ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

মাত্র ১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে পেয়েও সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং আর শট নির্বাচনের ভুলে টাইগাররা হেরে গেল মাত্র ১১ রানে। অন্যদিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ধারালো ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল পাকিস্তান, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি তাদের। তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার ফারহান। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদির নিয়ন্ত্রিত স্পিনে এক পর্যায়ে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে মাত্র ৪৯। তবে এরপর মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নাওয়াজ দলের হাল ধরেন। মাঝের ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির কয়েকটি বড় শট এবং ফাহিম আশরাফের অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোভাবে ১৩৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল খুব একটা বড় নয়। জয় পেতে প্রয়োজন ছিল ধীরস্থির ব্যাটিং আর স্ট্রাইক রোটেশন। কিন্তু প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান ইমন আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এরপর একে একে সোহান, জাকের, হৃদয়, মেহেদি—সবাই ফিরলেন দায়িত্বহীন শটে। দলকে ভরসা দেওয়ার মতো কোনো জুটি গড়তে পারেননি ব্যাটাররা।
শামীম হোসেন কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। ২৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেললেও শাহিন আফ্রিদির বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ারে পরাস্ত হন তিনি। বাকিরা ছিলেন সম্পূর্ণ ছন্দহীন। সাইফ হাসান ১৭, নুরুল হাসান ১৬ এবং রিশাদ হোসেন অপরাজিত ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৪/৯।
বোলিং বিভাগে অবশ্য টাইগাররা লড়াই করেছে। তাসকিন আহমেদ ৩টি উইকেট নিয়ে স্পর্শ করেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক। রিশাদ ও মেহেদি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। তবে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায় সেই কৃতিত্ব ম্লান হয়ে যায়। মাঠের বাইরে বসে থাকা কোচিং স্টাফদের হতাশ মুখই যেন বলে দিচ্ছিল, কত বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো!
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান নিশ্চিত করল ২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনাল। ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। ৪১ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনো ফাইনালে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি।
ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার, দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। যেখানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল একে অপরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (হারিস ৩১, নাওয়াজ ২৫, আফ্রিদি ১৯, সালমান ১৯, ফাহিম ১৪*, ফখর ১৩; তাসকিন ৩/২৮, রিশাদ ২/১৮, মেহেদি ২/২৮, মুস্তাফিজ ১/৩৩)।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৪/৯ (শামীম ৩০, সাইফ ১৭, নুরুল ১৬, রিশাদ ১৬*, মেহেদি ১১, তানজিম ১০; আফ্রিদি ৩/১৭, রউফ ৩/৩৩, সাইম ২/১৬, নাওয়াজ ১/১৪)।
ফলাফল: পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: শাহিন শাহ আফ্রিদি।








