কিউবা মিচেল বাংলাদেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক করলেন

কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা কিংস বনাম সিরিয়ার আল কারামাহ ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার কিউবা মিচেল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া কিউবা, যুব স্তরে সান্ডারল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। জুন মাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাওয়ার পর থেকেই তার আন্তর্জাতিক অভিষেক নিয়ে সমালোচনা ও আগ্রহ চলছিল।

মঙ্গলবার সুহেম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা কিংস সিরিয়ার ক্লাব আল কারামাহকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূলপর্বে জায়গা করে নিল। কিউবা শুরুতে প্রথম একাদশে ছিলেন না, তবে ৬৫ মিনিটে রাফায়েল অগুস্তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। বসুন্ধরা তখন বেশ রক্ষণাত্মকভাবে খেলছিল, ফলে কিউবার হাতে বড় সুযোগ আসেনি।

তবে ম্যাচের শেষভাগে তিনি দুটি কর্নার দিতে সক্ষম হন, যার একটি থেকে ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেনের হেড লক্ষ্যভেদ করতে পারত, কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তা আটকান। কিউবার এই উপস্থিতি এবং গোলের জন্য কর্নার তৈরি করা, তার মাঠে কার্যকর ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ম্যাচ শেষে হাস্যোজ্জ্বল কিউবার মনোভাব দেখিয়েছে, নতুন পরিবেশে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার বেশি সময় লাগবে না। এই অভিষেকের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হলো, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এবার কিউবা কাতার থেকে বাহরাইনে যোগ দেবেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে। সেখানে তিনি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে অংশ নেবেন। তার প্রথম ম্যাচ ৩ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক ভিয়েতনাম, ৬ সেপ্টেম্বর ইয়েমেন এবং ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সব ম্যাচ ভিয়েত ত্রি স্টেডিয়ামে খেলা হবে। এর আগে ১৮ ও ২২ আগস্ট বাহরাইনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও কিউবা অংশ নেবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জাতীয় দলের নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেবে বিসিবি

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঋতুপর্ণার জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের দায়িত্ব নেবে বিসিবি।

শনিবার বিকেলে বিসিবির বোর্ড সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও অস্ট্রেলিয়া থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটির বাসিন্দা ঋতুপর্ণার বাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাবা ও একমাত্র ভাইকে হারানো এই ফুটবলারের সংসার চলে মূলত তার উপার্জনেই। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করায় বাড়ির সংস্কার বা নির্মাণের সুযোগ হয়নি এতদিন।

২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফল্যে বড় অবদান রেখেছেন ঋতুপর্ণা। গত মাসে তার জোড়া গোলের সুবাদেই মিয়ানমারকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

সম্প্রতি ভুটান লিগ খেলতে গিয়ে অল্প সময়ের জন্য ঢাকায় ফিরে আসেন ঋতুপর্ণা ও তার সতীর্থ তহুরা খাতুন। প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে ঋতুপর্ণা ২০২৪ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের সম্মাননা পান, যেখানে তিনি পিছনে ফেলেন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদকে। বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদ হয়েছেন তহুরা খাতুন।




ভারতে এশিয়া কাপ হকি খেলবে না পাকিস্তান, সুযোগ পেল বাংলাদেশ

ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ হকি থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (পিএইচএফ) এশিয়ান হকি ফেডারেশনকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিহারের রাজগিরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপ হকির আসর। এই টুর্নামেন্টটি ২০২৬ হকি বিশ্বকাপেরও বাছাইপর্ব হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে পাকিস্তানের অনুপস্থিতি তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু এশিয়া কাপ নয়, আগামী জুনিয়র হকি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু জানিয়েছে, পিএইচএফ টুর্নামেন্ট নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আয়োজকরা সেটি মানেনি। পাকিস্তান সরে দাঁড়ানোয় বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এশিয়ান হকি ফেডারেশন।

হকি ইন্ডিয়ার এক কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, “পাকিস্তান লিখিতভাবে জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই তারা অংশ নিচ্ছে না। এরপর আমরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

পিএইচএফ এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে তারা আগেই জানিয়েছিল, দল পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার।




উত্তরবঙ্গে রাজশাহী ও দক্ষিণে বরিশাল কিংবা খুলনায় বিপিএলের ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলাগুলো বিকেন্দ্রীকরণের জন্য উত্তরবঙ্গে রাজশাহী স্টেডিয়াম এবং দক্ষিণাঞ্চলে বরিশাল কিংবা খুলনা স্টেডিয়ামে বিপিএল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিসিবির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা রাজশাহী স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। সেখানে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে রাজশাহীতে বেশ কয়েকটি বিপিএল ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আবারো বিসিবিতে ফিরছেন টনি হেমিং

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আবারো যুক্ত হচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিউরেটর টনি হেমিং। গেল বছর আচমকাই বিসিবির প্রধান কিউরেটরের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও আবারও নতুন দায়িত্বে বাংলাদেশে আসছেন তিনি। বিসিবির এক পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, হেমিংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন।

নতুন চুক্তির আওতায় হেমিং এবার শুধু প্রধান কিউরেটর হিসেবেই নয়, বরং “হেড অব টার্ফ” নামের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের সকল ভেন্যুর কিউরেটরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মাঠ ও পিচ ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির প্রধান কিউরেটর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন টনি হেমিং। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত বছরের ১০ জুলাই হঠাৎ পদত্যাগ করেন। পরে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান কিউরেটর হিসেবে যোগ দেন। পাকিস্তানেও তার সঙ্গে ছিল দুই বছরের চুক্তি। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে ছয় মাস ধরে পুনরায় যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে হেমিং আবারো বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

টনি হেমিংয়ের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক। তিনি এর আগে আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি ও দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর ছিলেন। পাশাপাশি ওমান ক্রিকেট একাডেমির আইসিসি পিচ কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। তার দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিসিবি আবারো তাকে যুক্ত করতে আগ্রহী হয়।

এছাড়া, পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামে এরিনা ম্যানেজার, সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়ামের এরিনা ম্যানেজার এবং আইসিসির আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক ও উপস্থাপক হিসেবেও হেমিং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

টনি হেমিংয়ের প্রত্যাবর্তনে বিসিবির মাঠ ও পিচ ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পিচের মান উন্নয়ন, দেশের কিউরেটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযুক্ত ভেন্যু তৈরিতে হেমিংয়ের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহল।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নারী দলের রেকর্ড উন্নতি

ফিফা নারী ফুটবলে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো র‌্যাঙ্কিংয়ে এত বড় সাফল্য পেল দেশের নারী দল। সর্বশেষ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৪ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ১০৪ নম্বরে, যা দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান। ফিফার পক্ষ থেকেও এবারের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশে বিশেষভাবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ পয়েন্টের বিচারেও সর্বোচ্চ উন্নতি ঘটেছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় উন্নতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে দুই জয় ও দুই ড্র নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়, যা দেশের ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। ফলে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও এখন বাস্তব।

চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিতের পথে বাংলাদেশ ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে। একই গ্রুপে ছিল বাহরাইন, যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক উপরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে হেরেছে পয়েন্ট। এর আগে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। এই ধারাবাহিকতা র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তন আনার জন্য যথেষ্ট ছিল।

বিশ্ব নারী ফুটবলে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশেও এসেছে পরিবর্তন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়া স্পেন এক ধাপ এগিয়ে বর্তমানে এক নম্বরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, সুইডেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মতো দলগুলোও একাধিক ধাপ এগিয়েছে, যেখানে জার্মানি, জাপান ও ব্রাজিল কিছুটা পিছিয়েছে।

বাংলাদেশ নারী দলের এই উত্থান শুধু দেশের ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক নতুন পরিচয় তৈরি করল। আগামী বিশ্বকাপ বাছাই ও এশিয়ান কাপে যদি এই ছন্দ বজায় রাখা যায়, তাহলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ আর কেবল স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তবতা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লাওসকে হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইয়ে দুর্দান্ত সূচনা বাংলাদেশের

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নময়। শক্তিশালী পারফরম্যান্সে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়ানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নেয় পিটার জেমস বাটলারের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের মেয়েরা নিয়ন্ত্রণে নেয় খেলার লাগাম। প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণ শানালেও শুরুতে গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচের ১৪ মিনিটে তৃষ্ণা রানী সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে হতাশা কাটে ৩৬তম মিনিটে। কর্নার কিক থেকে দুর্দান্ত এক হেডে দলকে লিড এনে দেন সাগরিকা। লাওসের গোলরক্ষক কিছুই করার ছিল না সেই হেড ঠেকাতে। প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় আর গোল না হলেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে নামে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে বাংলাদেশের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুনকি আক্তার। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ২-০ করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের এই পর্যায়ে এসে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখে বাংলাদেশ।

তবে গোল ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও ভাগ্য সহায় ছিল না। শিখার একটি দুরপাল্লার শট এবং সাগরিকার হেড ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। ঠিক এমন সময়ে, ৮৫তম মিনিটে ম্যাচে ফিরতে চায় লাওস। আন্না কেও ওনসির এক গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মন্ডল বল ধরতে এগিয়ে এসে বিপদে পড়েন এবং বলটি জালে প্রবেশ করে।

লাওস যখন সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করছে, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে সাগরিকা। সতীর্থের ছোট পাসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত ফিনিশিং করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হয় ৩-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের জয় দিয়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিমুর লেস্তে, যারা প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

দলের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সামনের ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সাগরিকার ওপর ভরসা নিয়ে আজ সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলার মেয়েরা

তরতাজা সাফ ট্রফি জয়ের রেশ এখনো টাটকা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে লাওসের রাজধানীতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে এটি তাদের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক লাওস।

সাফ জয় শুধু একটি শিরোপার গল্প নয়, ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। এবার মূল লক্ষ্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। কোচ পিটার বাটলার মনে করছেন, লাওস ম্যাচ থেকেই শুরু হবে নতুন এক আত্মবিশ্বাসের অধ্যায়।

বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া (র‍্যাঙ্কিং ১৯), লাওস (১০৭) ও বাংলাদেশ (১২৮)। কাগজে-কলমে পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে ভিন্ন কথা। গত মাসেই জাতীয় নারী দল হারিয়েছে মিয়ানমার ও বাহরাইনকে, যারা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক ওপরে ছিল।

সেই জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই আছেন এই অনূর্ধ্ব-২০ স্কোয়াডে। ফলে বাছাইপর্বের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে স্বভাবতই আত্মবিশ্বাসী পুরো দল।

সাবেক তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে এসেছেন দলে অন্যতম ভরসা মোসাম্মৎ সাগরিকা। সাফের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে তার একাই ৪ গোল দলের জয় নিশ্চিত করেছিল। এবারও তাকেই দেখা হচ্ছে সম্ভাব্য গোলমেশিন হিসেবে।

কোচ পিটার বাটলার বলেন, “লাওসের বিপক্ষে আমরা জয় চাই। মাঠে নিজেদের আধিপত্য তৈরি করাটাই হবে মূল লক্ষ্য। কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে লড়তে হলে আমাদের পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতিতে উন্নতি করতে হবে।”

দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, “আমরা এখানে এসেছি কোয়ালিফাই করতে। প্রতিটি ম্যাচে আমরা সর্বোচ্চটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।”

লাওসও বাংলাদেশ মতোই সিনিয়র দলভিত্তিক স্কোয়াড গঠন করেছে। উজবেকিস্তানে বাছাইপর্ব খেলে আসা দলটি ফর্মে রয়েছে। ফলে ম্যাচটি হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মূল পর্বে জায়গা পেতে হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে বাংলাদেশকে। রানার্সআপ হলেও সুযোগ থাকছে, তবে সেক্ষেত্রে থাকতে হবে সেরা তিন রানার্সআপের তালিকায়। তাই প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল এখন গুরুত্বপূর্ণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের এনসিএল কোচ হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান।

আকরাম খান জানান, “আশরাফুল নিজেই কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বরিশালের হয়ে দুই বছর খেলেছে সে, তাই আমরা তাকে কোচ হিসেবে নিয়েছি।”

ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিং পেশায় যুক্ত হন আশরাফুল। এর আগেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের সাথে কাজ করেছেন তিনি।

আকরাম বলেন, “সাবেক খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করার সুযোগ দিতে চাই আমরা। সেলিম, রোকন, আফতাবদের সাথেও আলোচনা চলছে। তাদের অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

এছাড়া আঞ্চলিক ক্রিকেট উন্নয়নেও বিসিবি কাজ করছে বলে জানান আকরাম। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি ২৭ আগস্ট থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১টি জেলা রয়েছে। এখান থেকে ভালো মানের ২-৩ জন খেলোয়াড় পেলেই তারা চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে খেলতে পারবে।”

এই উদ্যোগকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল দলের বিশৃঙ্খলায় বিপাকে বিসিবি

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগীয় দল নিয়ে চলমান বিশৃঙ্খলা ও অভিযোগে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠের বাইরে নানা বিতর্কিত ঘটনার জেরে গত মৌসুমে বরিশাল দলের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

মৌসুমের মাঝপথে অধিনায়কত্ব ছাড়েন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি। বিসিবিকে পাঠানো চিঠিতে কারণ না উল্লেখ করলেও তিনি জানিয়েছেন, স্কোয়াডে না থাকায় সহখেলোয়াড় ইসলামুল হাসানের কাছ থেকে তিনি মৃত্যুর হুমকি পান। বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগে হুমকির ফোন রেকর্ডও জমা দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সোহাগ গাজীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে ক্রিকেটার মঈন খানের বিরুদ্ধেও। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া কোচিং স্টাফদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রধান কোচ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান মজুমদার দায়িত্ব ছেড়ে দেন মৌসুমের মাঝপথে। পরে দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ ওয়াহিদুল গনি, কিন্তু তাঁর সময়েও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় বিসিবিতে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। জাতীয় দলের নির্বাচকরাও বরিশালের অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। এবারের মৌসুমে তাই স্কোয়াড গঠন ও কোচিং স্টাফ নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে টুর্নামেন্ট কমিটি। পুরো কোচিং ইউনিট বদলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

কিছু খেলোয়াড় কোচ আশিকুর রহমান, সহকারী কোচ শাহীন হোসেন এবং ট্রেনার বিকাশ শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও প্রোগ্রাম হেড মিনহাজুল আবেদীন প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এনসিএল সমন্বয় সভায় বরিশাল দলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন,

“যে দলে কোচ ও অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সেখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ আশা করা যায় না। খেলোয়াড়দের ভাষা ব্যবহার ও আচরণেও অবনতি দেখা যাচ্ছে, যা দুঃখজনক।”

এদিকে বরিশালের কিছু ক্রিকেটার দাবি করেছেন, এনসিএলে না থাকায় তারা ঢাকা লিগে সুযোগ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন, যা শুনে তিনিও বিব্রত হন।

বরিশাল দলের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম বলেন,

“বরিশালে ঘরোয়া লিগ না থাকায় সব ক্রিকেটারই জাতীয় লিগে খেলতে চায়। অনেকেই মনে করেন, জাতীয় লিগে খেললেই ঢাকা লিগে জায়গা পাওয়া সহজ হবে। তবে এটি ভুল ধারণা।”

ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও সোহাগ গাজীর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা চান, অতীতের বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। তারা বরিশালকে প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। যদিও বর্তমানে বরিশালের মূল স্কোয়াডে খেলার মতো স্থানীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র সাতজন। ফলে অন্য বিভাগীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫