তারেকের মন্ত্রিসভায় কারা? চমক থাকছে নতুন-পুরোনো মুখে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে । দলটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন—এটি কার্যত নিশ্চিত। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কেমন হচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা এবং কারা থাকছেন সেই তালিকায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারের কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা যেমন ফিরতে পারেন, তেমনি এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া একাধিক নতুন মুখও জায়গা পেতে পারেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্ত্রিসভার আকার ও দপ্তর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে সম্ভাব্য নাম ও দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

দলীয় মহাসচিব নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে , , , , , ও –এর নাম আলোচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ও –এর অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও শোনা যাচ্ছে।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ কয়েকজন নবীন সংসদ সদস্যের নামও ঘুরছে আলোচনায়।

দলীয় সূত্র বলছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও বিবেচনায় রয়েছে।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। –এর প্রধান সমন্বয়কারী এবং –এর সভাপতি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া –এর চেয়ারম্যান , বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং ড. রেজা কিবরিয়ার নামও আলোচনায় আছে।

মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও বিভিন্ন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক পদেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। ফলে কেবল মন্ত্রী নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন একটাই প্রশ্ন—কাদের নিয়ে শুরু হবে তারেক রহমানের নতুন অধ্যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শপথ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর –এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দলটির চেয়ারম্যান –এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে থাকা দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে বিজয়ী দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে , , , , , , , , , , , এবং ।

আগামী মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের শপথ পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি জোট সরকার গঠনের পথ সুগম করে। শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মন্ত্রী হচ্ছেন তামিম? নিজেই দিলেন স্পষ্ট জবাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে আসে দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক –এর নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় তাকে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে ভাবা হচ্ছে—এমন গুঞ্জনও আলোচনায় আসে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে। নির্বাচনের আগে দলটির কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারণায় তামিমকে দেখা যায়। এ থেকেই অনেকের ধারণা, তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে যখন বিভিন্ন নাম সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে থাকে, তখন সেই তালিকায় যুক্ত হয় তামিমের নামও। এমনকি নির্বাচন না করেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও ছড়িয়ে পড়ে।

গুঞ্জনের জবাবে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তামিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাকে ঘিরে প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এমন কোনো প্রস্তাব তিনি পাননি এবং এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই তামিমের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা দেখছিলেন। তবে বাস্তবে তিনি কোনো আসনে প্রার্থী হননি; কেবল নির্বাচনি প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাবেক ফুটবল অধিনায়ক –এর নামও আলোচনায় এসেছে। তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি এবং ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ ধারণা করছেন, নির্বাচিত না হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় তার মন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তামিম। ৩৬ বছর বয়সে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেন তিনি। চট্টগ্রাম-৯ আসনে ভোট দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি নজরে পড়ায় গুঞ্জন পুরোপুরি থামছে না। তবে আপাতত নিজ মুখে দেওয়া বক্তব্যেই স্পষ্ট, মন্ত্রিত্বের আলোচনাকে তিনি ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু, বাড়ানো হয়েছে সময়; সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট নয় ঘণ্টা। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার উপস্থিত থাকলে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে জাতীয় নির্বাচনগুলো সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আট ঘণ্টা চলত। এবার একইদিনে গণভোট আয়োজনের কারণে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার চার লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। সাদা ব্যালটটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি গণভোটের জন্য নির্ধারিত।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট বাতিল হওয়ায় এবার ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।

৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারের সংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার দুই কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সসীমায় পুরুষ এক কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪০৮ জন।
২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন এক কোটি ৭৮ লাখ এক হাজার ৩০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ এক কোটি ৪১ লাখ এক হাজার ৯০ জন, নারী ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫৬৭ জন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার প্রথমবারের মতো ইউএভি, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে চলছে ভোটগ্রহণ। এখন অপেক্ষা ফল ঘোষণার।

 

আল-আমিন



ভোর থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু ভোটগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ফজরের নামাজের পরপরই অনেকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান।

ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় বাইরে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আগেভাগেই কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে।

পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে ছিল কড়া যাচাই-বাছাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। সেখান থেকে ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর ও কক্ষসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা সহজে নিজেদের বুথ খুঁজে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তাদের ভাষ্য, শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন।

ভোটার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, অনেকদিন পর স্বস্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। তাই সকালেই চলে এসেছি। আরেক ভোটার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঝামেলা এড়াতে শুরুতেই ভোট দেওয়াই ভালো মনে করেছেন। তার সঙ্গে একই এলাকার আরও কয়েকজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর কেন্দ্রেই গণনা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি এসেছে। এখন সবার নজর ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজই সিদ্ধান্তের দিন, ভোটে দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোট আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রশ্নেও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন এক লাখের বেশি। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ও হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ভোট মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন ৫৫ হাজারের বেশি। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই শুরু হবে গণনা। ফলাফল কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই ভোট ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন চোখ ভোটারদের দিকে—নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তারা কেমন রায় দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশে রেকর্ড লড়াই, দল-প্রতীকের বন্যা

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের দুয়ার খুলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে অংশ নিচ্ছে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২৮ জনে।

ইসি জানিয়েছে, ভোটাররা এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, লাঙল, হাতপাখা, ট্রাকসহ মোট ১১৯টি প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে, যা এবারের নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া আরও আটটি নিবন্ধিত দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ৫০টি দল। অংশগ্রহণের এই পরিসংখ্যান আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮টি দল এবং ভোট হয়েছিল ৬৯টি প্রতীকে। সেই তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

প্রার্থী বিন্যাসেও দেখা গেছে বড় দলগুলোর শক্ত অবস্থান। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে ৬৫ জন, বাসদের মই প্রতীকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে ৩৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগলে ৩০ জন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্যে ১৯ জন, গণসংহতি আন্দোলনের মাথালে ১৭ জন, এলডিপির ছাতায় ১২ জন এবং নাগরিক ঐক্যের কেটলিতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জাসদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচন ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক, আবার কোনোটি বর্জন ও বিতর্কে ঘেরা। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচন ছিল নিবন্ধন পদ্ধতির অধীনে প্রথম ভোট। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন ও অংশগ্রহণ সংকটের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ছয় মাসের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংসদ বিলুপ্ত হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান পদত্যাগ করলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় আয়োজিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই হবে মূল প্রশ্ন। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা—সবকিছু মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন কখনোই শতভাগ নিখুঁত হয় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন কখনো পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়া খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে যেমন কোনো কিছুই সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় না, তেমনি নির্বাচনেও কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই নির্বাচন জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে কি না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা ও সংশয় থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার আশা করছে খুব শিগগিরই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন, তবে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই তিনি মনে করেন।

জনমত প্রসঙ্গে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, জনমত যাচাইয়ের জন্য কেবল সংখ্যার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ও মানুষের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি বোঝা যায়। তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এর আগে যেসব নির্বাচন হয়েছে, যেগুলোকে আমরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করি, সেগুলোর প্রতিটিতেই কোনো না কোনোভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে এবং এ নিয়ে তারা গর্বও করে। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সেখানেও দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে পারফেক্ট নির্বাচন বাস্তবে খুবই বিরল।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে সবাই নয় এবং কেউই এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিনিধি তাকে বলেননি যে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করা উচিত বা উচিত নয়, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেননি। কেউ কেউ কেবল জানতে চেয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। সরকার চায়, নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হোক, যেখানে জনগণের মতামতই হবে মূল বিবেচ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিরপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বিহারীদের ওয়াপদা ৩ নম্বর ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাসুম, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি এবং তাদের দুই শিশু সন্তান সাড়ে তিন বছর বয়সী মিনহাজ ও দেড় বছর বয়সী আসাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী থানাধীন বি-ব্লকের ওয়াপদা ভবনের একটি টিনশেড বাসায় পরিবারটি ভাড়া থাকত। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর চারজনের নিথর দেহ দেখতে পায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারটি একাধিক সমিতি ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ঋণ নিয়েছিল। নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য লোকজন বাসায় আসত, যা পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি না পেয়ে স্বামী-স্ত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তারা প্রথমে শিশু সন্তানদের হত্যা করে পরে নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফারজিনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি, যেখানে ঋণ ও দারিদ্র্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহগুলো ময়নাতদন্তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, অভাব ও ঋণের চাপ অনেক পরিবারকে নীরবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলে ছুটি, একদিন কাজ করে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ

নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিল্প-কারখানা এ ছুটি মেনে নেবে, তারা পরবর্তীতে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত একদিন কাজ করিয়ে এই ছুটি সমন্বয় করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একটি আবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি প্রয়োজন হলেও, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এই সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিল্প-কারখানাগুলো চাইলে নির্ধারিত ছুটির সুবিধা দেবে এবং পরবর্তীতে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একদিন অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে তা সমন্বয় করা যাবে। এতে করে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা থাকবে না, আবার শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাত ও শ্রমিক উভয় পক্ষের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান। নির্বাচনকালীন সময়ের চাপ সামলে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম