“কালো উইকেটের ফাঁদে বাংলাদেশ, জয়ের স্বাদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের”

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ‘কালো উইকেট’। সবুজ আউটফিল্ডের মাঝখানে ঘূর্ণিময় কালো মাটি, যা মূলত স্পিনারদের জন্য সহায়ক। বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল, এই উইকেটে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলা। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নিজেই এই কালো উইকেটের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছে। কিউরেটররা এই বিশেষ মাটিতে এমন মিশ্রণ ব্যবহার করেছেন যাতে বল নিচু থাকে, বেশি ঘুরে এবং পেসারদের সুবিধা কম হয়। তবে ব্যাটাররা সামান্য ঘূর্ণন, অপ্রত্যাশিত বাউন্স এবং স্লো ডেলিভারিতেও বারবার ভুল করছেন। প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্কোর যথাক্রমে ২০৭ ও ২১৩, যেখানে ৩০০ রান সাধারণ ঘটনা।
অবশ্য, এই উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা চমক দেখিয়েছে। ইতিহাস গড়েছে তারা—৫০ ওভার পুরো স্পিনার দিয়ে বল করেছে। খারি পিয়ের, গুড়াকেশ মতি, রস্টন চেজ, আকিল হোসেন ও পার্টটাইমার অ্যালিক আথানেজ ১০ ওভার করে বল করে ৫০ ওভার সম্পূর্ণ করেছেন। অ্যালিক আথানেজ আগের ১৫ ওয়ানডেতে মাত্র ৪ ওভার বল করেছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২ উইকেট নিয়ে মাত্র ১৪ রান খরচ করেন।
বিজয়ী দলের স্পিন জাদুকর আকিল হোসেন বলেন, “টিভি চালু করেও ভেবেছিলাম স্ক্রিনে সমস্যা! পরে বুঝলাম, পিচটাই কালো।” এ হাসির মধ্যে লুকিয়ে ছিল বাস্তবতা—বাংলাদেশের বানানো কালো মাটি এবার প্রতিপক্ষের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের ব্যাটাররা ফাঁদে পড়লেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুঝে নিয়েছে—ধৈর্য এবং ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনই জয়ের চাবিকাঠি। শাই হোপ ৬৭ বলে ৫৩ রানে ম্যাচটি সমান করেছে, এবং আকিল হোসেনের হাতে জয়ের কাঙ্ক্ষিত ম্যাচ তুলে দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৌম্য সরকার বলেন, “ওরা ভালো ব্যাট করেছে, তাই জিতেছে। আমরা স্পিন বল করেছি, তারা স্পিনে সাড়া দিয়েছে।”
তবে মাঠের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কৌশলগত ভুলই বাংলাদেশের পতনের মূল কারণ। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বোঝার আগেই বাংলাদেশ নিজস্ব স্ক্রিপ্টে আটকে পড়েছে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে একই কালো উইকেটে, যেখানে আবারও উত্তেজনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশ কি শিখবে নিজের পিচের ভাষা, নাকি আবারও নিজেদের তৈরি ফাঁদে জড়িয়ে যাবে?
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫










