ইন্টার মায়ামিতে চুক্তি নবায়নের আলোচনায় মেসি

ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনায় বসেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন এক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তার বর্তমান আড়াই বছরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের এমএলএস মৌসুমের শেষেই শেষ হওয়ার কথা। যদিও সম্প্রতি তার অন্য লিগে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল, তবে আর্জেন্টাইন তারকা নিজেই মায়ামিতে ক্যারিয়ার শেষ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক হোর্হে মাস গত জুনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ইচ্ছা, আমাদের নতুন স্টেডিয়ামটি মার্চে উদ্বোধন হোক আমাদের ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসির হাত ধরেই। আমরা তাকে ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আশা করছি চুক্তি নবায়নের খবর গ্রীষ্মের আগেই পাব।’

মেসির নেতৃত্বেই মায়ামি ক্লাব ইতোমধ্যে ইতিহাসের প্রথম ট্রফিগুলো ঘরে তুলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের লিগস কাপ, ২০২৪ সালের সাপোর্টারস শিল্ড এবং এক মৌসুমে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনের রেকর্ড। এই সফলতা মায়ামিকে ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। যদিও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠলেও পিএসজির বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়।

মায়ামির হয়ে ৩৮টি এমএলএস ম্যাচে মেসি করেছেন ৩১ গোল ও ২২ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন ২০২৪ সালের এমভিপি অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ৯ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট।

তবে কোচ হাভিয়ের মাচেরানো জানিয়েছেন, মেসির নতুন চুক্তি নিয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল ফুটবল ও পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলি। ক্লাব বিশ্বকাপেও ভালো খেলেছি, শেষ ম্যাচটি বাদ দিলে আমরা প্রতিযোগিতায় জমিয়ে রেখেছিলাম।’

চুক্তি নবায়নের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও, ইন্টার মায়ামি এবং সমর্থকরা মেসির মায়ামিতেই ক্যারিয়ার শেষ করার সম্ভাবনায় আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ইমন-হৃদয়ের ফিফটি, তবু ২৪৮ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ধস কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শনিবার টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। অভিষেকে ফিফটি পেলেও ইমন এবং দায়িত্বশীল ফিফটি করেও হৃদয় শেষ রক্ষা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফিরে যান প্রথম ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার তামিম ইকবাল (৭)। এরপর ইমন ও শান্ত মিলে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। শান্ত করেন ১৯ বলে ১৪ রান। আর অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন ৬৯ বলে খেলেন ৬৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তবে অর্ধশতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনিও।

ইমনের বিদায়ের পর দ্রুতই ফেরেন অধিনায়ক মিরাজ (৯)। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও শামিম হোসেন ৩৭ রানের জুটি গড়লেও শামিম আউট হন ২৩ বলে ২২ রান করে। জাকের আলিকে সঙ্গে নিয়ে হৃদয় আবারও লড়াই চালিয়ে যান। জাকের করেন ২৪ রান, হৃদয় ৬৯ বলে ৫১।

তবে দলীয় ২০৪ রানে জাকেরের বিদায়ের পর হৃদয়ও রানআউটে কাটা পড়েন। শেষদিকে তানজিম সাকিবের ২১ বলে ৩৩ রানে কোনো রকমে স্কোরবোর্ডে ২৪৮ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন আসিথা ফার্নান্দো। ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় ম্যাচেও চাপে থেকেই ফিল্ডিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভারতের বাংলাদেশ সফর স্থগিত, নতুন সূচি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর

চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ সফরের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে আর হচ্ছে না ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের সফর। সফরটি ১৩ মাস পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

শনিবার (৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সফর স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিসিসিআই।

প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, আগস্টে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ভারত। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই সফর পিছিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে সিরিজটি আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

বিসিসিআই জানিয়েছে, দুই দেশের বোর্ডের পারস্পরিক সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফরের নতুন সময়সূচি ও ম্যাচভিত্তিক বিস্তারিত পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

সফর স্থগিত হলেও ক্রিকেটপ্রেমীরা আশাবাদী, নির্ধারিত সময়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ উপভোগ করতে পারবেন তারা।




কফি হাতে তাসকিন, চোখের পলকে ৫ উইকেট উধাও

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে বুধবার অদ্ভুত এক দৃশ্যের জন্ম দেয়। বাংলাদেশ ২৪৪ রানের সীমিত লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই যেন দমবন্ধ করা ঝড়ের মুখে পড়ে। ড্রেসিংরুমে কফির কাপ হাতে বসে থাকা পেসার তাসকিন আহমেদ চোখ তুলে দেখেন, স্কোরবোর্ডে একের পর এক নাম ঝরে গেছে—মাত্র কয়েক মিনিটে पाँच উইকেট! শেষ পর্যন্ত ৫ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম ঢুকল টিম টাইগার্স, আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ইতিহাসে ১ উইকেট পড়ার পর থেকে ৮ উইকেট পড়া পর্যন্ত সবচেয়ে কম রান করা দুঃস্মৃতি শুধু ২০০৮‑এর জিম্বাবুয়ে (৩ রান) ছেঁটে রেখে দ্বিতীয় স্থানে। অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে সবই যেন ঠিক পথে ছিল। দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশের বোলাররা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৪৫তম ওভারে ২৪৪ রানে গুটিয়ে দেয়; দলগত সাফল্যের সিংহভাগই তাসকিনের ঝুলি-ভর্তি চার উইকেট, খরচ মাত্র ৪৭ রান। কিন্তু ব্যাট হাতে নামতেই এলোমেলো কাহিনি—শুরুতে ভালো শুরু, এরপর ২৮/০ থেকে ৩৩/৫; মেন্ডিস‑নুয়ানডুদের স্পিন‑পেস মিশ্রণে টপ‑অর্ডার ছিন্নভিন্ন। হতাশা লুকোচাপা না করে ম্যাচের পর তাসকিন বলেন, ‘ক্রিকেট সব সময় অনিশ্চিত—কফি খেতে খেতেই দেখলাম পাঁচটা উইকেট নেই! প্রত্যেকে ভুল করে, এবার শিখে পরের ম্যাচে শক্তভাবে ফিরতে হবে।’ তার আশা, ব্যাটাররা ছন্দ খুঁজে পেলে সিরিজে ফেরাই শুধু নয়, নিজেদের আত্মবিশ্বাসও ফিরবে। তিন ম্যাচের সিরিজে ১‑০তে এগিয়ে গেল লঙ্কানরা। ৫ আগস্ট একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ওয়ানডে; বাংলাদেশ হারলে সিরিজ হাতছাড়া, জিতলে Colombo showdown নিয়ে যাবে মিরাজদের ড্রেসিংরুমে স্বস্তির নিশ্বাস। তাতেই থেমে নেই ব্যক্তিগত লড়াই। পেস‑লিড বাংলাদেশ পেসার ত্রয়ীর অন্যতম ধারক তাসকিন নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে মুখিয়ে আছেন; অন্যদিকে বোলার‑ব্যাটার মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা চাইবে চেনা ছন্দের পুনরাবৃত্তি। দর্শকেরা তাই অপেক্ষায়—দ্বিতীয় ম্যাচে কফির কাপ না উল্টে কী টিম টাইগার্স ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? সময়ই দেবে জবাব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

২০২৬ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২ জুলাই) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে নারী এশিয়ান কাপ ফুটবলে এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য ম্যাচে বাহরাইন-তুর্কমেনিস্তান ২-২ গোলে ড্র করেছে। এতে সি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলবে। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বসবে এই আসর।

প্রধান উপদেষ্টা বার্তায় বলেন, “এই সাফল্য শুধু নারী ফুটবলের নয়, বরং গোটা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। এটি আমাদের দেশের সম্ভাবনা, প্রতিভা এবং অদম্য চেতনার এক অনন্য নিদর্শন।”

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।




 শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়, লজ্জাজনক রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ

 শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লজ্জাজনক পরাজয়ের শিকার হলো বাংলাদেশ। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রানে ম্যাচ হারলো টাইগাররা। এর মাধ্যমে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই—৪৯.২ ওভারে—২৪৪ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৬ রান করেন চারিথ আসালঙ্কা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান দুর্দান্ত পারফর্ম করেন, শ্রীলঙ্কাকে আড়াইশ রানের আগে থামাতে মূল ভূমিকা রাখেন তারা।

২৪৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চমৎকার সূচনা পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন এনে দেন ২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। ইমন ১৩ রানে আউট হলেও তামিমের সঙ্গে তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত গড়েন জয়ের ভিত। মাত্র ১৭ ওভারেই দলীয় শতক স্পর্শ করে বাংলাদেশ।

তবে এরপরই হঠাৎ ধসে পড়ে টাইগারদের ইনিংস। শান্ত রানআউট হলে ১০০ থেকে ১০৫ রানের মধ্যেই আরও ছয় ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। এই ধাপে ব্যর্থতার পরিচয় দেন লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ, তানজিম সাকিব ও তাসকিন আহমেদ। লিটন, মিরাজ ও তাসকিন কোনো রান না করেই আউট হন।

লেজের দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জাকের আলি। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও তা ম্যাচ বাঁচাতে যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩৫.৫ ওভারে ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই হারে ৭৭ রানের ব্যবধানে প্রথম ওয়ানডে হারলো বাংলাদেশ। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল সেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়, যেখানে মাত্র ৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।




বাংলাদেশের ওয়ানডে যাত্রা শুরু, টস জিতে ব্যাটিং এ শ্রীলঙ্কা 

দীর্ঘ দুই দশক পর ওয়ানডে ক্রিকেটে এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডব খ্যাত মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া এই প্রথম কোনো ওয়ানডে ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ভেন্যু সেই পুরনো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, যেখানে ২০০৫ সালে সর্বশেষ এমন পঞ্চপাণ্ডবহীন ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ।

রঙিন পোশাকে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো আজ (মঙ্গলবার)। সাদা পোশাকে সিরিজ হারার পর কলম্বোতে শুরু হলো তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার অধীনে বাংলাদেশ একাদশে জায়গা পেয়েছেন দুই নতুন মুখ—উইকেটকিপার-ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন এবং বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। অপরদিকে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার একাদশেও অভিষেক হয়েছে মিলান রত্নায়েকে নামের এক পেস অলরাউন্ডারের।

বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলী অনিক, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ:
নিশান মাদুস্কা, পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, মিলান রত্নায়েকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহিশ থিকশানা, ইশান মালিঙ্গা ও আসিথা ফার্নান্দো।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে। এখন দেখার পালা, মিরাজের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেয়।




আজ মিরাজের নেতৃত্বে হতে যাচ্ছে পঞ্চপাণ্ডব বিহীন প্রথম ওডিআই

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চলতি জুলাই মাসেই তিনি এই দায়িত্ব পান এবং আজ (বুধবার) তার অধীনে প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়ে পুরোপুরি নতুন নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের জন্য এটিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক মিরাজ। কলম্বোয় সিরিজ শুরুর আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে আমরা সিনিয়রদের মিস করব। তারা দীর্ঘদিন দেশের হয়ে খেলেছেন। তবে এখন যারা দলে এসেছে, তাদের জন্য এটা ভালো সুযোগ। ভালো করলে স্থায়ী হওয়া যাবে। আমি বিশ্বাস করি, দল হিসেবে আমরা ভালো করব।”

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জায়গায় কাদের খেলানো হবে, এ বিষয়ে মিরাজ জানান, “আমরা পরিকল্পনা করছি কারা তাদের জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে। এই ধরনের রদবদল এক-দুই সিরিজে হয়ে যাবে না। সময় দিতে হবে। একসঙ্গে এত সিনিয়র খেলোয়াড় চলে যাওয়া দলের জন্য কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করছি ওই জায়গাগুলোতে উন্নতি আনতে।”

তিনি আরও বলেন, “ওডিআই না খেলার একটি সময় গেছে এবং এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ফাঁকা হয়ে গেছে। তারা অবসর নিয়েছেন এবং দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। আমি অধিনায়ক হিসেবে ভাবছি, ওই দুই জায়গার মধ্যে একটিতে নিজেই ব্যাটিং করব, আরেকটিতে লিটন দাসকে খেলানো যেতে পারে। কারণ এই দুটি পজিশন থেকেই ম্যাচের বড় স্কোর গড়ে তোলা যায়।”

আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, “বিশ্বকাপের জন্য হাতে অনেক সময় রয়েছে। কিছু নতুন খেলোয়াড় এসেছে, যারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। আমরা পরিকল্পনা করছি কীভাবে এই সময়ের মধ্যে দলটাকে প্রস্তুত করা যায়।”

সিনিয়রদের অবসরের পরবর্তী সময়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মিরাজ, তবে তরুণদের নিয়ে গড়া দলকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




১০ বছর বরিশালের ক্রিকেট উপেক্ষিত: ক্ষোভ বিসিবি সভাপতির, ফেরানোর ঘোষণা দিলেন মর্যাদা

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১০ বছর খেলাধুলা না হওয়াকে “ক্রিকেটারদের প্রতি অবিচার” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “স্থানীয় লিগ আয়োজন না করায় এক-দেড় হাজার ক্রিকেটারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারতেন অন্তত ১০০ জন বরিশালের সন্তান।”

রোববার (২৯ জুন) বরিশাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা অর্জনের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন নবনিযুক্ত বিসিবি সভাপতি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, “এ বছরই বরিশাল স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ফিরবে। স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বিপিএল ম্যাচ বরিশালে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হবে যদি স্টেডিয়াম প্রস্তুত থাকে।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে জেলা-উপজেলায় ক্রিকেটারদের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।”
তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠ পর্যায়ে দক্ষতা যাচাই করেই জাতীয় দলে নতুন রক্ত সংযোজন সম্ভব।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী আয়োজনে বরিশাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় অনূর্ধ্ব-১২ বয়সী কিশোর ও কিশোরীদের জন্য ‘সিক্স-এ-সাইড’ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং পেস বোলিং হান্ট ক্যাম্প
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশালের মাঠে বহুদিন পর ক্রিকেট প্রাণ ফিরে পায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার আবু রায়হান, জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মেহরাব হোসেন অপিশাহরিয়ার নাফিস, ফরচুন বরিশালের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, এবং স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জাজনক ইনিংস ব্যবধানে হার টাইগারদের

তীব্র ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ও ৭৮ রানের ব্যবধানে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হলো বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজও হাতছাড়া হলো টাইগারদের। গলে প্রথম ম্যাচ ড্র হলেও কলম্বোয় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না সফরকারীরা।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে যখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১১৫, তখনই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে তখনো ৯৬ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ, হাতে মাত্র ৪ উইকেট। লড়াইয়ের শেষ ভরসা ছিলেন লিটন দাস। তবে চতুর্থ দিনের শুরুতেই সেই আশাও শেষ হয়ে যায়। দিনের চতুর্থ বলেই প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লিটন (১৪ রান)। এরপর একে একে আউট হন নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৩৪ বলের মধ্যে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ২৪৭ রানে। জবাবে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের উপর ভর করে ৪৫৮ রানে পৌঁছে যায়। ফলে ২১১ রানের বিশাল লিড পায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় বাংলাদেশ। ওপেনার এনামুল হক বিজয় গলে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়ার পরেও কলম্বোয় সুযোগ পান, তবে এবারও হতাশ করেন। ১৯ রান করে ফিরে যান তিনি। ৩ বল পর বিদায় নেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম (১২ রান)। এরপর মুমিনুল হক (১৫), শান্ত (১৯), মুশফিক (২৬), ও মিরাজ (১১) সবাই থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২১১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে টেল এন্ড পর্যন্ত ব্যর্থতায় টেস্টে চরমভাবে পর্যুদস্ত হয় সফরকারীরা।

এই হারে শুধু ম্যাচই নয়, সিরিজটাও হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ। গলে ভালো লড়াই করলেও কলম্বো টেস্টে পুরোপুরি ছন্দহীন ছিল টাইগাররা — ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূল ভরাডুবির কারণ।

শেষ ফলাফল:
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস ২৪৭, দ্বিতীয় ইনিংস ২১১
শ্রীলঙ্কা: একমাত্র ইনিংস ৪৫৮
ফল: শ্রীলঙ্কা জয়ী ইনিংস ও ৭৮ রানে
সিরিজ ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে জয়ী