নেদারল্যান্ডসের সঙ্গেও জিততে পারল না ‘টাইগাররা’

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: বিশ্বকাপের তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। ডাচদের সঙ্গে ২৩০ রানের টার্গেট তাড়ায় চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ৪২.২ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে ৮৭ রানে হেরে যায় টাইগাররা।

বিশ্বকাপের চলতি আসরে আফগানিস্তানকে হারিয়ে মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর টানা পাঁচ ম্যাচে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার পর আজ হেরে যায় ডাচদের সঙ্গে।

শনিবার ভারতের কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয় নেদারল্যান্ডস। সহজ টার্গেট তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানেই অলআউট হয় সাকিবরা।

শনিবার ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের ২৮তম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের গতির মুখে পড়ে মাত্র ৪ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস।

দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন ওয়েসলি বারেসি ও কলিন একারম্যান। তৃতীয় উইকেটে তারা ৬৮ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান। এরপর শূণ্য রানের ব্যবধানে ফেরেন ওয়েসলি বারেসি ও কলিন একারম্যান।

কলিন একারম্যানকে ফিরিয়ে এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটান সাকিব। দলীয় ৬৩ রানে একারম্যান ৩৩ বলে ১৫ রান করে ফেরেন। এরপর কোনো রান যোগ হওয়ার আগে ফেরেন বারেসিও। তিনি মোস্তাফিজের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৪১ বলে তিন চারে ৪১ রান করেন।

১০৭ রানে ৫ উইকেট পতনের পর ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক স্কট এডোয়ার্ডসের সঙ্গে ১০৫ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়েন সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট।

এরপর নেদারল্যান্ডস ৪৪ রানের ব্যবধানে হারায় ৫ উইকেট। ৮৯ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে দলীয় সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে ফেরেন এডোয়ার্ডস। ৩৫ রানে ফেরেন সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট। ৬ রানে রান আউট সিরাজ আহমেদ। ৯ রানে ফেরেন আরিয়ান বুট।

শেষ উইকেটে রীতিমতো ঝড় তুলেন লোগান ভেন বেক। দলীয় ২২৯ রানে পুল ভেন ম্যাকরেন আউট হলে ইনিংস শেষ হয়। তার আগে মাত্র ১৬ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন লোগান ভেন বেক।

বাংলাদেশ দলের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদি হাসান।

৩০০ বলে ২৩০ রানের সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনীতে ৪.২ ওভারে ১৯ রানের জুটি গড়ে ফেরেন লিটন কুমার দাস। ঠিক পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে ফেরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও।

১৯ রানে ২ ওপেনারের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ। দলকে খেলায় ফেরাতে ব্যর্থ হন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসানও। লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসানরা যথাক্রমে ৩, ১৫, ৯ ও ৫ রান করে ফেরেন।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ৪০ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রান করে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৭০ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। তিনি ৫ বলে মাত্র ১ রানে আউট হন।

সপ্তম উইকেটে শেখ মেহেদি হাসানের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই জুটিতে আসে ৭১ বলে ৩৮ রান। এরপর মাত্র ৫ রানে ফেরেন শেখ মেহেদি ও মাহমুদউল্লাহ।

৭ উইকেটে ছিল ১০৮ রান। ৩৮ বলে ১৭ রানে রান আউট হয়ে ফেরেন শেখ মেহেদি। ৪০ বলে ২০ রানে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দশ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ২০ রান করে হারের ব্যবধানে কিছুটা কমান পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।




আজ মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস

চন্দ্রদীপ নিউজ : ভারত বিশ্বকাপে আজ শনিবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় খেলাটি শুরু হবে।

এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় আশা বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে টানা চার হারে দল এখন খাদের কিনারে। জয় ছাড়া যেখানে আর বিকল্প নাই।

পা ফসকালেই বিপদ, প্রতিটি ম্যাচই যেন ডু অর ডাই! এখন আর হারানোর ভয় নেই, ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সর্বোচ্চটা দিয়েই।

ডাচদের বিপক্ষে এই ম্যাচ গড়াবে ক্রিকেট দুনিয়ায় বিখ্যাত স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেনে। ঐতিহাসিক এই স্থাপত্য সাক্ষী ক্রিকেট ইতিহাসের নানা গল্পের। অসংখ্য রোমাঞ্চকর গল্প আছে এই মাঠের, লেখা হয়েছে অনেক রূপকথা।

বাংলাদেশও মাঠে নামবে রূপকথা গড়ার লক্ষ্যেই।

অনেক বড় স্বপ্ন নিয়েই ভারত এসেছিল বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ধরাছোঁয়ার বাহিরে। তবুও নতুন করে উজ্জীবিত হবার একটা বেশ ভালো সুযোগ পেয়েছেন সাকিবরা, হয়তো পারবেন চমকে দিতে! তবুও ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে। এই নেদারল্যান্ডসই তো এবারের আসরে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারিয়ে দিয়েছে!

অবশ্য কলকাতায় যখন খেলা, অনেকাংশেই ঘরের মাঠের ফিল পাবে বাংলাদেশ। এপার বাংলা আর ওপার বাংলাতেষের বাধা কেবল সীমানার কাঁটাতার। বাঙালি বলেই হয়তো মাঠে মিলতে পারে বাড়তি সমর্থন, আইপিএলে ঘরের ছেলে সাকিব-লিটনকে জানাতে পারেন সাদর সম্ভাষণ।

প্রতিপক্ষ হিসেবেও নেদারল্যান্ডস খানিকটা স্বস্তি দিতে পারে বাংলাদেশকে। দুই দলের ওয়ানডেতে শেষ দেখা হয়েছিল এক যুগ আগে, ২০১১ বিশ্বকাপে। চট্টগ্রামে যেই ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছল টাইগাররা। ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ইমরুল কায়েস হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা।

এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। যেখানে ৬ উইকেটে হেরে যায় মাশরাফির দিল। সেই ম্যাচেও ফিফটি করেন ইমরুল কায়েস।

এবার হয়তো ইমরুল নেই, তবে সেই দুই ম্যাচে খেলেছেন, এমন তিনজন এখনো আছেন বাংলাদেশ দলে। হ্যাঁ, সাকিব, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ। লিটন-শান্তরা কি পারবেন ইমরুলের অভাব পূরণ করতে?




অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক জয়, ভাঙলো অতীতের সব রেকর্ড

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব থেকে বড় ব্যবধানে (৩০৯ রানে) জয়ের রেকর্ড গড়লো অস্ট্রেলিয়া। আজকের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৩৯৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অজি বোলারদের তোপে ডাচরা মাত্র ৯০ রান করেই অলআউট হয়।

নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে আজ ডাচদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

ব্যাট করতে নেমে দ্রুত এক ওপেনারকে হারালেও ডেভিড ওয়ার্নার তুলে নেন আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এরপর ব্যাট হাতে ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতক করার রেকর্ড করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা অয়ায় ৩৯৯ রানের বিশাল সংগ্রহ।

অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৪০০ রানের সংগ্রহে ব্যাট করতে নেমে আজ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচদের ব্যাটিং ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটিই আজ হয়েছে ২৮ রানের। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৫ রান করেছেন ওপেনার বিক্রমজিত সিং। এছাড়া ডাচ ব্যাটারদের মধ্যে আর কেউই আজ ২০ রানের বেশি করতে পারেননি।

স্কোরবোর্ডে ৬২ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস অ্যাডাম জাম্পার বোলিং তোপে শেষ পর্যন্ত অল আউট হয়েছে ৯০ রান করেই। বল হাতে অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন জাম্পা।




মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির পরও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় হার বাংলাদেশের

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর টানা তিন হার। জয়ের আশায় নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ। জয়তো দূরের কথা। শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশি বোলাররা। তবে ওইখানেই শেষ। এরপরের গল্পটা শুধুই হতাশার। কুইন্টন ডি ককের ১৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮২ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা।

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও হতাশার ষোলকলা পূর্ণ বাংলাদেশের। শুধু আসা যাওয়ার গল্প ব্যাটারদের। প্রাপ্তি বলতে কেবল মাত্র মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি। তার শতরানের ইনিংসের পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৪৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই নিয়ে বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ হার।

৩৮৩ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী শুরু করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। দু’জন মিলে ৩০ রানের জুটি গড়েন। তবে এরপরেই ছন্দপতন ঘটে টাইগার ব্যাটিং লাইনে। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তানজিদ তামিম ১৭ বলে ১২ রান করেন। আর রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান নাজমুল হাসান শান্ত। মাত্র ১ রান করে আউট হন সাকিব আল হাসান।

এরপরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ৫০ রান যোগ করতেই আরও তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একেবারে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

এরপর নাসুম আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। দু’জন মিলে ৪১ রানের জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১২২ রানে ১৯ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান নাসুম।

এরপর ক্রিজে আসা হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। সাবলীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

তবে দলীয় ১৫৯ রানে ২৫ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান হাসান। ব্যাটারদের আসা যাওয়ার মাঝে এক লড়াই করে ১০৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদউল্লাহ।

সেঞ্চুরির পরও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। তবে দলীয় ২২৭ রানে ১১১ বলে ১১১ রান করে আউট হন তিনি। তার বিদায়ের পর শেষ ব্যাটার হিসেবে মুস্তাফিজ আউট হলে ৪৬ ওভারে ৪ বলে ২৩৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।




মুম্বাইয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজ নিজেদের পঞ্চম খেলায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথম চার ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে সাকিব বাহিনী। পরাজয়ের বৃত্তে আটকে থাকা বাংলাদেশ দল এখনও ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স থেকে বেরুতে পারছে না।

সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে কাল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের জন্য। অন্যদিকে এবারের আসরে দুর্দান্ত খেলছে প্রোটিয়া। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য কাল নামবে তারা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে খেলাটি।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজ বাংলাদেশ আরো একটি পরীক্ষায় নামতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রথম চার খেলার তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। টানা পরাজয়ে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস এতটাই তলানিতে স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারছে না সাকিব বাহিনী। এবারের বিশ্বকাপের উইকেটে টিকতে পারলেই রান পাওয়া যায়, সেটা অন্য দলের ব্যাটসম্যানরা ইতিমধ্যেই দেখিয়েছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ পারছে না ব্যর্থতা থেকে বেরুতে। মুম্বাইয়ে এবার টিম বাংলাদেশের লক্ষ্য ব্যর্থতার তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে নতুন ভাবে শুরু করার। দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বাংলাদেশকে লড়তে হবে মুম্বাইয়ের গরমের সঙ্গেও। ক্রিকেটাররা প্রস্তুতি নিলেও, এই গরমের সাথে মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

তবে সেমিফাইনালে খেলার আশাটা ক্রমেই ধুসর হচ্ছে বাংলাদেশের। দলের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি সমস্যা। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পর তাসকিনের ইনজুরিতে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এদিকে চোকার্স দল হিসেবে বরাবর পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকা এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই বদলে ফেলেছে নিজেদের।

প্রথম ম্যাচ থেকেই ২২ গজে বেশ দাপটে খেলছে প্রোটিয়ারা। মুম্বাইয়ে শেষ খেলায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংলিশদের একরকম হেসে খেলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে দলটি। ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটিও উপভোগ করতে চাইবে প্রোটিয়ারা।

দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে অতীত পরিসংখ্যান কথা বলছে প্রোটিয়াদের বিপক্ষেই। এ পর্যন্ত ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮ ম্যাচের জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় ৬টি। তবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে দুই দলই সমানে সমান। এখন পর্যন্ত মোট চারবার বিশ্বকাপে একে অন্যকে মোকাবেলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ। তাতে দুই দলই সমান ২টি করে জয় পেয়েছে।

বাংলাদেশ জিতেছিল ২০০৭ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে। বিপরীতে ২০০৩ ও ২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছিল প্রোটিয়ারা। অন্যদিকে দুই দলের সবশেষ ওয়ানডে সিরিজটাও ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। এমন কী গত বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পায়নি প্রোটিয়ারা। তাই তো বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বেশ সতর্ক আফ্রিকা।

ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে সমিহের চোখে দেখছেন বলে যানাচ্ছেন মার্করাম। তিনি বলেন,‘আমরা যখনই বাংলাদেশের সঙ্গে খেলি তখন সেটা আমাদের জন্য বড় খেলা। অতীতে আমরা তাদের সঙ্গে খুব একটা ভালো করতে পারিনি। তাই আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা নিয়েই মাঠে নামতে হবে, যাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি তার চেয়েও ভালো খেলতে পারি। আমরা যদি আমাদের কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারি তাহলে দিনটা আমাদেরই হবে।




পাকিস্তানকে প্রথমবার হারিয়ে ইতিহাস আফগানিস্তানের, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখে বাবর আজমের দল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দেওয়া আফগানিস্তান এবার হারালো পাকিস্তানকে। আজ সোমবার চেন্নাইতে বাবর-শাহিনদের ৮ উইকেটে হারিয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে আফগানরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয় আফগানিস্তানের।

একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের দিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্যর ইতিহাসও গড়েছে আফগানিস্তান।

বিশ্বকাপের এক আসরে এর আগে কখনো দুই জয় পায়নি রশিদ-নবীরা।
চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আজ টসে জিতে আগে ব্যাট করে বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিকের জোড়া ফিফটিতে ২৮২ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। সেই রান তাড়ায় নেমে আফগানিস্তান কখনোই পড়েনি চাপে। দলটির দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের ফিফটি করে ফেরার পর রহমত শাহ অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শহীদিকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে আসেন।

৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানরা।
রান তাড়ায় নেমে আফগানিস্তান পায় উড়ন্ত সূচনা। গুরবাজ-জাদরান উদ্বোধনী জুটিতে এনে দেন ১৩০ রান। সেখানেই মূলত শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। শাহীন শাহ আফ্রিদি ৬৫ রান করা গুরবাজকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ার পর রহমত শাহকে নিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন ইব্রাহিম। তিনি অবশ্য পুড়েছেন সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে। ৮৭ রান করে তিনি ফেরেন সাজঘরে, হাসান আলী তুলে নেন তার উইকেট।

এরপর দলকে আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি রহমত এবং হাসমত। দুজনে ৯৬ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জয় পাইয়ে দিয়ে ছাড়েন মাঠ। ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত। হাসমতের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ রান।

এ জয়ে ৫ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ছয়ে উঠে এলো আফগানিস্তান। এদিকে, টানা তিন হারের পরও ৪ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে আছে পাকিস্তান।




আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং-এ পাকিস্তান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাকিস্তান। সোমবার (২৩ অক্টোবর) চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাবর আজমের দল। টানা দুই ম্যাচ হেরে অনেকটা ভাল অবস্থানে নেই তারা। এই ম্যাচ জিতে জয়ের ধারায় ফিরতে চাই পাকিস্তান। এই ম্যাচে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ নেওয়াজের পরিবর্তে একাদশে ফিরেছেন শাদাব খান।

অপরদিকে, বড় হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল আফগানিস্তান। তবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম অঘটনের জন্ম দেয় আফগানরা। এই ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে চায় তারা। এই ম্যাচে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে আফগানিস্তান। পেসার ফজলহক ফারুকীর পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন নূর আহমেদ।




নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আক্ষেপ ঘুচাল ভারত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ২০০৩ বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। এই সময়ে আইসিসি ইভেন্টে কোনো ম্যাচে কিউইদের হারাতে পারেনি ভারত। অবশেষে ঘরের মাঠে সেই আক্ষেপ ঘুচালো রোহিত শর্মার দল।

৪ উইকেটের জয়ে সেমির পথেও আরেক ধাপ এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ধর্মশালায় ২৭৩ রানের জবাবে খেলতে নেমে ৪৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেছেন কোহলি।

রোববার (২২ অক্টোবর) ধর্মশালায় টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে  ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রান তুলে নিউজিল্যান্ড।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩০ রান করেছেন ড্যারিল মিচেল।

এদিন ম্যাচের শুরুতে ১৯ রান তুলতেই শুরুর দুই উইকেট হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর রাচিন রবীন্দ্রকে নিয়ে সেই ধাক্কা সামল দিয়েছেন ড্যারিল মিচল। এই মিডল অর্ডার ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে বড় রানের পথেই ছিল কিউইরা। তবে শেষ দিকে জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ শামির দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনশো ছুঁতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।

রান তাড়ায় ১১.১ ওভারে ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ভারতকে দারুণ একটা এনে দেন রোহিত শর্মা এবং শুভমান গিল। তবে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে এ দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে কিউইদের লড়াইয়ে ফেরান লকি ফার্গুসন। ৪৬ রান করে বোল্ড হন অধিনায়ক রোহিত। আর ২৬ রানে মিচেলের তালুবন্দী হয়েছেন শুভমান গিল। এরপর বিরাট কোহলির সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়ে আউট হন শ্রেয়াস আয়ার। ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হওয়ার আগে ৬টি চারে ২৯ বলে ৩৩ রান করেন আয়ার।

১২৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় ভারত। এরপর কোহলি পাশে পেয়ে যান লোকেশ রাহুলকে। তাতে জয়ের আরেকটু এগিয়ে যায় ভারত। ২৭ রান করে মিচেল স্যান্টনারের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে ফেরেন রাহুল। খানিকটা পর কোহলির সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান সূর্য্যকুমার যাদবও। ম্যাচও জমে উঠে দারুণভাবে। তবে কোহলির ৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে শেষ পর্যন্ত বিজয় উত্সব করেছে ভারতই।

কোহলি সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পোড়ার পর ম্যাচ শেষ করে আসেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৪৪ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ম্যাচসেরা হয়েছেন বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করা মোহাম্মদ শামি।




নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে অবশেষে জয় দেখলো শ্রীলঙ্কা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: এবারের বিশ্বকাপটা রীতিমত দুঃস্বপ্নের মতো কাটছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার। টানা তিন ম্যাচ হেরে বসেছিল তারা। অবশেষে হাসি ফুটেছে লঙ্কানদের মুখে।

নেদারল্যান্ডসকে ৫ উইকেট আর ১০ বল হাতে রেখে হারিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

লখনৌতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে তারা অলআউট হয় ২৬২ রানে।

একটা সময় ৯১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছিল ডাচরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সাইবেন এনজেলব্রেখট আর লগান ফন বিক। সপ্তম উইকেটে ১৪৩ বলে ১৩০ রানের জুটি গড়েন তারা।

সাইবেন ৮২ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় করেন ৭০। ফন বিক ৭৫ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন।

দিলশান মাদুশঙ্কা ৪৯ রানে আর কাসুন রাজিথা ৫০ রানে নেন ৪টি করে উইকেট।

২৬৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১০৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা আউট হন ৫২ বলে ৫৪ করে।

তবে সাদিরা সামারাবিক্রমার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লঙ্কানরা। ১০৭ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন সামারাবিক্রমা। এছাড়া চারিথ আসালাঙ্কা ৬৬ বলে ৪৪ আর ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৭ বলে করেন ৩০ রান।

নেদারল্যান্ডসের আরিয়ান দত্ত ৪৪ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট।




ইংল্যান্ডকে লজ্জায় ডুবিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড জয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ইংল্যান্ডকে লজ্জায় ডুবিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড জয়। বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। উভয় দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম টস জিতে প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। আগে ব্যাট করতে নেমে হেনরিখ ক্লাসনের বিধ্বংসী শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৯৯ রানের বড় পুঁজি পায় এইডেন মার্করামের দল।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়া বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইংলিশরা। মাত্র ১৭০ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফলে ২২৯ রানে রেকর্ড ব্যবধানে ম্যাচ জিতে এবারের আসরের তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের তালিকায় আট নম্বরে জায়গা পেয়েছে ইংলিশদের লজ্জার এই হার।