কলম্বো টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশা, ওয়ানডে সিরিজে আশাবাদী ফাহিম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম। ম্যাচ চলাকালেই দলের মনোবল ও ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে কলম্বোতে পৌঁছান ফাহিম। তার মতে, গল টেস্টে যেভাবে বাংলাদেশ লড়াই করেছিল, সেই ধারা দ্বিতীয় টেস্টে ধরে রাখা যেত — এমনটাই ছিল তার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন,
“আমার আশা ছিল, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ দল যে মানসিকতা দেখিয়েছে, দ্বিতীয় টেস্টেও সেটা দেখতে পাব। প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে আমাদের কঠিন লেগেছে, উইকেটে তখন বোলারদের জন্য সহায়তা ছিল। কিন্তু এরপরও বলব, প্রথম দিনে আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম।”

বিশ্লেষণে ফাহিম যোগ করেন,
“দলের কয়েকজন ব্যাটার সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। যদি তারা লম্বা ইনিংস খেলত, তাহলে প্রথম ইনিংসে একটা সম্মানজনক সংগ্রহ গড়া যেত। সেটা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করত। কিন্তু সেটাই আমরা পারিনি এবং এখানেই সমস্যার সূত্রপাত।”

এদিকে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ফাহিম বেশ আশাবাদী। শ্রীলঙ্কার আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের বিপরীতে বাংলাদেশের সাদা বলের স্কোয়াডে অভিজ্ঞ পেসারদের ফেরাটা ইতিবাচক বলে মনে করছেন তিনি।

“চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবেই। শ্রীলঙ্কা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে, টেস্টেও সেটা দেখা গেছে। তবে আমাদের জন্য ভালো দিক হলো, তাসকিন, মুস্তাফিজের মতো বোলাররা ফিরে এসেছে। তারা দলের শক্তি বাড়াবে বলে বিশ্বাস করি। ব্যাটিংয়েও নতুন মুখ আসবে — এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ।”

নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে আলাদা করে কোনো চাপ দিতে চান না ফাহিম। তিনি বলেন,
“মিরাজের কাজ হবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সতীর্থদের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা। ওয়ানডেতে বরাবরই সে ভালো করেছে। আমরা চাই, সে যেন নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে।”

কলম্বো টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় বাংলাদেশ — এমনটাই মনে করছেন বিসিবি পরিচালক।




তাইজুলের ইতিহাস গড়া উইকেট সেঞ্চুরি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম!

কলম্বো, শ্রীলঙ্কা: বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম গড়লেন অনন্য এক মাইলফলক। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (২০১৯–বর্তমান) সময়কালে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে চলমান টেস্টে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী ব্যাটার লাহিরু উদারাকে এলবিডব্লিউ করে এই কীর্তি ছুঁয়েছেন তাইজুল। আম্পায়ারের না সূচক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সফল হন শান্ত ও তাইজুল—আর তাতেই রচিত হয় ইতিহাস।

মাত্র ২৫ ম্যাচেই উইকেটের সেঞ্চুরি করেন তাইজুল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এখন তিনিই। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ—২৯ ম্যাচে তার শিকার ৮৭টি। পেসারদের মধ্যে শীর্ষে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ—তবে দুজনেই বর্তমানে টেস্ট দলে অনুপস্থিত।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমে যায় ২৪৭ রানে। সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন সাদমান ইসলাম। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মুশফিক (৩৫), লিটন (৩৪), মিরাজ (৩১) এবং নিজেই ব্যাট হাতে ৩৩ রান যোগ করেন তাইজুল।

জবাবে শ্রীলঙ্কা দারুণ সূচনা করে। পাথুম নিশাঙ্কা ও লাহিরু উদারার উদ্বোধনী জুটি দাঁড়ায় ৮৮ রানে। উদারা আউট হন ৪০ রানে, তবে নিশাঙ্কা অপরাজিত আছেন ৮৮ রানে এবং তার সঙ্গী চান্দিমাল খেলছেন ৫০ রানে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ: ৪৭.১ ওভারে ১৮১/১।


তাইজুলের এই কীর্তি কেবল পরিসংখ্যান নয়, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ভবিষ্যত ভরসাও। তার ধারাবাহিকতা ও স্পিন নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য টেস্টে বড় সম্পদ।




দুই ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি করে ম্যাচ শেষে যা বললেন শান্ত

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে প্রথম টেস্টে ড্র করলেও দুই ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পারফরম্যান্স ভালো হলেও সমালোচনার সুর যেন তার পিছু ছাড়ে না। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন শান্ত।

অধিনায়ক বলেন, “সমালোচনা তো থাকবেই। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমার প্রতিদিনের লক্ষ্য— কীভাবে দলের জন্য অবদান রাখতে পারি। আমি কতটা পরিশ্রম করছি, আমার উদ্দেশ্য সৎ কি না, সেগুলোই গুরুত্বপূর্ণ। যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে দলের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে।”

প্রশংসা না পাওয়া কিংবা সমালোচনার মুখে পড়া নিয়েও কথা বলেন শান্ত। তার ভাষায়, “কে আমাকে নিয়ে ভালো বলল আর কে খারাপ বলল— এসব নিয়ে খুব একটা ভাবি না। আমি প্রতিদিন চেষ্টা করি আরও ভালো কিছু করার। কোনোদিন হয়, কোনোদিন হয় না— খেলাটাই এমন। কারও কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। আমি শুধু চাই আমার ব্যাটিং উপভোগ করতে এবং দলের জন্য অবদান রাখতে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে শান্ত বলেন, “কালচার বদলাতে হলে সবার সাহায্য দরকার। প্লেয়ারদেরও সুন্দরভাবে এসব হ্যান্ডেল করতে হবে। আর যাঁরা কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের দিক থেকেও আরও শুদ্ধতা ও সম্মান দরকার। আমি বলছি না সমালোচনা করা যাবে না, তবে সেটা যেন সম্মানের সঙ্গেই হয়। আমরা সবাই চাই দল ভালো করুক। দল সবার, তাই সবার সহযোগিতাই জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “যদি সম্মানের সঙ্গে কথাবার্তা হয়, তাহলে একটা ভালো কালচার ধীরে ধীরে তৈরি হবে।”

উল্লেখ্য, গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে শান্ত প্রথম ইনিংসে করেন ১২১ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১০৩ রান। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচে বাংলাদেশ ড্র আদায় করে নিতে সক্ষম হয়।




 বাংলাদেশ টেস্ট অভিযান, ড্র এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু

 গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ড্র করে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের সবকটি উইকেট নিতে না পারায় ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের।

প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে ৪৯৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শান্তর ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং মুশফিকের ৮৭ রানে ভর করে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে ব্যাটিং স্বর্গখ্যাত গলে শ্রীলঙ্কাও দেখিয়েছে প্রতিরোধ। দিমুথ করুণারত্নে ও ধনঞ্জয় ডি সিলভার হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকরা ৪৮৫ রান তোলে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসেও শান্ত ছিলেন অনবদ্য। আবারও সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেন নাইম হাসান। মুশফিক ৪৯ রানে রানআউট হলেও শান্ত পূর্ণ করেন শতক। ২৮৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রান, হাতে ছিল ৩৭ ওভার।

লঙ্কানদের শুরুটা ছিল আগ্রাসী, তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। ষষ্ঠ ওভারে লাহিরু উদারা স্টাম্পড হন লিটন দাসের হাতে, এরপরের বলেই নিশাঙ্কা ফেরেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর আর মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করলে দুই অধিনায়কই ড্র মেনে নেন।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল, নাইম, মিরাজ ও শরিফুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। আর ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন শান্ত।

এই ড্রয়ের মাধ্যমে ২০২৫-২৭ চক্রের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী সপ্তাহে।




‘ইনশাল্লাহ্‌ ম্যাচ জেতা সম্ভব’ -আত্মবিশ্বাসী নাঈম

গল টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জমে উঠল লড়াই। প্রথম ইনিংসে ১০ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এখন শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১৮৭ রানে এগিয়ে আছে টাইগাররা। উইকেটে অপরাজিত রয়েছেন দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার-নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। ইতোমধ্যে শান্ত তুলে নিয়েছেন ফিফটি। শেষ দিনে শনিবার নাটকীয় কিছু ঘটলেও অবাক হওয়া যাবে না!

ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এই অবস্থানের পেছনে বড় অবদান অফ স্পিনার নাঈম হাসানের। দেশের বাইরে প্রথমবার বল হাতে পেয়েই পাঁচ উইকেট নিয়ে যেন বাজিমাত করেছেন এই তরুণ। লাঞ্চের পর শ্রীলঙ্কার ইনিংস যখন জমে উঠছিল, তখন হঠাৎ করেই নাঈমের ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। থামে ৪৮৫ রানে, মাত্র ১০ রানের লিড এনে দেয় টাইগারদের।

আজ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী সুরে শোনা গেল নাঈমকে। ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা নিয়েই বললেন, ‘লাস্ট দিনের উইকেট ক্র্যাক করছে। যত ভালো টোটাল দিতে পারি, তত ভালো। তাহলে ওরা চাপে থাকবে।’ তিনি মনে করেন, শেষ দিনে মানসিক চাপের গুরুত্ব অনেক বেশি, যেখানে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকতে পারে।

ব্যাটিং পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘মাঝে যারা ব্যাটিং করছে, তারাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারছে উইকেট কেমন। শান্ত ভাই, মুশফিক ভাই খুব ভালো ব্যাট করছেন। সাদমান ভাইয়ের শুরুটাও ভালো ছিল। এটা ধরে রাখতে পারলেই ভালো হবে।’

গলে জয়ের আশা নিয়ে নাঈম বলেন, ‘নরমাল ক্রিকেট খেলা আর চাপে থাকা আলাদা ব্যাপার। চাপে থাকলে প্রতিপক্ষের ভুল করার সম্ভাবনা থাকে। আমরা ভালো একটা টোটাল দিতে পারলে ইনশাল্লাহ্‌ ম্যাচ জেতা সম্ভব।’

ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন এই তরুণ স্পিনার। নিজের পারফরম্যান্স কিংবা সুযোগ পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ নেই তার। বরং ভাগ্যে যা লেখা, তা-ই মেনে নিয়ে বলেন, ‘আনলাকি বলতে কিছু নাই। যেটা রিজিকে আছে, সেটা হবেই। আলহামদুলিল্লাহ্‌।’

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের এটি প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৫ জুন, কলম্বোতে। গলেই যদি জয় ধরা দেয়, তবে সেটি হবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক সাফল্য!




শান্ত-মুশফিকের জাদুতে দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের

গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, যেখানে প্রতিপক্ষরা প্রায়শই হার মেনে নেয়, সেখানে আজ বাংলাদেশ দেখিয়েছে সাহস, দৃঢ়তা আর প্রতিরোধের অসাধারণ উদাহরণ। দিনের শুরুটা ছিল ভয়ংকর—মাত্র ৪৫ রানে হারানো তিনটি উইকেট। মনে হচ্ছিল আরেকটি ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখেই হয়তো পড়বে বাংলাদেশ।

কিন্তু দৃশ্যপট বদলে দেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার—নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে ২৪৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের হাল ধরেন তাঁরা। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

শান্ত খেলেছেন তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস—২৬০ বলে ১৩৬ রান, যাতে ছিল ১৪টি চারে ও একটি ছক্কা। অন্যদিকে মুশফিকের ১৮৬ বলে ১০৫ রানের ইনিংস ছিল পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার নিখুঁত প্রতিফলন। দু’জনই প্রতিপক্ষ বোলারদের ধৈর্য্যের কড়া পরীক্ষা নিয়েছেন। দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পরও শ্রীলঙ্কা কোনো উইকেট নিতে পারেনি।

৯০ ওভার শেষে দিনের শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ২৯২ রান। টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনে এটি একটি দৃঢ় ভিত। গলের পিচে যেখানে প্রথম দুই দিন ব্যাটিং সহায়ক হয় বলে পরিচিত, সেই সুবিধা কাজে লাগাতে যেভাবে ধৈর্য, কৌশল আর সাহস দরকার—তা দেখিয়ে দিয়েছেন শান্ত ও মুশফিক।

এদিন বাংলাদেশ একাদশেও এসেছে কিছু পরিবর্তন। চোটের কারণে মেহেদী হাসান মিরাজ অনুপস্থিত থাকায় দলে এসেছে নতুন ভারসাম্য। দীর্ঘদিন পর দেখা গেছে তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে। চারে খেলছেন বিশেষজ্ঞ বোলার। সব মিলিয়ে টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন পরীক্ষা।

তবে প্রথম দিন শেষে বোঝা যাচ্ছে, সেই পরীক্ষার শুরুটা বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছে টাইগাররা। এখন অপেক্ষা, এই গল্প কতটা এগোয় গৌরবের পথে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৯২/৩ (৯০ ওভার শেষে)
ব্যাটসম্যান: সাদমান ১৪, এনামুল ০, মুমিনুল ২৯, শান্ত ১৩৬*, মুশফিক ১০৫*
বোলিং: আসিথা ১৪-২-৫১-১, থারিন্দু ৩২-৩-১২৪-২


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




লঙ্কানদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মিরাজ

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সকালে টস জিতে এই সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

টস শেষে শান্ত জানান, উইকেট শুকনো থাকায় আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে পারবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তবে এ ম্যাচে বাংলাদেশ দল মাঠে নেমেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় একাদশে নেই অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই ম্যাচটি শ্রীলঙ্কান অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট। ১৬ বছরের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানছেন তিনি এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে।

এছাড়া এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হলো নতুন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৫-২০২৭) চক্র। আগের চক্রে (২০২৩-২০২৫) বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে থেকে শেষ করেছিল। এবার টাইগারদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভালো শুরু।

বাংলাদেশের একাদশ:
সাদমান ইসলাম, এনামুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), জাকের আলী, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ।




সিঙ্গাপুরের কাছে হার, এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন ভাঙলো ঢাকাতেই

ঢাকায় ১০ বছর পর ফিরে এসে আবারও বাংলাদেশকে হতাশ করলো সিঙ্গাপুর। ২০১৫ সালের মতো এবারও একই ব্যবধানে (২-১) জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পূর্ব এশিয়ার এই দল। মঙ্গলবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গ্রুপ শীর্ষস্থান হারালো বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় তারা। এরপর ৬৮ মিনিটে রাকিব হোসেনের গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হামজা-শামিতদের।ম্যাচ ঘিরে জাতীয় স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সমর্থকদের উৎসাহে ভরপুর ছিল লাল-সবুজের যোদ্ধারা। কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে ৪৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা থ্রো থেকে গোল করে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল পাঞ্চ করলেও ঠিকমতো পোস্টে ফিরতে না পারায় বলটি সংইয়ংয়ের পায়ে পড়ে যায় এবং তিনি নিখুঁত প্লেসিংয়ে গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে (৫৮ মিনিটে) ইকশান ফান্দির শটে ব্যবধান ২-০ করে ফেলে সিঙ্গাপুর। মিতুলের ক্লিয়ার করা বল ধরে গোল করেন ফান্দি।

৬৮ মিনিটে হামজা চৌধুরীর বাড়ানো বল থেকে নিচু শটে গোল করেন রাকিব হোসেন। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে চলে যায়। ২-১ ব্যবধানের পর বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বাড়লেও আর গোলের দেখা মেলেনি।ম্যাচের শেষ দিকে কর্নার থেকে হেড করেছিলেন শাহরিয়ার ইমন। বল লাগে ক্রসবারে। সেই সঙ্গে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রত্যাশার অধ্যায়।

কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ম্যাচের আগে আশা করেছিলেন ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ থেকে ইতিবাচক ফল নিয়ে গ্রুপে এগিয়ে যেতে। ভারতের সঙ্গে শিলংয়ে ড্র করার পর এশিয়ান কাপে খেলার ৪৫ বছরের স্বপ্নটা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুরের কাছে হারে তা অনেকটাই নিভে গেল।

মিতুল মারমা (গোলরক্ষক), তপু বর্মন, তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু (আল-আমিন), হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, কাজেম শাহ (শাহরিয়ার ইমন), মো. রিদয় (আল-আমিন), ফাহামিদুল ইসলাম (ফাহিম), রাকিব হোসেন। গ্রুপের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ভারত হেরে যাওয়ায় সিঙ্গাপুর উঠে গেছে শীর্ষে। এবং বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।

এই হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান কাপে খেলার আশা এখন কঠিন সমীকরণে বন্দি। আগামী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে একমাত্র ভরসা।




ঈদেও দায়িত্বে নিবেদিত বাংলাদেশের ফুটবলাররা

আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে ঈদুল আজহার দিনেও নিবিড় প্রস্তুতিতে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ১০ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি, যেখানে লড়বে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। সেই ম্যাচ সামনে রেখে ঈদের ছুটির মধ্যেও থেমে নেই জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীসহ দলের সবার প্রস্তুতি।

রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করছে জাতীয় দল। ঈদের সকালে হোটেলের কাছাকাছি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলিম খেলোয়াড়রা। সকাল ৭টায় তারা জামাতে অংশ নেন এবং পরিধান করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উপহার দেওয়া সাদা পাঞ্জাবি। নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে জাতীয় দলের সদস্যরা কোলাকুলি করেন আন্তরিকতায়।

বাফুফের নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, সাখওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন ও ইকবাল হোসেনও জাতীয় দলের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে সবাই হোটেলে ফিরে নাশতায় অংশ নেন, যেখানে সেমাইসহ ছিল ঈদের বিশেষ আয়োজন। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন একে অপরের সঙ্গে, কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ভিডিও কলে।

খেলোয়াড়দের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়। ঢাকায় যারা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন, তারা স্বল্প সময়ে পরিবারে গিয়ে ঈদ উদযাপন করেন। অন্যরা চাইলে ক্যাম্পের বাইরে নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারেন। তবে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত যথারীতি অনুশীলনে অংশ নিতে হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে।

নারী ফুটবল দলও এশিয়ান কাপ অভিযানে রয়েছে। মিয়ানমারে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে তাদের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি জর্ডানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে নারী দল। তিন ধাপে দলটি দেশে ফিরেছে গতকাল রাতে। তাদের পুনরায় অনুশীলন শুরু হবে আগামী পরশু দিন। যদিও কেউ কেউ দুই দিনের জন্য বাড়ি গেছেন, তবুও অনেকেই রয়ে গেছেন ক্যাম্পেই — যাওয়া-আসার কষ্ট ও ট্রাফিক ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই তারা থেকে গেছেন রাজধানীতে।

নারী ফুটবলারদের জন্যও বাফুফে দিয়েছে ঈদের বিশেষ উপহার। ঈদের দিনটিকে কেন্দ্র করে ফুটবলারদের প্রতি দেখানো হয়েছে আলাদা যত্ন। খেলোয়াড়রা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঈদের আনন্দও ভাগ করে নিচ্ছেন দলগতভাবে। জাতীয় দল যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনও দেশ ও দায়িত্বই তাদের কাছে অগ্রাধিকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঢাকায় পৌঁছেছেন সমিত সোম

এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন কানাডাপ্রবাসী ফুটবলার সমিত সোম। বুধবার (৪ জুন) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। ঢাকায় পা রেখেই জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার জন্য নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এই তরুণ ফুটবলার।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সমিত সোম জানান, “বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন অনেক দিনের। এবার সেই সুযোগ আসছে বলে খুব রোমাঞ্চিত লাগছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।”

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে গত ৩০ মে থেকেই ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি শুরু করেছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। পরদিন থেকেই অনুশীলন শুরু হয়। এই বাছাইপর্বের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ জুন।

এর আগে বাংলাদেশ দল ৪ জুন ভুটানের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এই দুটি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেন কোচ কাবরেরা। সেই দলে জায়গা পেয়েছেন কানাডার নাগরিকত্বধারী হলেও বাংলাদেশের প্রতি দুর্দান্ত টান রাখা সমিত সোম। তার আগমনে দলীয় শক্তি ও মিডফিল্ডের গভীরতা আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

সমিতের আগেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন ইতালি প্রবাসী ফাহামেদুল ইসলাম, যিনি ২৮ মে থেকে ক্যাম্পে যুক্ত আছেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজা চৌধুরীও ২ জুন সকালে ঢাকায় এসে দলের সঙ্গে যোগ দেন। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই ম্যাচে দর্শকদের আগ্রহ যেমন তুঙ্গে, তেমনি প্রবাসী ফুটবলারদের আগমনে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সমগ্র দেশবাসী এখন তাকিয়ে আছে ১০ জুনের দিকে, যখন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ঘরের মাঠে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী সিঙ্গাপুরের। সমিত সোমের মতো প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে ভর করে বাংলাদেশ দলের সামনে রয়েছে ভালো কিছু করার দারুণ সুযোগ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম