অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতীয় খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে পাকিস্তানের আইসিসি অভিযোগ

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের যুব ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় খেলোয়াড়দের অশোভন আচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বারস্থ হবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি

দীর্ঘ ১৩ বছরের শৈল্পিক আক্ষেপ ঘুচিয়ে যুব এশিয়া কাপের শিরোপা জয় করা পাকিস্তান দল প্রধানমন্ত্রী শাহবাহ শরীফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিসিবি সভাপতি। নকভি জানিয়েছেন, ভারতীয় দলের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।

তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতীয় খেলোয়াড়রা আমাদের ক্রিকেটারদের উত্তেজিত করছিল। আমরা এই বিষয়ে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো। রাজনীতি এবং ক্রীড়াকে সব সময় আলাদা রাখা উচিত।”

দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দু’দল খেলোয়াড়দের মধ্যে কথার লড়াই কয়েকবার হয়েছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তবে মাঠে ব্যাটে ভারত যথাযথ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯১ রানে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়েছে

এর আগে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ সরফরাজ আহমেদও ভারতীয় খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কলকাতার অস্থিরতা পেছনে ফেলে হায়দরাবাদে স্বস্তির হাসি মেসির

ভারতের তিন দিনের সফরে এসে প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সফরের সূচনা হয়েছিল কলকাতা দিয়ে। তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে সেই দিনটি রূপ নেয় তিক্ত স্মৃতিতে। ওই বিশৃঙ্খলার রেশ কাটিয়ে অবশেষে হায়দরাবাদে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ইন্টার মায়ামি তারকা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে হায়দরাবাদে পৌঁছান মেসি। সন্ধ্যা ৮টার দিকে তিনি হাজির হন শহরের উপল স্টেডিয়ামে, যেখানে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শেষে মাঠে নামেন মেসি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনার সতীর্থ রদ্রিগো দি পল ও উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। গ্যালারিভর্তি দর্শক মেসিকে দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। মেসিও হাত নেড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। মাঠে মুখ্যমন্ত্রী ও শিশুদের সঙ্গে পাসিং খেলায় মেতে ওঠেন তিনি। কয়েকটি শট নেন গ্যালারির দিকে, যা দর্শকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।

মাঠ প্রদক্ষিণের পাশাপাশি প্রদর্শনী ম্যাচের বিজয়ী দলের হাতে ‘গোট কাপ’ ট্রফি তুলে দেন মেসি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। পরে সংবর্ধনা পর্বে মেসি রাহুল গান্ধীকে নিজের সই করা একটি জার্সিও উপহার দেন।

কলকাতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে হায়দরাবাদের আয়োজন ছিল একেবারেই বিপরীত। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি মাঠে নামতেই কয়েক শ মানুষ তাকে ঘিরে ধরায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। হাজার হাজার দর্শক মেসিকে সামনে থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর ও খেলোয়াড়দের টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও আগুন লাগানোর চেষ্টাও চলে।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। পরে মূল আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানা যায়।

এর বিপরীতে হায়দরাবাদের উপল স্টেডিয়ামে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল আয়োজন। দর্শকেরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছবি তোলার সুযোগ পান। বিমানবন্দর থেকে হোটেল ও স্টেডিয়াম—সবখানেই ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে নির্বিঘ্নেই পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

হায়দরাবাদ পর্ব শেষে মেসির ‘গোট ট্যুর’-এর পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই। সেখানে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় একটি প্যাডেল ম্যাচ এবং ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৭ বনাম ৭ জনের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আয়োজনে শচীন টেন্ডুলকারসহ বলিউডের একাধিক তারকার উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।

কলকাতার বিশৃঙ্খলার কালো ছায়া কাটিয়ে হায়দরাবাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজন মেসির ভারত সফরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন অপেক্ষা মুম্বাই পর্বে ফুটবলের এই মহাতারকা কী নতুন চমক দেখান।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




এবার নিজেদের মাঠে হারল রিয়াল মাদ্রিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : মৌসুমের প্রথম হারের মুখ দেখল রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ গোলে হেরে যায় সেল্টা ভিগোর কাছে। ফলে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়ল তাদের।

রিয়ালের এমন দুর্যোগ প্রথমার্ধে আঁচ করা যায়নি। একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিল, বিরতিতে গিয়েছিল অপরিবর্তিত স্কোরলাইন নিয়ে।

তবে পরিস্থিতিটা বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। গোল খায় রিয়াল। ৫৪ মিনিটে উইলিয়ট সোয়েডবার্গ পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে দারুণ এক ফ্লিক শটে সেল্টাকে এগিয়ে দেন।

এরপর ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফ্রান গার্সিয়া। ইনজুরি সময়ে লাল কার্ড দেখেন আলভারো কারেরাস। মাঠে না নামলেও রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখতে হয় ব্রাজিল ফরোয়ার্ড এনদ্রিককেও। কোচ শাবি আলনসোও দেখেন হলুদ কার্ড। রিয়াল যখন নয় জনের দলে, তখনই পাল্টা আক্রমণে সোয়েডবার্গ আবার গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন।

লা লিগায় রিয়ালের এটি দ্বিতীয় হার। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল। নভেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে লিভারপুলের মাঠেও হেরেছিল দলটি।

এই হারে কোচ শাবি আলনসোর দল বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ল। শনিবার রিয়াল বেতিসের মাঠে বার্সা ৫-৩ ব্যবধানে জিতেছে। রিয়াল এখন তৃতীয় স্থানে থাকা ভিয়ারিয়ালের থেকে মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে আছে, ভিয়ারিয়ালের আবার একটি ম্যাচ হাতে।




৬ দল নিয়ে বিপিএল শুরু ১৯ ডিসেম্বর

শুরু থেকেই এবার জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনুষ্ঠিত হবে পাঁচ দল নিয়ে। তবে খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করে একটি দল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ফলে ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

আগামী ১৯ ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে এই আসর শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ১৬ জানুয়ারি ফাইনাল দিয়ে শেষ হতে পারে এই আসর। সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘স্থানীয় খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করে ক্রিকেট বোর্ড দল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়াও সময়সূচীর সমস্যাও একটি কারণ ছিল কারণ পাঁচটি দলের সাথে প্রতিদিন দুটি ম্যাচের সময়সূচী নির্ধারণ করা কঠিন ছিল।’

বিপিএলে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটির নাম নোয়াখালী এক্সপ্রেস। এই দলটির মালিকানায় থাকছে পরিবহণ কোম্পানি দেশ ট্রাভেলস। এর আগে পাঁচ বছরের জন্য তাদের মালিকানা দেওয়া হয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস (চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস), রংপুর রাইডার্স (টগি স্পোর্টস), চট্টগ্রাম রয়্যালস (ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস), রাজশাহী ওয়ারিয়র্স (নাবিল গ্রুপ) ও সিলেট টাইটান্স (ক্রিকেট উইথ সামি)।

তবে এরমধ্যে চারটি দলের ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদস্য সচিব মিঠু। যদিও কোন চারটি দিয়েছে এবং কোন দুটি দল এখনও দেয়নি তা জানাননি তিনি। এদিকে এবারের বিপিএলের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া হবে নিলাম পদ্ধতিতে। এক যুগ পর বিপিএলে ফিরেছে এই পদ্ধতি। দুই দফা পিছিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




দুই দিনেই শেষ পার্থ টেস্ট!

পার্থে প্রথম দিন থেকে মনে হচ্ছিল, এটা বোধহয় বোলারদের ম্যাচই হতে যাচ্ছে। তৃতীয় ইনিংস পর্যন্ত হাবভাব ছিল তেমনটাই। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে যেন সব পাল্টে গেলো। এক হেডই পাল্টে ফেললো সব হিসেব-নিকেষ। ফলাফল, অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট শেষ হলো মাত্র দু-দিনেই। আর অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারালো ৮ উইকেটে।

প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের স্কোর ছিল একেবারেই টেনেটুনে পাস করার মতো। জ্যাক ক্রাউলি, বেন ডাকেট, জো রুট বা বেন স্টোকস, কেউ-ই নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেন নি। মাঝে অবশ্য অলি পোপের ৪৬, হ্যারি ব্রুকের ৫২ আর জেমি স্মিথের ৩৩ রানে ভর করে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭২-এ।

মূলত মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে ক্রিজে থিতুই হতে পারেননি ইংলিশ ব্যাটার বেশিরভাগই। অজি এই পেসারই তুলে নেন ৭ উইকেট।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অজি ব্যাটারদেরও দেখা গেছে হতশ্রী রূপ। ৩০-এর কোটা পার করতে পারেন নি একজনও। স্টিভেন স্মিথের ১৭, ট্রাভিস হেডের ২১ আর অ্যালেক্স ক্যারির ২৬ রানে ১৩২-এ পৌঁছে অলআউট হয় ‘মাইটি অজি’রা।

ইংল্যান্ড যখন দ্বিতীয় ইনিংসে নামে, তখন অনেকে আশা করেছিলেন, হয়ত এবার অ্যাশেজের উত্তেজনার কিছুটা দেখা মিলতে পারে। কিন্তু তারা হতাশ করে সবমিলিয়ে করতে পারে ১৬৪। অবশ্য ডাকেট, পোপ বা অ্যাটকিনসনরা আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু আশার প্রদীপ নিভে যেতেও সময় লাগেনি।

লক্ষ্য ছোট, কিন্তু আগের তিন ইনিংস দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, কিছু একটা হলেও হতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ড সমর্থকদের হতাশায় ডোবান এক ট্রাভিস হেড। যেখানে পার্থের পিচ মনে হচ্ছিল বোলারদের স্বর্গরাজ্য, সেই পিচকেই রীতিমত ব্যাটিং পিচ বানিয়ে ফেলেন তিনি।তার ৮৩ বলে ১২৩ রানে ৫ দিনের টেস্ট দুই দিনেই শেষ করে ফেলে অজিরা। এ দফায় ওয়ানডাউনে নামা মারনাস লাবুসেনও মোটামুটি মারকুটে স্টাইলে ফিফটি হাঁকান।

প্রথম ইনিংসে ৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্ক হয়েছেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।




সাকিবকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বাধিক টেস্ট উইকেট তাইজুলের

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম দুই উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ১৩ রান করা আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালর্বিনিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

এতেই টেস্ট ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল। সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

পরে তাইজুল তুলে নেন ৯ রান করা পল র্স্টালিংকে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে তাইজুল ইসলামের উইকেট ২৪৮টি। এর আগে দেশের পক্ষে সর্বাধিক ২৪৬ উইকেট ছিল সাকিবের। ঢাকা টেস্টে আইরিশদের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে সাকিবকে স্পর্শ করেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ছাড়িয়ে গেছেন।

সাকিব ৭১ ম্যাচের ১২১ ইনিংসে আড়াশ’ ছোঁয়া উইকেট নিয়েছেন। তাইজুল খেলছেন ৫৭তম টেস্ট, বোলিং করছেন ১০৩তম ইনিংসে। তার সামনে এখন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আড়াইশ’ টেস্ট উইকেট নেওয়ার সুযোগ। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনশ’ উইকেটের পথেও আছেন তিনি।

সাকিবের সর্বাধিক উইকেটের রেকর্ড ভাঙলেও সবচেয়ে বেশিবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখনো ভাঙতে পারেননি তাইজুল। ক্যারিয়ারে সাকিব ১৯বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। তাইজুল ১৭বার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। দু’জন ক্যারিয়ারে দু’বার করে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং লিগারে অবশ্য তাইজুল (৮/৩৯) ছাড়িয়ে গেছেন সাকিবকে (৭/৩৬)।




মুশফিকের পর লিটনের সেঞ্চুরি

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন দাস। ক্যারিয়ারের ৫ম সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ১৫৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

মিরপুরে গ্যাভিন হোয়েকে চার হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। এর আগে দিনের দ্বিতীয় ওভারে ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন। গতকাল শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ আছে দারুণ অবস্থায়।

এর আগে সবশেষ ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন লিটন দাস। ওই ইনিংসের পর বেশ কয়েকবার সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।




দুই দশকের সাধনায় মুশফিকুর রহিম শততম টেস্টের দ্বার প্রান্তে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ   :  মুশফিকুর রহিম প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন আজ। তার নামের সঙ্গে মিশে আছে অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম আর দেশের ক্রিকেটের উত্থান-পতনের ২০ বছরের ইতিহাস। ব্যাটে মনোযোগ, ঘাম ঝরানো অনুশীলন আর জয়ের পর মুষ্টিবদ্ধ উল্লাস—এগুলোই তার ট্রেডমার্ক। বাংলাদেশ যখন টেস্ট খেলুড়ে জাতি হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে, তখনই দেশের ক্রিকেটে তিন যুগ—আশরাফুল-হাবিবুলের সময় থেকে সাকিব-তামিম যুগ, আবার নতুনদের উত্থান—সবই দেখেছেন তিনি। সমালোচনা, ব্যর্থতা, দায়িত্ব—সবকিছুকে ছাপিয়ে সামনে এগিয়েছেন একটাই বিশ্বাস নিয়ে: কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য নেই।

২০০৫ সালে কিশোর বয়সে লর্ডসে অভিষেক। অনেকেই সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু কোচ ডেভ হোয়াটমোর শুরুতেই বুঝেছিলেন—এই ক্ষুদে কিপার-ব্যাটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবেন। সেই পথ ছিল চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ডেল স্টেইনকে ছক্কা হাঁকানো কিংবা ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় ৫৬—সবই প্রমাণ করেছে, মুশফিক চাপের সময়ে ডেলিভার করেন তার সেরা পারফর্মেন্স।

মুশফিকের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর। ২০১৩ সালে গলে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করে তিনি শুধু ইতিহাসই লেখেননি, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাসের পারদও চড়িয়ে উপরের স্তরে। মমিনুল হক মনে করেন, ওই ইনিংসই বাংলাদেশ ব্যাটিংকে নতুন উচ্চতায় তুলেছে।

তবে ক্যারিয়ারে মুশফিকের নেতৃত্ব ছিল উত্থান-পতনে ভরা। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় যেমন ছিল, তেমনি ছিল হতাশার দিনও। তবু ব্যাট হাতে দিনকেদিন শাণিত হয়েছেন তিনি। নেতৃত্ব ছাড়ার পরই এসেছে তার অধিকাংশ সেঞ্চুরি।

২০১৯ সালে উইকেটকিপিং থেকে সরে দাঁড়ানো ছিল আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ব্যাটিংয়ের প্রতি পুরো মনোযোগ দেয়ায় বেড়েছে তার কনভার্শন রেট। ব্যাটিং গড় ৩৭ থেকে ৪৫-এ উঠেছে। হাবিবুল বাশারের ভাষায়—এ সিদ্ধান্তই মুশির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়কে দীর্ঘ করেছে।

মুশফিকের সাফল্যের বড় রহস্য তার অনুশাসন।

সতীর্থদের কাছে তিনি নিবেদন, নিয়মানুবর্তিতা আর পেশাদারিত্বের জীবন্ত উদাহরণ।

মমিনুল বলেন, ‘ওনার লাইফস্টাইলই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।‘

দীর্ঘদিনের বন্ধু তামিম ইকবালের মতে, নিজের খেলাকে বোঝার ক্ষমতাই মুশফিককে আলাদাভাবে সফল করেছে।

শততম টেস্ট খেলা কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং মুশফিকের অদম্য মানসিকতা, নিজেকে বারবার প্রমাণ করা এবং দেশের ক্রিকেটের জন্য এক অনুসরণীয় পথ তৈরি করার প্রতিদান। এই অর্জন যেন এক ‘আয়রন ম্যান ট্রায়াথলন’ শেষ করার গৌরব!

 




২২ বছর পর ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  অবশেষে জয়ের হাসি হাসলো বাংলাদেশ । ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের পর আবার ভারতের বিপক্ষে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। ১১ মিনিটে শেখ মোরছালিনের করা গোলটিকে ধরে রেখে ১–০ গোলেই এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচটি জিতল বাংলাদেশ। ২০২৭ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ জিতল পাঁচ ম্যাচ পর। আজকের আগে সর্বশেষ গত জুনে প্রীতি ম্যাচে ভুটানকে ২–০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

শেষ মুহূর্তের গোলে বারবারই আশাভঙ্গের বেদনা সওয়া বাংলাদেশ আজ দাঁতে দাঁত চেপে শেষ কয়েকটা মিনিট পার করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের আক্রমনের পর আক্রমণ করলেও দৃঢ়তার সঙ্গে সে সব সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাছাইপর্বে প্রথম জয়ের পর পাঁচ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বাংলাদেশ। আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

 




মাথা ফাঁটল রোমানের বিশ্বকাপ হকিতে বাংলাদেশের বড় হার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:     বৃহস্পতিবার হকি বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৮-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। শুরুতে গোল হজমের পর দ্রুত তা পরিশোধ করে বাংলাদেশ। মনে হয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করবে স্বাগতিকরা কিন্তু  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান দাপট দেখানো শুরু করে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা হয়ে পড়েন অসহায়। ম্যাচটিও হয়েছে একপেশে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল।

মাওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের ম্যাচের চার মিনিটে রক্ষনের রোমান সরকারের প্রতিপক্ষের স্টিকের আঘাতে মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছে। সেই মুহূর্তে ওমানি আম্পাায়ার শুকাইলি মাজিনের স্ট্রোকের নির্দেশ। একদিকে রক্তাক্ত রোমানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে, অন্যদিকে আহমদ বাটের স্টিক থেকে প্রথম গোল পাকিস্তানের।

প্রথম কোয়ার্টারের শেষ মিনিটে চমৎকার এক রিভার্স হিটে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান হোজাইফা। বাকি সময়টা আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকেন সফরকারিরা। প্রথম দুই অর্ধে তারা এগিয়ে থাকে ৫-১ গোলে। এর মাঝে তারা ছয়টি পিসি আদায় করে একটি গোল করে। বাকি সবগুলো ফিল্ড গোল। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আলো ছড়ায় স্বাগতিক হকি যোদ্ধারা।

প্রথমার্ধে কোন পিসি না পেলেও তৃতীয় এবং চতুর্থ কোয়ার্টারে আদায় করে নেয় ৫ টি পিসি। ম্যাচে একেবারে শেষ মুহুর্তে চতুর্থ পিসি থেকে আমিরুল ইসলাম দলকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন। তার আগে আরও  তিন গোল করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের হয়ে আরফাজ, নাদিম ২টি করে গোল করেন। একটি করে গোল করেন আম্মাদ ভাট, গজনফার, শহীদ হান্নান ও রানা ওয়াহিদ।