অবৈধ ইটভাটার আগ্রাসনে ঝালকাঠিতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি, বিপন্ন পরিবেশ

ঝালকাঠি জুড়ে অবাধে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার ছোবলে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে খাল ভরাট, রাস্তা ভাঙন, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং কালো ধোঁয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সংকটে পড়েছে জনপদ। নীতিমালা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় থামছে না এই ক্ষতি।

নীতিমালা অনুযায়ী, লোকালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। বাস্তবে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই বেনামি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ফসলি জমির ওপর পড়ে ধানসহ নানা ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, বাতাস ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমির গভীর থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। আবার ভাঙা ইট খালে ফেলে অনেক জায়গায় খাল দখল করা হচ্ছে, এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং খালপাড়ের সড়কে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতালড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক রনি বলেন, পাশের উপজেলায় অবস্থিত একটি ইটভাটা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ইট খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখন সড়কের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

সদর উপজেলার বিকনা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির মাঝেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না। ভাটার ধোঁয়া ও ধুলো ধানের ক্ষেতে কুয়াশার মতো জমে যাচ্ছে, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। নারকেল ও সুপারির ফলনও কমছে।

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, ইটভাটার মাটির জোগান আসে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে। প্রতিবছর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ধান উৎপাদন কমছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, গত বছর ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং চলতি বছরও একাধিক অভিযান হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টি বৈধ। বাকি ২২টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে—যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শতবর্ষী দীঘি ভরাট, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

বরিশাল নগরীতে একটি শতবর্ষী দীঘি অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের ভেতরে ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, দীঘিটি প্রায় একশ বছরের পুরোনো। অতীতেও এটি ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তখন এলাকাবাসীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আবারও নতুন করে দীঘিটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

দীঘিটির পাশের এক দোকানি জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও, জমিতে টানানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে—ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করছেন মো. কোটন নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল।

এ বিষয়ে বালু সরবরাহকারী মো. কোটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সালিশে আছেন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ রাখেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে জলাশয় ভরাট হলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। দীঘিটি ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী কোনো প্রকার জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সচেতন নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে সংকট, সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তি

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় যেখানে প্রতিদিন অন্তত আটটি ফ্লাইট চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন শুক্রবার ও রোববার—দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে অনেককেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে এই রুটে বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে বৃহস্পতিবার একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট থাকলেও উড়োজাহাজ সংকটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা ধাপে ধাপে ফ্লাইট কমিয়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ বিমানও একসময় যাত্রী সংকটের কথা বলে সপ্তাহে সীমিত দিনে ফ্লাইট চালু রাখে।

গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে আবার ফ্লাইট চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, “চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, কর্মঘণ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করা জরুরি।”

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও অনেক সময় ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, “ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।”

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই নেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমান, জনসভায় ভাঙবে সব রেকর্ড

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশালে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৬ জানুয়ারি দুপুরে নগরীর বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। তার এই আগমনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমানের সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ইউনিটগুলো মাঠে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট, ব্যানার ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, এই জনসভা বরিশালের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—এই জনসভায় অতীতের সব জনসমাবেশের রেকর্ড ভেঙে যাবে। সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মী ও সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-১ আসনের জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী আবুল হোসেন খান, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা।

সভায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। দেশের মানুষের মধ্যে তার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। ২৬ জানুয়ারি বেলস পার্ক মাঠে এমন জনসমাগম হবে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বহু বছর দেশে প্রকৃত ভোটাধিকার ছিল না। এখন আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই জনসভা সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন। সঞ্চালনা করেন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নু। নেতারা সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সফল করার আহ্বান জানান।

নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের সরাসরি বক্তব্য শোনার জন্য শুধু বরিশাল নয়, আশপাশের জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ আসবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবহন, স্বেচ্ছাসেবক দল, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। বেলস পার্ক মাঠকে জনসভা উপযোগী করতে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি।

সব মিলিয়ে, ২৬ জানুয়ারির বরিশাল জনসভা বিএনপির জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়—এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিশ্বকাপ নিয়ে অনড় বাংলাদেশ, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের ভেন্যুতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসছে না। বিকেলে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং আইসিসির পক্ষ থেকেও সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে বিসিবি স্পষ্টভাবে জানায়, নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। শুধু সিদ্ধান্ত জানানোতেই থেমে থাকেনি বোর্ড, বরং কেন এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু নির্ধারণের জন্য আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।

বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সভায় আইসিসির সিকিউরিটি প্রধান বাংলাদেশের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আলোচনার সব বিষয় নোট করা হয়েছে এবং আইসিসির পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুরো আলোচনা ছিল গঠনমূলক ও পেশাদার পরিবেশে। উভয় পক্ষই খোলামেলা মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে একটি বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে, যাতে আয়োজন ও লজিস্টিক জটিলতা যতটা সম্ভব কমানো যায়।

বিসিবি আরও জানায়, আলোচনার একপর্যায়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া মতামত ও উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোয় উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগেও আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একই অবস্থান জানিয়েছিল বিসিবি। সর্বশেষ বৈঠকে আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ঢাকায় এসে সরাসরি অংশ নেন। তার সঙ্গে আসার কথা ছিল আইসিসির ইভেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরভ সাক্সেনারের। তবে ভিসা জটিলতার কারণে তিনি ঢাকায় আসতে না পেরে অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন।

বিসিবির পক্ষে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবির এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশপ্রেম মানে গালি নয়, ভালোবাসা আগে: মির্জা আব্বাস

দেশপ্রেমের সংজ্ঞা শুধু কোনো একটি দেশের বিরোধিতা করে নির্ধারণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নিজের দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা এবং দেশের স্বার্থে অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেম। অন্য দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই কেউ দেশপ্রেমিক হয়ে যায় না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবন মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা অতীতে একটি নির্দিষ্ট দেশের নানা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন, এখনও করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তবে সেটিকে দেশপ্রেমের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, আগে নিজের দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে, তারপর অন্য দেশের নীতির বিরোধিতা আসতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তরুণ বয়সেই বুঝে নিতে হবে কারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং কারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও বাস্তবতা জানার মাধ্যমে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে অন্য কারও স্বার্থে আঘাত লাগলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, দেশকে ভালোবেসে কথা বলাই রাজনীতির মূল শিক্ষা হওয়া উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার অধিকার জনগণের। যার যেটা প্রয়োজন, সে সেটিতেই ভোট দেবে। এই স্বাধীনতা জনগণ অর্জন করেছে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে। কিন্তু জোর করে কাউকে কোনো একটি পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটের স্বাধীনতাই একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচায়ক। এই স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা করলে মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে

বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বকে ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীল রাজনীতি এবং মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অবদান গভীরভাবে জড়িত।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন সময়ে তার জন্য আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বারবার একটি কথাই বলেছেন—খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া ব্যক্তি হিসেবে ভালো ছিলেন বলেই দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার অবদান এত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে সততা, দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক বিরল সমন্বয় ছিল। মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন, যা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুবই প্রয়োজনীয় একটি গুণ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করতেই হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, আজ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছে, ভালোবাসা ও সমালোচনা দুটোই প্রকাশ করতে পারছে। এই স্বাধীনতার পেছনে অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে, অনেক সংগ্রাম রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তাদের ত্যাগের কারণেই আজ প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিহাসই বলে দেয় কার জায়গা মানুষের হৃদয়ে হয় আর কার জায়গা হয় নির্বাসনে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার আদর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জোট নয়, একাই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে তারা আর থাকছে না এবং নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই মাঠে থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করে আসছে। ইসলামপন্থি জনতার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা প্রতারণার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি আদর্শভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। সেই পথ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে পথচলায় দেখা গেছে, আদর্শিক লক্ষ্য পূরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দলটি নিজেদের অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে ইসলামপন্থি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে আসন বণ্টন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে ইসলামী আন্দোলনের মূল আদর্শ ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই ইসলামের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিকে সুরক্ষিত রাখতেই এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আপিল পর্যায়ে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বর্তমানে ২৬৮টি আসনে দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না এবং সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, সামনে পথচলা সহজ নাও হতে পারে। কারণ ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে আদর্শ ও নৈতিকতার রাজনীতি করে। নীতি, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে তারা অতীতেও নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সাংগঠনিক সামর্থ্য রয়েছে। তবে আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা আগের অবস্থানে নেই। এই বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, যখন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন যদি প্রধান ইসলামপন্থি শক্তিগুলো ইসলামী আইন ও আদর্শ থেকে সরে আসে, তাহলে সারা দেশে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। এই বাস্তবতা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আদর্শিক রাজনীতির মূল্যায়ন করবে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম