ফুটবলের জাদুকর সামাদের জন্মদিন আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে উপমহাদেশের ফুটবল আকাশে এক ধ্রুবতারা উদিত হয়েছিলেন যার নাম সৈয়দ আবদুস সামাদ। যাঁকে দুনিয়া চেনে ‘ফুটবল জাদুকর’ হিসেবে।
আজ ২ ফেব্রুয়ারি এই মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকী।
এই নিখুঁত মাপজোখ আর আত্মবিশ্বাসই তাঁকে ‘জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলো।সামাদের ক্রীড়াশৈলী দেখে মুগ্ধ স্কটিশ ফুটবলবোদ্ধারা বলেছিলেন, “সামাদ যদি ইউরোপে জন্মাতেন, তবে তিনি হতেন পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ফুটবলার।”
এমনকি ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত ফুটবলার এলেক হোসি অকপটে স্বীকার করেছিলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রথম সারির দলে খেলার যোগ্যতা ছিল সামাদের।
সে সময় জমিদাররা তাকে ‘খেপ’ খেলতে নিয়ে যেতেন। সামাদ আগেভাগে জিজ্ঞেস করতেন, “কয়টা গোল দেব?” আর ঘড়ির কাঁটা ধরে শেষ ১০ মিনিটে ঠিক সেই কটি গোলই উপহার দিতেন দর্শকদের।
১৯৩৬ সালে এক মারাত্মক চোট সামাদের ছন্দময় ক্যারিয়ারে যবনিকা টেনে দেয়। ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই চিরসবুজ ফুটবলার শিল্পী বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। তাঁর অবসরের পর বহু ফুটবলপ্রেমী দুঃখে মাঠে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন।
আজকের আধুনিক ফুটবলের চাকচিক্যে আমরা কি মনে রেখেছি আমাদের এই ভূমিপুত্রকে? যিনি বুট জুতো ছাড়াই ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন উপমহাদেশের ফুটবলের আত্মসম্মান ও শৌর্যের প্রতীক। এই ফুটবলের জাদুকরকে এখন আর মনে রাখে না কেউ। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে নেই কোনো আয়োজন, নেই কোনো স্মরণসভা। সামাদ যে মাটিতে শুয়ে আছেন, সেই পার্বতীপুরে এক সময় সামাদকে স্মরণকে করা হলেও এখন কোনো আয়োজন চোখে পড়ে না।
এ বিষয়ে মোস্তাকিম সরকার বলেন, তাঁর বসবাসরত বাড়িটিতে বর্তমান রেল বিভাগের কর্মচারীরা থাকেন। এটাকে যেমন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন তেমনই সামাদের নামে যে ইনস্টিটিউট রয়েছে তা সংস্কার করে এই জাদুকরের স্মৃতি ধরে রাখতে হবে আমাদের।
জাদুকর সামাদের মাজার রয়েছে পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুরে, এটাকেও নিয়মিত তদারক করা ও এখানে দর্শনার্থীদের দেখতে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন মোস্তাকিম সরকার।








