আন্তর্জাতিক মানের নয় মিরপুরের পিচ, স্বীকার করলেন বিসিবি পরিচালক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে ১৪ মাস পর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও, পুরনো সমস্যা থেকেই গেছে উইকেট নিয়ে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখা গেছে ব্যাটারদের দুর্দশা এবং লো স্কোরিং পরিস্থিতি, যা নিয়ে এবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট অসন্তোষ।

চট্টগ্রামে শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম বলেন, “বোর্ড থেকে লো ও স্লো ট্র্যাক তৈরির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং আমরা চাই ভালো, স্পোর্টিং এবং বাউন্সি উইকেট হোক। যারা উইকেট প্রস্তুত করে, দায়টা তাদের। এবার চেষ্টা সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে উভয় দলের ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেয়েছে। পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসন পিচের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের নয়। এবার একই সুরে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালকও।

ফাহিম আরও বলেন, “মিরপুরের উইকেট মোটেই সন্তোষজনক নয়। হয়তো ভবিষ্যতে পুরো মাটিই পরিবর্তন করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলে হয়তো ভালো উইকেট তৈরি সম্ভব হবে।”

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির উইকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের উইকেটে ঘাস কম থাকলে বলের গায়ে কালচে দাগ পড়ে, বল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আমাদের বোর্ড সভাপতি সঠিকভাবে বলেছেন—এই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পায় না, ব্যাটও ভেঙে যায়।”

এর আগেও বিসিবি সভাপতি মিরপুরের উইকেটকে ‘আদর্শ নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য ভালো উইকেট অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে মিরপুরের উইকেট সে মানে পৌঁছাতে পারেনি, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।

ফাহিমের এ বক্তব্যে স্পষ্ট—হোম অব ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে বিসিবি। সামনে বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিতও মিলছে।




ভারতের ‘না’, সেমিফাইনালে না খেলেই ফাইনালে পাকিস্তান

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস (ডব্লিউসিএল)-এর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দলের। তবে রাজনৈতিক কারণে সেই ম্যাচ আর হচ্ছে না। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারত, ফলে সেমিফাইনাল না খেলেই ফাইনালে উঠে যাচ্ছে পাকিস্তান।

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায়, ভারত সরকার এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি।

এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভারত নিজেদের প্রত্যাহার করায় পাকিস্তান সরাসরি ফাইনালে উঠেছে। শিরোপা লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ীর সঙ্গে।

এই টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে খেলছেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, সুরেশ রায়না, পীযুষ চাওলা, ইউসুফ পাঠান এবং রবিন উথাপ্পা। দলটি গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষেও খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন উভয় দলকে এক পয়েন্ট করে দেওয়া হয়।

পাঁচ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান তালিকার শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে ওঠে। অন্যদিকে, ভারত মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে শেষ চারে জায়গা করে নেয়।

ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এক যুগের বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক কোনো ক্রিকেট সিরিজ খেলেনি দুই দেশ। যদিও আইসিসি বা এসিসির টুর্নামেন্টে নিয়মিত মুখোমুখি হয় তারা। সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। এমনকি দুই দেশ যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে, ভারতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি না হওয়ায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েন আবারও ক্রিকেটে প্রভাব ফেলল।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছেলেদের এশিয়া কাপে আবারও মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের। পাশাপাশি, ৬ অক্টোবর কলম্বোতে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেখা হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর।




টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর টি-টোয়েন্টিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই পরিণতির শিকার হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩ উইকেটে হেরে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ হারল ক্যারিবীয়রা। এর আগে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল স্বাগতিকরা। ফলে সফরের সবগুলো ম্যাচ জিতে ৮-০ ব্যবধানে সফর শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।

সেন্ট কিটসে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৭০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১৮ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস আসে শিমরন হেটমেয়ারের ব্যাট থেকে। ৩১ বলে ৫২ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে শেরফান রাদারফোর্ড ১৭ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তবে শেষদিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ইনিংসের শেষ তিন ওভারে মাত্র ১৫ রান যোগ করে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার বেন ডোয়ারসুইস ৩ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের রানের গতি থামিয়ে দেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা ভালো না হলেও পরে পরিস্থিতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। মাত্র ২৫ রানে ৩ উইকেট হারালেও চতুর্থ ব্যাটসম্যান টিম ডেভিড ১২ বলে ৩০ রান করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এরপর মিচেল ওয়েনের ১৭ বলে ৩৭ রান এবং অ্যারন হার্ডির ২৫ বলে ২৮ রানের ইনিংসে সহজ জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ডোয়ারসুইস।

সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজসেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। তিনি পাঁচ ম্যাচে তিনটি হাফসেঞ্চুরি সহ করেছেন মোট ২০৫ রান।

এই জয় দিয়ে কোনো সফরে হারের মুখ না দেখে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত, যারা ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৯-০ ব্যবধানে স্বাগতিকদের হারিয়েছিল।




এশিয়া কাপের আগে পাওয়ার হিটিং কোচ নিচ্ছে বিসিবি, আসছেন জুলিয়ান উড

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আধিপত্য গড়তে হলে ব্যাটারদের ‘পাওয়ার হিটিং’ দক্ষতা থাকা জরুরি। তবে এদিক দিয়ে বাংলাদেশ এখনো অনেকটা পিছিয়ে। কিছু তরুণ ব্যাটার সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতি করলেও দলগতভাবে ধারাবাহিকতা আসেনি। তাই আসন্ন এশিয়া কাপ সামনে রেখে পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি ঘটাতে বিশেষজ্ঞ কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিশ্ব ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে অন্যতম জনপ্রিয় নাম জুলিয়ান উড। তাকে তিন সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে আনছে বিসিবি। আগস্টে জাতীয় দলের পূর্ব নির্ধারিত কোনো সিরিজ না থাকায় ওই সময়েই স্কিল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বোর্ড। সেই ক্যাম্পেই যুক্ত হবেন জুলিয়ান উড।

সম্প্রতি জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উড বলেন,
‘হ্যাঁ, আমি সিমোর (ফিল সিমন্স) সঙ্গে কথা বলেছি। আগস্টে মূলত তিন সপ্তাহের জন্য আসছি—এমনটাই শুনেছি। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়, বেশি সময়ের জন্যও হতে পারে। বিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

উল্লেখ্য, আইপিএলের পাঞ্জাব কিংসসহ বিগ ব্যাশ, পিএসএল এবং আরও কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন জুলিয়ান উড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ‘পাওয়ার হিটিং’ শব্দটির প্রবর্তক হিসেবেও বিবেচিত হন তিনি। বাংলাদেশেও এর আগে বিপিএলে সিলেট সানরাইজার্সের ব্যাটিং কোচ এবং চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে ঢাকায় স্কিল ক্যাম্পে জাতীয় দলের বেশিরভাগ টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়ই অংশ নেবেন। মূল লক্ষ্য—এশিয়া কাপের আগে ব্যাটারদের বড় শট খেলার সক্ষমতা বাড়ানো।

পাওয়ার হিটিংয়ের ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াবে, তেমনি এশিয়া কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছে বোর্ড।




এশিয়া কাপ ২০২৫: বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে, ঘোষণা চূড়ান্ত সূচি

চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হলো এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সূচি ও ভেন্যু। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ৮টি দল। শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভি আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু প্রকাশ করেন।

এর আগে ঢাকায় এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হলেও তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আজকের ঘোষণার মাধ্যমে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রতীক্ষিত সময়সূচি স্পষ্ট হলো।

চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, এশিয়া কাপ শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এবং ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। এবারের আসরটি আয়োজিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

দলবিন্যাস ও বাংলাদেশের সূচি
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।

  • ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।
  • ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং হংকং।

প্রত্যেক দল গ্রুপ পর্বে তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি নিম্নরূপ—

  • ১১ সেপ্টেম্বর: হংকংয়ের বিপক্ষে
  • ১৩ সেপ্টেম্বর: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
  • ১৬ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তানের বিপক্ষে

গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। টুর্নামেন্ট নিয়ে উৎসাহের পারদ চড়ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। এবার নতুন ভেন্যুতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।

এশিয়া কাপ ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। এখন অপেক্ষা ৯ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী ম্যাচের।




বাংলাদেশ সুযোগ করে দিয়েছে বলেই জিতেছে পাকিস্তান: কামরান আকমল

নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলেও শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে লিটন দাসের দল। তবে পাকিস্তানের এই একমাত্র জয় ‘বাংলাদেশের দয়া’ বলেই দাবি করেছেন দেশটির সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আকমল বলেন, “তৃতীয় টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান জিতেছে, কিন্তু সেটা বাংলাদেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই। প্রথম দুই ম্যাচে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে মনে হচ্ছিল হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত। কিন্তু শেষ ম্যাচে ওরা (বাংলাদেশ) একাদশ ঘুরিয়ে নতুনদের সুযোগ দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি শাহিবজাদা ফারহানকে খেলাতে বাধ্য করত, তাহলে পাকিস্তান এতটা সুবিধা পেত না। ওরা লেফট-রাইট কম্বিনেশনের কথা ভেবেই স্পিনারদের আক্রমণ করেছে। অথচ পাকিস্তান দল নির্বাচনে কোনো কৌশলের ছাপই ছিল না।”

বাংলাদেশের রোটেশন নীতিকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও মনে করেন এই সাবেক তারকা। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ যেভাবে পুরো সিরিজে দল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছে, সেটা লজ্জাজনক। তারা কিন্তু আয়ারল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষেই এমনটা করেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া একটা দলের সঙ্গে এমন আচরণ! এটুকুই বলব, আর কিছু বলার দরকার নেই।”

এছাড়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তাসকিন আহমেদকে বিশ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কামরান। তার মতে, “তাদের সেরা বোলারকে বসিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বোঝাতে চেয়েছে, পাকিস্তান তাদের জন্য কোনো হুমকি নয়।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ১১০ ও ১৩৩ রান করে যথাক্রমে পাকিস্তানকে ১০৮ ও ১২৫ রানে গুটিয়ে দেয়। তবে শেষ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ হেরে যায় বড় ব্যবধানে। সিরিজের ফলাফল শেষে বাংলাদেশের জয় এবং পাকিস্তানের খেলায় ঘাটতি নিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।




ঢাকায় এসিসি সভা সফলভাবে সম্পন্ন, বিসিবিকে ধন্যবাদ জানালেন সভাপতি নাকভি

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাকে সফল ও সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় অংশগ্রহণ ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাকভি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মিটিং খুব ভালো হয়েছে। এসিসির ২৮টি সদস্য দেশই সভায় অংশ নিয়েছে। যারা স্বশরীরে এসেছেন এবং যারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে বিসিবি ও আমিনুল ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ। সবকিছু খুব সুন্দরভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। এসিসির পক্ষ থেকে আমি বলব, দিনটি ছিল অত্যন্ত স্মরণীয়।”

সভায় ক্রিকেটের অরাজনৈতিক ধারাকে গুরুত্ব দিয়ে নাকভি বলেন, “আমরা সবাই ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। খেলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চাই। ঢাকায় একটি দারুণ পরিবেশে দারুণ একটি মিটিং হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন সভার আয়োজন করতে পারব।”

উল্লেখ্য, সভার আগে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিসিসিআই জানায়, তারা প্রতিনিধি পাঠাবে না। শ্রীলঙ্কাও একই অবস্থানে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে দুই দেশ ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেয়। এ প্রসঙ্গে নাকভি বলেন, “সব দেশ ঢাকায় আসতে পারেনি—এটা স্বাভাবিক। আমি নিজেও এক সভায় সিঙ্গাপুর যেতে পারিনি। তবে সবচেয়ে বড় কথা, ২৫টি দেশ সরাসরি উপস্থিত ছিল। এটি এসিসির জন্য বড় সাফল্য।”




হোয়াইটওয়াশ হাতছাড়া বাংলাদেশের, সম্মান বাঁচল পাকিস্তানের

সিরিজ আগেই জয় নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন ছিল লিটন দাসের দলে। তবে শেষ ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তান ৭৪ রানে বড় জয় নিয়ে সম্মান রক্ষা করেছে। সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হলেও প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ।

টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে উদ্বোধনী জুটি সাইম আইয়ুব (২১) ও সাহিবজাদা ফারহান (৬৩) দারুণ শুরু দেন। পাওয়ারপ্লেতে ৫৭ রান গড়ায় তারা, ওপেনিং জুটিতে যোগ করে ৮২ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে গতি হারায় পাকিস্তান। চারে নামা হাসান নওয়াজ ঝড়ো ৩৩ রান করেন। শেষদিকে মোহাম্মদ নওয়াজ ২৭ এবং সালমান আলী আঘা ১২* রান করে দলকে ১৭৮/৭ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩ উইকেট নেন, নাসুম আহমেদ ২ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১ করে উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েন টাইগাররা। মাত্র ২ বল খেলে তানজিদ হাসান ফেরেন। অধিনায়ক লিটন দাস ৮ বলে ৮ রান করে আউট হন। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ৬ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট পড়ে মাত্র ২৯ রান করে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ১৬.৪ ওভারে ১০৪ রানে থামে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা ৩ উইকেট নেন।

বাংলাদেশ টানা ৪ জয় কাটিয়ে হোয়াইটওয়াশ হাতছাড়া করলো। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাহিবজাদা ফারহান। সিরিজসেরা হয়েছেন জাকের আলি অনিক।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭৮/৭ (ফারহান ৬৩, সাইম ২১, হাসান নওয়াজ ৩৩, মোহাম্মদ নওয়াজ ২৭, সালমান ১২*, তাসকিন ৩/৩৮, নাসুম ২/২২)

বাংলাদেশ: ১৬.৪ ওভারে ১০৪ (লিটন ৮, তানজিদ ০, সাইফউদ্দিন ৩৫*, সালমান মির্জা ৩/১৯)

 




বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়লো পাকিস্তান: হোয়াইট ওয়াশ করতে পারবে কি টাইগাররা? 

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চিত্রটা এবার ভিন্ন। প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রেখেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে বদলে গেছে দৃশ্যপট। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা। ইনিংসের মূল নায়ক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান, যিনি ৪১ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কার মার। পাওয়ার প্লের মধ্যেই পাকিস্তান বিনা উইকেটে তোলে ৫৭ রান, যেখানে ফারহানই ছিলেন মূল চালক।

পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। ইনিংসের অষ্টম ওভারে সায়িম আইয়ুবকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। সায়িম করেন ১৫ বলে ২১ রান। এরপর দ্রুত উইকেট হারালেও, মিডল ওভারে হাসান নাওয়াজ (১৭ বলে ৩৩) ও মোহাম্মদ নাওয়াজ (১৬ বলে ২৭) গুরুত্বপূর্ণ রানে অবদান রাখেন।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। নাসুম আহমেদ পান ২টি উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন শিকার করেন একটি করে উইকেট।

এই লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ব্যাটারদেরকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে—বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে সতর্কতা ও মিডল ওভারে ধৈর্য ধরে খেলাই হতে পারে বাংলাদেশের জয়ের চাবিকাঠি। ম্যাচ এখন ব্যাটারদের কাঁধে।




ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ নয়: এসিসি সভায় ভালো কিছুই হবে: বুলবুল

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের পর অবশেষে ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নিচ্ছে ভারত। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং এখনো ভালো রয়েছে।

ঢাকায় আয়োজিত এসিসির এই গুরুত্বপূর্ণ সভাকে ঘিরে গেল সপ্তাহজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম হয়। ভারত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে সভা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। এমনকি তাদের সঙ্গে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কারও সভা বর্জনের গুঞ্জন উঠেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। জানা যায়, ভারত সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবে।

এদিকে, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। শ্রীলঙ্কা ও নেপাল অনলাইনে সভায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বুলবুল বলেন, “আমরা বাংলাদেশে এসিসির মিটিং আয়োজন করছি। আয়োজক হিসেবে সবাইকে রাজি করাতে পেরেছি, ক্রিকেটের স্বার্থেই সবাই অংশ নিচ্ছে। যারা আসতে পারছে না, তারা অনলাইনে যুক্ত হবে।”

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বুলবুল বলেন, “বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল, এখনও ভালো আছে। সিরিজ স্থগিত হলেও দুই বোর্ড আলোচনার মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করেছে। গতকাল এবং আজ বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। সম্পর্ক আগের মতোই বিদ্যমান থাকবে।”

আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় আসন্ন এশিয়া কাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। টুর্নামেন্টে ছয়টি দল অংশ নিলেও পাকিস্তান আয়োজক দেশ ভারত সফরে অনাগ্রহী। এ কারণে এখনো এশিয়া কাপের সূচি বা ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।

এসিসির এই বৈঠকে সব জটিলতা নিরসনের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।