মঠবাড়িয়ায় অবৈধ ইটভাটায় প্রশাসনের কঠোর অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো কাঁচা ইট

পরিবেশ ধ্বংসের নীরব কারখানা হয়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত একটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট। একই সঙ্গে ভাটার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স মক্কা ব্রিকস’-এ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাইসুল ইসলাম।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল। আইন অমান্য করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাটা স্থাপন করায় পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছিল। এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাইসুল ইসলাম জানান,
“অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে ভাটার মালিক মো. ইউসুফ মুন্সিকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তুত করা কাঁচা ইট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের ফসল নষ্ট হচ্ছিল, বাতাস দূষিত হচ্ছিল এবং নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান।

পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পানিতে পড়লেই বাঁচবে জীবন ভোলার তরুণের যুগান্তকারী ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই নিভে যায় একটি ছোট্ট প্রাণ। নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা উপকূলীয় জনপদে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু যেন নিত্যদিনের ভয়াবহ বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে বদলাতে স্বপ্ন দেখেছেন ভোলার মনপুরার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন। আর সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’—একটি লকেট আকৃতির প্রযুক্তি, যা শিশু পানিতে পড়লেই বেজে উঠবে সাইরেন, আর সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পৌরসভার পুকুরে এই ডিভাইসের পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেখা যায়, সাঁতার না জানা এক শিশু পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ডিভাইসটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মুহূর্তেই চারপাশে বেজে ওঠে বিপদ সংকেত। শব্দ শুনে ছুটে আসেন মানুষ, উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রক্ষা পায় একটি প্রাণ।

এই ডিভাইসটি শিশুর গলায় লকেটের মতো ঝুলিয়ে রাখা যাবে। অভিভাবকের কাছে থাকবে একটি ছোট পোর্টেবল রিসিভার। শিশু পানির সংস্পর্শে এলেই রিসিভার থেকে সাইরেন বাজবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের মোবাইলে কল যাবে। শুধু তাই নয়, এতে যুক্ত আছে জিপিএস প্রযুক্তি—যার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুটি ঠিক কোন স্থানে পানিতে পড়েছে।

প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। উপস্থিত ছিলেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। তারা উদ্ভাবনটির প্রশংসা করেন এবং এর প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন,“ভোলার মতো পানিবেষ্টিত এলাকায় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। এই উদ্ভাবন মানুষের জন্য আশার আলো। এর প্রসারে আমরা সব ধরনের সহায়তা করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন,“এই ডিভাইস যদি একজন শিশুর জীবনও রক্ষা করতে পারে, সেটাই হবে এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। তরুণ তাহসিনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

উদ্ভাবক তাহসিন জানান, পানিতে ডুবে তার দুই খালাতো বোনের মৃত্যুই তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। সেই বেদনা থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করেন—কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে এই মৃত্যু রোধ করা যায়। বিজ্ঞানপ্রেমী তাহসিন নিজের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’-এ।

তিনি বলেন,
“আমি চাই আর কোনো পরিবার যেন পানিতে ডুবে শিশুকে হারিয়ে শোকে ভেঙে না পড়ে। এই ডিভাইস শিশুর সঙ্গে থাকলে দুর্ঘটনার মুহূর্তেই সবাই জানতে পারবে।”

ডিভাইসটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, যা পরিবারের সহায়তায় জোগাড় করা হয়েছে। শুরুতে লকেটটির আকার ও ওজন বেশি ছিল। কিন্তু এখন সেটি মাত্র ২ গ্রাম ওজনের—শিশুর গলায় ঝোলানো একেবারেই সহজ।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে উপকূলীয় এলাকার ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা। সচেতনতা ও সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির এই ব্যবহার নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাহসিনের উদ্ভাবন যেন শুধু একটি যন্ত্র নয়—এ যেন অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ বাঁচানোর এক নীরব প্রতিশ্রুতি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম মজুমদার

নির্বাচনি প্রস্তুতি দৃশ্যত এগোলেও এখনো শঙ্কা কাটেনি—এমন মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশালে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচনি ট্রেন ট্র্যাকে উঠে গেছে ঠিকই, তবে ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। রাজনীতিবিদ এবং তাঁদের মনোনীত প্রার্থীরাই চাইলে এই ট্রেনকে আবার ট্র্যাকচ্যুত করতে পারেন। তারা যদি সদাচরণ করেন, সহিংসতা থেকে বিরত থাকেন এবং অসৎ কৌশল পরিহার করেন, তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে উত্তেজনা কমাতে হবে, সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এমপি হওয়ার জন্য নানা অপকৌশল অবলম্বন বন্ধ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো—নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় না।”

সুশাসনের অভাবের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে প্রতিবারই জনগণকে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হবে। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।”

বিভাগীয় এই সংলাপে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারাও এতে মতামত তুলে ধরেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি একমাত্র শর্ত নয়। নির্বাচনের পর গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে স্বাধীন ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা অপরিহার্য।

বক্তারা আরও বলেন, জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচন ঘিরে বরিশালে যৌথ বাহিনীর কড়া অভিযান, বসানো হলো ১৩ চেকপোস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান। নগরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার এবং যেকোনো নাশকতামূলক তৎপরতা রোধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

যেসব এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে সেগুলো হলো—নথুল্লাবাদ, গড়িয়ারপাড়, আমতলার মোড়, জিলা স্কুল মোড়, জেলখানার মোড়, তালতলী ব্রিজ, কাশিপুর, দিনারের পুল, মরখোলার পোল, চৌমাথা, দপদপিয়া ব্রিজ, কালিজিরা ও রহমতপুর।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নগরীতে মোট ১৩টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্ট প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। নিয়মিত পুলিশি টহলের পাশাপাশি বাড়তি তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। যৌথ বাহিনীর এই অভিযান তারই অংশ। নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হুমকি অবৈধ অস্ত্র ও পেশাদার অপরাধীরা।”

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ও সহিংসতায় জড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদেরও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তল্লাশি আরও জোরদার করা হবে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিজয় নিশ্চিত, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুর

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে। আমি আপনাদের নিয়েই কাজ করতে চাই, আপনাদের পাশেই থাকতে চাই।”

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে হযরত গেদু শাহ চিশস্তি (রহ.)-এর ৪৯তম বাৎসরিক ওরস মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওরসের মঞ্চে নুর বলেন, ওয়াজ মাহফিল যেমন আমাদের সংস্কৃতির অংশ, তেমনি ওরস মাহফিলও এই দেশের বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে বাউলসহ নানা সম্প্রদায় ও সংগঠনের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। প্রত্যেক মানুষেরই কথা বলার, অনুষ্ঠান করার স্বাধীনতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কাউকে বাধা দেওয়া, গায়ের জোরে হামলা করা কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ভাঙচুর করার রাজনীতি তারা করেন না। এসব করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বাড়ে। “আমি এখানে এসেছি আপনাদের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপনাদের পাশেই থাকব,”—বলেন নুর।

দশমিনা ও গলাচিপা অঞ্চলের সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোথাও কোথাও তাদের ব্যবসা ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নুর বলেন, ৫ আগস্টের পর গলাচিপায় তিনি বেশিরভাগ হিন্দু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন—ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ আক্রান্ত হলে যেন সরাসরি তাকে জানান। “ব্যবসা করতে গেলে কাউকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। আমাদের দলের কেউ যদি চাঁদাবাজি বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না,”—হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নুর জানান, দশমিনা ও গলাচিপাকে তিনি রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেখানে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ সব দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে অংশ নেবেন, কুশল বিনিময় করবেন। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কেউ কারও ওপর হামলা করবে না, মামলা দেবে না, জুলুম করবে না—এমন ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়াই তাদের লক্ষ্য।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। গায়ের জোরে বাধা দেওয়া কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

ওরস মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে বরিশাল

অপূর্ব অপু,সময় টেলিভিশন, বরিশাল ব্যুরো ::  ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল। ব্রিটিশ যুগে বরিশালকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনিস। প্রকৃতিই যেন এক অনন্য রূপে গড়েছে কীর্তনখোলার পাড়ের বরিশালকে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। রয়েছে বরগুনার সবুজ বন, ভোলার চর কুকরিমুকরিসহ নানা সৌন্দর্য। প্রকৃতির এতসব লীলাভূমিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের অপার দ্বার উন্মোচন হয়েছে বিভাগটিতে। তবে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সেই সম্ভাবনা।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়, হয়ত মানুষ নয় হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে….। শুধু ধানসিঁড়িই নয়, বরিশালকে রূপবতী করেছে কীর্তনখোলা, পায়রা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, বিশখালি, আগুনমুখার মতো নান্দনিক নামের বেশ কয়েকটি নদী। ঔপনিবেশিক যুগে বরিশাল হয়ে উঠেছিল বাংলার আধুনিকতার প্রাণকেন্দ্র।

বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশা দুর্গা সাগরদিঘি। ৫৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তীর্ণ দিঘিটিকে একনজর দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। সেখানে থেকে একটু এগুলেই চোখজুড়ানো বিভাগের সবচেয়ে নান্দনিক মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ। আছে আড়াইশ বছরের পুরানো গ্রিক স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে স্থাপনা, শহরের বগুড়া রোডে- অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। দেখতে একতলা হলেও উচ্চতায় প্রায় ৫ তলা ভবনের সমান। শহর থেকে দক্ষিণে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে তালতলি এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে যে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছে, তা এখন আরেক দর্শনীয় স্থান।

রাফি নামে এক পর্যটক জানান, বরিশালের অধিকাংশ পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে। যেমন রাস্তাঘাট অনুন্নত তেমনি অভাব রয়েছে সড়কবাতির। সরকার এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াবে বলে আশা পর্যটকদের।

কুয়াকাটা দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। এ সৈকতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্রমণের আরেক নতুন স্পট ‘চর বিজয়’। লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখিদের মিলন মেলায় জায়গাটি মুখরিত থাকে প্রতিটি মুহূর্ত। সৈকত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা চরটিতে বাড়ছে পর্যটক।

আরিফ নামের এক পর্যটক জানান, সম্ভাবনাময় কুয়াকাটার দিকে আরও নজর দেয়া উচিত সরকারের। সরকারি উদ্যোগ বাড়লে আরও পর্যটক বান্ধব হয়ে উঠবে কুয়াকাটা।

দ্বীপ জেলা ভোলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভোলাবে তার অরুপ সৌন্দর্যে। জেলার চর কুকরীমুকরীতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী। আকাশের বুকে অতিথি পাখির ছুটে চলার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে নিজেকেও দুরন্ত করে মন। একইরকম রূপ মনপুরা ও ঢালচরেও।

তবে প্রতিবছরই পর্যটক সংখ্যা বাড়লেও, বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সুবিধা। বেসরকারি উদ্যোগে কিছু রেস্টহাউজ থাকলেও সরকারি কার্যক্রমে ভাটা। আবিদ নামে এক পর্যটক জানান, সম্ভাবনাময় এই জায়গা শুধু সরকারের উদ্যোগের অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছে পর্যটকরা। আশা করছি সরকার দৃষ্টি দেবে।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মিতালী নিয়ে বরগুনার হরিণঘাটা ইকোপার্ক এবং ট্যাংরাগিরি ইকো পার্কের মায়ায় পড়তে হবে যে কাউকে। জেলার তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় সম্ভাবনাময় পর্যটনের দ্বার উন্মোচন করেছে সবুজ বন। তালতলী উপজেলায় রয়েছে ২০০ বছরের পুরোনো আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় উপাসনালয়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ট্যাংরাগিরি বনাঞ্চল এবং এ বনে অবস্থিত বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা ইকোপার্ক লালদিয়া চর বিহঙ্গ দ্বীপ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমৃদ্ধ এই স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান।

তবে নানা সংকটে বিকশিত হচ্ছে না জেলার পর্যটন শিল্প। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, তালতলী টেংরাগিরি ইকোপার্ক, দুইশ’ বছরের পুরোনো রাখাইন আদিবাসীদের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় উপাসনালয়, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইকোপার্ক, লালদিয়া চর, বিহঙ্গ দ্বীপ, বরগুনার সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্ট রয়েছে। এসব জায়গাগুলো ভ্রমণের জন্য উৎকৃষ্ট মানের। কিন্তু সরকারের এদিকে নজর নেই। যে কারণে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ স্থানগুলোর ভগ্নদশা।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি, নীল জলরাশিতে মাতোয়ারা পর্যটকরা

এগুলোকে সংস্কার করলে বরগুনা জেলার পর্যটন শিল্প এগিয়ে যাবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে থেকেও বিকশিত হচ্ছে না বরিশাল বিভাগের পর্যটনশিল্প। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটনের বিষয়ে সচেতন নয়। তাছাড়া সরকারেরও এ বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে। এখানে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। আবার উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কোনো উদ্যোগও নেই। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকরা এখানে আসলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হন। থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা নেই। যাতায়াত ব্যবস্থার করুন অবস্থা। এজন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেরও প্রয়োজন। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মৌলিক কিছু চাহিদা পূরণ করলেই জেলাটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছাদুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটকবান্ধব স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সরকারি উদ্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে পর্যটন এলাকাগুলো। দ্রুত এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আকাশ ও সড়ক পথের পাশাপাশি রাজধানী থেকে বরিশালের ৬ জেলায় আসতে নদী পথের বিলাসবহুল লঞ্চ এখনও পছন্দের তালিকায় এ অঞ্চলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিটিভিতে রিপোর্টার হিসেবে বদলি করা হলো বেতারের ইঞ্জিনিয়ারদের!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নির্বাচনী সংবাদ কাভারেজে অস্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টেলিভিশন সাংবাদিকতার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বেতারের প্রকৌশলী ও অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রযোজক/রিপোর্টার হিসেবে বিটিভিতে বদলি করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টেলিভিশন শাখা থেকে গত ৬ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের কাজে এসব কর্মকর্তাকে বিটিভি, ঢাকা কেন্দ্রে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহসহ বার্তা শাখার দৈনন্দিন কাজ সুচারূপে সম্পন্নের জন্য বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের বেতনভাতাদি বিটিভি থেকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের বাণিজ্যিক শাখার সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) এস. কে. সিদ্দিক আহমদ, বহির্বিশ্ব শাখার সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুর রহমান, সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. বাকের মাহমুদ, মনিটরিং পরিদপ্তরের সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম এবং সেন্ট্রাল প্রকৌশলী দপ্তরের সহকারী বেতার প্রকৌশলী কে. এম. নাসিম মাহমুদ।

বাংলাদেশ বেতারের কুমিল্লা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. ইমরান হোসেন। বাংলাদেশ বেতারের রাঙামাটি শাখার উপসহকারী নির্বাহী নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া এবং কক্সবাজার কেন্দ্রের সহকারী বেতার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, টেলিভিশনে নির্বাচনী কাভারেজ একটি বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল কাজ, যেখানে ভিজ্যুয়াল রিপোর্টিং, লাইভ কাভারেজ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বদলি হওয়া এসব কর্মকর্তার কেউই আগে টেলিভিশন রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেননি; তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ ছিল বেতারের প্রকৌশল, অনুষ্ঠান বা প্রশাসনিক কাজে।

বিটিভিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ টেলিভিশন সাংবাদিক ও রিপোর্টার থাকার পরও কেন টিভি সাংবাদিকতায় অনভিজ্ঞ বেতারের কর্মকর্তাদের নির্বাচন কাভারেজের দায়িত্ব দেওয়া হলো- তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ মূল দপ্তর থেকেই বেতন ও ভাতা গ্রহণ করবেন এবং আদেশটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত সংবাদ কাভারেজের মান ও পেশাগত নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ- সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মিডিয়া অঙ্গনে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সৌদির সড়কে থেমে গেল বরিশালের মিজানুরের স্বপ্ন

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন, নিভে গেল একটি পরিবারের আশার আলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাশিশুটি এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।”

চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, “মিজানুর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি—অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে চান তারা।




গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ছাড়া বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ

বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশ গুম, খুন ও দমন-পীড়নের মতো ভয়াবহ অধ্যায়ের ভেতর দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, সেই অন্ধকার অধ্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য আসন্ন গণভোটে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

রোববার সকালে বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে গণভোটের পক্ষে জনমত গঠন ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আলী রীয়াজ বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকাই স্বাভাবিক। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জুলাই জাতীয় সনদের ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথা তুলে ধরে বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ ভয়াবহ দুঃসময় পার করেছে। গুম, খুন ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি মানুষের মৌলিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে সেই অমানবিক বাস্তবতা ফিরে না আসুক, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া। এজন্য শুধু ভোট দেওয়া নয়, গণভোটের পক্ষে সকলে মিলে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল হাই নিজামীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী না হলে খুনি-মাফিয়া ও ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে। তারা বিদেশে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এসব অপচেষ্টা রুখতে হলে গণভোটে জনগণের শক্ত অবস্থান জরুরি।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সমাজে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। গণভোটকে সফল করতে ইমাম ও আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মসজিদ ও ধর্মীয় পরিসর থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে তাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলপি গ্যাসে নিয়ন্ত্রণহীন বাজার, ভোক্তারা দিশেহারা

দেশজুড়ে এলপি গ্যাসের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার একের পর এক উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংকট যেমন বাড়ছে, তেমনি লাগামহীনভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে এলপি গ্যাসের দাম। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের বড় একটি অংশ বলছে, সরকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যত ব্যর্থ।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভ্যাট কমানো, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো শুরুতেই থেমে গেছে। ফলে বাজারে এক ধরনের অরাজকতা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস মিলছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

এলপি গ্যাসের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতেও। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল মাওলা জানান, সারাদেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনের মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার টন এলপিজি। অথচ ডিসেম্বর মাসে তারা সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ। এতে এলপিজিনির্ভর যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। অনেক চালক বাধ্য হয়ে অকটেন ব্যবহার করছেন, যা ভবিষ্যতে অকটেন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা গেছে। সরকারি হিসাবে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও রান্নার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

এই সংকটের পেছনে কে দায়ী, তা নিয়ে চলছে দোষারোপের রাজনীতি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মূল সমস্যা সরবরাহে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ঘাটতি নেই। আমদানিকারকরাও একই কথা বলছেন। সরকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আমদানিকারকরাও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।

এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। তারা হয়রানির অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘট শুরুর দিনই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৈঠক করে তাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে এলপিজির ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয় এবং ভোক্তা পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবুও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।

এলপি গ্যাসের আগুন দামের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। একজন সিনিয়র সাংবাদিক ফেসবুকে লেখেন, তিনি ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়, তাও অনেক কষ্ট করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রান্না না হলে মানুষ খাবে কী। বাইরে খাওয়ার সুযোগও কম, কারণ গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের দামও বেড়ে গেছে।

ভোক্তারা যখন চরম দুর্ভোগে, তখন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ মাসে এলপিজি আমদানি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন, যা ডিসেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ আমদানি বাড়লেও বাজারে সংকটের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই মনে করছেন ভোক্তা ও বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আমদানি বাড়লেও সঠিক নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে এলপি গ্যাস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম