টিকে থাকলো অষ্ট্রেলিয়া, ‘যদি’র মারপ্যাচে পাকিস্তান: যা বললেন বাবর আজম

 চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বাঁচা মরার লড়াইয়ে টিকে গেলো অষ্ট্রেলিয়া। ওপর দিকে ‘যদি’র সমীকরণে আটকে গেলো পাকিস্তান।

বিশ্বকাপের চলতি আসরে টানা দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় পায় পাকিস্তান। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পর আজ বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচ আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় পাকিস্তান।

শুক্রবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ড ৩৬৮ রান তাড়া করতে নেমে ৩০৫ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান ম্যাচ হারে ৬২ রানে।

খেলা শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, বোলিংয়ে প্রথম ৩৪ ওভারে আমরা অনেক রান খরচ করেছি। শুধু তাই নয়! আমরা বেশ কিছু ক্যাচও মিস করি; যে কারণে ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শকে সেঞ্চুরির আগে আটকাতে পারিনি।

বাবর আজম আরও বলেন, ব্যাটিংয়ে নামার আগে দলকে আমার বার্তা ছিল, আমরা এই রান তাড়া করে জিততে পারি। কারণ বিশ্বকাপে আমরাই রেকর্ড ৩৪৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছি। আজও আমাদের জয়ের টার্গেট ছিল। কিন্তু আমরা ভালো শুরুর পরও বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারিনি। যে কারণে ম্যাচটা হাত থেকে ফসকে যায়।




বেঙ্গালুরু পরীক্ষায় অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ১৭টি ম্যাচ হয়ে গেছে। অথচ বেঙ্গালুরুবাসী এখনো বিশ্বকাপের মজা সেভাবে পায়ইনি। কি করে পাবে। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে এখনো যে কোনো ম্যাচই হয়নি। বেঙ্গালুরুবাসীর সেই আক্ষেপ ঘুচে যাচ্ছে আজ। পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দিয়ে ২০২৩ বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের অনেক ঘটনার সাক্ষী বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামীর আজকের ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান, দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম তিন ম্যাচে পাকিস্তানের পয়েন্ট ৪, অস্ট্রেলিয়ার ২। মানে প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া জিতেছে মাত্র একটিতে। ফলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল রাখতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে আজ জিততেই হবে। হারলে অসিরা পড়ে যাবে খাদের কিনারায়। অসিদের মতো অতটা কঠিন না হলেও হারলে পাকিস্তানও পড়ে যাবে চাপে।

সুতরাং আজ বেঙ্গালুরুতে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে টানা হারলেও শেষ ম্যাচে জিতেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। মজার ব্যাপার হলো—পাকিস্তানেরও দুই জয়ের একটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। যাই হোক, প্যাট কামিন্সের দল আজ সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামছে মাঠে। বিপরীতে তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেও আজ মাঠে নামার পথে পাকিস্তানের সঙ্গী হচ্ছে হতাশা। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে চিরশত্রু ভারতের কাছে যে হেরেছে বাবর আজমের দল। হায়দরাবাদের সেই হারটাও ছিল অসহায়ভাবে।

যে হারের পর স্বদেশি সমর্থক-বোদ্ধাদের অনেক সমালোচনা হজম করতে হয়েছে বাবর আজমদের। আজ হারলে সমালোচনার তীর যে আরো বেশি করে রক্তাক্ত করবে, সেটা জানেন বাবর আজমরা। তাই যে কোনোভাবে বেঙ্গালুরুতে জয় চাইবেন তারা। ওদিকে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তো আগেই বলে দিয়েছেন, ‘এখন প্রতিটা ম্যাচই আমাদের জন্য ফাইনাল।’ প্যাট কামিন্সের সেই ‘ফাইনাল’ জিতে দেশবাসীর সমালোচনা বন্ধ করতে পারবেন বাবর আজমরা? নাকি নিজেদের ট্যাগ লাগানো ‘ফাইনাল’ জিতে অস্ট্রেলিয়ানরাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেবেন ‘আরেক ফাইনালের’ জন্য?




কোহলির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে হেসে খেলে হারালো ভারত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিরাট কোহলি যখন ৯৭ রানে অপরাজিত, ভারতের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ২ রান। ম্যাচ তো ভারতের পক্ষে চলে গেছে অনেক আগেই। পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা, কোহলি কি পারবেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৮তম সেঞ্চুরি করতে?

কোহলি পারলেন। সেটাও আবার ছক্কা হাঁকিয়ে। ভারত ম্যাচ জিতলো হেসেখেলে, ৭ উইকেট আর ৫১ বল হাতে রেখে। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর টানা তৃতীয় ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ-ভারত লড়াই, গত কয়েক বছরে আলাদা মাত্রা পেয়েছে। এই তো গত এশিয়া কাপেও ভারতকে হারিয়েছিল টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে একবারই ভারতবধ করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সেটাও ১৬ বছর আগে, ২০০৭ সালে।

এরপর আর সাফল্য ধরা দেয়নি। দিলো না এবারও। বরং এশিয়া কাপে ভারতকে হারানোর পর এবার যতটুকু লড়াই আশা করা গিয়েছিল, তার ছিঁটেফোঁটাও দেখাতে পারেনি টাইগাররা।

ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৫৭ রানের। ব্যাটিং শক্তিতে বলীয়ান দলটিকে এই লক্ষ্যে একদমই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ প্রথম উইকেটে ৯৩ রান তুলেছিল। ভারত ওপেনিং জুটিতে তোলে ৮৮ রান। অবশেষে শুভমান গিল আর রোহিত শর্মার ভয়ংকর হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।

হাসানকে ডিপ স্কয়ার লেগে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন রোহিত (৪০ বলে ৪৮)। মাত্র ২ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি রোহিত। তবে অপর ওপেনার গিল ঠিকই ফিফটি ছুঁয়েছেন।

যদিও ফিফটির পরপরই গিলকে আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডিপ মিডউইকেট বাউন্ডারিতে মাহমুদউল্লাহ নিয়েছেন দারুণ এক ক্যাচ। ৫৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ৫টি চার আর ২টি ছক্কা হাঁকান গিল। ১৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ভারত।

শ্রেয়াস আয়ার সেট হয়ে আউট হয়েছেন। মিরাজের বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ বলে করেন ১৯ রান। ১৭৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। ৯৭ বলে ৬ চার আর ৪ ছক্কায় ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি।

এর আগে মাহমুদউল্লাহর শেষের ঝড়ে ভর করে ৮ উইকেটে ২৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ যখন ক্রিজে এসেছিলেন, ১৭৯ রানে ৫ উইকেট নেই টাইগারদের। সেখান থেকে দেখেশুনে এগোলেন। শেষের দিকে তো ব্যাট হাতে ঝড়ই তুললেন রিয়াদ।

৩৬ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে হাঁকালেন তিনটি করে চার-ছক্কা। মাহমুদউল্লাহর এই শেষের চেষ্টা আর তানজিদ তামিম আর লিটন দাসের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ভারতের বিপক্ষে আড়াইশোর্ধ্ব পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নেই। বাংলাদেশ কেমন করবে এমন একটা শঙ্কা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। এমন যখন পরিস্থিতি, তখন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

পুনেতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার লিটন দাস এবং তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৬৩ রান তুলে ফেলেন ছোট তামিম এবং লিটন দাস। ১০ম ওভারে শার্দুল ঠাকুরকে টানা দুটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি মারেন তানজিদ তামিম।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে অন্যতম অবদান রেখেছিলেন তানজিদ তামিম। দারুণ সম্ভাবনাময়ী ব্যাটার। কিন্তু জাতীয় দলে জায়গায় পাওয়ার পর কেন যেন নিজেকে মেলেই ধরতে পারছিলেন না। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।

এরপর আরও ৭ ম্যাচে সুযোগ দেয়া হয়েছিলো তাকে; কিন্তু খোলস ছেড়ে বের হতেই পারছিলেন না তিনি। সর্বোচ্চ রান ১৬। এমন পরিস্থিতিতে তানজিদ তামিমকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে মেহেদী হাসান মিরাজকে মেকশিফট ওপেনার হিসেবে খেলানোর দাবিও উঠেছিলো জোরালোভাবে।

কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তার ওপরই আস্থা রাখছিলো। শেষ পর্যন্ত সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ভারতের বিপক্ষে পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রীতিমত ঝড় তোলেন তানজিদ হাসান তামিম।

ভারতীয় বোলারদের পিটিয়ে ৪১ বলেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ওপেনার। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মারও মারেন তিনি। তবে ঝোড়ো ফিফটি করার পর কুলদিপ যাদবের এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ৪৩ বলে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান।

এরপর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি শান্ত। ১৭ বলে ৮ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ আউটে ফেরেন তিনি।

প্রমোশন পেয়ে চার নম্বরে আসা মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যর্থ। ১৩ বলে ৩ রান করে তিনি মোহাম্মদ সিরাজের লেগ সাইডে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে বসেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল। ১২৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাস ফিফটি করে সাজঘরে ফেরেন। জাদেজাকে লংঅফে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটন। ৮২ বলে ৭ বাউন্ডারিতে করেন ৬৬ রান। ১৩৭ রান তুলতে হারায় ৪ উইকেট।

সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৫৮ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। যদিও এই জুটিতে মূল অবদান মুশফিকেরই। হৃদয় ভীষণ ধীরগতিতে ব্যাটিং করেছেন।

মন্থর ব্যাটিং করে যখন সেট হলেন, তখনই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন হৃদয়। ৩৫ বলে ১৬ রান করে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে। বুমরাহর বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাজপাখির মতো এক ক্যাচ নেন জাদেজা। ৪৬ বলে মুশফিকের ৩৮ রানের ইনিংসটিতে ছিল একটি করে চার-ছক্কার মার।

নাসুম আহমেদ ১৮ বলে ১৪ করে শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহকে ভালো সঙ্গ দেন। আর ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকান শরিফুল ইসলাম (৩ বলে ৭)।

ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ আর রবীন্দ্র জাদেজা নেন দুটি করে উইকেট।




মাহমুদউল্লাহর শেষের ঝড়ে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যখন ক্রিজে এসেছিলেন, ১৭৯ রানে ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের। সেখান থেকে দেখেশুনে এগোলেন। শেষের দিকে তো ব্যাট হাতে ঝড়ই তুললেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

৩৬ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে হাঁকালেন তিনটি করে চার-ছক্কা। মাহমুদউল্লাহর এই শেষের চেষ্টা আর তানজিদ তামিম আর লিটন দাসের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২৫৬ রানের লড়াকু পুঁজি দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ জিততে হলে ভারতকে করতে হবে ২৫৭।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নেই। বাংলাদেশ কেমন করবে এমন একটা শঙ্কা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। এমন যখন পরিস্থিতি, তখন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

পুনেতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার লিটন দাস এবং তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৬৩ রান তুলে ফেলেন ছোট তামিম এবং লিটন দাস। ১০ম ওভারে শার্দুল ঠাকুরকে টানা দুটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি মারেন তানজিদ তামিম।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে অন্যতম অবদান রেখেছিলেন তানজিদ তামিম। দারুণ সম্ভাবনাময়ী ব্যাটার। কিন্তু জাতীয় দলে জায়গায় পাওয়ার পর কেন যেন নিজেকে মেলেই ধরতে পারছিলেন না। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।

এরপর আরও ৭ ম্যাচে সুযোগ দেয়া হয়েছিলো তাকে; কিন্তু খোলস ছেড়ে বের হতেই পারছিলেন না তিনি। সর্বোচ্চ রান ১৬। এমন পরিস্থিতিতে তানজিদ তামিমকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে মেহেদী হাসান মিরাজকে মেকশিফট ওপেনার হিসেবে খেলানোর দাবিও উঠেছিলো জোরালোভাবে।

কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তার ওপরই আস্থা রাখছিলো। শেষ পর্যন্ত সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ভারতের বিপক্ষে পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রীতিমত ঝড় তোলেন তানজিদ হাসান তামিম।

ভারতীয় বোলারদের পিটিয়ে ৪১ বলেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ওপেনার। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মারও মারেন তিনি। তবে ঝোড়ো ফিফটি করার পর কুলদিপ যাদবের এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ৪৩ বলে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান।

এরপর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি শান্ত। ১৭ বলে ৮ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ আউটে ফেরেন তিনি।

প্রমোশন পেয়ে চার নম্বরে আসা মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যর্থ। ১৩ বলে ৩ রান করে তিনি মোহাম্মদ সিরাজের লেগ সাইডে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে বসেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল। ১২৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাস ফিফটি করে সাজঘরে ফেরেন। জাদেজাকে লংঅফে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটন। ৮২ বলে ৭ বাউন্ডারিতে করেন ৬৬ রান। ১৩৭ রান তুলতে হারায় ৪ উইকেট।

সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৫৮ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। যদিও এই জুটিতে মূল অবদান মুশফিকেরই। হৃদয় ভীষণ ধীরগতিতে ব্যাটিং করেছেন।

মন্থর ব্যাটিং করে যখন সেট হলেন, তখনই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন হৃদয়। ৩৫ বলে ১৬ রান করে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে। বুমরাহর বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাজপাখির মতো এক ক্যাচ নেন জাদেজা। ৪৬ বলে মুশফিকের ৩৮ রানের ইনিংসটিতে ছিল একটি করে চার-ছক্কার মার।

নাসুম আহমেদ ১৮ বলে ১৪ করে শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহকে ভালো সঙ্গ দেন। আর ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকান শরিফুল ইসলাম (৩ বলে ৭)।




উড়ন্ত ভারতের মুখোমুখি আজ বাংলাদেশ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চে টানা তিন ম্যাচ জিতে ভারত যদি উড়ন্ত অবস্থায় থাকে তাহলে টানা দুই ম্যাচে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়। শুধু কি বিধ্বস্ত? ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দল গঠনে বিতর্ক সৃষ্টি, ঘরে-বাইরে নানা সমালোচনার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ কি ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন করে উঠে আসতে পারবে আজ? ফুরফুরে থাকা ভারতের মুখোমুখি আজ বাংলাদেশ। পুনে শহরে খেলা শুরু হবে বেলা আড়াইটায়।

তবে টাইগারদের আশা কিন্তু আছে। নেদারল্যান্ডস ও আফগানিস্তান যদি বাঘা বাঘা দলকে হারাতে পারে তবে বাংলাদেশ কেন পারবেনা? আর ভারতকে হারানোর ইতিহাসতো বাংলাদেশের আছেই।  সুতরাং অন্যরকম কিছু আশা করতেই পারেন লাল-সবুজ পতাকার সমর্থকেরা!




আফগানদের উড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের চারে চার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভারতের মাটিতে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের টগবগে আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হাতে চোট পাওয়ায় আজ দলে ছিলেন না নিয়মিত অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। তবে তাকে ছাড়া খেলতে নেমে জয় তুলে নিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি কিইউদের। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে গ্লেন ফিলিপসের ৭১ রানের ইনিংসের পর শেষদিকে মার্ক চ্যাপম্যানের ১২ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৮ রান করে টম ল্যাথামের দল। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের তোপে আফগানিস্তান থেমেছে ১৩৯ রানেই। ফলে আসরে নিজেদের চতুর্থ জয় পেয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ১৪৯ রানের বড় ব্যবধানে।

নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় আফগানিস্তান। রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরানের ওপেনিং জুটি ভাঙে দলীয় ২৭ রানেই। ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ১১ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় গুরবাজকে। পরের ওভারেই আরেক ওপেনার জাদরানকেও মিচেল স্যান্টনারের হাতে ক্যাচে পরিণত করে আউট করেন ট্রেন্ট বোল্ট।

পর পর দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়া আফগানিস্তান এরপর উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। জুটি গড়ে এদিন দলের হাল ধরতে পারেননি আর কেউই। ৮ রান করে অধিনায়ক হাসমত উল্লাহ শহীদি সাজঘরে ফেরার পর আজমত উল্লাহ ওমরজাইকে নিয়ে বড় জুটি গড়ার দিকেই যাচ্ছিলেন রহমত শাহ। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে তুলেছিলেন ৫৪ রান। তবে এ জুটি ভাঙে বোল্টের আঘাতে। উইকেট রক্ষক ল্যাথামের গ্লাভসবন্দী হয়ে ২৭ রান করেই ফিরতে হয় ওমরজাইকে।

দলীয় ৯৭ রানে ওমরজাই ফেরার পর রহমত শাহও সাজঘরে ফিরেন ব্যক্তিগত ৩৬ রানেই। এরপর তাসের ঘরের মতই ভেঙ্গে পড়ে আফগানদের প্রতিরোধ। দলীয় ১২৫ রানে মোহাম্মদ নবী স্যান্টানারের বলে বোল্ড আউট হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। ফলে সাক্ষী হতে হয় ১৪৯ রানের বড় এক পরাজয়ের। আফগানদের হয়ে আজ ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন রহমত শাহ। কিউইদের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন স্যান্টনার এবং লকি ফার্গুসন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেননি দুই কিউই ওপেনার। স্কোরবোর্ডে ৩০ রান ওঠতেই আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় ডেভন কনওয়েকে।

কনওয়ে সাজঘরে ফেরার পর আরেক ওপেনার উইল ইয়াং প্রতিরোধ গড়েন রাচিন রবীন্দ্রকে নিয়ে। দুজন মিলে জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে তুলেন ৭৯ রান। তবে রবীন্দ্রকে আজ ঠিক হাত খুলে খেলতে দেননি আফগান বোলাররা। এক পর্যায়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের করা বলে বোল্ড হয়ে ৪২ বলে ৩২ রান করেই ফিরতে হয় বিশ্বকাপ অভিষেকে সেঞ্চুরি হাঁকানো রবীন্দ্রকে। কিউই এই ব্যাটার ফিরতে পারতেন আরও আগেই, তবে রবীন্দ্রের তুলে দেয়া ক্যাচটা মুঠোবন্দী করতে পারেননি আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের দলীয় ১০৯ রানে রবীন্দ্রকে ফেরানোর পর একই ওভারে অর্ধশতক হাঁকানো ওপেনার ইয়াংকেও তুলে নেন ওমরজাই। সাজঘরে ফেরার আগে ৬৪ বলে ৪ চার এবং ৩ ছয়ে ৫৪ রান করেছেন তিনি। পরের ওভারেই ৭ বলে ১ রান করা ডেরিল মিচেলের উইকেটও তুলে নেন রশিদ খান। ফলে পরপর ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে কিউইরা।

তবে সেই চাপ খুব ভালোভাবেই সামলে নিয়েছেন টম ল্যাথাম-ফিলিপস জুটি। এ দুজন মিলে আফগান বোলারদের দেখেশুনে খেলে আজ জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে তুলেছেন ১৪৪ রান। প্রতিরোধ গড়ার পথে দুজনই তুলে নিয়েছেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। ইনিংসের শেষ দিকে ৪৮তম ওভারে এসে নাভিন উল হকের বলে রশিদের হাতে ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফিরেন ৮০ বলে সমান ৪টি করে চার এবং ছয়ে ৭১ রান করা ফিলিপ্স। এরপর একই ওভারে নিউজিল্যান্ডের দলীয় ২৫৫ রানে ৬৮ রান করে নাভিনেরই শিকার হয়ে ফিরতে হয় অধিনায়ক ল্যাথামকেও।

একই ওভারে দুই ব্যাটারকে হারালেও কিউইদের হয়ে আজ নিজেদের দলীয় পুঁজি বাড়ানোর কাজটা করেছেন মার্ক চ্যাপম্যান। শেষদিকে ১২ বলে ২৫ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন তিনি। সেই সুবাদে ৫০ ওভার খেলে ২৮৮ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। জয়ের জন্য আফগানদের এখন প্রয়োজন ৫০ ওভারে ২৮৯ রান। আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ওমরজাই এবং নাভিন।




নেদারল্যান্ডস এর বিরুদ্ধে টস জিতে বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

চন্দ্রদীপ নিউজ: বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ধর্মশালায় টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টির কারণে টস হতে দেরি হয়।

বিশ্বকাপে টানা দুই জয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে দক্ষিণ আফ্রিক। প্রথম দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে প্রোটিয়ারা। হ্যাটট্রিক জয়ের আশায় ডাচদের বিপক্ষে মাঠে নামছে টেম্বা বাভুমার দল।

অন্যদিকে এখনো জয়ের দেখা পায়নি নেদারল্যান্ডস। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৮১ রানে হারের পর নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯৯ রানে হারে ডাচরা। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক ,টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), রাসি ভ্যান ডুসেন, এইডেন মার্করাম, হেনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, মার্কো জানসেন, গেরাল্ড কোয়েটজে, কেশব মহারাজ, লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাদা।

নেদারল্যান্ডস একাদশ: বিক্রমজিত সিং, ম্যাক্স ও দাউদ, কলিন আক্রম্যান, বাস ডি লিডি, তেজা নিদামানুরু, স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), সাইব্রান্ড এনগেলব্রেচন্ট, রোলেফ ভ্যান ডার ম্যারে, লোগান বিক, আরিয়ান ডুট, পল ভ্যান মিকিরিন।




শ্রীলংকাকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। কিন্তু চলতি আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হেরে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে ব্যাক ফুটে চলে যায় অসিরা।

আজ সোমবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া। এদিন আগে ব্যাট করে বিনা উইকেটে ১২৫ রান করা শ্রীলংকা এরপর ৮৪ রানে ১০ উইকেট হারিয়ে ৪৩.৩ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট।

২১০ রানের সহজ টার্গেট তাড়ায় ২৪ রানেই ২ উইকেট হারােয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর মিচেল মার্শ (৫২), জস ইনজেলসের (৫৮) জোড়া ফিফটি এবং মার্নাস লাবুশেনের ৪০ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ২১ বলের ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৮৮ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

সোমবার ভারতের লখনৌতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে ১৯৯৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। উদ্বোধনী জুটিতে ২১.৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ১২৫ রান জমা করেন দুই ওপেনার পাথুম নিশানকা ও কুশাল পেরেরা।

এরপর মাত্র ৮৪ রানের ব্যবধানে ১০ উইকেট পতনের কারণে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করা শ্রীলংকা অলআউট হয় ২০৯ রানে।

শ্রীলংকা উদ্বোধনীতে ১২৫ রান করার পর তাদের শিবিরে পরপর জোড়া আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা পেসার প্যাট কামিন্স ও স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা।

৬৭ বলে আট বাউন্ডারিতে ৬১ রান করা পাথুম নিশানকাকে সাজঘরে ফেরান প্যাট কামিন্স। তার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন আরেক ওপেনার কুশাল পেরেরা। তিনি ৮২ বলে ১২টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭৮ রান করে ফেরেন। এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেন অধিনায়ক কুশাল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমা।

৩২.১ ওভারে ৪ উইকেটে শ্রীলংকার সংগ্রহ ছিল ১৭৮ রান। এরপর শুরু হয় বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধ থাকে ২৫ মিনিট। এরপর খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লংকানরা।

শেষদিকে অ্যাডাম জাম্পার স্পিন আর মিচেল স্টার্কের গতির মুখে পড়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৩.৩ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট হয় শ্রীলংকা।




ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আফগান রূপকথা লিখলো রশিদ-নবীরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ২০১৯ বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফিরেছিল আফগানিস্তান। তবে চলমান বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পেলো আফগানরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৬৯ রানে হারিয়ে আফগান রূপকথার জন্ম দিলো গুরবাজ-মুজিবরা।

রোববার (১৫ অক্টোবর) দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে নিজদের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনার পর মাঝখানে ছন্দপতন ঘটে আফগানিস্তানের।

তবে গুরবাজ ও ইকরাম আলিখিলের অর্ধশতকে ভর করে ২৮৪ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। গুরবাজ ৫৭ বলে ৮০ ও ইকরাম ৬৬ বলে ৫৮ রান করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আলিদ রশিদ নেন ৩টি উইকেট।

২৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জনি বেয়ারস্টোর উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। দলীয় ৩ রানে ৪ বলে ২ রান করেন বেয়ারস্টো। এরপর ক্রিজে আসা জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ডেভিড মালান।

তবে দলীয় ৩৩ রানে আউট হন রুট। রুটের বিদায়ের পর দ্রুতই সাজঘরে ফিরে যান মালান। দলীয় ৬৮ রানে ৩৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন তিনি।

মালানের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। দলীয় ১৬০ রানের মধ্যে আরও ৪ ব্যাটারকে হারায় ইংলিশরা।

একপ্রান্তে উইকেট হারালেও অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে অর্ধশতক পূর্ণ করেন হ্যারি ব্রুক। দলীয় ১৬৯ রানে ৬১ বলে ৬৫ রান করে ব্রুক আউট হলে ম্যাচ থেকে একেবারে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর আদিল রশিদ ও মার্কা উড মিলে লড়াই করার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১৯৮ রানে ১৩ বলে ২০ রান করে আউট হন রশিদ। শেষ ব্যাটার হিসেবে উড আউট হলে ৪০ ওভার ৩ বলে ২১৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড।

আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব ৩টি, রশিদ ও নবী নেন ২টি করে উইকেট।




বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আফগানদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে আফগানিস্তান। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের ১৩তম ম্যাচে রোববার মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড-আফগানিস্তান।

ভারতের দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টস জিতে আফগানদের প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠায় ইংল্যান্ড। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে আফগানরা।

কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ১১৪ রান জমা করেন দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইবরাহিম জাদরান।

এরপর চরম ব্যাটিং বির্পযয়ে পড়ে যায় আফগানিস্তান। মাত্র ৭৬ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে যায় তারা। ৫৭ বলে ৮টি চার আর ৪টি ছক্কায় ৮০ রান করে ফেরেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ৪৮ বলে ২৮ রানে ফেরেন ইবরাহিম জাদরান।

সপ্তম উইকেটে জুটিতে রশিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে ৪৮ বলে ৪৩ রানেরে জুটি গড়েন ইকরাম আলি খিল। ২২ বলে ৩টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৩ রান করে ফেরেন রশিদ খান।

এরপর মুজিব উর রহমানের সঙ্গে মাত্র ২৩ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে ফেরেন ইকরাম। তিনি ৬৬ বলে তিনটি চার আর ২টি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রান করে ফেরেন।

দলীয় ২৭৭ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন মুজিব। তার আগে মাত্র ১৬ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় খেলেন ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফজলহক ফারুকি আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ৪৯.৫ ওভারে ২৮৪ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান।