গণভোটের আইনি ভিত্তি নেই: মেজর (অব.) হাফিজ

গণভোটের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী জনগণের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে এবং যেভাবে গণভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। এখানে ঢাকার একটি এলিট গোষ্ঠী জনগণের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশ এখনো এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। শুরুতে বিএনপি এতে রাজি ছিল না। কিন্তু বিএনপি রাজি না হলে নির্বাচনই হবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এরপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সংবিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। পৃথিবীর কিছু দেশে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, তবে সেসব ক্ষেত্রেও তা আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়—এমন একটি গোষ্ঠী হঠাৎ ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে গণভোটের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। এই গণভোটের আইনগত ভিত্তি নেই, তবে একটি নৈতিক ভিত্তি রয়েছে। যেহেতু আমরা জুলাই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করি, সে কারণে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবো।

অনুষ্ঠানে লালমোহন মদন মোহন মন্দির কমিটির সভাপতি নিরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উজিরপুরের লোককথায় আজও বেঁচে আছে ‘ঘইড্যা’

বরিশাল জেলার উজিরপুর—বাংলাভাষা ও লোকসংস্কৃতির এক প্রাচীন জনপদ। অনেক গবেষকের মতে, বাংলাভাষার উৎপত্তি ও বিকাশে বরিশালের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে উজিরপুর, কোটালিপাড়া, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও কালকিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি ‘বাংলা’ শব্দের উৎপত্তিও এই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।

এই উজিরপুরের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাভাষার প্রথম কবি মীননাথ বা মৎসেন্দ্রনাথ। যদিও তাঁর বসবাসের নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই, তবে সন্ধ্যা নদীর তীরে ‘যোগীরকান্দা’ নামে একটি গ্রাম রয়েছে, যা লোকমুখে তাঁর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মীননাথ ছিলেন একজন যোগী। যোগসাধনা ও কাপড় বুননের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তৎকালীন সমাজে তাঁর অনুসারীরা ‘যোগী সম্প্রদায়’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে আঞ্চলিক ভাষা ও লোককথার ভাণ্ডার। উজিরপুরের হস্তিশুণ্ড ও কাজিরা—পাশাপাশি দুটি গ্রাম। এই কাজিরা গ্রামের এক বাড়ির নাম মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে ‘ঘইড্যার বাড়ি’ নামে। বাড়িটির বংশনাম ফরাজি হলেও, এলাকাবাসীর কাছে এটি পরিচিত ‘ঘইড্যার বাড়ি’ হিসেবেই। কেন এমন নাম—তা নিয়েই জন্ম নিয়েছে এক লোককথা।

স্থানীয় ভাষায় ‘ঘইড্যা’ বলতে বোঝায় মাটির গোল হাঁড়ি বা ঘটির মতো আকৃতির কিছু। এই এলাকায় মাটির হাঁড়িকে বলা হয় ‘ঘডি’ বা ‘ঘইড্যা’। আবার গোলাকৃতির এক ধরনের কদু বা লাউকেও বলা হয় ‘ঘইড্যা কদু’। এখানেই শেষ নয়—গ্রামীণ জীবনে গরুর গোবর শুকিয়ে যে জ্বালানি তৈরি করা হয়, তাকেও বলা হয় ‘ঘই’, ‘ঘইড্যা’, ‘লইড্যা’ বা ‘মুইড্যা’। নরম গোবর কাঠিতে মেখে বা দলা করে রোদে শুকিয়ে চুলার জ্বালানি বানানো হয়—এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি আজও অনেক গ্রামে ব্যবহৃত হচ্ছে।

লোককথা অনুযায়ী, কাজিরা গ্রামের ওই ফরাজি বাড়ির এক সদস্যের পেট জন্মের পর থেকেই ছিল মাটির ঘটির মতো বড় ও গোল। সেই কারণেই সবাই তাকে ডাকতে শুরু করে ‘ঘইড্যা’ নামে। তার প্রকৃত নাম আজ আর কেউ জানে না। তবে নামটি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, পুরো বাড়িটিই হয়ে ওঠে ‘ঘইড্যার বাড়ি’।

ঘইড্যার বাড়ির পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে বিস্তীর্ণ মাঠ রয়েছে, যেখানে তখন যেমন ধান চাষ হতো, এখনও (২০২৬ সালেও) চাষ হচ্ছে। আশপাশের মানুষ সেই জমিকে ডাকত ‘ঘইড্যার ভুঁই’ নামে। এলাকায় প্রচলিত ছিল একটি ছড়া—

“ঘইড্যার বাড়তে যামু না,
পচা তামাক খামু না।
ঘইড্যা গেছে কোলায়,
বাপরে নেছে ঝোলায়।”

এর অর্থ দাঁড়ায়—ঘইড্যার বাড়িতে যাওয়া যাবে না, সেখানে পচা তামাক খেতে হবে না; ঘইড্যা মাঠে গেছে, আর তার বাবাকে ধরে নিয়েছে ‘ঝোলা’ বা কলেরা।

লোকমুখে শোনা যায়, এক সময় ঘইড্যার বাবা কলেরায় মারা যান। তখন ঘইড্যা বাড়িতে না থেকে মাঠে কাজ করছিল। সে যুগে গ্রীষ্মকালে গ্রামে গ্রামে কলেরার প্রাদুর্ভাব হতো, ওষুধের অভাবে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটত। হস্তিশুণ্ড-কাজিরা এলাকায় কলেরাকে বলা হতো ‘ঝোলা’। সেই ভয় থেকেই মানুষ বলত—‘ঘইড্যার বাড়তে যামু না’।

আজ ঘইড্যা বেঁচে নেই, তবে তার বংশধররা এখনও ওই এলাকায় বসবাস করছেন। সময় বদলেছে, জীবনযাত্রা আধুনিক হয়েছে, কিন্তু লোককথার ভেতর দিয়ে ‘ঘইড্যা’ আজও উজিরপুরবাসীর স্মৃতিতে বেঁচে আছে—একটি জনপদের ভাষা, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের অংশ হয়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নদীপথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

নির্বাচনের আগে আতঙ্কে নগরবাসী

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বরিশালে ততই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় প্রকাশ্যে এসব অস্ত্রের ব্যবহার নগরজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে আতঙ্ক। দিন-রাত যেকোনো সময় অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলির শব্দে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ভেঙে পড়ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের পাশাপাশি বরিশালের নৌপথ ব্যবহার করেই মূলত নগরে ঢুকছে এসব অবৈধ অস্ত্র।

চলতি মাসের ৫ তারিখে নগরের বিসিক এলাকার একটি ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি একটি পুরোনো স্টিলের আলমারি মেরামতের জন্য আকবর নামে এক কারিগরের কাছে দেন। মেরামতের সময় আলমারির ভেতর থেকে সাত রাউন্ড গুলি বেরিয়ে আসে। পরে আকবর গুলিগুলো কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে জমা দেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ জাকিরকে আটক করে।

এর আগেও অস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার দেখা গেছে নগরীতে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল মহানগরের রিফিউজি কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকাভিত্তিক দুটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া দেয়। মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালালেও কার্যকর ফল দেখা যায় না বলে অভিযোগ তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালে অন্তত ১০টি স্থানে নৌপথে অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর এলাকায় এসব অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, রাতের শেষ প্রহরে লবণবোঝাই ও মাছের ট্রলারে করে পিস্তল, দা ও মাদক আনা হয়। পরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেগুলো মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব হারিছ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নদীর তীর ধরে মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি সন্দেহজনক ট্রলারের আনাগোনা চোখে পড়ে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সেই তৎপরতা চোখে পড়ছে না, যা ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “বরিশালের কোনো থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি। মহানগরীর চার থানা এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।”

তবুও স্থানীয়দের আশঙ্কা—নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ না হলে নগরীর শান্ত পরিবেশ ব্যাহত হবে এবং ভোটের মাঠে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অনিরাপদ উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

ভোলার চরাঞ্চলে থমকে যাচ্ছে শীতের কলকাকলি

শীত এলেই ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চল হয়ে উঠত রঙিন ও প্রাণবন্ত। দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির উড়াউড়ি, দলবেঁধে খাবার খোঁজা আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, মনপুরাসহ বিস্তীর্ণ উপকূল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন সেখানে শোনা যায় যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের চাপ। ফলে পরিযায়ী পাখিদের জন্য ভোলার চরাঞ্চল দিন দিন হয়ে উঠছে অনিরাপদ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর ছিল পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা অতিথি পাখির কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা।

কিন্তু মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, চরগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহার এবং দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণে সেই শান্ত পরিবেশ আজ স্তব্ধপ্রায়। চর কুকরী মুকরির বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান খানের মতে, মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর ৫৩টি চরে পাখি শুমারি পরিচালনা করে। জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনায় ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব নথিভুক্ত করা হয়।

শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন (৬,০১২টি), ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট (৪,৪৩৪টি) এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার (৩,৯৬২টি)। মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের পাশে জৈজ্জার চর ও আন্ডার চরে পাখির ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি ছিল। চর আতাউরে ৬,৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫,৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪,৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে উদ্বেগজনক চিত্র। শুমারি দলের সদস্য এম এ মুহিত জানান, একসময় ভোলার উপকূলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস হাজারেরও বেশি দেখা যেত, এ বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ২০–২৫টিতে। খয়রা চখাচখি, গাঙচষা, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়ালসহ বহু প্রজাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এমনকি আগে শত শত দেখা যেত এমন হাড়গিলা পাখির একটি নমুনাও এবার পাওয়া যায়নি।

শুমারি দলের আরেক সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স বলেন, পাখি শিকারিদের উপদ্রবের পাশাপাশি নতুন হুমকি হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। এতে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হচ্ছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে শিগগিরই বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা জানান, জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো পরিযায়ী পাখিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষের অবাধ যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব চরাঞ্চলে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় চরাঞ্চল রক্ষা না করা গেলে শুধু অতিথি পাখিই নয়, হারাবে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোলার শীতকাল আর কখনোই আগের মতো কলকাকলিতে ভরে উঠবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নুরের আসনে অনড় মামুন, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন না বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে নাটকীয়তা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন হাসান মামুন। ফলে এই আসনে জোটের প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিএনপি ঘরানার ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক শাহ আলম। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আবু বকর।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নুরুল হক নুর, হাসান মামুন ও অধ্যাপক শাহ আলম—এই তিনজনের মধ্যেই মূলত ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবু বকর ভোটের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে নুরুল হক নুর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেলেও পটুয়াখালী-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রেখে আসছিলেন হাসান মামুন। নুরকে জোটের প্রার্থী ঘোষণার পরও দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সিংহভাগ নেতাকর্মী প্রকাশ্যে মামুনের পক্ষেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

এমনকি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপি এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ের অবস্থানে তেমন পরিবর্তন আসেনি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন,
“নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আমি কাউকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে ভোট দেবে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।”

অন্যদিকে বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন বলেন,
“এলাকার সাধারণ মানুষের চাপের কারণে নির্বাচন থেকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভোটগ্রহণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভক্তি পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে পাল্লা ভারী হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংগঠিত শক্তি ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যারিস্টার ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিলে ইনকিলাব মঞ্চের আর্থিক সহায়তা

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও দশ দলীয় জোটের বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার।

ঢাকায় সন্ত্রাসী গুলিতে শহীদ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীতে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ব্যারিস্টার ফুয়াদের হাতে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন,
“ইনকিলাব পরিবারের ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের পক্ষ থেকে শহীদ ওসমান হাদির বিশ্বস্ত সহযোদ্ধারা আমার নির্বাচনী তহবিলে অনুদান দিতে এসেছিলেন।”

তিনি আরও লেখেন, টাকার পরিমাণ যাই হোক না কেন, এর গুরুত্ব ‘হিমালয়ের মতো’। তবে কত টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

পোস্টে তিনি দোয়া করে বলেন,
“আল্লাহ তায়ালা যেন সবাইকে ইনসাফ ও আজাদির সংগ্রাম অব্যাহত রাখার তৌফিক দান করেন।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সহায়তাকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের প্রতি সমর্থনের একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী-৪ এ চমক: জামায়াত জোটের প্রার্থী সাবেক আ.লীগ উপদেষ্টা!

রাজনীতিতে দল বদল নতুন নয়। তবে কখনো কখনো সেই পরিবর্তন এতটাই দ্রুত ও জটিল হয়ে ওঠে যে, প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ঠিক এমনই এক বিতর্কের কেন্দ্রে এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।

খেলাফত মজলিসের মনোনয়নে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা ডা. জহির একসময় রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময়েই তাঁর নাম যুক্ত হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে। যদিও বর্তমানে তিনি দাবি করছেন—তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকা ভিডিও, ছবি ও একাধিক সূত্র বলছে ভিন্ন কথা।

১৯ ভোটে উত্থান, রাজনীতিতে দৃশ্যমানতা

২০১৯ সালের পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াতকলম প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন ডা. জহির উদ্দিন। ওই জয়ের পরই স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘প্রভাবশালী স্বতন্ত্র’ হিসেবে।

২০২৪ সালের ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। নির্বাচন চলাকালেই ৩ মে তাঁকে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা আসে। এর কিছুদিন পর তিনি নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

ঘোষণা, ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশে ডা. জহিরকে উপদেষ্টা করার লিখিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন শীর্ষ নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাঁর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগের একান্ত বৈঠকের ছবিও তখন আলোচনায় আসে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী মহিবের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডা. জহির প্রথমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। কিছুদিনের মধ্যেই দলটি ছাড়িয়ে যুক্ত হন খেলাফত মজলিসে। বর্তমানে তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-৪ আসনে ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জোট সূত্র জানায়, এই আসনে আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আলোচনায় ছিল। দলটি জোট থেকে সরে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হিসেবে ডা. জহির উদ্দিনকেই চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“আমি কখনো আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলাম না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই চেয়ারম্যান হয়েছি। এমপি কখনো দলের পদ দিতে পারে না। জেলা কমিটি বা কাউন্সিল ছাড়া কোনো পদ বৈধ নয়। আমি কখনো সম্মতি দিইনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।”

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন,
“জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল কাইউম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ডা. জহির উদ্দিন আহমেদই এখন পটুয়াখালী-৪ আসনে জোটের প্রার্থী। আমরা তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

পটুয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, চারটি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা তৌহিদ হোসেনের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অপতৎপরতা রুখতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরেই একটি অংশ আছে যারা চায় না নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। তাদের যেকোনো অপচেষ্টা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে নানা কৌশলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষা।

তরুণ সমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তরুণদের হাতে। আগামী নির্বাচনে কী হবে আর কী হবে না, সে সিদ্ধান্তে তরুণদের অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটাধিকার প্রয়োগে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে মতামত দেন।

সভা শেষে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দ্রুত শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস: ইমপোর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, এক সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছালেও পরে তা কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তার ভাষায়, অতীতে ঋণের অর্থ দিয়ে রিজার্ভ শক্তিশালী দেখানোর প্রবণতা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অর্থ ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় রিজার্ভ বাড়ানোর পথে রয়েছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেট বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারকে স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা।

পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই নিয়ে গভর্নর বলেন, অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বুঝতে রিয়েল টাইম ডাটা অত্যন্ত জরুরি। এই কাজকে অনেক সহজ করেছে পিএমআই সূচক। বাংলাদেশে এটি নতুন হলেও তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই সূচক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণে পিএমআই একটি কার্যকর সূচক। বাংলাদেশেও এটি অর্থনীতির সক্ষমতা ও প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সরকারকে ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করছে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সূচকের মাধ্যমে যে কোনো দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা সহজে বোঝা যায়। পিএমআইয়ের ডাটা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাচ্ছেন, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রতি মাসে পিএমআই সূচক প্রকাশ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক পিএমআই মান দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ২, যা নভেম্বর মাসে ছিল ৫৪। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, যদিও গতি তুলনামূলকভাবে মাঝারি।

ডিসেম্বর মাসে কৃষি খাতের পিএমআই সূচক ছিল ৫৯ দশমিক ৬, উৎপাদন খাতে ৫৮ দশমিক ২, সেবা খাতে ৫১ দশমিক ৮। তবে নির্মাণ খাতে সূচক নেমে এসেছে ৪৯ দশমিক ৮-এ, যা খাতটির সাময়িক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝানো হয়।

সার্বিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশের ভবিষ্যৎ বদলের নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এটি সুষ্ঠু হতেই হবে।”

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন ঘিরে নানা পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বৈঠকে এনসিপি নেতারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তাঁদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা কিছু উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, যাতে কেউ আইন অমান্য করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। “এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা, যা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনসম্মতভাবেই সরকার জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে এবং কেন তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই নির্বাচনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫