ফুটবলের জাদুকর সামাদের জন্মদিন আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে উপমহাদেশের ফুটবল আকাশে এক ধ্রুবতারা উদিত হয়েছিলেন যার নাম  সৈয়দ আবদুস সামাদ। যাঁকে দুনিয়া চেনে ‘ফুটবল জাদুকর’ হিসেবে।

আজ ২ ফেব্রুয়ারি এই মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকী।

এই মহানায়কের জন্ম  ১৮৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের ভুরী গ্রামে ।  দেশভাগের পর নাড়ির টানে থিতু হয়েছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পার্বতীপুরে। জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এই জনপদকেই ভালোবেসে আঁকড়ে ছিলেন তিনি।১৯১২ সালে কলকাতা মেইন টাউন ক্লাবে  তার ফুটবলের  যাত্রা শুরু  আর ১৯৩৩ সালে মোহামেডানে যোগ দিয়ে ফুটবলকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। সামাদের নেতৃত্বে মোহামেডান টানা পাঁচবার আইএফএ শিল্ড ও লীগ জয়ের গৌরব অর্জন করে।

১৯২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক এবং ১৯২৬ সালে অধিনায়কত্বের ব্যাটন হাতে নিয়ে তিনি চষে বেড়িয়েছেন চীন থেকে ইংল্যান্ড, সুমাত্রা থেকে মালয়। চীনের বিপক্ষে ৩-০ তে পিছিয়ে থেকেও সামাদের অতিমানবীয় চার গোলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় আজও রূপকথার মতো শোনায়।
এক নির্ভুল জ্যামিতিক প্রতিভা সামাদের পা ছিল যেন এক অদৃশ্য স্কেল। একবার ইন্দোনেশিয়ার জাভায় তাঁর জোরালো শট গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে তিনি খেলা থামিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন—”গোলপোস্টের উচ্চতা কম!” মেপে দেখা গেল সত্যিই তা আন্তর্জাতিক মাপের চেয়ে চার ইঞ্চি নিচু ছিলো।

এই নিখুঁত মাপজোখ আর আত্মবিশ্বাসই তাঁকে ‘জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলো।সামাদের ক্রীড়াশৈলী দেখে মুগ্ধ স্কটিশ ফুটবলবোদ্ধারা বলেছিলেন, “সামাদ যদি ইউরোপে জন্মাতেন, তবে তিনি হতেন পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ফুটবলার।”

এমনকি ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত ফুটবলার এলেক হোসি অকপটে স্বীকার করেছিলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রথম সারির দলে খেলার যোগ্যতা ছিল সামাদের।

সে সময় জমিদাররা তাকে ‘খেপ’ খেলতে নিয়ে যেতেন। সামাদ আগেভাগে জিজ্ঞেস করতেন, “কয়টা গোল দেব?” আর ঘড়ির কাঁটা ধরে শেষ ১০ মিনিটে ঠিক সেই কটি গোলই উপহার দিতেন দর্শকদের।

১৯৩৬ সালে এক মারাত্মক চোট সামাদের ছন্দময় ক্যারিয়ারে যবনিকা টেনে দেয়। ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই চিরসবুজ ফুটবলার শিল্পী বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। তাঁর অবসরের পর বহু ফুটবলপ্রেমী দুঃখে মাঠে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন।

আজকের আধুনিক ফুটবলের চাকচিক্যে আমরা কি মনে রেখেছি আমাদের এই ভূমিপুত্রকে? যিনি বুট জুতো ছাড়াই ফুটবলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন উপমহাদেশের ফুটবলের আত্মসম্মান ও শৌর্যের প্রতীক। এই ফুটবলের জাদুকরকে এখন আর মনে রাখে না কেউ। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে নেই কোনো আয়োজন, নেই কোনো স্মরণসভা। সামাদ যে মাটিতে শুয়ে আছেন, সেই পার্বতীপুরে এক সময় সামাদকে স্মরণকে করা হলেও এখন কোনো আয়োজন চোখে পড়ে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, পার্বতীপুরের এক সময়ের সাবেক ফুটবলার শরিফুল ইসলাম চঞ্চল জানান, সামাদের জন্ম ও মৃত্যু দিবসে পার্বতীপুরে তাঁর স্মরণে তেমন কোনো আয়োজন তার চোখে পড়ে না, এটাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। চঞ্চল বলেন, এই প্রজন্ম জাদুকর সামাদের নাম জানে না। তারা যখন এই নাম শোনে অবাক হয়। সামাদের নাম প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পৌঁছাতে এখনই বড় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।জাদুকর সামাদ যে পার্বতীপুরে রেলের যে কোয়ার্টারে থাকতেন সেখানে এখন অন্য কর্মচারী পরিবার নিয়ে থাকেন। তবে পার্বতীপুরের স্থানীয়রা মনে করেন এই বাড়িটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, কেননা এটি ইতিহাসের একটি অংশ।

এ বিষয়ে মোস্তাকিম সরকার বলেন, তাঁর বসবাসরত বাড়িটিতে বর্তমান রেল বিভাগের কর্মচারীরা থাকেন। এটাকে যেমন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন তেমনই সামাদের নামে যে ইনস্টিটিউট রয়েছে তা সংস্কার করে এই জাদুকরের স্মৃতি ধরে রাখতে হবে আমাদের।

জাদুকর সামাদের মাজার রয়েছে পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুরে, এটাকেও নিয়মিত তদারক করা ও এখানে দর্শনার্থীদের দেখতে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন মোস্তাকিম সরকার।




বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে  পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত , তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ তারা বয়কট করবে।

আজ রাতে পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডল ও ফেসবুকে একই সঙ্গে দেওয়া পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিচ্ছে।

তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’ কেন এই সিদ্ধান্ত, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ অবশ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা আর প্রচুর দর্শকের সমাগম । এই সুযোগ কাজে লাগাতে ২০১২ সাল থেকে আইসিসি প্রতিটি ইভেন্টেই দুই দলকে এক গ্রুপে রেখে আসছে। টুর্নামেন্টের সূচিও এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে দুই দলের একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকে।

তবে এবার পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে  ২০১০ সালের পর প্রথম কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াই শেষ হবে।

এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহন নিয়ে  অবশ্য একটা সময়ে বড় শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।ঘটনার সুত্রপাত  ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশ দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া কে কেন্দ্র করে ।

বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে বাদ দেওয়ার পর  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না তারা। আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে বিসিবি।

কিন্তু ২১ জানুয়ারি এক ভার্চুয়াল বোর্ড সভার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। বিসিবি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার পর গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি।

পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যারা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবির পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছিল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই    টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে যাচেছ। বাংলাদেশের পরিবর্তে  স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




সব বিতর্ক পেরিয়ে দলে ফিরছেন সাকিব

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলে ফিরছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিটনেস ঠিক থাকলে আগামীর সব হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজের জন্য সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিব আল হাসানকে ঘিরে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখন থেকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে দলে নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে তার ফিটনেসই হবে প্রধান শর্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলতে পারলেও সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসান।

বিসিবি সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি তাকে আবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাকিব আল হাসান সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে ঘিরে জনরোষ ও বিক্ষোভের শঙ্কা তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে।

পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশের দর্শকদের সামনে খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে চান। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাকে ফেরানোর দাবি জোরালো হতে থাকে।

সবশেষে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, বোর্ডও সাকিবের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে এখনো জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। ফিট থাকলে আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অলরাউন্ডারকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে খেলছে না বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াল লাল-সবুজ

শেষ পর্যন্ত বাস্তব হলো শঙ্কা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া আসরটি ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো সমাধানে না পৌঁছানোয় বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সরকার ও বিসিবি শুরু থেকেই ভারতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাতে সম্মতি দেয়নি। উল্টো একদিন আগে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ সরকার কোনো অবস্থাতেই দলকে ভারতে পাঠাবে না। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ন্যায্যতা পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, আইসিসি শেষ মুহূর্তে হলেও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পর বিসিবির অবস্থানও পরিষ্কার হয়ে যায়। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, তারা এখনও চান বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হোক এবং সেই দাবিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আইসিসির অনমনীয় অবস্থান ও ভোটাভুটির ফল বিসিবির সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।

আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভোটের মাধ্যমে। সেখানে বিসিবি পরাজিত হয় ১২-২ ভোটে। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভোট দেয়। অধিকাংশ পূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ক্রিকেট কূটনীতিতে বিসিবির সব প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।

ভোটাভুটির পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতেই আয়োজন করা হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও জানায় তারা। একই সঙ্গে আইসিসি জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ অংশ না নিলে ‘সি’ গ্রুপে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সূচি অনুযায়ী খেলতে রাজি না হওয়ায় ২০০৭ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলে আসা বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় বড় ছেদ পড়ল। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ঘটছে।

এই সংকটের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই বিসিবি নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলে।

পরবর্তী প্রায় ২০ দিন বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক চিঠি চালাচালি, বৈঠক এবং আলোচনা হয়। আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বৈঠকও করে। বিসিবি বারবার দাবি করে, তাদের অবস্থান আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত। অন্যদিকে আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও আয়োজক দেশের আশ্বাস অনুযায়ী ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।

আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে ভারতীয় প্রভাব এবং ভোটিং কাঠামো নিয়েও নানা আলোচনা উঠে আসে ক্রিকেট অঙ্গনে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।

সব যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর দেশের নিরাপত্তা ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। ক্রিকেটপ্রেমী দেশটির জন্য এটি কেবল ক্রীড়াগত নয়, ভাবমূর্তির দিক থেকেও বড় এক ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্বকাপ নিয়ে অনড় বাংলাদেশ, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের ভেন্যুতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসছে না। বিকেলে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং আইসিসির পক্ষ থেকেও সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে বিসিবি স্পষ্টভাবে জানায়, নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। শুধু সিদ্ধান্ত জানানোতেই থেমে থাকেনি বোর্ড, বরং কেন এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু নির্ধারণের জন্য আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।

বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সভায় আইসিসির সিকিউরিটি প্রধান বাংলাদেশের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আলোচনার সব বিষয় নোট করা হয়েছে এবং আইসিসির পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুরো আলোচনা ছিল গঠনমূলক ও পেশাদার পরিবেশে। উভয় পক্ষই খোলামেলা মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে একটি বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে, যাতে আয়োজন ও লজিস্টিক জটিলতা যতটা সম্ভব কমানো যায়।

বিসিবি আরও জানায়, আলোচনার একপর্যায়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া মতামত ও উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোয় উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগেও আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একই অবস্থান জানিয়েছিল বিসিবি। সর্বশেষ বৈঠকে আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ঢাকায় এসে সরাসরি অংশ নেন। তার সঙ্গে আসার কথা ছিল আইসিসির ইভেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরভ সাক্সেনারের। তবে ভিসা জটিলতার কারণে তিনি ঢাকায় আসতে না পেরে অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন।

বিসিবির পক্ষে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবির এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইপিএল থেকে বাদ মুস্তাফিজ

আলোচনা, সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের টানা উত্তাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চাইলে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

গোহাটিতে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কেকেআর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা চাইলে মুস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে এবং সে ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে আলোচনার পর থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে আসন্ন ২০২৬ আইপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়েও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাপ তৈরি হয়।

এর আগে ভারতের ধর্মীয় আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর প্রকাশ্যে মন্তব্য করে কেকেআর ব্যবস্থাপনাকে ওই ক্রিকেটারকে দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সময় বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খানকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় নিরুপমও শাহরুখ খানের কাছে আবেদন জানান, যাতে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এই বিতর্কের পেছনে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় আসে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের একাংশকে নাড়া দেয়। এসব ঘটনার জেরে ভারতের বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, সর্বশেষ আইপিএল নিলামে বাংলাদেশ থেকে সাতজন ক্রিকেটারের নাম উঠলেও দল পান কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা আইপিএলের ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ মূল্য। ফলে তাকে ঘিরে আলোচনাও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এর আগে বিসিসিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মুস্তাফিজের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করছেন। এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ক্রিকেটে পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, মুস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে অভিষেক হয় মুস্তাফিজুর রহমানের। এরপর তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে খেলেছেন। আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে তার শিকার ৬৫ উইকেট। চলতি মৌসুমে তাকে নতুন করে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কেকেআরের হয়ে মাঠে নামা হলো না তার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাঠেই শেষ বিদায়, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুশফিক

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দীর্ঘদিনের কোচ ও অভিভাবকসুলভ মানুষ মাহবুব আলী জাকির শেষ বিদায়ে মাঠেই অঝোরে কেঁদে ভেঙে পড়েন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো ক্রিকেটাঙ্গন।

৫৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ ও পেস বোলিং বিশেষজ্ঞ মাহবুব আলী জাকি। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে শুরু করে হাই পারফরম্যান্স ইউনিট, একাডেমি এবং জাতীয় দল—মুশফিকুর রহিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে পাশে ছিলেন এই কোচ। প্রায় ২৫ বছরের সেই সম্পর্কের ইতি টানে এক নির্মম মুহূর্ত।

ম্যাচ চলাকালীন সময়েই আসে জাকির মৃত্যুসংবাদ। তখন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে ব্যাট করছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। খেলার মাঝখানে আবেগ প্রকাশের সুযোগ না থাকলেও ম্যাচ শেষ হতেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আবেগ বাঁধভাঙা হয়ে ওঠে।

জানা যায়, মাঠে ওয়ার্ম-আপ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মাহবুব আলী জাকি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ ফিরিয়ে আনা হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

ম্যাচ শেষে ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় মাহবুব আলী জাকির প্রথম জানাজা। জানাজার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। পেসার শরিফুল ইসলামসহ আরও অনেক ক্রিকেটারের চোখে ছিল অশ্রু।

ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, “জাকি স্যার আমাদের কাছে বাবার মতো ছিলেন। এই জয় আমরা তাকে উৎসর্গ করছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।”

রাজশাহীর বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পেলেও ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছাপ। প্রিয় কোচকে হারানোর কষ্ট যেন পুরো দলকে নিঃশব্দ করে দেয়।

মাহবুব আলী জাকির প্রয়াণে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন আহমেদসহ অনেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ঢাকা ক্যাপিটালসও আনুষ্ঠানিকভাবে শোক জানায়। জানাজায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব আলী জাকি ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নের অন্যতম নীরব কারিগর। ২০০৮ সালে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে যোগ দেন তিনি। ২০১৬ সালে তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচিং প্যানেলের অন্যতম সদস্য ও পেস বোলিং কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কফিনবন্দি হয়ে খেলার মাঠে ফিরলেন কোচ জাকি, জানাজায় অশ্রুসিক্ত সতীর্থরা

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগেও যেই মাঠে মিঠুন ও সাব্বিরদের নেতৃত্বে কলাকৌশল ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মাঠে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান জাকি।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ও ঢাকা ক্যাপিটালসের ম্যাচ শেষে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্রীড়া সাংবাদিকরা অংশ নেন। মাঠজুড়ে বিরাজ করছিল নীরবতা এবং শোকের আবহ।

দুপুরে বিপিএলের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে সিলেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ পরই আসে জাকির অসুস্থতার খবর। মাঠে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দেওয়া হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অত্যন্ত পরিচিত ৫৭ বছর বয়সী কোচ মাহবুবুর রহমান জাকি চিরদিনের জন্য মাঠ ছাড়লেন।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাকির মরদেহ ফেরানো হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। জানাজা শেষে পরিবারের তত্ত্বাবধানে তাঁর মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়ি প্রেরণ করা হয়।

মাহবুবুর রহমান জাকি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলার। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিসিবি এবং জাতীয় দলের পেস বোলিং উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। বিশেষ করে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তাসকিন আহমেদের বোলিং উন্নয়নে জাকির পরামর্শ ও তত্ত্বাবধান উল্লেখযোগ্য।

জীবনের শেষ মুহূর্তে দলের জন্য অনুপ্রেরণা দান করা কোচ জাকির বিদায়ের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন জানান, জাকির পরামর্শ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা মাঠে লড়েছে এবং সকলের কাছে তাঁর জন্য দোয়া চেয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




সিলেটে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে প্রয়াত ঢাকা কোচ মাহবুব আলী জাকি

সিলেটে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালীন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।

ঘটনাটি ঘটে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা অনুশীলনে ব্যস্ত থাকাকালীন তিনি আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিতরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দিয়ে চেষ্টা করেন, এরপর দ্রুত তাকে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাহবুব আলী জাকি দেশের ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়রা সহকারী কোচের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিপিএলের মাঠে খেলোয়াড়রা খেলতে থাকলেও দলের সব সদস্যের মনে শূন্যতা ও বেদনা বিরাজ করছে।

মাহবুব আলী জাকির মৃত্যু সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটাঙ্গনে ঘটে যাওয়া অন্য মর্মান্তিক ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। এর আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগ চলাকালীন বরিশাল বিভাগের ফিজিও হাসান আহমেদ মাঠে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

ঢাকার প্রথম ম্যাচের আগেই অভিজ্ঞ কোচের আকস্মিক প্রয়াণ পুরো ক্রিকেট পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক শূন্যস্থান হিসেবে মনে রাখা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিপিএলে তৃতীয়বারের মতো নতুন ট্রফি আনছে বিসিবি

সিলেট: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে তৃতীয়বারের জন্য নতুন ট্রফি আনা হচ্ছে। দুবাই থেকে আনা এই ট্রফিটির মূল্য ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। তবে বিপিএল উদ্বোধন হয়ে গেলেও ট্রফিটি এখনো হাতে আসে নি।

বিসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এমডি সাখাওয়াত হোসেন ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের ট্রফিটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন ট্রফি আনার পেছনে গভর্নিং কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রফিটি এখনো বিপিএল উদ্বোধনের সময় হাতে আসেনি, তবে মধ্যবর্তী সময়ে এটি পৌঁছে যাবে।

তারা আরও জানান, এবারের নতুন ট্রফি অত্যন্ত চমৎকার ও আকর্ষণীয়। পূর্ববর্তী আসরের ট্রফি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন ট্রফি সকলের প্রশংসা কুড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, বিপিএলের প্রথম থেকে ষষ্ঠ আসরে একটি ট্রফি ব্যবহার করা হয়েছিল। সপ্তম থেকে একাদশ আসরে ভিন্ন ট্রফি ব্যবহৃত হয়। দ্বাদশ আসরের ট্রফিও তৃতীয় পর্যায়ের পরিবর্তন হিসেবে নতুনত্ব নিয়ে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫