দেশপ্রেম মানে গালি নয়, ভালোবাসা আগে: মির্জা আব্বাস

দেশপ্রেমের সংজ্ঞা শুধু কোনো একটি দেশের বিরোধিতা করে নির্ধারণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নিজের দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা এবং দেশের স্বার্থে অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেম। অন্য দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই কেউ দেশপ্রেমিক হয়ে যায় না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবন মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা অতীতে একটি নির্দিষ্ট দেশের নানা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন, এখনও করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তবে সেটিকে দেশপ্রেমের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, আগে নিজের দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে, তারপর অন্য দেশের নীতির বিরোধিতা আসতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তরুণ বয়সেই বুঝে নিতে হবে কারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং কারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও বাস্তবতা জানার মাধ্যমে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে অন্য কারও স্বার্থে আঘাত লাগলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, দেশকে ভালোবেসে কথা বলাই রাজনীতির মূল শিক্ষা হওয়া উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার অধিকার জনগণের। যার যেটা প্রয়োজন, সে সেটিতেই ভোট দেবে। এই স্বাধীনতা জনগণ অর্জন করেছে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে। কিন্তু জোর করে কাউকে কোনো একটি পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটের স্বাধীনতাই একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচায়ক। এই স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা করলে মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে

বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বকে ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীল রাজনীতি এবং মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অবদান গভীরভাবে জড়িত।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন সময়ে তার জন্য আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বারবার একটি কথাই বলেছেন—খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া ব্যক্তি হিসেবে ভালো ছিলেন বলেই দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার অবদান এত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে সততা, দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক বিরল সমন্বয় ছিল। মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন, যা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুবই প্রয়োজনীয় একটি গুণ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করতেই হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, আজ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছে, ভালোবাসা ও সমালোচনা দুটোই প্রকাশ করতে পারছে। এই স্বাধীনতার পেছনে অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে, অনেক সংগ্রাম রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তাদের ত্যাগের কারণেই আজ প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিহাসই বলে দেয় কার জায়গা মানুষের হৃদয়ে হয় আর কার জায়গা হয় নির্বাসনে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার আদর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জোট নয়, একাই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে তারা আর থাকছে না এবং নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই মাঠে থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করে আসছে। ইসলামপন্থি জনতার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা প্রতারণার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি আদর্শভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। সেই পথ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে পথচলায় দেখা গেছে, আদর্শিক লক্ষ্য পূরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দলটি নিজেদের অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে ইসলামপন্থি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে আসন বণ্টন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে ইসলামী আন্দোলনের মূল আদর্শ ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই ইসলামের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিকে সুরক্ষিত রাখতেই এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আপিল পর্যায়ে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বর্তমানে ২৬৮টি আসনে দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না এবং সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, সামনে পথচলা সহজ নাও হতে পারে। কারণ ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে আদর্শ ও নৈতিকতার রাজনীতি করে। নীতি, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে তারা অতীতেও নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সাংগঠনিক সামর্থ্য রয়েছে। তবে আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা আগের অবস্থানে নেই। এই বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, যখন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন যদি প্রধান ইসলামপন্থি শক্তিগুলো ইসলামী আইন ও আদর্শ থেকে সরে আসে, তাহলে সারা দেশে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। এই বাস্তবতা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আদর্শিক রাজনীতির মূল্যায়ন করবে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণভোট নিয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রচারণায় উপদেষ্টারা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা,গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা শুরু করেছে।

নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদানসংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা ১৫ জানুয়ারি থেকে এই প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এ কার্যক্রমের আওতায় তারা আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে  অবহিত করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় তা জানানো হয়েছে।

প্রচারণার প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রচারণার অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং গণভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।

 




পিরোজপুরে শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরণ অব্যাহত

পিরোজপুরে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা বাজার ও নূরানী গেট এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহমুদুর রহমান মামুন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিস তানজিলা কবির ত্রপা, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড আল আমিন

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা সমাজের অবহেলিত ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য প্রশাসনের এই তদারকি ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, আজকের কম্বল বিতরণে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। এর আগে শীত শুরু হওয়ার সময় থেকে ইয়াতিমখানা, ছিন্নমূল, আবাসন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শীতার্তদের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে জমেছে প্রাণ, পর্যটক ও বেচাকেনা উভয়েই রঙিন

ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা হাট বর্ষার শুরুতেই হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক আকৃষ্ট হচ্ছেন এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভাসমান বাজারের প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখতে।

ঝালকাঠিতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে চাষ করা পেয়ারা বিক্রি হবে ন্যূনতম ১০-১২ কোটি টাকায়, যা স্থানীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জেলার সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদিশপুর, হিমানন্দকাঠি, কাপড়কাঠিসহ ২০টি গ্রামে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই ফল চাষ হয়ে আসছে। চাষিরা প্রথাগত সর্জন পদ্ধতিতে কান্দি কেটে পেয়ারা চাষ করে আসছেন, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস।

এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছুটা ফলন কম এবং আকার ছোট হলেও, পেয়ারা দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১,০০০–১,১০০ টাকায়, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০–৫০ টাকায়।

ভাসমান হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমে ওঠে চমৎকার বেচাকেনার দৃশ্য। পাইকাররা ছোট-বড় নৌকায় এসে সরাসরি টাটকা পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। খালজুড়ে শত শত ডিঙ্গি নৌকা যেন ভ্রাম্যমাণ দোকান, যা এই হাটকে করে তুলেছে দক্ষিণাঞ্চলের এক জীবন্ত পর্যটন কেন্দ্র।

এই হাট কেবল ফল বিক্রির স্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের জীবনের উৎসব। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পেয়ারা থেকে জেলি, জ্যাম উৎপাদনে সহায়তা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লা আল মামুন বলেন, উন্নত জাতের পেয়ারা চাষে চাষিদের সহযোগিতা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুত জামায়াত ও ‘ইসলামী জোট’

সবুজ মাঠ, গাছগাছালি, নদী-নালা, খাল-বিল, অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিপাটি জেলা ঝালকাঠি। জেলার দুটি আসনেই বিএনপির ধানের শীষের ভোট বেশি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকবার জনগণের ভোটেও তা প্রমাণ হয়েছে। তবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী জোটবদ্ধ দলগুলো। তাই বিএনপির ভোটব্যাংকখ্যাত এ জনপদে একক আধিপত্য শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান এলাকার ভোটাররা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা দলগুলো সমন্বয় করে প্রার্থী দেবে এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে চারদিকে।

ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে ভোটের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জেলার চারটি উপজেলা নিয়ে দুটি সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে। উভয় আসনেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা দেড় ডজনের বেশি। বিপরীতে জামায়াত দিয়েছে একক প্রার্থী। তবে সেটাও চূড়ান্ত নয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ভোটের মাঠে লড়ার জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর। এরপর তুলনা করা যাবে কার চেয়ে কে বেশি জনপ্রিয়তায় শক্তিশালী ও ভোটের মাঠে প্রভাব কার বেশি থাকবে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) ॥ রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে তৎপর আছেন বিএনপির আট নেতা। তারা সবাই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় আছেন ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ও নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জাকারিয়া লিংকন এবং সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানও প্রচারের মাঠে সরব রয়েছেন।
তারা সবাই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন। এলাকায় ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন বলে তারা দাবি করছেন। তাদের মধ্যে প্রচারে এগিয়ে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম জামাল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হন। একই পরিণতি হয় ২০১৮ সালেও।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে গিয়ে জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বারবার কারাবরণও করেছি। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। তাই আমি মনে করি দল এবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’
বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী সেলিম রেজা বলেন, ‘দেশের বাইরে অবস্থান করলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সর্বদা জাগ্রত ও সক্রিয় ছিলাম। এ কারণে বিভিন্ন সময় রোষানলেও পড়ি। দেশে পরিবারের লোকজনকেও হয়রানির শিকার হতে হয়। আশা করি নিরাশ করবে না।’
ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম বলেন, ‘একযুগ ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করে জনগণের মন জয় করেছি। এরপরও চারবার দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হই। এবার আশা করি দল আস্থা রাখবে।

ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন, ‘কিশোর বয়স থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলে অংশগ্রহণ করি। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন- সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। ফ্যাসিবাদী সরকারের মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের পাশে সব সময় ছিলাম, আছি এবং থাকব। দলীয় স্বার্থে মনোনয়ন পাব বলেও আশাবাদী।’
অপরদিকে এই আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের রাজাপুর উপজেলা শাখার সাবেক আমির ও বর্তমান জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তিনি রাজাপুর-কাঠালিয়ার প্রত্যন্ত জনপদে জনসাধারণের সঙ্গে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তার পক্ষে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজ, স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থায়নে বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা ও সেতু সংস্কারসহ সামাজিক কাজ করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে দলটি।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দেবে না, ইসলামী হুকুমাত কায়েম করার জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে।’
ইসলামিক স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। বিভিন্ন মিডিয়ায়, স্থানীয় এবং জাতীয় সম্মেলনে ইসলামের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন। জামায়াত তৎপর থাকলেও এখনো পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য ইসলামী দল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো। তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রচার আছে সেক্ষেত্রে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হককে জামায়াতসহ অন্য দলগুলো যৌথ সমর্থন দিতে পারে।
রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে ইসলামী দলগুলো সমন্বয় করে প্রার্থী দিলে ইসলামী রাষ্ট্র এবং কুরআনের আইন কায়েমের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কোনো ব্যক্তির মতাদর্শ নয়, আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশিত পথ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ঝালকাঠি-২ (সদর উপজেলা ও নলছিটি) ॥ ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত আটজন। তাদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জীবা আমিনা আল গাজী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম নূপুর এবং জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জিএম আব্দুস সবুর কামরুল জোর প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অগ্রভাবে অংশ নিচ্ছেন তারা।

জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মরণোত্তর উপনির্বাচনে স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ২০০০ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট কারচুপিতে জয়ী হন। এরপর ২০০১ সালের চারদলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনে বিজয়ী হন ইলেন ভুট্টো। তারই ধারাবাহিকতা ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পান ইলেন ভুট্টো। তিনি সে যাত্রায় পার হতে না পারলেও এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালেও দলের টিকিট পান তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপির টিকিট দেওয়া হয় জীবা আমিনার হাতে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হলেও সভা-সমাবেশে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল ইলেন ভুট্টোকে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তাকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, ইলেন ভুট্টো ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এরপর তাকে কেউ খুঁজে পায়নি। আওয়ামী শাসনামলে তার নামে হয়নি কোনো মামলাও।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জীবা আমিনা বলেন, ‘২০১৮ সালে নির্বাচনী প্রচারে নামায় বাড়িতে হামলা, পথে পথে সন্ত্রাসী হামলায় গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর বিভিন্নভাবে হামলা-মামলা দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করে ফ্যাসিবাদী সরকার। এত কিছুর পর নেতাকর্মীদের আগলে রাখার চেষ্টা করেছি। এবার দল তার প্রতিদান দেবে বলে প্রত্যাশা রাখি।’

 

মাহবুবুল হক নান্নু ছাত্রদল মনোনীত বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি, বিএনপির বর্তমান সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত দিনে রাজধানী ঢাকাসহ ঝালকাঠির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেন। নির্বাচনের মাঠে লড়ার ইচ্ছা তার বহু আগের। বেশ কয়েকবার তিনি দলের মনোনয়নও চান। এবারও তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
২০২০ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছেন। তার নামে একাধিক মামলাও হয়েছে। তার বাসায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে ভাঙচুর চালায়।
দলের আরেক ত্যাগী নেতা মনিরুল ইসলাম নূপুরও মনোনয়ন পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাহিদার আলোকে রাজনীতি করছি। এবার দল আমাকে টিকিট দেবে বলে আশা রাখি।

জিএম আব্দুস সবুর কামরুল জানান, ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন-সংগ্রামে জেলায় ও কেন্দ্রে সব সময় অগ্রভাগে ছিলাম। এজন্য অনেক হামলা ও মামলা সহ্য করতে হয়েছে। একাধিকবার কারাবরণ করেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সব সময়ই রেখেছি, যা এখনো বহাল আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে তার অবমূল্যায়ন হবে না, বরং বিজয় নিশ্চিত বলেও আশা করেন তিনি।
এদিকে বারবার কারা নির্যাতিত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার এম জি জাকারিয়াও এবার বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। গত ১৫ বছরে তার নামে আওয়ামী লীগ ৪৫টি মামলা দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শেখ নেয়ামুল করীমকে। যিনি বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তার পক্ষ হয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজনও প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এখনো মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ধর্মীয় আলোচক নবমুসলিম ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। ঝালকাঠির ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করে তাকে সমন্বিত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।




নৌকার গায়ে লেখা থাকে জীবনের গল্প, ভেসে চলে শত পরিবারের স্বপ্ন

ভোরের আলো ফুটতেই নদীপাড়ের বাতাসে মিশে যায় হাতুড়ির ঠকঠক শব্দ। করাতের ঘ্রাণে ভরে ওঠে গজারিয়া বাজার। কাঠের টুকরোর ফাঁকে ফাঁকে জমে ওঠে ঘামের গল্প, স্বপ্নের রং। এখানে প্রতিদিন জন্ম নেয় নতুন নৌকা—আর সেই নৌকার গায়ে ভেসে ওঠে শত শত পরিবারের জীবনের গল্প।

ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন এলাকার গজারিয়া বাজারে নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি জীবনের অবলম্বন। যারা এই নৌকা বানান, স্থানীয়ভাবে তারা পরিচিত ‘নৌকা ব্যাপারী’ নামে। বাপ-দাদার হাত ধরে শেখা এই পেশাই যুগের পর যুগ ধরে টিকিয়ে রেখেছে অসংখ্য পরিবারকে।

চার দশকের কারিগর আলতাফ হোসেন আজও চোখে ভাসান শৈশবের দিনগুলো। বাবার পাশে দাঁড়িয়ে কাঠ ঘষা, নৌকার গায়ে প্রথম পেরেক ঠোকার মুহূর্ত—সেই স্মৃতি এখনো তাকে শক্তি জোগায়। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এই পেশায় যুক্ত। তার কারখানায় বর্তমানে কাজ করেন চারজন মিস্ত্রি। চরফ্যাশন, দক্ষিণ আইচা, শশীভূষণ, মনপুরা থেকে জেলেরা এসে তার কাছে নৌকা বানান।

আলতাফ বলেন,
“জেলেদের চাহিদামতো নৌকা বানাই। বর্ষায় কাজ বেশি, শীতে কিছুটা কমে যায়। তবুও এই কাজেই আমাদের সংসার চলে।”

গজারিয়া বাজারে আলতাফ একা নন। মো. নাগর, কালাম, আলমগীর, বেল্লাল, হাসান, মিলন, আল-আমিন, শানু, ইকবাল, জুয়েল, শেখ ফরিদ, আমির—এমন অন্তত ১৫ জন নৌকা ব্যাপারী এখানে প্রতিদিন কাঠ আর ঘামের বন্ধনে গড়ে তুলছেন ভবিষ্যৎ। তাদের কারখানায় কাজ করেন শতাধিক শ্রমিক।

ব্যাপারী ফয়সাল বলেন,
“সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলে। নৌকা বানিয়ে জেলেরা নিয়ে যায়। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি। যদি আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যেত, এই শিল্প আরও এগিয়ে যেত।”

চরফ্যাশন-ভোলা মহাসড়কের পাশে গজারিয়া বাজারে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে টিকে আছে এই নৌ-শিল্প। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নৌকা অপরিহার্য হওয়ায় বছরের অন্তত ছয় মাস এখানে ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। মূলত দুই ধরনের নৌকা তৈরি হয়—ডিঙি ও কোষা। কোষা সাধারণত ৯ থেকে ১০ ফুট, আর ডিঙি ১৫ থেকে ১৬ ফুট লম্বা হয়।

রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বুল, সুন্দরী কিংবা মেহগনি কাঠ ব্যবহার করা হয় নৌকা বানাতে। সঙ্গে লাগে পেরেক, তারকাটা ও জলুয়া। একটি ১২ হাতের নৌকা বানাতে তিনজন শ্রমিকের মজুরি পড়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। কাঠে লাগে প্রায় ৪ হাজার, আনুষঙ্গিকে আরও ৩ হাজার। সব মিলিয়ে ৯-১০ হাজার টাকায় তৈরি নৌকা বিক্রি হয় ১৪-১৫ হাজার টাকায়। লাভ খুব বেশি নয়, তবুও থামে না তাদের লড়াই। অনেকেই ঋণ নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রিয়াজুর কবির বলেন,
“প্রায় ৪০ বছর ধরে এই শিল্প চলছে। শতাধিক পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত। তারা পরিবার চালাচ্ছে, দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে। কিন্তু সরঞ্জামের দাম বেড়েছে, লাভ কমেছে। ধারদেনা করে তারা শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। এই নৌ-শিল্প বাঁচাতে এখন সরকারি সহায়তার বিকল্প নেই।”

নদীমাতৃক বাংলাদেশে যখন অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, তখন গজারিয়ায় এখনো বেঁচে আছে নৌকার স্বপ্ন। হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি প্রতিটি নৌকা যেন বলে—এই নদীর পাড়ে মানুষ এখনো স্বপ্ন বানায়, কাঠে খোদাই করে ভবিষ্যৎ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া দুই সেতু, ছয় বছরের দুর্ভোগের অবসান মঠবাড়িয়ায়

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ছয় বছর। এই সময়জুড়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছেন হাজারো মানুষ। স্কুলে যেতে শিশুদের পা কাঁপত, অসুস্থ রোগীকে কোলে নিয়ে পার হতে হতো খাল, বাজারে যেতে বৃদ্ধদের চোখে থাকত ভয়। অবশেষে সেই কষ্টের দিন ফুরালো। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ—যা একসঙ্গে যুক্ত করেছে সাতটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা।

মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের আলগীপাতাকাটা খাল ও মিরুখালী ইউনিয়নের বাদুরা খালের ওপর নির্মিত কাঠের এই দুটি ব্রিজ উদ্বোধন করা হয় সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে। উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক এ আর মামুন খান।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান মিল্টন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব তাহসিন জামাল রুমেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন মনি ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এই দুটি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময়েও তা পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে ধনীসাফা ও মিরুখালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সাতটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত, বাজার করা কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজও হয়ে ওঠে বিপজ্জনক।

ধনীসাফা ইউনিয়নের আলগীপাতাকাটা খালের ওপর ৭৫ ফুট এবং মিরুখালী ইউনিয়নের বাদুরা খালের ওপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজ দুটি ভেঙে থাকায় হাজারো পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো বা ভাঙা কাঠের ওপর দিয়ে পার হতেন। অনেক সময় শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন।

এই দুরবস্থার চিত্র স্থানীয় যুবদলের নজরে আসে। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে ইউনিয়নের যুবদল নেতাকর্মীরা নিজেরাই এগিয়ে আসেন। স্বেচ্ছাশ্রমে, নিজেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় তারা ব্রিজ দুটি পুনর্নির্মাণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আর মামুন খান বলেন,
“ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সেতু দুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। বিষয়টি আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নজরে আসে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবদল সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।”

ব্রিজ দুটি চালু হওয়ার পর স্থানীয়দের মুখে ফিরে এসেছে স্বস্তির হাসি। একজন বৃদ্ধ বাসিন্দা বলেন,
“এতদিন মনে হতো আমরা যেন আলাদা হয়ে গেছি। এখন আবার সহজে বাজারে যেতে পারব, নাতি-নাতনিরা স্কুলে যেতে পারবে। এই সেতু শুধু কাঠের নয়, আমাদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত।”

স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া এই দুটি সেতু এখন শুধু পথ নয়—এগুলো হয়ে উঠেছে মানুষের আশার প্রতীক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধানের দামে ধস, মাঠের ঘামে ভাসছে হতাশা পটুয়াখালীর হাটে কৃষকের কান্না

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম ভাঙে কৃষকের। কাঁধে নেমে আসে বছরের পর বছরের ক্লান্তি, হাতে তুলে নেয় ঘামের ফসল—ধানের বস্তা। আশা থাকে, আজ হয়তো পরিশ্রমের ন্যায্য দাম মিলবে। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের সাপ্তাহিক ধান হাটে সেই আশাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এখানে ধানের বস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আজ কৃষকের চোখে শুধু হতাশা, মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই হাটে জড়ো হন শত শত কৃষক। নৌকা, ভ্যান কিংবা কাঁধে করে বস্তাবন্দি ধান নিয়ে তারা অপেক্ষায় থাকেন ক্রেতার। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে একে একে ফিরছেন বিমর্ষ মুখে। বাজারে এক মণ ধানের দাম ঘুরপাক খাচ্ছে মাত্র ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকার মধ্যে—যেখানে উৎপাদন খরচই উঠে না।

গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া এলাকার ষাট বছর বয়সী কৃষক আবু জাফর বলেন, “চাল, তেল, ডাল—সব কিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়ছে না। একজন শ্রমিক খাটাতে দিনে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হয়, সঙ্গে তিন বেলা খাবার। এক মণ ধান বিক্রি করেও সেই খরচ ওঠে না। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর আমরা আর খাইতেই পারব না।”

কালাইয়া হাটের আরেক কৃষক কাওসার আলী (৫৬) ভাঙা কণ্ঠে জানান, “এই বছর যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না। ১,১৫০ টাকায় এক মণ ধান বিক্রি করে কী হবে? যদি এমন চলতে থাকে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জমি বিক্রি করে খেতে হবে।”

হাটে ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ধানের বস্তা। কেউ বসে আছেন বস্তার ওপর, কেউ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছেন সম্ভাব্য ক্রেতার দিকে। কিন্তু মুখে কারও হাসি নেই। কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে। অথচ ধানের বাজারদর সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনই তারা পড়ছেন আর্থিক চাপে।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর ডিয়ারা গ্রামের কৃষক আরিফুর রহমান (৩৫) জানান, ১৯০ কড়া জমিতে ধান করেছি। আজ ৪০ মণ ধান বিক্রি করতে এনেছি। কিন্তু বাজারদর আর উৎপাদন খরচের হিসাব মিলালে লাভ তো নেই-ই, বরং লোকসান। প্রতিদিনের পরিশ্রমের মূল্য না পেয়ে ভীষণ হতাশ লাগছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন,“চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৪ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। কৃষক যেন তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ সহজলভ্য রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। হাটের প্রতিটি ধানের বস্তা যেন কৃষকের জীবনের গল্প বহন করছে—ঘাম, শ্রম আর অনিশ্চয়তার গল্প। ন্যায্য দাম না পেলে সেই গল্প যে আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে, তা বুঝতে কারও বাকি নেই।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫