশের মোটরসাইকেল বাজারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়, আধুনিক ফিচার এবং পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এটি ভবিষ্যতে বাইকপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




.bd ডোমেইনে বড় সুখবর, ফি কমাল বিটিসিএল

দেশীয় ডোমেইন ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে .bd ডোমেইনের জনপ্রিয় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দেশীয় ডোমেইনকে আরও সহজলভ্য করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, .bd Third Level domain যেমন abc.com.bd এবং .bd Second Level domain যেমন abc.bd এই দুটি বহুল ব্যবহৃত ক্যাটাগরিতে রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউয়াল ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এর ফলে কম খরচে নিজস্ব ওয়েব পরিচিতি তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

হালনাগাদ মূল্যহার অনুযায়ী, দুই অক্ষরের বেশি নামের .bd Third Level domain-এর রেজিস্ট্রেশন ফি আগের ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই ডোমেইনের রিনিউয়াল ফি ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে কমে এখন ১ হাজার ২০ টাকা।

অন্যদিকে, দুই অক্ষরের বেশি নামের .bd Second Level domain-এর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৮০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি রিনিউয়াল ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমে এখন ১ হাজার ৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, .bd ডোমেইন ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক .com ডোমেইনের তুলনায় .bd ডোমেইন তুলনামূলক সহজে পাওয়া যায় এবং দেশীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। একইসঙ্গে স্থানীয় বাজারে পেশাদার ভাবমূর্তি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশভিত্তিক সার্চ রেজাল্টে ভালো অবস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রেও .bd ডোমেইন কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এছাড়া দেশীয় নীতিমালার আওতায় নিবন্ধিত হওয়ায় .bd ডোমেইনকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবেও দেখছে বিটিসিএল। এতে দেশের ডিজিটাল পরিচয় আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশীয় অনলাইন উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউয়ালের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে ভ্যাট প্রযোজ্য থাকবে। পাশাপাশি বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে এবং বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের গৃহীত ট্যারিফ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

বিটিসিএল জানিয়েছে, এই মূল্যছাড় সীমিত সময়ের জন্য প্রযোজ্য। তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে .bd ডোমেইনের ব্যবহার আরও বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আরও সমৃদ্ধ হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম