১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড হবে: ইউনূস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান, প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইন সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শ্রম আইনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক হ্রাস পাবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








