বরিশাল দলের বিশৃঙ্খলায় বিপাকে বিসিবি

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগীয় দল নিয়ে চলমান বিশৃঙ্খলা ও অভিযোগে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠের বাইরে নানা বিতর্কিত ঘটনার জেরে গত মৌসুমে বরিশাল দলের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।
মৌসুমের মাঝপথে অধিনায়কত্ব ছাড়েন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি। বিসিবিকে পাঠানো চিঠিতে কারণ না উল্লেখ করলেও তিনি জানিয়েছেন, স্কোয়াডে না থাকায় সহখেলোয়াড় ইসলামুল হাসানের কাছ থেকে তিনি মৃত্যুর হুমকি পান। বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগে হুমকির ফোন রেকর্ডও জমা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সোহাগ গাজীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে ক্রিকেটার মঈন খানের বিরুদ্ধেও। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া কোচিং স্টাফদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রধান কোচ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান মজুমদার দায়িত্ব ছেড়ে দেন মৌসুমের মাঝপথে। পরে দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ ওয়াহিদুল গনি, কিন্তু তাঁর সময়েও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় বিসিবিতে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। জাতীয় দলের নির্বাচকরাও বরিশালের অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। এবারের মৌসুমে তাই স্কোয়াড গঠন ও কোচিং স্টাফ নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে টুর্নামেন্ট কমিটি। পুরো কোচিং ইউনিট বদলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
কিছু খেলোয়াড় কোচ আশিকুর রহমান, সহকারী কোচ শাহীন হোসেন এবং ট্রেনার বিকাশ শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও প্রোগ্রাম হেড মিনহাজুল আবেদীন প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এনসিএল সমন্বয় সভায় বরিশাল দলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন,
“যে দলে কোচ ও অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সেখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ আশা করা যায় না। খেলোয়াড়দের ভাষা ব্যবহার ও আচরণেও অবনতি দেখা যাচ্ছে, যা দুঃখজনক।”
এদিকে বরিশালের কিছু ক্রিকেটার দাবি করেছেন, এনসিএলে না থাকায় তারা ঢাকা লিগে সুযোগ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন, যা শুনে তিনিও বিব্রত হন।
বরিশাল দলের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম বলেন,
“বরিশালে ঘরোয়া লিগ না থাকায় সব ক্রিকেটারই জাতীয় লিগে খেলতে চায়। অনেকেই মনে করেন, জাতীয় লিগে খেললেই ঢাকা লিগে জায়গা পাওয়া সহজ হবে। তবে এটি ভুল ধারণা।”
ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও সোহাগ গাজীর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা চান, অতীতের বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। তারা বরিশালকে প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। যদিও বর্তমানে বরিশালের মূল স্কোয়াডে খেলার মতো স্থানীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র সাতজন। ফলে অন্য বিভাগীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








