ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

মাত্র ১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে পেয়েও সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং আর শট নির্বাচনের ভুলে টাইগাররা হেরে গেল মাত্র ১১ রানে। অন্যদিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ধারালো ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল পাকিস্তান, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি তাদের। তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার ফারহান। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদির নিয়ন্ত্রিত স্পিনে এক পর্যায়ে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে মাত্র ৪৯। তবে এরপর মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নাওয়াজ দলের হাল ধরেন। মাঝের ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির কয়েকটি বড় শট এবং ফাহিম আশরাফের অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোভাবে ১৩৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল খুব একটা বড় নয়। জয় পেতে প্রয়োজন ছিল ধীরস্থির ব্যাটিং আর স্ট্রাইক রোটেশন। কিন্তু প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান ইমন আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এরপর একে একে সোহান, জাকের, হৃদয়, মেহেদি—সবাই ফিরলেন দায়িত্বহীন শটে। দলকে ভরসা দেওয়ার মতো কোনো জুটি গড়তে পারেননি ব্যাটাররা।

শামীম হোসেন কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। ২৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেললেও শাহিন আফ্রিদির বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ারে পরাস্ত হন তিনি। বাকিরা ছিলেন সম্পূর্ণ ছন্দহীন। সাইফ হাসান ১৭, নুরুল হাসান ১৬ এবং রিশাদ হোসেন অপরাজিত ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৪/৯।

বোলিং বিভাগে অবশ্য টাইগাররা লড়াই করেছে। তাসকিন আহমেদ ৩টি উইকেট নিয়ে স্পর্শ করেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক। রিশাদ ও মেহেদি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। তবে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় সেই কৃতিত্ব ম্লান হয়ে যায়। মাঠের বাইরে বসে থাকা কোচিং স্টাফদের হতাশ মুখই যেন বলে দিচ্ছিল, কত বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো!

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান নিশ্চিত করল ২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনাল। ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। ৪১ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনো ফাইনালে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি।

ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার, দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। যেখানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল একে অপরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (হারিস ৩১, নাওয়াজ ২৫, আফ্রিদি ১৯, সালমান ১৯, ফাহিম ১৪*, ফখর ১৩; তাসকিন ৩/২৮, রিশাদ ২/১৮, মেহেদি ২/২৮, মুস্তাফিজ ১/৩৩)।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৪/৯ (শামীম ৩০, সাইফ ১৭, নুরুল ১৬, রিশাদ ১৬*, মেহেদি ১১, তানজিম ১০; আফ্রিদি ৩/১৭, রউফ ৩/৩৩, সাইম ২/১৬, নাওয়াজ ১/১৪)।
ফলাফল: পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শাহিন শাহ আফ্রিদি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অঘোষিত সেমিফাইনাল আজ: বাংলাদেশ না পাকিস্তান, কে যাবে ফাইনালে?

এশিয়া কাপে আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের সামনে এক সরল অথচ কঠিন সমীকরণ হাজির করেছে। জয় মানেই ফাইনালের টিকিট, আর হার মানেই বিদায়। ভারতের বিপক্ষে হারের ধাক্কা কিছুটা পিছিয়ে দিলেও এখনো ফাইনালের স্বপ্ন টিকে আছে টাইগারদের হাতে।

বুধবার দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ৪১ রানে হেরে যায়। ১৬৯ রানের জবাবে পুরো দল গুটিয়ে যায় ১২৭ রানে। কেবল সাইফ হাসান একাই ব্যাট হাতে আলো ছড়ান, করেন ৬৯ রান। অন্যদিকে ভারতের জয় নিশ্চিত করেছে তাদের ফাইনাল এবং একই সঙ্গে বিদায় হয়েছে শ্রীলঙ্কার।

এখন সবকিছু নির্ভর করছে আজকের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে। দুই দলেরই সমান ২ পয়েন্ট। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে আছে পাকিস্তান (+০.২২৬), আর পিছিয়ে বাংলাদেশ (-০.৯৬৯)। তাই শুধু জয় নয়, বাংলাদেশকে জিততে হবে দৃঢ়তায়।

তবে টাইগারদের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি রেকর্ড কিছুটা আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। শেষ পাঁচ দেখায় পাকিস্তান তিনটিতে জয় পেলেও বাংলাদেশ জিতেছে দুই ম্যাচে। সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও লিটন দাসের নেতৃত্বে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল টাইগাররা।

সব মিলিয়ে দুবাইয়ের আজকের ম্যাচ হয়ে উঠেছে অঘোষিত সেমিফাইনাল। জয়ী দল সরাসরি উঠবে ভারতের সঙ্গে ফাইনালে। আর পরাজিত দল বিদায় নেবে এবারের এশিয়া কাপ থেকে। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর তাই আজ দুবাইয়ের দিকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেড় ঘণ্টায় হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, টিকে থাকলো বুলবুলের চিঠি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আইনি নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পাঠানো চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেছিল হাইকোর্ট। তবে মাত্র দেড় ঘণ্টা পরই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ স্থগিত করে চিঠিটিকে বহাল রেখেছেন।

সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ সভাপতির ১৮ সেপ্টেম্বরের চিঠির কার্যকারিতা ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন। বিসিবিকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

কিন্তু মাত্র দেড় ঘণ্টা পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এতে সভাপতির চিঠি বহাল থাকে এবং শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি থাকে।

১৮ সেপ্টেম্বর বিসিবি সভাপতি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়, কাউন্সিলর মনোনয়ন দিতে হলে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে নাম পাঠাতে হবে। আগের ফরম বাতিল করে নতুন ফরম পাঠিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চারজন কাউন্সিলর রিট আবেদন করেন। তাদের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস আদালতে যুক্তি দেন, সভাপতি সংবিধানবহির্ভূতভাবে নতুন শর্ত চাপিয়েছেন, যা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ বলেন, “হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশে আর কোনো বাধা নেই। সভাপতির ১৮ সেপ্টেম্বরের চিঠি বহাল আছে।”

তফসিল অনুযায়ী বিসিবি নির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর। নির্বাচনের মাধ্যমে ২৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন এবং তাদের মধ্য থেকেই সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে। সর্বশেষ নির্বাচনে কাউন্সিলরের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭০ জন।

এবার মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে অ্যাডহক কমিটি ও সভাপতির নির্দেশনা নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ‘বিয়ে’: শামি মুখ খুললেন

ভারতের তারকা পেসার মোহাম্মদ শামি নিজের ব্যক্তিজীবনের টালমাটাল সময় নিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আপ কি আদালত’-এ তিনি অকপটে জানিয়েছেন, জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল বিয়ে করা। তবে এর দায় কোনো ব্যক্তির উপর চাপাননি, বরং ভাগ্যকেই দায়ী করেছেন।

শামি বলেন, “জীবন আমাদের অনেক কিছু শেখায়। আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল হলো বিয়ে করাটা। এটি স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই। তবে কাউকে দোষ দিতে চাই না। আমার ভাগ্যটাই খারাপ।”

ব্যক্তিগত ব্যর্থ সম্পর্কের কারণে শামি একসময় এমন মানসিক চাপ অনুভব করেছিলেন যে নিজের জীবন শেষ করার কথাও ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, “নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ভাবনাও এসেছিল। ভাগ্যিস তেমন কিছু ঘটেনি, নাহলে তো বিশ্বকাপে খেলতে পারতাম না। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে সেই ভুল পথে যেতে দেয়নি। তাই সবকিছু ভুলে আমি ক্রিকেটেই মনোযোগ দিয়েছি।”

মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত সংকট সত্ত্বেও শামি কখনো দেশের জার্সির মর্যাদা নিয়ে আপস করেননি। তিনি আরও বলেন, “যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলছিলাম, তখন ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন আমাকে অন্য দিকে টেনে নিচ্ছিল। বাড়ির পরিস্থিতি সামলে দেশের হয়ে খেলা ছিল কঠিন। তবে দেশের হয়ে খেলতে নেমে এসবের কোনো গুরুত্ব নেই। আমার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল, আর তখন আমাকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।”

শামি ২০১৪ সালে হাসিন জাহানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে ২০১৮ সালে এই সম্পর্ক বিচ্ছেদের পথে চলে এবং বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন।

ক্রীড়া জীবনে এবং মানসিক লড়াইয়ে সফলতার প্রতীক শামি ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতের হয়ে খেলায় দাপট দেখানো এই পেসার মাঠে যেমন সফল, জীবনের লড়াইয়েও তেমনি অটল থেকেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিসিবি সভাপতির চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত, নির্বাচনে বাধা নেই

হাইকোর্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতির জেলা ও বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন সংক্রান্ত চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। তবে আদালতের এ আদেশের ফলে আগামী ৬ অক্টোবর নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচনে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ দেন।

এর আগে চার জন ব্যক্তি বিসিবি সভাপতির চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। রিটকারীরা হলেন: রাজবাড়ীর মঞ্জুরুল আলম, গোপালগঞ্জের জসিম উদ্দিন খসরু, লক্ষ্মীপুরের মঈনুদ্দিন চৌধুরী এবং টাঙ্গাইলের আলী ইমাম। রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিসিবি নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে মনোনীত কাউন্সিলররা নির্ধারিত সময়ে ফরম জমা দিয়েছেন। তবে অ্যাডহক কমিটি থেকে যেসব জেলা ক্রীড়া সংস্থা কাউন্সিলরের মনোনয়ন দেয়নি, সেগুলো বাতিল করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। পরে নিজে সই করে কাউন্সিলর মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা নিয়ে গত দুই দিন ধরে বিতর্ক তৈরি হয়।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ঘোষিত অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর না দেওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়ে যায়। বিসিবি সভাপতির এমন পদক্ষেপ গঠনতন্ত্রের ১২ এর ৭ ধারা অনুযায়ী সম্ভব নয়।

বিসিবি সভাপতি বুলবুলের চিঠি স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনের পথে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। নির্বাচনে মনোনীত খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা যথাসময়ে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




করমর্দন বিতর্কের ছায়ায় সুপার ফোর: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে নতুন উত্তেজনা

এশিয়া কাপে ফের মুখোমুখি হচ্ছেন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার সুপার ফোরে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচের আগে পাকিস্তান ক্রিকেটে করমর্দন বিতর্ক, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্টকে কাঠগড়ায় তোলা, দেরিতে ম্যাচ শুরু এবং নাম তুলে নেওয়ার হুমকি নিয়ে অস্থিরতা চলছে।

ভারত গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে জয় পেয়েছে, তবে ওমানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে হোঁচট খেয়েছে। জাসপ্রীত বুমরাহ এবং বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে ভারতে স্পিনার কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। পাকিস্তানের ওপেনার সাইম আয়ুব ব্যর্থ হলেও ফখর জামানই দলের ভরসা।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ইতিহাস অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দলের জয় সম্ভাবনা বেশি। পিচ ধীর গতির, স্পিনারদের জন্য সহায়ক। আবহাওয়া চ্যালেঞ্জস্বরূপ—ম্যাচ চলাকালীন তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৬১–৬২%।

করমর্দন বিতর্ক, হুমকি-ধমকি সবকিছুর বাইরে আসল পরীক্ষা হবে মাঠে। সুপার ফোরের এই লড়াই শুধুমাত্র দুটি দলের জন্য নয়, এশিয়া কাপের রোমাঞ্চকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ক্ষুব্ধ তামিম: ‘ইলেকশন নয়, সিলেকশন চলছে’

আগামী ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে মনোনীত কাউন্সিলররা ফরম জমা দিয়েছেন। তবে অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলরের মনোনয়ন না পাওয়া সংস্থাগুলোর আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

এছাড়া, প্রধান নির্বাহীর পরিবর্তে স্বয়ং সভাপতি স্বাক্ষর দিয়ে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে আজ রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, যিনি আসন্ন নির্বাচনে বুলবুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। সংবাদ সম্মেলনে তামিম বিসিবি সভাপতির কর্মকাণ্ড নিয়ে সরব হন।

তামিম বলেন, “বুলবুল ভাই নিজেই বলেছেন তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ তিনিই এমন চিঠিতে সই করেছেন, যেখানে আগের কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে কেবল অ্যাডহক কমিটি থেকে নতুন কাউন্সিলর নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী কমিটি গঠনের পর সভাপতি কোথাও সই করতে পারেন না। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে তিনি এসব চিঠি পাঠালেন?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাউন্সিলর মনোনয়নের সময়সীমা দুবার বাড়ানো হলেও দ্বিতীয়বারের সিদ্ধান্ত এককভাবে সভাপতিই নিয়েছেন। প্রথমবার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব ডিরেক্টরদের মধ্যে আলোচনা করে গৃহীত হলেও দ্বিতীয়বারে বিসিবি সভাপতি নিজের ইচ্ছাতেই সময়সীমা বৃদ্ধি করেছেন।

সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন তামিম। তিনি জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছেন, কিন্তু জেলা, বিভাগীয় ও ক্লাব পর্যায়েও সরকারের প্রভাব বেড়েছে বলে মনে করেন।

তামিম বলেন, “যাকে ইচ্ছা অ্যাডহক কমিটি থেকে সরানো হচ্ছে, যাকে ইচ্ছা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হলে এটি ইলেকশন নয়, সিলেকশন হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত।”

নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও তিনি জানালেন, নির্বাচনে জয়ী হলে আর খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন না। তবে চ্যারিটি ম্যাচে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জিতি বা হারি তা বড় কথা নয়।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সুপার ফোরে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশে

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্সে টাইগাররা দেখিয়েছে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের ছবি।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। লঙ্কান ওপেনার নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র পাঁচ ওভারে স্কোরবোর্ডে জমে ৪৪ রান। তবে ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে মুস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট, মেহেদী নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তবুও দাসুন শানাকার ৩৭ বলে ৬৪ রানের দাপুটে ইনিংসে লঙ্কানরা নির্ধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ১৬৮ রান।

১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই চাপে পড়ে। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে বিদায় নেন। তবে সাইফ হাসান ও লিটন দাস মিলে গড়েন ৫০ রানের জুটি। লিটন ২৩ রানে আউট হলেও সাইফ থেমে থাকেননি। তিনি ৪৫ বলে ঝড়ো ৬১ রান তুলে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর তাওহীদ হৃদয় নামেন মাঠে এবং নিজের সমালোচকদের জবাব দিতে খেলেন ৩৭ বলে ৫৮ রানের অসাধারণ ইনিংস।

শেষ ওভারে ম্যাচ যখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে, তখন নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়। ৬ বলে ৫ রান প্রয়োজন ছিল, হাতে ৪ উইকেট। কিন্তু শানাকার ওভারে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। তবুও নাসুম আহমেদ ঠাণ্ডা মাথায় শর্ট থার্ডম্যানের দিকে বল ঠেলে ১ বল হাতে রেখেই নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের জয়।

এই জয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে পাওয়া জয়। এর আগে ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে ২১৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষও ছিল শ্রীলঙ্কা।

ম্যাচে সাইফ ও হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মুস্তাফিজের বোলিং ছিল নজরকাড়া। যদিও ফিল্ডিংয়ে কয়েকটি ক্যাচ ফসকে যায়, তারপরও দলগতভাবে পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তায় জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টাইগাররা সুপার ফোরের শুরুটা করেছে দুর্দান্তভাবে। সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় লড়াই—ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৬৮/৭ (শানাকা ৬৪*, মেন্ডিস ৩৪, নিশাঙ্কা ২২; মুস্তাফিজ ৩/২০, মেহেদী ২/২৫)
বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৬৯/৬ (সাইফ ৬১, হৃদয় ৫৮, লিটন ২৩; শানাকা ২/২১, হাসারাঙ্গা ২/২২)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: সাইফ হাসান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শ্রীলঙ্কা দিলো বাংলাদেশকে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জ

এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশকে ১৬৯ রানের বড় চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করেছে।

টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। দলের একাদশে পরিবর্তন আনা হয়; শেখ মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলাম দলে ফেরানো হয়, বাদ পড়েন নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন।

শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস দলের শুরুটা দারুণ করে দেন। নিসাঙ্কা ১৫ বলে ২২ রান করেন (৩ চার, ১ ছক্কা), আর কুশল মেন্ডিস ২৫ বলে ৩৪ রান যোগ করেন (১ চার, ৩ ছক্কা)। শেখ মেহেদীর বলে মেন্ডিস ৫৮ রানে আউট হন। এরপর নিয়মিত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে লঙ্কানরা। কামিল মিশারা ১১ বলে ৫ ও কুশল পেরেরা ১৬ বলে ১৬ রান করে বিদায় নেন।

শেষ পর্যন্ত দাসুন শানাকা ইনিংস টেনে নেন। মাত্র ৩৭ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসে রয়েছে ৩ চার ও ৬ ছক্কা। শেষ বলে তাসকিন আহমেদকে ছক্কা মেরে ইনিংসের ইতি টানেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার ইনিংস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রান, পরের ৬ ওভারে ৩০ রান এবং শেষ ৫ ওভারে ৫৩ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, ৪ ওভারে ২০ রান খরচে ৩ উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান ২ উইকেট নেন ২৫ রানে। তবে শরিফুল ইসলাম সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন, ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়েছেন। শেষদিকে কিছু ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিং ভুলে টাইগারদের আফসোস বাড়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মুশফিকের শততম টেস্টের মঞ্চ তৈরি, নভেম্বরে আসছে আয়ারল্যান্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্তের অপেক্ষা। সব ঠিক থাকলে নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট ম্যাচ। দেশের হয়ে এটি প্রথমবারের মতো কোনো ক্রিকেটারের জন্য মাইলফলক।

২০০৫ সালে লর্ডসে অভিষেকের পর থেকে মুশফিক দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে মাঠে নামছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকের পর আজ তিনি দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক।

এখন পর্যন্ত ৯৮ ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের সংগ্রহ ৬,৩২৮ রান। তার মধ্যে রয়েছে ১২টি সেঞ্চুরি, ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি এবং ২৭টি অর্ধশতক। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।

নতুন সূচি অনুযায়ী, ১১ নভেম্বর মিরপুরে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে ১৯ নভেম্বর সিলেটে। আয়ারল্যান্ড মূলত ওয়ানডে সিরিজ খেলতে চেয়েছিল, তবে তারা টেস্টকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এই সিরিজ শেষে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি লড়াই। প্রথম দুটি ম্যাচ ২৭ ও ২৯ নভেম্বর, আর শেষ ম্যাচ ২ ডিসেম্বর ঢাকায়।

এর আগে, বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত টাইগাররা তাদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফাঁকা সময় থাকবে, সম্ভাব্যভাবে সেই সময়েই আয়োজন হতে পারে বিপিএলের। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫