ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’: ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে মাসে ২ হাজার টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এবার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে ৫০ লাখ স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই হিসাবে এক অর্থবছরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ক্যাশ-আউট চার্জও অন্তর্ভুক্ত। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করলে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আগে থেকেই যেসব কর্মসূচি চালু আছে সেগুলোর উপকারভোগীদের তথ্য একীভূত করে নতুন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকারের নতুন করে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী –এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারা অগ্রাধিকার পাবেন তা নিয়েও একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। যেসব পরিবারের বসতঘর মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশের তৈরি এবং কৃষিযোগ্য জমি নেই, তারাও তালিকায় এগিয়ে থাকবে।

বর্তমানে –এর আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্বৈত সুবিধা এড়াতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাই করে যাদের দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এই চারটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে ইতোমধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে দ্রুত যাচাই সম্ভব।

জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসি আইএমইআই তথ্যভাণ্ডার, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি গভর্নমেন্ট টু পাবলিক পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হবে। এতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, পরবর্তী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর চার দিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে অর্থ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যমান ডাটাবেজ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে ঈদের আগেই প্রথম ধাপে কার্ড বিতরণ সম্ভব।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গভীর সমুদ্রে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বোর্নিও

মালয়েশিয়ার –সংলগ্ন উপকূলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.১, যা স্বাভাবিকভাবেই উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয়। হঠাৎ গভীর রাতে ভূমিকম্প আঘাত হানায় অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মালয়েশিয়ার অঙ্গরাজ্যের রাজধানী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটারেরও কম উত্তর-পূর্বে। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ৬১৯.৮ কিলোমিটার, যা অত্যন্ত গভীর বলে বিবেচিত হয়।

ভূমিকম্পটি গভীর সমুদ্রতলে উৎপত্তি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির আশঙ্কা নেই। গভীর সমুদ্রের নিচে কম্পন হওয়ায় পানির স্তরে বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়নি।

অন্যদিকে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৮ হিসেবে রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবাহর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীরতার কারণে এই ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত তীব্রভাবে অনুভূত হলেও তা পৃষ্ঠে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে না। তবুও উপকূলীয় ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম, আদালতে প্রেরণ

বগুড়ায় দায়ের করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ দায়ের করা মামলায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সম্প্রতি সেই পরোয়ানা পুলিশের হাতে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজ এলাকায় অবস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে গেলে তিনি ঢাকার দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে গাড়িসহ তাকে ধাওয়া দিয়ে শাজাহানপুর থানা এলাকার কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে। তদন্ত শেষে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে একসঙ্গে বসবাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং মারধরের অভিযোগও রয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিক ও পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিনেমা নির্মাণের কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। ফলে প্রশাসনিকভাবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেকের মন্ত্রিসভায় কারা? চমক থাকছে নতুন-পুরোনো মুখে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে । দলটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন—এটি কার্যত নিশ্চিত। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কেমন হচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা এবং কারা থাকছেন সেই তালিকায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারের কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা যেমন ফিরতে পারেন, তেমনি এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া একাধিক নতুন মুখও জায়গা পেতে পারেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্ত্রিসভার আকার ও দপ্তর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে সম্ভাব্য নাম ও দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

দলীয় মহাসচিব নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে , , , , , ও –এর নাম আলোচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ও –এর অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও শোনা যাচ্ছে।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ কয়েকজন নবীন সংসদ সদস্যের নামও ঘুরছে আলোচনায়।

দলীয় সূত্র বলছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও বিবেচনায় রয়েছে।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। –এর প্রধান সমন্বয়কারী এবং –এর সভাপতি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া –এর চেয়ারম্যান , বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং ড. রেজা কিবরিয়ার নামও আলোচনায় আছে।

মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও বিভিন্ন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক পদেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। ফলে কেবল মন্ত্রী নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন একটাই প্রশ্ন—কাদের নিয়ে শুরু হবে তারেক রহমানের নতুন অধ্যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শপথ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর –এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দলটির চেয়ারম্যান –এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে থাকা দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে বিজয়ী দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে , , , , , , , , , , , এবং ।

আগামী মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের শপথ পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি জোট সরকার গঠনের পথ সুগম করে। শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মন্ত্রী হচ্ছেন তামিম? নিজেই দিলেন স্পষ্ট জবাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে আসে দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক –এর নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় তাকে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে ভাবা হচ্ছে—এমন গুঞ্জনও আলোচনায় আসে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে। নির্বাচনের আগে দলটির কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারণায় তামিমকে দেখা যায়। এ থেকেই অনেকের ধারণা, তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে যখন বিভিন্ন নাম সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে থাকে, তখন সেই তালিকায় যুক্ত হয় তামিমের নামও। এমনকি নির্বাচন না করেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও ছড়িয়ে পড়ে।

গুঞ্জনের জবাবে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তামিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাকে ঘিরে প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এমন কোনো প্রস্তাব তিনি পাননি এবং এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই তামিমের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা দেখছিলেন। তবে বাস্তবে তিনি কোনো আসনে প্রার্থী হননি; কেবল নির্বাচনি প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাবেক ফুটবল অধিনায়ক –এর নামও আলোচনায় এসেছে। তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি এবং ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ ধারণা করছেন, নির্বাচিত না হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় তার মন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তামিম। ৩৬ বছর বয়সে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেন তিনি। চট্টগ্রাম-৯ আসনে ভোট দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি নজরে পড়ায় গুঞ্জন পুরোপুরি থামছে না। তবে আপাতত নিজ মুখে দেওয়া বক্তব্যেই স্পষ্ট, মন্ত্রিত্বের আলোচনাকে তিনি ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু, বাড়ানো হয়েছে সময়; সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট নয় ঘণ্টা। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার উপস্থিত থাকলে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে জাতীয় নির্বাচনগুলো সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আট ঘণ্টা চলত। এবার একইদিনে গণভোট আয়োজনের কারণে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার চার লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। সাদা ব্যালটটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি গণভোটের জন্য নির্ধারিত।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট বাতিল হওয়ায় এবার ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।

৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারের সংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার দুই কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সসীমায় পুরুষ এক কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪০৮ জন।
২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন এক কোটি ৭৮ লাখ এক হাজার ৩০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ এক কোটি ৪১ লাখ এক হাজার ৯০ জন, নারী ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫৬৭ জন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার প্রথমবারের মতো ইউএভি, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে চলছে ভোটগ্রহণ। এখন অপেক্ষা ফল ঘোষণার।

 

আল-আমিন



ভোর থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু ভোটগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ফজরের নামাজের পরপরই অনেকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান।

ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় বাইরে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আগেভাগেই কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে।

পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে ছিল কড়া যাচাই-বাছাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। সেখান থেকে ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর ও কক্ষসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা সহজে নিজেদের বুথ খুঁজে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তাদের ভাষ্য, শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন।

ভোটার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, অনেকদিন পর স্বস্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। তাই সকালেই চলে এসেছি। আরেক ভোটার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঝামেলা এড়াতে শুরুতেই ভোট দেওয়াই ভালো মনে করেছেন। তার সঙ্গে একই এলাকার আরও কয়েকজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর কেন্দ্রেই গণনা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি এসেছে। এখন সবার নজর ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজই সিদ্ধান্তের দিন, ভোটে দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোট আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রশ্নেও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন এক লাখের বেশি। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ও হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ভোট মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন ৫৫ হাজারের বেশি। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই শুরু হবে গণনা। ফলাফল কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই ভোট ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন চোখ ভোটারদের দিকে—নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তারা কেমন রায় দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম