টিভিতে আজ খেলার সূচি




৮ মার্চের পর বরিশাল আসবে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি

বরিশাল অফিস :: এক যুগ ধরে লালন করা স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব হলো ফরচুন বরিশালের। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মতো শক্তিশালী দলকে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জেতা এ এক অন্যরকম অনুভূতি। বিপিএলে এর আগে তিনবার ফাইনাল খেললেও জিততে পারেনি শিরোপা। অবশেষে সেই বিজয় এলে তামিম ইকবালের হাত ধরে। আনন্দের পর্ব এখানেই শেষ নয়।

বরিশালবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে বাধভাঙ্গা উচ্ছাসের। যে ট্রফি টিভির পর্দায় কিংবা ফেসবুকে দেখেছেন তা নিজ চোখে এমনকি ছুঁয়ে দেখারও সুযোগ দিচ্ছেন ফরচুন বরিশালের টিম কর্ণধার বিশিষ্ট শিল্পপতি মোঃ মিজানুর রহমান। ৮ মার্চের পর যেকোন দিন ট্রফি নিয়ে আসা হবে বরিশালে। ট্রফি নিয়ে উল্লাসের সুযোগ দেওয়া হবে বরিশালের ক্রিকেট প্রেমিদের।

বরিশালের ক্রিকেট ভক্তরা বলেন,আমাদের সপ্ন ছিল এই ট্রফি দেখার প্রথমে বারের মতো বরিশাল চ্যাম্পিয়ন হাওয়ায় আমাদের বরিশালবাসীর সপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে। এখন অপেক্ষা ট্রফি দেখার।

 


মিজানুর রহমান বলেন, ট্রফিটা বরিশালের। আর বরিশালের মানুষ বাস্তবে ট্রফি দেখতে পারবে না। সেটা হয় না। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে বরিশালে ট্রফি নিয়ে যেতে দেরী হচ্ছে। এখনো দিনক্ষন নির্ধারন করিনি। তবে ৮ মার্চের পর যেকোন দিন বরিশাল আসবো এটা মোটামুটি নিশ্চিত।শুধু ট্রফিই নয় ট্রফির সাথে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের। এদিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পুরো নগরীতে আনন্দ মিছিল ও নেচে গেয়ে উল্লাস করেছে সকল বয়সী মানুষ।




নেপালকে হারিয়ে সাফ শুরু বাংলাদেশের




বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল’র পরবর্তী আসরের খেলা আয়োজনের দাবি

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) দশম আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৬ ইউকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরচুন বরিশাল। তবে বরিশাল স্টেডিয়ামে সরাসরি বিপিএল খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। দশম বিপিএল’র একটি ম্যাচও হয়নি বরিশাল স্টেডিয়ামে। এর আগের ৯টি আসরেও বিপিএল’র কোনো ম্যাচ হয়নি বরিশালে।

এমনকি বিপিএল’র আগামী আসরেও বরিশাল স্টেডিয়ামে রাখা হয়নি কোনো ম্যাচ। এতে ক্ষোভ আর হতাশা সৃষ্টি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। ২৯.১৫ একর আয়তনের বরিশাল শহীদ আবদুর রব সেরনিয়বাত স্টেডিয়াম দেশের অন্যতম বৃহতম। গত ১৯ জানুয়ারী ১০ম বিপিএল শুরু হয়।

১ মার্চ ফাইনালে ফরচুন বরিশালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের আসর শেষ হয়। এবারের বিপিএল এ ৪৬টি ম্যাচের একটিও আয়োজন করা হয়নি বরিশাল স্টেডিয়ামে। ঢাকার মিরপুর এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবারের বিপিএল’র সব ম্যাচ। টানা ১০ম বার বিপিএল খেলা অনুষ্ঠিত হলেও বরিশাল স্টেডিয়ামে কোন ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

সাবেক ক্রিকেটার ও স্থানীয় কোচ মাহমুদুল হায়দার তামিম বলেন, বরিশালে বিপিএল তো দূরের কথা। ৭ বছর ধরে স্থানীয় লীগের খেলা বন্ধ। স্টেডিয়াম রেডি না। আবাসনের ব্যবস্থা নেই। ব্রডকাস্টের ব্যবস্থা নেই।

ঘরের মাঠে নতুন প্রজন্ম জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে পাড়লে তাদের খেলায় উন্নতি হয়। নতুন খেলোয়াররা উৎসাহিত হয়। বরিশাল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করে আগামীতে বিপিএলসহ আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ তাসরিকুল ইসলাম টোটাম বলেন, বিপিএল আন্তর্জাতিক মানের খেলা। ওই মানের খেলা আয়োজনের মাঠ নেই বরিশালে। আড়াই বছর ধরে স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজই শেষ হয় না। বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল খেলা হলে স্থানীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নতি হবে। ওই মানের খেলা বরিশালে আনতে পারলে ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই ভালো। অবকাঠামো সহ সবকিছু ডেভলপ হবে। কিন্তু বরিশালে বিপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক মানের খেলা হচ্ছেনা। তিনি বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল, এনসিএল এবং বিসিএল এর ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানান।

বরিশালের ক্রীড়া সংগঠক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর প্রদীপ কুমার গাঙ্গুলী বলেন, ১০ম বিপিএলের কোনো ম্যাচ হয়নি বরিশালে। এর আগের ৯টি আসরেও বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল’র কোনো খেলা হয়নি। এটা হতাশার।

তিনি বলেন, আগামী বছর খুলনায় বিপিএল’র ভেন্যু দেয়া হয়েছে। বরিশাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের ৫টি পিস নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠ ফিল্টারিং হয়েছে। অথচ আগামী বছর বিপিএল’র জন্যও বরিশালে ভেন্যু দেয়া হয়নি। এটা দুঃখজনক। বরিশালের স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নয়নে আগামী বছর বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল সহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী স্প্রিংলার সিস্টেম আউট ফিল্ড, আন্তর্জাতিক মানের ড্রেসিং রুম, ভিভিআইপি বক্স, মিডিয়া সেন্টার, প্রেস কনফারেন্স রুম, ব্রডকাস্ট রুম, রেডিও রুম, ধারাভাষ্য রুম, সাংবাদিক লাউঞ্জ, কন্ট্রোল রুম, থার্ড আম্প্যায়ার স্পেস, প্যাভেলিয়ান ভবনের দুই পাশে উন্নত মানের টেপরন গ্যালারী সেড এবং স্টেডিয়ামের বাইরে ডরমেটরী ভবন, ইনডোর ক্রিকেট প্রাকটিস, প্লেয়ার ড্রেসিং রুম, অভ্যন্তরীন সড়ক ও প্রধান গেট নির্মাণের কথা রয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী শিবু লাল খাসকেল জানান, বরিশাল স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়েছে। নতুন করে ফ্লাড লাইটের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ফ্লাড লাইট স্থাপনের মধ্য দিয়ে বরিশাল স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের কাজ শেষ হবে।




বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার টি-২০ ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে ২০০ টাকায়

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগামী ৪ মার্চ থেকে শুরু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওই ভেন্যুর টিকিটের মূল্য ঘোষণা করেছে বিসিবি। টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ২০০ টাকা।

সিলেট স্টেডিয়ামের সর্বনিম্ন ২০০ টাকা টিকিট ধরা হয়েছে ওয়েস্টার্ন গ্যালারি ও গ্রিন হিল এরিয়া স্ট্যান্ডের। ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিট পাওয়া যাবে ৩০০ টাকায়, ক্লাব হাউজের টিকিটের দাম ৫০০ টাকা। এছাড়া গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা।

টিকিট পাওয়া যাবে সিরিজ শুরুর আগেরদিন (৩ মার্চ) থেকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, লাক্কাতুরা টিকিট কাউন্টারের মূলগেট ও রিকাবিবাজারে অবস্থিত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টার থেকে কেনা যাবে। টিকিট ছাড়ার সময় নির্ধারিত হয়েছে ম্যাচের দিন ও তার আগেরদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

অনলাইনেও সিলেট ভেন্যুর টিকিট পাওয়া যাবে ২ মার্চ থেকে। যা পরবর্তীতে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ওই টিকিট নিতে হবে ম্যাচের আগেরদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে।

উল্লেখ্য, ৪ মার্চ শুরু হওয়া তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের পরের দুই ম্যাচ ৬ ও ৯ মার্চ। তিনটি ম্যাচই হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এরপর চট্টগ্রামে রয়েছে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। দুই টেস্টের সিরিজ হবে সিলেট ও চট্টগ্রামে।




ফরচুন বরিশালকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে রংপুর রাইডার্স

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এই ফরচুন বরিশালের কাছে হেরেই বিদায় হয়ে যায় রংপুর রাইডার্সের। শুধু ওই ম্যাচেই নয়, সাকিব-তামিম দ্বৈরথের কারণে পুরো বিপিএলেই আলাদা রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে এই দুই দলের লড়াই।

তবে মাঠের লড়াই মাঠে। ক্রিকেটটা ভদ্রলোকের খেলা, সেটিই দেখালো রংপুর রাইডার্স। নিজেরা শিরোপা ছুঁতে না পারলে ফরচুন বরিশাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে রংপুর ফ্র্যাঞ্চাইজি।

শুক্রবার রাতে ফাইনালের পর রংপুরের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় বরিশালকে। তাছাড়া অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট করে বরিশালকে অভিনন্দন জানিয়েছে রংপুর। অভিনন্দন বার্তায় তারা লিখেছে, ‘রংপুর রাইডার্সের পক্ষ থেকে নতুন বিপিএল চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’




সবকিছু ঠিক হলেই কেবল আবার জাতীয় দলে ফিরবেন তামিম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। তামিম ইকবাল কী পারেন- তা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ক্রিকেটবিশ্বই জানে। মাঝে খানিক ম্রিয়মান মনে হলেও এবারের বিপিএলে তামিম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি আসলে ফুরিয়ে যাননি। তার ব্যাট এখনো আগের মতোই সচল। রান করার ক্ষমতা কমেনি একটুও। তার প্রমাণ, ৪৯২ রান করে এবারের বিপিএলে টপ স্কোরার হওয়া এবং নেতৃত্ব দিয়ে ফরচুন বরিশালকে প্রথমবার শিরোপা উপহার দিয়ে টুর্নামেন্ট সেরা পারফরমার হওয়া। মধ্য তিরিশে দাঁড়িয়ে বিপিএলের মতো আসরে নিজেকে যতটা মেলে ধরা সম্ভব, তামিম তার সবই করে দেখিয়েছেন।

অনেকের ধারনা, বিপিএলের এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ও স্মরনীয় সাফল্যে তামিমের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হলো।

তামিম নিজে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে কি ভাবছেন? নতুন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো কথাবার্তা হয়েছে কি? এমন কৌতুহলি প্রশ্ন এখন ভক্ত ও সমর্থকদের মুখে মুখে।

শুক্রবার রাতে বিপিএল জেতার পর প্রেস কনফারেন্সে এসেও সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন বরিশাল ক্যাপ্টেন। সাজানো গোছানো জবাবের শুরুতে তামিম জানিয়ে দিলেন, তার সঙ্গে নতুন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর কথা হয়নি।

তামিম বলেন, ‘না, আমার সঙ্গে তার কোনো কথাবার্তা হয় নাই। আমার সঙ্গে জালাল ভাইয়ের কথা হয়েছে। আমি কথা বলার জন্য এভেইলেবল ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বসা হয়নি। কিন্তু আমাদের যোগাযোগ আছে। আমি আগামীকাল সকালে আবার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছি। আশা করি আসার পর আবার আমরা বসবো।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা প্রসঙ্গে তামিমের কথার সারমর্ম হলো- তিনি চাইলেই জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন না। কারণ, তিনি কিছু শর্ত আরোপ করেছেন বা করবেন। সেগুলো পূরণ হলেই কেবল তাকে আবার জাতীয় দলে দেখা যাবে।

এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘একটা জিনিস পরিষ্কারভাবেই আপনাদের বলতে চাই। আমার জন্য ফিরে আসার জন্য অনেক কিছু ঠিক হতে হবে। নয়তো শুধু এসে খেলার কোনো পয়েন্ট নাই। কারণ, আমি ক্যারিয়ারের এমন স্টেজে আছি, হয়তো দুই বছর খেলবো। ওই কথাগুলো উনাদের সঙ্গে বলতে হবে।’

‘এখনও যেহেতু উনাদের (বোর্ড সভাপতি সহ শীর্ষ কর্তাদের) সঙ্গে ফাইনাল কথা হয়নি। এই সংবাদ সম্মেলনে এসে কিছু বলে দেওয়া উপযুক্ত না। ওটা বলাটা উচিত হবে না।’-যোগ করেন তামিম।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তামিম বলেন, ‘আমি যেটা বললাম এটা খুবই আনফেয়ার হবে আগাম মন্তব্য করা। আমি যতক্ষণ উনাদের (বোর্ড কর্মকর্তাদের ) সঙ্গে কথা না বলে থাকি। আমি আপনাদের একটা কথা বলেছি যে, আমার ফেরার জন্য অনেক কিছু ঠিক করতে হবে।’

তামিমের কথার সারমর্ম পরিষ্কার। তার ফেরাকে ত্বরান্বিত করতে হলে অনেক কিছু ঠিক হতে হবে। তবেই তিনি ফিরে আসবেন, না হয় তিনি ফিরবেন না।




আজ টিভিতে খেলা দেখবেন




কুমিল্লার দম্ভচূর্ণ করে বিপিএল শিরোপা বরিশালের

বরিশাল অফিস :: চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। যতবার ফাইনাল খেলেছে, শিরোপা তাদের হাতেই উঠেছে। চার শিরোপার দুটি আবার বরিশালকে হারিয়েই জেতা কুমিল্লার। এমন প্রতিপক্ষের সামনে ফরচুন বরিশালের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হতে পারত। স্নায়ুচাপে খাবি খেতে পারত তারা। কিন্তু তামিম ইকবালের এই বরিশালকে দমিয়ে রাখতে পারল না কুমিল্লা। ৬ উইকেটের জয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএল শিরোপা জয় করল বরিশাল।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে কুমিল্লার ব্যাটিং শুরু থেকেই ছিল এলোমেলো। প্রথম ওভারে জীবন পেয়ে এক বল পরই উইকেট ছুঁড়ে দেন সুনীল নারাইন। প্রথমবার তার ক্যাচ হাতে জমাতে না পারলেও দ্বিতীয়বাড় দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে নারাইনকে সাজঘরের পথ চেনান ওবেড ম্যাকয়।

নারাইন তড়িঘড়ি ফিরলেও লিটন দাস এবং তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল কুমিল্লা। কিন্তু কীসের কি! জেমস ফুলারের বলে দুজনই ক্যাচ দিয়েছেন ডিপ থার্ডে থাকা মাহমুদউল্লাহর হাতে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রেকর্ড জুটি গড়ে দলকে জেতানো লিটন (১৬) আর হৃদয়ের (১৫) ব্যাট থেকে কুমিল্লা ফাইনালে পেয়েছে সাকুল্যে ৩১ রান।

পাওয়ার প্লে শেষে প্রথম তিন ব্যাটারকে হারানো কুমিল্লার স্কোর দাঁড়ায় ৪৯ রান। এলোমেলো ব্যাটিংয়ের অবশ্য সেখানেই শেষ নয়। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নামা দুই বিদেশি জনসন চার্লস এবং মঈন আলিও দলকে খুব একটা নির্ভরতা জোগাতে পারেননি।

ধীরগতিতে ব্যাট চালিয়ে কুমিল্লার রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। দুটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে খোলসমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে রান তোলার তাড়ায় সাইফউদ্দিনের বল স্কুপ করতে গিয়ে উল্টো বোল্ড হতে হয় তাকে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান।

শেষদিকে আন্দ্রে রাসেলের ১৪ বলে ৪ ছক্কায় খেলা ২৭ রানের ক্যামিও দেড়শ ছাড়ায় কুমিল্লার সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৪ রানে থামে কুমিল্লা। বরিশালের পক্ষে ৪৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন জেমস ফুলার।

জবাব দিতে নেমে শুরু থেকে কুমিল্লার বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ ওভারে ৭৬ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে বরিশাল। অষ্টম ওভারের শেষ বলে মঈন আলির বলে তামিম বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। ফেরার আগে সমান তিনটি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ৩৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তামিম। যার সুবাদে ১৫ ম্যাচে ৪৯২ রান করা তামিম কুমিল্লার তাওহিদ হৃদয়কে টপকে বনে গেছেন বনে গেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

তামিম ফেরার পর তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন মিরাজ (২৯)। স্লটে থাকা বলে বড় শট হাঁকাতে গিয়ে টাইমিংয়ের গরমিলে ধরা পড়েন লং অনে থাকা জনসন চার্লসের হাতে।

দুই ওপেনার ফেরার পর বরিশালের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম এবং কাইল মায়ার্স। এর মধ্যে মায়ার্সকে দুইবার আউট করার সুযোগ পেয়েও হেলায় হারিয়েছে কুমিল্লা। মঈনের বলে কুমিল্লার ফিল্ডাররা দুইবার মায়ার্সের ক্যাচ ছেড়েছেন।

দুইবার জীবন পেয়ে বরিশালকে জয়ের হাতছোঁয়া দূরত্বে পৌঁছে দেন মায়ার্স। আন্দ্রে রাসেলের করা ১৫তম ওভারে দুটি করে চার-ছক্কার সাহায্যে তোলেন ২১ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মঈন আলির তালুবন্দি হয়ে আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫ চার এবং ২ ছয়ে ৪৬ রান।

মুস্তাফিজের করা সেই ওভারেই ১৩ রান করে আউট হন মুশফিকও। তবে ডেভিড মিলার (৮*) এবং মাহমুদউল্লাহ (৭*) বরিশালকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন।




কুমিল্লাকে উড়িয়ে ইতিহাস লিখলো বরিশাল

বরিশাল অফিস :: এক যুগ ধরে লালন করা স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব হলো ফরচুন বরিশালের। এ যেন এক রূপকথার গল্প। রোমাঞ্চকর বিপিএলগল্পের সব পর্বকে ছাড়িয়ে অন্যরকম এক পর্বের বাস্তব রূপায়ণই যেন দেখালো তামিম ইকবালের বরিশাল।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মতো শক্তিশালী দলকে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জেতার স্বাদ, এ যেন অন্যরকম অনুভূতি বরিশালের। বিপিএলে এর আগে তিনবার ফাইনাল খেললেও জিততে পারেনি শিরোপা। অবশেষে বরিশালের সেই হাহাকারের আনন্দময় সমাপ্তি হলো তামিমের হাত ধরে।

দারুণ এই জয়ে স্বপ্নপূরণ হয়েছে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহর মতো তারকাদের। এক যুগ ধরে শিরোপা ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষার করছিলেন বাংলাদেশের এই বড় দুই তারকা। আজ শেরে বাংলা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শেষ হলো তাদের সেই অপেক্ষার প্রহর।

ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে এসে হলেও অন্তত একবারের জন্য শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পেরেছেন ভায়রা ভাই মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহ তো ব্যাট হাতে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছেন। যে কারণে, বিপিএলে নিয়ে আর কোনো আফসোস হয়তো থাকবে না এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের।