ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ নয়: এসিসি সভায় ভালো কিছুই হবে: বুলবুল

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের পর অবশেষে ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নিচ্ছে ভারত। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং এখনো ভালো রয়েছে।

ঢাকায় আয়োজিত এসিসির এই গুরুত্বপূর্ণ সভাকে ঘিরে গেল সপ্তাহজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম হয়। ভারত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে সভা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। এমনকি তাদের সঙ্গে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কারও সভা বর্জনের গুঞ্জন উঠেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। জানা যায়, ভারত সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবে।

এদিকে, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। শ্রীলঙ্কা ও নেপাল অনলাইনে সভায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বুলবুল বলেন, “আমরা বাংলাদেশে এসিসির মিটিং আয়োজন করছি। আয়োজক হিসেবে সবাইকে রাজি করাতে পেরেছি, ক্রিকেটের স্বার্থেই সবাই অংশ নিচ্ছে। যারা আসতে পারছে না, তারা অনলাইনে যুক্ত হবে।”

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বুলবুল বলেন, “বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল, এখনও ভালো আছে। সিরিজ স্থগিত হলেও দুই বোর্ড আলোচনার মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করেছে। গতকাল এবং আজ বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। সম্পর্ক আগের মতোই বিদ্যমান থাকবে।”

আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় আসন্ন এশিয়া কাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। টুর্নামেন্টে ছয়টি দল অংশ নিলেও পাকিস্তান আয়োজক দেশ ভারত সফরে অনাগ্রহী। এ কারণে এখনো এশিয়া কাপের সূচি বা ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।

এসিসির এই বৈঠকে সব জটিলতা নিরসনের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।




টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি এই বার্তা দেন।

শেহবাজ শরীফ বলেন, “পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন। একইসঙ্গে আমি আমাদের দলের উজ্জীবিত পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। এটি ক্রীড়াপ্রেমের প্রকৃত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের দুই দেশের মধ্যে খেলাধুলার এই সম্পর্ক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখে এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করে।”

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটিই বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়। এ অর্জনকে ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চলছে উচ্ছ্বাস।




ঢাকায় হচ্ছে এসিসির সভা, ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছে ভারত

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা। শেষ মুহূর্তে ভারত সভায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তবে অনলাইনে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ভারত অনলাইনে সভায় অংশ নিচ্ছে। আফগানিস্তান প্রতিনিধিরা রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবে। শ্রীলঙ্কা ও নেপালও ফ্লাইট জটিলতার কারণে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবে।”

এর আগে বিসিসিআই সভাটি বাংলাদেশ থেকে সরানোর প্রস্তাব দিলেও, এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ভারত সভা বয়কটের হুমকি দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এবারের সভা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ এখনো অনিশ্চয়তায়। আয়োজক দেশ ভারত হলেও, পাকিস্তান সেখানে খেলতে যেতে রাজি নয়। ফলে এখনো নির্ধারিত হয়নি সূচি কিংবা ভেন্যু। ঢাকার এই সভাতেই হয়তো নির্ধারিত হবে এশিয়া কাপের ভাগ্য।




এশিয়া কাপের আকাশে কালো মেঘ, অনিশ্চয়তার মুখে টুর্নামেন্ট

এশিয়া কাপ ক্রিকেট আয়োজনে গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। আসন্ন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের অনড় মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় এই বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও ওমান বিসিসিআইয়ের অবস্থানকে সমর্থন করে ঢাকায় প্রতিনিধি না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এই তিনটি দেশের অনুপস্থিতিতে সভার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এসিসির বার্ষিক সভা ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভারতের অনুপস্থিতি পুরো বৈঠকের গুরুত্বই কমিয়ে দিয়েছে। এতে এসিসি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি মহসিন রাজা নকভি কিছুটা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন। তিনি নিজে ঢাকায় এসে সময় কাটাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছেন।

আরো অনেক সদস্য দেশ—নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া—ও বৈঠকে অংশ নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন এবং ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভারতের অনুপস্থিতিতে এই দেশগুলোর অনেকেই পিছু হটে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে এশিয়া কাপের আয়োজনে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে হওয়ার কথা ছিল এশিয়া কাপ, কিন্তু পাহেলগামের জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তা বাতিল হয়েছে। নিরপেক্ষ ভেন্যু ছাড়া ভারত ও পাকিস্তান একসঙ্গে খেলতে পারবে না বলেই ধারণা। এর আগে পিসিবি জানিয়েছে, তারা ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেবে না।

এসিসির একাংশ সদস্য সভাটি সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করার পক্ষে, যাতে ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু মহসিন নকভি ঢাকাতেই সভা আয়োজনের পক্ষে অনড় রয়েছেন। অন্যত্র স্থানান্তর হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্ষুব্ধ হতে পারে, কারণ তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ এখন বিসিসিআই ও এসিসির পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। বড় দলগুলো না থাকলে টুর্নামেন্টের গুরুত্ব, স্পন্সরশিপ ও দর্শকসংখ্যা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


 




টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে মুস্তাফিজ নবম, জাকের-হৃদয়-ইমনের চমক

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর এবার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকেও সুখবর পেলেন টাইগার ক্রিকেটাররা। আইসিসির হালনাগাদ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক খেলোয়াড়ের।

বিশেষ করে বোলিং বিভাগে দারুণ সাফল্য এসেছে মুস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে। ১৭ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে। তার রেটিং পয়েন্ট ৬৫৩, যা ভারতের পেসার আর্শদীপ সিংয়ের সমান। ২০২১ সালের অক্টোবরের পর এবারই প্রথম শীর্ষ দশে ফিরলেন বাঁহাতি এই গতি তারকা।

বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি করেছেন শেখ মেহেদী হাসান, তিনি ৯ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৬তম স্থানে। অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়েও তার অবস্থান এখন ৩৫তম (১৩ ধাপ উন্নতি)। তানজিম হাসান বোলিংয়ে ৯ ধাপ এগিয়ে ৩৮তম এবং অলরাউন্ডার তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ৮১তম অবস্থানে রয়েছেন।

শরীফুল ইসলাম এগিয়েছেন ১৪ ধাপ, এখন অবস্থান ৪৩তম। যদিও রিশাদ হোসেন তিন ধাপ পিছিয়ে গেছেন, এখন ২০তম, আর অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ৫৪তম।

ব্যাটিং বিভাগেও উঠেছে নতুন চমক। তরুণ তানজিদ হাসান তামিম ১৮ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৭তম, যেটি বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। জয়ের ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ১৭ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫৩তম হয়েছেন জাকের আলী অনিক। তার সঙ্গে আছেন নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে।

তাওহীদ হৃদয় দুই ধাপ এগিয়ে ৩৯তম স্থানে এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ ধাপ এগিয়ে পৌঁছেছেন ৬৩তম স্থানে।

অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টির বোলারদের শীর্ষে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ এবং ভারতের বরুণ চক্রবর্তী। ব্যাটিংয়ে শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড এবং অলরাউন্ডার তালিকায় সবার ওপরে ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া।

বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স র‍্যাঙ্কিংয়ে এই সাফল্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঢাকায় এসিসি সভা ঘিরে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, নিরপেক্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের টানাপড়েনের মাঝে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আসন্ন ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সভাটি আয়োজন করছে বিসিবি, তবে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে আয়োজক হিসেবে দায়িত্বপালনেই সীমাবদ্ধ থাকবে তারা বলে জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের জেরে আগস্টে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে ভারত। সেই সঙ্গে এসিসির ঢাকাস্থ এজিএম আয়োজন নিয়েও আপত্তি তুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিপরীতে এসিসির বর্তমান সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি সভা ঢাকাতেই আয়োজনের ব্যাপারে অনড় রয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন,
“এসিসি আমাদের প্রস্তাব করেছিল সভাটি আয়োজনের জন্য। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। এটি এসিসির প্রোগ্রাম, আমরা কেবল লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছি। ক্রিকেট সব কিছুর ঊর্ধ্বে—আমরা একটি সফল এজিএম আয়োজন করতে চাই।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এসিসির পাঁচটি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তিনটি সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তবে এজিএম অনুষ্ঠানে কোনও সমস্যা দেখছেন না বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন,
“আমার মনে হয় না এতে কোনো কূটনৈতিক সংকট হবে। আমরা আগে কখনো এজিএম আয়োজন করিনি, এবার একটা ভালো আয়োজনের চেষ্টা করছি।”

আজ (বুধবার) ঢাকায় বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে এসিসি সভাপতি মোহসিন নাকভির। এ প্রসঙ্গে বুলবুল জানান,
“তার সফরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বৃদ্ধি ও ক্রিকেটীয় উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে।”

বিতর্কের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সভা এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাংলাদেশ আপাতত রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে কেবল খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।




বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সিরিজ উৎসর্গ করলেন লিটন দাস

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর তা বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ রানের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। ২০ ওভারে অলআউট হয়ে মাত্র ১৩৩ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। ইনিংসে জাকের আলির ৫৫ ও শেখ মেহেদির ৩৩ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। যদিও পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও খুশদিল শাহ দলকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি পাকিস্তান।

সিরিজ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিটন দাস বলেন,
“পাওয়ার প্লেতে আমাদের আরও ভালো করা দরকার ছিল, সেটা আমরা পারিনি। তবে জাকের আর মেহেদি দারুণ ব্যাটিং করেছে। মাঝের ওভারে কিছু ভুল হলেও আমরা ভালো বোলিং করেছি। অবশ্যই কিছু জায়গায় ভুল ছিল, বিশেষ করে ক্যাচ মিস করেছি। এই জয় আমরা সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি উৎসর্গ করছি।”

উল্লেখ্য, এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের আনন্দে শোককে স্মরণ করায় আবেগে ভেসেছে পুরো দল ও সমর্থকরা।




বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগাররা

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর ৮ রানের জয়ে প্রথমবারের মতো একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান, হাতে ছিল একটি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে আশার আলো জাগান আহমেদ দানিয়েল। তবে পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়। ইনিংসে বড় অবদান রাখেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলি। ৪৮ বলে ৫৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। এছাড়া শেখ মেহেদি হাসান করেন ২৫ বলে ৩৩ রান।

জবাবে খেলতে নেমে দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তান তাদের প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ১৫ রানে। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে শেখ মেহেদির স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীরা।

পরে ফাহিম আশরাফ (৩২ বলে ৫১) ও আব্বাস আফ্রিদির (১৩ বলে ১৯) লড়াকু ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মুস্তাফিজের শেষ ওভারে সব শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের।

এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু হয় ওপেনার নাঈম শেখের আউটের মাধ্যমে। মাত্র ৩ রান করে ফেরেন তিনি। অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমনও হতাশ করেন। তবে জাকের-মেহেদি জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। পঞ্চম উইকেটে আসে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি ও মুস্তাফিজুর রহমান সবাই কার্যকর ছিলেন। বিশেষ করে নতুন বলে লাইন-লেংথে ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান ব্যাটিংকে চাপে রাখেন লিটনের ব্যবস্থাপনায়।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের সিরিজে জয় পেল। ম্যাচ শেষে আনন্দে মাতেন খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শকরা। সিরিজের এই ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




জাকেরের লড়াকু ফিফটিতে ১৩৩ রানে থামলো বাংলাদেশ

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েও জাকের আলির দৃঢ়তায় লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। তার ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করেছে স্বাগতিকরা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনফর্ম তানজিদ তামিমকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন নাঈম শেখ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন। ৭ বল খেলে করেন মাত্র ৩ রান।

অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিন নম্বরে নেমে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় সালমান মির্জাকে উড়াতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন। তাওহিদ হৃদয় রান না করেই রানআউট হন পারভেজ ইমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ফলে। এরপর ইমনও ব্যর্থ হন চাপ সামাল দিতে, ১৪ বলে করেন ১৩ রান।

মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন শেখ মেহেদি ও জাকের আলি। পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৫৩ রানের মূল্যবান জুটি। ২৫ বলে ৩৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মেহেদি, যিনি সম্প্রতি ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচনার মুখে ছিলেন।

মেহেদির বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান শামীম হোসেন, তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন জাকের আলি। ৪৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন।

শেষদিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে না পারলেও জাকেরের লড়াকু ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই রান ডিফেন্ড করতে বোলাররা কেমন পারফর্ম করেন।




ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ম্যাচের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে পাকিস্তান মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায়। এটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অলআউট। তাসকিন ৩টি এবং মুস্তাফিজ ২টি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ধসিয়ে দেন।

জবাবে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে ভর করে ২৭ বল হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৩৯ বলে ৫৬ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলেন এই উদীয়মান ওপেনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ জয়—সবগুলোই এসেছে মিরপুরের মাটিতে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় নিয়ে ইতিহাস গড়তে আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিক দল।

অধিনায়ক লিটন দাস জানিয়েছেন, তারা উইকেট সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “মিরপুরের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ নয়। তবে আমরা যেভাবে ব্যাট করেছি তা দুর্দান্ত ছিল।” এ ম্যাচেও একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন।

এদিকে, প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে মরিয়া পাকিস্তান। কোচ মাইক হেসন জানিয়েছেন, ভুল সিদ্ধান্ত এবং উইকেট বোঝার ভুলই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চান তারা।

দুই দলই নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে মরিয়া। একটি জয় ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশের জন্য, আর একটি হার মানে পাকিস্তানের বিদায়। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অলিখিত ফাইনাল।

বাংলাদেশ দল:
লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাইম, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

পাকিস্তান দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নাওয়াজ, হুসেন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, সুফিয়ান মুকিম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম