বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিশ্চিত




মাত্র ০.০১ রান রেটের ব্যবধানে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েরা, নাটকীয় বিদায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ক্রিকেট এমন এক খেলা, যেখানে নাটকীয়তা যেন নিত্যসঙ্গী। আর তারই জীবন্ত প্রমাণ রাখলো আজকের নারী ক্রিকেট বিশ্ব। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ মুহূর্তে এমন এক উত্তেজনা তৈরি হলো, যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের দরকার ছিল অবিশ্বাস্য এক লক্ষ্য ছোঁয়ার। থাইল্যান্ডের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য পেরোতে হতো মাত্র ১০ ওভারে, কিংবা ১৭২ রান করতে হতো ১১ ওভারে। এমন অসম্ভব সমীকরণকে সম্ভব করতে গিয়ে আজ নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেয় ক্যারিবীয় নারীরা।

ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ১০.৫ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়েই যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল চার ও ছয় রান। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রথম বলেই তারা ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলে। তবে এই জয়ের পরেও তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। কারণ ছিল নেট রান রেটের জটিল হিসাব।

অন্যদিকে, দুর্দান্ত সূচনায় টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ নারী দল। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে দলটি ছিল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচে হেরে সেই স্বপ্ন কিছুটা ফিকে হয়ে যায়। তখন সব নির্ভর করছিল রান রেটের ওপর। পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের ফলে বাংলাদেশের রান রেট দাঁড়ায় +০.৬৩৯। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিল –০.২৮৩। আজকের ম্যাচ জিতলেও ক্যারিবীয় নারীদের রান রেট এসে দাঁড়ায় +০.৬৩।

এই ০.০১ পয়েন্টের ব্যবধানেই বদলে যায় ভাগ্য। সমান ৬ পয়েন্ট হলেও রান রেটের কারণে বিশ্বকাপের টিকিট চলে যায় বাংলাদেশের হাতে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয়, পাকিস্তানের পর বাছাইপর্ব থেকে নারী বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দ্বিতীয় দল বাংলাদেশ। এবারের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ বসবে ভারত মাটিতে।

এদিকে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের চার ম্যাচে হারা থাইল্যান্ড শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। ৮৫ রানেই হারায় পাঁচ উইকেট। এরপর দলের হাল ধরেন নাথাকান ছানথাম, ৬৬ রানের ইনিংসে ভর করে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৬। কিন্তু এই সংগ্রহও যথেষ্ট ছিল না। যদিও থাইল্যান্ড ম্যাচে জিতে পয়েন্টের সমতা আনে ক্যারিবীয়রা, তবে হার মানে পরিসংখ্যানের কাঠগড়ায়।

শেষ পর্যন্ত এই নাটকীয় লড়াইয়ে বিজয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ। একরাশ আবেগ, রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা আর অল্পের ব্যবধানেই নারীদের ক্রিকেট বিশ্বে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সুযোগ ছিল নিজেদের ভাগ্যটা নিজেরাই লেখার; হাতে ছিল দুই ম্যাচ; ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা পাকিস্তান– দুই দলের যে কারো বিপক্ষে জিতলেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারত টাইগ্রেসরা। তার একটিও হলো না। দুটিতেই হেরে এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

ক্যারিবিয়ান মেয়েদের কাছে ৩ উইকেটে হারের পর আজ পাকিস্তানের মেয়েদের কাছে হার এসেছে ৭ উইকেটে। লাহোরে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে তোলে ১৭৮ রান। জবাবে মুনিয়া আলী এবং আলিয়া রিয়াজের জোড়া অর্ধশতক পাকিস্তানকে এনে দিয়েছে সহজ জয়। ৬২ বল হাতে রেখেই জয় তুলেছে স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশের নেট রানরেট নেমে এসেছে ০.৬৪–এ। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট এখন -০.২৮। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ান নারীরা যদি বড় ব্যবধানে জয় না পায়, তবেই কেবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশের মেয়েরা।




টসে জিতে ব্যাটিংয়ের বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : টসে জিতে ম্যাচটিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এ নিয়ে বাছাইয়ের পাঁচ ম্যাচে চতুর্থবার আগে ব্যাট করবে বাংলাদেশ। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। ট
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদশ আজকের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। ফর্মহীন সোবহানা মোস্তারির জায়গায় একাদশে নেওয়া হয়েছে উইকেটরক্ষক ব্যাটার দিলারা আক্তারকে। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা একাদশে আর কোনো পরিবর্তন আনেনি জ্যোতির দল।

পাকিস্তান নিজেদের গত ৪ ম্যাচ জিতে আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। তবে এই ম্যাচে জয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। জ্যোতিরা পাকিস্তানকে হারাতে পারলে আর কোনো সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়তে হবে না। হেরে গেলে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে দিনের অপর ম্যাচের (ওয়েস্ট ইন্ডিজ-থাইল্যান্ড) দিকে। বাংলাদেশ হেরে গেলে অপর ম্যাচে ক্যারিবীয়দেরও হার চাইবে টাইগাররা। না হারলেও যেন উইন্ডিজদের মেয়েদের জয়ের ব্যবধানটা কম থাকে।




বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ বাংলাদেশের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চলতি বছরের শুরুতে (জানুয়ারি) মেয়েদের ২০২৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই নিগার সুলতানা জ্যোতির দল আইসিসির এই মেগা টুর্নামেন্টটির টিকিট পেয়ে যেত। আরও একবার সেই ক্যারিবীয়দের সঙ্গেই লড়তে হচ্ছে টাইগ্রেসদের। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আজ (শনিবার) উভয় দলই নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে।

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারায় বিশ্বকাপে উঠতে চলমান বাছাইপর্ব খেলতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। যেখানে টানা তিন জয় দিয়ে অনায়াসেই নিজেদের কক্ষপথে ছিল জ্যোতির দলটি। থাইল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে তারা যথাক্রমে হারায়। কিন্তু বিপত্তিটা বাধে চতুর্থ ম্যাচে। উইন্ডিজ মেয়েদের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে খেলতে নেমে ৪৬ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ক্যারিবিয়ানরা।

স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামছে। লাহোরের সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। পাকিস্তান নিজেদের গত চার ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। ফলে আর বাকি একটি স্পট। সেই জায়গাটি দখলে নিতে আজকের ম্যাচের আগে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল স্কটল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। কিন্তু গতকাল আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে স্কটিশরা সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আর আগেই ছিটকে গিয়েছিল আইরিশ মেয়েরা।




বিশ্বকাপের অপেক্ষা বাড়ল বাংলাদেশের, উইন্ডিজের কাছে পরাজিত




সাকিবের আওয়ামী লীগে যোগদান শুধু ভুল সিদ্ধান্ত নয়, নৈতিক ব্যর্থতাও বটে: প্রেস সচিব

 ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের রাজনীতিতে যোগদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল পছন্দের সিদ্ধান্ত কেবল ভুল পদক্ষেপ ছিল না, বরং এটি নৈতিক ব্যর্থতাও বটে।বাসস

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ ওই পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, সাকিব আল হাসানের রাজনীতিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। একজন নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার অধিকার তার রয়েছে। সাকিব রাজনীতিতে যোগদান করেছেন, সেটি সমস্যা নয়, বরং বড় প্রশ্ন হলো, রাজনীতিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি কাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব যখন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত—যেমন গণহত্যা, গুম, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, বিরোধীদের নামে মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পদ্ধতিগত দুর্নীতি, এমনকি ব্যাংক ডাকাতির মতো অপরাধও অন্তর্ভুক্ত, তখন সেই দলে সাকিবের যোগদানের সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।  কেবল এটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল না, এটি ছিল আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারির মধ্যে থাকা শাসন ব্যবস্থার প্রতি মৌন সমর্থন।

তিনি আরও লেখেন, একদলীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশের শীর্ষ ক্রীড়াবিদের কথা মনে পড়ে না, যিনি স্বেচ্ছায় এমন একটি সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সাকিব কেবল দেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে ভুল করেছেন তা নয়—তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা উপেক্ষা করেছেন। এর থেকে দুটি বিষয় বোঝার ইঙ্গিত দেয়, হয় তিনি রাজনৈতিকভাবে ভীষণ অজ্ঞ বা সরল অথবা খারাপ কিছু যা ব্যক্তিগত লাভের জন্য এক ধরনের সুবিধাবাদী পদক্ষেপ।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বড় উদ্বেগের বিষয় সাকিবের কাছ থেকে কার্যকর জনসংযোগ বা কৌশলগত যোগাযোগের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সাকিব চাইলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস ও ইমেজ ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির পরামর্শ নিতে পারতেন, যারা বিশ্ববিখ্যাত সেলিব্রিটিদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। তারা নিশ্চয়ই তাকে এমন একটি সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখত, যা এখন তার মর্যাদা ও ব্র্যান্ড উভয়কেই কলুষিত করেছে। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সময়ে তিনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। তাই প্রফেশনাল পিআর পরামর্শ নেওয়া কখনো তার নাগালের বাইরে ছিল না।

তিনি বলেছেন, তবে যেটি এই সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিকটুভাবে চোখে পড়ে, তা হল তার নীরবতা। বিশেষ করে তার সরকার এবং তার নিজের শহর মাগুরায় তার সমর্থকদের দ্বারা সংগঠিত সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে। মাগুরায় বেশ কয়েকজন বিরোধী কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তবুও সাকিব কিছুই বলেননি। কোনও নিন্দা নেই, ন্যায়বিচারের জন্য আহ্বানও অনুপস্থিত। কোনও ক্ষমা প্রার্থনা নেই। তার নীরবতা কেবল হতাশাজনক ছিল না, এটি বধির ছিল।

প্রেস সচিব লেখেন, সাকিব বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার হতে পারেন। কিন্তু প্রতিভা ও জাতীয় দলের হয়ে পারফর্ম করা কিন্তু দায়মুক্তি দেয় না। একটি সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে—যাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে—তিনি দেশের ইতিহাসের কিছু অন্ধকার অধ্যায়কে বৈধতা দিয়েছেন।

শফিকুল আলম লেখেন, এই মুহূর্তে, তার কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা হল লোভ। তার রাজনৈতিক পদক্ষেপে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের সাথে তার সম্পর্ক সবকিছু একই দিক নির্দেশ করে। সেটি হলো ব্যক্তিগত লাভ, জনসেবা নয়।

প্রেস সচিব পোস্টের ইতি টানেন এটি লিখে, একদিন সাকিবকে ফিরে আসতে হতে পারে। সম্ভবত তখন তিনি অবশেষে সত্যের মুখোমুখি হবেন আর জানবেন আওয়ামী লীগে তার যোগদানের সিদ্ধান্ত কেবল একটি ভুল পদক্ষেপই ছিল না, বরং একটি বিশ্বাসঘাতকতা ছিল।




টিভিতে আজকের খেলা 




বাংলাদেশের হয়ে খেলে অবসর নিতে চান সাকিব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  অনেকেই সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি দেখছেন। কিন্তু সাকিবের ভাবনা অন্য রকম। তিনি এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন মনে পুষে রেখেছেন। বাংলাদেশের হয়ে খেলে অবসর নিতে চান দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার।গত বছর আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিব আল হাসান আর দেশে ফিরতে পারেননি। খেলতে পারেননি আর বাংলাদেশ দলের হয়েও।

সাকিব তাঁর এ ভাবনার কথা বলেছেন বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কখন টের পেলেন বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ আর নেই? সাকিবের উত্তর, ‘যখন বুঝলাম এত চাপ নিয়ে খেলতে পারব না, তখনই মনে হয়েছে শেষ। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমি আমার দেশের হয়ে খেলতে চাই না—আমি এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাই, আর এই ইচ্ছা সব সময়ই থাকবে। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা—সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি।’

সাকিব বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সেই ভারত সফরে তিনি জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আর খেলবেন না। পাশাপাশি অক্টোবরে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেট ছাড়ারও ঘোষণা দেন এবং ওয়ানডেতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন সাকিব।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা আমার প্রাপ্য এবং বেশির ভাগ মানুষই চায় আমি দেশের হয়ে খেলে অবসর নিই এবং আরও কিছুদিন চালিয়ে যাই। আমার বিশ্বাস, আরও এক-দুই বছর খেলতে পারব।

কিন্তু রাজনৈতিক কারণে একটি ইচ্ছাও পূরণ হয়নি বিগত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাকিবের। তখন সাকিবকে জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তিনি দেশে না এলেই ভালো হবে। তাই সাকিবও আসেননি।

কিন্তু দেশে আসতে না পারলে কী হবে, দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন এখনো বিসর্জন দেননি ৩৮ বছর বয়সী এই স্পিন অলরাউন্ডার। একই প্রশ্নেরই উত্তরে একটি জায়গায় সাকিব বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি সংসদ সদস্য ছিলাম কিন্তু এখন তো আর নেই এবং কোনো দলে কোনো রাজনৈতিক পদও নেই। যে কাজটি আমি ১৮ থেকে ২০ বছর (বাংলাদেশের হয়ে খেলা) ধরে করছি, সেটা থামিয়ে দেওয়াটা কি আপত্তিকর নয়? আমি এখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলে ভালোভাবে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। যদি সুযোগ থাকে আমি এক সিরিজ, দুই সিরিজ নাকি আরও এক বছর খেলব, সেই পরিকল্পনা করতে চাই।’

সাকিব এরপর স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘দেশের হয়ে খেলাই আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা এবং সে জন্য আমি নিজের সবকিছু দিয়ে দিতে রাজি। এটাই আমার স্বপ্ন এবং সেটা পূরণ করতে আমি সবকিছুই করছি—ক্রীড়া উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলছি।’

দেশে ফেরার বিষয়ে বিসিবি সাহায্য করতে পারেনি বলে সাকিবের কোনো অভিযোগ নেই। এ নিয়ে সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছেন, ‘সবারই সীমাবদ্ধতা আছে।’ বাংলাদেশের হয়ে ১৯ বছর ক্রিকেট খেলা সাকিব আরও বলেছেন, ‘গত ১৮ বছর নাকি সর্বশেষ ৬ মাস, কোনটা দেখে আমাকে বিচার করবেন, তা আপনাদের ইচ্ছা।’

তবে সাকিব মনে করেন, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা তার প্রাপ্য , ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা আমার প্রাপ্য এবং বেশির ভাগ মানুষই চায় আমি দেশের হয়ে খেলে অবসর নিই এবং আরও কিছুদিন চালিয়ে যাই। আমার বিশ্বাস, আরও এক-দুই বছর খেলতে পারব।’




আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারতীয় ক্রিকেট দল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সিরিজ খেলতে আগামী আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আজ এই সিরিজের সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  বাসস

সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ও ভারত।

১৩ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছাবে ভারত। ১৭ আগস্ট থেকে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। পরের ওয়ানডে হবে ২০ আগস্ট। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

এরপর চট্টগ্রামে যাবে বাংলাদেশ ও ভারত ক্রিকেট দল। সেখানে একটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দু’দল। ২৩ আগস্ট বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২৬ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ ও ভারত। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ খেলতে আবারও ঢাকায় ফিরবে তারা। মিরপুরে টি-টোয়েন্টির শেষ দুই ম্যাচ হবে যথাক্রমে- ২৯ ও ৩১ আগস্ট।

এই প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষীক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত।

ভারত সিরিজ নিয়ে বিসিবি প্রধান নির্বাহি নিজাম উদ্দিন চৌধুরি বলেন, ‘এই সিরিজটি আমাদের হোম ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং প্রত্যাশিত আয়োজনগুলোর মধ্যে একটি হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সকল সংস্করণেই ভারত অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে। দু’দেশেরই লাখ-লাখ ক্রিকেটপ্রেমী এই সিরিজটি উপভোগ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এবং ভারত বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে এবং আমি নিশ্চিত এটিও উত্তেজনাপূর্ণ এবং উপভোগ্য সিরিজ হবে।’

ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি দ্বিপাক্ষীক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ও ২০২২ সালে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের দু’টি সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা।