আন্তর্জাতিক মানের নয় মিরপুরের পিচ, স্বীকার করলেন বিসিবি পরিচালক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে ১৪ মাস পর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও, পুরনো সমস্যা থেকেই গেছে উইকেট নিয়ে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখা গেছে ব্যাটারদের দুর্দশা এবং লো স্কোরিং পরিস্থিতি, যা নিয়ে এবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট অসন্তোষ।
চট্টগ্রামে শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম বলেন, “বোর্ড থেকে লো ও স্লো ট্র্যাক তৈরির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং আমরা চাই ভালো, স্পোর্টিং এবং বাউন্সি উইকেট হোক। যারা উইকেট প্রস্তুত করে, দায়টা তাদের। এবার চেষ্টা সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি।”
উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে উভয় দলের ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেয়েছে। পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসন পিচের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের নয়। এবার একই সুরে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালকও।
ফাহিম আরও বলেন, “মিরপুরের উইকেট মোটেই সন্তোষজনক নয়। হয়তো ভবিষ্যতে পুরো মাটিই পরিবর্তন করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলে হয়তো ভালো উইকেট তৈরি সম্ভব হবে।”
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির উইকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের উইকেটে ঘাস কম থাকলে বলের গায়ে কালচে দাগ পড়ে, বল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আমাদের বোর্ড সভাপতি সঠিকভাবে বলেছেন—এই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পায় না, ব্যাটও ভেঙে যায়।”
এর আগেও বিসিবি সভাপতি মিরপুরের উইকেটকে ‘আদর্শ নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য ভালো উইকেট অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে মিরপুরের উইকেট সে মানে পৌঁছাতে পারেনি, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।
ফাহিমের এ বক্তব্যে স্পষ্ট—হোম অব ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে বিসিবি। সামনে বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিতও মিলছে।








