বৃহস্পতিবার ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই চেষ্টা করে ঈদের আগেই কর্মীদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে, কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। যেখানে প্রশাসনিক স্টাফরা ঈদ বোনাস ও বেতন পেয়েছেন, সেখানে ফুটবল ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি এবং বাফুফের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নারী ফুটবলাররা ঈদের আগে বেতন পাননি।
বাফুফে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ৩৬ জন নারী ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। তবে সাবিনা-কৃষ্ণারা ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারকে বয়কট করায় তারা চুক্তি করেননি। বাফুফে উঠতি ফুটবলারদেরও চুক্তির আওতায় এনেছে, কিন্তু এক মাস পার হলেও তারা বেতন পাননি।
বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার নারী ফুটবলাদের বেতন বিষয়ে বলেন, “চুক্তির পরেই সবাইকে (যারা নতুন) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয়েছিল। অনেকে অ্যাকাউন্ট করেনি, তাই আমরা তাদের সম্মানী দিতে পারিনি। ঈদের পর সবাইকে একসঙ্গে দেওয়া হবে, আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে।”
তবে সাধারণ সম্পাদক যখন উঠতি ফুটবলারদের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তখন ফেডারেশনের সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাফুফে ভবন মতিঝিলেই অবস্থিত এবং ফুটবল দলের স্পন্সর ঢাকাব্যাংক। এত সহজেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হলেও, কেন তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেননি, তা এখনো রহস্য হয়ে রয়েছে।
এছাড়া, সাফ চ্যাম্পিয়ন নারী দলের জন্য বাফুফে দেড় কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু সেই টাকা এখনও প্রদান করা হয়নি। ফেডারেশন কর্তারা এটি ভুলে গেছে কিনা, এমন প্রশ্ন উঠছে।
আরেকদিকে, রেফারিদের বকেয়া সম্মানী বাংলাদেশের ফুটবলের পুরনো সংস্কৃতি। তাবিথ আউয়ালের নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরও, রেফারিরা শুধু পাঁচ রাউন্ডের সম্মানী পেয়েছেন, তা-ও গত মাসে। তারা ঈদের আগে অন্তত প্রথম লেগের বাকি চার ম্যাচের সম্মানী পাওয়ার আশা করেছিলেন, কিন্তু ফেডারেশন তা পূরণ করতে পারেনি। একাধিক রেফারি বলেন, “প্রথম লেগের পর এক মাস হয়ে গেল, আমরা এখনও সম্মানী পাইনি। শুনেছি, তারা নাকি স্পন্সর থেকে অর্থ পায়নি।”
এদিকে, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানিয়েছেন, ঈদের পর লিগ পুনরায় শুরু হওয়ার আগে রেফারিদের সম্মানী পরিশোধের চেষ্টা করা হবে। তবে ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রেফারিং নিয়ে নতুন কমিটির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
চলতি মৌসুমের অর্ধেক শেষ হলেও, বাফুফে রেফারিজ কমিটি গঠন করতে পারেনি। নির্বাচনের পাঁচ মাস পার হয়ে যাওয়ার পরেও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের পর রেফারির সম্মানী বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, তবে সেই প্রকল্পের কার্যক্রম এখনও দৃশ্যমান হয়নি।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম